স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয় হবে, জানালেন তথ্য উপদেষ্টা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয় হবে, জানালেন তথ্য উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয় হবে, জানালেন তথ্য উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হবে। যে কেউ ব্যক্তিগত পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন, সেক্ষেত্রে সরকার কোনো বাধা দেবে না।

 

যে দলেরই হোক ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিলে কারো ক্ষেত্রে বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা।

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

 

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, যেহেতু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে, সে কারণে আওয়ামী লীগের পদ-পদবী ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই।

 

তবে যে দলেরই হোক ব্যক্তিগতভাবে এই নির্বাচনে অংশ নিলে কারো ক্ষেত্রে বাধা থাকবে না বলে জানান তিনি। এসময় ব্যারেজ নির্মাণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মতো তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণের জন্য প্রকল্প হাতে নেবে সরকার। ভারত থেকে বর্ষা মৌসুমে আসা পানি এই ব্যারেজের মাধ্যমে ধরে রেখে, শুষ্ক মৌসুমে তা ব্যবহার করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, তিস্তা এলাকায় যদি ব্যারেজ কিংবা রিজার্ভার নির্মাণ করা হয়, তাতে ২০ হাজার কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে। যেটি বাংলাদেশ সরকারই বহন করতে পারে। তবে এই প্রকল্পে অন্য কোনো দেশ সাহায্য করতে চাইলে, সে সুযোগও রাখা হবে।

 

পুশইন নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে চাপে রাখার জন্য ভারত থেকে পুশইন হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকার কারণে, তাদের সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এটি হচ্ছে। তবে শিগগিরই দু’দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২ জুন সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধি না থাকায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে বলে তথ্য দিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

 

ওইদিন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, বাজেটে নির্বাচন নিয়ে বরাদ্দ আসার পর জুলাই-আগস্ট থেকে কোন নির্বাচন কবে হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

 

তারও আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গত মাসে জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে


পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের বিরুদ্ধে একটি প্রাইভেট কারের চালককে মারধর করে গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে পৌর শহরে সদর রোডে এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সড়কে যানজটেরও সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী রাজিব হোসেন তার এক বন্ধুকে নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কালাইয়া পূবালী ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি চালক মো. শাহিন মিয়া চালাচ্ছিলেন। শাহিনের দাবি যানজট সৃষ্টি হলে গাড়ির পেছন দিক থেকে ফাহাদ তার মোটরসাইকেল দিয়ে কয়েক দফা ধাক্কা দেন। শাহিন ধাক্কা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফাহাদ মোটরসাইকেল সড়কের পাশে রেখে তাকে মারধর শুরু করেন।

 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিকদের দাবি, তাদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ছাত্রদল কর্মী সাজিদের নামও উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভিডিও ধারণ বন্ধে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে।

 

প্রাইভেটকারের চালক অভিযোগ করে বলেন, তার গাড়ি অভিযুক্তের গাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার পর আব্দুল আল ফাহাদ ক্ষুব্ধ হন। পরে তাকে থামিয়ে কথা বলার সময় মারধর করা হয় এবং গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল আল ফাহাদ। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি স্ত্রীকে নিয়ে যাত্রাপথে ছিলেন। একটি প্রাইভেটকার তার গাড়ির খুব কাছ দিয়ে যাওয়ায় স্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে ওই গাড়ির চালক তার হাত ধরেন বলে তিনি দাবি করেন। এরপর তিনি গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চান। মারধর, সাংবাদিকদের হুমকি এবং গালিগালাজের অভিযোগ তিনি নাকচ করেন।

 

এদিকে ছাত্রদল কর্মী সাজিদ বলেন, ঘটনার সময় উপজেলা ছাত্রদল সভাপতির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সভাপতির স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন এবং ওই পরিস্থিতিতে যে কেউ উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারতেন। তবে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

ড্রাইভারকে মারধর ও গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উপজেলা ছাত্রদল সভাপতির বিরুদ্ধে

নেত্রকোণা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নে ভাত দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে মাকে শাবল দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে শ্যামল রাজভরকে (২৪) স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে।

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে চল্লিশা ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন মগরা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত নারী আবুনি রাজভর (৫০) সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের বাসিন্দা শ্যামলাল রাজভরের স্ত্রী।

 

স্থানীয়রা জানান, আবুনি রাজভর তার পরিবারের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের বিপরীত পাশে মগরা নদীর তীরে একটি টিনশেড ঘরে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত শ্যামল মানসিকভাবেও কিছুটা ভারসাম্যহীন ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে শ্যামল তার মায়ের কাছে ভাত খেতে চায়। এ সময় আবুনি রাজভর তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মাকে গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি লোহার শাবল দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত

 

স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে এলাকাবাসী অভিযুক্ত শ্যামলকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

 

নেত্রকোণা থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত শ্যামল রাজভরকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নেত্রকোণায় খাবার দিতে দেরি হওয়ায় শাবলের আঘাতে মাকে হত্যা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গত ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার সফল হয়েছে। পুলিশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জনবান্ধব এবং জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। বিগত ২০২৪ ও ২০২৫ সালের অপরাধ চিত্রের তুলনামূলক পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং প্রতিটি ক্যাটাগরিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সম্প্রতি দেশব্যাপী সাড়া জাগানো তিনটি ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

বর্তমান সরকার ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ এবং ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতিতে বিশ্বাসী বলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নীতির আলোকে নৈতিক মনোবল বৃদ্ধির মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে আরো সেবামুখী ও জনবান্ধব করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভালো কাজের স্বীকৃতি ও মন্দ কাজের জন্য তিরস্কারের এই প্রক্রিয়া পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আরো বেশি কর্তব্যপরায়ণ, আন্তরিক ও ন্যায়নিষ্ঠ হতে অনুপ্রাণিত করবে।

 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক এক রিপোর্টের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয় এবং তারা মাঠপর্যায়ে কোনো প্রকার তদন্ত বা জাজমেন্ট না করে শুধুমাত্র পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি করে। তাই এই প্রতিবেদনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই। মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তাদের সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি জানান। বিগত সময়ে পলাতক থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, পলাতক বা শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অনুকম্পা দেখানো হবে না। ইতিমধ্যে আলোচিত কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী একাধিক বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

 

পুরস্কার পেলেন যারা: অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তিনটি বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ ঘটনায় সর্বমোট ১৫ জন পুলিশ সদস্যের হাতে সনদ ও আর্থিক পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যেককে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয় এবং ৩ জন নৌ পুলিশ সদস্যকে আইজি ব্যাজ প্রদান করা হয়।

 

পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলায় পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন এবং এসআই (নিরস্ত্র) অহিদুজ্জামানসহ মিরপুর জোনের ৯ কর্মকর্তা, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাসকে তাত্ক্ষণিক খালি করার মাধ্যমে অন্তত ৫০ জন যাত্রীর জীবন রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখার জন্য মাদারীপুরের চর জানাজাত ও কলাতলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আবুজার গিফারীসহ তিন জন নৌ পুলিশ কর্মকর্তা এবং গজারিয়ায় ক্লু-লেস কিশোরী হত্যাকাণ্ড মামলায় পিবিআই মুন্সীগঞ্জের এসআই (নিরস্ত্র) রনি দেবনাথসহ তিন কর্মকর্তা।

 

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছি

লেন।

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক

 

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করার বিধান আইনে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ অনুযায়ী জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর আলোচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর কনটেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিও ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

সংসদে হেলেন জেরিন খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি, বট নেটওয়ার্ক ও এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট, নারী ও শিশুদের অনলাইন হয়রানি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়টি তোলেন।

 

তিনি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে ভুয়া পরিচয়ে অসংখ্য অ্যাকাউন্ট ও পেজ পরিচালিত হচ্ছে। সংগঠিত বট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এআই ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিও তৈরি করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

 

তিনি এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের প্রধান, তার স্ত্রী ও কন্যাসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পরিবারকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে যেসব কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলো আসলেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি না, সেটা পুনরায় সংজ্ঞায়িত করা দরকার।

 

সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভার্চুয়াল মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোকে আইনের আওতায় আনা হবে। আজকে (সোমবার) সকালেই এ বিষয়ে আমি একটা আইনি সংস্কার করার জন্য ড্রাফটে হাত দিয়েছি। আমি জানতাম না আজকে এই প্রশ্নটা এখানে আসবে।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর, অপমানকর ও মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের খসড়া করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ নামে আমরা অবহিত করবো। এর কতিপয় বিধান সংশোধন করবো। গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্ট নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে। এ ধরনের কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচার প্রতিরোধে নতুন শাস্তির বিধানও আইনে যুক্ত করা হবে।

 

পরে হেলেন জেরিন খান সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, মেটাসহ আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের আইনে এখনো এমন বিধান নেই, যার মাধ্যমে মেটাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কনটেন্ট সরাতে বাধ্য করা যায়।

 

তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে তারা আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে এমন বিধান করেছে, মেটাকে ২৪ ঘণ্টায় অ্যাকশন নিতে বাধ্য করেছে। কিন্তু আমাদের বিটিআরসি এবং সংশ্লিষ্ট সাইবার আইনে সেই বিধানটা নেই।

 

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিটিআরসি বা অন্য কর্তৃপক্ষ মেটাকে অনুরোধ পাঠালেও তারা অনেক সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেয় না। তারা বলে, তোমাদের তো আইনটা ঠিকমত নেই। সুতরাং আইনি কভার না থাকলে সেটা প্রেসার দেওয়া যায় না।

 

তিনি বলেন, নতুন সংশোধনে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয়, সময়সীমাভিত্তিক কনটেন্ট অপসারণ এবং রিপোর্ট করা কনটেন্ট অপসারণ প্রক্রিয়া কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার বিধান থাকবে।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষা সংস্থা ও বিটিআরসিসহ ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য সংস্থাগুলোকেও এ ধরনের কনটেন্ট অপসারণ, ব্লক বা স্থানান্তরের ক্ষমতা দেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ফেসবুক থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে বাধ্য করতে আইন করবে সরকার

কুমিল্লার দেবিদ্বারের ১৫২ জন শিক্ষার্থী ও ৮ জন শিক্ষক জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন ও সংসদে বসে অধিবেশন দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

 

সোমবার (৮ জুন) কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর আমন্ত্রণে শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পান। দেবিদ্বারের বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসা থেকে ৮ম এবং ৫ম শ্রেণিতে যারা বৃত্তি পেয়েছে তাদেরকেই এই সুযোগ করে দেন তিনি। পরিদর্শন শেষে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার তুলে দেন হাসনাত।

উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নবিয়াবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, দেবিদ্বারের ইতহাসে এই প্রথম শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবন ও অধিবেশন পরিদর্শনের সুযোগ পেলেন। এই আসনেরই সংসদ সদস্য ও এই এলাকার সন্তান হাসনাত আবদুল্লাহ এই সুযোগ করে দিয়েছেন। আজ শুধু এই শিক্ষার্থীরা নয়, পুরো দেবিদ্বারবাসী গর্বিত। পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি স্বপ্ন দেখতে পারবে। তাদের চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাস। হাসনাত আবদুল্লাহর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে হাসনাত আবদুল্লাহর স্পষ্ট বার্তা, ‘এখানে একদিন তোমাদেরই আসতে হবে। একদিন তোমাদেরকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। তোমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে এজন্য তোমাদেরই এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ যাদের বক্তব্য শুনেছো তোমরা একদিন তাদের জায়গায় থাকবে।’

 

এ বিষয়ে গণমাধমকে বললেন, ‘এখানে কে গরিবের সন্তান, কে ধনীর সন্তান সেটি দেখা হয়নি। দেবিদ্বারের বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসা ও কলেজের বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদেরকেই সংসদ ভবন ও পরিদর্শনে আনা হয়েছে। এখানে আনার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে যাতে তারা বড় স্বপ্ন দেখতে শেখে।’

১৫২ শিক্ষার্থীকে সংসদে বাজেট অধিবেশন দেখার সুযোগ করে দিলেন হাসনাত

 

সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি ফৌজদারি মামলায় শুনানি শেষে তাকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

সোমবার (৮ জুন) সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

 

শুনানির জন্য ঢাকা মহানগরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতের আসামি কাঠগড়ায় রাখা হয়।

 

পরে ‘শোন অ্যারেস্ট’ (কারাগারে থাকা অবস্থায় অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো) সংক্রান্ত শুনানি শেষে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

মামলার নথিপত্র ও বাদীপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পারিবারিক সম্পত্তির দখল ও জালিয়াতি কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত।

 

বাদী শাহ নেওয়াজ আহাম্মদের অভিযোগ, অভিযুক্ত তুরিন আফরোজ প্রভাব খাটিয়ে এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছেন।

 

অভিযোগে বলা হয়, তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর তুরিন আফরোজ জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ভুয়া হলফনামা তৈরি করে সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন।

 

এছাড়া তিনি প্রভাব খাটিয়ে বাদীর মায়ের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও দলিলপত্র নিয়ে যান বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তুরিন আফরোজ বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন, যার ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের কারণে বাদীর মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে।

 

তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কফিল মাহমুদ রায়হান জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালতে তুরিন আফরোজকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে মামলাটিতে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

নতুন মামলায় তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের বিরুদ্ধে একটি প্রাইভেট কারের চালককে মারধর করে গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে পৌর শহরে সদর রোডে এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সড়কে যানজটেরও সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী রাজিব হোসেন তার এক বন্ধুকে নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কালাইয়া পূবালী ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি চালক মো. শাহিন মিয়া চালাচ্ছিলেন। শাহিনের দাবি যানজট সৃষ্টি হলে গাড়ির পেছন দিক থেকে ফাহাদ তার মোটরসাইকেল দিয়ে কয়েক দফা ধাক্কা দেন। শাহিন ধাক্কা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফাহাদ মোটরসাইকেল সড়কের পাশে রেখে তাকে মারধর শুরু করেন।

 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিকদের দাবি, তাদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ছাত্রদল কর্মী সাজিদের নামও উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভিডিও ধারণ বন্ধে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে।

 

প্রাইভেটকারের চালক অভিযোগ করে বলেন, তার গাড়ি অভিযুক্তের গাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার পর আব্দুল আল ফাহাদ ক্ষুব্ধ হন। পরে তাকে থামিয়ে কথা বলার সময় মারধর করা হয় এবং গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল আল ফাহাদ। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি স্ত্রীকে নিয়ে যাত্রাপথে ছিলেন। একটি প্রাইভেটকার তার গাড়ির খুব কাছ দিয়ে যাওয়ায় স্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে ওই গাড়ির চালক তার হাত ধরেন বলে তিনি দাবি করেন। এরপর তিনি গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চান। মারধর, সাংবাদিকদের হুমকি এবং গালিগালাজের অভিযোগ তিনি নাকচ করেন।

 

এদিকে ছাত্রদল কর্মী সাজিদ বলেন, ঘটনার সময় উপজেলা ছাত্রদল সভাপতির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সভাপতির স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন এবং ওই পরিস্থিতিতে যে কেউ উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারতেন। তবে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

ড্রাইভারকে মারধর ও গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উপজেলা ছাত্রদল সভাপতির বিরুদ্ধে

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক

 

থাকেন সরকারি আশ্রায়ন প্রকল্পে। পেশায় ভ্যানচালক। স্ত্রীসহ এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে তার। বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হলেই বদলে যান তিনি। স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার ঋণ নিয়ে আর্জেনটিনা এ ভক্ত সেজেছেন নিজে। সাজিয়েছেন ভ্যান রিকশা সেই সাথে কিনেছেন ১৬টি আর্জেন্টিনার পতাকা।

 

বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায় আর্জেন্টিনার এ ভক্তের নাম সুমন গৌড়। থাকেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর সদরের দত্তপাড়া সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পে। এলাকায় তিনি মেসি সুমন নামে সমধিক পরিচিত। তার রয়েছে স্ত্রী এক মেয়ে এক ছেলে।

বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই যেন বদলে যায় তার জীবন।

 

আর্জেন্টিনার নীল-সাদা পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন আর নানা সাজসজ্জায় নিজের বসতিপাড়া সাজিয়ে তুলছেন তিনি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন ছোট্ট একটি আর্জেন্টিনা গ্রাম।

 

তবে এই আয়োজনের পেছনের গল্প আরও বিস্ময়কর। আর্জেন্টিনাকে সমর্থন জানাতে স্ত্রী আরতি রাণী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পূর্ণিমার নামে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন সুমন। সেই অর্থ ব্যয় করছেন পতাকা, ব্যানার, রং ও বিভিন্ন সাজসজ্জার কাজে।

 

শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য বিরিয়ানি রান্না করে আপ্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

 

নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই সুমনের। সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। জীবিকা নির্বাহ করেন ভ্যান রিকশা চালিয়ে। সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আর আর্জেন্টিনার প্রতি আবেগ তাকে থামাতে পারেনি।

 

সুমন বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। এখন সবাই আমাকে সুমন না, ‘মেসি সুমন’ নামেই চেনে। বিশ্বকাপ এলেই আমি চেষ্টা করি আর্জেন্টিনার জন্য কিছু করতে। এটা আমার ভালোবাসা।

 

সুমনের স্ত্রী আরতি রাণী বলেন, ‘অনেক বছর ধরেই স্বামীর আর্জেন্টিনাপ্রেম দেখে আসছি। সংসারে অভাব আছে, তবুও বিশ্বকাপ এলে তিনি সবকিছু ভুলে যান। এত টাকা খরচ করে এসব করা পাগলামি মনে হলেও স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়েছি।’

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুমন খুবই দরিদ্র মানুষ। ভ্যান চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই ঋণ নিয়ে এলাকায় সাজসজ্জা করেন, খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেন। এ কারণেই সবাই তাকে ‘মেসি সুমন’ নামে চেনে।

স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকা ঋণ তুলে আর্জেন্টিনার পতাকা-ব্যানারে রাঙালেন ভ্যানচালক

 

জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক ভর্তির প্রথম পর্যায় শেষ হচ্ছে আজ বুধবার (১০ জুন) শেষ হচ্ছে। গত ৭ হতে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জিএসটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ভর্তি ও সশরীরে কাগজপত্র জমা দিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

 

জিএসটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, জিএসটি (সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের প্রথম পর্যায়ের প্রাথমিক ভর্তি প্রক্রিয়া ৭ জুন হতে ১০ জুনের মধ্যে জিএসটি ওয়েবসাইটের (https://gstadmission.ac.bd/) মাধ্যমে নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।

 

প্রাথমিক ভর্তি ফি (৫০০০ টাকা) প্রদান: ০৭ জুন দুপুর ১২টা হতে ১০ জুন রাত ১১টা ৫৯মিনিট পর্যন্ত।

 

মূল কাগজপত্র জমা: ৮ জুন হতে ১১ জুন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার মূল নম্বরপত্রসমূহ (একটি এফোর সাইজ খামে ভরে খামের উপর আবেদনকারীর জিএসটি রোল নম্বর লিখে খামসহ) জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন একটিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জমা দিতে হবে।

 

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।

জিএসটি গুচ্ছের প্রথম পর্যায়ের প্রাথমিক ভর্তি শেষ হচ্ছে আজ

 

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ মামলার রায় দেবেন।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বাদীর দাবি, ওই বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই ২০২১ সালে ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন তামিমা। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন রাকিব হোসেন।

 

তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা। তাদের দাবি, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইন অনুযায়ী শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান ইসরাত হাসান বলেন, আমরা চাই, আসামিদের শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মামলার বিচার চলেছে। বিভিন্ন বিষয় চ্যালেঞ্জ করে তারা উচ্চ আদালতে রিভিশন করেছে। ১০ জন সাক্ষীর মাধ্যমে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।

 

তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে আশা করছি। নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে দুই ধারায় ও তামিমার বিরুদ্ধে তিন ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসিরের সর্বোচ্চ সাত বছর ও তামিমার সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

 

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আমাদের আশা পজিটিভ। আসামিরা খালাস পাবেন আশা করছি। তারা কেন খালাস পাবেন যুক্তিতর্কে তুলে ধরেছি।

 

রায় শুনতে নাসির-তামিমা আদালতে আসবেন কি না জানতে চাইলে বলেন, আশা করি, আসবেন।

 

মামলার বাদী রাকিব বলেন, ইনশাআল্লাহ, ন্যায় বিচার হোক। এ ধরনের কাজ যেন আর না হয়। রায়ের মাধ্যমে একটা ম্যানেজ যাক সমাজে। আমার সাথে যেমনটা ঘটেছে, যেন আর কারও সঙ্গে এমনটা না হয়।

 

এ বিষয়ে নাসির হোসেনের বক্তব্য শুনতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

নাসির-তামিমা মামলার রায় আজ, অভিযোগ প্রমাণে হতে পারে কোন সাজা?

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য রয়েছে আজ।

 

বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন

 

এ মামলায় সব আসামিই পলাতক রয়েছেন। শামীম ওসমান ছাড়া অন্যরা হলেন—শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।

 

এর আগে, ১৩ মে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ১২ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

তিনটি অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ডসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী ২১ জুলাই ফতুল্লা থানাধীন ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়। এছাড়া তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যার কথা উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।

 

মানবতাবিরোধী অপরাধে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ

মানবতাবিরোধী অপরাধে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু আজ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী স্পিডবোট আটকে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়ন সীমান্তে পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

 

এ ঘটনায় আট থেকে ১০ জনের একটি ডাকাতদল এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে নগদ টাকা, মুঠোফোন এবং স্পিডবোটের চার লক্ষাধিক টাকার ইঞ্জিনসহ যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে গেছে।

 

ডাকাতির শিকার ব্যবসায়ী চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের মৌলভীরচর কারিকরডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা কোমর মোল্লার ছেলে লিটন মোল্লা (৩২)। তাকে স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার করে ঢাকার দোহার উপজেলার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ডাকাতির সময় স্পিডবোট রেখে কাশবনে পালিয়ে রক্ষা পান স্পিডবোটের চালক সঞ্জিত খালাসী (৩৯)। তিনি চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের খালাসীডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা অভি খালাসীর ছেলে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চরভদ্রাসনে আনে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে আটজন গরু ব্যবসায়ীকে চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের গোপালপুর ঘাট থেকে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে নামিয়ে দেন স্পিডবোটচালক সঞ্জিত খালাসী। ওই আট ব্যবসায়ী গতকাল ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা গরুর হাট থেকে ব্যবসা কার্যক্রম শেষ করে ঢাকায় বাড়িতে ফিরছিলেন। তাদের মৈনট ঘাটে নামিয়ে আবার গোপালপুর ঘাটে ফেরার পথে স্পিডবোটে একমাত্র যাত্রী ছিলেন লিটন মোল্লা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্পিডবোটটি ঢাকা জেলা সীমান্ত থেকে চরভদ্রাসন সীমান্তে প্রবেশ করলে স্থানীয় ফারুক মোল্লার চরের পাশে একটি ডাবল ইঞ্জিনের স্পিডবোট নিয়ে সঞ্জিতের স্পিডবোটকে ধাওয়া করে।পরে পেছন থেকে এসে স্পিডবোটটির গতিরোধের চেষ্টা করে ডাকাতদল। পরে সঞ্জিত স্পিডবোটটি ফারুক মোল্লার চরে ভিড়িয়ে নিজে কাশবনে পালিয়ে যান। এ সময় বোটের একমাত্র যাত্রী লিটন মোল্লাকে ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুঠোফোন ও নগদ কয়েক হাজার টাকা নিয়ে যায়। পাশাপাশি স্পিডবোটের ইঞ্জিনসহ যন্ত্রাংশও খুলে নিয়ে যায়। ডাকাতদল চলে যাওয়ার সময় লিটনের বাম বাহুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ফেলে যায়। পরে স্থানীয় জেলেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

 

 

তিনি আরও বলেন, আমরা খোঁজ নিচ্ছি। সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদ্মা নদীতে স্পিডবোট আটকে ডাকাতি

জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে বড় অঙ্কের ঋণ দিচ্ছে জাপান। এ খাতে অর্থনৈতিক সহনশীলতা বাড়ানো এবং স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঢাকাকে ঋণ হিসেবে ৩১ কোটি ২০ লাখ ডলার দিচ্ছে টোকিও।

 

মঙ্গলবার (০৯ জুন) জাপানের সঙ্গে সহজ শর্তের এ ঋণ সংক্রান্ত দুটি নথিতে স্বাক্ষর করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। ঢাকায় জাপান দূতাবাস সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

 

দূতাবাস জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে জরুরি সহায়তার বিষয়ক ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’- এ স্বাক্ষর করেন জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। ঋণচুক্তিতে সই করেন ঢাকায় জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাসি জুনকো। ইআরডি সচিব শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বাংলাদেশের পক্ষে দুই নথিতে স্বাক্ষর করেন।

 

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই দুই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (ওডিএ) দেবে জাপান, যার আনুমানিক পরিমাণ ৩১২ মিলিয়ন ডলার।

 

জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়ানো বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের অবিচল অংশীদারত্বের স্পষ্ট প্রতিফলন। দুদেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আওতায় এবং জাপানের অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মুখ্য অংশীদার।

জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে ৩১ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে জাপান

মানিকগঞ্জে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফয়সাল (১৮) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সদর উপজেলার ভাটবাউর এলাকার তাসনুভা ফিলিং স্টেশনের আম গাছে পতাকা টানাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত ফয়সাল ভাটবাউর এলাকার মুন্নু মিয়ার ছেলে। তিনি ফয়সাল ফিলিং স্টেশনে চাকরি করতেন।

 

পুলিশ ও স্থানিয়দের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ফয়সাল ফুটবল বিশ্বকাপ খেলাকে কেন্দ্র করে তার প্রিয় দল ব্রাজিলকে সমর্থন করে পতাকা টানানোর জন্য আমগাছে উঠেন। গাছের পাশ দিয়েই বিদ্যুৎতের তার ছিল।

 

ফয়সাল পতাকা টানানোর সময় তার গায়ে বিদ্যুৎতের তারের সঙ্গে শরীর লেগে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে গাছ থেকে পড়ে যায়। পরে আশে পাশের লোকজন ফয়সালকে উদ্ধার করে জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ফয়সালকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

সদর থানার ওসি মো. মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফয়সাল ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। আমরা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে রেখেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রীয়াধীন।

ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট কিশোরের মৃত্যু

নেত্রকোণা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নে ভাত দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে মাকে শাবল দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে শ্যামল রাজভরকে (২৪) স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে।

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে চল্লিশা ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন মগরা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত নারী আবুনি রাজভর (৫০) সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের বাসিন্দা শ্যামলাল রাজভরের স্ত্রী।

 

স্থানীয়রা জানান, আবুনি রাজভর তার পরিবারের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের বিপরীত পাশে মগরা নদীর তীরে একটি টিনশেড ঘরে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত শ্যামল মানসিকভাবেও কিছুটা ভারসাম্যহীন ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে শ্যামল তার মায়ের কাছে ভাত খেতে চায়। এ সময় আবুনি রাজভর তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মাকে গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি লোহার শাবল দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত

 

স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে এলাকাবাসী অভিযুক্ত শ্যামলকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

 

নেত্রকোণা থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত শ্যামল রাজভরকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নেত্রকোণায় খাবার দিতে দেরি হওয়ায় শাবলের আঘাতে মাকে হত্যা

সস্তায় ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত এক চীনা নাগরিকের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ২০১৩ সালে এক ব্যক্তি চীনে বহুতল ভবনের ৩৪তম তলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। কিন্তু কয়েক বছর পর জানতে পারেন, ভবনটিতে আছেই মাত্র ৩২টি তলা। অর্থাৎ যে ফ্ল্যাটের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেছিলেন ওই ব্যক্তি, বাস্তবে সেটির কোনও অস্তিত্বই নেই। এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনও ফ্ল্যাট পাননি, ফেরত পাননি অর্থও।

 

 

সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেন পদবির ওই ব্যক্তি ২০১৩ সালে চীনের শানসি প্রদেশের শি’আনের কাছাকাছি একটি গ্রামে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। কয়েক বছর পর তিনি জানতে পারেন, তিনি তথাকথিত ‘গ্রে মার্কেট’ আবাসন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

 

 

শেন ৯০ বর্গমিটার আয়তনের একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন এবং সেটি ভবনের ৩৪তম তলায় থাকার কথা। প্রতি বর্গমিটারের দাম ছিল ২ হাজার ৬৪৬ ইউয়ান, যা ওই এলাকার গড় বাজারদরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় ফ্ল্যাটটির মূল্য ছিল প্রায় ৪৮ লাখ টাকা। এত কম দামের কারণ ছিল প্রকল্পটির তথাকথিত ‘সীমিত সম্পত্তি অধিকার’ বা ‘লিমিটেড প্রোপার্টি রাইটস’ মর্যাদা।

 

অর্থাৎ এটি এমন এক ধরনের আবাসন ব্যবস্থা, যা রাষ্ট্রীয় নগর জমির পরিবর্তে গ্রামীণ সমষ্টিগত মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়। এসব প্রকল্প সাধারণত প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নির্মিত হয় এবং নিয়মিত আবাসন প্রকল্পের মতো আইনি সুরক্ষা পায় না। এগুলো আইনিভাবে পুনরায় বিক্রি করাও যায় না এবং চীনের সম্পত্তি আইনে তা স্বীকৃতও নয়। তবে কম দামের কারণে অনেক ক্রেতা এখনও এসব প্রকল্পে আগ্রহ দেখান।

 

 

২০১৩ সালে শেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান ডাউন পেমেন্ট হিসেবে পরিশোধ করেন। তার দাবি, প্রকল্পের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের আশ্বস্ত করেছিল যে পরে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সনদ সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু এ ধরনের প্রকল্পে সাধারণত সেই আইনি নথি পাওয়া সম্ভব হয় না।

 

 

ফ্ল্যাটটি ২০১৫ সালে বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল। তবে নির্মাণকাজে বিলম্ব হওয়ায় সময়সীমা পিছিয়ে যায়। ২০১৭ সালে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শেনকে জানায়, নির্মিত ভবনটিতে মাত্র ৩২টি তলা রয়েছে। ফলে তিনি যে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, সেটি বাস্তবে নেই।

 

প্রথমে কোম্পানিটি তাকে ৩২তম তলায় বিকল্প একটি ফ্ল্যাট দেয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তখন তিনি বাকি অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি। দুই মাস পর সেই ফ্ল্যাটও অন্য এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। অন্যদিকে ফ্ল্যাট না পেয়ে শেন অর্থ ফেরতের দাবি জানান। তখন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানায়, তারা আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং পুরো অর্থ ফেরত দিতে পারবে না।

 

 

২০২০ সালে তিনি ২০ হাজার ইউয়ান এবং ২০২২ সালে আরও ৫০ হাজার ইউয়ান ফেরত পান। এরপর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে তিনি বিষয়টি সালিসি প্রক্রিয়ায় নিয়ে যান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে তার ডাউন পেমেন্টের বাকি ৪৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়। এর সঙ্গে ২৭ হাজার ইউয়ান সুদও পরিশোধ করতে বলা হয়।

 

 

রায়ে আরও বলা হয়, নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত ৪৭ হাজার ইউয়ান ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত শেন ওই বকেয়া অর্থ পাননি।

 

মূলত ফ্ল্যাট কেনার এক দশকেরও বেশি সময় পরও শেন এখনও থাকার জায়গা পাননি এবং সম্পূর্ণ অর্থও ফেরত পাননি। ঘটনাটি চীনে আবারও কম দামের কিন্তু আইনি সুরক্ষাবিহীন আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।

৩৪ তলায় কিনেছিলেন ফ্ল্যাট, পরে ক্রেতা জানলেন ভবনই ৩২ তলা

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d