নেত্রকোনার মদন উপজেলায় হেলিকপ্টারে করে নতুন বউকে বাড়ি এনে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করলেন মাসুম খান নামে এক ব্যক্তি। তিনি পেশায় একজন ট্রাক্টরচালক।শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে তিনি বর সেজে হেলিকপ্টারে করে শ্বশুর বাড়ি থেকে নববধূকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। মাসুম খান মদন উপজেলার নায়েকপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। আর তার শ্বশুর বাড়ি একই উপজেলার ফতেপুর ছত্রকোনা গ্রামে। নায়েকপুর থেকে ফতেপুর ছত্রকোনা গ্রামের দূরত্ব মাত্র ছয় কিলোমিটার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের তৃতীয় ছেলে মাসুম খান। আজ একই উপজেলার ফতেপুর ছত্রকোনা গ্রামের কৃষক আশাহিদ তালুকদারের মেয়ে রিমা আক্তারের সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মাসুম খান বেলা দুইটায় জুম্মার নামাজের পর উপজেলার নায়েকপুর পূর্বপাড়া সামনের জমি থেকে হেলিকপ্টারে করে ফতেপুর ছত্রকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে নামেন। পরে বিদ্যালয় মাঠ থেকে তিনি কনের বাড়িতে যান। তার আগেই বরপক্ষের লোকজন কনের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন। মধ্যাহ্নভোজের পর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কনেকে নিয়ে তিনি হেলিকপ্টারে ওঠেন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনি ছত্রকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নববধূকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ান দেন। এদিকে বর-কনেসহ হেলিকপ্টারটি দেখতে উৎসুক এলাকাবাসী সেখানে ভিড় করেন।বর
ট্রাক্টর চালক মাসুম খান বলেন, আমি একজন ট্রাক্টরচালক। আমার ইচ্ছে ছিল আমার বউকে হেলিকপ্টারে করে বাড়ি নিয়ে আসব। আমার পরিবার ১ লাখ ৭২ হাজার টাকায় হেলিকপ্টার ভাড়া করে এই ইচ্ছে পূরণ করেছে।
হেলিকপ্টারে করে বউ আনতে পেরে বর মাসুম খানসহ পরিবারের সবাই খুশি। হেলিকপ্টারে চড়ে শ্বশুরবাড়িতে আসতে পেরে আনন্দিত নতুন বউও।
বর মাসুম খানের বাবা মতিউর রহমান খান বলেন, আমার ছেলের ইচ্ছে ছিল তার বউ হেলিকপ্টারে বাড়িতে আনবে। তাই আমি আমার ছেলের বউ আনতে এ ব্যবস্থা করেছি। এতে আমি ও আমার পরিবার খুবই খুশি।
স্থানীয় ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার সফি জানান, হেলিকপ্টারে বরযাত্রী হিসেবে বাড়িতে বউ নিয়ে আসার ঘটনা আমাদের উপজেলায় এটাই মনে হয় প্রথম। স্থানীয় বাসিন্দারাসহ আমরা এ বিয়ের অনুষ্ঠান খুবই উপভোগ করেছি।
Leave a Reply