চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী মারসা পরিবহণের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

শনিবার (৯ মে) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হোটেল ফোর সিজনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

লোহাগাড়া থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামমুখী একটি মারসা পরিবহণের বাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখী একই কোম্পানির অন্য একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কক্সবাজারগামী বাসটি সড়কের পূর্ব পাশে একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। সংঘর্ষে বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

 

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

 

এদিকে দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

 

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ উদ্দীন চৌধুরী জানান, হতাহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


সৌদিতে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে নওগাঁ- আত্রাইয়ের ১৩ জন

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় বলেছে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় আগুনে দগ্ধ হয়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্হানীয় প্রশাসন। পাশের নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার আরও তিন প্রবাসী নিহত হয়েছেন।

 

রোববার স্হানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় এ আগুন লাগে।

 

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় বলেছে, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের পাঠানো বার্তায় বলা হয়, “স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এখনো উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহসমূহ শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।”

 

দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “নিহতদের নাম পরিচয় শনাক্তে তারা স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।”

 

এর আগে নিহতদের স্বজনদের বরাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রিতিনিধিরা বলছেন, রোববার দুপুরের দিকে ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগে। এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশি ছাড়াও অন্য দেশের নাগরিক আছে কিনা সেটা অবশ্য স্বজনরা বলতে পারেননি।

 

 

রাত ১টার দিকে সৌদি দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল বলেছিলেন, সৌদির কারখানায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা তখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া গেলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

 

শরীফুল বলেন, শ্রম কাউন্সেলরসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।

 

দুর্ঘটনার বিষয়ে নিহতের স্বজনদের বরাতে নাটোরের খাজুরা ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, সৌদি আরবের সময় দুপুর ২টার দিকে সোফা কারখানায় সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। তাদের একজন চুল কাটাতে বাইরে গিয়েছিলেন। তিনি ফিরে এসে আগুন দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের পরে ১৭ জনের মরদেহ শোয়া অবস্থায় উদ্ধার করে।

 

এদিকে রাত সোয়া ১টার দিকে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গিয়েছিল। পরে ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়। এখনও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

 

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে। ইউএনও খোঁজ নিতে বের হয়েছেন।

 

আত্রাইয়ের ইউএনও বলেন, নিহতদের মধ্যে উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর প্রথমে পাওয়া যায়। পরে আরও মৃত্যুর খবর আসে।

 

আত্রাই উপজেলার নিহতদের প্রাথমিক ভাবে তালিকা পাওয়া যায়।

১. মো. জালাল — পিতা: মৃত তমেজ উদ্দিন — গ্রাম: পারকাসুন্দা, পাঁচুপুর ইউনিয়ন।

২. মো. সুমন হোসেন — পিতা: বাদল — গ্রাম: ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

৩. মো. হাসিবুল হাসান শুভ — পিতা: চঞ্চল — গ্রাম: ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

৪. মো. মোহন প্রামাণিক — পিতা: গুফফার প্রামাণিক — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৫. মো. সুমুন প্রামাণিক — পিতা: গুফফার প্রামাণিক — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৬. মো. রুবেল হোসেন — পিতা: জান্নার — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৭. মো. কলিউদ্দিন প্রামাণিক — পিতা: ফজলু — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৮. মো. সাগর হোসেন — পিতার নাম: উল্লেখ নেই — গ্রাম: সাধনগর, বিশা ইউনিয়ন।

৯. মো. ফরিদ শেখ — পিতা: ময়েন শেখ — গ্রাম: উদনপৈ, শাহগোলা ইউনিয়ন।

১০. মো. মজিদুল ইসলাম — পিতা: মজনু মিয়া — গ্রাম: মাদবপুর, বিশা ইউনিয়ন।

১১.সোহেল রানা,পিতা- অজ্ঞাত, সাং ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

১২।মো.মিনহাজ, পিতা- অজ্ঞাত, সাং মধ্যেবোয়ালিয়া, পাচুপুর ইউনিয়ন।

১৩।মো. মহিদুল ইসলাম, পিতা- অজ্ঞাত,সাং খরসতী, বিশা ইউনিয়ন।

 

উপজেলাজুড়ে এমন মৃত্যুর খবরে গ্রামে গ্রামে শোকবিহ্বল হয়ে পড়েছেন সবাই। নিহতের গ্রামের বাড়িতে শোকাতুর হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

 

 

অপরদিকে ওই সোফা কারখানায় লাগা আগুনে নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিন বাসিন্দা থাকার তথ্য দিয়েছেন খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন।

নিহতদের স্বজনদের বরাতে তিনি এ খবর দেন।

 

নিহতরা হলেন- খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন সোহাগ, দিঘীর পাড় এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয়।

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “একসাথে এতগুলো প্রবাসী ভাইয়ের চিরতরে হারিয়ে যাওয়া খুবই শোকের ও বেদনার।”

 

এই দিকে ক্ষতিপূরণ দেবে বলছে মন্ত্রণালয়

 

এ দুর্ঘটনার খবর জানার পর থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জরিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করে। তাদের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

 

নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

 

পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার তথ্যও দেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে তুলে ধরেন তিনি।

 

নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেছেন মন্ত্রী।

 

প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক।

 

নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক বার্তায় তিনি বলেন, “জীবিকার তাগিদে সুদূর সৌদি আরবে কর্মরত আমাদের এই প্রবাসী ভাইদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে আমি গভীর শোকাহত এবং নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।”

 

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা।

 

নওগাঁর জেলা প্রশাসক বলেন, সৌদি আরবে কর্মরত এই প্রবাসীদের এমন মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে তিনি গভীর শোকাহত। নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তারিখঃ ১০-৮-২০২৬

সৌদিতে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে নওগাঁ- আত্রাইয়ের ১৩ জন

 

২৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধশপার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৮ বছরের বেশি সময়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত ও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধিকার পায়নি। পাহাড়ের একাধিক সূত্র বলছে, আদিবাসীরা নিজেদের পরিচয়ের স্বীকৃতি পাননি। অভাব, অবহেলা, বঞ্চনার মধ্য দিয়ে কাটছে জীবন। একসময়ের শান্ত পাহাড় এখন অশান্ত। বিভিন্ন গোষ্ঠীর রক্তচক্ষুর সামনে বাস করতে হচ্ছে তাদের।

 

পার্বত্যাঞ্চলের এই পরিবেশে আগামীকাল রোববার পালন করা হবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬। জাতিসংঘের এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য, ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান: অধিকার এগিয়ে নেওয়া, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তঃপ্রজন্মের কল্যাণ প্রচার’।

 

দেশের বিশেষায়িত তিন জেলা বান্দরবার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ির পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন সশস্ত্র গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে সেই সময়ের আওয়ামী লীগ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দীর্ঘ ২৮ বছরে পাহাড়ে শান্তি আসেনি। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলছে তাদের জীবন। দীর্ঘ সময়েও আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি মেলেনি।

 

আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি, পরের জমিতে বাস

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ঘনমোড় মৌজার শিলকাটা গ্রামের জ্ঞান লাল চাকমা ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন অফিসে তার পাঁচ একর বসতভিটা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বর্তমানে ওই জমিতে পুনর্বাসন করা লোকজন বসবাস করছেন। বিরোধ নিস্পত্তি না হওয়ায় জ্ঞান লালকে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলার দেবাছড়ি গ্রামে অন্যের ভূমিতে বসবাস করতে হচ্ছে।

 

জমি হারিয়ে উদ্বাস্তু জীবন

কৃষক ন্যালশন চাকমা পাহাড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার পাবলাখালি থেকে পাশ্ববর্তী দেশে শরনার্থীর জীবন কাটিয়ে সম্প্রতি নিজ ভূমে ফিরে আসেন। তবে নিজের জমিজমা ফেরত পাননি। তিনি বর্তমানে একই উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট এলাকায় পরিবার নিয়ে উদ্বাস্তুর মতো জীবন কাটাচ্ছেন। জ্ঞান লাল ও ন্যালশনের মতো আরো অনেক পবিবার বসতভিটা হারিয়ে উদ্বাস্তুর মতো জীবনযাপন করছেন।

 

আদিবাসী ফেরামের কর্মসূচি

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে র‌্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য জগদীশ চন্দ্র বর্মন।

 

অতিথি হিসেবে থাকবেন মানবাধিকার কর্মী ও নারী অধিকার কর্মী খুশী কবির, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য (নাটোর-নওগাঁ) আন্না মিনজ, সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি উষাতন তালুকদার, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা প্রমুখ।

 

এ ছাড়া খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান— তিন পার্বত্য জেলার আদিবাসীরা দিবসটি পালন উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছেন। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় দিবসটি পালন করা হবে।

 

ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কার্যকারিতা নেই

জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ভূমিস্বত্ব নিশ্চিত করে ভূমি অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। এ লক্ষে ভূমি সমস্যা সমাধানে ১৯৯৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করে সরকার। পরবর্তীতে ২০০১ সালে এ কমিশনের আইনটি সংশোধনী আকারে জাতীয় সংসদে পাস হলে কমিশন পুর্নগঠিত হয়। এতে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতিকে চেয়ারম্যান করে ৯ সদস্যর সমন্বয়ে কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তবে পার্বত্য চুক্তির কিছু ধারা সাংঘর্ষিক হওয়ায় আইন সংশোধনে দীর্ঘ ১৬ বছর লেগে যায় কমিশনের। পরে ২০১৬ সালে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন জাতীয় সংসদে সংশোধনী আকারে পাস হয়। এ কমিশনে তিন বছর মেয়াদে ইতোমধ্যে পাঁচজন চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয়েছেন। এ কমিশনে যষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজ।

 

ভারত ফেরত শরণার্থীরা ভূমি ফিরে পাননি

পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারত থেকে ফিরে আসা উপজাতীয় শরণার্থী এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের চিহ্নিত ও পুনর্বাসনের লক্ষে উপজাতীয় শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটিতে ইতোমধ্যে পাঁচজন চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয়েছেন। সর্বশেষ ষষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় সুদত্ত চাকমা চলতি বছরে ১০ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করায় বর্তমানে পদটি শূন্য রয়েছে। অভ্যন্তরীন উদ্ধাস্তু হিসেবে ৮০ হাজারের অধিক পরিবার তালিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ভারত প্রত্যাগত প্রায় ৩৭ হাজার পরিবারকে ২০ দফা প্যাকেজের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তারা নিয়মিত রেশন পেলেও অনেকেই নিজেদের ভিটেমাটি ফেরত পাননি।

 

টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, বর্তমানে টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান পদটি খালি। এর আগে কমিটির ২৮টি বৈঠক হয়েছিল। তবে কোনো সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হয়নি। ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্ষন্ত এক পক্ষীয়ভাবে পাহাড়িদের ওপর হামলা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ ২৯টি ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে জানমালের নিরাপত্তাহীনতার অভাব ছাড়াও উপরন্তু উদ্ধাস্তু হওয়া লোকজন তাদের নিজদের জমি ফেরত পাননি।

 

সন্তোষিত চাকমার মতে, জাতিসংঘের ঘোষিত আদিবাসী ঘোষনাপত্র বাস্তবায়ন, পার্বত্য চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন ও আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি মিললে এ অঞ্চলের আদিবাসীদের অস্তিত্ব ও তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। জাতীয় মানবধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান বলেন, আদিবাসীদের জীবন-জীবিকার মধ্যে ভূমি অধিকার জড়িত। ভূমি অধিকার হচ্ছে সমষ্টিক অধিকার। যুগ যুগ ধরে প্রথাগত রীতিনীতির ভিত্তিতে আদিবাসীরা এ ভূমি অধিকার ভোগ করে আসছে। কিন্তু এ ভূমি অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

২৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ভূমির অধিকার মেলেনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর

দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিনই বেঁচে থাকার লড়াই করছেন রেহানা বেগম (২৯)। ঘর ভাড়ার টাকা পরিশোধে বিক্রি করতে হয়েছে মাথার চুল। এখন ঠাঁই হয়েছে খুলনার মংলা রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর এলাকার রেল লাইনের পাশে।

 

এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বাঁশ-খুটি দিয়ে ঘর তুললেও নেই চালে ছাউনি। রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে চলে রেহানা ও তার শিশু দুই সন্তানের জীবন। স্বামীর নির্যাতন, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করেই রেললাইনের পাশে কাটে তাদের দিন।

 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এই নারী এখন চার বছরের ছেলে রোহান ও তিন বছরের মেয়ে আলোমতিকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন রেললাইনের পাশে। রেহানা বেগম তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। তার ছোট বোন মানসিক প্রতিবন্ধী। বৃদ্ধ বাবা অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা উপার্জন করেন, তা দিয়েই কোনোভাবে চলে তার সংসার। নিত্যদিনের অভাবে রেহানাকে বাবার রোজগারে অনেক সময় ভাগ বসাতে হয়।

 

রেহানার স্বামী জাফর আলী মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। রেহানার ভাষ্য, স্বামী মাদক কেনার টাকার জন্য প্রায়ই তাকে মারধর করেন। কখনো ভিক্ষা করে বা মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে যে টাকা পান, সেটিও স্বামী নিয়ে যান।

 

সংসারে অভাব এতটাই প্রকট যে কিছুদিন আগে দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন রেহানা। কিন্তু ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় সেখান থেকেও চলে আসতে হয় তাকে। পরে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া টাকা এবং নিজের মাথার চুল বিক্রি করে মোট ৩ হাজার ৫০০ টাকা জোগাড় করে বাড়িভাড়া পরিশোধ করেন। যার মধ্যে নিজের চুল মাত্র ১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি।

 

এখন তার ঠিকানা রেললাইনের পাশে। স্থানীয় কয়েকজন মানুষের সহায়তায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি হয়েছে। কিন্তু টিন কেনার সামর্থ্য না থাকায় ছাউনি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে খোলা আকাশের নিচেই দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে তাকে।

 

রেহানা বেগম বলেন, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। ঘর নেই, খাবারও নেই। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চেয়ে যা পাই, তা দিয়েই সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিই। স্বামী মাদক খেয়ে আমাকে মারধর করে। শেষ পর্যন্ত ঘরের ভাড়া দিতে নিজের চুলও বিক্রি করতে হয়েছে। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই—সন্তান দুটোকে নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে চাই।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘যখন খুব ক্ষুধা লাগে, তখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ থাকে না। কখনো কখনো বাধ্য হয়ে খালের পানি পান করি। মানুষের কাছ থেকে খাবার চেয়ে এনে খাই, সেই কাপড়ই পরি। মানুষ আমার জন্য একটা ঘর বানিয়ে দিয়েছে, কিন্তু এখনো ছাউনি দিতে পারিনি। এভাবেই চলছে আমার জীবন।’

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরি একটি অসম্পূর্ণ ঘর। সেখানে রেহানার দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে থাকার চেষ্টা। পাশেই তার ছোট বোনও অবস্থান করছেন। ঘরের ওপর কোনো টিন নেই। চারপাশে নেই পর্যাপ্ত বেড়া। বৃষ্টি এলে সেখানে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

 

স্থানীয়রা জানান, রেহানার মতো অসহায় একজন নারীর দুই সন্তান নিয়ে এভাবে বসবাস অত্যন্ত মানবেতর। তার জন্য একটি নিরাপদ ঘর, নিয়মিত খাদ্য সহায়তা এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা জরুরি।

ঘর ভাড়া পরিশোধে অসহায় মায়ের মাথার চুল বিক্রি

সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্ব বরণকারীদের ৩ লাখ টাকা এবং চিকিৎসাধীন আহতদের ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হতাহতদের এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন আহতদেরকে দেখতে যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।

 

হতাহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিআরটিএর মাধ্যমে নির্ধারিত একটি ফরম হাসপাতালের পরিচালকের কাছে দেওয়া হয়েছে। ওই ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা সরকারি অনুদানের টাকা পাবেন।

 

এদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাড়ি চালানো বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বিশেষ করে সকালে মহাসড়ক ফাঁকা থাকায় চালকদের বেপরোয়া গতি ও অহেতুক প্রতিযোগিতার বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানান তিনি।

 

গতকাল ৭ আগস্ট সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হন। মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটিঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়, পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

 

নিহতরা সবাই ছিলেন ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। এ ছাড়া দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সিলেটে বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পাবে ৫ লাখ টাকা

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন (২৬) মারা গেছেন।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। গত ২১ জুন বিকাল ৩টার দিকে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে হামলার ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার পর ৪৯ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

 

নিহত সালাউদ্দিন সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।

 

সাঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক সরকার ও উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা সালাউদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে সম্প্রতি বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে উপজেলা চত্বরে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্টরা উপজেলা চত্বর থেকে চলে যান।

 

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা চত্বরে ওই ঘটনার কয়েক মিনিট পর বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় অবস্থান করছিলেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন।

 

এ সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুলসহ ১০ থেকে ১৩ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সালাউদ্দিনের গলায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। একই ঘটনায় শিবির নেতা সাইফুল্লাহও গুরুতর আহত হন।

 

পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

বগুড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সালাউদ্দিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানে ৪৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

 

সাঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক সরকার বলেন, দীর্ঘ ৪৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে সালাউদ্দিন মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত শিবিরকর্মীর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অনন্যা পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশা ও সাইকেলকে ধাক্কা দিয়েছে। এতে দুইজন নিহত ও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

শনিবার (০৮ আগস্ট) ভোরে পৌরসদরের বরাটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- উপজেলার বাহাদিয়া গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে মো. সেলিম মিয়া (৩৫) ও বর্ষাগাতী গ্রামের মাহতাব উদ্দিনের ছেলে উজ্জল মিয়া। তারা দুজনই অটোরিকশা যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।

 

আহতরা হলেন- পৌরসদরের বরাটিয়া গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে রেনু মিয়া ও পাকুন্দিয়া এলাকার রইছ উদ্দিনের ছেলে ছোটন মিয়া।

 

পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ভোরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অনন্যা পরিবহনের একটি বাস উপজেলার বরাটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় বাসটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও একটি সাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সেলিম মিয়া নামে এক অটোরিকশাযাত্রী নিহত হন। এ সময় সাইকেল আরোহী এবং অটোরিকশার চালক ও অপর এক যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আহত তিনজনকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে উজ্জল মিয়া নামে অপর একজন মারা যান।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, অনন্যা পরিবহনের চালক সম্ভবত ঘুমন্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

 

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বায়োজিদ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই একজন মারা যান। আহত তিনজনের মধ্যে একজনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, একজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন, কিশোরগঞ্জ নেওয়া হলে সেখানে আরও একজন মারা যান। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। চালক পলাতক রয়েছে। ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

কিশোরগঞ্জে অটোরিকশা-সাইকেলে বাসের ধাক্কা, নিহত ২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রকাশিত ফলে এ বছর সব বোর্ডে তুলনামূলক ইংরেজি এবং গণিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করেছে। অপরদিকে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে আইসিটি বিষয়ে।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছর ঢাকা বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৭৮.৪০ এবং ৮২.৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। রাজশাহী বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৭৪.৭ এবং ৭৭.১৭, কুমিল্লা বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৮১.২৯ এবং ৮১.৭৫ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৭১.৮৪ এবং ৮৩.৩৪ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৭২.২৭ এবং ৮০.০৫ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৬৯.২৪ এবং ৭৭.৯৮ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৬৯.১১ এবং ৭৫.৯৬ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৭২.৯১ এবং ৭১.০৫ শতাংশ।

ময়মনসিংহ বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৬৬.৬৪ এবং ৬৯.৬১ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে ইংরেজি এবং গণিতে যথাক্রমে ৭৯.২১ এবং ৬৯.৯৭ শতাংশ, কারিগরি বোর্ডে ৯৪.৭৯ এবং ৭০.৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছেন। অপরদিকে আইসিটিতে সব বোর্ডে সর্বেচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।

 

এবার পরীক্ষায় গড় পাশের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশে। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থী। অথচ ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে সারা দেশে গড় পাশের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ শিক্ষার্থী।

 

এছাড়া ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাশের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। যা গত বছর ছিলে ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ পাশের হার ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে।

এ বছর এসএসসিতে সব থেকে বেশি ফেল করেছে ইংরেজি ও গণিতে

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

 

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।

 

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিল ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন।

 

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ এবং ছাত্রী ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ এবং ছাত্রী ৩৩ হাজার ১৫১ জন।

 

সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়।

 

অনলাইনে ফল দেখার নিয়ম

 

পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর অভিন্ন ওয়েবসাইট eduboardresults.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd-এ গিয়ে ফল দেখতে পারবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাবে।

 

শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফলাফল জানতে পারবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওয়েবসাইটের ‘রেজাল্ট’ কর্নারে গিয়ে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন ব্যবহার করে ফলাফল ডাউনলোড করে প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।

 

এসএমএসে ফল

 

মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানা যাবে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে:

 

SSC <স্পেস> বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> ২০২৬

এরপর সেটি ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।

উদাহরণ: SSC DHA 123456 2026

এ ছাড়া ১৬২২২ নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করা যাবে।

পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১১–১৭ আগস্ট

 

ফলাফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীরা আগামী ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবে। এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

 

কোনো শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা কার্যালয়ে সরাসরি গিয়ে ফলাফল সংগ্রহ করা যাবে না।

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

সৌদিতে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে নওগাঁ- আত্রাইয়ের ১৩ জন

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় বলেছে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় আগুনে দগ্ধ হয়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্হানীয় প্রশাসন। পাশের নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার আরও তিন প্রবাসী নিহত হয়েছেন।

 

রোববার স্হানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় এ আগুন লাগে।

 

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় বলেছে, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

 

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের পাঠানো বার্তায় বলা হয়, “স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এখনো উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহসমূহ শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।”

 

দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “নিহতদের নাম পরিচয় শনাক্তে তারা স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।”

 

এর আগে নিহতদের স্বজনদের বরাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রিতিনিধিরা বলছেন, রোববার দুপুরের দিকে ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগে। এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশি ছাড়াও অন্য দেশের নাগরিক আছে কিনা সেটা অবশ্য স্বজনরা বলতে পারেননি।

 

 

রাত ১টার দিকে সৌদি দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল বলেছিলেন, সৌদির কারখানায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা তখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া গেলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

 

শরীফুল বলেন, শ্রম কাউন্সেলরসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।

 

দুর্ঘটনার বিষয়ে নিহতের স্বজনদের বরাতে নাটোরের খাজুরা ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, সৌদি আরবের সময় দুপুর ২টার দিকে সোফা কারখানায় সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। তাদের একজন চুল কাটাতে বাইরে গিয়েছিলেন। তিনি ফিরে এসে আগুন দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের পরে ১৭ জনের মরদেহ শোয়া অবস্থায় উদ্ধার করে।

 

এদিকে রাত সোয়া ১টার দিকে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গিয়েছিল। পরে ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়। এখনও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

 

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে। ইউএনও খোঁজ নিতে বের হয়েছেন।

 

আত্রাইয়ের ইউএনও বলেন, নিহতদের মধ্যে উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর প্রথমে পাওয়া যায়। পরে আরও মৃত্যুর খবর আসে।

 

আত্রাই উপজেলার নিহতদের প্রাথমিক ভাবে তালিকা পাওয়া যায়।

১. মো. জালাল — পিতা: মৃত তমেজ উদ্দিন — গ্রাম: পারকাসুন্দা, পাঁচুপুর ইউনিয়ন।

২. মো. সুমন হোসেন — পিতা: বাদল — গ্রাম: ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

৩. মো. হাসিবুল হাসান শুভ — পিতা: চঞ্চল — গ্রাম: ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

৪. মো. মোহন প্রামাণিক — পিতা: গুফফার প্রামাণিক — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৫. মো. সুমুন প্রামাণিক — পিতা: গুফফার প্রামাণিক — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৬. মো. রুবেল হোসেন — পিতা: জান্নার — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৭. মো. কলিউদ্দিন প্রামাণিক — পিতা: ফজলু — গ্রাম: গন্ডগোহালী, কালিকাপুর ইউনিয়ন।

৮. মো. সাগর হোসেন — পিতার নাম: উল্লেখ নেই — গ্রাম: সাধনগর, বিশা ইউনিয়ন।

৯. মো. ফরিদ শেখ — পিতা: ময়েন শেখ — গ্রাম: উদনপৈ, শাহগোলা ইউনিয়ন।

১০. মো. মজিদুল ইসলাম — পিতা: মজনু মিয়া — গ্রাম: মাদবপুর, বিশা ইউনিয়ন।

১১.সোহেল রানা,পিতা- অজ্ঞাত, সাং ডুবাই, বিশা ইউনিয়ন।

১২।মো.মিনহাজ, পিতা- অজ্ঞাত, সাং মধ্যেবোয়ালিয়া, পাচুপুর ইউনিয়ন।

১৩।মো. মহিদুল ইসলাম, পিতা- অজ্ঞাত,সাং খরসতী, বিশা ইউনিয়ন।

 

উপজেলাজুড়ে এমন মৃত্যুর খবরে গ্রামে গ্রামে শোকবিহ্বল হয়ে পড়েছেন সবাই। নিহতের গ্রামের বাড়িতে শোকাতুর হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

 

 

অপরদিকে ওই সোফা কারখানায় লাগা আগুনে নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিন বাসিন্দা থাকার তথ্য দিয়েছেন খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন।

নিহতদের স্বজনদের বরাতে তিনি এ খবর দেন।

 

নিহতরা হলেন- খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন সোহাগ, দিঘীর পাড় এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয়।

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “একসাথে এতগুলো প্রবাসী ভাইয়ের চিরতরে হারিয়ে যাওয়া খুবই শোকের ও বেদনার।”

 

এই দিকে ক্ষতিপূরণ দেবে বলছে মন্ত্রণালয়

 

এ দুর্ঘটনার খবর জানার পর থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জরিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করে। তাদের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

 

নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

 

পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার তথ্যও দেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে তুলে ধরেন তিনি।

 

নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেছেন মন্ত্রী।

 

প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক।

 

নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক বার্তায় তিনি বলেন, “জীবিকার তাগিদে সুদূর সৌদি আরবে কর্মরত আমাদের এই প্রবাসী ভাইদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে আমি গভীর শোকাহত এবং নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।”

 

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা।

 

নওগাঁর জেলা প্রশাসক বলেন, সৌদি আরবে কর্মরত এই প্রবাসীদের এমন মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে তিনি গভীর শোকাহত। নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মোবাইল নং- ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তারিখঃ ১০-৮-২০২৬

সৌদিতে সোফা কারখানার আগুনে নিহতদের মধ্যে নওগাঁ- আত্রাইয়ের ১৩ জন

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে প্রকাশ হতে যাচ্ছে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার ফলাফল। সোমবার (১০ আগস্ট) সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে আগেই জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৮২ দিন পর এবার ফলাফল প্রকাশ হতে যাচ্ছে। এর আগে করোনার সময়ে ফলাফল প্রকাশ দেরিতে হলেও এতটা দেরি হয়নি। ফলে এবার ফলাফল প্রকাশে ভেঙে যাচ্ছে গত ২০ বছরের রেকর্ড।

 

শিক্ষক-অভিভাবকরা বলছেন, ফল প্রকাশে এমন বিলম্বে ফলপ্রার্থী প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উদ্বেগে দিন কাটছে। তাদের অনেকে ট্রমায় ভুগছেন। এছাড়া ফল বিপর্যয়সহ নানান নেতিবাচক তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক-অভিাবকরা।

 

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, ফল প্রকাশের এমন দেরিতে শিক্ষাপঞ্জিও এলোমেলো হয়ে পড়তে পারে। তারা বলছেন, দেরিতে ফল প্রকাশের কারণে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তিতেও দেরি হবে। এতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আগেই তিনমাসের সেশনজটে পড়তে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। যার প্রভাব পড়বে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না নিয়েই তাদের এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে বাধ্য করা হবে। এতে শিখন ঘাটতি বাড়বে এবং নাম-সর্বস্ব ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষাজীবন শেষ করবেন অনেক শিক্ষার্থী।

 

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন পাবলিক পরীক্ষাগুলোর ফল প্রকাশের সময়সীমা কমিয়ে আনার ঘোষণা দেন। ওইদিন শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।

কিন্তু পরে আবার শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানান, ২০ জুলাই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফল এখনো প্রস্তুত হয়নি। পূর্বঘোষিত সময়ে ফল প্রকাশ না করায় পরীক্ষার্থী-অভিভাবকদের মনে নানান প্রশ্ন দেখা দেয়। সন্দেহ-সংশয় দানা বাঁধতে শুরু করে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে, ১০ আগস্ট ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়। সে অনুযায়ী সোমবার ফল প্রকাশ করতে যাচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এতে ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙছে, যেটি কি না হতে যাচ্ছে সবচেয়ে দেরিতে ফল প্রকাশের রেকর্ড।

 

কেনো এতো দেরি এবার?

 

চলতি বছর ২১ এপ্রিল এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। ২০ মে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়। সে হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসির ফল প্রকাশের কথা ছিল। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময়সীমা আরও কমিয়ে আনার উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী।

 

মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রস্তুতের কথা জানান শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরাও। গত ১১ জুলাই ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জাগো নিউজকে জানিয়েছিলেন, তারা সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই ফল প্রকাশ করা হবে। অথচ এর এক সপ্তাহ পর বোর্ড চেয়ারম্যান ২০ জুলাই ফল প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানান।

 

বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। বোর্ড চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে এক ধরনের কারণ জানান। আবার নাম প্রকাশ না করে ভিন্ন তথ্য জানান বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার কর্মকর্তারা।

 

প্রকাশ্যে বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে ঝামেলার কারণে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিতে পারেননি তারা। এতে সংকটের তৈরি হয়েছে।

 

আর নাম প্রকাশ না করে ফল বিপর্যয়ের ইঙ্গিত করে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ভুল-ত্রুটি ও ‘ফল সমন্বয়’ করার জন্য প্রস্তুতিতে সময় লেগেছে। প্রথম দফায় কাজ শেষ হলেও তা পুনরায় আবার প্রস্তুত করা হয়। যদিও ফল বিপর্যয়ের এমন গুঞ্জন ও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

 

নিয়ম অনুযায়ী- এসএসসি পরীক্ষা শেষে ফল প্রকাশ করা হবে। সেটা জুলাইয়ের আগেই শেষ করতে হবে। কারণ শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, জুলাই থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়। তার আগেই এসএসসি পাস করাদের আবেদন, ভর্তি শেষ করার কথা।

 

অথচ এবার এসএসসির ফল প্রকাশ করতেই আগস্টের ১০ তারিখ অর্থাৎ, এক মাস ১০ দিন পিছিয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। আবেদন ও ভর্তি শেষ করতে আরও দেড় থেকে দুইমাস লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে ক্লাস শুরু হতে পারে অক্টোবরে। অর্থাৎ, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ক্লাস শুরুর আগেই তিন মাসের সেশনজটে পড়বেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক মজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পাবলিক পরীক্ষাগুলোর কারণে আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে প্রায় এক থেকে দেড় বছর সময় নষ্ট হচ্ছে। এসএসসির পর বিরতি এবং অলস সময়। এইচএসসির পরও ফল পেতে তাদের অপেক্ষায় থাকতে হয়। এ গ্যাপ (বিরতি) কমাতে পারলে আরও কম সময়ে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি শেষ হবে।

এসএসসির ফল প্রকাশ আজ, ভাঙছে ২০ বছরের রেকর্ড

নীলফামারীতে জেলা পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাদারিত্বের উপর গুরুত্বআরোপ

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

পুলিশ সদস্যের শৃঙ্খলা, পরিছছ্চ্ছন্নতা, পোশাকের সঠিক ব্যবহার ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশের উদ্যোগে কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ৯ টায় নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে অনুষ্ঠিত এ কিট প্যারেডে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অফিসার ও ফোর্স সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। কিড প্যারেডে অভিবাদন গ্রহণ ও পুলিশ সদস্যের কিট সামগ্রী পরিদর্শন করেন নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

(প্রশাসক ও অর্থ) মোহসিন। এই সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত কিট সামগ্রীর মান, যথাযথ ব্যবহার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জিএস মার্ক প্রদান করা হয়। এছাড়াও যেসব পুলিশ সদস্যের কিট সামগ্রী পাওনা রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কিট সামগ্রী সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। কিট পরিদর্শন শেষে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার কোন বিকল্প নেই। ড্রেস রুলস যথাযথভাবে মেনে পোশাক পরিধান, নিয়মিত পিটি-প্যারেডে অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা,

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক দক্ষতা ধরে রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে জনগণের সেবায় আরও আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহসিন। কিট প্যারেডে সরকারি পুলিশ সুপার (প্রবিঃ) জ্যোতির্ময় ঘোষ, সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবিঃ) মোঃ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ খান, আরআই, পুলিশ লাইন্স নীলফামারী সহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পথ মর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নীলফামারীতে জেলা পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাদারিত্বের উপর গুরুত্বআরোপ 

ভূল্লী দারাজগাঁওয়ে বিয়ের দাবিতে এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়ার অনশন

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নে দারাজগাঁও খাঁনবাড়ী গ্রামে সাকিব নামে এক যুবকের বাড়ীতে বিয়ের দাবিতে সুমাইয়া নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী অনশন করতেছে।

রবিবার দুপুর থেকে প্রেমিক সাকিবের বাড়ীতে বিয়ের দাবিতে অনশন করেন সুমাইয়া।

প্রেমিক সাকিব দেবীপুর ইউনিয়নের দারাজগাঁও খাঁনবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ধুকরু মোহাম্মদ এর ছেলে।

জানা যায়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিকা সুমাইয়ার সাথে দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন সাকিব।

এই সুযোগে প্রেমিকা সুমাইয়াকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যাইতো সাকিব।

হঠাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে আজ তার বাড়ীতে বিয়ের দাবিতে অনশন করেন সুমাইয়া।

এ সময় তাকে মারধর করে বাড়ী থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন সাকিবের পরিবারের সদস্যরা।

ভূল্লী দারাজগাঁওয়ে বিয়ের দাবিতে এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়ার অনশন

গাইবান্ধায় আদিবাসী ফোরাম ও বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশ

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মে সাঁওতাল হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের বিচার, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, বাপ-দাদার জমি ফেরত এবং তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড (EPZ) নির্মাণ বন্ধের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ গাইবান্ধা, এএলআরডি, কাপেং ফাউন্ডেশন এবং আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থা-ঘোড়াঘাটের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ড. ফিলিমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন,খাদিজা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক, ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি,ওয়ানলাল সুপার, আহ্বায়ক,কাপেং ফাউন্ডেশন ও কাপেং প্রতিনিধি রবীন্দ্র নাথ মার্ডী, সভাপতি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ,সিরাজুল ইসলাম বাবু, আহ্বায়ক, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ, গাইবান্ধাপ্রভাস চ্যাটার্জী, সহ-সভাপতি, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি নয়মি মার্ডী, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, গাইবান্ধা,স্বপন টুডু, সদস্য, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ প্রতিনিধি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম।

 

সমাবেশে বক্তারা সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মে সংঘটিত সাঁওতাল হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, লুণ্ঠিত মালামালের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং সাঁওতালদের পৈতৃক জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানান। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রক্তভেজা তিন ফসলি জমিতে কোনো ধরনের ইপিজেড নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। অবিলম্বে ভূমিদস্যু ও হামলাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

গাইবান্ধায় আদিবাসী ফোরাম ও বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নেয়ামত উল্লাহর ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেন। এ সময় কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টর বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস একসাথে চলে না’ এবং ‘ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস চলে, প্রশাসন কী করে?’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

তারা বলেন, গত ৪ আগস্ট সংঘটিত হামলায় গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নেয়ামত উল্লাহ গুরুতর আহত হন। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামলার শিকার হন তিনি। এতে তার চোয়াল ভেঙে যায় এবং সাতটি দাঁত স্থানচ্যুত হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পরও তিনি রেহাই পাননি। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

 

কর্মসূচি চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. নঈম আক্তার সিদ্দিকী মানববন্ধনে বাধা দেন। এ নিয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা বলেন, আহত সহপাঠীর বিচার দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে এসেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে

।শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু হামলার ঘটনার পরও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী প্রক্টর ড. মো. নঈম আক্তার সিদ্দিকীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

মানববন্ধন থেকে নেয়ামত উল্লাহর দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয় এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

 

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের সফরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা ও হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন। এর মধ্যে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নেয়ামত উল্লাহ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার চোয়াল ভেঙে গেছে। মুখমণ্ডলের কয়েকটি স্থানে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে সহপাঠীরা জানিয়েছেন।

 

জবি ছাত্রের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, প্রশাসনের বাধা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বর দুপুর ১২টা থেকে অনলাইনে ভর্তি আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ১০ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। পাঁচটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে।

 

আজ রবিবার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে একাডেমিক কাউন্সিলের ৮০তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্যের অফিস কনফারেন্স রুমে বিশেষ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এবারও ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা পাঁচটি ইউনিটে অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞান ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদভুক্ত ইউনিট-A, কলা ও আইন অনুষদভুক্ত ইউনিট-B, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ইউনিট-C, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ইউনিট-D এবং চারুকলা অনুষদভুক্ত ইউনিট-E-এর মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

 

সব ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা হবে MCQ পদ্ধতিতে। এবার সব ইউনিটের পরীক্ষা বিভাগীয় শহর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

 

ইউনিট-A-এর পরীক্ষা হবে ১ জানুয়ারি ২০২৭ (শুক্রবার)। ইউনিট-E-এর পরীক্ষা হবে ৮ জানুয়ারি (শুক্রবার)। ইউনিট-B-এর পরীক্ষা হবে ১৫ জানুয়ারি (শুক্রবার)। ইউনিট-C-এর পরীক্ষা হবে ২২ জানুয়ারি (শুক্রবার)। সর্বশেষ ইউনিট-D-এর পরীক্ষা হবে ২৩ জানুয়ারি (শনিবার)।

 

ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের ২০২৩ অথবা ২০২৪ সালে এসএসসি বা সমমান এবং ২০২৬ সালে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

 

বিজ্ঞান ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদভুক্ত ইউনিট-A-এ আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৭.০০ থাকতে হবে। তবে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৩.০০-এর কম হলে আবেদন করা যাবে না।

 

কলা ও আইন অনুষদভুক্ত ইউনিট-B-এর জন্য দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.০০ থাকতে হবে। কোনো একটি পরীক্ষায় জিপিএ ২.৭৫-এর কম হলে আবেদন করা যাবে না।

 

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ইউনিট-C-এর ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.৫০ থাকতে হবে। কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৩.০০-এর কম হলেও আবেদনযোগ্যতা থাকবে না।সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ইউনিট-D-এর জন্য দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.০০ থাকতে হবে। কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ২.৭৫-এর কম হওয়া যাবে না।

 

চারুকলা অনুষদভুক্ত ইউনিট-E-তে আবেদনের জন্য দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৫.৫০ থাকতে হবে। কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ২.৫০-এর কম হলে আবেদন করা যাবে না। ভর্তি কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি এবং ইউনিটভিত্তিক ভর্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৪ এপ্রিল ২০২৭ থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনলাইন আবেদন, ভর্তি পরীক্ষা এবং পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বহিঃসদস্য এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন।

জবির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ, আবেদন শুরু ১৫ নভেম্বর

দেশে প্রাইভেট টিউশন মহামারি আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, অতিরিক্ত প্রাইভেট নির্ভরতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই বিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পাঠদান ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

 

রোববার (৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে। এ জন্য প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা, কর্মমুখী শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পরও অনেক শিক্ষার্থী মৌলিক বিষয়গুলো ঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারছে না বলে অভিযোগ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধাপে ধাপে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

একই সঙ্গে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলাকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

দেশে প্রাইভেট টিউশন মহামারি আকার ধারণ করেছে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d