৫ আগস্ট সেনাসদরের বৈঠকে কী হয়েছিল, জানালেন মির্জা ফখরুল - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
৫ আগস্ট সেনাসদরের বৈঠকে কী হয়েছিল, জানালেন মির্জা ফখরুল

৫ আগস্ট সেনাসদরের বৈঠকে কী হয়েছিল, জানালেন মির্জা ফখরুল

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সেনাসদরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় সরকারের প্রস্তাব উঠেছিল বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে বিএনপি সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয় বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ, সেনাপ্রধানের ভূমিকা এবং বঙ্গভবনের আলোচনার নানা দিক নিয়ে দেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যমে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেন মির্জা ফখরুল আলমগীর।

 

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে তিনি বাসায় ছিলেন। এর আগে থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ ছিল। সকাল ১১টার দিকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর তাকে জানান, সেনাপ্রধান ফোন করবেন। পরে সেনাপ্রধান ফোন করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে চান। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে চান তিনি। রাস্তায় মানুষের ঢল থাকায় সেনাপ্রধান তার জন্য গাড়ি পাঠান। বৈঠকে যাওয়ার আগে তিনি লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে দলের অবস্থান ঠিক করেন।

 

সেনাসদরে গিয়ে তিনি দেখেন, তিন বাহিনীর প্রধান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, হামিদুর রহমান আজাদ, মাহমুদুর রহমান মান্না, জোনায়েদ সাকি, মাওলানা মামুনুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে তখন পর্যন্ত ছাত্রনেতাদের কেউ সেখানে ছিলেন না।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, বৈঠকে জাতীয় সরকার গঠনের আলোচনা উঠেছিল। তবে বিএনপি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা জাতীয় সরকারের অংশ হবে না। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে মত দেয়। কে জাতীয় সরকারের প্রস্তাব তুলেছিলেন, তা স্পষ্ট মনে নেই। তবে মাহমুদুর রহমান মান্না বা অন্য কেউ বিষয়টি উত্থাপন করে থাকতে পারেন।

 

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরই সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের কথা বলেন। সেনাপ্রধান রাজনৈতিক নেতাদেরও সঙ্গে রাখতে চাইলেও বিএনপি তাতে রাজি হয়নি। তারা মনে করেছিল, ওই মুহূর্তে সেনাপ্রধানের একাই বক্তব্য দেওয়া উচিত।

 

আরও পড়ুন: এক দফা দাবি ও অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী নেতারা

 

সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সেনাপ্রধান অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে সবাইকে একত্র করেছিলেন এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধান চেয়েছিলেন। বৈঠকের একপর্যায়ে সেনাপ্রধান জানান, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। সেই মুহূর্তটি তাদের কাছে অলৌকিক ঘটনার মতো মনে হয়েছিল। কারণ, ১৭ বছরের আন্দোলনের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

 

পরে সবাই বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু মানুষের ঢলের কারণে সেখানে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। ক্যান্টনমেন্টের গেট থেকে গাড়ি বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় রাস্তার পাশে ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না, মির্জা ফখরুল ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জনগণকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং জানান তারা বঙ্গভবনে যাচ্ছেন।

 

বঙ্গভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আলোচনার শুরুতেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি তোলেন মির্জা ফখরুল। সেনাপ্রধান এতে সম্মতি জানান। রাষ্ট্রপতিও বলেন, সবাই একমত হলে তিনি এ বিষয়ে আপত্তি করবেন না।

 

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নাম প্রস্তাব করেন ছাত্রনেতারা। কোনো রাজনৈতিক দল থেকে তার নাম প্রস্তাব করা হয়নি।


ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য কোনো গণমাধ্যম প্রচার করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্য কেবল আস্ফালন, বাস্তবে তা করার সক্ষমতা তার নেই। একই সঙ্গে সরকার যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ভারতসহ সব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে চলছে এবং এ বিষয়ে কোনো ভূরাজনৈতিক সমস্যায় নেই।

 

এ সময় খাদ্য ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। বলেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে।

 

বিদ্যুৎতের অতিরিক্ত বিল প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো গ্রাহক অস্বাভাবিক বিল পেলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানাতে পারেন।’

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকাল ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এ আয়োজন শুরু হবে।

 

বিএনপির মিডিয়া সেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

পিরোজপুরের কাঁচাবাজারে কাঁচামরিচ, সবজি, মাছ ও ডিমের দাম একযোগে বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। টানা বৃষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যার প্রভাবে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষ করে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ২৫০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

রোববার (২ আগস্ট) পিরোজপুর সদর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও গত সপ্তাহে তা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় ওঠে। বর্তমানে সেই মরিচই বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।

 

এ ছাড়া বেগুন, কাকরোল, করলা, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজির দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৯০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কাকরোল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

মাছের বাজারেও নেই স্বস্তি। বড় ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকা এবং ছোট ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঙাশের দাম ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং রুই মাছ ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। দেশীয় প্রজাতির মাছের সরবরাহ কম থাকায় এসব মাছের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

 

ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। প্রতি হালি লাল ডিম ৫০ টাকা, সাদা ডিম ৪৮ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৭০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

ক্রেতাদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টি ও সাম্প্রতিক বন্যাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা সব ধরনের সবজির দাম বাড়িয়েছেন। একই সঙ্গে মাছ ও ডিমের দামও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

 

পৌর কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে এত বেশি দামে সবজি কেনা সম্ভব নয়। কাঁচামরিচের দাম এখন আকাশছোঁয়া। আমরা গরিব মানুষ খেতাম একটু সবজি, তাও এখন ১০০ টাকার উপরে। আমাদের কথা সরকারের চিন্তা করা উচিত।

 

পৌর মাছ বাজারে ইলিশ কিনতে আসা এম এ মুন্না বলেন, এখন ইলিশের মৌসুম। তারপরও তিন হাজার টাকা কেজি দামে ইলিশ কেনা আমাদের মতো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। যেদিন দাম কমবে সেদিন কিনব।

 

মাছ ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, পাইকারি বাজারেই মাছের দাম অনেক বেশি। বড় ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া পোয়া, রূপচাঁদা ও তপস্বী মাছের দামও বেশি। আমরা যেমন বেশি দামে কিনতেছি আবার এরকম করেই বিক্রি করতেছি।

 

সবজি ব্যবসায়ী সুমন খান জানান, ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় বিভিন্ন এলাকার সবজির খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। ফলে সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, ইলিশ ডিম ছাড়ার মৌসুমে সাগর থেকে নদীতে এলেও নদ-নদীতে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় তাদের চলাচলে বাধা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কম। পাশাপাশি পিরোজপুরে ধরা পড়া অনেক ইলিশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কম থাকে।

 

তিনি আরও বলেন, নদী-জলাশয়ে অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার দেশীয় মাছের প্রজননের জন্য মারাত্মক হুমকি। এসব জাল অপসারণে জেলা ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাঁচামরিচ ৩৫০ টাকা, মাছ-ডিম-সবজির দামে নাভিশ্বাস

শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপ-প্রেস সচিব সুজন মাহমুদ।

 

তিনি বলেন, বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।

 

সভায় নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।

 

এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

এছাড়া বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান সুজন মাহমুদ।

 

সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

 

 

অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জুলাই আন্দোলন চলাকালে এবং ৫ আগস্টের আগেও জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় ছিল বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

সম্প্রতি দেশের একটি দৈনিক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।

 

সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেন, ৫ আগস্টের আগে জামায়াতের নেতারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে না পারলেও তাদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

 

তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগে জামায়াত (নেতারা) তো বাইরে বের হতো না। তখনও যোগাযোগ ছিল। এই ১৫ বছর যেভাবে করেছি, সেভাবে—গোপনে।”

জুলাই আন্দোলন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির নিয়মিত আলোচনা হতো কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “রেগুলার আলোচনা হয়েছে। আমাদের টিম ছিল। এই টিমগুলো আলোচনা করত। এই আলোচনার ব্যাপারটা আমাদের সব সময় চলেছে। ৫ আগস্টের আগেও আমাদের আলোচনা হয়েছে।”

 

গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যেও কীভাবে এসব বৈঠক হতো, সে বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “গোয়েন্দা নজরদারি ফাঁকি দিয়ে কাজ করা হতো। গাড়ি বদল করে বিভিন্ন জায়গায় যেতাম, একদম কমিউনিস্ট পার্টির মতো।”

 

তিনি জানান, এসব বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে তিনি নিজে এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অংশ নিতেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে কখনো আমির ডা. শফিকুর রহমান, তিনি কারাগারে থাকলে হামিদুর রহমান আযাদ, কখনো গোলাম পরওয়ার এবং বেশির ভাগ সময় আব্দুল হালিম উপস্থিত থাকতেন।

 

মির্জা ফখরুলের ভাষায়, “আমি নিজে কতবার গেছি। আমি আর নজরুল ইসলাম খান ভাই। আর ওনাদের মধ্যে থাকতেন কখনো ডা. শফিকুর রহমান। উনি জেলে থাকলে থাকতেন হামিদুর রহমান আযাদ। পরওয়ার সাহেব খুব কম ছিলেন; আর হালিম সাহেব বেশি থাকতেন। উনিই ছিলেন মূল সমন্বয়কারী, কারণ তিনি বাইরে থাকতে পারতেন।”

৫ আগস্টের আগেও জামায়াতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল: মির্জা ফখরুল

গ্যাস সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার পর পাইপলাইনে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী হিসেবে মিয়ানমারের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি প্রাধান্য দিচ্ছে বাংলাদেশ।

 

রোববার (০২ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ে।

 

এ সময় দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা মেটাতে পাইপলাইনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাইপলাইন করার অতীতের প্রস্তাব নতুন করে আলোচনা শুরুর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এরপর পাইপলাইনে গ্যাস আনার পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হিসেবেও গ্যাস সরবরাহের সম্ভাব্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার কথা জানান রাষ্ট্রদূত। জ্বালানিমন্ত্রীও তার এ প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন।

 

এতে আরও বলা হয়, জ্বালানি খাতের এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে বেগবান করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাব দেন।

 

এ সময় তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবেন বলে জানান এবং প্রয়োজনে তিনি নিজেও মিয়ানমার সফর করার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে পাইপলাইন স্থাপিত হলে তা সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।

 

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ–মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক করে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

 

সাক্ষাৎকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানিসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎসচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।

পাইপলাইনে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মানিকগঞ্জে স্বাধীনতা প্রকল্পের হাফ-ডে অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

 

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

ডিজিটাল যুগে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মানিকগঞ্জ ‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ফর ডিজিটাল ডেমোক্রেসি’ (স্বাধীনতা) প্রকল্পের আওতায় একটি হাফ-ডে অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

আজ মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট, ২০২৬) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বার্গারগঞ্জ রেস্টুরেন্টে এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

​ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় ঢাকা বিভাগের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’।

​অনুষ্ঠানটির সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের আইটি ও কমিউনিকেশন অফিসার এবং স্বাধীনতা প্রকল্পের ফোকাল মো. নুরে আলম। ফ্যাসিলেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দিশারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য জেসিকা শেখ জেবা ওলতিফা আক্তার পুতুল।

 

​অরিয়েন্টেশনে মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভুল তথ্য (Misinformation), অপতথ্য (Disinformation) ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় করণীয়, অনলাইন হয়রানি ও সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, ফ্যাক্ট-চেকিং কৌশল, ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ​এতে মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সংগঠনের মোট ৩০ জন তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

 

দিশারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাসান শিকদার জানান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা প্রসারের লক্ষ্যেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

 

অংশগ্রহণকারী জহিরুল ইসলাম তুষার বলেন,”

অরিয়েন্টেশনে আমরা তরুণরা ডিজিটাল লিটারেসি ও সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি এবং ভবিষ্যতেও প্রকল্পের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করি।”

মানিকগঞ্জে স্বাধীনতা প্রকল্পের হাফ-ডে অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

নীলফামারীতে হাতকড়া পড়ে মায়ের জানাজায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম:

০৪/আগস্ট/২৬ইং নীলফামারীতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পড়া অবস্থায় মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহিদ মাহমুদ। মঙ্গলবার

(০৪/আগস্ট/২৬ ইং) দুপুর ১২ টার দিকে রংপুর জেলা কারাগার থেকে ৫ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। পরে পুলিশ নিরাপত্তায় দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে নীলফামারী শহরের ডাকবাংলো সার্কিট হাউস ঈদগাহ মাঠে মায়ের জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে তাকে আবার রংপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, মায়ের জানাজায় অংশগ্রহণ করতে তাকে পাঁচ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। শহরজুড়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুটি হত্যা মামলাসহ পাঁচটি মামলার আসামি শাহিদ মাহমুদ।২০২৫ খালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর নগরীর ধাপ লালকুঠির একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নীলফামারীতে হাতকড়া পড়ে মায়ের জানাজায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ 

জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন, গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবি বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে মানিকগঞ্জে গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে খেলাফত মজলিস।

 

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৩ টায় খেলাফত মজলিসের মানিকগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে শহরের শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ প্রাঙ্গণে জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম ফরায়জীর সভাপতিত্বে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়।

 

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, ইসলামী যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট তাওহীদুল ইসলাম তুহিন এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান তানজিল আহমেদ।

বক্তারা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির দুটি নির্বাচনের মধ্যে একটির ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তবে তাদের দাবি, সরকার এখনো গণভোটে প্রদত্ত জনগণের রায় বাস্তবায়ন করেনি। তারা বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে বর্তমান সরকারের পরিণতিও পূর্ববর্তী সরকারের মতো হতে পারে।

 

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তারা রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন, গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবি বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে মানিকগঞ্জে গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে খেলাফত মজলিস

৮ মাস মেয়াদ বাকি থাকতেই এমপির স্ত্রীকে কলেজ সভাপতি নিয়োগ, হাইকোর্টে স্থগিত

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

সাভারের থানা রোডে অবস্থিত মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে সভাপতি নিয়োগের আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

 

 

একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডির (সংশোধিত) সংবিধি ২০১৯-এর ৭ ধারা এবং সভাপতি পরিবর্তনের ওই আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

 

 

সোমবার (৩ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

 

 

রিট আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে দুই বছরের জন্য মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, ওই কমিটির মেয়াদ ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা।

 

 

তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় আট মাস আগেই গত ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত এক আদেশে সভাপতি পরিবর্তন করা হয়। নতুন সভাপতি হিসেবে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

 

 

এ ঘটনায় ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানের পক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও কলেজ পরিদর্শক বরাবর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সভাপতি পরিবর্তনের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। তবে নোটিশের কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন তিনি।

 

 

রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কলেজ পরিদর্শক এবং সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

 

 

রিটে চলমান কমিটির মেয়াদ থাকা অবস্থায় গত ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত সভাপতি পরিবর্তনের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডির (সংশোধিত) সংবিধি ২০১৯-এর ৭ ধারাকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

 

 

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ওই ধারায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে গভর্নিং বডির মনোনয়ন পরিবর্তনের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো কারণ উল্লেখ না করে একজন সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে সভাপতি করার প্রক্রিয়াকে অবৈধ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে যার মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়েছে, তাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ না দেয়াও আইনের লঙ্ঘন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

 

 

এ ছাড়া ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে কোনো কারণ ছাড়াই সভাপতি পদ থেকে বাদ দেয়ায় তার সামাজিক ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টিও রিটে তুলে ধরা হয়।

 

 

শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত সভাপতি পরিবর্তনের আদেশটির কার্যকারিতা স্থগিত করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিধির ৭ ধারা এবং সভাপতি পরিবর্তনের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

 

 

ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানের পক্ষে আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নূর উল মতিন।

৮ মাস মেয়াদ বাকি থাকতেই এমপির স্ত্রীকে কলেজ সভাপতি নিয়োগ, হাইকোর্টে স্থগিত

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিএম) কলেজে এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে সদ্য পরীক্ষা দেওয়া চার শিক্ষার্থীকে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে কলেজের এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে।

 

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। পরীক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, মোট ১০০টি উত্তরপত্রের কোড নম্বর তাঁরা পূরণ করেছেন। তবে বিষয়টিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।

 

রোববার (২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, চারজন শিক্ষার্থী একসঙ্গে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রের কোড নম্বর পূরণ করছেন। এই কাজ করিয়েছেন কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. রিপন হোসাইন, যিনি সম্প্রতি এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন।

 

জানা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের (বিএমটি) পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলা বিষয়ের (বিষয় কোড-২১৮১১) উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছে ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের বাংলা বিভাগের প্রভাষক রিপনের কাছে। গত ৪ জুলাই স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, পরীক্ষক কোড-১৪০৫-এর আওতায় তাঁর কাছে মোট ৩৫০টি উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে এসব উত্তরপত্র জমা দিতে হবে।

 

অভিযোগ ছিল, তিনি নিজে মূল্যায়ন না করিয়ে এ কাজে ব্যবহার করেন চার শিক্ষার্থী— আনিম, সিফাত, ইভান ও তানভিরকে। এদের মধ্যে আনিম, সিফাত ও ইভান এ বছর ওই কলেজ থেকেই দ্বাদশ শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন। আর তানভির ছিলেন হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে কেজ্যুয়াল (অনিয়মিত) পরীক্ষার্থী।

 

পরীক্ষার্থী সিফাত জানান, কলেজের শিক্ষক রিপন স্যার তাঁদের এসব খাতায় কোড নম্বর পূরণের কাজ করতে বলেছেন।

 

আরেক পরীক্ষার্থী আনিম বলেন, তাঁরা কলেজের কাছেই ছিলেন, স্যার ডেকে নিয়ে খাতার কোড পূরণ করতে বলেছেন এবং তাঁরা সেটাই করেছেন। তবে পরীক্ষার্থী হয়ে একই বোর্ডের উত্তরপত্র মূল্যায়নে অংশ নেওয়া নিয়মসম্মত কি না, এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁরা শুধু কোড ভরাট করেছেন, প্রকৃত মূল্যায়ন করেননি।

 

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে প্রভাষক মো. রিপন হোসাইনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার কলেজের অফিস কক্ষে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি, ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

রাঙ্গাবালী উপজেলা শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার অনাধি কুমার বাহাদুর বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীকে কিছু ক্ষেত্রে কোড নম্বর পূরণ করতে হয়, সম্ভবত সে কাজেই শিক্ষার্থীদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে বলা সম্ভব হবে।

 

তবে বিষয়টিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ এনপিবি নিউজকে বলেন, যাকে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, শুধু তিনিই তা করতে পারবেন অন্য কোনো শিক্ষকও তা মূল্যায়ন করতে পারবেন না। নির্ধারিত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কেউ মূল্যায়ন করেছেন এমন প্রমাণ বা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আর শিক্ষার্থীদের দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করানোর প্রশ্নই ওঠে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন এই কর্মকর্তা।

সদ্য পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে হত্যা মামলায় আবু বকর ছিদ্দিক নামে এক জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি তিনি।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে আবু বকর ছিদ্দিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। এতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন ও একই ইউনিয়নের চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।

 

আদালত সূত্র জানায়, সালেহা বেগম নামে এক বৃদ্ধা নারীকে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আবু বকর চার্জশিটভুক্ত আসামি। ওই নারীকে গোপনে বিয়ে করেন তিনি। পরে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। জমি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে মো. সেলিম নামে ভাসমান এক ব্যক্তিকে দিয়ে তিনি ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে সালেহাকে হত্যা করান।

 

চার্জশিট ও থানা পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে নুনু সর্দারের পরিত্যক্ত ভিটায় সাহেলা বেগমের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতদের নামে মামলা করেন। কমলনগর থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়। সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

 

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সেলিম স্বীকার করেন, সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে তিনি গলা টিপে অচেতন করেন। পরে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে সালেহার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

 

চার্জশিটে উল্লেখিত সেলিমের জবানবন্দি অনুযায়ী, সালেহার সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ে হয়। জমি কেনার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে আবু বকর ৩০ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু জমি কিনে না দিয়ে উল্টো আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আবু বকর ছিদ্দিক ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সালেহাকে হত্যার জন্য সেলিমকে ভাড়া করে।

 

সেলিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে থানা পুলিশ সেলিম এবং আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। আসামি সেলিম কারাগারে থাকলেও আবু বকর পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য কোনো গণমাধ্যম প্রচার করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্য কেবল আস্ফালন, বাস্তবে তা করার সক্ষমতা তার নেই। একই সঙ্গে সরকার যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ভারতসহ সব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে চলছে এবং এ বিষয়ে কোনো ভূরাজনৈতিক সমস্যায় নেই।

 

এ সময় খাদ্য ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। বলেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে।

 

বিদ্যুৎতের অতিরিক্ত বিল প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো গ্রাহক অস্বাভাবিক বিল পেলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানাতে পারেন।’

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকাল ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এ আয়োজন শুরু হবে।

 

বিএনপির মিডিয়া সেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ফেনী সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে নাইজেরিয়ান নাগরিক আটক

 

ফেনী প্রতিনিধি:

 

ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টাকালে এক নাইজেরিয়ান নাগরিককে আটক করেছে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)।

সোমবার (৩ আগস্ট) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরশুরাম উপজেলার নিজকালিকাপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ওই বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আটক ব্যক্তির নাম অস্টিন (৩৯)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশে আসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ হয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি প্রথমে ঢাকায় আসেন। পরে সেখান থেকে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার নিজকালিকাপুর সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান।

বিজিবি জানায়, আটক নাইজেরিয়ান নাগরিককে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরশুরাম থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা এবং মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

ফেনী সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে নাইজেরিয়ান নাগরিক আটক

মানিকগঞ্জে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ পিতা আটক

 

মোঃ আতিকুর রহমান আশিক মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ১১ বছরের এক শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে তার সৎ পিতাকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন তিনি। এতদিন হুমকির মুখে ঘটনাটি কাউকে জানাতে পারেনি শিশুটি।

 

আজ সোমবার মায়ের কাছে বিষয়টি প্রকাশ পেলে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার বানিয়াজুরী এলাকায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও স্ত্রীর আগের ঘরের ১১ বছরের মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন জুলহাস নামের এক মিলশ্রমিক।

 

অভিযোগ, গত রোববার সকালে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এর আগেও পাঁচ থেকে ছয়বার একইভাবে তাকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে শিশুটি জানিয়েছে। অভিযুক্তের হুমকির কারণে এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিল সে। সোমবার সকালে শিশুটি কান্নাকাটি করে মায়ের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে মা তার মেয়েকে নিয়ে স্থানীয় বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টুর কাছে যান। চেয়ারম্যান বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ঘিওর থানায় জানান।

 

বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু বলেন, ভুক্তভোগী শিশু ও তার মা পরিষদে এসে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়। শিশুটির মা বলেন, তাঁর স্বামী যে এমন জঘন্য কাজ করতে পারেন, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। ভয় দেখানোর কারণে মেয়েটি এতদিন কাউকে কিছু বলতে পারেনি। তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

 

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত জুলহাসকে আটক করেছে। ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জে ১১ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ণের অভিযোগে সৎ পিতা আটক 

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d