মালয়েশিয়ার পেনাং-এ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য চিত্তবিনোদন ও মিলনমেলা ২০২৬ ।
মো:নুরুল ইসলাম সুজন মালয়েশিয়া।।
বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর এবং মালয়েশিয়া সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান পারকেসো (PERKESO)-এর যৌথ উদ্যোগে
২৫ এপ্রিল ২০২৬ পেনাংয়ের পারকেসো ভবনে উৎসবমুখর পরিবেশে “মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের চিত্তবিনোদন ও মিলনমেলা ২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার জনাব মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পারকেসো (PERKESO)-এর ফরেন ওয়ার্কার্স ডিভিশনের প্রধান মিস্টার হারিরি হারুন এবং ডাইরেক্টর মিসেস পুয়ান রাফিদাহ বিনতি আব্দুল রহিম। এছাড়াও পারকেসোর অন্যান্য কর্মকর্তা, বিভিন্ন কোম্পানি ও রেমিট্যান্স হাউসের প্রতিনিধিবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং মালয়েশিয়ায় কর্মরত শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরবর্তীতে পারকেসো কর্তৃক প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়। এসময় পারকেসোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশী কর্মীসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিগণের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্যে হাইকমিশনার জনাব মনজুরুল করিম খান চৌধুরী প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের “রেমিট্যান্স যোদ্ধা” হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশের অর্থনীতিতে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন এবং তাঁদের কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষায় নব নির্বাচিত সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি মালয়েশীয় সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর প্রশংসা করেন এবং এসকল সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে প্রবাসী শ্রমিকদের মালয়েশিয়ার আইন ও অন্যান্য নিয়মকানুন মেনে চলার নির্দেশনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার, মিনিস্টার (শ্রম), পারকেসোর প্রতিনিধি, বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রতিনিধি, সিবিএল রেমিট্যান্স হাউসের প্রধান নির্বাহী, নিয়োগকর্তাদের (এমপ্লয়ার) প্রতিনিধি ও বাংলাদেশী কর্মীদের একজন প্রতিনিধি।
বক্তারা প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ, অধিকার সুরক্ষা এবং কর্মীদের নিরাপদ কর্ম পরিবেশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তাঁরা কর্মীদের মালয়েশিয়ার আইন মেনে চলা, মালয়েশীয় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিষ্ঠার সাথে কাজ করার পাশাপাশি বৈধ পথে রেমিটেন্স প্রেরণের জন্য পরামর্শ প্রদান করেন।
এ সময় প্রবাসী কর্মীদের জন্য নির্মিত একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যেখানে প্রবাসী শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলের জন্য মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হয়।
Leave a Reply