
সাতক্ষীরা শ্যামনগরে সেই নারীর ভুমিষ্ঠ সন্তানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন বিএনপি নেতা ড. মনিরুজ্জামান
মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে রাস্তার মধ্যে প্রসব বেদনায় কাতর এক নারীর জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে দিয়ে রীতিমত প্রসংশায় ভাসলেন বিএনপি নেতা ড. মোঃ মনিরুজ্জামান। শনিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালে যান সেই নারীর সদ্য ভুমিষ্ঠ সন্তানকে দেখতে। তিনি চিকিৎসকদের কাছে প্রসূতি মা ও তার সন্তানের স্বাস্থ্যের খোজখবর নেন।
শুক্রবার শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার চাঁদনীমুখা গ্রামের বনজীবী হারুন গাজীর স্ত্রী হিরা খাতুনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর জন্য তিনি নিজের ব্যবহৃত গাড়ি ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে প্রায় ২৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রসূতিকে বহনকারী গাড়িটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে পৌছাতেই হিরা খাতুন কন্যা সন্তানের জম্ম দেন। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার নীলডুমুর খেয়াঘাটে।
প্রসূতির মা রুমি বেগমসহ অন্যরা জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় হিরা খাতুনের প্রসব বেদনা শুরু হয়। তবে তার স্বামী ও জামাই হারুন মধু সংগ্রহের কাজে সুন্দরবনে অবস্থান করায় সিদ্ধান্ত নিতে যেয়ে তারা দেরি করে ফেলেন।
একপর্যায়ে রাত আটটার দিকে পরিস্থিতি খারাপের দিকে চলে যাওয়ায় প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে নৌকা চালিয়ে হিরাকে নীলডুমুর খেয়াঘাটে নেয়া হয়। তবে সেখানে পৌছে কোন যানবাহন না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন সকলে। এসময় তীব্র প্রসব বেদনায় চিৎকার করতে থাকা প্রসূতি হিরার মুখ চেপে ধরার চেষ্টা করেন তারা। বিষয়টি দেখে ঘটানাক্রমে সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান এগিয়ে যান এবং নিজের গাড়ি দিয়ে তাদের হাসপাতালে পৌছে দেন।
রুমি বেগম জানান, দুর্গম আর উপকুলবর্তী হওয়ায় রাতে কোন যানবাহন পাওয়া যায় না। নৌকা একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হলেও রাতে মেলে না। এলাকায় প্রসূতিদের উপযুক্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্র না থাকায় প্রসব বেদনা শুরু হলেই শ্যামনগর সদরে ছুটতে হয়। ইতিপুর্বে এভাবে একাধিক প্রসুতির মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মনিরুজ্জামানের কল্যাণে মেয়েটা সময়মত হাসপাতালে পৌছাতে পেরেছিল। গতকাল শুক্রবার সকালে মনিরুজ্জামান নানা ধরনের উপঢৌকন নিয়ে সদ্যজাত সন্তানসহ ঐ প্রসূতিকে দেখতে এসেছিল।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ড. মোঃ মনিরুজ্জামানের ভাষ্য তিনি গাবুরায় কর্মী সভা শেষে শ্যামনগরের উদ্দেশ্যে রুনা দিয়ে পথিমধ্যে উক্ত প্রসূতি ও তার অসহায় স্বজনদের দেখতে পান। এসময় খোঁজ নিতে যেয়ে তাদের বিপদের কথা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে নিজে মোটরভ্যানযোগে শ্যামনগরে ফিরলেও হিরা ও তার স্বজনদের ব্যক্তিগত গাড়িযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তরিকুল ইসলাম জানান সময়মত হাসপাতালে পৌছানের কারনে সমুহ বিপদ থেকে সদ্যজাত শিশু ও তার মা রক্ষা পেয়েছে। দু’জনেই সুস্থ- তথ্য দিযে তিনি আরও বলেন, গাবুরার জন্য বিশেষ একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র অতি জরুরী। তিনি ড. মনিরুজ্জামানের প্রশংসা করে বলেন, তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।
এদিকে সচেতন নাগরিকরা জানান, এমন মানবিক আচারণ প্রত্যেকের করা উচিত। মনিরুজ্জামান অন্যের জন্য অনুকরণীয় আচারণ করলেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রভাষক দেবাশীষ মিস্ত্রি।
Leave a Reply