হাতীবান্ধায় ব্যাংকের ভিতর থেকে অভিনব কাযদায় ৪০ হাজার টাকা ছিনতাই।
হাতীবান্ধায় ব্যাংকের ভিতর থেকে অভিনব কাযদায় ৪০ হাজার টাকা ছিনতাই।

হাতীবান্ধায় ব্যাংকের ভিতর থেকে অভিনব কাযদায় ৪০ হাজার টাকা ছিনতাই।

মোঃশাহীন আলম লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় সোনালী ব্যাংকের ভিতরে থেকে শিক্ষিকা নাজমা আক্তার নামের এক মহিলার ৪০ হাজার টাকা ছিনতাই হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ব্যাংক ম্যানেজেরকে বললে উল্টো ঐ শিক্ষিকা নাজমা আক্তারকে জোড় পূর্বক ব্যাংক থেকে বের করে দেন। কিন্তুুক ভিতর ও বাহিরে সিসি ক্যামেরা না থাকায় ব্যাংকের নিরাপত্তা নিয়ে জনমতে নানান ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) সকাল ১১টার দিকে হাতীবান্ধা সোনালী ব্যাংকের ভিতরে ক্যাশ কাউন্টারের নিকট এ ঘটনাটি ঘটে। এদিকে ব্যাংকের ভিতরে বা বাইরে নেই কোনো সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা। ফলে ক্ষুদ্ধ ব্যাংকে আসা সর্বস্তরের গ্রাহকরা।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের ভুটিয়া মঙ্গল এলাকার রেজাউল করিমের স্ত্রী এবং গোতামারী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

বৃহস্পতিবার (৬)মে সকালে হাতীবান্ধা সোনালী ব্যাংকে টাকা উত্তোলনের জন্য যান নাজমা আক্তার। ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করার সময় অপরিচিত এক ব্যক্তি জোরপূর্বক তা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ফলে বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন ঐ শিক্ষিকা।

তবে টাকা উত্তোলনের সময় শিক্ষিকার পাশে লম্বা ধরনে, মাথায় ছোট চুল, গায়ের রং শ্যামলা, নীল রঙের শার্ট ও কালো জিন্স পড়া এক ব্যক্তি দাড়িয়ে ছিলেন বলে শিক্ষা জানান। ঐ ব্যক্তি নাজমা আক্তারকে টাকা গুলো গুনে নিতে বললে তিনি গুনতে হবে না বলে জানান। এ সময় কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যাক্তি নাজমা আক্তারের হাত থেকে জোড় পূর্বক টাকা নিয়ে সটকে পড়েন। আর সেখানে ওই ব্যক্তিকে দেখতে পাননা।

এ বিষয়ে শিক্ষিকা নাজমা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমি যখনই টাকা উত্তোলন করলাম, তখনই ওই ব্যক্তি বললো টাকাটি গুনে নেন। আমি বললাম গুনতে হবে না। তারপর উনি আবার বললো ছেড়া আছে কিনা দেখেন। আমি তাতেও রাজি হয়নি। কিন্ত উনি জোড় করে টাকাটা হাত থেকে নিয়ে নিমিষেই চলে গেলে। আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারি নাই। এ সময় আমি যে চিৎকার করবো সে শক্তিও হারিয়ে ফেলি। আমি দ্রুত ম্যানেজারের কাছে যাই, বিষয়টি অবগত করলে তিনি উল্টো আমাকে গালমন্দ করে ব্যাংক থেকে জোড়পুর্বক বের করে দেন।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার আসাদুজ্জামান রাজু বলেন, ঐ মহিলা নিজেই সেই লোককে টাকা দিয়েছে। এখানে আমাদের কোনো করনীয় নাই। ব্যাংকের সিসি ক্যামেরা আছে কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাংকে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। সিসি ক্যামেরার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার বলা হলেও এখানো কোনো ব্যবস্থা নেননি তারা।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এরশাদুল আলম বলেন, বিষয়টি কেউ বলেনি। তবে অভিযোগ পেলে, তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


ঠাকুরগাঁও সুগার মিলে টেন্ডার নিয়ে কৃষকদের ক্ষোভ, তদন্তের নির্দেশ জেলা প্রশাসকের।

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের জমি লিজ দেওয়ার টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতাদের বাদ দিয়ে কম দরদাতাদের লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় টেন্ডারে অংশ নেওয়া কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুরো টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বানের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

 

লিখিত অভিযোগ ও টেন্ডার সংক্রান্ত কাগজপত্র থেকে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষ গেল ১৩ সেপ্টেম্বর মিলের আওতাধীন সালন্দর-জামালপুর, মোহন কৃষি খামার, বোচাপুকুর, হাবিবপুর ও কহরপাড়া খামারের বিভিন্ন ব্লকের মোট ৩৭৮ দশমিক ৫০ একর জমি আখ রোপণ ও সাথি ফসল হিসেবে আলু চাষের জন্য লিজ দিতে দরপত্র আহ্বান করে।

 

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দরপত্র বিক্রি ও জমা দেওয়ার পর ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দরপত্র খোলা হয়। এতে অংশ নেন বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও দরদাতারা।

 

তবে টেন্ডারে অংশ নেওয়া কৃষকদের অভিযোগ, বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, একজন দরদাতা সর্বোচ্চ ১০ একর জমি লিজ নিতে পারবেন। কোনো দরদাতা ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র দাখিল করলে মিল কর্তৃপক্ষ ১০ একরের বেশি জমি লিজ না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তা কমিয়ে ১০ একর দেওয়ার সুযোগ রাখে। কিন্তু বাস্তবে ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র ক্রয় ও অংশগ্রহণকারী কৃষকদের সবাইকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের প্রশ্ন, ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র দাখিল করলেই যদি পুরো দরপত্র বাতিল হিসেবে গণ্য হয়, তাহলে বিজ্ঞপ্তিতেই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত ছিল। তাদের দাবি, এ কারণে অনেক কৃষক সর্বোচ্চ দর দিয়েও লিজ পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

 

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, অনেক কৃষক জমির জন্য সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন। অথচ তাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম দর দেওয়া ব্যক্তিকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি তাদের। কেন সর্বোচ্চ দরদাতাদের বাদ দিয়ে কম দরদাতাদের লিজ দেওয়া হলো এবং এর পেছনে কোনো অনৈতিক লেনদেন হয়েছে কি না তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা গত ০১ অক্টোবর জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে তারা দাবি করেন টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাগজপত্র ও দরপত্র মূল্যায়ন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রেখে সম্পূর্ণ টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় নতুন করে টেন্ডার আহ্বান জানান।

কৃষকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক শুভাস চন্দ্র সিংহ। তিনি বলেন, ‘শুধু মাত্র একটি জায়গায় ভুল হয়েছে, বাকি সব বিষয় ঠিক ছিল। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ‘কৃষকদের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সুগার মিলে টেন্ডার নিয়ে কৃষকদের ক্ষোভ, তদন্তের নির্দেশ জেলা প্রশাসকের

জমিরিয়া ইসলামিয়া দারুচ্ছুন্নাহ মাদ্রাসায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

কক্সবাজারের খুনিয়া পালংয়ে জমিরিয়া ইসলামিয়া দারুচ্ছুন্নাহ মাদ্রাসা, হেফজখানা ও এতিমখানার মিলনায়তনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, লেখক-কলামিস্ট, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হাফেজ মাওলানা নজরুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে অতিথিরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে খুনিয়া পালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা জহিরুল ইসলাম, মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, লেখক ও কলামিস্ট মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান এবং বড়ডেবা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা লতিফ মাহমুদ খালভী বক্তব্য রাখেন।

 

বক্তারা শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আদর্শিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল জ্ঞানার্জনের সুযোগ তৈরি করে না; শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে শিক্ষার্থীদের জীবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে হেফজখানা ও মাদ্রাসাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ রিয়াজুল হাসান সিকদার, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মাওলানা সাঈদুল ইসলাম, হাজী রকিম উল্লাহ, ডা. মাওলানা আবুল কালাম, মো. আনোয়ার ইসলাম, হাফেজ মাওলানা নুরুদ্দীনসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ। এ সময় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মাওলানা আজগর আলী। বক্তৃতা পর্ব শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা জমিরিয়া ইসলামিয়া দারুচ্ছুন্নাহ মাদ্রাসা, হেফজখানা ও এতিমখানার শিক্ষা কার্যক্রমের উত্তরোত্তর উন্নতি এবং প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার কল্যাণ কামনা করেন।

জমিরিয়া ইসলামিয়া দারুচ্ছুন্নাহ মাদ্রাসায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

পুলিশের কাছ থেকে মাদক মামলার আসামি ছিনতাই এর চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

 

নীলফামারীর ডিমলায় মাদক মামলায় গ্রেপ্তার আসামি মো. সুজন ইসলামকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে ২০ জনকে আটকের পর রোববার (৪ অক্টোবর) ভোরে অভিযান চালিয়ে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডিমলা থানার মাদক মামলায় গ্রেপ্তার আসামি মো. সুজন ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করার জন্য শনিবার বিকেল ৩টার দিকে জেলা গোয়েন্দা শাখার কার্যালয় থেকে পুলিশ সদস্যরা নিয়ে রওনা হন। এ সময় নীলফামারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একদল লোক সমবেত হয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

পুলিশের দাবি, তারা আসামি বহনকারী পুলিশ দলের পথরোধ করে কর্তব্য পালনে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয় এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এ ঘটনায় শনিবার ২০ জনকে আটক করা হয়। একই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে নীলফামারী সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে ১৪৩, ৩৪১, ১৮৬, ৩৫৩, ১২০(খ), ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

পরে ঘটনাস্থলের ভিডিও ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চালায় পুলিশ। পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের নির্দেশে রোববার রাত ১টা ৫ মিনিট থেকে ভোর ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ৩৪ জন হলেন—ডিমলার দোহলপাড়ার আবু সাঈদ (৩০), ছাতনাই কলোনী মিয়াপাড়ার শফিকুল ইসলাম ওরফে লেবু (৪৫), পূর্ব ছাতনাই মিয়াপাড়ার নুরুজ্জামান (৫০), ছাতনাই বালাপাড়ার আফজাল হোসেন (৪৫), খগাখড়িবাড়ীর সাইফুল ইসলাম (৩২), পূর্ব ছাতনাই ওমরপাড়ার হৃদয় ইসলাম (২২), সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ীর সাকিরা (২০), দোহলপাড়ার মিরাজ ইসলাম (১৮), ওমরপাড়ার মিলন ইসলাম (১৯), আরিফুল ইসলাম (১৯), বন্দর খড়িবাড়ীর সাগর দেবনাথ (২২), ওমরপাড়ার নাঈম ইসলাম (১৯), বন্দর খড়িবাড়ীর মশিউর আলম (৩৬), নাইমুল ইসলাম (২২), ছাতনাই কলোনীর সামিনুর ইসলাম (৪৫) ও আঃ সালাম (২৫), দোহলপাড়ার মঞ্জুয়ারা বেগম (৪০), বন্দর খড়িবাড়ীর লিপন ইসলাম (১৯), ডিমলা টিএনটি রোডের মিম হোসেন (২০), পূর্বছাতনাই কলোনীর শুভ ইসলাম (১৯), দোহলপাড়ার আশিকুল ইসলাম (৩৫), গুলজার রহমান (৪৫), খগাখড়িবাড়ীর শহিদুল ইসলাম (৪৫), বড়বাড়ি খগাখড়িবাড়ীর আলাউদ্দিন (৫০), ডংগর বাজার খগাখড়িবাড়ীর মাহফুজার রহমান (১৯) ও সোহেল (২১), বন্দর খড়িবাড়ীর আনোয়ার হোসেন (১৯) ও ইসলাম (৬৫), সাগর রহমান (২৩), ডংগর বাজারের কবিরুল ইসলাম (২৫), খগাখড়িবাড়ীর মহিকুল ইসলাম (২৫), বন্দর বাজার ডংগর খড়িবাড়ীর নুরবান (৫০), খগাখড়িবাড়ী চাবুলের পাড়ার দুলালী বেগম (৩৫) এবং দেহলপাড়ার রিমু (৩৫)।

পুলিশ জানিয়েছে, নীলফামারী সদর থানার মামলা নম্বর-৮, তারিখ ৩ অক্টোবর ২০২৬, জিআর নম্বর-৩৯৫/২৬-এর আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশের কাছ থেকে মাদক মামলার আসামি ছিনতাই এর চেষ্টা

মোঃ সামিউল আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

 

নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের উত্তরা ইপিজেড মোড় এলাকার রিয়াজউদ্দীন কমপ্লেক্সে ‘বৃষ্টি ফার্মেসি এন্ড ড্রেসিং সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন মো. ছামিউল আলম। তাঁর ভিজিটিং কার্ড ও প্রেসক্রিপশনে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা, ড্রেসিং এবং অপারেশন-সংক্রান্ত সেবার প্রচারণা থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা, চিকিৎসা নিবন্ধন ও প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

সাংবাদিকদের হাতে আসা ভিজিটিং কার্ড ও প্রেসক্রিপশনে নাকের হাড় বাঁকা বা মাংস বৃদ্ধি, শিরার সমস্যা, কানের সমস্যা, চোখ, দাঁত ও জিহ্বার সমস্যা, কাটা বা পোড়া দাগ, চর্মরোগ, টনসিল, নখের সমস্যা, পায়ের তালু সমান হওয়া, হাত-পায়ের তালু ঘামা এবং মলদ্বারের সমস্যাসহ মোট ১৩ ধরনের চিকিৎসাসেবার উল্লেখ রয়েছে।

 

 

 

সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসা নিতে বেশ কয়েকজন রোগী সিরিয়ালে অপেক্ষা করছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগের মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা রোগী ছিলেন। এদের মধ্যে মোঃ: সাব্বির ইসলাম নামে এক রোগী জানান, তিনি সেনাবাহিনীর মাঠে অংশ নেবেন। তাঁর ভাষ্য, ছামিউল আলম তাঁকে দেখে নাকে মাংস বৃদ্ধি হয়েছে এবং অপারেশন করতে হবে বলে জানান। অপারেশনের খরচ কত হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতেই তিনি সেখানে এসেছেন বলে জানান ওই রোগী।

 

বক্তব্য নিতে গিয়ে বাধার অভিযোগ

 

অভিযোগের বিষয়ে মো. ছামিউল আলমের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা সরেজমিনে যোগাযোগ করলে তিনি সরাসরি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি যে ভবনে পরিচালিত হচ্ছে, সেই রিয়াজউদ্দীন কমপ্লেক্সের মালিক কালামের স্ত্রী শাহীনা বেগম ও তাঁর ছেলে আয়াতুল্লাহর কাছ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁরাও সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

এসব সেবা দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, নীলফামারী সদর, ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মো. ছামিউল আলমের প্রেসক্রিপশনে যে ১৩টি সেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ আছে, তার একটি সেবাও তাঁর দেওয়ার নিয়ম নেই।” তাঁর দাবি, এসব সেবা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এতে রোগীর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘বৃষ্টি ফার্মেসি এন্ড ড্রেসিং সেন্টার’ নীলফামারী জেলার সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় নিবন্ধিত বা অনুমোদিত নয়।

 

 

 

এদিকে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে রিয়াজউদ্দীন কমপ্লেক্সকে ঘিরে আরও কিছু অভিযোগের কথা জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত কয়েকজন চীনা নাগরিক ভাড়া থাকেন এবং অল্পবয়সী বাংলাদেশি মেয়েদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

 

 

স্থানীয়দের দাবি, ‘বৃষ্টি ফার্মেসি এন্ড ড্রেসিং সেন্টার’-এর নিবন্ধন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা এবং চিকিৎসা ও অপারেশন-সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার আইনগত অনুমোদন রয়েছে কি না—তা স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা হোক। অনিয়ম বা অনুমোদনহীন চিকিৎসাসেবার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মো. ছামিউল আলমের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

মোঃ সামিউল আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্কে, থমথমে পুরো মনপুরা। আসন্ন 2 নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণা কালীন সময় প্রার্থী নিজামুদ্দিন হাওলাদারের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন, নাছির(২৩), আল আমিন(২৫),জিদনী (১৮),অনি (২৩)কাশেম(২৮),অজয়(২৬)

আহতদের পরিবার জানিয়েছেন আহতদের অবস্থা গুরুতর, চিকিৎসার জন্য জেলাতে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।।

মেম্বার প্রার্থী নাসির অভিযোগ করে বলেন , স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে,মাঠ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, দীপক রাশি বাহিনী এরপর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আমি নির্বাচন প্রতারণা চলাকালীন সময়ে অতর্কিত দীপক বাহিনীর মূল হোতা সন্ত্রাসী মাকসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ আমাকেও আমার তুই ছেলের উপর হামলা চালান।। এতে করে আমিও আমার ছোট ছেলে আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রয়েছি।। মনপুরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট আমি অভিযোগ করেছি।ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। তিনি আরো বলেন সন্ত্রাসী ফারুক ফরাজী, ইলিয়াছ চৌধূরী, ইলিয়াস ফরাজী, ফুহাদ আওলাদ মাতাব্বর, মনির ফরাজী, খোকন পর এক নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ওসি মনপুরা এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই, চিরে যদি সন্ত্রাসীদের দমন না করা হয় তাহলে নির্বাচন হবে মনপুরা হবে ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বেন।। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত মনপুরা মাঠ নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিপূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

অপর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে দীপক বাহিনী এ ধরনের ঘটনা চলেছেন, অতর্কিত হামলা, চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা ধরনের কর্মের সাথে পার্থী শাহরিয়া দীপক সরাসরি জড়িত রয়েছেন।।

মুঠোফোনে প্রার্থী শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কাটিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ওসি মনপুরা কে বারবার ফোন করলেও এখন এখন পর্যন্ত মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।।

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম ওসমান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, মনপুরাকে মামলা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি।। অচিরেই মনপুরায় মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনাতে আমি নিরস কাজ করছি।।

উল্লেখ্য এই যে মনপুরা উপজেলা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থী শাহরিয়ার দীপক বিরুদ্ধে শাহরিয়ার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ হয়েছে যা পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে।। আজকের চোরাগুপ্তা হামলা সহ নানা অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।।। কোন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে মনপুরা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।।

আসছে বিস্তারিত……. সাথে থাকুন

ভোলার মনপুরায় নির্বাচনী মাঠে জনআতঙ্ক, দীপক বাহিনীর হাতে আহত ৫

এস এম খলিলুর রহমান
ব্যুরো চীফ হবিগঞ্জ জেলা ॥

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গয়াহরি গ্রামে নিরীহ ব্যক্তি বিজিত দাশ মেটনের উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী কাউন্সিলর যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বাদিনী সুপ্রিয়া রানী দাশ। শনিবার (১২ জুন) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুপ্রিয়া রানী দাশ বলেন, গেল পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ তার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হন। এরজের ধরে বিগত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডস্থ গয়াহরি গ্রামে জ্যোতিষ দাশের বাড়ি সামনে রাস্তার উপর পেয়ে আমার স্বামী বিজিত দাশ মেটনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর যুবরাজ গোপ, জ্যোতিষ দাশ, সীমা রানী দাশ, উৎফল দাশ ও লিপ্টু দাশসহ একদল লোক। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ও ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করি। আমার স্বামী আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে আমার স্বামীর রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্যোতিষ দাশকে গ্রেফতার করে। পরে ৫৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। এ ব্যাপারে আমি নবীগঞ্জ থানায় মামলা নিয়ে গেলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আমি বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে উল্লেখিত দুর্বৃত্তদের আসামী করে মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতের নির্দেশে এফআইআর হিসেবে নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। মামলা রুজু হলেও মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপরাপর আসামীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ যুবরাজ গোপ প্রকাশ্যে নবীগঞ্জ শহরে ও বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি অসহায় একজন মহিলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফুর রহমানকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার করিতে তিনি গড়িমশি করছেন। এদিকে আমার স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল নয়। বিছানায় শয্যাসায়ী আছেন। দারিদ্রতার কারনে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভিটে বাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে। সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও আমাদের এত বিড়ম্বনা পোহাতে হবে, তা জানা ছিলনা।
বর্তমানে আমার আহত স্বামী বিজিত দাশ কথা বার্তা বলতে পারছেন না, বাম চোখেঁ দেখতেও পান না। ঘটনাটি এলাকার সকল মানূষ অবগত রয়েছেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমার দায়েরী মামলার অন্যতম আসামী যুবরাজ গোপসহ অপর আসামীদের গ্রেফতার পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নবীগঞ্জে আসামী গ্রেফতার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে বাদিনীর সংবাদ সম্মেলন

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩