যশোরে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
যশোরে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

যশোরে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

যশোরের নওয়াপাড়ায় আনিছুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে ওই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সিসি ক্যামেরার ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী নাহিদা ইসলাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও দু-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

 

 

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের শাহ মো. জুনায়েদের ছেলে শাহ মো. মাহমুদ (৩৮) এবং একই গ্রামের মৃত নিছার আলীর ছেলে নাসির (৩২)।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুয়াখোলা গ্রামে পীরবাড়ী মসজিদের সামনে আনিছুর রহমান তার নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের (আনিছ ট্রেড ভ্যালি) ম্যানেজার রেজাউল ইসলামের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় শাহ মো. মাহমুদ তার সহযোগী নাসিরসহ অজ্ঞাতপরিচয় দু-তিনজন অস্ত্রধারী পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে শাহ মাহমুদ গালিগালাজ করে তার কাছে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আনিছুর রহমানের মুখের বাম পাশে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়।

 

পরে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে আনিছুর রহমানের মৃত্যু হয়।

 

এদিকে আনিছুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করার ৪৬ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে শাহ মো. মাহমুদ নামে ওই যুবক তার কোমরে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুরকে কোপাতে শুরু করে।মামলার বাদী নাহিদা ইসলাম জানান, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

 

ব্যবসায়ী নেতা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার নওয়াপাড়ার সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। আসামিদের গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বন্দরনগরী নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারলে ব্যবসায়ীরা কঠোর কর্মসূচি দেবে।’

 

এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, ‘নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’

 

নিহত আনিছুর রহমান সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের তুলসীডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি ব্যবসায়িক কারণে অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। তিনি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ও নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা ছিলেন।


ভূল্লীতে ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ

 

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী থানা পুলিশের অভিযানে ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (০৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভূল্লী থানার একটি দল ১৫নং দেবীপুর ইউনিয়নের খোশবাজার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ১নং আসামি মোঃ গোলাম মোস্তফা গোলা (২৬), পিতা-মৃত ফজলুল করিম (মিস্টার), ২নং আসামি মোঃ জাকির হোসেন (৩৫), পিতা-মৃত নূর মোহাম্মদ এবং ৩নং আসামি মোঃ আব্দুল মজিদ (২০), পিতা-মোঃ শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সকলের বাড়ি খোশবাজার এলাকায়।

 

অভিযানকালে পুলিশ ১নং আসামির নিজ বসতবাড়িতে মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সময় তাদের আটক করে। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে গোলাম মোস্তফা গোলার হেফাজত থেকে ০৫ পিস ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট এবং জাকির হোসেনের কাছ থেকে ২৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৩নং আসামি আব্দুল মজিদ মাদক ক্রয়ের উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিল বলে পুলিশ জানায়।

 

উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতারকৃতদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে ভূল্লী থানা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

ভূল্লীতে ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মারা গেছে তিন কিশোর। শুক্রবার (৮ মে) উপজেলার তিল্লি বিলপাড়া ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

নিহতরা হলো, উপজেলার তিল্লী গ্রামের আলম, সোনা মিয়া ও কালু মিয়া। প্রত্যেকের বয়স ১৫ থেকে ১৬ বছর।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি কংক্রিটবোঝাই ট্রাক দড়গ্রাম এলাকা থেকে মানিকগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলো। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী ছিল তিন কিশোর।

 

সংঘর্ষে মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা আলম ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুই আরোহী কালু ও সোনা মিয়াকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তারা।

 

দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান ওসি মোশারফ হোসেন।

মানিকগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩ কিশোর

আজ ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম আবির্ভাব দিবস। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষের অন্যতম এই নায়কের। তিনি অনন্য সব সৃষ্টি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প ও অসংখ্য গানের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের কাছে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন আট বছর বয়সে। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকি শুরু করেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘসময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে সপরিবারে চলে আসেন বীরভূমের বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ এবং অন্যান্য গদ্য সংকলন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ নোবেল বিজয়ী এই সহিত্য প্রতিভাকে স্মরণ করবে তার অগণিত ভক্ত।

 

বিটিভিতে সকাল ৯টায় থাকছে বিশেষ শিশুতোষ অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান ‘গীতবিতান’। সন্ধ্যা ৬টায় থাকছে বিশেষ কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান। রাত ৯টায় থাকছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘সম্পত্তি সমর্পণ’। রাত ১০টায় সংবাদের পর প্রচারিত হবে বিশেষ রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কবির বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রিয় ৯টি গান পরিবেশন করবেন একঝাঁক রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। রাত ১১টায় প্রচারিত হবে ‘চিত্রাঙ্গদা’।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজগৎ ছিল নানা বর্ণ, মানসিকতা ও চেতনায় ভরপুর। তাইতো, নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি চারুলতা, সামাজিক বেড়াজাল ভেঙে আত্মসচেতন হয়ে ওঠা বিনোদিনী কিংবা গোরা উপন্যাসের স্বদেশপ্রেম ও জাতিসত্তার পরিচয়ে জর্জরিত পুরুষের মধ্যে আজও পাঠক খুঁজে ফেরে নিজেদের। বাংলার মাটিতে যেমন তাঁর কদর, তেমনি বিশ্ব দরবারেও সমানভাবে ছড়িয়ে আছে তার দীপ্তি। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে নবজাগরণের এই পুরোধাকে ভূষিত করা হয় নোবেল পুরস্কারে। দিনটি উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানা আয়োজন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী আজ

কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের বাবার অভিযোগ, টাকার জন্য মেয়েকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন।মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে নগরীর দেশওয়ালিপট্টি এলাকার কাসেম গার্ডেন ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে জান্নাতুন নাঈম ফারিহা (২৩) নামের ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্ল্যাটে স্বামী ও শ্বশুরের সঙ্গে থাকতেন তিনি।

 

 

ফারিহা সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের (১২তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কানগাঁও এলাকায়; বাবার নাম মো. হানিফ মিয়া।

 

জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে দেশওয়ালিপট্টি এলাকার মেহেদী হাসানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিকভাবে ফারিহার বিয়ে হয়।

 

শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, মঙ্গলবার বিকেলে ফারিহা ঘুমানোর কথা বলে নিজের কক্ষে দরজা বন্ধ করে দেন। রাত ৮টার দিকে দরজায় কড়া নাড়লেও সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রেম করে বিয়ে, শ্বশুরবাড়িতে মিলল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে নিলুফা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। এসময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন স্বামী আরব আলী (৫০)। স্বামী আরব আলীকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।নিহত গৃহবধূ নিলুফা বেগম ও আহত স্বামী আরব আলী পৌরসভার ছোলনা গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার (৬ মে) দুপুরে পৌরসভার ছোলনা-কুশাডাঙ্গা রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে রেললাইনের পাশ দিয়ে দৌঁড়াচ্ছিলেন নিলুফা বেগম। কুশাডাঙ্গা রেলগেট সংলগ্ন আজিজারের দোকানের সামনে এলে গোপালগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েন নিলুফা বেগম। মাথায় আঘাত পেয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর আহত হন তিনি।

 

এদিকে পিছনে চিৎকার করতে করতে ছুটে আসা স্বামী আরব আলী স্ত্রী নিলুফা বেগমকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তিনিও গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত নিলুফা বেগম ও আরব আলীকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে চিকিৎসক নিলুফা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আরব আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সিঞ্চন সাহা জানান, গৃহবধূ নিলুফা বেগমকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার হাত, মাথাসহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে কেটে ও থেঁতলে গিয়ে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরব আলী।বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ বিষয়ে রাজবাড়ী রেলওয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। তারা এসে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অভিমানে দৌড়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন স্ত্রী, পেছনে ছুটলেন স্বামী

বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকায় জিন তাড়ানোর কথা বলে এক দাখিল পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাকিম রেজাউল করিম (৪০) নামে এক ভণ্ড কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

অভিযুক্ত রেজাউল করিম নামাজগড় এলাকায় ‘আশ-সিফা দাওয়া খানা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে কবিরাজি ও ঝাড়ফুঁকের আড়ালে অপচিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে।

 

ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার জানায়, তাদের মেয়ে রাজশাহীর একটি কওমি মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী। দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা উপশমের জন্য গত রোববার (৩ মে) পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে মেয়েকে রেজাউলের দাওয়াখানায় নিয়ে যান তার বাবা।

 

সেখানে যাওয়ার পর অভিযুক্ত রেজাউল দাবি করেন, কিশোরীর ওপর ‘জিনের আসর’ রয়েছে। ঝাড়ফুঁকের নামে চিকিৎসার অজুহাতে তিনি কিশোরীকে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন এবং পরিবারের সদস্যদের বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। সেখানেই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, একই দিন বিকেলে আরও চিকিৎসার কথা বলে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পুনরায় আসতে বলা হয়। পরিবারের সদস্যরা টাকা নিয়ে গেলে আবারও একই কায়দায় কিশোরীকে ধর্ষণ করেন ওই কবিরাজ। পরে ভুক্তভোগী কিশোরী কাঁদতে কাঁদতে পরিবারের কাছে সব প্রকাশ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

 

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ সক্রিয় হয় এবং দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

 

ওসি আরও জানান, ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

 

ভণ্ডামির আড়ালে এমন পাশবিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

 

 

জিন তাড়ানোর নামে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভূল্লীতে ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ

 

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী থানা পুলিশের অভিযানে ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (০৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভূল্লী থানার একটি দল ১৫নং দেবীপুর ইউনিয়নের খোশবাজার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ১নং আসামি মোঃ গোলাম মোস্তফা গোলা (২৬), পিতা-মৃত ফজলুল করিম (মিস্টার), ২নং আসামি মোঃ জাকির হোসেন (৩৫), পিতা-মৃত নূর মোহাম্মদ এবং ৩নং আসামি মোঃ আব্দুল মজিদ (২০), পিতা-মোঃ শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সকলের বাড়ি খোশবাজার এলাকায়।

 

অভিযানকালে পুলিশ ১নং আসামির নিজ বসতবাড়িতে মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সময় তাদের আটক করে। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে গোলাম মোস্তফা গোলার হেফাজত থেকে ০৫ পিস ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট এবং জাকির হোসেনের কাছ থেকে ২৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৩নং আসামি আব্দুল মজিদ মাদক ক্রয়ের উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিল বলে পুলিশ জানায়।

 

উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতারকৃতদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে ভূল্লী থানা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

ভূল্লীতে ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়ির ভাড়াটিয়ার স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

শনিবার (৯ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন। একইদিন সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ি থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (৮ মে) রাতে তাদের হত্যা করা হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ঘাতক পলাতক ফোরকান মিয়ার গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আটকদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।

 

নিহতদের মধ্যে সন্দেহভাজন প্রাইভেটকার চালক পলাতক স্বামী ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), তাদের বড় মেয়ে মীম (১৫), মেয়ে মারিয়া (৮), মেয়ে ফারিহা (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তিন সন্তানের গলা কাটা লাশ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের লাশ ছিল বিছানার ওপর। অন্যদিকে, শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা নিথর দেহ জানালার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সবাইকে স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে। তবে শনিবার সকালে হঠাৎ পাঁচজনের গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।

 

প্রতিবেশীরা বলছেন, ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। ওই বিরোধের জেরেই তিনি স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করে পালিয়ে যেতে পারেন।

 

কাপাসিয়া থানার ওসি শাহিনুর আলম জানান, ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে এ বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া নিজেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়েছেন।

 

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান জানান, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে অভিযানে নেমেছে।

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আটক ২

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী মারসা পরিবহণের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

শনিবার (৯ মে) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হোটেল ফোর সিজনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

লোহাগাড়া থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামমুখী একটি মারসা পরিবহণের বাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখী একই কোম্পানির অন্য একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কক্সবাজারগামী বাসটি সড়কের পূর্ব পাশে একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। সংঘর্ষে বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

 

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

 

এদিকে দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

 

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ উদ্দীন চৌধুরী জানান, হতাহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

আসন্ন সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল বাশার চৌধুরী তুহিনের ভোট প্রার্থনা।

 

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু, সাভার:

 

সাভার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দলিল লেখকদের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতি’র আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন তরুণ ও কর্মঠ স্বনামধন্য দলিল লেখক আবুল বাশার চৌধুরী তুহিন।

 

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন এবং সমিতির উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন। সাধারণ সদস্যদের অধিকার রক্ষা এবং সমিতির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।

প্রচারণায় তুহিন বলেন: আমি এই সমিতির সকল সদস্যদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই। দল-মত নির্বিশেষে সকল দলিল লেখকের মর্যাদা রক্ষা এবং একটি আধুনিক ও সদস্য-বান্ধব কল্যাণ সমিতি গঠন করাই আমার মূল লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করি, সদস্যরা আগামী নির্বাচনে আমাকে মূল্যবান ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন এবং তাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।”

সাধারণ সদস্যদের মাঝেও আবুল বাশার চৌধুরী তুহিনের প্রার্থীতা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। অনেক ভোটার মনে করছেন, তুহিন একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ এবং নেতৃত্বের আসনে তিনি আসলে সমিতির সাধারণ সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো পূরণ হবে।

উল্লেখ্য, আসন্ন এই নির্বাচনে বিভিন্ন পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে তুহিনের জোরালো প্রচারণায় ভোটের সমীকরণ নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে।

আসন্ন সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল বাশার চৌধুরী তুহিনের ভোট প্রার্থনা

গাজীপুরে প্রবাসীর স্ত্রী সন্তান সহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর।

 

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রী ও সন্তানসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৮ মে) রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

 

স্থানীয়রা জানান, রাউতকোনা এলাকার মনির হোসেন প্রবাসে থাকেন। বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানরা থাকে। শুক্রবার রাতেও সবাইকে স্বাভাবিকই দেখা গেছে। তবে শনিবার ভোরে ওই বাড়িতে দেখা যায় পাঁচজনের গলা কাটা লাশ পড়ে রয়েছে। কারা কেন তাদের হত্যা করেছে, বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।

 

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসী মনির হোসেনের স্ত্রী, তার তিন মেয়েসন্তান এবং শ্যালক। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লুটপাটের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা-পয়সাও নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। হত্যার পর ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

 

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার, (এসপি) মোঃশরিফ উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে ।

গাজীপুরে প্রবাসীর স্ত্রী সন্তান সহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

যশোরের নওয়াপাড়ায় আনিছুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে ওই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সিসি ক্যামেরার ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী নাহিদা ইসলাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও দু-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

 

 

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের শাহ মো. জুনায়েদের ছেলে শাহ মো. মাহমুদ (৩৮) এবং একই গ্রামের মৃত নিছার আলীর ছেলে নাসির (৩২)।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুয়াখোলা গ্রামে পীরবাড়ী মসজিদের সামনে আনিছুর রহমান তার নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের (আনিছ ট্রেড ভ্যালি) ম্যানেজার রেজাউল ইসলামের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় শাহ মো. মাহমুদ তার সহযোগী নাসিরসহ অজ্ঞাতপরিচয় দু-তিনজন অস্ত্রধারী পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে শাহ মাহমুদ গালিগালাজ করে তার কাছে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আনিছুর রহমানের মুখের বাম পাশে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়।

 

পরে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে আনিছুর রহমানের মৃত্যু হয়।

 

এদিকে আনিছুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করার ৪৬ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে শাহ মো. মাহমুদ নামে ওই যুবক তার কোমরে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুরকে কোপাতে শুরু করে।মামলার বাদী নাহিদা ইসলাম জানান, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

 

ব্যবসায়ী নেতা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার নওয়াপাড়ার সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। আসামিদের গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বন্দরনগরী নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারলে ব্যবসায়ীরা কঠোর কর্মসূচি দেবে।’

 

এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, ‘নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’

 

নিহত আনিছুর রহমান সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের তুলসীডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি ব্যবসায়িক কারণে অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। তিনি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ও নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা ছিলেন।

যশোরে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

সাতক্ষীরায় শূন্যের কোটায় হাম-রুবেলা

 

মোঃ তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

 

সারা দেশে উদ্বেকজনক হারে হাম রুবেলা আক্রান্ত হলেও সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা এখনও শুন্যের কোটায় রয়েছে। জেলায় এখন পর্যন্ত হাম-রুবেলা উপসর্গে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি ।

জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে জেলায় নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির পাশাপাশি এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। গত ২০ এপ্রিল শুরু হওয়া এই টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা। সেই হিসেবে টিকাদান কার্যাক্রম শেষ হতে চলছে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। নিয়মিত শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং টিকাকেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে সন্তুষ্টি দেখা গেছে।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, “সারা দেশের মতো সাতক্ষীরায় তেমন কোনো হাম আক্রান্ত রোগী নেই। তবে জেলায় এ পর্যন্ত পজেটিভ পাওয়া গেছে তিনজনের। তারা সকলে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এখনও পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে মারা যায়নি কেউ।” তিনি আরো বলেন, “আমাদের এখন অনেক সন্দেহজনক রোগী পাওয়া যাচ্ছে আমরা তাদের স্যাম্পল সংগ্রহ করে ঢাকাতে পাঠিয়েছি। জেলায় এ পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ১ লাখ ৭৪হাজার ৪৩২ জন শিশুকে টিকা দিয়েছি এখন প্রায় তিন হাজারের মত বাকি আছে। এম আর ভাকসিনের ক্ষেত্রে জেলার প্রতিটা ডিপার্টমেন্ট সহযোগিতা করেছে। কোথাও কোনো নেগেটিভ খবর পাওয়া যায়নি বরং জনগনের আস্থা বেড়েছে।”

সাতক্ষীরায় শূন্যের কোটায় হাম-রুবেলা

সাতক্ষীরার আম: রেললাইন হলে খুলবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

 

মোঃ তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

 

গ্রীষ্ম এলেই প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। মাঠে-ঘাটে, গ্রামে-গঞ্জে আর শহরের অলিগলিতে তখন ছড়িয়ে পড়ে পাকা আমের মিষ্টি ঘ্রাণ। আর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপদ সাতক্ষীরা এখন সেই ঘ্রাণে মুখরিত। জেলার বিস্তীর্ণ আমবাগানে শুরু হয়েছে মৌসুমের প্রথম দিকের আম পাড়া। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত আম পাড়া ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গত ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগসহ আগাম জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। আর আগামী ১৫ মে থেকে শুরু হবে বহুল জনপ্রিয় ও সুস্বাদু হিমসাগর আম সংগ্রহ। মৌসুমের শুরুতেই সাতক্ষীরার বাজার, সড়ক ও কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। আমকে ঘিরে যেন পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বাজার এখন আমের বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ভোর হতেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যান, ট্রলি, মিনি ট্রাক ও ছোট যানবাহনে করে আমবাগানের মালিক ও ব্যবসায়ীরা আম নিয়ে বাজারে আসছেন। পাইকাররা সেই আম কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনদের জন্য সুন্দর কুরিয়ার, এস এ পরিবহনসহ বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম পাঠাচ্ছেন। আম মৌসুম ঘিরে কুরিয়ার সার্ভিস ও পরিবহন খাতেও সৃষ্টি হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ। বর্তমানে প্রতি মন আম প্রায় ১৬০০ টাকা দরে কিনলেও কুরিয়ারে পাঠাতে প্রতি কেজিতে গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তবুও সাতক্ষীরার আমের স্বাদ ও সুনামের কারণে মানুষ আগ্রহ নিয়ে এই আম সংগ্রহ করছেন।

একসময় দেশের বাজারে রাজশাহীর আমের কদর ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরার আমও দেশের মানুষের কাছে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার হিমসাগর আম এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ আমের স্বাদ, মিষ্টতা ও ঘ্রাণ এমন যে, একবার খেলে মানুষ বারবার খেতে চান। অনেকে মজা করে বলেন, সাতক্ষীরার হিমসাগর আম সামনে থাকলে বয়স, ডায়েট কিংবা সংযম-সবকিছু ভুলে মানুষ বেশি খেয়ে ফেলেন। এই আমের আঁশ কম, শাঁস বেশি এবং স্বাদে অনন্য হওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ-সব বয়সী মানুষের কাছে এটি সমান প্রিয়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হয় এবং প্রতিবছর হাজার হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার সদর, তালা, কলারোয়া, দেবহাটা , আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য আমবাগান। সাতক্ষীরার মাটি, আবহাওয়া ও লবণাক্ততাসহ পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এখানকার আমে একটি স্বতন্ত্র স্বাদ তৈরি হয়। শুধু দেশেই নয়, সাতক্ষীরার আম এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে সাতক্ষীরার আমের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে আম শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে আম মৌসুমে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে মাঝেমধ্যে এই সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী অপরিপক্ক আম আগেভাগে গাছ থেকে নামিয়ে কৃত্রিম উপায়ে মেডিসিন প্রয়োগ করে দ্রুত পাকিয়ে বাজারজাত করেন। এতে আমের স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বিভিন্ন সময়ে অপরিপক্ক ও কেমিক্যালযুক্ত আম জব্দ করে ধ্বংসও করা হয়েছে। মূলত এই অনিয়ম ঠেকাতে এবং বাজারে নিরাপদ ও পরিপক্ক আম নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন আম পাড়া ক্যালেন্ডার চালু করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম পাড়া নিষিদ্ধ করায় ক্রেতারা এখন তুলনামূলক নিরাপদ ও সুস্বাদু আম পাচ্ছেন।

আম শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। আমে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। পাকা আম চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। গরমের সময় শরীরে শক্তি জোগাতেও আম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের মতে, পরিমিত পরিমাণে আম খেলে হজম শক্তি বাড়ে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পায়।

সাতক্ষীরার আম শিল্পকে ঘিরে অর্থনীতির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা আরও বহুগুণ বাড়তে পারতো যদি এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেললাইন বাস্তবায়ন হতো। সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। স্থানীয়দের মতে, এই রেললাইন চালু হলে আম, চিংড়ি মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনে বিপ্লব ঘটবে। বর্তমানে যেখানে কুরিয়ার বা সড়কপথে প্রতি কেজি আম ঢাকায় পাঠাতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, সেখানে রেলপথ চালু হলে খুব অল্প খরচে দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য পরিবহন সম্ভব হতো। এতে একদিকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হতেন, অন্যদিকে দেশের সাধারণ ভোক্তারাও কম দামে মানসম্মত আম কিনতে পারতেন।

এছাড়া রেললাইন চালু হলে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারতো। সাতক্ষীরার বিখ্যাত চিংড়ি মাছ, আম, পাট ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা যেতো। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ভ্রমণেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতো। সড়কপথের তুলনায় রেলপথে আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সহজেই সাতক্ষীরার সুন্দরবন দেখতে আসতে পারতেন। এতে পর্যটন খাত যেমন সমৃদ্ধ হতো, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিও নতুন গতি পেতো।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব কাজ কিংবা জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি। ফলে সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে। অথচ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে সাতক্ষীরা শুধু আম কিংবা চিংড়ির জেলা হিসেবেই নয়, দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হতে পারতো।

আজ যখন সাতক্ষীরার বাজার আমের ঘ্রাণে মুখরিত, যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাতক্ষীরার আমের কদর বাড়ছে, তখন এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজন আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষিভিত্তিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। কারণ সাতক্ষীরার আম শুধু একটি ফল নয়, এটি এ অঞ্চলের অর্থনীতি, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার প্রতীক।

সাতক্ষীরার আম: রেললাইন হলে খুলবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশে সংঘটিত কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা কিংবা ন্যায়বিচারবিরোধী কর্মকাণ্ডকে সরকার কখনো তামাদি হতে দেবে না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা থেকে শুরু করে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত সব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে শাপলা শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। সেসময় সরকারের সমর্থিত গণমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয় এবং বিএনপির বহু নেতাকে মামলায় জড়ানো হয়।

 

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এমন কোনো গণতন্ত্রমনা অংশ নেই যারা নির্যাতনের শিকার হয়নি।

 

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, জাতীয় সংসদ ইতোমধ্যে শাপলা চত্বরের শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং জুলাই অভ্যুত্থানসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের ঘটনাপ্রবাহ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, বিরোধী দলের সমাবেশে হামলা, শাপলা চত্বরের অভিযান এবং ফ্যাসিবাদী আচরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ একসময় জাতীয় ঐক্যে পরিণত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে।

 

মহুরম বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য গড়ে উঠেছিল তার গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের কারণেই।

 

একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় সংসদে শাপলা শহীদদের স্মরণ করার মধ্য দিয়ে সরকার জাতির সামনে দায়বদ্ধতার বার্তা দিয়েছে।

স্মরণসভায় তথ্যমন্ত্রী একাত্তরের গণহত্যা থেকে শাপলা হত্যাকাণ্ড, সব ঘটনার বিচার করবে সরকার

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরবেষ্টিত তিন জেলার সাতটি নদীর পানি এখনো কয়েকটি পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী তিন দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

 

শুক্রবার প্রকাশিত কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিন অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নদীর পানি কিছু এলাকায় বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের নলজুর নদীর পানি জগন্নাথপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

নেত্রকোণায় ধনু-বাউলাই, ভুগাই-কংস, সোমেশ্বরী ও মগরা নদীর কয়েকটি পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। একইভাবে হবিগঞ্জের কালনি-কুশিয়ারা ও সুতাং নদীতেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

 

তবে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজান ও হাওর এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বেশ কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে, এরপর পরিস্থিতির আরও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রহমান বলেন, বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং ধীরে ধীরে পানি কমছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

বুলেটিনে আরও বলা হয়, সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে পারে। পাশাপাশি নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন নদীর পানিও আগামী দিনগুলোতে স্থিতিশীল বা হ্রাসের দিকে যেতে পারে, যা হাওর এলাকার নিম্নাঞ্চলে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।

হাওরে বন্যা পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, এখনো ৭ নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d