সাতক্ষীরার শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদী রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর ও টেকসই পদক্ষেপ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদী রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর ও টেকসই পদক্ষেপ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদী রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর ও টেকসই পদক্ষেপ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদী রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর ও টেকসই পদক্ষেপ

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলে খোলপেটুয়া নদী কেবল একটি জলাধার নয়, এটি এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা ও অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করা এই জনপদের জন্য নদীভাঙন এক চিরস্থায়ী অভিশাপ। আর এই ক্ষতকে আরও গভীর করে তুলছে এক শ্রেণির অসাধু চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলন। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে রাতের আঁধারে পরিচালিত অভিযান এই দস্যুতা রোধে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

শ্যামনগরে বর্তমানে কোনো বৈধ বালুমহাল নেই। তবুও জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোলপেটুয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়েছেন। বিশেষ করে রাতের আঁধারে বালু দস্যুদের ধরতে এই তৎপরতা প্রমাণ করে যে, প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সচেতন। তবে প্রশ্ন থেকে যায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইজারা বিহীন নদী থেকে বালু তোলার সাহস এই চক্রটি পায় কোথায়?

খোলপেটুয়া নদীটি অত্যন্ত ভাঙনপ্রবণ। এই নদীর পাড় রক্ষা করতে প্রতি বছর সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়। অথচ একদল স্বার্থান্বেষী মানুষ সামান্য ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে পাড়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। এতে কেবল বাঁধের ঝুঁকি বাড়ছে না, বরং উপকূলীয় বাস্তুসংস্থান এবং মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিও হুমকির মুখে পড়ছে। বালু উত্তোলনকারীরা মূলত সাধারণ মানুষের জীবনের বিনিময়ে নিজেদের পকেট ভারী করছে।

প্রশাসনের এই অভিযানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে কেবল মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনা বা কয়েকজনকে জরিমানা করাই যথেষ্ট নয়। বালু দস্যুতার এই শিকড় অনেক গভীরে। এদের পেছনে থাকা রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবশালী শক্তির উৎসগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নদী এলাকায় নিয়মিত টহল ব্যবস্থা জোরদার এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে একটি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

নদী বাঁচলে উপকূল বাঁচবে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান যেন লোক দেখানো বা সাময়িক কোনো তৎপরতা না হয়। বরং খোলপেটুয়া নদীকে দস্যুমুক্ত করতে এই অভিযান নিয়মিত ও স্থায়ী হোক এটাই উপকূলবাসীর প্রত্যাশা। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়, বরং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।


সাতক্ষীরায় শূন্যের কোটায় হাম-রুবেলা

 

মোঃ তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

 

সারা দেশে উদ্বেকজনক হারে হাম রুবেলা আক্রান্ত হলেও সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা এখনও শুন্যের কোটায় রয়েছে। জেলায় এখন পর্যন্ত হাম-রুবেলা উপসর্গে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি ।

জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে জেলায় নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির পাশাপাশি এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। গত ২০ এপ্রিল শুরু হওয়া এই টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা। সেই হিসেবে টিকাদান কার্যাক্রম শেষ হতে চলছে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। নিয়মিত শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং টিকাকেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে সন্তুষ্টি দেখা গেছে।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, “সারা দেশের মতো সাতক্ষীরায় তেমন কোনো হাম আক্রান্ত রোগী নেই। তবে জেলায় এ পর্যন্ত পজেটিভ পাওয়া গেছে তিনজনের। তারা সকলে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এখনও পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে মারা যায়নি কেউ।” তিনি আরো বলেন, “আমাদের এখন অনেক সন্দেহজনক রোগী পাওয়া যাচ্ছে আমরা তাদের স্যাম্পল সংগ্রহ করে ঢাকাতে পাঠিয়েছি। জেলায় এ পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ১ লাখ ৭৪হাজার ৪৩২ জন শিশুকে টিকা দিয়েছি এখন প্রায় তিন হাজারের মত বাকি আছে। এম আর ভাকসিনের ক্ষেত্রে জেলার প্রতিটা ডিপার্টমেন্ট সহযোগিতা করেছে। কোথাও কোনো নেগেটিভ খবর পাওয়া যায়নি বরং জনগনের আস্থা বেড়েছে।”

সাতক্ষীরায় শূন্যের কোটায় হাম-রুবেলা

সাতক্ষীরার আম: রেললাইন হলে খুলবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

 

মোঃ তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

 

গ্রীষ্ম এলেই প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। মাঠে-ঘাটে, গ্রামে-গঞ্জে আর শহরের অলিগলিতে তখন ছড়িয়ে পড়ে পাকা আমের মিষ্টি ঘ্রাণ। আর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপদ সাতক্ষীরা এখন সেই ঘ্রাণে মুখরিত। জেলার বিস্তীর্ণ আমবাগানে শুরু হয়েছে মৌসুমের প্রথম দিকের আম পাড়া। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত আম পাড়া ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গত ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগসহ আগাম জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। আর আগামী ১৫ মে থেকে শুরু হবে বহুল জনপ্রিয় ও সুস্বাদু হিমসাগর আম সংগ্রহ। মৌসুমের শুরুতেই সাতক্ষীরার বাজার, সড়ক ও কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। আমকে ঘিরে যেন পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বাজার এখন আমের বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ভোর হতেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যান, ট্রলি, মিনি ট্রাক ও ছোট যানবাহনে করে আমবাগানের মালিক ও ব্যবসায়ীরা আম নিয়ে বাজারে আসছেন। পাইকাররা সেই আম কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনদের জন্য সুন্দর কুরিয়ার, এস এ পরিবহনসহ বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম পাঠাচ্ছেন। আম মৌসুম ঘিরে কুরিয়ার সার্ভিস ও পরিবহন খাতেও সৃষ্টি হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ। বর্তমানে প্রতি মন আম প্রায় ১৬০০ টাকা দরে কিনলেও কুরিয়ারে পাঠাতে প্রতি কেজিতে গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তবুও সাতক্ষীরার আমের স্বাদ ও সুনামের কারণে মানুষ আগ্রহ নিয়ে এই আম সংগ্রহ করছেন।

একসময় দেশের বাজারে রাজশাহীর আমের কদর ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরার আমও দেশের মানুষের কাছে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার হিমসাগর আম এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ আমের স্বাদ, মিষ্টতা ও ঘ্রাণ এমন যে, একবার খেলে মানুষ বারবার খেতে চান। অনেকে মজা করে বলেন, সাতক্ষীরার হিমসাগর আম সামনে থাকলে বয়স, ডায়েট কিংবা সংযম-সবকিছু ভুলে মানুষ বেশি খেয়ে ফেলেন। এই আমের আঁশ কম, শাঁস বেশি এবং স্বাদে অনন্য হওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ-সব বয়সী মানুষের কাছে এটি সমান প্রিয়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হয় এবং প্রতিবছর হাজার হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার সদর, তালা, কলারোয়া, দেবহাটা , আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য আমবাগান। সাতক্ষীরার মাটি, আবহাওয়া ও লবণাক্ততাসহ পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এখানকার আমে একটি স্বতন্ত্র স্বাদ তৈরি হয়। শুধু দেশেই নয়, সাতক্ষীরার আম এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে সাতক্ষীরার আমের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে আম শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে আম মৌসুমে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে মাঝেমধ্যে এই সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী অপরিপক্ক আম আগেভাগে গাছ থেকে নামিয়ে কৃত্রিম উপায়ে মেডিসিন প্রয়োগ করে দ্রুত পাকিয়ে বাজারজাত করেন। এতে আমের স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বিভিন্ন সময়ে অপরিপক্ক ও কেমিক্যালযুক্ত আম জব্দ করে ধ্বংসও করা হয়েছে। মূলত এই অনিয়ম ঠেকাতে এবং বাজারে নিরাপদ ও পরিপক্ক আম নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন আম পাড়া ক্যালেন্ডার চালু করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম পাড়া নিষিদ্ধ করায় ক্রেতারা এখন তুলনামূলক নিরাপদ ও সুস্বাদু আম পাচ্ছেন।

আম শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। আমে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। পাকা আম চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। গরমের সময় শরীরে শক্তি জোগাতেও আম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের মতে, পরিমিত পরিমাণে আম খেলে হজম শক্তি বাড়ে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পায়।

সাতক্ষীরার আম শিল্পকে ঘিরে অর্থনীতির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা আরও বহুগুণ বাড়তে পারতো যদি এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেললাইন বাস্তবায়ন হতো। সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। স্থানীয়দের মতে, এই রেললাইন চালু হলে আম, চিংড়ি মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনে বিপ্লব ঘটবে। বর্তমানে যেখানে কুরিয়ার বা সড়কপথে প্রতি কেজি আম ঢাকায় পাঠাতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, সেখানে রেলপথ চালু হলে খুব অল্প খরচে দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য পরিবহন সম্ভব হতো। এতে একদিকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হতেন, অন্যদিকে দেশের সাধারণ ভোক্তারাও কম দামে মানসম্মত আম কিনতে পারতেন।

এছাড়া রেললাইন চালু হলে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারতো। সাতক্ষীরার বিখ্যাত চিংড়ি মাছ, আম, পাট ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা যেতো। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ভ্রমণেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতো। সড়কপথের তুলনায় রেলপথে আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সহজেই সাতক্ষীরার সুন্দরবন দেখতে আসতে পারতেন। এতে পর্যটন খাত যেমন সমৃদ্ধ হতো, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিও নতুন গতি পেতো।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব কাজ কিংবা জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি। ফলে সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে। অথচ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে সাতক্ষীরা শুধু আম কিংবা চিংড়ির জেলা হিসেবেই নয়, দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হতে পারতো।

আজ যখন সাতক্ষীরার বাজার আমের ঘ্রাণে মুখরিত, যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাতক্ষীরার আমের কদর বাড়ছে, তখন এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজন আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষিভিত্তিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। কারণ সাতক্ষীরার আম শুধু একটি ফল নয়, এটি এ অঞ্চলের অর্থনীতি, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার প্রতীক।

সাতক্ষীরার আম: রেললাইন হলে খুলবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

মো: জাহাঙ্গীর আলম

শ্যামনগর প্রতিনিধি :

“ডাঃ অনিমেষ কাদের হাতে বন্দী? পরিবারে উৎকণ্ঠা, মুক্তিপণ দাবি ২০ লাখ টাকা

 

শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের বৈশখালী গ্রামের বাসিন্দা, মৃত নিতাই পরামন্যর পুত্র পশু চিকিৎসক ডাঃ অনিমেষ পরামান্য নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ০২ মে সকালে প্রতিদিনের মতো চিকিৎসা কাজে বাড়ি থেকে বের হন ডাঃ অনিমেষ। কিন্তু রাত পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে রাতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি ফোন করে তার স্ত্রীর কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

 

এ ঘটনায় পরিবারটি এখন দিশেহারা ও আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। স্বজনরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং ডাঃ অনিমেষকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

 

এলাকাবাসীর মধ্যেও এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশাসন ও উদ্ধোমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পশু চিকিৎসক নিখোঁজ মুক্তিপণ দাবি ২০ লাখ টাকা।

মুজাহিদ শেখ,স্টাফ রিপোর্টার :

আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁপে চাষ ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৃষকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ মে) ব্র্যাক লার্নিং সেন্টার যশোরে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে মাগুরা ব্র্যাক নার্সারি।

 

দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে মাগুরার শ্রীপুর, ফরিদপুরের মধুখালী ও রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ৫০ জন কৃষক অংশ নেন। প্রশিক্ষক ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাগুরার উপপরিচালক কৃষিবিদ তাজুল ইসলাম।

 

কর্মশালায় হাইব্রিড ও দেশি পেঁপের বৈশিষ্ট্য, উন্নত জাত নির্বাচন, মাটি ও সার ব্যবস্থাপনা, জমি প্রস্তুতি, আগাছা দমন, সেচ ও পানি নিষ্কাশন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া চারা রোপণের উপযুক্ত সময়, পরিচর্যা, সুষম সার প্রয়োগ এবং ফুল ও ফল ঝরা রোধে করণীয় বিষয়গুলো হাতে-কলমে শেখানো হয়।

এসময় পেঁপের রোগবালাই প্রতিরোধ, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ কৌশল নিয়েও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

শ্রীপুর উপজেলার দেবিনগর গ্রামের কৃষক স্বপ্না বিশ্বাস বলেন, ব্র্যাক নার্সারি উদ্যোগে আজকের এই প্রশিক্ষণে আমরা পোকামাকড় দমনসহ নানা বিষয়ে নতুন নতুন অনেক তথ্য জানতে পেরেছেন। যা আমাদের কৃষি কাজে ভালো ফলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

 

গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক দিপেন্দ্রনাথ বলেন, কাঙ্ক্ষিত ফলন না আসায় আমরা হতাশ হয়ে কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেই। এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসে গাছের বিষয়ে কিছু নতুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনেছি, যা আমাদের ভবিষ্যতে কৃষিকাজে উপকারে আসবে।

 

দুর্গাপুর গ্রামের চাষি মো. সাজ্জাদ মোল্লা বলেন, ব্র্যাক নার্সারির এই উদ্যোগ কৃষকদের জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা কৃষকরা সঠিক প্রদ্ধতিতে আরো অধিক চাষাবাদে আগ্রহী হবো।

 

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টার অপারেশনের সিনিয়র ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড অপারেশন) জহিরুল ইসলাম, মাগুরা ব্র্যাক নার্সারি ম্যানেজার মো. মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

আয়োজকেরা জানান, চাষাবাদে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সঠিক রাসায়নিক প্রয়োগ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই ব্র্যাক নার্সারির মূল উদ্দেশ্য।

প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

মাগুরার ব্র্যাক নার্সারির উদ্যোগে পেঁপে চাষের আধুনিক পদ্ধতি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

যশোরে মধ্যরাতে যুবলীগের মিছিল, আটক ৫

যশোর শহরে মধ্যরাতে যুবলীগের ব্যানারে মিছিল ও সমাবেশ করার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) মধ্যরাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।আটকরা হলেন: শহরের কাজীপাড়া এলাকার আনসার আলীর ছেলে সৈয়দ তৌফিক জাহান, একই এলাকার নুরল আলমের ছেলে শফিকুল ইসলাম সুজন, মৃত লোকমানের ছেলে বাবলু শেখ, শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহান হোসেন এবং ষষ্টিতলা এলাকার সৈয়দ আহমদের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাবু।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, মঙ্গলবার সকালে ও রাতে আওয়ামী লীগের একটি ফেসবুক পেজে যশোরে যুবলীগের দুটি কর্মসূচি পালনের দাবি করে ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে শহরের গরীবশাহ রোডে মিছিল ও বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। একই পেজে আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে যুবলীগের কর্মসূচি দাবি করা বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে আসে। এরপর বুধবার মধ্যরাতে পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে। এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশে একাধিক দল মাঠে নেমে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়।

 

ওসি আরও জানান, আটকরা গোপনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মে জড়িত ছিলেন। যুবলীগের মিছিলের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

যশোরে মধ্যরাতে যুবলীগের মিছিল, আটক ৫

*গোয়েন্দা বিভাগ, কেএমপি খুলনা কর্তৃক ০২ বছরের বাচ্চা সহ মাকে উদ্ধারপূর্বক অভিভাবকের নিকট হস্তান্তর*

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)-এর গোয়েন্দা বিভাগের “সাইবার টিম” তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ০২ বছরের বাচ্চা সহ মাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। গত ১৯/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে মোঃ আব্দুল হালিম মোল্লা (৪৩), পিতা: মোঃ আফজাল হোসেন মোল্লা,, গ্রাম-দেয়ানা উত্তরপাড়া, ওয়ার্ড- ৪, খানা-দৌলতপুর, জেলা-খুলনা এর ০২ বছরের নাতনী সহ তার মেয়ে মোসাঃ রিপা (২৬) নিখোঁজ হয়। এ সংক্রান্তে মোঃ আব্দুল হালিম মোল্লা (৪৩) গত ২০/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ দৌলতপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ঘটনার পরপরই কেএমপি গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার টিম তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে এবং অদ্য ২৮/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে ভিকটিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ০২ বছরের নাতনী সহ তার মেয়ে মোসাঃ রিপা (২৬)দ্বয়’কে তার অভিভাবকের নিকট সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধারকৃত নাতনী ও কন্যাকে ফিরে পেয়ে তার অভিভাবকরা খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কেএমপি খুলনা কর্তৃক ০২ বছরের বাচ্চা সহ মাকে উদ্ধারপূর্বক অভিভাবকের নিকট হস্তান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়ক, নৌ ও রেলপথে সব ধরনের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।একই সঙ্গে ঈদের আগে অনুমোদন ও ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধ করতে নৌপুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান।

 

রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর ইস্কাটন রোডের লেডিস ক্লাবে নৌনিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তারা এসব কথা বলেন।

 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নৌ সেক্টরকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর মেধা, ধৈর্য ও ত্যাগকে কাজে লাগানোর বিকল্প নেই।

 

প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে নৌপথের দুর্ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।

ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া পৃথক আরো চারটি মামলায় তাঁর করা জামিন আবেদন আগামীকাল আদেশের জন্য রেখেছেন হাইকোর্ট।

 

রবিবার (১০ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন আবেদন নাকচ করেন।

 

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইয়েদা শাজিয়া শারমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল মো. হুমায়ুন কবির, আল-আমিন, খোরশেদ আলম সেলিম, মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং মো. মোখলেছুর রহমান।

অপরদিকে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্যসহ আরো বেশ কয়েকজন আইনজীবী।

 

জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ইসকন থেকে বহিষ্কৃত চিন্ময় কৃষ্ণকে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাঁকে চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হয়।

 

এদিন চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে তাঁর অনুসারীরা আদালত এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। একপর্যায়ে আদালতের বাইরে চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। গত বছরের ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

 

এতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় দাসকে। পরে ২৫ আগস্ট চিন্ময়সহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদীর উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত।

মামলার বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ জানুয়ারি আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা বিচারের জন্য চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

 

তবে চিন্ময়ের বিরুদ্ধে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলাসহ আরো ছয়টি মামলা রয়েছে।

 

তন্মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মেখল এলাকায় জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের অভিযোগেও মামলা রয়েছে। মামলার বাদী সরকারের ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের পিতা ও সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন।

চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন আবেদন নাকচ

আলোচিত তরুণ ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ও তার স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারার ফের বিচ্ছেদ হয়েছে। দ্বিতীয়বার বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় তাদের বিচ্ছেদ হলো। শনিবার (৯ মে) সাবিকুন নাহার সারা নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

সাবিকুন নাহার জানান, পারিবারিক অশান্তি ও মতবিরোধের জেরে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

 

একপর্যায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন তারা।

তিনি বলেন, ‘আমরা নতুনভাবে সংসার শুরু করার চেষ্টা করেছিলাম। দুই পরিবারও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে সেই সম্পর্ক আর টেকেনি।

 

শেষ পর্যন্ত রমজানের চাঁদরাতে আমাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।’

বিচ্ছেদের পর গত বছরের ২ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আবু ত্বহা আদনান ও সাবিকুন নাহার। প্রথম বিচ্ছেদের পর দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উদ্যোগে তাদের মধ্যে পুনর্মিলন ঘটে। নতুন করে সংসার শুরু করলেও সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হলো না।

দ্বিতীয়বার বিয়ের ৪ মাসেই বিচ্ছেদ, মুখ খুললেন সাবিকুন নাহার

প্রতিবেদনঃ মোঃ ওমর ফারুক

আজ বিশ্ব মা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হচ্ছে। প্রতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

মা শব্দটি ছোট হলেও এর গভীরতা অনেক বড়। সন্তানের জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না—সবকিছুতেই একজন মা নিঃস্বার্থভাবে পাশে থাকেন। তাই মায়ের অবদান কখনোই পরিমাপ করা সম্ভব নয়।

দিবসটি উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মায়ের সঙ্গে ছবি ও স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু একটি দিন নয়, প্রতিদিনই মায়ের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ করা উচিত। কারণ একজন মাই পরিবারের সবচেয়ে বড় আশ্রয় ও শক্তির জায়গা।

বিশ্ব মা দিবসে সকল মায়ের প্রতি রইলো গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

মা মানেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মমতা আর পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।

নীলফামারীতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করালেন চীনা বিশেষজ্ঞ দল

 

মাইদুল ইসলাম: (স্টাফ রিপোর্টার প্রতিনিধি নীলফামারী)

নীলফামারীতে এক হাজার শয্যার “বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল’এর জন্য প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছে চীন সরকারের পাঁচ সদস্যের একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল। শনিবার

(৯ মে) বেলা ছাড়ে ১১ টার দিকে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির পরিচালক ড. ডং লি’র নেতৃত্বে দলটি জেলা সদরের দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস সংলগ্ন প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করে। এ সময় বিশেষজ্ঞ দলটি পুরো এলাকা ঘুরে দেখে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে পানি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেয়। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ফাতেমা- তুজ- জোহরা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ডা. আফরিন মাহমুদ চীনা প্রতিনিধিদলকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। এছাড়া নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সাইদুল ইসলাম এবং গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাকিউজ্জামান প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ফাতেমা- তুজ- জোহরা জানান, চীন থেকে আগত কারিগরি বিশেষজ্ঞ দলটি প্রাথমিক সমীক্ষা শেষে তাদের সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে। পরবর্তীতে আরোও একটি প্রতিনিধিদল পরিদর্শনে আসবে। তবে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় নির্ভর করবে চীন সরকারের সিদ্ধান্তের উপর। স্থান পরিদর্শন শেষে চীনা কারিগরি বিশেষজ্ঞ দলটি নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করে। সেখানে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও চিকিৎসকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা।

নীলফামারীতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করালেন চীনা বিশেষজ্ঞ দল 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাবিবপুরে মাদক বিরোধী ও আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে

শনিবার বিকেলে উপজেলার হাবিবপুর বাজার কমিটির আয়োজনে, জসিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে বাজারে সভা অনুষ্ঠিত হয় ।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কালিয়াকৈর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ সহিদুল ইসলাম পিপিএম,

বিশেষ অতিথি ছিলেন, মৌচাক ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান ৩, মেম্বার মোঃ দেলোয়ার হোসেন এতে বক্তব্য রাখেন বাজার কমিটির সহ-সভাপতি ও চ্যানেল এস কালিয়াকৈর উপজেলা প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমান যুবদল নেতা সোহেল বাবু সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন হাবিবপুর যুব সমাজ ও স্থানীয় মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গগণ. অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরীফ হোসেন.

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর ।

মুঠোফোন ০১৯১৮১৮১৮৮০

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদকবিরোধী ও আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদী রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর ও টেকসই পদক্ষেপ

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলে খোলপেটুয়া নদী কেবল একটি জলাধার নয়, এটি এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা ও অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করা এই জনপদের জন্য নদীভাঙন এক চিরস্থায়ী অভিশাপ। আর এই ক্ষতকে আরও গভীর করে তুলছে এক শ্রেণির অসাধু চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলন। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে রাতের আঁধারে পরিচালিত অভিযান এই দস্যুতা রোধে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

শ্যামনগরে বর্তমানে কোনো বৈধ বালুমহাল নেই। তবুও জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোলপেটুয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়েছেন। বিশেষ করে রাতের আঁধারে বালু দস্যুদের ধরতে এই তৎপরতা প্রমাণ করে যে, প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সচেতন। তবে প্রশ্ন থেকে যায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইজারা বিহীন নদী থেকে বালু তোলার সাহস এই চক্রটি পায় কোথায়?

খোলপেটুয়া নদীটি অত্যন্ত ভাঙনপ্রবণ। এই নদীর পাড় রক্ষা করতে প্রতি বছর সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়। অথচ একদল স্বার্থান্বেষী মানুষ সামান্য ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে পাড়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। এতে কেবল বাঁধের ঝুঁকি বাড়ছে না, বরং উপকূলীয় বাস্তুসংস্থান এবং মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিও হুমকির মুখে পড়ছে। বালু উত্তোলনকারীরা মূলত সাধারণ মানুষের জীবনের বিনিময়ে নিজেদের পকেট ভারী করছে।

প্রশাসনের এই অভিযানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে কেবল মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনা বা কয়েকজনকে জরিমানা করাই যথেষ্ট নয়। বালু দস্যুতার এই শিকড় অনেক গভীরে। এদের পেছনে থাকা রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবশালী শক্তির উৎসগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নদী এলাকায় নিয়মিত টহল ব্যবস্থা জোরদার এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে একটি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

নদী বাঁচলে উপকূল বাঁচবে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান যেন লোক দেখানো বা সাময়িক কোনো তৎপরতা না হয়। বরং খোলপেটুয়া নদীকে দস্যুমুক্ত করতে এই অভিযান নিয়মিত ও স্থায়ী হোক এটাই উপকূলবাসীর প্রত্যাশা। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়, বরং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদী রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর ও টেকসই পদক্ষেপ

আবারও ভেঙে গেছে আলোচিত তরুণ ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ও তার স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সারার সংসার । গত বছরের ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মাত্র ৪ মাসের মাথায় তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

 

গত রমজানের চাঁদরাতেই আবু ত্বহা আদনান তার স্ত্রীকে তালাক দিলেও বিষয়টি এতদিন গোপন ছিল বলে জানা গেছে। শনিবার (৯ মে) সাবিকুন্নাহার সারা নিজেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

সারা জানান, গত রমজানের চাঁদরাতেই তাদের মধ্যে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। আবু ত্বহা আদনান তাকে তালাক দেন।

 

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে গত বছরের ২১ অক্টোবর আবু ত্বহা-সারা দম্পতির প্রথমবার বিচ্ছেদ ঘটেছিল। পরবর্তীতে ২ ডিসেম্বর তারা আবারও ঘটা করে বিয়ে করেন। তবে দ্বিতীয় দফার এই দাম্পত্য জীবনও স্থায়ী হলো না।রংপুরের তরুণ ইসলামিক বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান ২০১৭ সালে ইউটিউবে বক্তৃতা শুরু করে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার আলোচনায় কিয়ামতের আলামত, দাজ্জাল, সামাজিক সমস্যা এবং মুসলিম সমাজের চ্যালেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত থাকে।

 

তিনি ‘জিন নুরাইন অনলাইন মাদ্রাসা’ ও পরিচালনা করেন এবং দর্শন বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করার পাশাপাশি দ্বীনি বিষয়ে স্বশিক্ষিত।

 

২০২৩ সালের জুনে, আদনান তার তিন সঙ্গী এবং গাড়িচালকসহ ঢাকায় যাওয়ার পথে হঠাৎ নিখোঁজ হন। আট দিন পর তিনি রংপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন।

 

পুলিশ জানায়, তিনি ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন এবং কোনো অপরাধের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তবে, আদনান দাবি করেছিলেন যে তাকে শেখ হাসিনার পুলিশ বাহিনী ‘গুম‘ করে আয়নাঘরে আটকে রেখেছিল। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তার পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

সেই স্ত্রীকে আবারও তালাক দিলেন আবু ত্বহা আদনান

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক বলেছেন, যারা একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ পালনের কথা বলেন, তাদের মতবাদ ধর্ম ও বিজ্ঞানবিরোধী।

 

শনিবার (৯ মে) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘রোজা ও ঈদ বিশ্বব্যাপী একই দিনে পালনের দাবির ভ্রান্তি নিরসন ও শরিয়াহ বিশ্লেষণ শীর্ষক’ জাতীয় সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

 

একই তারিখে সারা বিশ্বে রোজা ও ঈদ পালনের দাবি দলীলভিত্তিক নয় এবং কার্যক্ষেত্রে এর বাস্তবায়নও অসম্ভব উল্লেখ করে আবদুল মালেক বলেন, ইসলামি শরিয়তে চন্দ্রমাস শুরুর মানদণ্ড হলো হেলাল দেখা কিংবা হেলালের সাক্ষ্য। অন্যথায় মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করা। এ মানদণ্ড বাদ দিয়ে অমাবস্যা থেকে মাস শুরু করা শরিয়ত পরিবর্তন এবং নিজ খেয়াল-খুশি মোতাবেক নতুন শরিয়ত প্রবর্তন করার শামিল। এমনিভাবে হেলাল দেখার পরিবর্তে জ্যোতির্বিজ্ঞান-ভিত্তিক আগাম প্রস্তুতকৃত হিজরি ক্যালেন্ডারের নামে বিভিন্ন লুনার ক্যালেন্ডারকে মানদণ্ড বানানোও স্পষ্ট নাজায়েজ এবং শরিয়তে হস্তক্ষেপের শামিল।

 

তিনি বলেন, মুসলমানদের ঈদ অন্য জাতিগোষ্ঠীর উৎসবের মতো নিছক আনন্দ-উৎসব নয়; বরং এটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই একে অন্যদের উৎসবের আদলে উদযাপনের চিন্তা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও অযৌক্তিক।

 

বায়তুল মোকাররমের খতিব আরও বলেন, হেলাল দেখাকে একমাত্র ভিত্তি গণ্য করে পুরো বিশ্বের জন্য একই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া দলীলভিত্তিক নয় এবং উম্মতের ইজমা পরিপন্থি। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো শহরের চাঁদ দেখাকে ভিত্তি করে অন্য অঞ্চলের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণও শরিয়তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

মাওলানা আবদুল মালেক বলেন, শরয়ি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বক্তব্য অপরিহার্য নয়। অতীতে মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও বিশ্বব্যাপী একই দিনে রোজা-ঈদ পালনের পক্ষে ছিলেন না। কারণ এটি মূলত শরিয়তের বিষয় এবং শরিয়ত যা বলে তাই মেনে নেওয়াই মুসলমানদের কর্তব্য।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে যে পদ্ধতিতে রোজা ও ঈদ পালিত হয়ে আসছে, দেশের অধিকাংশ আলেম-মাশায়েখ সে ব্যাপারে একমত। তাই অনুমিত ধারা পরিবর্তনের কোনো শরয়ি কারণ নেই। বরং এর পরিবর্তনের ফলে সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে।

 

আবদুল মালেক আরও বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটি। তাই শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি না থাকলে এ কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে চলা মুসলিম নাগরিকদের দায়িত্ব।

 

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মুফতি মাহমুদুল হাসান। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

একই দিনে বিশ্বে ঈদ পালনের প্রশ্নে যা বললেন মুফতি আবদুল মালেক

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d