চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী মারসা পরিবহণের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

শনিবার (৯ মে) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হোটেল ফোর সিজনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

লোহাগাড়া থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামমুখী একটি মারসা পরিবহণের বাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখী একই কোম্পানির অন্য একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কক্সবাজারগামী বাসটি সড়কের পূর্ব পাশে একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। সংঘর্ষে বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

 

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

 

এদিকে দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

 

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ উদ্দীন চৌধুরী জানান, হতাহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়ির ভাড়াটিয়ার স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

শনিবার (৯ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন। একইদিন সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ি থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (৮ মে) রাতে তাদের হত্যা করা হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ঘাতক পলাতক ফোরকান মিয়ার গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আটকদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।

 

নিহতদের মধ্যে সন্দেহভাজন প্রাইভেটকার চালক পলাতক স্বামী ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), তাদের বড় মেয়ে মীম (১৫), মেয়ে মারিয়া (৮), মেয়ে ফারিহা (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তিন সন্তানের গলা কাটা লাশ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের লাশ ছিল বিছানার ওপর। অন্যদিকে, শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা নিথর দেহ জানালার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সবাইকে স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে। তবে শনিবার সকালে হঠাৎ পাঁচজনের গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।

 

প্রতিবেশীরা বলছেন, ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। ওই বিরোধের জেরেই তিনি স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করে পালিয়ে যেতে পারেন।

 

কাপাসিয়া থানার ওসি শাহিনুর আলম জানান, ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে এ বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া নিজেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়েছেন।

 

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান জানান, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে অভিযানে নেমেছে।

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আটক ২

আসন্ন সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল বাশার চৌধুরী তুহিনের ভোট প্রার্থনা।

 

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু, সাভার:

 

সাভার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দলিল লেখকদের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতি’র আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন তরুণ ও কর্মঠ স্বনামধন্য দলিল লেখক আবুল বাশার চৌধুরী তুহিন।

 

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন এবং সমিতির উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন। সাধারণ সদস্যদের অধিকার রক্ষা এবং সমিতির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।

প্রচারণায় তুহিন বলেন: আমি এই সমিতির সকল সদস্যদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই। দল-মত নির্বিশেষে সকল দলিল লেখকের মর্যাদা রক্ষা এবং একটি আধুনিক ও সদস্য-বান্ধব কল্যাণ সমিতি গঠন করাই আমার মূল লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করি, সদস্যরা আগামী নির্বাচনে আমাকে মূল্যবান ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন এবং তাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।”

সাধারণ সদস্যদের মাঝেও আবুল বাশার চৌধুরী তুহিনের প্রার্থীতা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। অনেক ভোটার মনে করছেন, তুহিন একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ এবং নেতৃত্বের আসনে তিনি আসলে সমিতির সাধারণ সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো পূরণ হবে।

উল্লেখ্য, আসন্ন এই নির্বাচনে বিভিন্ন পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে তুহিনের জোরালো প্রচারণায় ভোটের সমীকরণ নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে।

আসন্ন সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল বাশার চৌধুরী তুহিনের ভোট প্রার্থনা

গাজীপুরে প্রবাসীর স্ত্রী সন্তান সহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর।

 

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রী ও সন্তানসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৮ মে) রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

 

স্থানীয়রা জানান, রাউতকোনা এলাকার মনির হোসেন প্রবাসে থাকেন। বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানরা থাকে। শুক্রবার রাতেও সবাইকে স্বাভাবিকই দেখা গেছে। তবে শনিবার ভোরে ওই বাড়িতে দেখা যায় পাঁচজনের গলা কাটা লাশ পড়ে রয়েছে। কারা কেন তাদের হত্যা করেছে, বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।

 

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসী মনির হোসেনের স্ত্রী, তার তিন মেয়েসন্তান এবং শ্যালক। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লুটপাটের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা-পয়সাও নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। হত্যার পর ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

 

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার, (এসপি) মোঃশরিফ উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে ।

গাজীপুরে প্রবাসীর স্ত্রী সন্তান সহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

সাতক্ষীরার আম: রেললাইন হলে খুলবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

 

মোঃ তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

 

গ্রীষ্ম এলেই প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। মাঠে-ঘাটে, গ্রামে-গঞ্জে আর শহরের অলিগলিতে তখন ছড়িয়ে পড়ে পাকা আমের মিষ্টি ঘ্রাণ। আর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপদ সাতক্ষীরা এখন সেই ঘ্রাণে মুখরিত। জেলার বিস্তীর্ণ আমবাগানে শুরু হয়েছে মৌসুমের প্রথম দিকের আম পাড়া। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত আম পাড়া ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গত ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগসহ আগাম জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। আর আগামী ১৫ মে থেকে শুরু হবে বহুল জনপ্রিয় ও সুস্বাদু হিমসাগর আম সংগ্রহ। মৌসুমের শুরুতেই সাতক্ষীরার বাজার, সড়ক ও কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। আমকে ঘিরে যেন পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বাজার এখন আমের বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ভোর হতেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যান, ট্রলি, মিনি ট্রাক ও ছোট যানবাহনে করে আমবাগানের মালিক ও ব্যবসায়ীরা আম নিয়ে বাজারে আসছেন। পাইকাররা সেই আম কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনদের জন্য সুন্দর কুরিয়ার, এস এ পরিবহনসহ বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম পাঠাচ্ছেন। আম মৌসুম ঘিরে কুরিয়ার সার্ভিস ও পরিবহন খাতেও সৃষ্টি হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ। বর্তমানে প্রতি মন আম প্রায় ১৬০০ টাকা দরে কিনলেও কুরিয়ারে পাঠাতে প্রতি কেজিতে গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তবুও সাতক্ষীরার আমের স্বাদ ও সুনামের কারণে মানুষ আগ্রহ নিয়ে এই আম সংগ্রহ করছেন।

একসময় দেশের বাজারে রাজশাহীর আমের কদর ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরার আমও দেশের মানুষের কাছে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার হিমসাগর আম এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ আমের স্বাদ, মিষ্টতা ও ঘ্রাণ এমন যে, একবার খেলে মানুষ বারবার খেতে চান। অনেকে মজা করে বলেন, সাতক্ষীরার হিমসাগর আম সামনে থাকলে বয়স, ডায়েট কিংবা সংযম-সবকিছু ভুলে মানুষ বেশি খেয়ে ফেলেন। এই আমের আঁশ কম, শাঁস বেশি এবং স্বাদে অনন্য হওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ-সব বয়সী মানুষের কাছে এটি সমান প্রিয়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হয় এবং প্রতিবছর হাজার হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার সদর, তালা, কলারোয়া, দেবহাটা , আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য আমবাগান। সাতক্ষীরার মাটি, আবহাওয়া ও লবণাক্ততাসহ পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এখানকার আমে একটি স্বতন্ত্র স্বাদ তৈরি হয়। শুধু দেশেই নয়, সাতক্ষীরার আম এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে সাতক্ষীরার আমের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে আম শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে আম মৌসুমে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে মাঝেমধ্যে এই সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী অপরিপক্ক আম আগেভাগে গাছ থেকে নামিয়ে কৃত্রিম উপায়ে মেডিসিন প্রয়োগ করে দ্রুত পাকিয়ে বাজারজাত করেন। এতে আমের স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বিভিন্ন সময়ে অপরিপক্ক ও কেমিক্যালযুক্ত আম জব্দ করে ধ্বংসও করা হয়েছে। মূলত এই অনিয়ম ঠেকাতে এবং বাজারে নিরাপদ ও পরিপক্ক আম নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন আম পাড়া ক্যালেন্ডার চালু করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম পাড়া নিষিদ্ধ করায় ক্রেতারা এখন তুলনামূলক নিরাপদ ও সুস্বাদু আম পাচ্ছেন।

আম শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। আমে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। পাকা আম চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। গরমের সময় শরীরে শক্তি জোগাতেও আম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের মতে, পরিমিত পরিমাণে আম খেলে হজম শক্তি বাড়ে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পায়।

সাতক্ষীরার আম শিল্পকে ঘিরে অর্থনীতির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা আরও বহুগুণ বাড়তে পারতো যদি এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেললাইন বাস্তবায়ন হতো। সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। স্থানীয়দের মতে, এই রেললাইন চালু হলে আম, চিংড়ি মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনে বিপ্লব ঘটবে। বর্তমানে যেখানে কুরিয়ার বা সড়কপথে প্রতি কেজি আম ঢাকায় পাঠাতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, সেখানে রেলপথ চালু হলে খুব অল্প খরচে দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য পরিবহন সম্ভব হতো। এতে একদিকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হতেন, অন্যদিকে দেশের সাধারণ ভোক্তারাও কম দামে মানসম্মত আম কিনতে পারতেন।

এছাড়া রেললাইন চালু হলে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারতো। সাতক্ষীরার বিখ্যাত চিংড়ি মাছ, আম, পাট ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা যেতো। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ভ্রমণেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতো। সড়কপথের তুলনায় রেলপথে আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সহজেই সাতক্ষীরার সুন্দরবন দেখতে আসতে পারতেন। এতে পর্যটন খাত যেমন সমৃদ্ধ হতো, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিও নতুন গতি পেতো।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব কাজ কিংবা জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি। ফলে সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে। অথচ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে সাতক্ষীরা শুধু আম কিংবা চিংড়ির জেলা হিসেবেই নয়, দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হতে পারতো।

আজ যখন সাতক্ষীরার বাজার আমের ঘ্রাণে মুখরিত, যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাতক্ষীরার আমের কদর বাড়ছে, তখন এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজন আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষিভিত্তিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। কারণ সাতক্ষীরার আম শুধু একটি ফল নয়, এটি এ অঞ্চলের অর্থনীতি, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার প্রতীক।

সাতক্ষীরার আম: রেললাইন হলে খুলবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে অভিযুক্ত ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই তথাকথিত ‘মীমাংসা’ প্রত্যাখ্যান করে ভুক্তভোগী শিশুটি অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

 

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে শীতের এক সন্ধ্যায় নানিকে পান কিনে দিতে দোকানে যাওয়ার পথে একই এলাকার বাসিন্দা নূর ইসলাম (৬৫) ওই শিশুটিকে জোরপূর্বক একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পরবর্তীতে আরও কয়েক দফায় শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরীক্ষায় জানা যায়, সে বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

 

অভিযোগ উঠেছে, গত এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘটনাটি আইনি প্রক্রিয়ায় না নিয়ে সালিসের মাধ্যমে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেন। দেড় লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ওই বৃদ্ধের সঙ্গে ১২ বছরের শিশুটির বিয়ে পড়ানো হয়। জানা গেছে, একটি সাধারণ খাতায় স্বাক্ষর নিয়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

 

ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তাকে বিয়ে দেয়া হয়েছে। সে বলে, আমি তাকে স্বামী হিসেবে মানি না। আমার মুখ চেপে ধরে সে খারাপ কাজ করেছে। পেটের ভেতর সন্তান নড়াচড়া করে, কিছু খেতে পারি না। আমি ওই লোকের ফাঁসি চাই। শিশুটি জানায়, সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে সে অভিযুক্তকে ফেরত দিয়ে তালাক নিতে চায়।

 

শিশুটির বাবা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, আমি অসুস্থ, ঠিকমতো চলতে পারি না। মেয়ের ভবিষ্যৎ এবং জীবন ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেই ওই লোকের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছি। আমার আর কিছু করার ছিল না। তবে মা জানান, প্রতিশ্রুত টাকা বা জমি এখনো তারা পাননি।

 

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত নূর ইসলাম সপরিবার বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপন করেছে।

 

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নব কুমার বিশ্বাস জানান, শিশুটি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। লোকলজ্জার ভয় ও প্রলোভন দেখিয়ে বেআইনিভাবে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

 

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যারা বেআইনিভাবে এই আপস-মীমাংসা ও বাল্যবিবাহের সঙ্গে জড়িত ছিল, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এর আগে, সম্প্রতি নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এই ঘটনা ঘটেছে।

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ১২ বছরের শিশু, ধামাচাপা দিতে ৬৫ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে বিয়ে

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার পর এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকালে নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে মদন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ডা. সায়মা আক্তার।

 

ডা. সায়মা গাইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপজেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন।

 

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ৩০ এপ্রিল এক কিশোরী শারীরিক জটিলতা নিয়ে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি জানতে পারেন, মেয়েটি ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। পরে কিশোরী ও তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, মাদ্রাসার এক শিক্ষক জোরপূর্বক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন।

 

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম তার কাছে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি চিকিৎসক হিসেবে প্রয়োজনীয় তথ্য দেন। সেই বক্তব্য বিভিন্ন টিভি, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পর থেকেই তাকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে গালিগালাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যা ও গণধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

 

এসব ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা করছেন বলে উল্লেখ করে ডা. সায়মা। পরিবারের সদস্যরা জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।

 

মদন থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, একজন নারী চিকিৎসক থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তার নিরাপত্তার বিষয়েও আমরা কাজ করছি। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

 

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোসসিনা ইসলাম এ আদেশ দেন। এর আগে পুলিশ তার বিরুদ্ধে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে। আগামী ১০ মে রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষণের তথ্য দেওয়ায় নারী চিকিৎসককে হত্যার হুমকি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভূল্লীতে ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ

 

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী থানা পুলিশের অভিযানে ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (০৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভূল্লী থানার একটি দল ১৫নং দেবীপুর ইউনিয়নের খোশবাজার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ১নং আসামি মোঃ গোলাম মোস্তফা গোলা (২৬), পিতা-মৃত ফজলুল করিম (মিস্টার), ২নং আসামি মোঃ জাকির হোসেন (৩৫), পিতা-মৃত নূর মোহাম্মদ এবং ৩নং আসামি মোঃ আব্দুল মজিদ (২০), পিতা-মোঃ শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সকলের বাড়ি খোশবাজার এলাকায়।

 

অভিযানকালে পুলিশ ১নং আসামির নিজ বসতবাড়িতে মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সময় তাদের আটক করে। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে গোলাম মোস্তফা গোলার হেফাজত থেকে ০৫ পিস ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট এবং জাকির হোসেনের কাছ থেকে ২৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৩নং আসামি আব্দুল মজিদ মাদক ক্রয়ের উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিল বলে পুলিশ জানায়।

 

উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতারকৃতদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে ভূল্লী থানা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

ভূল্লীতে ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়ির ভাড়াটিয়ার স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

শনিবার (৯ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন। একইদিন সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ি থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (৮ মে) রাতে তাদের হত্যা করা হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ঘাতক পলাতক ফোরকান মিয়ার গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আটকদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।

 

নিহতদের মধ্যে সন্দেহভাজন প্রাইভেটকার চালক পলাতক স্বামী ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), তাদের বড় মেয়ে মীম (১৫), মেয়ে মারিয়া (৮), মেয়ে ফারিহা (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তিন সন্তানের গলা কাটা লাশ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের লাশ ছিল বিছানার ওপর। অন্যদিকে, শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা নিথর দেহ জানালার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সবাইকে স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে। তবে শনিবার সকালে হঠাৎ পাঁচজনের গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।

 

প্রতিবেশীরা বলছেন, ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। ওই বিরোধের জেরেই তিনি স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করে পালিয়ে যেতে পারেন।

 

কাপাসিয়া থানার ওসি শাহিনুর আলম জানান, ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে এ বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া নিজেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়েছেন।

 

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান জানান, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে অভিযানে নেমেছে।

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আটক ২

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী মারসা পরিবহণের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

শনিবার (৯ মে) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হোটেল ফোর সিজনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

লোহাগাড়া থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামমুখী একটি মারসা পরিবহণের বাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখী একই কোম্পানির অন্য একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কক্সবাজারগামী বাসটি সড়কের পূর্ব পাশে একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। সংঘর্ষে বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

 

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

 

এদিকে দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

 

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ উদ্দীন চৌধুরী জানান, হতাহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

আসন্ন সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল বাশার চৌধুরী তুহিনের ভোট প্রার্থনা।

 

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু, সাভার:

 

সাভার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দলিল লেখকদের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতি’র আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন তরুণ ও কর্মঠ স্বনামধন্য দলিল লেখক আবুল বাশার চৌধুরী তুহিন।

 

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন এবং সমিতির উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন। সাধারণ সদস্যদের অধিকার রক্ষা এবং সমিতির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।

প্রচারণায় তুহিন বলেন: আমি এই সমিতির সকল সদস্যদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই। দল-মত নির্বিশেষে সকল দলিল লেখকের মর্যাদা রক্ষা এবং একটি আধুনিক ও সদস্য-বান্ধব কল্যাণ সমিতি গঠন করাই আমার মূল লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করি, সদস্যরা আগামী নির্বাচনে আমাকে মূল্যবান ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন এবং তাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।”

সাধারণ সদস্যদের মাঝেও আবুল বাশার চৌধুরী তুহিনের প্রার্থীতা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। অনেক ভোটার মনে করছেন, তুহিন একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ এবং নেতৃত্বের আসনে তিনি আসলে সমিতির সাধারণ সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো পূরণ হবে।

উল্লেখ্য, আসন্ন এই নির্বাচনে বিভিন্ন পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে তুহিনের জোরালো প্রচারণায় ভোটের সমীকরণ নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে।

আসন্ন সাভার দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল বাশার চৌধুরী তুহিনের ভোট প্রার্থনা

গাজীপুরে প্রবাসীর স্ত্রী সন্তান সহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর।

 

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রী ও সন্তানসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৮ মে) রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

 

স্থানীয়রা জানান, রাউতকোনা এলাকার মনির হোসেন প্রবাসে থাকেন। বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানরা থাকে। শুক্রবার রাতেও সবাইকে স্বাভাবিকই দেখা গেছে। তবে শনিবার ভোরে ওই বাড়িতে দেখা যায় পাঁচজনের গলা কাটা লাশ পড়ে রয়েছে। কারা কেন তাদের হত্যা করেছে, বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।

 

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসী মনির হোসেনের স্ত্রী, তার তিন মেয়েসন্তান এবং শ্যালক। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লুটপাটের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা-পয়সাও নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। হত্যার পর ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

 

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার, (এসপি) মোঃশরিফ উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে ।

গাজীপুরে প্রবাসীর স্ত্রী সন্তান সহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

যশোরের নওয়াপাড়ায় আনিছুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে ওই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সিসি ক্যামেরার ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী নাহিদা ইসলাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও দু-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

 

 

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের শাহ মো. জুনায়েদের ছেলে শাহ মো. মাহমুদ (৩৮) এবং একই গ্রামের মৃত নিছার আলীর ছেলে নাসির (৩২)।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুয়াখোলা গ্রামে পীরবাড়ী মসজিদের সামনে আনিছুর রহমান তার নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের (আনিছ ট্রেড ভ্যালি) ম্যানেজার রেজাউল ইসলামের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় শাহ মো. মাহমুদ তার সহযোগী নাসিরসহ অজ্ঞাতপরিচয় দু-তিনজন অস্ত্রধারী পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে শাহ মাহমুদ গালিগালাজ করে তার কাছে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আনিছুর রহমানের মুখের বাম পাশে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়।

 

পরে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে আনিছুর রহমানের মৃত্যু হয়।

 

এদিকে আনিছুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করার ৪৬ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে শাহ মো. মাহমুদ নামে ওই যুবক তার কোমরে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুরকে কোপাতে শুরু করে।মামলার বাদী নাহিদা ইসলাম জানান, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

 

ব্যবসায়ী নেতা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার নওয়াপাড়ার সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। আসামিদের গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বন্দরনগরী নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারলে ব্যবসায়ীরা কঠোর কর্মসূচি দেবে।’

 

এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, ‘নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’

 

নিহত আনিছুর রহমান সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের তুলসীডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি ব্যবসায়িক কারণে অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। তিনি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ও নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা ছিলেন।

যশোরে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

সাতক্ষীরায় শূন্যের কোটায় হাম-রুবেলা

 

মোঃ তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

 

সারা দেশে উদ্বেকজনক হারে হাম রুবেলা আক্রান্ত হলেও সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা এখনও শুন্যের কোটায় রয়েছে। জেলায় এখন পর্যন্ত হাম-রুবেলা উপসর্গে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি ।

জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে জেলায় নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির পাশাপাশি এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। গত ২০ এপ্রিল শুরু হওয়া এই টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা। সেই হিসেবে টিকাদান কার্যাক্রম শেষ হতে চলছে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। নিয়মিত শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং টিকাকেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে সন্তুষ্টি দেখা গেছে।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, “সারা দেশের মতো সাতক্ষীরায় তেমন কোনো হাম আক্রান্ত রোগী নেই। তবে জেলায় এ পর্যন্ত পজেটিভ পাওয়া গেছে তিনজনের। তারা সকলে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এখনও পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে মারা যায়নি কেউ।” তিনি আরো বলেন, “আমাদের এখন অনেক সন্দেহজনক রোগী পাওয়া যাচ্ছে আমরা তাদের স্যাম্পল সংগ্রহ করে ঢাকাতে পাঠিয়েছি। জেলায় এ পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ১ লাখ ৭৪হাজার ৪৩২ জন শিশুকে টিকা দিয়েছি এখন প্রায় তিন হাজারের মত বাকি আছে। এম আর ভাকসিনের ক্ষেত্রে জেলার প্রতিটা ডিপার্টমেন্ট সহযোগিতা করেছে। কোথাও কোনো নেগেটিভ খবর পাওয়া যায়নি বরং জনগনের আস্থা বেড়েছে।”

সাতক্ষীরায় শূন্যের কোটায় হাম-রুবেলা

সাতক্ষীরার আম: রেললাইন হলে খুলবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

 

মোঃ তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

 

গ্রীষ্ম এলেই প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। মাঠে-ঘাটে, গ্রামে-গঞ্জে আর শহরের অলিগলিতে তখন ছড়িয়ে পড়ে পাকা আমের মিষ্টি ঘ্রাণ। আর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপদ সাতক্ষীরা এখন সেই ঘ্রাণে মুখরিত। জেলার বিস্তীর্ণ আমবাগানে শুরু হয়েছে মৌসুমের প্রথম দিকের আম পাড়া। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত আম পাড়া ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গত ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগসহ আগাম জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। আর আগামী ১৫ মে থেকে শুরু হবে বহুল জনপ্রিয় ও সুস্বাদু হিমসাগর আম সংগ্রহ। মৌসুমের শুরুতেই সাতক্ষীরার বাজার, সড়ক ও কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। আমকে ঘিরে যেন পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বাজার এখন আমের বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ভোর হতেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যান, ট্রলি, মিনি ট্রাক ও ছোট যানবাহনে করে আমবাগানের মালিক ও ব্যবসায়ীরা আম নিয়ে বাজারে আসছেন। পাইকাররা সেই আম কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনদের জন্য সুন্দর কুরিয়ার, এস এ পরিবহনসহ বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম পাঠাচ্ছেন। আম মৌসুম ঘিরে কুরিয়ার সার্ভিস ও পরিবহন খাতেও সৃষ্টি হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ। বর্তমানে প্রতি মন আম প্রায় ১৬০০ টাকা দরে কিনলেও কুরিয়ারে পাঠাতে প্রতি কেজিতে গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তবুও সাতক্ষীরার আমের স্বাদ ও সুনামের কারণে মানুষ আগ্রহ নিয়ে এই আম সংগ্রহ করছেন।

একসময় দেশের বাজারে রাজশাহীর আমের কদর ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরার আমও দেশের মানুষের কাছে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার হিমসাগর আম এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ আমের স্বাদ, মিষ্টতা ও ঘ্রাণ এমন যে, একবার খেলে মানুষ বারবার খেতে চান। অনেকে মজা করে বলেন, সাতক্ষীরার হিমসাগর আম সামনে থাকলে বয়স, ডায়েট কিংবা সংযম-সবকিছু ভুলে মানুষ বেশি খেয়ে ফেলেন। এই আমের আঁশ কম, শাঁস বেশি এবং স্বাদে অনন্য হওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ-সব বয়সী মানুষের কাছে এটি সমান প্রিয়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হয় এবং প্রতিবছর হাজার হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার সদর, তালা, কলারোয়া, দেবহাটা , আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য আমবাগান। সাতক্ষীরার মাটি, আবহাওয়া ও লবণাক্ততাসহ পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এখানকার আমে একটি স্বতন্ত্র স্বাদ তৈরি হয়। শুধু দেশেই নয়, সাতক্ষীরার আম এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে সাতক্ষীরার আমের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে আম শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে আম মৌসুমে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে মাঝেমধ্যে এই সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী অপরিপক্ক আম আগেভাগে গাছ থেকে নামিয়ে কৃত্রিম উপায়ে মেডিসিন প্রয়োগ করে দ্রুত পাকিয়ে বাজারজাত করেন। এতে আমের স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বিভিন্ন সময়ে অপরিপক্ক ও কেমিক্যালযুক্ত আম জব্দ করে ধ্বংসও করা হয়েছে। মূলত এই অনিয়ম ঠেকাতে এবং বাজারে নিরাপদ ও পরিপক্ক আম নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন আম পাড়া ক্যালেন্ডার চালু করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম পাড়া নিষিদ্ধ করায় ক্রেতারা এখন তুলনামূলক নিরাপদ ও সুস্বাদু আম পাচ্ছেন।

আম শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। আমে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। পাকা আম চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। গরমের সময় শরীরে শক্তি জোগাতেও আম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের মতে, পরিমিত পরিমাণে আম খেলে হজম শক্তি বাড়ে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পায়।

সাতক্ষীরার আম শিল্পকে ঘিরে অর্থনীতির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা আরও বহুগুণ বাড়তে পারতো যদি এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেললাইন বাস্তবায়ন হতো। সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। স্থানীয়দের মতে, এই রেললাইন চালু হলে আম, চিংড়ি মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনে বিপ্লব ঘটবে। বর্তমানে যেখানে কুরিয়ার বা সড়কপথে প্রতি কেজি আম ঢাকায় পাঠাতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, সেখানে রেলপথ চালু হলে খুব অল্প খরচে দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য পরিবহন সম্ভব হতো। এতে একদিকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হতেন, অন্যদিকে দেশের সাধারণ ভোক্তারাও কম দামে মানসম্মত আম কিনতে পারতেন।

এছাড়া রেললাইন চালু হলে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারতো। সাতক্ষীরার বিখ্যাত চিংড়ি মাছ, আম, পাট ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা যেতো। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ভ্রমণেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতো। সড়কপথের তুলনায় রেলপথে আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সহজেই সাতক্ষীরার সুন্দরবন দেখতে আসতে পারতেন। এতে পর্যটন খাত যেমন সমৃদ্ধ হতো, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিও নতুন গতি পেতো।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব কাজ কিংবা জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি। ফলে সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে। অথচ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে সাতক্ষীরা শুধু আম কিংবা চিংড়ির জেলা হিসেবেই নয়, দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হতে পারতো।

আজ যখন সাতক্ষীরার বাজার আমের ঘ্রাণে মুখরিত, যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাতক্ষীরার আমের কদর বাড়ছে, তখন এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজন আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষিভিত্তিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। কারণ সাতক্ষীরার আম শুধু একটি ফল নয়, এটি এ অঞ্চলের অর্থনীতি, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার প্রতীক।

সাতক্ষীরার আম: রেললাইন হলে খুলবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশে সংঘটিত কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা কিংবা ন্যায়বিচারবিরোধী কর্মকাণ্ডকে সরকার কখনো তামাদি হতে দেবে না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা থেকে শুরু করে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত সব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে শাপলা শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। সেসময় সরকারের সমর্থিত গণমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয় এবং বিএনপির বহু নেতাকে মামলায় জড়ানো হয়।

 

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এমন কোনো গণতন্ত্রমনা অংশ নেই যারা নির্যাতনের শিকার হয়নি।

 

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, জাতীয় সংসদ ইতোমধ্যে শাপলা চত্বরের শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং জুলাই অভ্যুত্থানসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের ঘটনাপ্রবাহ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, বিরোধী দলের সমাবেশে হামলা, শাপলা চত্বরের অভিযান এবং ফ্যাসিবাদী আচরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ একসময় জাতীয় ঐক্যে পরিণত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে।

 

মহুরম বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য গড়ে উঠেছিল তার গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের কারণেই।

 

একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় সংসদে শাপলা শহীদদের স্মরণ করার মধ্য দিয়ে সরকার জাতির সামনে দায়বদ্ধতার বার্তা দিয়েছে।

স্মরণসভায় তথ্যমন্ত্রী একাত্তরের গণহত্যা থেকে শাপলা হত্যাকাণ্ড, সব ঘটনার বিচার করবে সরকার

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরবেষ্টিত তিন জেলার সাতটি নদীর পানি এখনো কয়েকটি পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী তিন দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

 

শুক্রবার প্রকাশিত কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিন অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নদীর পানি কিছু এলাকায় বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের নলজুর নদীর পানি জগন্নাথপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

নেত্রকোণায় ধনু-বাউলাই, ভুগাই-কংস, সোমেশ্বরী ও মগরা নদীর কয়েকটি পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। একইভাবে হবিগঞ্জের কালনি-কুশিয়ারা ও সুতাং নদীতেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

 

তবে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজান ও হাওর এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বেশ কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে, এরপর পরিস্থিতির আরও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রহমান বলেন, বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং ধীরে ধীরে পানি কমছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

বুলেটিনে আরও বলা হয়, সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে পারে। পাশাপাশি নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন নদীর পানিও আগামী দিনগুলোতে স্থিতিশীল বা হ্রাসের দিকে যেতে পারে, যা হাওর এলাকার নিম্নাঞ্চলে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।

হাওরে বন্যা পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, এখনো ৭ নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d