৫ আগস্টের আগেও জামায়াতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল: মির্জা ফখরুল - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
৫ আগস্টের আগেও জামায়াতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল: মির্জা ফখরুল

৫ আগস্টের আগেও জামায়াতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল: মির্জা ফখরুল

জুলাই আন্দোলন চলাকালে এবং ৫ আগস্টের আগেও জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় ছিল বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

সম্প্রতি দেশের একটি দৈনিক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।

 

সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেন, ৫ আগস্টের আগে জামায়াতের নেতারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে না পারলেও তাদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

 

তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগে জামায়াত (নেতারা) তো বাইরে বের হতো না। তখনও যোগাযোগ ছিল। এই ১৫ বছর যেভাবে করেছি, সেভাবে—গোপনে।”

জুলাই আন্দোলন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির নিয়মিত আলোচনা হতো কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “রেগুলার আলোচনা হয়েছে। আমাদের টিম ছিল। এই টিমগুলো আলোচনা করত। এই আলোচনার ব্যাপারটা আমাদের সব সময় চলেছে। ৫ আগস্টের আগেও আমাদের আলোচনা হয়েছে।”

 

গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যেও কীভাবে এসব বৈঠক হতো, সে বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “গোয়েন্দা নজরদারি ফাঁকি দিয়ে কাজ করা হতো। গাড়ি বদল করে বিভিন্ন জায়গায় যেতাম, একদম কমিউনিস্ট পার্টির মতো।”

 

তিনি জানান, এসব বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে তিনি নিজে এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অংশ নিতেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে কখনো আমির ডা. শফিকুর রহমান, তিনি কারাগারে থাকলে হামিদুর রহমান আযাদ, কখনো গোলাম পরওয়ার এবং বেশির ভাগ সময় আব্দুল হালিম উপস্থিত থাকতেন।

 

মির্জা ফখরুলের ভাষায়, “আমি নিজে কতবার গেছি। আমি আর নজরুল ইসলাম খান ভাই। আর ওনাদের মধ্যে থাকতেন কখনো ডা. শফিকুর রহমান। উনি জেলে থাকলে থাকতেন হামিদুর রহমান আযাদ। পরওয়ার সাহেব খুব কম ছিলেন; আর হালিম সাহেব বেশি থাকতেন। উনিই ছিলেন মূল সমন্বয়কারী, কারণ তিনি বাইরে থাকতে পারতেন।”


পিরোজপুরের কাঁচাবাজারে কাঁচামরিচ, সবজি, মাছ ও ডিমের দাম একযোগে বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। টানা বৃষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যার প্রভাবে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষ করে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ২৫০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

রোববার (২ আগস্ট) পিরোজপুর সদর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও গত সপ্তাহে তা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় ওঠে। বর্তমানে সেই মরিচই বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।

 

এ ছাড়া বেগুন, কাকরোল, করলা, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজির দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৯০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কাকরোল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

মাছের বাজারেও নেই স্বস্তি। বড় ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকা এবং ছোট ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঙাশের দাম ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং রুই মাছ ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। দেশীয় প্রজাতির মাছের সরবরাহ কম থাকায় এসব মাছের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

 

ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। প্রতি হালি লাল ডিম ৫০ টাকা, সাদা ডিম ৪৮ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৭০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

ক্রেতাদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টি ও সাম্প্রতিক বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা সব ধরনের সবজির দাম বাড়িয়েছেন। একই সঙ্গে মাছ ও ডিমের দামও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

 

পৌর কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে এত বেশি দামে সবজি কেনা সম্ভব নয়। কাঁচামরিচের দাম এখন আকাশছোঁয়া। আমরা গরিব মানুষ খেতাম একটু সবজি, তাও এখন ১০০ টাকার উপরে। আমাদের কথা সরকারের চিন্তা করা উচিত।

 

পৌর মাছ বাজারে ইলিশ কিনতে আসা এম এ মুন্না বলেন, এখন ইলিশের মৌসুম। তারপরও তিন হাজার টাকা কেজি দামে ইলিশ কেনা আমাদের মতো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। যেদিন দাম কমবে সেদিন কিনব।

 

মাছ ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, পাইকারি বাজারেই মাছের দাম অনেক বেশি। বড় ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া পোয়া, রূপচাঁদা ও তপস্বী মাছের দামও বেশি। আমরা যেমন বেশি দামে কিনতেছি আবার এরকম করেই বিক্রি করতেছি।

 

সবজি ব্যবসায়ী সুমন খান জানান, ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় বিভিন্ন এলাকার সবজির খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। ফলে সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, ইলিশ ডিম ছাড়ার মৌসুমে সাগর থেকে নদীতে এলেও নদ-নদীতে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় তাদের চলাচলে বাধা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কম। পাশাপাশি পিরোজপুরে ধরা পড়া অনেক ইলিশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কম থাকে।

 

তিনি আরও বলেন, নদী-জলাশয়ে অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার দেশীয় মাছের প্রজননের জন্য মারাত্মক হুমকি। এসব জাল অপসারণে জেলা ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাঁচামরিচ ৩৫০ টাকা, মাছ-ডিম-সবজির দামে নাভিশ্বাস

শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপ-প্রেস সচিব সুজন মাহমুদ।

 

তিনি বলেন, বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।

 

সভায় নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।

 

এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

এছাড়া বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান সুজন মাহমুদ।

 

সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

 

 

অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সেনাসদরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় সরকারের প্রস্তাব উঠেছিল বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে বিএনপি সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয় বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ, সেনাপ্রধানের ভূমিকা এবং বঙ্গভবনের আলোচনার নানা দিক নিয়ে দেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যমে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেন মির্জা ফখরুল আলমগীর।

 

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে তিনি বাসায় ছিলেন। এর আগে থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ ছিল। সকাল ১১টার দিকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর তাকে জানান, সেনাপ্রধান ফোন করবেন। পরে সেনাপ্রধান ফোন করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে চান। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে চান তিনি। রাস্তায় মানুষের ঢল থাকায় সেনাপ্রধান তার জন্য গাড়ি পাঠান। বৈঠকে যাওয়ার আগে তিনি লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে দলের অবস্থান ঠিক করেন।

 

সেনাসদরে গিয়ে তিনি দেখেন, তিন বাহিনীর প্রধান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, হামিদুর রহমান আজাদ, মাহমুদুর রহমান মান্না, জোনায়েদ সাকি, মাওলানা মামুনুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে তখন পর্যন্ত ছাত্রনেতাদের কেউ সেখানে ছিলেন না।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, বৈঠকে জাতীয় সরকার গঠনের আলোচনা উঠেছিল। তবে বিএনপি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা জাতীয় সরকারের অংশ হবে না। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে মত দেয়। কে জাতীয় সরকারের প্রস্তাব তুলেছিলেন, তা স্পষ্ট মনে নেই। তবে মাহমুদুর রহমান মান্না বা অন্য কেউ বিষয়টি উত্থাপন করে থাকতে পারেন।

 

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরই সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের কথা বলেন। সেনাপ্রধান রাজনৈতিক নেতাদেরও সঙ্গে রাখতে চাইলেও বিএনপি তাতে রাজি হয়নি। তারা মনে করেছিল, ওই মুহূর্তে সেনাপ্রধানের একাই বক্তব্য দেওয়া উচিত।

 

আরও পড়ুন: এক দফা দাবি ও অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী নেতারা

 

সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সেনাপ্রধান অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে সবাইকে একত্র করেছিলেন এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধান চেয়েছিলেন। বৈঠকের একপর্যায়ে সেনাপ্রধান জানান, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। সেই মুহূর্তটি তাদের কাছে অলৌকিক ঘটনার মতো মনে হয়েছিল। কারণ, ১৭ বছরের আন্দোলনের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

 

পরে সবাই বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু মানুষের ঢলের কারণে সেখানে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। ক্যান্টনমেন্টের গেট থেকে গাড়ি বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় রাস্তার পাশে ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না, মির্জা ফখরুল ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জনগণকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং জানান তারা বঙ্গভবনে যাচ্ছেন।

 

বঙ্গভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আলোচনার শুরুতেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি তোলেন মির্জা ফখরুল। সেনাপ্রধান এতে সম্মতি জানান। রাষ্ট্রপতিও বলেন, সবাই একমত হলে তিনি এ বিষয়ে আপত্তি করবেন না।

 

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নাম প্রস্তাব করেন ছাত্রনেতারা। কোনো রাজনৈতিক দল থেকে তার নাম প্রস্তাব করা হয়নি।

৫ আগস্ট সেনাসদরের বৈঠকে কী হয়েছিল, জানালেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার পর পাইপলাইনে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী হিসেবে মিয়ানমারের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি প্রাধান্য দিচ্ছে বাংলাদেশ।

 

রোববার (০২ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ে।

 

এ সময় দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা মেটাতে পাইপলাইনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাইপলাইন করার অতীতের প্রস্তাব নতুন করে আলোচনা শুরুর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এরপর পাইপলাইনে গ্যাস আনার পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হিসেবেও গ্যাস সরবরাহের সম্ভাব্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার কথা জানান রাষ্ট্রদূত। জ্বালানিমন্ত্রীও তার এ প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন।

 

এতে আরও বলা হয়, জ্বালানি খাতের এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে বেগবান করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাব দেন।

 

এ সময় তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবেন বলে জানান এবং প্রয়োজনে তিনি নিজেও মিয়ানমার সফর করার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে পাইপলাইন স্থাপিত হলে তা সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।

 

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ–মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক করে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

 

সাক্ষাৎকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানিসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎসচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।

পাইপলাইনে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের

দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দুবাই আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছে বেনজীর আহমেদ, এটি আমরা শুনেছি। দুবাই রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা সার্টিফাই কপি সংগ্রহের চেষ্টা করছি। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে ল ফার্ম (আইনি পরামর্শক) নিয়োগ করেছে।

 

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সে রাজশাহী রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিসার ও ফোর্সের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

 

আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরত আনা যাবে বলে এ সময় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

বাংলাদেশের সাবেক এ আইজিপি আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুবাইয়ের কারাগার থেকে মুক্ত হন বলে জানা গেছে। যা গণমাধ্যমের মাধ্যমে আজ রোববার প্রকাশ্যে এসেছে।

 

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হন। দুবাই পুলিশ ও আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

 

এর আগে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে একাধিক মামলা করে দুদক। এসব অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

 

বেনজীর আহমদের প্রত্যর্পণে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে শর্তসাপেক্ষে জামিন মিলে বেনজীর আহমেদের। জামিনের শর্ত অনুযায়ী, তার পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।

বেনজীরের জামিন বাতিলে ল ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করবে সরকার। জুলাইয়ের গণহত্যার বিচারও নিশ্চিত করা হবে।

 

রোববার বিকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ) আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লববিষয়ক প্রথম সম্মেলনে’ এ কথা বলেন তিনি।

 

মাহদী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

 

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, তারা এমন একটি সত্যিকার অর্থে সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যেখানে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না। এই আদর্শ বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত অনেকে আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। কেউ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তাদের অনেকে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এসব আহত ব্যক্তি এবং শহীদ পরিবারের পাশে নির্বাচিত সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা নিয়ে দাঁড়াতে চায় এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

 

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, আদর্শ ও মূল্যবোধকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রভাব অল্প সময়ে সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব নয়। তবুও শহীদদের আত্মত্যাগ এবং তাদের পরিবারের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমরা এমন একটা বাংলাদেশ তখন দেখেছিলাম যেখানে ডানপন্থী, বামপন্থী, মধ্যমপন্থী, ইসলামপন্থী বলে কারো কোনো পরিচয় ছিল না। সবার পরিচয় ছিল আমরা বাংলাদেশ পন্থী। আমরা সবাই মিলে সেই বাংলাদেশই চেয়েছিলাম, যেখানে মানবাধিকার থাকবে, আইনের অনুশাসন থাকবে, বাকস্বাধীনতা থাকবে। সবাই সে বাংলাদেশ চেয়েছিলাম যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে না, গুম-খুন-হামলা মামলা হবে না। আজকের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে যে গণ আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল,সেটাই প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

 

তিনি বলেন, আমাদের অনেক আহত ভাই-বোনেরা রয়েছেন যাদের অনেকের আর চোখ নেই, অনেকের হাত বা পা হারিয়েছে। অনেকে আহত হয়েছে আজও সুস্থ হন নাই। নির্বাচিত সরকারের দিক থেকে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে ভালোবাসা নিয়ে আমাদের শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকতে চাই। যারা আহত হয়েছেন তাদের পাশে সহযোগিতা নিয়ে থাকতে চাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় আসার পর জুলাইয়ের যে আকাঙ্ক্ষা, জুলাইয়ের যে আদর্শ, জুলাইয়ের যে মূল্যবোধ সেটাকে ধারণ করে একটা নতুন বৈষম্যহীন এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে সরকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফেনী সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে নাইজেরিয়ান নাগরিক আটক

 

ফেনী প্রতিনিধি:

 

ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টাকালে এক নাইজেরিয়ান নাগরিককে আটক করেছে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)।

সোমবার (৩ আগস্ট) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরশুরাম উপজেলার নিজকালিকাপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ওই বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আটক ব্যক্তির নাম অস্টিন (৩৯)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশে আসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ হয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি প্রথমে ঢাকায় আসেন। পরে সেখান থেকে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার নিজকালিকাপুর সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান।

বিজিবি জানায়, আটক নাইজেরিয়ান নাগরিককে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরশুরাম থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা এবং মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

ফেনী সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে নাইজেরিয়ান নাগরিক আটক

মানিকগঞ্জে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ পিতা আটক

 

মোঃ আতিকুর রহমান আশিক মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ১১ বছরের এক শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে তার সৎ পিতাকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন তিনি। এতদিন হুমকির মুখে ঘটনাটি কাউকে জানাতে পারেনি শিশুটি।

 

আজ সোমবার মায়ের কাছে বিষয়টি প্রকাশ পেলে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার বানিয়াজুরী এলাকায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও স্ত্রীর আগের ঘরের ১১ বছরের মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন জুলহাস নামের এক মিলশ্রমিক।

 

অভিযোগ, গত রোববার সকালে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এর আগেও পাঁচ থেকে ছয়বার একইভাবে তাকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে শিশুটি জানিয়েছে। অভিযুক্তের হুমকির কারণে এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিল সে। সোমবার সকালে শিশুটি কান্নাকাটি করে মায়ের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে মা তার মেয়েকে নিয়ে স্থানীয় বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টুর কাছে যান। চেয়ারম্যান বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ঘিওর থানায় জানান।

 

বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু বলেন, ভুক্তভোগী শিশু ও তার মা পরিষদে এসে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়। শিশুটির মা বলেন, তাঁর স্বামী যে এমন জঘন্য কাজ করতে পারেন, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। ভয় দেখানোর কারণে মেয়েটি এতদিন কাউকে কিছু বলতে পারেনি। তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

 

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত জুলহাসকে আটক করেছে। ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জে ১১ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ণের অভিযোগে সৎ পিতা আটক 

সাংবাদিক পুত্র ইয়াছিন আরাফাতের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

শিবালয় অক্সফোর্ড একাডেমি থেকে ৫ম শ্রেণির প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে মেধাবী শিক্ষার্থী ইয়াছিন আরাফাত।

 

সাপ্তাহিক অগ্নিবিন্দু পত্রিকার সম্পাদক, মানিকগঞ্জ প্রেক্লাবের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং মানিকগঞ্জ সম্পাদক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পদক মোঃ আকমল হোসেনে এর পুত্র ইয়াছিন আরাফাত। তিনি শিবালয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেনীতে অধ্যায়নরত রয়েছেন।

ইয়াছিন আরাফাতের এই কৃতিত্বে পরিবারে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে । এ সাফল্যের জন্য মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন পরিবারের সদস্যরা। শিক্ষার্থীর এ অর্জনের পেছনে যাদের আন্তরিক পরিশ্রম, স্নেহ ও দিকনির্দেশনা রয়েছে, শিবালয় অক্সফোর্ড একাডেমি সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও প্রাইভেট শিক্ষকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন তার পরিবার। ইয়াছিন আরাফাতের মাতা সুফিয়া আক্তার একজন সফল গৃহিনী । ইয়াছিন যেন আগামীতে আরো মেধা সম্পন্ন ভাল মানুষ হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পারে সকলের কাছে সেই দোয়া কামনা করছেন।

সাংবাদিক পুত্র ইয়াছিন আরাফাতের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন

গাইবান্ধায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে ধোপাডাঙ্গার নতুন বাজার এলাকায় সচেতন নাগরিকের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন, কার্জন চৌধুরী, ফাওজুল কবীর ফুল, ইউপি সদস্য লিটন মিয়া, আজিরন সুফিয়াসহ অন্যরা।

 

বক্তাদের অভিযোগ, বলাৎকারের ঘটনাকে পুঁজি করে এলাকার জনপ্রিয় ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামকে অপবাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে মানহানিকর নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যা সম্পুর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আর এই অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছেন ওই এলাকার চিহ্নিত প্রতারক জাহিদ হাসান জিল্লু।

 

এমনকি জাহিদ হাসান জিল্লু তার বাড়ি ভাংচুরের মিথ্যা অভিযোগ এনে আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জিডি করেছেন বলে অভিযোগ তাদের।

 

বক্তারা আরো অভিযোগ করে বলেন, জাহিদ হাসান জিল্লু চাকরি দেওয়ার কথা বলে এবং ঘর ও ভাতার নামে এলাকার মহিলাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

 

মানববন্ধনে বক্তারা, বলাৎকারের সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানিয়ে অবিলম্বে চিহ্নিত প্রতারক কুচক্রী জাহিদ হাসান জিল্লুকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেন।

গাইবান্ধায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন 

পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দ্রুত সেবা ও আধুনিকতায়নের ছোঁয়ায় ফিরছে রোগীদের আস্থা

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

এক সময় নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নাম শুনলেই মানুষের মনে ভেসে উঠতো অপরিচ্ছন্নতা পরিবেশ, দুর্গন্ধ, দীর্ঘ অপেক্ষা আর সেবায় নানা ভোগান্তির চিত্র। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর ও ড্রেনে জমে থাকতো

ময়লা- আবর্জনা। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগও ছিল নিত্যদিনের তবে কয়েক মাসের ব্যবধানে হাসপাতালটির সেই চিত্র এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। এখন হাসপাতালের পরিবেশ অনেকটাই পরিচ্ছন্ন, সেবায় এসেছে শৃঙ্খলা এবং কমেছে রোগীদের অভিযোগ। নিয়মিত তদারকি, পরিচ্ছন্ন, সেবায় মনোনয়ন এবং

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগে এই পরিবর্তন এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। হাসপাতালটির উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল্লাহেল মাফি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে নিয়মিত পরিদর্শন করে সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সরজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, আগে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পাশে যেখানে ময়লার স্তূপ ও দুর্গন্ধ ছিল, সেখানে এখন তৈরি হয়েছে ছোট একটি ফুলের বাগান। ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে। ওয়ার্ড, বারান্দা ও হাসপাতালের আঙিনায়ও পরিচ্ছন্নতার ছাপ দেখা গেছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতিমাসে ১৪০ থেকে ১৫০ টি স্বাভাবিক প্রসব এবং ৪০ থেকে ৫০ টি সিজারিয়ান অপারেশন হচ্ছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ রোগী চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ নিচ্ছেন। ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলেও চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসাসেবা আরও আধুনিক ও সহজলভ্য করতে গাইনি ওয়ার্ডে রোগীদের জন্য আলট্রাসনোগ্রাম সেবা চালু করা হয়েছে।

অস্ত্রোপচারের জন্য সুবিধা ও উন্নত করা হয়েছে এবং যুক্ত হয়েছে নতুন চিকিৎসা সরঞ্জাম। এছাড়া আইসিইউ ও কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট চালুর প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এসব সেবা এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রহিমা বেগম বলেন, “আগে চিকিৎসকের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হতো। এখন সিরিয়াল অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা পাচ্ছি।”হাসপাতালে ভর্তি সালাম বলেন, “আগের তুলনায় হাসপাতাল এখন অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দুর্গন্ধ নেই। চিকিৎসা নিয়েও আমরা সন্তুষ্ট।”আরেক রোগী নাজমা বেগম বলেন,”এবার চিকিৎসা নিতে এসে বাইরে থেকে কোনো ঔষধ কিনতে হয়নি। হাসপাতালেই সব ঔষধ পেয়েছি। গরিব মানুষের জন্য এটি অনেক বড় স্বস্তি।”হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল্লাহেল মাফি বলেন,”সরকারী হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমি যোগদানের পর থেকেই পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও রোগীবান্ধব সেবা কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। প্রতিদিন হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগ পরিদর্শন করি। কোথাও কোনো অনিয়ম বা অবহেলা দেখলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। তারপরও চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আইসিইউ ও কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। জনবল সংকট দূর হলে এসব সেবা দ্রুত চালু করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু চিকিৎসা দেওয়া নয়, রোগীরা যেন পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশে চিকিৎসা পান, সেটিও নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালকে উত্তরাঞ্চলের একটি আদর্শ সরকারি হাসপাতালে পরিণত করতে আমরা কাজ করছি।”স্থানীয়দের মতে, সরকারী হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে সঠিক নেতৃত্ব, নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতার বিকল্প নেই। নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের সাম্প্রতিক পরিবর্তন তারই একটি উদাহরণ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে জেলার মানুষের সরকারী স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা আরও বাড়বে।

পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দ্রুত সেবা ও আধুনিকতায়নের ছোঁয়ায় ফিরছে রোগীদের আস্থা

ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৩.৫ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ

 

উপশিরোনাম:

ছাগলনাইয়া সীমান্তে বিশেষ অভিযান; মাদক ও চোরাচালানবিরোধী তৎপরতা অব্যাহত

 

ফেনী প্রতিনিধি:

 

ফেনীর ছাগলনাইয়া সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬৩ দশমিক ৫ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ করেছে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)।

সোমবার (৩ আগস্ট) ছাগলনাইয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এসব গাঁজা জব্দ করা হয়। ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জব্দকৃত ৬৩.৫ কেজি ভারতীয় গাঁজা পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য স্থানীয় থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান, পদাতিক বলেন, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা এবং মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং চোরাচালান ও মাদক নির্মূলে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৩.৫ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ

পিরোজপুরের কাঁচাবাজারে কাঁচামরিচ, সবজি, মাছ ও ডিমের দাম একযোগে বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। টানা বৃষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যার প্রভাবে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষ করে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ২৫০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

রোববার (২ আগস্ট) পিরোজপুর সদর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও গত সপ্তাহে তা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় ওঠে। বর্তমানে সেই মরিচই বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।

 

এ ছাড়া বেগুন, কাকরোল, করলা, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজির দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৯০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কাকরোল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

মাছের বাজারেও নেই স্বস্তি। বড় ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকা এবং ছোট ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঙাশের দাম ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং রুই মাছ ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। দেশীয় প্রজাতির মাছের সরবরাহ কম থাকায় এসব মাছের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

 

ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। প্রতি হালি লাল ডিম ৫০ টাকা, সাদা ডিম ৪৮ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৭০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

ক্রেতাদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টি ও সাম্প্রতিক বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা সব ধরনের সবজির দাম বাড়িয়েছেন। একই সঙ্গে মাছ ও ডিমের দামও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

 

পৌর কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে এত বেশি দামে সবজি কেনা সম্ভব নয়। কাঁচামরিচের দাম এখন আকাশছোঁয়া। আমরা গরিব মানুষ খেতাম একটু সবজি, তাও এখন ১০০ টাকার উপরে। আমাদের কথা সরকারের চিন্তা করা উচিত।

 

পৌর মাছ বাজারে ইলিশ কিনতে আসা এম এ মুন্না বলেন, এখন ইলিশের মৌসুম। তারপরও তিন হাজার টাকা কেজি দামে ইলিশ কেনা আমাদের মতো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। যেদিন দাম কমবে সেদিন কিনব।

 

মাছ ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, পাইকারি বাজারেই মাছের দাম অনেক বেশি। বড় ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া পোয়া, রূপচাঁদা ও তপস্বী মাছের দামও বেশি। আমরা যেমন বেশি দামে কিনতেছি আবার এরকম করেই বিক্রি করতেছি।

 

সবজি ব্যবসায়ী সুমন খান জানান, ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় বিভিন্ন এলাকার সবজির খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। ফলে সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, ইলিশ ডিম ছাড়ার মৌসুমে সাগর থেকে নদীতে এলেও নদ-নদীতে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় তাদের চলাচলে বাধা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কম। পাশাপাশি পিরোজপুরে ধরা পড়া অনেক ইলিশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কম থাকে।

 

তিনি আরও বলেন, নদী-জলাশয়ে অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার দেশীয় মাছের প্রজননের জন্য মারাত্মক হুমকি। এসব জাল অপসারণে জেলা ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাঁচামরিচ ৩৫০ টাকা, মাছ-ডিম-সবজির দামে নাভিশ্বাস

শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপ-প্রেস সচিব সুজন মাহমুদ।

 

তিনি বলেন, বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।

 

সভায় নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।

 

এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

এছাড়া বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান সুজন মাহমুদ।

 

সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

 

 

অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জুলাই আন্দোলন চলাকালে এবং ৫ আগস্টের আগেও জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় ছিল বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

সম্প্রতি দেশের একটি দৈনিক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।

 

সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেন, ৫ আগস্টের আগে জামায়াতের নেতারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে না পারলেও তাদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

 

তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগে জামায়াত (নেতারা) তো বাইরে বের হতো না। তখনও যোগাযোগ ছিল। এই ১৫ বছর যেভাবে করেছি, সেভাবে—গোপনে।”

জুলাই আন্দোলন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির নিয়মিত আলোচনা হতো কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “রেগুলার আলোচনা হয়েছে। আমাদের টিম ছিল। এই টিমগুলো আলোচনা করত। এই আলোচনার ব্যাপারটা আমাদের সব সময় চলেছে। ৫ আগস্টের আগেও আমাদের আলোচনা হয়েছে।”

 

গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যেও কীভাবে এসব বৈঠক হতো, সে বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “গোয়েন্দা নজরদারি ফাঁকি দিয়ে কাজ করা হতো। গাড়ি বদল করে বিভিন্ন জায়গায় যেতাম, একদম কমিউনিস্ট পার্টির মতো।”

 

তিনি জানান, এসব বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে তিনি নিজে এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অংশ নিতেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে কখনো আমির ডা. শফিকুর রহমান, তিনি কারাগারে থাকলে হামিদুর রহমান আযাদ, কখনো গোলাম পরওয়ার এবং বেশির ভাগ সময় আব্দুল হালিম উপস্থিত থাকতেন।

 

মির্জা ফখরুলের ভাষায়, “আমি নিজে কতবার গেছি। আমি আর নজরুল ইসলাম খান ভাই। আর ওনাদের মধ্যে থাকতেন কখনো ডা. শফিকুর রহমান। উনি জেলে থাকলে থাকতেন হামিদুর রহমান আযাদ। পরওয়ার সাহেব খুব কম ছিলেন; আর হালিম সাহেব বেশি থাকতেন। উনিই ছিলেন মূল সমন্বয়কারী, কারণ তিনি বাইরে থাকতে পারতেন।”

৫ আগস্টের আগেও জামায়াতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল: মির্জা ফখরুল

সাভারের নামাবাজারে পোলাওয়ের ‘চিনিগুঁড়ার’ বলে কমদামি সুগন্ধিযুক্ত মোটা চাল বিক্রির অভিযোগ

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

দেশের বাজারে এক মাসের ব্যবধানে সুগন্ধি চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। যে চাল গত মাসেও ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেটিই এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকায়। চালের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। আর সুযোগ নিচ্ছে প্রতারক চক্র।

 

দেশের অন্যতম বড় পাইকারি চালের বাজার ঢাকার সাভারের নামাবাজার। এখানে তিন শতাধিক ছোট-বড় ব্যবসায়ী চালের বেচাকেনা করেন। সাভার ছাড়াও আশপাশের একাধিক জেলার বাজারে এই মোকাম থেকে চাল সরবরাহ করা হয়। নামাবাজারে অন্যান্য চালের সঙ্গে বিক্রি করা হচ্ছে বিশেষ মেশিনে কেটে আকারে ছোট করা কম দামের সুগন্ধিযুক্ত মোটা চাল। বিশেষ মেশিনে ছোট করা এই চালে বিক্রির আগে মেশানো হয় কৃত্রিম সুগন্ধি পাউডার। পরে আকর্ষণীয় মোড়কে ‘চিনিগুঁড়া চাল’ লিখে এগুলো বাজারজাত করা হয়। বাহ্যিকভাবে তীব্র সুগন্ধ থাকায় সাধারণ ক্রেতারা এটিকেই আসল চিনিগুঁড়া চাল মনে করে কম দামে পেয়ে বেশি কিনছে এবং প্রতারিত হচ্ছে।

 

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একদিকে রজনীগন্ধা, এরফান, সাগর, আকিজ, পুষ্টি, তীরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বাবুর্চি, দাওয়াত, ডায়মন্ডসহ বিভিন্ন নামে প্যাকেটজাত কম দামের চালও একইভাবে ‘চিনিগুঁড়া’ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

 

ব্যবসায়ী ও বাজারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বিভিন্ন গুদামঘরে ও মিলে প্যাকেটজাত এসব চালের বড় অংশই প্রকৃত চিনিগুঁড়া নয়। কম দামের মোটা চালকে কেটে চিনিগুঁড়ার মতো আকার দেওয়া হয়। এরপর তাতে কৃত্রিম সুগন্ধি পাউডার মিশিয়ে বাজারে ছাড়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে মোড়কে এমনভাবে প্যাকেটজাত করা হয় যে সাধারণ ক্রেতার পক্ষে আসল-নকল আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রকৃত চিনিগুঁড়া চালে কৃত্রিম বা ঝাঁজালো সুগন্ধ থাকে না। এর দানার গঠন, রং ও আকৃতি স্বতন্ত্র। রান্নার পর চালটি থেকে স্বাভাবিক ও মৃদু সুবাস বের হয়। কিন্তু কৃত্রিম সুগন্ধিযুক্ত নকল চালে শুরু থেকে তীব্র গন্ধ থাকে, যা অনেক ক্রেতা উন্নত মানের চালের বৈশিষ্ট্য বলে ধরে নেন। ক্রেতাদের এই অজ্ঞতাকেই পুঁজি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। তুলনামূলক কম দামে নিম্নমানের চাল কিনে কৃত্রিম সুগন্ধি মিশিয়ে বেশি দামে বিক্রি করে তারা বিপুল মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কম দামে বিরিয়ানি বিক্রি করা অনেক রেস্তোরাঁয় এই নকল চিনিগুঁড়া চাল ব্যবহার করা হয়। সাভার বাজার রোডের ‘মা বিরিয়ানি’ হাউসের মালিক মো. রিজওয়ান কাজী বলেন, বর্তমানে আসল চিনিগুঁড়া চালের ২৫ কেজির একটি বস্তার দাম ৫ হাজার টাকা। মাত্র ১৫ দিন আগেও একই বস্তা সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিপরীতে কৃত্রিম সুগন্ধিযুক্ত নিম্নমানের চালের ২৫ কেজির বস্তা ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকায় পাওয়া যায়। দামের এই বড় ব্যবধানের কারণে অনেক বিরিয়ানির দোকানমালিকেরা কম দামের কৃত্রিম সুগন্ধিযুক্ত চাল ব্যবহার করছে। কারণ, আসল চিনিগুঁড়া চাল দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়, আর সেই অনুযায়ী দাম বাড়ালে অনেক ক্রেতাই তা দিতে আগ্রহী হয় না।

সাভারের নামাবাজারে পোলাওয়ের ‘চিনিগুঁড়ার’ বলে কমদামি সুগন্ধিযুক্ত মোটা চাল বিক্রির অভিযোগ

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d