
সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ সড়ক!! ২৪ বছর অপেক্ষার পর কাজ শুরু, তবু শেষ নিয়ে অনিশ্চয়তা জনগণের
মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি :
দীর্ঘ ২৪ বছর পর পুনর্নির্মাণ শুরু হলেও শেষ হচ্ছে না সাতক্ষীরা- মুন্সীগঞ্জ ভেটখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ। নির্ধারিত মেয়াদ পার হয়ে গেলেও প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩১ শতাংশ। ধীরগতির নির্মাণকাজ, খুঁড়ে রাখা রাস্তা, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ এবং বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত বিকল্প পথের কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো যাত্রী।
সাতক্ষীরা শহরের লাবনী মোড় থেকে মুন্সীগঞ্জ ভেটখালী পর্যন্ত ৬২ দশমিক ৩২৫ কিলোমিটার সড়কটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক। প্রতিদিন এ পথে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
দেবহাটা, পারুলিয়া, গাজীরহাট ও কালীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী। বৃষ্টির কারণে অস্থায়ী বিকল্প পথগুলো কাদায় পরিণত হওয়ায় পথচারী, শিক্ষার্থী ও মুমূর্ষু রোগীবাহী যানবাহনের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রেখে নির্মাণসামগ্রী যত্রতত্র ফেলে রেখেছে। এতে কোমলমতি শিশুদের রাস্তা পারাপার কঠিন হয়ে পড়েছে এবং প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। অবিলম্বে কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানান তারা। সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহার এবং বালু ভরাটে নির্ধারিত মান বা পুরুত্ব না মানার অভিযোগও রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে কাদাময় পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, রাস্তার দুই পাশে জমে থাকা পানিতে মশার উপদ্রব বেড়েছে। কাদার কারণে বিশেষ করে নারী পথচারীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, জরাজীর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয় বলে অভিভাবকেরা সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকেন। তাই দ্রুততম সময়ে সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছে তারা। যানবাহন চালকদের অভিযোগ, সড়কে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্তের কারণে গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, যা যাত্রীদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে যাতায়াত নিরাপদ ও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।
এদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। কাজের সুবিধার্থে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মঈনউদ্দীন বাশি লিমিটেড’-এর ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ জানান, বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে বিলম্ব হওয়ার কারণেই মূলত কাজের গতি কমেছে।
অন্যদিকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ বলেন, দীর্ঘ ২৪ বছর পর সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগর হয়ে ভেটখালী পর্যন্ত ৬২ কিলোমিটার সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। তবে মূল কাজ শুরু করার জন্য আমরা কার্যত মাত্র ১১ মাসের মতো সময় পেয়েছি। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তাই প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছে।
Leave a Reply