শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পাঠ্য বিষয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।

 

আজ শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাখাতের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে কাজ করছে। সেজন্য পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার এসব খেলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে।

 

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এ টুর্নামেন্টে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন বালক ও বালিকা (বালক-৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন, বালিকা-৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন) উভয় খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। এ টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর সারা দেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কলেবর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্বারোপ করছে। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, সাফল্য অর্জন করছে। আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে। আমি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।


স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আপনাদের এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে- ইনশাআল্লাহ, ৫ বছরের মধ্যে সব সম্পন্ন করা হবে। তিন মাসে যে কাজ হয়েছে, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও তা হয়নি।

 

শনিবার (২০ জুন) বেলা সোয়া ১১টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক ভবনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

 

জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) অর্থায়নে দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এ মার্কেট ভবনের কাজ বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), মুন্সীগঞ্জ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউনুস শিকদার) সড়কের ২০০০ মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন।

৩ মাসে যে কাজ হয়েছে, আ.লীগের ১৫ বছরেও হয়নি: মির্জা ফখরুল

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)’-এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের এই ফাইনাল ম্যাচ ও তাদের নৈপুণ্য গ্যালারিতে বসে সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেল চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে পৌঁছেন। পরে তিনি খুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

 

সারা দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধাপে ধাপে বাছাই শেষে মোট চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করেছে।

 

টুর্নামেন্টের বালিকা ও বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বালিকা বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী আসার আগে বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর মডেল সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই খেলায় দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিমধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

২২ লাখ শিক্ষার্থীর মহাযজ্ঞ

 

গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

 

তিনি জানান, গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই বিশাল প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র ও ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশ নিয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, একেবারে গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে দীর্ঘ লড়াই শেষে সেরা দলগুলো ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করার এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে। আগামী আসরে অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আরো কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

 

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে এ আহ্বান জানান তিনি।

 

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ ধরনের হুমকি মোকাবেলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

 

প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানের ফাঁকে প্রতিমন্ত্রী ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

 

বৈঠকে উভয়পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান

জাতীয় সংসদে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় মাথা ঝুঁকিয়ে স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানানোর রীতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি মেনে চলতে বলেছেন।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদের অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত দেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭ অনুযায়ী, সংসদের বৈঠক চলাকালে সংসদে প্রবেশ করার বা সংসদকক্ষ ত্যাগ করার সময় এবং আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময় কোনো সদস্য সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। অষ্টম সংসদে বিধিটি সংশোধন করে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

 

তিনি বলেন, আমি পরীক্ষা করে দেখেছি, অষ্টম সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি সংসদে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে, যা পরে সংসদে বিবেচিত ও গৃহীত হয়। এর মধ্যে ২৬৭ (১) বিধির সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘যেহেতু কার্যপ্রণালি বিধি থেকে ঝুঁকিয়া শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে, সেহেতু আপনারা জাতীয় সংসদে যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাবেন।’

 

এর আগে গত ১৬ জুন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান স্পিকারের প্রতি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর বিষয়টি সুরাহার জন্য পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অনুরোধ জানান।

 

তিনি আপত্তি তুলে বলেছিলেন, মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর এই রীতি ইসলামের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ এবং তা ‘শিরকের কাছাকাছি চলে যায়’। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি দেখে বিষয়টি পরে সংসদকে জানানো হবে।

সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের রীতি বাতিল ঘোষণা

 

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন সরকার একতরফাভাবে চাপিয়ে দিতে চায় না, বরং অংশীজনদের সবার মতামত নিয়েই এই কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের সদিচ্ছার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়ন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করতে চাইছে। তবে এই কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে দেবে না। সবার পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা তৈরি করা হবে।

 

গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই গণমাধ্যম ধরিয়ে দেবে। তবে এর পাশাপাশি সরকারের ভালো ও জনকল্যাণমূলক কাজগুলোও গণমাধ্যমে সমানভাবে আসা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ (কি-নোট) উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। কর্মশালায় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সবার মতামত নিয়েই গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

 

প্রায় এক দশকব্যাপী তদন্ত শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের বহুল আলোচিত রিজার্ভ চুরির মামলায় খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আইনি পরামর্শের জন্য খসড়া অভিযোগপত্রটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির এ ঘটনায় দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির মুখপাত্র জসীমউদ্দিন খান।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়।

 

প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার এই খসড়া অভিযোগপত্রটি চূড়ান্ত আইনি পরামর্শের জন্য এরই মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকে থাকা চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয় এবং বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংকে পাঠানো হয়।

 

যদিও হ্যাকারদের বানান ভুলের কারণে শ্রীলঙ্কায় ২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক ফিলিপাইন থেকে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন উপ-পরিচালক (হিসাব ও বাজেটিং) জোবায়ের বিন হুদা ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন।

 

মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে এই অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে।

রিজার্ভ চুরিতে আতিউর রহমানসহ ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা মিলেছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আধুনিকতার ছোঁয়ায় সাতক্ষীরা থেকে বিলুপ্তির প্রান্তে ‘কোঠা ঘর’

 

মোঃ তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা: আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের বসবাসের ক্ষেত্র পরিধি দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটছে। তবুও মানুষের জীবনের পথ চলায় অতীত স্মৃতিগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। অতীত স্মৃতিগুলোকে জীবনের সঙ্গী করেই মানুষের পথচলা সৌন্দর্যমণ্ডিত ও সমৃদ্ধময় হয়ে ওঠে। সাতক্ষীরায় বিভিন্ন গ্রামের মানুষের কাছে মাটির ঘর খুবই জনপ্রিয়। পরিবারের পূর্বপুরুষদের ধারাবাহিকতার বংশ পরম্পরায় গ্রামাঞ্চলের মানুষ বর্তমানে তুলনামূলক খুব কমই মাটির ঘরে বসবাস করে। তবে এখনো সাতক্ষীরা জেলার কিছু উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কিছু কিছু মানুষ মাটির ঘরে বসবাস করছে। মাটির ঘরে বসবাসরত এমন পরিবার বর্তমান সময়ে খুব কমই চোখে পড়ে।

সাতক্ষীরায় কিছু মানুষ এখনো মাটির ঘরে বসবাস করছেন পরিবারের স্মৃতি আঁকরে ধরে। তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটির ঘরে বসবাস করছেন এ সংখ্যা খুবই কম। কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের পূর্বপুরুষগণ মাটির ঘরেই বসবাস করতো। মাটির ঘর মূলত গ্রামের মানুষের কাছে ‘কোঠা ঘর’ নামেই বেশ প্রচলিত ছিল। মাটির ঘরেই কেটে গেছে রহিমা খাতুনের প্রায় এক জীবন। এখনো স্বামীর রেখে যাওয়া সেই মাটির ঘরই তার জগৎ। তার সাজানো গোছানো সংসারের সবকিছুর মধ্যে মাটির ঘরটিই যেনো তার কাছে শান্তিনীড়। রহিমা খাতুনের (৬৮) ভাষ্য মতে, প্রায় ৩৩ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি মাটির ঘরে বসবাস করছেন। এই মাটির ঘরটিই তার সুখ দুঃখের কেন্দ্রবিন্দু।

ঠিক একই রকম চিত্র দেখা গিয়েছে সাতক্ষীরায় কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের মুড়াগাছায় গ্রামের সেলিনা বেগমের (৬০) সারা জীবন ধরেই মাটির ঘরে বসবাস করে আসছে। এখনো তিনি তার জীবনের শেষ সময়টুকু মাটির ঘরকে কেন্দ্র করে পার করছেন। জীবনের সকল সুখ দুঃখের আলো ছায়ার সঙ্গী যেনো এই মাটির ঘর। তার মেয়ে বলেন ‘‘মাটির ঘরটিই হলো আমার মায়ের কাছে আনন্দ বেদনার সঙ্গী।’’

কিন্তু মাটির ঘরগুলোর সেই রূপ-সৌন্দর্য খুব একটা অনুভব করা যায় না। কেউ কেউ হয়তো পরিবারের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি রক্ষার্থে ঘরগুলো এখনো রেখে দিয়েছেন। কিছু কিছু ঘর পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। আবার কোনো কোনো ঘরে বসবাস করছেন এখনো। তবে বেশির ভাগই ঘরই এখন পরিবারের স্বজনদের স্মৃতি অটুট রাখতে সযত্নে রেখে দেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এক সময় প্রচুর মাটির ঘর দেখতে পাওয়া যেত। তখন একমাত্র ঠিকানা ছিল মাটির ঘর। ঘরগুলো মজবুত, টেকসই ও বসবাসের উপযোগী ছিল। ঘরগুলোর পুরুত্ব ছিল অনেক। এই ঘর তৈরিতে ব্যবহার হতো তুষ, চুনা ও মাটি। মাটির সঙ্গে ভালোভাবে তুষ ও চুনাকে মিশিয়ে তারপর কাঠের তৈরি খুঁটিগুলোর উপর দিয়ে মাটি লেপে লেপে নিখুঁতভাবে তৈরি করা হতো ঘর। রতনপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাংবাদিক জি এম রাজু আহমেদ বলেন, ‘‘বাপ-দাদার আমল থেকেই মাটির ঘরে আমরা বসবাস করতাম। তবে বর্তমানে টিনের ঘরে বাস করি। বাপ-দাদার স্মৃতি রক্ষার্থে মাটির ঘর রেখে দিয়েছি। ভেঙ্গে নতুন ঘর দেইনি। ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে মাটির ঘরে বসবাস করেছে। ছোটবেলা থেকেই দেখতাম আমার বাবা মাটির ঘরেই বসবাস করত। তীব্র গরমের দিনে মাটির ঘর প্রচন্ড শীতল থাকে।’’ এক কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘জন্মের পর থেকেই দেখে আসছিবাবা-মা মাটির ঘরে বসবাস করতো। আমাদের পারিবারিক ও সংসারের সকল সুখ-দুঃখের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই ঘর। যখন ঈদের সময় ঘনিয়ে আসতো তখন আম্মা-আব্বাকে দেখতাম সম্পূর্ণ মাটির ঘরটি পুনরায় লেপে দিত। প্রতিবছরের ঈদের আনন্দের সাথে মাটির ঘরের নিখুঁত চাকচিক্যপূর্ণ অপরুপ দৃশ্য আমাদের ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণচঞ্চল করে তুলতো।’’

সাংবাদিক কাজী মারুফ হোসেন বলেন, ‘‘মাটির ঘর আমাদের গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। আগেকার দিনে যখন টিনের ঘর এবং দালান কোঠার প্রচলন ছিল না তখন মাটির ঘরেই মানুষ বসবাস করতো। আমাদের গ্রামাঞ্চলের মানুষের প্রবাহমান জীবনের গতিধারায় এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হল মাটির ঘর। বর্তমানে মাটির ঘর তেমন একটা খুব চোখে না পড়লেও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় মাটির ঘরেই এখনো কেউ কেউ বসবাস করছে। গ্রামাঞ্চলে মাটির ঘরে বসবাসরত মানুষের মাটির ঘরকে কেন্দ্র করে জীবনের সুখ-দুঃখের অনেক স্মৃতি মিশে রয়েছে।’’

আধুনিকতার ছোঁয়ায় সাতক্ষীরা থেকে বিলুপ্তির প্রান্তে ‘কোঠা ঘর’

 

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন

 

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তিস্তা ব্যারেজের সামনে থেকে শুরু হয়ে ডালিয়া- পাগলাপীর সড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম সদস্য প্রভাষক ছাদের হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি ও নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মুনতাকিম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম কমিটির সদস্য মাওলানা আস্তাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, মজিবুর রহমান, মোখলেছার রহমান, মনিরুজ্জামান জুয়েল, আব্দুল কাদিম, অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী, সাংবাদিক কামরুজ্জামান প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন বৃহস্পতিবার মন্ত্রী পরিষদের দুইজন সদস্য তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এর কয়েক ঘণ্টা পর তিস্তায় পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। এই বিষয়ে অবশ্যই সংসদে কথা উঠাতে হবে। কি কারনে উজানে ভারী বর্ষণ ছাড়াই তিস্তায় পানি প্রবাহ বাড়ল। এজন্য আন্তর্জাতিক আইনে অবশ্যই মামলা করতে হবে। তা না হলে ভারতকে সামলানো যাবে না। ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র, বন্ধু নয়। তিনি আরো বলেন তিস্তা নদী কয়েকটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে প্রায় দুই কোটি লোক উপকৃত হবে। নদী শাসন হবে, নদী সুশৃংখল হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে রংপুর-বগুড়া অঞ্চলের জনপদ উপকৃত হবে। সুতরাং দেশের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে সর্বপরি বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। মানববন্ধনে নীলফামারী জেলার বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আপনাদের এলাকায় যত রাস্তাঘাট ও সেতু রয়েছে- ইনশাআল্লাহ, ৫ বছরের মধ্যে সব সম্পন্ন করা হবে। তিন মাসে যে কাজ হয়েছে, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও তা হয়নি।

 

শনিবার (২০ জুন) বেলা সোয়া ১১টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত আধুনিক ভবনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

 

জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) অর্থায়নে দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে ২০২৪ সালের ১ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক এ মার্কেট ভবনের কাজ বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), মুন্সীগঞ্জ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্না কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গজারিয়া উপজেলার ব্র্যাক অফিস থেকে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউনুস শিকদার) সড়কের ২০০০ মিটার পর্যন্ত পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি রসুলপুর বাজার এলাকায় ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন।

৩ মাসে যে কাজ হয়েছে, আ.লীগের ১৫ বছরেও হয়নি: মির্জা ফখরুল

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)’-এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের এই ফাইনাল ম্যাচ ও তাদের নৈপুণ্য গ্যালারিতে বসে সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেল চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে পৌঁছেন। পরে তিনি খুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

 

সারা দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধাপে ধাপে বাছাই শেষে মোট চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করেছে।

 

টুর্নামেন্টের বালিকা ও বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বালিকা বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী আসার আগে বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর মডেল সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই খেলায় দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিমধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

২২ লাখ শিক্ষার্থীর মহাযজ্ঞ

 

গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

 

তিনি জানান, গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই বিশাল প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র ও ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশ নিয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, একেবারে গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে দীর্ঘ লড়াই শেষে সেরা দলগুলো ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করার এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে। আগামী আসরে অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া প্রায় এক মিনিটের ভিডিওতে মাদারীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।’

 

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠকে তার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে টেবিল চাপড়ে উপস্থিত এক বিএনপি কর্মীসহ কয়েকজনকে ধমক দিতে দেখা যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রামে একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বিএনপি কর্মী তারামিয়াসহ উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সালিশ চলাকালে এক পক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংসদ সদস্য হানজালা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

সালিশে উপস্থিত বিএনপি কর্মী তারা মিয়া বলেন, ‘বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। আমার মনে হয়েছে, এমপি সাহেব অন্যদের কথা শোনার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দিতে চাচ্ছিলেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। যাকে জরিমানা করা হয়েছে, তিনি একজন দরিদ্র মানুষ। তার পক্ষে এত টাকা দেওয়া কঠিন।’

 

তারা মিয়া আরও বলেন, ‘যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো ধৈর্যের সঙ্গে সেসব কথা শোনা। অন্যথায় সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে একতরফা সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।’

 

স্থানীয়রা জানান, বৈঠকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় উপস্থিত একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে রেকর্ডিংটি সেখানেই শেষ হয়।

 

ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। এলাকার মানুষ আমাকে ছাড়া সালিশে বসতে চায়নি, তাই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সালিশের সময় উভয় পক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বারবার কথা কাটাকাটি করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই আমি ধমক দিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত বিচার কাজ সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।’

 

প্রসঙ্গত, মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে অল্প ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন পীরজাদা হানজালা। এর আগেও তিনি ‘খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি দেশে থাকতে পারবে না’ বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন। পরে অবশ্য তিনি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন

চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো’— সালিশ বৈঠকে এমপি হানজালা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে দিয়ে বিএসএফ নারী ও শিশুসহ ২০ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী। এ সময় বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতার ধাওয়া খেলে পালাতে বাধ্য হয় বিএসএফ সদস্যরা।

 

শনিবার (২০ জুন) ভোরে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌকা সীমান্তে ১৭৭/২এস পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে চৌকা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৪ শিশু, ১১ নারী ও ৫ পুরুষসহ মোট ২০ জনকে জোর করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেয়।

 

চৌকা বিওপির হাবিরদার আশরাফ আলি জানান, পুশইন ঘটনার টের পেয়ে আমরা প্রতিরোধ করি। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারাও আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। শেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত সকাল ৯টার দিকে ২০/২৫জন বিএসএফ আবারও তাদেরকে পুশইন করার চেষ্টা করলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তখন স্থানীয়র তাদেরকে ধাওয়া করলে পালাতে বাধ্য হয় বিএসএফ সদস্যরা।

 

বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বিজিবি টহল দলের তৎপরতায় ২০ জনকে পুশ ইন করার চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তারা বর্তমানে শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। আমরা সীমান্তে যাচ্ছি, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

শিবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ধাওয়া খেলে পালাল বিএসএফ

দুবাইয়ে আটক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাই পুলিশকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘‘আশা করছি যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই দুবাই সরকার বেনজির আহমেদকে ফিরিয়ে দেবে।’’

 

আজ শনিবার (২০ জুন) আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সচিবালয়ে ১৫ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার অনুষ্ঠান শেষে প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

আগের যেকোনো সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকার দ্রুত গতিতে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘দুবাই সরকার বেনজিরের বিষয় কাগজপত্র চেয়ে আবেদন করার পরদিনই সব নথি পাঠানো হয়েছে। ১৪৪ পাতার কাগজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাই সরকারের কাছে চলে গেছে।’’

 

তিনি বলেন, ‘‘অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে দুবাইয়ের সঙ্গে সরকারের একটি মিউচুয়াল চুক্তি রয়েছে। সে চুক্তির মাধ্যমে গতমাসেও দুজন অপরাধীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাই বেনজিরকে ফিরিয়ে আনতে কোনো ধরনের আইনি বাধা হবে না।’’

 

‘‘২৩ জুনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে। এটি একটি দল নয়, এটি মাফিয়া বাহিনী। সেজন্য পুলিশ সদরদপ্তরকে অ্যালার্ট করা হয়েছে’’, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ‘‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময় পুলিশ যেভাবে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল নির্বাচিত সরকার আসার পর সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। পুলিশের কাজের গতি বেড়েছে।’’

বেনজীরকে ফেরাতে সব ধরনের কাগজপত্র দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জয় দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের একটি ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে আলজেরিয়া ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলজেরিয়া ফিফার রেফারিং কমিশনের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি।আলজেরিয়ার দাবি, ম্যাচের প্রথমার্ধে তাদের অধিনায়ক আইসা মান্দির সঙ্গে বলের লড়াইয়ে মেসির একটি ট্যাকল ছিল বিপজ্জনক। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ঘটনায় মান্দির পায়ের পেছনের অংশে আঘাত লাগে। তাদের মতে, ঘটনাটি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল।

 

ম্যাচে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে। তবে রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং মাঠে তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি পরিচালনা করেন পোল্যান্ডের অভিজ্ঞ রেফারি শিমন মারচিনিয়াক। তিনি এর আগে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আলজেরিয়ার অভিযোগ মূলত রেফারিং সিদ্ধান্ত এবং ঘটনাটির মূল্যায়নকে কেন্দ্র করেই করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি। তিনটি গোল করে তিনি দলকে বড় জয় উপহার দেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ডের সমতায় পৌঁছান।

মেসির সেই ‘ফাউল’ ইস্যুতে ফিফার কাছে নালিশ করল আলজেরিয়া

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পাঠ্য বিষয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।

 

আজ শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাখাতের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে কাজ করছে। সেজন্য পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার এসব খেলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে।

 

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এ টুর্নামেন্টে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন বালক ও বালিকা (বালক-৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন, বালিকা-৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন) উভয় খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। এ টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর সারা দেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কলেবর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্বারোপ করছে। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, সাফল্য অর্জন করছে। আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে। আমি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

টাঙ্গাইলের মধুপুরে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে নেমে বাবা-ছেলেসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার টেলকি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মধুপুর থানার ওসি এ.কে এম ফজলুর হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

নিহতরা হলেন- বাবা বাবুল হাদিমা(৪৮), তার ছেলে নেইমার, বাবুল হাদিমার শ্যালক রতন নকরেক(২৬) ও বোন জামাই গাব্রিয়েল সাংমা (৪২)।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে বাবুল হাদিমার একটি ছাগল বাড়ির নিকটস্থ একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায়। ছাগলটি উদ্ধারের জন্য বাবুল হাদিমার ছেলে নেইমার সেপটিক ট্যাংকে নামে। কিন্তু তার কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তার মামা রতন সাংমা সেপটিক ট্যাংকে নামেন। একইভাবে গ্রাবিয়াল এবং শেষে রতন।

 

একে একে সেপটিক ট্যাংকে নামা চারজনের কারও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা ডাকাডাকি শুরু করে। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এ সময় স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ঘটনার প্রায় দুই ঘন্টা পর সেপটিক ট্যাংক থেকে তাদেরকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

 

মধুপুর থানার ওসি এ.কে এম ফজলুর হক জানান, পুরোনো সেপটিক ট্যাংকটিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সেখানে গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনায় ঘটে। পরিবারের আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে ৪ জনের মৃত্যু

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩