সুন্দরবনে ২০ ক্যামেরার নজরদারিতে সেই বাঘিনী - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
সুন্দরবনে ২০ ক্যামেরার নজরদারিতে সেই বাঘিনী

সুন্দরবনে ২০ ক্যামেরার নজরদারিতে সেই বাঘিনী

চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে প্রাকৃতিক আবাসে ফিরে গেছে সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে আহত হওয়া সেই বাঘিনী। তাকে গতিবিধি দেখার জন্য সুন্দরবনে আট কিলোমিটারজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি ক্যামেরা। একটি দল অন্তত এক বছর ধরে বাঘ অবমুক্তকরণ এলাকার চারপাশে বাঘের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

 

গতকাল রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে বাঘিনীকে সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, সুস্থ বাঘিনীটি এখন স্বাভাবিকভাবে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণ করতে পারবে।

 

প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, বাঘটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করার জন্য অভিজ্ঞ ও প্রখ্যাত বন্যপ্রাণী চিকিৎসক, বাঘ বিশেষজ্ঞ এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চারটি দল গঠন করা হয়। এই দলই বাঘিনীকে সুন্দরবনে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি সার্বিকভাবে তত্ত্বাবধায়ন করেছে।

 

গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের শরকির খালসংলগ্ন বনাঞ্চলে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘিনীটি গুরুতর জখম হয়। পরদিন ৪ জানুয়ারি বন বিভাগের সদস্যরা ট্রাঙ্কুইলাইজার গান ব্যবহার করে বাঘিনীটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে খুলনায় বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে নেয়া হয়।

 

সেখানে ৬ মাসেরও অধিক সময় ধরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে বাঘিনীটি পুরোপুরি সুস্থ করে তোলা হয়।


ফেনীতে ১১ দলীয় জোটের সেমিনার অনুষ্ঠিত

 

ফেনী প্রতিনিধ :রহিম আলী জাবেদ

 

ফেনী, ১৩ জুলাই: ফেনীতে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফেনী জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুফতি আব্দুল হান্নান। প্রধান বক্তা ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

 

ফেনী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট এস. এম. কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফেনী জেলা সভাপতি মাওলানা নাজমুল আলম, এনসিপির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, বিডিপির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইসমাইল, জাগপা ফেনী জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, ফেনী শহর ছাত্রশিবির সভাপতি শফিকুল ইসলাম এবং ফেনী জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান।

 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফেনী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক আবু ইউছুপ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবি পার্টি ফেনী জেলার সদস্য সচিব ফজলুল হক।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। তারা জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

ফেনীতে ১১ দলীয় জোটের সেমিনার অনুষ্ঠিত

সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-১৪ আসনের (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় আতঙ্কে ত্রাণ নিতে আসা বন্যাদুর্গতরা প্রাণভয়ে স্থান ত্যাগ করায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

 

শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাটগড় বিওসি’র মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

আহতরা হলেন- মো. আকতার সওদাগর, মো. ইব্রাহিম, আবদুল আলিম, মোস্তাক ও সেলিম। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

জানা যায়, শনিবার বিকালে কালিয়াইশ ইউনিয়নের বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে আসেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীম আহমেদ। তিনি প্রথমে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেষ্ট হাউসের সামনে সারিবদ্ধ মহিলাদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

 

একই সময় বিওসি’র মোড় এলাকায় স্থানীয় বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে এমপিকে স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যে জড়ো হলে আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচিত কালিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ আহমদের উপস্থিতিতে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষ হয়।

 

এ সময় পুলিশ সদস্যরা এমপিকে গাড়িতে তুলে দেন এবং তারাসহ কেরানীহাটের দিকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্যে চলে যান। এরপর রুবেল নামে এক ব্যক্তি জসিম ডেকোরেশনের সামনে প্রকাশ্যে একটি ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিওসি’র মোড়ের পূর্বদিকে পাঁচতলা এলাকায় আরও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা যায়।

 

উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা যুবদলের সংগঠক শাহাদাৎ হোসেন মোস্তাক বলেন, আমরা এমপিকে রিসিভ করে বিওসি’র মোড়ের দিকে আসার সময় কয়েকজন ছেলে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হন। এর কিছুক্ষণ পর এমপির প্রটোকল রক্তার্থে এক সিকিউরিটি স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে ধাক্কা দেন। পরবর্তীতে এমপি সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর আমাদের উপর হামলা করা হয়।

 

কালিয়াইশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন বলেন, মূলত হাফেজ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে এমপি চলে যাওয়ার পর কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রুবেল নামের এক ছেলে একটি ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেন। পরে পাঁচতলা এলাকায়ও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করা হয়।

 

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই সময় আমি এমপির সঙ্গে ছিলাম। দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে আমরা সেখান থেকে এমপিসহ পরবর্তী কর্মসূচির উদ্দেশ্যে রওনা হই। এরপর সেখানে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। পুরো বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। গুলিবর্ষণের সত্যতা মিললে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমপির পক্ষে ত্রাণ বিতরণের সময় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ফাঁকা গুলি

গাইবান্ধায় ৭০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. উজ্জল মিয়া (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

 

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধা সদর থানাধীন ২নং মালিবাড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কিসামত মালিবাড়ি মধ্যপাড়া গ্রামস্থ জনৈক লাল মিয়ার বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদক কেনাবেচার সময় মো. উজ্জল মিয়াকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার পরিহিত প্যান্টের সামনের বাম পকেট থেকে বিশেষ কায়দায় রাখা সাদা পলিথিনে মোড়ানো ৭০ পিস কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত মো. উজ্জল মিয়া গাইবান্ধা সদর থানার কাউন্সিলর বাজার এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে।

গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে ওই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশের এমন কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গাইবান্ধায় ৭০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ 

সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জনাব মিজ্ কাউসার আজিজ, জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরার সভাপতিত্বে জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১২ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে রবিবার। উক্ত জেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় সম্মানিত সহ-সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অভিভাবক সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম মহোদয়।

সভায় পুলিশ সুপার মহোদয় অত্র জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং অপরাধ দমনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কার্যক্রম পর্যালোচনা, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান নিরোধ, অনলাইন জুয়া, অনিষ্পন্ন চোরাচালান মামলার নিষ্পত্তি ত্বরান্বিতকরণ, সড়ক দূর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচার প্রতিরোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, সড়কের শৃঙ্খলা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্তকরন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুধীবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

 

ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্

 

প্রতিবেদক, ফেনী:রহিম আলী জাবেদ

 

ফেনী ও চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক চোরাচালানবিরোধী অভিযানে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৫ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, কসমেটিকস, চকলেট ও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ জব্দ করেছে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)।

রোববার (১২ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী জেলার পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলা এবং চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

 

বিজিবি জানায়, জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৫ টাকা। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জব্দকৃত মালামাল স্থানীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পুশইন প্রতিরোধ, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় রাখা, মাদক ও চোরাচালান দমন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

মানিকগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ পালিত হয়েছে।

 

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

 

দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আয়োজনে একটি আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

১২জুলাই ২০২৬, রবিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম (বিপিএম) এবং সিভিল সার্জন ডা. আইফী ফেরদৌস। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক জাকিয়া আক্তার।

আলোচনা সভায় বক্তারা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠান শেষে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মানিকগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ পালিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেনীতে ১১ দলীয় জোটের সেমিনার অনুষ্ঠিত

 

ফেনী প্রতিনিধ :রহিম আলী জাবেদ

 

ফেনী, ১৩ জুলাই: ফেনীতে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফেনী জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুফতি আব্দুল হান্নান। প্রধান বক্তা ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

 

ফেনী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট এস. এম. কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফেনী জেলা সভাপতি মাওলানা নাজমুল আলম, এনসিপির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, বিডিপির সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইসমাইল, জাগপা ফেনী জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, ফেনী শহর ছাত্রশিবির সভাপতি শফিকুল ইসলাম এবং ফেনী জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান।

 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফেনী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক আবু ইউছুপ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবি পার্টি ফেনী জেলার সদস্য সচিব ফজলুল হক।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। তারা জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

ফেনীতে ১১ দলীয় জোটের সেমিনার অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামসহ ৫ জেলায় আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত থাকবে। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা, টানা অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে এরই মধ্যে দেশের সব জেলার পরীক্ষা স্থগিতের দাবি উঠেছে।

 

এ প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাখ্যা দিয়ে বলছে, এইচএসসি ও সমমানের ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতি উপলব্ধি করে এবং পরীক্ষা বারবার স্থগিত করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফলাফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক শিক্ষা ক্যালেন্ডার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় একটি বোর্ডের কারণে সকল বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও বাস্তবসম্মত নয়।

 

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা কে কেন্দ্র করে বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও কেন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে- এ বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই উদ্বেগকে আমরা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করি এবং এ বিষয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সকলের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই।

 

‘‘২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে ২৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখা ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সকল পরীক্ষার্থী আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে না পারার কারণে শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসকদের মতামতের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’’

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অন্যদিকে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের অধিকাংশ পরীক্ষা কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরীক্ষা গ্রহণের পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে মর্মে স্থানীয় প্রশাসন প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন। উক্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অপ্রত্যাশিতভাবে আজ সকালে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কিছু কেন্দ্রে বিশেষ করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

 

‘‘তবে স্থানীয় প্রশাসন, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়। ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতি উপলব্ধি করে এবং পরীক্ষা বারবার স্থগিত করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফলাফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক শিক্ষা ক্যালেন্ডার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় একটি বোর্ডের কারণে সকল বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও বাস্তবসম্মত নয়।’’

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তবে কোনো অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বা পরীক্ষা গ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। আমাদের কাছে শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

 

‘‘অনুগ্রহ করে শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে রওনা হওয়ার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’’

 

পরীক্ষা স্থগিত হবে না, ৫৯ জেলার এইচএসসি নিয়ে আগের সিদ্ধান্তই বহাল, ব্যাখ্যা দিল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড

নওগাঁর মহাদেবপুরে রহস্যজনকভাবে দম্পতির মৃত্যু

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মহাদেবপুরে নিজ শয়নকক্ষ থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের আঙুল দম্পতির মাদক ও মোবাইল জুয়ায় আসক্ত ছেলের দিকে।

 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন— পাহাড়পুর গ্রামের লোকমান মন্ডল (৫৫) ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম (৪৫)

 

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই রবিবার রাতের খাবার খেয়ে নিজেদের ঘরে ঘুমাতে যান লোকমান ও দেলোয়ারা দম্পতি। তবে ভোর চারটার দিকে তাদের ছেলে মুক্তার হোসেন হঠাৎ প্রতিবেশীদের ডেকে এনে দাবি করেন তার বাবা-মা মারা গেছেন। প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে খাটের ওপর স্বামী-স্ত্রীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুক্তার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়া খেলার টাকা জোগাড় করতে প্রায়ই তিনি মা-বাবার ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, রবিবার রাতেও নেশা ও জুয়ার টাকার জন্য মা-বাবার সাথে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয়, ক্ষোভে রাতে কোনো এক সময় খাবারের সাথে বিষাক্ত কিছু মিশিয়ে তাদের খাইয়ে দেওয়া হয়।

 

স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, “মুক্তার কোনো কাজকর্ম করত না, সারাদিন মোবাইল জুয়া আর নেশা নিয়েই থাকত। টাকার জন্য মা-বাবার ওপর অত্যাচার করত। ওরাই যে বিষ খাইয়ে ওদের মেরেছে, এ বিষয়ে আমাদের মনে কোনো সন্দেহ নেই।”

 

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মহাদেবপুর থানা পুলিশ। লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,

 

প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা করা হচ্ছে , বিষাক্ত কোনো খাবারের প্রতিক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।”

 

মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

 

পুলিশ বলছে ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নওগাঁর মহাদেবপুরে রহস্যজনকভাবে দম্পতির মৃত্যু

টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বেড়ে ৫ জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া এক পূর্বাভাসে জানানো হয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। আগামী দুই দিনে এসব নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন নদীর পানি বেড়ে কিছু এলাকায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।

 

পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বেড়েছে। আগামী দুই দিনও এসব নদীর পানি বাড়তে পারে। এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

 

এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের যাদুকাটা, ভুলাই-কংস নদীর পানি বেড়েছে। অন্যদিকে সোমেশ্বরী নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে এবং সারিগোয়াইন নদীর পানি কমেছে।

 

উত্তরাঞ্চলেও বাড়ছে নদীর পানি

 

রংপুর বিভাগের নদ-নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

 

এ ছাড়া গাইবান্ধায় তিস্তা এবং কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

পাউবো আরও জানিয়েছে, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের টাঙ্গন, পুনর্ভবা, ঘাঘট, আত্রাই, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী ও করতোয়া নদীর পানি বেড়েছে। আগামী কয়েক দিন এসব নদীর পানিও বাড়তে পারে।

 

অন্যদিকে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। ফলে এসব এলাকার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে।

 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, তরুণ প্রজন্ম যে সংস্কার ও গণভোটের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্দোলন করেছে, তা অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারের বোধোদয় না হলে সাধারণ জনগণ ও ছাত্রসমাজ আবারও রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলবে। ক্যাম্পাসগুলোতে র‍্যাগিং, সিট দখল এবং ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করে সেগুলোকে আদর্শ ও নৈতিকতার ‘মার্কেট প্লেস’ (মার্কেট প্লেস অফ ভ্যালুজ) হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। একই সাথে তিনি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতির আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দেন।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালী জেলা শহরের একটি কনভেনশন হলে নোয়াখালী সরকারি কলেজের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদ্দাম হোসেন বলেন, “সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নবীন শিক্ষার্থীরা আসার পর জ্যেষ্ঠদের দ্বারা র‍্যাগিং বা হেনস্তার শিকার হন। এই নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং, সফট ও হার্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং ইথিক্যাল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছে।”

 

ছাত্র রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট সমালোচনা করে তিনি বলেন, “রাজনীতি এখন অনেকের কাছে এক ধরণের ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এই ধরনের চেতনা আর চলবে না। এখন ছাত্রদের কাছে যেতে হবে আইডিওলজি, থিম এবং নতুনত্ব নিয়ে।”

 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য (ভিসি) ও প্রশাসক নিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে শিবির সভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সাদা দল বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল না করলে কেউ ভিসি হতে পারবেন না—এমন নগ্ন দলীয়করণ আমরা জুলাই-পরবর্তীতে দেখতে চাই নাই। দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিকে ভিসি বানানো হয়েছে। সহস্রাধিক শহীদ এই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসনমুক্ত ক্যাম্পাসের জন্য জীবন দেননি।”

 

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও বেকারত্ব সংকটের সমালোচনা করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, “শিক্ষার মান বাড়লেও মানবিক মূল্যবোধের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বর্তমানে দেশে ৪১ লক্ষ বেকার রয়েছে। প্রতিবছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ লক্ষ শিক্ষার্থী বের হলেও তাদের কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থা করা হচ্ছে না এবং এই পরিবর্তনে সরকারের কার্যকরী কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।”

 

তিনি আরও বলেন, সমাজব্যবস্থায় দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদিতা পশ্চিমা সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখলেও তা মানুষের জন্য প্রকৃত কল্যাণ বয়ে আনে না। আল্লাহর আইনই একমাত্র মানুষের কল্যাণ স্থাপন করে এবং পুরো পৃথিবীতে রাজনৈতিক, শিক্ষা, সমাজ, আইন ও দেশ পরিচালনাসহ সকল ব্যবস্থাপনায় ইসলামই একমাত্র মুক্তির পথ।

 

নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আল-আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর ইসহাক খন্দকার, নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক শিবির সভাপতি অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন এবং ছাত্রশিবির নোয়াখালী শহর সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহবুবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে প্রধান অতিথি নতুন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ক্যারিয়ার গঠনে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন।

ছাত্রসমাজ আবারও রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলবে: শিবির সভাপতি

টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীতে জলাবদ্ধতায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীম উদ্দিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে হামিম লেখেন, আব্বা খুলনা থেকে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ‍্যে ঢাকায় এসেছে। আজ সকালে তার টেস্টগুলো করাতে শান্তিনগর মোড়ের পপুলারে যাচ্ছিলাম। যে বৃষ্টি, রাস্তার যে ভয়াবহ অবস্হা (যদিও আমি গাড়িতে ছিলাম), গাড়ি থেকেই শিক্ষার্থীদের যে নাজেহাল অবস্হা দেখলাম তাহলে গ্রামগন্জে কি অবস্হা!

 

হামিম আরও লেখেন, একটা সত‍্যি কথা বলি, কেউ কিছু মনে কইরেন না। আজকের দিনে আমি এইচএসসি পরীক্ষার্থী হলে “শিক্ষামন্ত্রী” পদটিকে বৃষ্টিতে পরীক্ষা দিতে যেয়ে প্রতি কদম হাঁটতাম আর গালি দিতাম….আর তার থেকে বেশি গালি দিতাম তাদেরকে যারা গত দেড় বছর সুযোগ পেলেই রাস্তা বন্ধ করে পরীক্ষা পিছাতে বা বাতিল করার চেষ্টা করেছে ঐসব পোলাপানদেরকে।

শিক্ষামন্ত্রী’ পদটিকে প্রতি কদম হাঁটতাম আর গালি দিতাম: হামীম

পত্নীতলায় ১৪ বিজিবির অভিযানে ৭৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর পত্নীতলা সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৭৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করেছে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)।

 

সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে আগ্রাদ্বিগুন বিওপির টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. সোয়েব আলী মুন্সীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ২৫৬/৬-এস থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মহেশপুর মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

 

এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

 

বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ধামইরহাট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক জানান, নওগাঁ ও জয়পুরহাট সীমান্তবর্তী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অবৈধ সীমান্ত পারাপার প্রতিরোধ, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আন্তঃসীমান্তীয় সব ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তারিখঃ ১৩-৭-২০২৬

পত্নীতলায় ১৪ বিজিবির অভিযানে ৭৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার

‘পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, কিছুই খেতে পারছি না, চুলাও জ্বলছে না’

 

 

 

 

 

ষ্টাফ: রিপোর্টার

রুবেল হোসাইন

 

‘এখানে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। কিছুই খেতে পারছি না। চারদিকে এত পানি যে এখনও চুলায় আগুন জ্বালিয়ে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। সবাই অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে, আর অনেকের ঘরবাড়িও ভেঙে গেছে।’ আজ রোববার এভাবে বন্যা পরিস্থিতি বর্ণনা করছিলেন কক্সবাজারের চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের শাকের মোহাম্মদচর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোছাইন।

 

চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের মতোই পেকুয়া, মাতামুহুরি, রামু ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ৬০ শতাংশ জনপদ এখনও পানির নিচে। ডুবে আছে হাজারও ঘরবাড়ি।

 

পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাইছড়ি ভেলুয়াপাড়ায় ছোট একটি মাটির ঘরে এক ছেলে, ছেলের বউ আর দুই নাতি নিয়ে বসবাস করছিলেন সাফুরা খাতুন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং বন্যার পানিতে পুরো ঘরটি ভেঙে গেছে। এক সপ্তাহ ধরে চুলায় আগুন জ্বালাতে পারছি না। প্রতিবেশীরা কয়েক বেলা খাবার পাঠালেও এখনো সরকারি কোনো সহযোগিতা আসেনি। এভাবে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে।’

 

কাকারা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই এই জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হই। আমাদের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যায়, আর আমরা উঁচু মাচার ওপর আশ্রয় নিয়ে থাকতে বাধ্য হই। প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ওঠানামা করাতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। এত কষ্টের মধ্যেও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা থাকে না। প্রতিটি দিন আমাদের জন্য এক কঠিন সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

 

একই এলাকার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশুদ্ধ পানি ও পর্যাপ্ত শুকনো খাবার। প্রতিটি বাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রান্নাবান্না করার কোনো সুযোগ নেই। তাই জরুরি ভিত্তিতে তাদের কাছে খাবার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।’

 

ইয়াছিন আরাফাত নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘চকরিয়া উপজেলাকে অবিলম্বে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা উচিত। একইসঙ্গে সরকারের সব পর্যায় থেকে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শুকনো খাবার, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে হবে। উপজেলার কাকারা, লক্ষ্যারচর, কুয়ারবিলসহ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ইউনিয়নে অবিলম্বে সরকারের বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।’

 

কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ। ঘরে খাবার নেই। চুলা জ্বলছে না। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, ‘বিগত বছরে গড় বৃষ্টিপাতের রেকর্ড অনুযায়ী, জুলাই মাসে কক্সবাজারে গড়ে ৯২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গত সাত দিনেই জেলায় ৮২৩ মিলিমিটারের বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। অর্থাৎ, পুরো জুলাই মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার কথা, তার প্রায় ৯০ শতাংশই মাত্র সাত দিনের মধ্যে হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না।’

 

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অতিবৃষ্টি ও মাতামুহুরি নদী দিয়ে নেমে আসা পানির ঢল চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরি ও রামু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৬৯টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

 

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কক্সবাজার জেলার ৯ উপজেলায় এ পর্যন্ত ৪৩ হাজার ২১০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘তবে স্বস্তির বিষয় হলো, শনিবার থেকে বৃষ্টিপাত অনেকটাই কমে এসেছে এবং পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৩০ লাখ টাকা এবং ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দেওয়া হচ্ছে শুকনো খাবারও।’

 

প্রধানমন্ত্রীও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবাই মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় একযোগে কাজ করছে। স্লুইসগেট নিয়ে যে বিভ্রান্তি রয়েছে, তা সঠিক নয়। গত দুই দিন ধরে সব স্লুইসগেট খোলা রয়েছে। শুধু জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি যাতে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সাময়িকভাবে গেট বন্ধ করা হয়। ভাটার সময় আবার সেগুলো খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে কোথাও কোনো স্লুইস গেট বন্ধ নেই।’

 

শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু

এদিকে শনিবার রাতে কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসে রোজিনা বেগম নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি শহরের পূর্ব কলাতলী ঝরঝরিপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মজিদের স্ত্রী।

 

এছাড়া চকরিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে সজিব জলদাশ (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খোজাখালী জলদাসপাড়া এলাকা থেকে ওই শিশুর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের তুফান জলদাশের ছেলে।

 

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে ২১ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ‎মারা যাওয়া শিশুর নাম মুশফিকুর রহিম। সে ওই এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী মো. নাছিরের ছেলে।

 

এ নিয়ে জেলায় পাহাড়ধস, পানিতে ডুবে ও দেয়ালচাপায় প্রাণহানি বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে

পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, কিছুই খেতে পারছি না, চুলাও জ্বলছে না

সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-১৪ আসনের (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় আতঙ্কে ত্রাণ নিতে আসা বন্যাদুর্গতরা প্রাণভয়ে স্থান ত্যাগ করায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

 

শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাটগড় বিওসি’র মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

আহতরা হলেন- মো. আকতার সওদাগর, মো. ইব্রাহিম, আবদুল আলিম, মোস্তাক ও সেলিম। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

জানা যায়, শনিবার বিকালে কালিয়াইশ ইউনিয়নের বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে আসেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীম আহমেদ। তিনি প্রথমে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেষ্ট হাউসের সামনে সারিবদ্ধ মহিলাদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

 

একই সময় বিওসি’র মোড় এলাকায় স্থানীয় বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে এমপিকে স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যে জড়ো হলে আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচিত কালিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ আহমদের উপস্থিতিতে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষ হয়।

 

এ সময় পুলিশ সদস্যরা এমপিকে গাড়িতে তুলে দেন এবং তারাসহ কেরানীহাটের দিকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্যে চলে যান। এরপর রুবেল নামে এক ব্যক্তি জসিম ডেকোরেশনের সামনে প্রকাশ্যে একটি ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিওসি’র মোড়ের পূর্বদিকে পাঁচতলা এলাকায় আরও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা যায়।

 

উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা যুবদলের সংগঠক শাহাদাৎ হোসেন মোস্তাক বলেন, আমরা এমপিকে রিসিভ করে বিওসি’র মোড়ের দিকে আসার সময় কয়েকজন ছেলে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হন। এর কিছুক্ষণ পর এমপির প্রটোকল রক্তার্থে এক সিকিউরিটি স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে ধাক্কা দেন। পরবর্তীতে এমপি সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর আমাদের উপর হামলা করা হয়।

 

কালিয়াইশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন বলেন, মূলত হাফেজ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে এমপি চলে যাওয়ার পর কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রুবেল নামের এক ছেলে একটি ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেন। পরে পাঁচতলা এলাকায়ও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করা হয়।

 

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই সময় আমি এমপির সঙ্গে ছিলাম। দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে আমরা সেখান থেকে এমপিসহ পরবর্তী কর্মসূচির উদ্দেশ্যে রওনা হই। এরপর সেখানে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। পুরো বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। গুলিবর্ষণের সত্যতা মিললে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমপির পক্ষে ত্রাণ বিতরণের সময় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ফাঁকা গুলি

জানা যায়, রাজবাড়ী পৌরসভার ২ নম্বর রেলগেট থেকে জেলা সদর হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় রাস্তার গর্ত পানির নিচে তলিয়ে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

 

শুধু হাসপাতাল সড়কই নয়, সামান্য বৃষ্টিতেই রাজবাড়ী শহরের কারিগরি বিদ্যালয় এলাকা, সদর হাসপাতাল ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে, সারের গুদাম, বিদ্যুৎ কার্যালয়, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল কার্যালয়, কাজীকান্দা, সেগুনবাগিচা, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মোড় এবং জাতীয় ব্যাংক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে হাসপাতাল সড়কের দুরবস্থা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, জরুরি বিভাগে পৌঁছাতে অনেক সময় পানি মাড়িয়ে যেতে হয়। এতে রোগীদের কষ্ট যেমন বাড়ছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান সংযোগ সড়কটির বেহাল দশার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী, স্বজন ও সাধারণ মানুষ। ভাঙাচোরা রাস্তা, বড় বড় গর্ত আর সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হওয়া হাঁটুসমান জলাবদ্ধতার কারণে জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসা পাওয়ার আগেই হাসপাতালগামী এই সড়কে শুরু হয় রোগীদের চরম ভোগান্তি।

 

আগে চিকিৎসা দরকার হাসপাতাল সড়কের!

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d