
চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে প্রাকৃতিক আবাসে ফিরে গেছে সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে আহত হওয়া সেই বাঘিনী। তাকে গতিবিধি দেখার জন্য সুন্দরবনে আট কিলোমিটারজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি ক্যামেরা। একটি দল অন্তত এক বছর ধরে বাঘ অবমুক্তকরণ এলাকার চারপাশে বাঘের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
গতকাল রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে বাঘিনীকে সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, সুস্থ বাঘিনীটি এখন স্বাভাবিকভাবে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণ করতে পারবে।
প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, বাঘটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করার জন্য অভিজ্ঞ ও প্রখ্যাত বন্যপ্রাণী চিকিৎসক, বাঘ বিশেষজ্ঞ এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চারটি দল গঠন করা হয়। এই দলই বাঘিনীকে সুন্দরবনে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি সার্বিকভাবে তত্ত্বাবধায়ন করেছে।
গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের শরকির খালসংলগ্ন বনাঞ্চলে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘিনীটি গুরুতর জখম হয়। পরদিন ৪ জানুয়ারি বন বিভাগের সদস্যরা ট্রাঙ্কুইলাইজার গান ব্যবহার করে বাঘিনীটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে খুলনায় বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে নেয়া হয়।
সেখানে ৬ মাসেরও অধিক সময় ধরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে বাঘিনীটি পুরোপুরি সুস্থ করে তোলা হয়।
Leave a Reply