অভিমানে দৌড়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন স্ত্রী, পেছনে ছুটলেন স্বামী - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
অভিমানে দৌড়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন স্ত্রী, পেছনে ছুটলেন স্বামী

অভিমানে দৌড়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন স্ত্রী, পেছনে ছুটলেন স্বামী

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে নিলুফা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। এসময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন স্বামী আরব আলী (৫০)। স্বামী আরব আলীকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।নিহত গৃহবধূ নিলুফা বেগম ও আহত স্বামী আরব আলী পৌরসভার ছোলনা গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার (৬ মে) দুপুরে পৌরসভার ছোলনা-কুশাডাঙ্গা রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে রেললাইনের পাশ দিয়ে দৌঁড়াচ্ছিলেন নিলুফা বেগম। কুশাডাঙ্গা রেলগেট সংলগ্ন আজিজারের দোকানের সামনে এলে গোপালগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েন নিলুফা বেগম। মাথায় আঘাত পেয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর আহত হন তিনি।

 

এদিকে পিছনে চিৎকার করতে করতে ছুটে আসা স্বামী আরব আলী স্ত্রী নিলুফা বেগমকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তিনিও গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত নিলুফা বেগম ও আরব আলীকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে চিকিৎসক নিলুফা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আরব আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সিঞ্চন সাহা জানান, গৃহবধূ নিলুফা বেগমকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার হাত, মাথাসহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে কেটে ও থেঁতলে গিয়ে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরব আলী।বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ বিষয়ে রাজবাড়ী রেলওয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। তারা এসে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের বাবার অভিযোগ, টাকার জন্য মেয়েকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন।মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে নগরীর দেশওয়ালিপট্টি এলাকার কাসেম গার্ডেন ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে জান্নাতুন নাঈম ফারিহা (২৩) নামের ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্ল্যাটে স্বামী ও শ্বশুরের সঙ্গে থাকতেন তিনি।

 

 

ফারিহা সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের (১২তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কানগাঁও এলাকায়; বাবার নাম মো. হানিফ মিয়া।

 

জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে দেশওয়ালিপট্টি এলাকার মেহেদী হাসানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিকভাবে ফারিহার বিয়ে হয়।

 

শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, মঙ্গলবার বিকেলে ফারিহা ঘুমানোর কথা বলে নিজের কক্ষে দরজা বন্ধ করে দেন। রাত ৮টার দিকে দরজায় কড়া নাড়লেও সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রেম করে বিয়ে, শ্বশুরবাড়িতে মিলল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ

বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকায় জিন তাড়ানোর কথা বলে এক দাখিল পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাকিম রেজাউল করিম (৪০) নামে এক ভণ্ড কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

অভিযুক্ত রেজাউল করিম নামাজগড় এলাকায় ‘আশ-সিফা দাওয়া খানা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে কবিরাজি ও ঝাড়ফুঁকের আড়ালে অপচিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে।

 

ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার জানায়, তাদের মেয়ে রাজশাহীর একটি কওমি মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী। দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা উপশমের জন্য গত রোববার (৩ মে) পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে মেয়েকে রেজাউলের দাওয়াখানায় নিয়ে যান তার বাবা।

 

সেখানে যাওয়ার পর অভিযুক্ত রেজাউল দাবি করেন, কিশোরীর ওপর ‘জিনের আসর’ রয়েছে। ঝাড়ফুঁকের নামে চিকিৎসার অজুহাতে তিনি কিশোরীকে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন এবং পরিবারের সদস্যদের বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। সেখানেই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, একই দিন বিকেলে আরও চিকিৎসার কথা বলে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পুনরায় আসতে বলা হয়। পরিবারের সদস্যরা টাকা নিয়ে গেলে আবারও একই কায়দায় কিশোরীকে ধর্ষণ করেন ওই কবিরাজ। পরে ভুক্তভোগী কিশোরী কাঁদতে কাঁদতে পরিবারের কাছে সব প্রকাশ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

 

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ সক্রিয় হয় এবং দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

 

ওসি আরও জানান, ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

 

ভণ্ডামির আড়ালে এমন পাশবিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

 

 

জিন তাড়ানোর নামে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণ

মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

অর্থের অভাবে যখন অনেকেই আদালতের দোরগোড়ায় পৌছাতে পারেন না, তখন নীরবে তাদের পাশে দাড়াচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের লিগ্যাল এইড সেবা। যাদের কাছে বিচার একসময় ছিল স্বপ্নের মতো দূর, আজ তাদেরই চোখে এখন নতুন আশার আলো ন্যায়বিচারের স্বপ্ন।

 

জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থিত লিগ্যাল এইড অফিসে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা সমস্যায় জর্জরিত মানুষ। পারিবারিক কলহ, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, প্রতারণা কিংবা দেনা-পাওনার জটিলতা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুজতে এখানে আসছেন তারা। অর্থাভাবে আদালতে মামলা পরিচালনার সামর্থ্য না থাকলেও লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পেয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। সরকারি এই সেবার আওতায় আইনজীবী নিয়োগ থেকে শুরু করে মামলা পরিচালনার যাবতীয় ব্যয় বহন করা হচ্ছে।ফলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষও এখন নির্ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতে পারছেন, যা বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

 

লিগ্যাল এইড অফিস থেকে মূলত তিন ধরনের সেবা প্রদান করা হয়, বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ, আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি। এর মধ্যে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই পদ্ধতিতে আদালতের বাইরে বসেই দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। যা সময় ও খরচ উভয়ই কমায় এবং সম্পর্ক বজায় রাখতেও সহায়ক।

 

কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইড অফিসে মোট ৮১৪টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৭১৪টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এই সময়ে উপকারভোগীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৩৬ জনে। মামলা দায়ের করা হয়েছে ২২৫টি। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আপসের ফলে ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। এছাড়া ৭০৩ জন ব্যক্তি বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। একই সময়ে আদালতে বিচারাধীন ১৯১টি মামলা আপসের মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ৮টি ক্ষেত্রে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌছে দিতে জেলার ৫টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের আইনি সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভা ও মতবিনিময় সভা করেছেন লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ মজনু মিয়া।

 

উপকারভোগী আব্দুল করিম বলেন, আমি গরিব মানুষ। ভ্যান চালিয়ে যা আয় করি, তা দিয়েই কোনোমতে সংসার চলে। কোর্ট-কাচারি, মামলা-মোকদ্দমা এসব আমার মতো মানুষের কাছে সবসময়ই ভয় আর দুশ্চিন্তার বিষয় ছিল। আমি কখনো ভাবিনি একজন সাধারণ মানুষও আইনের কাছে দাড়িয়ে ন্যায়বিচার পেতে পারে। লিগ্যাল এইড আমাকে সাহস দিয়েছে, আমার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। আজ আমি শুধু জমিই ফিরে পাইনি, আইনের ওপরও আমার বিশ্বাস ফিরে পেয়েছি।

 

সদর উপজেলার এক নারী ভুক্তভোগী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। পরে লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগ করলে তারা আমাকে আইনি সহায়তা দেয়। এখন আমি ন্যায়বিচারের আশায় আছি।

 

পীরগঞ্জ উপজেলার মালেক বলেন, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মামলা করার সামর্থ্য ছিল না। লিগ্যাল এইডে যাওয়ার পর তারা বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছে। এখন আমি স্বস্তিতে আছি।

 

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রাফিদ, শিমুল, শাজারিয়ার ও জান্নাতি বলেন, আগে আমরা ভাবতাম আইন আর আদালত শুধু বড়লোক বা প্রভাবশালী মানুষের জন্য। কিন্তু লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম দেখে এখন বুঝতে পারছি, সাধারণ মানুষও আইনের কাছে গিয়ে ন্যায়বিচার পেতে পারে। স্কুলে ও বিভিন্ন সভায় এসব বিষয় জানার পর আমাদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস তৈরি হচ্ছে।

 

লিগ্যাল এইড আইনজীবী ললিত কুমার রায় বলেন, লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের মাধ্যমে এখন অনেক দরিদ্র ও অসহায় মানুষ বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাচ্ছেন, যা তাদের জন্য ন্যায়বিচারের পথকে সহজ করেছে। বিশেষ করে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার সমাধান সম্ভব হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন আদালতের ওপর চাপ কমছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ কম খরচে ও কম সময়ে ন্যায়বিচার পাচ্ছেন।

 

এ বিষয়ে লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মজনু মিয়া বলেন, আমরা মূলত দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তার আওতায় আনতে কাজ করছি। কেউ মামলায় জড়িয়ে পড়লে এবং আর্থিকভাবে মামলা পরিচালনায় অক্ষম হলে সরকারিভাবে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে মামলা পরিচালনা করা হয়। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক সমস্যা যেমন দেনমোহর ও ভরণপোষণ এবং আপসযোগ্য ফৌজদারি মামলাগুলো আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসে মীমাংসা করি। এতে দ্রুত সমাধান পাওয়া যায় এবং মানুষও উপকৃত হন।

 

সাফল্যের পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমাদের যাতায়াতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো যানবাহন নেই। পাশাপাশি জনবল সংকট রয়েছে। এরপরও আমরা সরেজমিনে গিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করছি। যদি জনবল ও পরিবহন সংকট দূর করা যায়, তাহলে আমরা আরও বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌছে দিতে পারব।

ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইডে ৭১৪ আবেদন নিষ্পত্তি, আপসে আদায় ৪৪ লাখ টাকা

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

আসন্ন আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী মোঃ রিয়াজউদ্দিন ফালানকে পূর্ণ মেয়াদে পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় অত্র ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় হাজী মোঃ রিয়াজউদ্দিন ফালান এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তার বিনয়ী আচরণ এবং সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর গুণটি তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে এসেছে।

 

ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রিয়াজউদ্দিন ফালান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনেও তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছেন।

 

এলাকার সাধারণ জনগণের দাবি, এলাকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়ন গড়তে হাজী মোঃ রিয়াজউদ্দিন ফালানের কোনো বিকল্প নেই। যোগ্য ও কর্মঠ নেতা হিসেবে তাকেই পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদের অভিভাবক হিসেবে দেখতে চান তারা।

 

নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সাধারণ মানুষের এই দাবি এখন সর্বত্র আলোচনায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন আসন্ন নির্বাচনে রিয়াজউদ্দিন ফালানের জন্য বড় শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়াবে।

আসন্ন আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে রিয়াজউদ্দিন ফালানকে চায় অত্র ইউনিয়নের জনগণ।

  • মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে মাদকবিরোধী অভিযানে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্যোগে সোমবার (০৪ মে ২০২৬) পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ এক আসামীকে আটক করা হয়।

 

অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ী মুন্সিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সফিকুল ডাক্তার-এর পুত্র। এ সময় তার কাছ থেকে নিষিদ্ধ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট ৫ (পাঁচ) পিস উদ্ধার করা হয়, যা একটি নিয়ন্ত্রিত মাদক হিসেবে পরিচিত।

 

ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব রুহুল আমীন। প্রসিকিউশনে দায়িত্ব পালন করেন উপ-পরিদর্শক মোঃ শাকিলার রহমান। এছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোঃ হারুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ০৭ (সাত) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ (দুইশত) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।

 

স্থানীয় সচেতন মহল এই অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১, মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড

সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে বাস ও অটোরিকশা সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে মহাসড়কের জালালপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

 

ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও বাকিদের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ থেকে যাত্রীবাহী একটি সিএনজি সিলেটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা রিফাত পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে জালালপুর এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি বাসের নিচে চাপা পড়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।বিভাগীয় ভ্রমণ গাইড

 

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা যান। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

 

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে।

সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে প্রাণ গেল ৬ জনের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

 

পরশুরামে চাঞ্চল্যকর মোড়: ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম, অভিযুক্ত আপন ভাই

 

ফেনী প্রতিনিধি:

 

 

একটি অভিযোগই যথেষ্ট ছিল এক নিরপরাধ ইমামের জীবন তছনছ করে দিতে শান্ত এক গ্রাম, যেখানে ভোরের আজানের সুরে দিন শুরু হতো, সেখানেই নেমে আসে হঠাৎ অন্ধকার মুহূর্তে বদলে যায় সবকিছু মানবতা হয়ে পড়ে নীরব সত্য চাপা পড়ে মিথ্যার ভারে।

আমি নির্দোষ বারবার বলা সেই কণ্ঠ হারিয়ে যায় অবিশ্বাসের ভিড়ে কেউ শোনেনি, কেউ যাচাই করেনি। অপবাদ আর লাঞ্ছনার ভারে তাকে যেতে হয় কারাগারের অন্ধকারে।

কিন্তু সত্য থেমে থাকে না। সময়ের সাথে উন্মোচিত হয় এমন এক বাস্তবতা, যা শুধু চমকে দেয় না পুরো ঘটনাকে নতুনভাবে নাড়িয়ে দেয় ভিতর থেকে।

 

ঘটনাটি ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নে এক কিশোরী ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা থেকে অবশেষে অব্যাহতি পেয়েছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)।

 

ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষায় ওই কিশোরীর সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। উল্টো ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে আসল অপরাধী, যিনি খোদ ভুক্তভোগীর নিজের বড় ভাই মোরশেদ (২২)। নিজের অপরাধ আড়াল করতে এবং ভাইকে বাঁচাতে ভুক্তভোগীর পরিবার সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মসজিদের নির্দোষ ইমামের ওপর এই অপবাদ চাপিয়েছিল। এই মিথ্যা অপবাদের জেরে মোজাফফরকে ১ মাস ২ দিন বিনাদোষে কারাবাস করতে হয়েছে, হারিয়েছেন সামাজিক মর্যাদা এবং চাকরি। শেষ পর্যন্ত মামলার খরচ চালাতে গিয়ে নিজের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে তিনি এখন প্রায় নিঃস্ব।

 

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করে ওই ভুক্তভোগী কিশোরী। মক্তব ছাড়ার পাঁচ বছর পর সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে একটি কন্যাসন্তান প্রসব করে। এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ভুক্তভোগীর পরিবার তার মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। সে সময় মোজাফফর বারবার নিজের নির্দোষিতার দাবি জানালেও কেউ তার কথা শোনেনি। উল্টো ২৬ নভেম্বর ফেনী কর্মরত প্রাঙ্গণ থেকে স্থানীয় মাতব্বর ও ভুক্তভোগীর মা তাকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরপর দীর্ঘ এক মাস দুই দিন কারাভোগের পর ২৮ ডিসেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হন। আইনি লড়াইয়ের খরচ জোগাতে ৫ শতক মূল্যবান জমিও বিক্রি করতে হয় তাকে। পাশাপাশি সামাজিকভাবেও চরম লাঞ্ছনার শিকার হন তিনি।

 

মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর মোজাফফরের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি না পাওয়ায় ল্যাব থেকে ভুক্তভোগী ও তার সন্তানের সরাসরি ডিএনএ নমুনা চাওয়া হয়। এই সময় পুলিশ গভীরভাবে বিষয়টি তদন্ত করতে শুরু করে এবং ভুক্তভোগী কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

 

একপর্যায়ে ভুক্তভোগী স্বীকার করে যে, তার নিজের সহোদর ভাই মোরশেদ তাকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিল। আসল ঘটনা ধামাচাপা দিতেই তার পরিবার ইমাম মোজাফফরকে এই মামলায় ফাঁসায়। এরপর ২০২৫ সালের ১৯ মে পুলিশ অভিযুক্ত বড় ভাই মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন ২০ মে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

 

পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে ভুক্তভোগী, তার সন্তান এবং বড় ভাই মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবে নমুনা পাঠানো হয়।

 

গত বছরের ৯ আগস্ট প্রাপ্ত ডিএনএ রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয় যে, নবজাতকের পিতৃপরিচয়ের সঙ্গে মোরশেদের ডিএনএ-র ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত সত্যতা পাওয়ার পর গত ১৭ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) শরীফ হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে নিরপরাধ মোজাফফর আহমদকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং আপন বোনকে ধর্ষণের দায়ে মোরশেদকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আসামি মোরশেদ বর্তমানে ফেনী জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছে।

 

অব্যাহতি সংক্রান্ত আদালতের নথি হাতে পাওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ইমাম মোজাফফর আহমদ বলেন, “অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। তবে এই মিথ্যা অপবাদের কারণে আমি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি, হারিয়েছি বসতভিটার জায়গা। আমি এই মানসিক হয়রানি, সামাজিক মর্যাদাহানি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির সুষ্ঠু ক্ষতিপূরণ চাই।”

 

তার আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বিষয়টিকে একটি বিরল ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একজন নির্দোষ মানুষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, যা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নস্যাৎ হয়েছে। স্থানীয় আলেম সমাজের প্রতিনিধি মুফতি আমিনুল ইসলামও এই ভুক্তভোগী ইমামের পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলাটি তদন্ত করেছে। ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই চার্জশিট থেকে মোজাফফরের নাম প্রত্যাহার করে মূল অপরাধীকে শনাক্ত করা হয়েছে। সমাজকে কলুষিত করার মতো এমন মিথ্যা অপবাদের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি অবস্থান বজায় রাখবে পুলিশ।

ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম, অভিযুক্ত আপন ভাই

কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের বাবার অভিযোগ, টাকার জন্য মেয়েকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন।মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে নগরীর দেশওয়ালিপট্টি এলাকার কাসেম গার্ডেন ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে জান্নাতুন নাঈম ফারিহা (২৩) নামের ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্ল্যাটে স্বামী ও শ্বশুরের সঙ্গে থাকতেন তিনি।

 

 

ফারিহা সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের (১২তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কানগাঁও এলাকায়; বাবার নাম মো. হানিফ মিয়া।

 

জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে দেশওয়ালিপট্টি এলাকার মেহেদী হাসানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিকভাবে ফারিহার বিয়ে হয়।

 

শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, মঙ্গলবার বিকেলে ফারিহা ঘুমানোর কথা বলে নিজের কক্ষে দরজা বন্ধ করে দেন। রাত ৮টার দিকে দরজায় কড়া নাড়লেও সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রেম করে বিয়ে, শ্বশুরবাড়িতে মিলল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে নিলুফা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। এসময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন স্বামী আরব আলী (৫০)। স্বামী আরব আলীকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।নিহত গৃহবধূ নিলুফা বেগম ও আহত স্বামী আরব আলী পৌরসভার ছোলনা গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার (৬ মে) দুপুরে পৌরসভার ছোলনা-কুশাডাঙ্গা রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে রেললাইনের পাশ দিয়ে দৌঁড়াচ্ছিলেন নিলুফা বেগম। কুশাডাঙ্গা রেলগেট সংলগ্ন আজিজারের দোকানের সামনে এলে গোপালগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েন নিলুফা বেগম। মাথায় আঘাত পেয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর আহত হন তিনি।

 

এদিকে পিছনে চিৎকার করতে করতে ছুটে আসা স্বামী আরব আলী স্ত্রী নিলুফা বেগমকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তিনিও গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত নিলুফা বেগম ও আরব আলীকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে চিকিৎসক নিলুফা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আরব আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সিঞ্চন সাহা জানান, গৃহবধূ নিলুফা বেগমকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার হাত, মাথাসহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে কেটে ও থেঁতলে গিয়ে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরব আলী।বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ বিষয়ে রাজবাড়ী রেলওয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। তারা এসে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অভিমানে দৌড়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন স্ত্রী, পেছনে ছুটলেন স্বামী

দেশের জিডিপির পাঁচ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তন ও মানোন্নয়নে মোট জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করতে সরকার প্রস্তুত।

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

 

এহছানুল হক মিলন বলেন, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ কখনোই দেড় শতাংশের বেশি যায়নি, দক্ষ মানবপুঁজি তৈরি করতেই শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

 

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা নিশ্চিতের সঙ্গে সঙ্গেও দক্ষতাও বৃদ্ধি প্রয়োজন। ডিজিটাল ক্লাসরুমের ব্যাপারে বিগত সরকার ব্যর্থ ছিল, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব ছিল। এ সরকার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল ক্লাসরুম করার দিকে এগোচ্ছে।

 

একই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. মাহদী আমিন। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষার গুণগত মান ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

মাহদী আমিন বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা ও সম্মান এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে দেশের মেধাবী তরুণরা এই পেশাকে তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেয়।

জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলামের আদালতে এ আবেদন করেন নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা।

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শরীফ উদ্দিন জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশ পরে দেবে বলে জানিয়েছে।

 

আরও যাদের আসামি করার আবেদন করা হয়েছে, তারা হলেন— ইউনূস সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জুবায়ের, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, এয়ার ভাইস মার্শাল মোরশেদ মোহাম্মদ খায়ের উল আফসার, গ্রুপ ক্যাপ্টেন রিফাত আক্তার জিকু, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিংবডির উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরনবী, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম, প্রিন্সিপাল (প্রশাসন) মাসুদ আলম, স্কুল শাখার প্রিন্সিপাল রিফাত নবী, রাজউক চেয়ারম্যান, রাজউকের ফিল্ড সুপার ভাইজার (উত্তরা)।

 

গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের মুখে বিধ্বস্ত হয়। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই বিমান দুর্ঘটনায় ৩৬ জনের মৃত্যু হয়, যাদের বেশির ভাগই শিশু।

 

মাইলস্টোনের দুর্ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি গত ৫ নভেম্বর তখনকার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে বলা হয়, প্রশিক্ষণার্থী পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটির কারণে বিমান বিধ্বস্ত ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল।

 

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান বীর উত্তম এ কে খন্দকার বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন কলেজের ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। এতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং ৩৬ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৮ জনই শিক্ষার্থী। বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নিহত হন।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি ড. ইউনূস ও আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ধর্ষণে ১১ বছরের শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) শুনানি শেষে নেত্রকোনা অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করে মদন থানা পুলিশ।

 

মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১৪ এর একটি দল।

 

স্থানীয় বাসিন্দা, এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে সেখানে লেখাপড়া করত। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।

 

সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ বোধ করছিল। তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। পরে তার মা সিলেট থেকে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল শিশুটিকে মদন উপজেলা শহরে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।

 

পরে ২৩ এপ্রিল এ ঘটনায় ওই শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর থেকে আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরকে গ্রেপ্তারের অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

গ্রেপ্তার এড়াতে বার বার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন অভিযুক্ত আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর। তবে, তাকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ধর্ষণে শিশু অন্তঃসত্ত্বা : অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ৩ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবার বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু। আগামী ১৪ মে তাদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

 

এদিন ট্রাইব্যুনালে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যুর আবেদন করে প্রসিকিউশন।

 

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন দীপু মনি। ওই দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একদল উশৃঙ্খল মানুষকে নির্মূল করেছেন বলে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করেন তিনি। এছাড়া শুরু থেকেই হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে উসকানিমূলক হিসেবে একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করেন সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

 

শুনানি শেষে তাদের হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৪ মে দিন ধার্য করা হয়।

 

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

 

এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয় আসামি। তারা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

 

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের মামলাবিচারের মুখোমুখি সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, ফারজানা রুপা

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডিএমপি’র সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে)।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার ৪ নেতা। বাকিরা পলাতক। এ মামলায় গত ২৬ এপ্রিল প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে ৩টি অভিযোগ এনে ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই কখন কোথায় কী ঘটেছে, এসবের বর্ণনা দেন রাষ্ট্রপক্ষ।

 

এ সময় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাপসের ফোনালাপের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে অন্য আসামিদের উপস্থিতি ভিডিও ফুটেজে উঠে এসেছে বলেও ট্রাইব্যুনালকে জানায় প্রসিকিউশন।

 

 

মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যা নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

বিশ্ববাজারে টানা দুইদিন কমার পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) আবারও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। খবর দ্য ওয়াশিংটন পোষ্টের।

 

বুধবার (৬ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি একটি প্রস্তাবিত চুক্তি মেনে নেয়, তাহলে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই ঘোষণা প্রকাশের পর থেকেই তেলের দাম কমতে শুরু করে। বুধবার এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড ওয়েলের দাম ১০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলারে নেমে আসে। অপরদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ১২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ ডলারে নেমে আসে।

 

তবে, ট্রাম্প ইরানকে চুক্তি গ্রহণ না করলে আরও বেশি মাত্রার বোমা হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ার পর থেকে আবারও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

 

এর আগে, গত ২৯ এপ্রিল ব্রেন্ট ক্রুড ওয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২২ ডলারে পৌঁছে যায়, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ ছিলো।

 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

বিশ্ববাজারে টানা দুইদিন কমার পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) আবারও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে

চাকরির ভাইভা দিতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন যুবক, মিলল রক্তাক্ত মরদেহ

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d