শাহজাহান চৌধুরীর সেই পিএসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
শাহজাহান চৌধুরীর সেই পিএসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

শাহজাহান চৌধুরীর সেই পিএসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর আলোচিত ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) আরমান উদ্দিন ও তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজি মামলা করেছেন এক প্রবাসী।

 

রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন।

 

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান জানান, রোববার আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- লোহাগাড়ার শওকত আলী (৪২), আদিল (৩২), আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীন (৩৩)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকেও আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাদীর লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে চারতলা একটি ভবন রয়েছে। ২০০৬-৭ সালের দিকে নিজের কেনা জমিতে ভবনটি নির্মাণ করেন তিনি। ভবনের নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্য অংশে বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়। কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ভাই আরিফ উদ্দিন বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে ঘর ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভিন্ন এলাকা থেকে এসে তাদের এলাকায় বসবাস করার কারণেও চাঁদা দিতে হবে বলে আসামিরা তাকে শাসান।

 

এর অংশ হিসেবে গত ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীর কাছে আবারও চাঁদা দাবি করেন। বাদী টাকা দিতে পারবেন না জানালে তার ঘর দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ওই রাতেই আসামিরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় বাদীর ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ওই সময় দোকান থেকে ১২টি তিন-পার্টের স্টিলের আলমারি, তিনটি দুই-পার্টের আলমারি, দুটি দুই দরজার আলমারি, ছয়টি চার দরজার ওয়াল শোকেস, দুটি দুই পাশের দরজার ওয়াল শোকেস, আলমারি শিটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। মালামালগুলোর আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এর বাইরে দোকানের একটি ক্যাশ টেবিল, যার ভেতরে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল, সেটিও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেন আসামিরা।

 

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার সময় বাদী প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে বসেন। পরে গত ২০ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বৈঠকের কথা বলে আসামিরা বাদীর ভবনে আসেন। সেখানে আরিফ উদ্দিন আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেবেন না বলে জানান।

 

বাদীর অভিযোগ, আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীকে তার এলাকায় বসবাস করতে হলে তাদের কথামতো চলতে হবে বলে হুমকি দেন। চাঁদা না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেন আদিল। একপর্যায়ে আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আরমান উদ্দিন ও আদিল বাদীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি ও লাথি মারেন।

 

সর্বশেষ ঘটনার পর বাদী লোহাগাড়া থানায় গিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পুলিশ মামলা নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলেও যায়। পরে মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতে মামলার আবেদন করতে বাধ্য হন।

 

অভিযুক্ত আরমান উদ্দিন বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

এ বিষয়ে মামলার বাদী আমির হোসেন বলেন, ৩০ বছর ধরে আমি প্রবাস জীবন কাটাচ্ছি। ১৯৯৯ সালে আমার বাবার কেনা জায়গার ওপর উল্লেখিত মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়। এখন পুরো মার্কেট কি আসামিরা দখল করে নিল? কার কাছে বিচার দেব?

 

এ বিষয়ে সাতকানিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, মামলাটি তদন্তের জন্য এখনো (নথিপত্র) হাতে পাইনি। আমাদের কাছে এলে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা করব।


সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণা করা হবে আজ। পেছনের বিচারিক প্রক্রিয়া ও আপিল শুনানি শেষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আসামিদের আপিলের ওপর আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) রায় দেওয়া হবে।

 

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বিশেষ দ্বৈত বেঞ্চ এই বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করবেন।

 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। অন্যদিকে আসামি পক্ষে মামলায় আইনি লড়াই চালান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজালাল, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন ও মোহাম্মদ শিশির মনিরসহ কয়েকজন বিশিষ্ট আইনজীবী।

 

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে অভিযুক্ত ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম এবং মহি উদ্দিন শাকিল।

 

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের একাধিক সংবেদনশীল ও মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিচার কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী গত ১০ জুন একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন। সেই বিশেষ বেঞ্চেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি সম্পন্ন হয়।

 

বিশেষ বেঞ্চটিতে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনার অংশ হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে অভিজ্ঞ আইনজীবীদের নিয়ে পৃথক একটি টিমও গঠন করা হয়েছিল। আজ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় আরেকটি বড় ধাপ অতিক্রম হতে যাচ্ছে।

নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় আজ

৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় ময়মনসিংহে ভেটেরিনারি চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। বিড়ালের মৃত্যুর কারণ দেখিয়ে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় মারধর করার ঘটনায় তালহাজুর রহমান প্রতীক নামে মহানগর ছাত্রদলের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনজনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডা. আশিকুর রহমান।

 

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ জেলা স্কুলের পাশের ডক্টর’স পেট কেয়ার নামক ব্যক্তিগত চেম্বারে মারধরের শিকার হন ভুক্তভোগী চিকিৎসক। এ সময় তাকে লাথি, কিল-ঘুসি মারার পাশাপামি জুতাপেটাও করা হয়। এ ছাড়া রড দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ওই চিকিৎসক।

 

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) কোতোয়ালি মডেল থানায় এই অভিযোগ দেন ডা. আশিক। এতে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান প্রতীক, আফরিন রশিদ সেঁজুতি এবং সাকিবুল হাসানের নাম রয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসা রয়েছেন আরও চার-পাঁচজন।

 

মারধরের ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটেও নিজ চেম্বারে বসে সামনে থাকা কারো সঙ্গে কথা বলছিলেন ডা. আশিক। এ সময় এক নারী (সেঁজুতি) তার পাশে গিয়ে অতর্কিতে তাকে জুতা দিয়ে পেটাতে শুরু করেন। মারধরের সময় ওই নারী উত্তেজিত অবস্থায় চিকিৎসককে কিছু বলছিলেন। ঘটনার সময় ওই চিকিৎসক ছাড়া কক্ষে আরও ৭ জন ছিলেন।

 

ওই নারী চিকিৎসককে অন্তত ১৪ বার জুতা দিয়ে আঘাত করেন। এক পর্যায়ে উপস্থিত আরেক যুবক (প্রতীক) গিয়ে চিকিৎসককে কিল-ঘুসি মারতে থাকেন। পরে ওই নারী পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন পুরুষ ও নারীকে মারধরের চেষ্টা করেন।

 

আরও পড়ুন: বিড়াল মারা যাওয়ায় চেম্বারে ঢুকে চিকিৎসককে লাথি-জুতাপেটা

 

থানায় দেওয়া অভিযোগপত্রে আশিকুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার চেম্বারে এসে চাঁদার জন্য চাপ দেওয়া হলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এরপর সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়।

 

তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে চেম্বারের কর্মী ঈশান আহমেদ, তার স্ত্রী তাওহিয়া আক্তার এবং চিকিৎসকের স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও মারধর ও টানাহেঁচড়া করা হয় বলে অভিযোগ করেন আশিকুর। তার দাবি, হামলার পর চেম্বারের ক্যাশ বাক্স থেকে তিন লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া চেম্বারের মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে সাকিবুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ১৭ আগস্ট একটি গর্ভবতী পারশিয়ান বিড়ালের ‘স্নো’ পরীক্ষার জন্য সেঁজুতি কেওয়াটখালীর ভেটেরিনারি চিকিৎসক ডা. আব্দুল হান্নানের কাছে রেখে যান। সেখানে বিড়ালটি মারা যায়। পরদিন ফোন করে তারা বিষয়টি জানতে পারেন।

 

সাকিবের দাবি, বিড়ালের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি হলে আশিকুর রহমান ভুয়া ফেইসবুকে আইডি থেকে সেঁজুতিকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এ কারণেই আশিকুরকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

এ ঘটনায় তারাও থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানান সাকিবুল। তবে সাকিবুলদের কোনো অভিযোগ থানায় পাওয়া যায়নি বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।

 

ওসি শিবিরুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

 

মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায় গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার পর তালহাজুর রহমান প্রতীককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিড়ালের মৃত্যু নয়, চাঁদা না দেয়ায় সেই চিকিৎসককে মারধর করেন ছাত্রদল নেতা

আর্তনাদ যেন বাইরে না পৌঁছায়, সেজন্য ঘরে উচ্চশব্দে গান ছেড়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী মেহেদী হাসান শাপলার বিরুদ্ধে। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের সময় প্লায়ার্স দিয়ে আঘাত করে মাছুদা বেগমের (২৭) দুটি দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়। পরে কাস্তে গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেওয়া হয় ছ্যাঁকা। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার সাত দিন পর শুক্রবার রাতে মারা যান ওই গৃহবধূ।

 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মেহেদী হাসান শাপলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাছুদা বেগম জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া খাঁপাড়ার মৃত দিলবর মণ্ডলের মেয়ে। তিনি কালাই উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।

 

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে মেহেদী হাসানের সঙ্গে মাছুদার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১৩ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই ছিল। এর মধ্যে তাদের বিচ্ছেদও হয়। তবে এক বছরের মাথায় তারা আবারও বিয়ে করেন।

 

গত ১৪ আগস্ট দুপুরে মাছুদার মেয়ে বাড়িতে ছিল না। এ সময় যৌতুকের দাবিতে মেহেদী ঘরে উচ্চশব্দে গান ছেড়ে দেন। এরপর মাছুদার হাত-পা বেঁধে তাকে বেদম মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্লায়ার্স দিয়ে আঘাত করে তার দুটি দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়। পরে কাস্তে গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।

 

নির্যাতনের একপর্যায়ে মাছুদা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে ঘরের ভেতর রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন মেহেদী। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন।

 

প্রথমে মাছুদাকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল হয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে মাছুদার মৃত্যু হয়।

 

মামলার বাদী মাছুদার ভাই বছির মণ্ডল বলেন, আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

 

ওসি (তদন্ত) দিপেন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে মামলার পরপরই মেহেদী হাসান শাপলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেহেদী হাসান শাপলা উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হারঞ্জা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ প্রামাণিকের ছেলে। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

স্ত্রীর আর্তনাদ লুকাতে ছাড়া হয় উচ্চশব্দের গান—শরীরে গরম কাস্তের ছ্যাঁকা, ভাঙেন দাতও

শ্যামনগরে পারিবারিক শত্রুতার জেরে গৃহবধূ ও শিশুকে বেধড়ক মারপিট, লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লু।

 

সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

“দৈনিক আমাদের দেশ”।

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে এক গৃহবধূ ও তার নাবালক ছেলেকে বেধড়ক মারপিট করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত মা-ছেলে বর্তমানে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

ঘটনা ঘটেছে গত *২১ আগস্ট ২০২৬, রাত আনুমানিক ৮টার পর*।

 

স্থানীয় ও আহতদের সূত্রে জানা যায়, রুদ্রপুর গ্রামের মোসাম্মৎ সকিনা খাতুন স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে একই গ্রামের মোঃ আফজাল, পিতা- রুহুল আমিন; মোঃ হাসান, পিতা- মোঃ হবি; মোঃ হবি, পিতা- রুহুল আমিন এবং মোহাম্মদ আরাফাত, পিতা- আনিসুর রহমান সহ ৮/১০ জনের একটি দল দেশীয় লাঠি ও রড নিয়ে সকিনার বসতঘরে প্রবেশ করে।

 

এসময় নামাজরত অবস্থায় সকিনা খাতুনের চুলের মুঠি ধরে “আমাদের মেয়ে কই” বলে চিৎকার করে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। মাকে বাঁচাতে ১২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম এগিয়ে এলে তাকেও রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার বাম হাত ভেঙে দেয় দুর্বৃত্তরা।

 

হামলাকারীরা ঘরে থাকা আলমারি ভেঙে নগদ ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা, সকিনার কানের দুল ও গলার চেন লুট করে নেয়। পরে মা ও ছেলেকে জোর করে ধরে নিয়ে টেনে হিজড়ে তাদের বাড়িতে আটকে রেখে পুনরায় নির্যাতন করে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে।

 

খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করতে না পেরে ৯৯৯ এ ফোন দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সকিনা ও ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

 

শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ শাকিল হোসেন জানান, “রোগী দুইজনই মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা লাগতে পারে।

 

সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত নায়েব মনসুর আহম্মদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

 

এ ঘটনায় শ্যামনগর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

শ্যামনগরে পারিবারিক শত্রুতার জেরে গৃহবধূ ও শিশুকে বেধড়ক মারপিট, লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট

কালিগঞ্জে ৬ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক

 

এস.এম নাসির উদ্দীন,কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৬ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর খালপাড় এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

 

আটক ব্যক্তিরা হলেন-কালিগঞ্জ উপজেলার গণপতি গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আফজাল হোসেন এবং বাজারগ্রাম এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে আমিনুর রহমান।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে কালিগঞ্জ থানার এসআই মতিন, এএসআই আনিছসহ পুলিশের একটি দল পিরোজপুর খালপাড় এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করায় দুই যুবককে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

 

আটকের পর তাদের কালিগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা থানা হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

কালিগঞ্জে ৬ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক

ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের প্রলোভনে গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণ, থানায় মামলা দায়ের

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলায় এক নারী পোশাক শ্রমিককে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে।

গত বুধবার ১৯/৮/২৬ ইং তারিখে ভুক্তভোগী নারী ভূ্ল্লী থানায় বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

 

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী (২৬) ভূল্লী উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বগুলাডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকাকালীন সময়ে বাবার বাড়ীতে অবস্থান করেন। এ সময় প্রতিবেশী আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ী (নাপিতপাড়া) গ্রামের বদিউজ্জামান এর ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে রুমানাকে কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করে আসছিল।

 

বিয়ে করবে মর্মে বিভিন্ন প্রলোভন দেখাইতো। গত রমজান মাসে (১০ মার্চ, ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮:৩০ মিনিটে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শরিফুল ঘরে প্রবেশ করে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এভাবে প্রায় বাড়ী পাশে ভূট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

 

ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে তিনি বিষয়টি শরিফুলকে জানান এবং বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু শরিফুল বিয়ে করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। লোকলজ্জার ভয়ে রুমানা ঢাকা চলে যান এবং একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজে যোগ দেন। পরবর্তীতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটান।

 

গত জুন মাসে শারীরিক অসুস্থতা বাড়লে ঢাকার ‘সুফিয়া হাসপাতালে’ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, গর্ভপাতের পরেও তার পেটে ইনফেকশন বা জটিলতা রয়ে গেছে। এই পর্যায়ে বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায়।

 

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কিছু মাতব্বর ও আত্মীয়-স্বজনরা একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেন।

ন্যায় বিচারের জন্য নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী নারী ভূল্লী থানায় হাজির হয়ে শরিফুলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

 

ভিটেছাড়া করার হুমকি ও অবরুদ্ধ পরিবার

 

মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামি শরিফুল ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীর পরিবারের ওপর চড়াও হন। মামলা প্রত্যাহার না করলে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা, গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া এবং প্রাণনাশের সরাসরি হুমকি দেন।

 

এ বিষয়ে ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, ভুক্তভোগী নারীর এজাহারের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধান আসামি শরিফুলকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের আইনি ও সামাজিক নিরাপত্তা দিতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের প্রলোভনে গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণ, থানায় মামলা দায়ের.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নওগাঁয় কলেজের ছাত্রীকে ‘ব্যাড টাচ’ পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবির অভিযানে যুবক গ্রেপ্তার

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি: নওগাঁ সরকারি কলেজের এক ছাত্রীকে ‘ব্যাড টাচ’ করার অভিযোগে কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদ (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশ সুপারের নির্দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই ক্যামেরার ডাটা বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্তের পর নওগাঁ ও বগুড়ার আদমদীঘি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে। সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

 

গ্রেপ্তার কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার শান্তাহার জনকলোনি এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট নওগাঁ সরকারি কলেজের মাস্টার্সের এক ছাত্রী টিউশনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মেস থেকে বের হন। পথে এটিম মাঠের গলি দিয়ে জনৈক ইমরুল কায়েসের বাসার সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের অজ্ঞাতনামা আরোহী তাকে যৌন হয়রানি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

 

ঘটনার কয়েকদিন পর ভুক্তভোগী ছাত্রী নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানান। পুলিশ সুপার তার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শুনে দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখাকে নির্দেশ দেন।

 

এরপর ডিবি পুলিশের একটি দল টানা পাঁচ দিন তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই ক্যামেরার ডাটা বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত যুবক ও ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করে। পরে নওগাঁ ও বগুড়ার আদমদীঘি এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্তাহার থেকে কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, সড়কে কিংবা যেকোনো স্থানে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা যৌন হয়রানি জেলা পুলিশ কঠোরভাবে আইন অনুযায়ী দমন করবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং – ০১৭২৪২৫৫৭০৬

২৪-৮-২০২৬

নওগাঁয় কলেজের ছাত্রীকে ‘ব্যাড টাচ’ পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবির অভিযানে যুবক গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর আলোচিত ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) আরমান উদ্দিন ও তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজি মামলা করেছেন এক প্রবাসী।

 

রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন।

 

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান জানান, রোববার আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- লোহাগাড়ার শওকত আলী (৪২), আদিল (৩২), আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীন (৩৩)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকেও আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাদীর লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে চারতলা একটি ভবন রয়েছে। ২০০৬-৭ সালের দিকে নিজের কেনা জমিতে ভবনটি নির্মাণ করেন তিনি। ভবনের নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্য অংশে বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়। কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ভাই আরিফ উদ্দিন বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে ঘর ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভিন্ন এলাকা থেকে এসে তাদের এলাকায় বসবাস করার কারণেও চাঁদা দিতে হবে বলে আসামিরা তাকে শাসান।

 

এর অংশ হিসেবে গত ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীর কাছে আবারও চাঁদা দাবি করেন। বাদী টাকা দিতে পারবেন না জানালে তার ঘর দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ওই রাতেই আসামিরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় বাদীর ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ওই সময় দোকান থেকে ১২টি তিন-পার্টের স্টিলের আলমারি, তিনটি দুই-পার্টের আলমারি, দুটি দুই দরজার আলমারি, ছয়টি চার দরজার ওয়াল শোকেস, দুটি দুই পাশের দরজার ওয়াল শোকেস, আলমারি শিটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। মালামালগুলোর আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এর বাইরে দোকানের একটি ক্যাশ টেবিল, যার ভেতরে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল, সেটিও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেন আসামিরা।

 

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার সময় বাদী প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে বসেন। পরে গত ২০ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বৈঠকের কথা বলে আসামিরা বাদীর ভবনে আসেন। সেখানে আরিফ উদ্দিন আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেবেন না বলে জানান।

 

বাদীর অভিযোগ, আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীকে তার এলাকায় বসবাস করতে হলে তাদের কথামতো চলতে হবে বলে হুমকি দেন। চাঁদা না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেন আদিল। একপর্যায়ে আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আরমান উদ্দিন ও আদিল বাদীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি ও লাথি মারেন।

 

সর্বশেষ ঘটনার পর বাদী লোহাগাড়া থানায় গিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পুলিশ মামলা নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলেও যায়। পরে মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতে মামলার আবেদন করতে বাধ্য হন।

 

অভিযুক্ত আরমান উদ্দিন বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

এ বিষয়ে মামলার বাদী আমির হোসেন বলেন, ৩০ বছর ধরে আমি প্রবাস জীবন কাটাচ্ছি। ১৯৯৯ সালে আমার বাবার কেনা জায়গার ওপর উল্লেখিত মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়। এখন পুরো মার্কেট কি আসামিরা দখল করে নিল? কার কাছে বিচার দেব?

 

এ বিষয়ে সাতকানিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, মামলাটি তদন্তের জন্য এখনো (নথিপত্র) হাতে পাইনি। আমাদের কাছে এলে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা করব।

শাহজাহান চৌধুরীর সেই পিএসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গাজীপুরের টঙ্গীতে এনে আকাশ সরদার (২১) নামের এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাজহারুল ইসলাম মিঠু (৩০) নামে তার এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

নিহত আকাশ সরদার ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার চাঁদপুর গ্রামের মো. করিম সরদারের ছেলে। গ্রেপ্তার মিঠু নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। তারা দুজনই আগে কম্বোডিয়াপ্রবাসী ছিলেন।

 

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াই বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকার অপু মিয়ার মাধ্যমে আকাশ ও মিঠু কম্বোডিয়ায় যান। প্রায় তিন মাস আগে তারা দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর আকাশ বেকার হয়ে পড়লে তাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গত ২৭ জুলাই সোনারগাঁয়ে ডেকে নেন মিঠু। পরে তাকে অপহরণ করে টঙ্গীতে নিয়ে আসা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এজাহার অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে সুমন নামের এক ব্যক্তি আকাশকে আটকে রাখার কথা জানান। এর পর থেকে আকাশের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনেরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

এ ঘটনায় আকাশের বাবা করিম সরদার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় মাজহারুল ইসলাম মিঠু, মো. অপু মিয়া ও মো. সুমন মিয়াকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে র‌্যাব-১-এর একটি দল গত ২৩ আগস্ট টঙ্গী পশ্চিম থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিঠুকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের ২১ নম্বর টয়লেটের পাশে একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারে টঙ্গী পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসানসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।

 

টঙ্গী পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইয়ানুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

চাকরির প্রলোভনে বন্ধুকে অপহরণ করে হত্যা, ইজতেমা ময়দান থেকে লাশ উদ্ধার

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশব্যাপী ক্রমাগত লোডশেডিংয়ের কারণে দলটির বিগড়ত আমলের কানসাট বিদ্রোহের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) । রবিবার সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ দলীয় নাহিদ ইসলাম।

 

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ বলেন, ‘ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি মাসেই বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিং রেকর্ড হয়েছে যা গ্রাম ও মফস্বলে দিনে ১০ ঘণ্টারও বেশি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল। বিতরণ কোম্পানিগুলোর সিস্টেম লসের দায় গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি এবং দুই বছর মূল্যবৃদ্ধি না করার অঙ্গীকার সত্ত্বেও মাত্র তিন মাসের মধ্যে পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার।

 

সরকারের জ্বালানি সংকট ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘সংকটের সমাধান না করে বিদ্যুৎ বিভাগ উল্টো ভুতুড়ে বিল নিয়ে ‘অপপ্রচার’ তথা জনগণের প্রতিবাদের জন্য শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। পরে গণপ্রতিরোধের মুখে সে বিবৃতি সংশোধন করতে বাধ্য হয় বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎখাতে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে পলাতক ও দণ্ডিত শেখ হাসিনার লুটপাটের আয়োজন ছিল জনগণের অর্থলুটের এক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। আজকের দিন পর্যন্ত চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও সরকারকে অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। গত এক দশকে শুধু ভাড়া বাবদ ব্যয় হয়েছে ৭০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে সরকারের এখন পর্যন্ত কাঠামোগত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নাই। ফলে জনগণের অর্থের অপচয় এখনো চলমান।’

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বর্তমান সরকারের ন্যূনতম কোনো দায় নেই। কিন্তু কেবল পনেরো বছরের দুঃশাসন ও বিধ্বস্ত অবস্থার ওপর দায় চাপিয়ে কি নিজেদের অক্ষমতা, অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা ঢাকা যাবে? অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেও একই রকম বিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে দেশের দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। কিন্তু সে সময় আমরা এমন রেকর্ড পরিমাণ লোডশেডিং দেখিনি। ফলে সরকারের এই বক্তব্য স্রেফ দায়সারা। বিএনপি সরকারের এই রেকর্ড লোডশেডিং জনগণকে তাদের পূর্ববর্তী আমলের কানসাট বিদ্রোহের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।’

 

 

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে পল্লী বিদ্যুত সমিতির সামনে টানা লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে সংগঠিত একটি গণআন্দোলন। যেখানে তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ দুর্ভোগের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এই বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে অন্তত ২০ থেকে ৩১ জন নিহত হন। সেময় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় ছিলো। এই আন্দোলনকে ইতিহাসে কানসাট আন্দোলন বা কানসাট বিদ্রোহ বলা হয়। সেসময় বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন বর্তমান সরকারের জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

টানা লোডশেডিং বিএনপির আগের আমলের ‘কানসাট বিদ্রোহ’ মনে করিয়ে দিচ্ছে’

গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জায়গা ও ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন ধরনের দোকান বসিয়ে মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে শামীম খান ওরফে ক্যাসেট শামীম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এবিষয়ে শামীম খান ওরফে ক্যাসেট শামীম বলেন, ‘প্রতিটি দোকান থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এর বেশি নেওয়া হচ্ছে না।’

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো ও চাঁদা আদায়ের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে শামীম খান ওরফে ক্যাসেট শামীম বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিএনপি নেতা ইসমাইল সিকদার বসু, মামুন পাঠান, লিটু মিয়াসহ আরও কয়েকজন টঙ্গীবাজার ইজারা নিয়েছেন। কিন্তু সিটি করপোরেশন ইজারাকৃত জায়গা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে দেয়নি। তাই ইজারার টাকা ওঠানোর জন্য বেইলি ব্রিজের পাশে তুরাগ নদের তীরে অস্থায়ীভাবে কিছু দোকান বসানো হয়েছে।’

 

সরেজমিনে টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর সংযোগ বেইলি ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ও ফুটপাত দখল করে কাপড়, নার্সারি, কাঁচা শাকসবজি, জুতা, মাছ, শুঁটকিসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসানো হয়েছে। স্থানীয় দোকানিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় প্রায় ২৪০ থেকে ২৫০টি দোকান রয়েছে। দোকানভেদে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়। এতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আদায় হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

 

স্থানীয়দের দাবি, একসময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন ক্যাসেট শামীম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পর ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে ফুটপাত দখল করে চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

কাপড় দোকানি আসহান, শাহেদ ও শাহিন শাহসহ কয়েকজন জানান, নিয়মিতভাবে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। তবে কত টাকা দিতে হবে, তা দোকানের ধরন ও অবস্থানভেদে নির্ধারণ করা হয়।

 

ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর কারণে টঙ্গীবাজারের প্রবেশমুখে যানজট ও জনজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে প্রতি রোববার সাপ্তাহিক হাট বসলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে তুরাগ নদের ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজ দিয়ে পথচারী, রিকশা, ভ্যান ও মালবাহী ছোট যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

 

পথচারী মাহমুদুল হক বলেন, ‘বিআরটি উড়ালসড়ক দিয়ে চলাচল করা খুব কষ্টকর। এ কারণে তুরাগ নদের ওপরের বেইলি ব্রিজ দিয়ে টঙ্গীবাজারে যাই। কিন্তু ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় শত শত দোকান বসায় ফুটপাত দিয়ে হাঁটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

 

অটো রিকশাচালক শাকের, ইসমাইল, আরজু ও আল-আমিন বলেন, ‘ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোয় মানুষের ভিড়ের মধ্যে মালামাল নিয়ে টঙ্গীবাজার থেকে আব্দুল্লাহপুর কিংবা আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গীতে যাতায়াত করা কঠিন। রোববার সাপ্তাহিক হাটের দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।’

 

টঙ্গীবাজার এলাকায় সাবরেজিস্ট্রি অফিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের টঙ্গী উপ-বিভাগীয় কার্যালয়, টঙ্গী শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন, টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস), এটলাস হোন্ডা, বাংলাদেশ ব্লেড ও বাটা শু কোম্পানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা রয়েছে। ঢাকা, উত্তরা, আশুলিয়া, কামারপাড়া, উত্তরখান ও দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা প্রতিদিন বেইলি ব্রিজ ব্যবহার করেন। ফলে ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় তাঁদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে শামীম খান ওরফে ক্যাসেট শামীম বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিএনপি নেতা ইসমাইল সিকদার বসু, মামুন পাঠান, লিটু মিয়াসহ আরও কয়েকজন টঙ্গীবাজার ইজারা নিয়েছেন। কিন্তু সিটি করপোরেশন ইজারাকৃত জায়গা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে দেয়নি। তাই ইজারার টাকা ওঠানোর জন্য বেইলি ব্রিজের পাশে তুরাগ নদের তীরে অস্থায়ীভাবে কিছু দোকান বসানো হয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এর বেশি নেওয়া হচ্ছে না।’

 

টঙ্গীবাজারের ইজারাদার ও বৃহত্তর টঙ্গী থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসমাইল সিকদার বসু বলেন, ‘প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে টঙ্গীবাজার ও আশপাশের এলাকার বাজার আমরা ইজারা নিয়েছি। বেইলি ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে এক থেকে দেড়শ ছোট দোকান বসানো হয়েছে। এখন সবাই বিআরটি উড়ালসড়ক দিয়ে চলাচল করে। নিচ দিয়ে তেমন গাড়িঘোড়া চলাচল করে না। সড়ক ও জনপথ বিভাগ মহাসড়ক মেরামতের কাজ শুরু করলে দোকানপাট সরিয়ে নেওয়া হবে।’

ফুটপাত দখল করে দোকান, মাসে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ক্যাসেট শামীমের বিরুদ্ধে

চলমান জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে নিরপেক্ষতা বজায় রাখাসহ ২৯ বিষয়ে বর্তমান সরকার ব্যর্থ বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সোমবার (২৪ আগস্ট) এনসিপির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ব্যর্থতার এসব দাবি উত্থাপন করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে জ্বালানির বাজার, সারের সংকট ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। তারা বলেছিল নির্বাচন হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু আমরা দেখছি এখন সেটা আরও উল্টো খারাপ হয়েছে।’

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী পদের জন্য বিএনপির দলীয় সংগঠনের লোকেরা মারামারি করছে। ইউএনওর অফিসে গিয়ে মারধর করছে। সরকারের সমালোচনা করায় একজন বিচারককে আদালতের এজলাসে মারধর ও অফিস কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে। ঢাকা কলেজের ফুটপাতে চাঁদাবাজি নিয়ে তাদের অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে। যার কোনো বিচার আমরা হতে দেখিনি।

 

নির্বাচিত সরকারের প্রথম বৈদেশিক সফর নিয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে মালয়েশিয়া সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে। কিন্তু তথ্য বলছে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বিদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানির পরিমাণ কমেছে। সেখানে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিকরা যেতে পারছেন না। এছাড়া আমরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জনশক্তি রপ্তানির কাজটি সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হচ্ছে। ’

 

জুলাই গণহত্যার বিচারের প্রশ্নে চিফ হুইপ বলেন, জুলাই গণহত্যা নিয়ে সরকারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখছি না। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের করা নানান সংস্কারকে দুর্বল করা হচ্ছে। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। জুলাই আহতদের পুনর্বাসনে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখছি না।

 

সরকারের বৈদেশিক নীতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকারের বৈদেশিক নীতির মধ্যে আমরা একধরনের দ্বিধান্বিত পররাষ্ট্রনীতি, আত্মবিশ্বাসহীন পররাষ্ট্রনীতি দেখতে পাচ্ছি। সরকার কখনো প্রবল আত্মবিশ্বাসে বিবৃতি দিচ্ছে আবার কখনো দেখি কর্তব্যবিমুখ। সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকার অনেক বড় বড় বিবৃতি দিয়েছে, কিন্তু জুলাই জাদুঘরে ফেলানির স্মারকটি সরানো হয়েছে। যাতে ভারত অখুশি না হয়। এছাড়া ভারত সফর নিয়ে একটা দ্বিধার মধ্যে আছে। শেখ হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে ভারতের সঙ্গে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা আমরা দেখিনি।’

 

 

সংস্কারকে দুর্বল করা নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ বিএনপি নিজের ৩১ দফা থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। সাংবিধানিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তারা দলীয় লোক নিয়োগ দিচ্ছে। এছাড়া মানবাধিকার কমিশন, দুদক ও ন্যায়পালের মতো বিষয়গুলোকে সরকার উপেক্ষা করে যাচ্ছে।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির দপ্তর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত ও সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জ্বালানি সংকট-দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ ২৯ বিষয়ে সরকার ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম টিডিসি রিপোর্ট

নওগাঁ সরকারি কলেজের এক ছাত্রীকে মোটরসাইকেলে এসে ‘ব্যাড টাচ’ করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদ (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পাঁচ দিনের অভিযানে তার পরিচয় শনাক্ত করে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তার কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার শান্তাহার জনকলোনি এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট নওগাঁ সরকারি কলেজের মাস্টার্সের এক ছাত্রী টিউশনে যাওয়ার জন্য মেস থেকে বের হন। তিনি এটিম মাঠের গলিপথ দিয়ে যাওয়ার সময় ইমরুল কায়েসের বাড়ির সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে স্পর্শ করে দ্রুত পালিয়ে যান। ঘটনার পর ভুক্তভোগী কয়েক দিন পর নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানান।

 

ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। এরপর ডিবির একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই ক্যামেরার তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করে। টানা পাঁচ দিন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত করা হয়। পরে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে শান্তাহার এলাকা থেকে কাজী আব্দুল্লাহ ওরফে ফুয়াদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। একই সঙ্গে ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক কিংবা যেকোনো স্থানে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা যৌন হয়রানি কঠোরভাবে দমন করা হবে। এ ধরনের ঘটনায় জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেবে।

কলেজছাত্রীকে ‘ব্যাড টাচ’, ডিবির অভিযানে যুবক গ্রেপ্তার

 

আমার জীবনের শেষ সম্বল টাও শেষ হয়ে গেলো’—গত বুধবার হবু স্ত্রী আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীর সঙ্গে একটি ছবি তুলে ক্যাপশনে এমনটাই লিখেছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অদিত কর। সেটিই ছিল তাদের প্রথম কাপল ছবি। পরদিনই রংপুরে নির্মম হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারান প্রার্থীসহ তার বাবা, মা ও ছোট ভাই। বিয়ের তারিখও এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছিল অদিত ও প্রার্থীর।

 

ঘটনার পর অদিত কর স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আমার জীবনের শেষ সম্বল টাও শেষ হয়ে গেলো। এটা বুধবারের ছবি। খুব করে বললো সেদিন আমরা তো কখনো কাপল পিক তুলি নাই। চলো আজকে তুলি। চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সাথে ছিলাম, আছি, থাকবো।’

 

নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অদিত নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জানান, আগামী চক্রবর্তী ও অদিতের বিয়ে চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়েও কথাবার্তা চলছিল। কিন্তু হঠাৎ এমন ঘটনায় চরম হতবাক ও বাক্‌রুদ্ধ হয়ে পড়েছেন অদিত।

 

ওই বন্ধু ফেসবুকে লেখেন, ‘অদিত কর হবু স্ত্রীকে হারিয়ে মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত (ট্রমাটাইজড), তাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব বুঝতে পারছি না। কিছুদিন আগেই অদিতের বাবা মারা গেছেন, আর এখন চিরতরে হারিয়ে গেল তার হবু স্ত্রীও।’

 

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে রংপুর নগরের কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রবিবার ভোরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করা হয়। পরে ওই দিন বিকেলে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

 

এ ঘটনায় রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

 

পুলিশ কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে তার বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিল। এ সময় গণপতি চক্রবর্তী ছাদে উঠে তাদের দেখতে পান। মাদক সেবন ও সেখানে আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে তিনি তাদের বকাঝকা করেন।

 

পুলিশের দাবি, গণপতি চক্রবর্তী তাদের মাদক সেবনের বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দিতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় দুই যুবক। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে ধরলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

কমিশনার বলেন, গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যার সময় তার বাঁচার চেষ্টা ও শব্দ শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওপরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাদের ২৫ বছর বয়সী মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। প্রার্থী চক্রবর্তীকে হত্যা করতে চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। একপর্যায়ে আসামিরা রশি দিয়ে তার গলা ও মুখ পেঁচিয়ে ধরে জোরে টান দেয়। এতে তার চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখ বেরিয়ে আসে। পরে ঘরে থাকা ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকেও হত্যা করে তারা।

 

পুলিশের দাবি, প্রিয়ম আসামিদের চিনত। ভবিষ্যতে সে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অন্যদের জানিয়ে দিতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ ওই বাড়ির ওয়াশরুমে গোসল করে। পরে সেখানে বসেই আবার ইয়াবা সেবন করে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এরপর তারা বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে স্বর্ণালংকার বের করে। পুলিশের দাবি, সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করে। তাই আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে কোনটি আসল স্বর্ণ, তা শনাক্ত করে নেয় সে।

 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আশপাশের লোকজন মসজিদে গেলে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। বের হওয়ার আগে তারা ডাইনিং টেবিলে বসে বয়ামে রাখা খেজুর খায়। এ ছাড়া মাদকের প্রভাব কমানোর জন্য ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খায় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

 

জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে মোবাইল ফোনে পাওয়া যাচ্ছিলো না রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারকে। শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যান শ্যালিকা। সেখানে গিয়ে দেখেন বাড়ি তালাবদ্ধ। জানালা দিয়ে দেখেন এলোমেলো ঘর। বেশ কিছুদিন ধরে বাড়িটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। শনিবার রাতে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা আরও জানান, নিহত গণপতি চক্রবর্তী শিক্ষকতা থেকে অবসর নেয়ার পর নিজ বাসায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন।

আমার জীবনের শেষ সম্বল টাও শেষ হয়ে গেলো, হবু স্ত্রীকে নিয়ে কী বললেন জবি ছাত্র অদিত কর

বেনাপোলের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার সোনামুখো বিলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে অক্সিজেন সংকট তৈরি হয়ে আনুমানিক সাড়ে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের মাছ মারা যাওয়ার দাবি করেছেন ঘের মালিকরা। গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাত থেকে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলের সজনের ঘেরে মাছের আকস্মিক মড়ক শুরু হয়। পরদিন সকালেই বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠে।

 

ঘের মালিকদের দাবি, দিনে-রাতে ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে আধুনিক পদ্ধতিতে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যায়। এ ঘটনার পর শার্শার অন্যান্য এলাকার মৎস্যচাষিদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

 

সোনামুখো বিলের ক্ষতিগ্রস্ত ঘেরটির মালিক এ এফ মৎস্য খামার। আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। খামার মালিকদের হিসাবে, ২০০ বিঘা আয়তনের ঘেরে ৬০ লাখ পিস পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল। প্রতি ১৫টি পাবদা মাছে প্রায় এক কেজি হিসেবে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার মণ। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ মাছের দাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সেই হিসাবে মাছগুলোর মোট বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা।

 

ইতোমধ্যে মাছগুলো বাজারজাতের পাশাপাশি ভারতে রপ্তানির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল বলে জানিয়েছেন খামার সংশ্লিষ্টরা।

 

খামার মালিক আলফাজুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। পরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মাছের খাদ্য বাবদ বাকিতে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মালামাল নিয়েছি। এই ঋণ কীভাবে শোধ করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।

 

অন্য খামারি ফারুক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছি। হয়তো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না। এই খামারের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০০ পরিবার নির্ভরশীল।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘রাত ১টার পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সকাল হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ পাবদা মাছ মারা যায় এবং পচতে শুরু করে।’

 

আরও দেখুন: জাপান–আইএমএফ স্কলারশিপে মাস্টার্সে সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তারা

 

রপ্তানি প্রক্রিয়াও ব্যাহত

খামার সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে জানান, এ খামারে উৎপাদিত পাবদা মাছের একটি অংশ রপ্তানি চেইনের মাধ্যমে ভারতে যায়। ফলে এই মাছ চাষ শুধু স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণেই ভূমিকা রাখে না, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও অবদান রাখে।

 

তাদের অভিযোগ, মাছের মড়ক শুরু হওয়ার পর থেকে শার্শা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর বা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নেননি। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

 

স্থানীয় মৎস্যচাষিরাও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।

 

এ বিষয়ে বেনাপোল সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মনজুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সারা দেশে লোডশেডিং চলছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত বিরতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’

 

তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দিন দিন উন্নতি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে অক্সিজেন সংকট, একরাতেই মারা গেল সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছ

সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণা করা হবে আজ। পেছনের বিচারিক প্রক্রিয়া ও আপিল শুনানি শেষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আসামিদের আপিলের ওপর আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) রায় দেওয়া হবে।

 

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বিশেষ দ্বৈত বেঞ্চ এই বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করবেন।

 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। অন্যদিকে আসামি পক্ষে মামলায় আইনি লড়াই চালান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজালাল, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন ও মোহাম্মদ শিশির মনিরসহ কয়েকজন বিশিষ্ট আইনজীবী।

 

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে অভিযুক্ত ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম এবং মহি উদ্দিন শাকিল।

 

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের একাধিক সংবেদনশীল ও মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিচার কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী গত ১০ জুন একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন। সেই বিশেষ বেঞ্চেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি সম্পন্ন হয়।

 

বিশেষ বেঞ্চটিতে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনার অংশ হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে অভিজ্ঞ আইনজীবীদের নিয়ে পৃথক একটি টিমও গঠন করা হয়েছিল। আজ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় আরেকটি বড় ধাপ অতিক্রম হতে যাচ্ছে।

নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় আজ

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d