ঝগড়া করে স্বামীকে হত্যার পর টুকরো টুকরো, আটক আসমা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
ঝগড়া করে স্বামীকে হত্যার পর টুকরো টুকরো, আটক আসমা

ঝগড়া করে স্বামীকে হত্যার পর টুকরো টুকরো, আটক আসমা

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ কয়েক টুকরো করার অভিযোগ উঠেছে আসমা আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পালং মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করেছে।

 

শুক্রবার (১৫ মে) রাতে শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর এলাকার জিয়া সরদার পিরোজপুর জেলার আসমা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা শরীয়তপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সর্বশেষ চন্দ্রপুর এলাকায় একটি বাসায় থাকতেন তারা।

 

আরও জানা গেছে, সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী আসমা আক্তার লোহার রড দিয়ে জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের ধারণা।

 

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর মরদেহ গোপন করতে ধারাল অস্ত্র দিয়ে দেহ কয়েক টুকরো করা হয়। পরে হাড় ও মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় মরদেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে সদর উপজেলার আটং এলাকার বৃক্ষতলা সংলগ্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। পরে পুরোনো ভাড়া বাসার একটি ফ্রিজে মরদেহের অংশ রাখার চেষ্টা করলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

 

বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে আটক করে।

 

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ড্রাম খুলে মরদেহের অংশ দেখতে পায়। জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী ঘটনাটি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার মারা গেছেন। লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

 

শনিবার (১৬ মে) তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাবা এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্ট করে কায়সার হামিদ লিখেছেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দু:খের সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রানপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে। আমার মেয়ের কোন ভূল ত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।’

 

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘যারা এই দু:সময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুক। আমিন।’

কারিনা কায়সার মারা গেছেন

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদে এক পিতল ব্যবসায়ীর মেয়ে তার প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে নতুন জীবন শুরু করার নেশায় নিজের বাড়িতেই ১ কোটি ২০ লাখ টাকার দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিন্ন জাতে বিয়েতে পরিবারের আপত্তি থাকায় এই তরুণী তার প্রেমিক ও সহযোগীদের বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি করতে সাহায্য করেন।

 

শুক্রবার (১৫ মে) এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরানের মেয়ে আরিবা, তার প্রেমিক আরশাদ ওয়ারসিসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১১ মে ভোরে মুরাদাবাদের এই ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।

 

মুরাদাবাদ পুলিশ জানায়, গত ১১ মে ভোর ৪টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরানের বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। ডাকাতরা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

যাওয়ার সময় তারা বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআরটিও সঙ্গে নিয়ে যায় যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে। ঘটনার সময় বাড়িতে ইমরান, তার স্ত্রী সীমা এবং তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে চারটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।

 

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ইমরানের মেয়ে আরিবা গত সাত-আট বছর ধরে আমরাহ জেলার বাসিন্দা আরশাদ ওয়ারসির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। ভিন্ন জাতের হওয়ায় পরিবার এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তারা দুজনে মিলে বাড়ি থেকে টাকা লুট করে নতুন জায়গায় জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেন।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আরিবা তার প্রেমিককে বাড়িতে কত টাকা রাখা আছে সেই তথ্য দেন। এমনকি এক মাস আগেই তিনি আরশাদকে বাড়ির প্রধান ফটকের চাবি সরবরাহ করেছিলেন এবং ঘটনার দিন রাতে ডিজিটাল লকটি ভেতর থেকে খুলে দেন, যাতে ডাকাতরা সহজেই ঘরে প্রবেশ করতে পারে।

 

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পুলিশ ৪৭ লাখ ২৪ হাজার রুপি নগদ টাকা, চারটি দেশি পিস্তল, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং দুটি গাড়ি উদ্ধার করেছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বাকি টাকা ও অলঙ্কার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত পাঁচজনকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিজের মেয়ের এমন বিশ্বাসহীনতায় ব্যবসায়ীর পরিবারে শোক ও বিস্ময়ের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিককে দিয়ে বাবার বাড়িতেই ডাকাতি করালেন তরুণী

রাজশাহীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আব্দুল কাদের ওরফে সজীব (৩১) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

বুধবার (১৩ মে) রাতে রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল কাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সজীব’ নামে পরিচিত। তার বাবার নাম কামরুল ইসলাম।

 

জানা গেছে, বুধবার সকালে ‘ডিয়া ব্লগ’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ব্যঙ্গ করে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নওগাঁ জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করেন।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, শিমুলের নেতৃত্বে কয়েকজন টিকটকার ব্যক্তিগত গাড়িতে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসরে যাওয়ার সময় মাঝপথে থেমে ভিডিও ধারণ করেন। সেখানে বিএনপি মহাসচিবকে নিয়ে ট্রল ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হয়।

 

ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির নেতারাও ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও অন্যরা সেটি সংরক্ষণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ওঠে।

 

পরে ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের কান ধরে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, তিনি মূলত মজার ভিডিও তৈরি করেন। সে কারণেই রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন নিয়েও ‘ফানি ভিডিও’ করেছিলেন।

 

এদিকে বুধবার রাতে যুবদল, তাঁতী দল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা আব্দুল কাদেরকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেন। তাদের দাবি, একজন সম্মানিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে যেভাবে হেয় করে কথা বলা হয়েছে, তা মানহানিকর।

 

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, থানায় সোপর্দ করা কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভুল স্বীকার করায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও বাদী না থাকায় এবং আমলযোগ্য অপরাধ না হওয়ায় তাকে কোনো ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

মির্জা ফখরুলকে নিয়ে ব্যঙ্গ ভিডিও, ধরা খেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর

সবজির বাজারে অস্বস্তি আরো বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হাতে গোনা দুয়েকটি বাদে প্রায় সব সবজির জন্য গুণতে হবে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তাতে সীমিত আয়ের ক্রেতাদের জন্য বেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে সবজি বাজার।

 

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির চড়া দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

 

গত সপ্তাহে যে কাঁচামরিচ পাওয়া যেত ১২০ টাকায়, আজ ছুটির দিনে এর জন্য গুণতে হচ্ছে ১৬০ টাকা। পেপে, বেগুন, শসার দামও শতকের ঘরে।

 

দোকানদারদের দাবি, বৃষ্টিতে দেশের নিন্মাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় রাজধানীতে সবজির যোগান কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

 

মাছের বাজারও চড়া। তেলাপিয়া আর চাষের পাঙ্গাস মিলছে দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা কেজিতে। চাষের রুই-কাতলার দাম হাকা হচ্ছে চারশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা। মিঠা পানির মাছের জন্য গুণতে হবে ৬শ’ থেকে হাজার টাকা কেজি। মানভেদে চিংড়ি মিলছে ৮শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা কেজিতে।

 

নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় বাজার ইলিশের দেখা মিলছে। তবে, খুব কম ক্রেতারই এই মাছ কেনার সামর্থ্য আছে। এক কেজি আকারের নদীর ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার টাকা। ৭শ’ থেকে ৮শ’ গ্রামের ইলিশ নিতে চাইলে, দিতে হবে দুই হাজার টাকা বেশি।

 

বিক্রেতারা বলছেন, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে নদীতে ইলিশের আহরণ বাড়তে পারে। তখন দামও নাগালের মধ্যে আসবে।

 

এদিকে, ডিমের বাজারে চলছে চরম নৈরাজ্য। মাসের ব্যবধানে ডজনপ্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

 

এ নিয়ে বিক্রেতাদের দাবি, দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছে ব্যবসায়ী সমিতি। এছাড়া উৎপাদন কম আর বৃষ্টির অজুহাত তো রয়েছেই।

 

ব্রয়লার আগের মতোই ১৮০ টাকা, সোনালি ৩২০-৩৪০ টাকা আর দেশি মুরগী বিকোচ্ছে ৭২০-৭৫০ টাকাতেই।

বেড়েছে সবজি-ডিম-মুরগির দাম, ভোক্তার নাভিশ্বাস

কালিয়াকৈরে শেষ বয়সে প্রতারণার ফাঁদে নিঃস্ব এক আনসার সদস্যের পরিবার।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর।

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। জমি কেনার স্বপ্ন দেখিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্যের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ আবুল বাসার। জীবনের পুরো সঞ্চয় আর পেনশনের অর্ধেক টাকা হারিয়ে এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈরের কামারিয়া এলাকার হানিফ আলী ও আলী হোসেনের কাছে ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে ১৫ শতাংশ জমি কেনার জন্য বায়না বাবদ মোট ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য মোঃ আবুল বাসার। দীর্ঘদিন ধরে টাকা লেনদেনের পর ২০২০ সালের ১৫ মে জমি রেজিস্ট্রির দিন নির্ধারণ করা হয়।

 

কিন্তু নির্ধারিত দিনে অভিযুক্ত আলী হোসেন, হানিফ আলী, নজরুল ইসলাম ও ইমরান হোসেন দলিল লেখক আব্দুর রহমানের অফিস থেকে হঠাৎ কৌশলে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

 

পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিযুক্তরা আবুল বাসারকে ১৫ শতাংশ জমির দখল বুঝিয়ে দিলেও কিছুদিন পর জানায়, তাকে পুরো ১৫ শতাংশ নয়, দেওয়া হবে মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ জমি। এরপর আরও সময় পার হলে পুরো জমি রেজিস্ট্রি করে দিতেও অস্বীকৃতি জানায় তারা।

 

ভুক্তভোগী আবুল বাসার জানান, দেশের নিরাপত্তায় চাকরি করে জীবনের সব সঞ্চয় আর পেনশনের অর্ধেক টাকা জমিয়ে শেষ বয়সে একটু নিশ্চিন্তে থাকার আশায় জমি কিনতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এখন প্রতারণার শিকার হয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তার।

কালিয়াকৈরে শেষ বয়সে প্রতারণার ফাঁদে নিঃস্ব এক আনসার সদস্যের পরিবার। 

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।

 

 

এসময় তিনি জানান, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে, যাকে দেখে ফোরকান বলে ধারণা করছেন তার পরিবার ও মামলার বাদী। তবে লাশ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

 

পুলিশ সুপার জানান, পাঁচ খুনের ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি ফোরকানকে গ্রেফতারে তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের এলাকায় এবং অপর একটি দল বেনাপোলে যায়, যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। পরে মেহেরপুরে এক বাস হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন।

 

এরপর পুলিশের একটি দল পদ্মা সেতুতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নামছেন। গাড়ি থেকে নেমে তিনি হাতের ব্যাগ ও মোবাইলটি ফুটপাতের ওপর রাখেন। এরপর দেড় থেকে দুই মিনিট অপেক্ষা করে রেলিংয়ের ওপর উঠে নদীতে লাফ দেন।

 

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মামলার বাদী (নিহত শারমিনের বাবা) এবং গোপালগঞ্জে ফোরকানের ভাই জব্বারসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ভিডিওটি দেখানো হয়। তারা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তাদের কাছে মনে হয়েছে ভিডিওর ওই ব্যক্তিটিই ফোরকান। তবে মুখ পরিষ্কার দেখা না যাওয়ায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

 

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার থেকে ভাড়া করেছিলেন ফোরকান। চালককে তিনি বলেছিলেন যে, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় সেখানে যাওয়ার জন্য তিনি গাড়িটি নিচ্ছেন। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখায় চালক ফোরকানকে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেননি।

 

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি যে ফোরকানের, তা ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফোরকান ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে দ্বিতীয় কারও সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা দেয়া হয়েছে, যাতে কোনো অজ্ঞাতনামা লাশ পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

 

গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

 

পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়ার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। ঘটনার পরদিন শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে তিন শিশুকন্যা, মা শারমিন এবং শ্যালক রসুলের গলাকাটা ও বীভৎস মরদেহ দেখতে পান।

 

মরদেহের পাশে থাকা কিছু প্রিন্ট করা কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ করেছিলেন। ওই পারিবারিক কলহের জেরেই তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

গাজীপুরে আলোচিত ৫ খুন: সেই ফোরকান পদ্মায় লাফ দিয়েছেন, ধারণা পরিবারের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ কয়েক টুকরো করার অভিযোগ উঠেছে আসমা আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পালং মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করেছে।

 

শুক্রবার (১৫ মে) রাতে শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর এলাকার জিয়া সরদার পিরোজপুর জেলার আসমা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা শরীয়তপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সর্বশেষ চন্দ্রপুর এলাকায় একটি বাসায় থাকতেন তারা।

 

আরও জানা গেছে, সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী আসমা আক্তার লোহার রড দিয়ে জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের ধারণা।

 

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর মরদেহ গোপন করতে ধারাল অস্ত্র দিয়ে দেহ কয়েক টুকরো করা হয়। পরে হাড় ও মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় মরদেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে সদর উপজেলার আটং এলাকার বৃক্ষতলা সংলগ্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। পরে পুরোনো ভাড়া বাসার একটি ফ্রিজে মরদেহের অংশ রাখার চেষ্টা করলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

 

বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে আটক করে।

 

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ড্রাম খুলে মরদেহের অংশ দেখতে পায়। জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী ঘটনাটি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঝগড়া করে স্বামীকে হত্যার পর টুকরো টুকরো, আটক আসমা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার দিন প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এমন তথ্য জানিয়েছে প্রশাসন।

 

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম।

 

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মে সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসংলগ্ন বিশমাইল গেইট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে দিয়ে ব্যাচেলর কোয়ার্টারের মোড় হয়ে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে প্রান্তিক গেটে পৌঁছান।

 

সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর মহিলা ক্লাব ও কলতান বিদ্যানিকেতনের সামনে দিয়ে চৌরঙ্গীর দিকে এগিয়ে যান তিনি।

 

এরপর সন্ধ্যা ৭টা ৩১ মিনিটে পদ্মপুকুরের উত্তর পাশের মাটির রাস্তায় প্রবেশ করেন এবং ৭টা ৪৩ মিনিটে সেখান থেকে বের হন। কিছুক্ষণ পর আবারও একই রাস্তায় ঢুকতে দেখা যায় তাকে।রাত ৮টা ৭ মিনিটে চৌরঙ্গী মোড় হয়ে মেডিকেলের সামনে দিয়ে ৮টা ২৬ মিনিটে প্রথমবারের মতো ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে শহীদ সালাম বরকত হলের মোড়ে যান অভিযুক্ত। পরে রাত ৮টা ৩৩ মিনিটে একই মোড় থেকে ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে আবার ট্রান্সপোর্ট এলাকায় ফিরে যান।

 

এরপর ট্রান্সপোর্ট এলাকা থেকে আবারও ঘটনাস্থল অতিক্রম করে শহীদ সালাম বরকত হল পেরিয়ে রাত ৯টায় আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের সামনে যান তিনি। সেখান থেকে পুনরায় শহীদ সালাম বরকত হলের মোড়ে এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে ট্রান্সপোর্ট এলাকায় ফিরে যান।

 

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাত ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্তত দুবার ঘটনাস্থলের সামনে গিয়ে আবার ফিরে আসেন।

 

এরপর রাত ১০টা ২০ মিনিটে আবার চৌরঙ্গীর মোড় হয়ে ছাত্রী হলসংলগ্ন রাস্তা, শহীদ মিনার ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে দিয়ে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে ট্রান্সপোর্ট এলাকায় ফেরেন। পরে রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে আবার ঘটনাস্থলের দিকে যেতে দেখা যায় তাকে।

 

সবশেষে রাত ১১টা ১ মিনিটের দিকে শহীদ সালাম বরকত হলের দিকে গিয়ে ফেরার পথে রাত ১১টা ১৩ মিনিটে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।

 

তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি কীভাবে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, একাধিক মনিটরে রেকর্ডিং পর্যবেক্ষণ চলছে। তথ্য পাওয়া গেলে পরে জানানো হবে। আমরা সব ফুটেজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে সহায়তা করছি। পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা একসঙ্গে অপরাধীকে খুঁজে বের করতে কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই সে ধরা পড়বে।

রাতভর ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা, এরপরই ধর্ষণচেষ্টা— জাবির ঘটনায় নতুন তথ্য

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার মারা গেছেন। লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

 

শনিবার (১৬ মে) তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাবা এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্ট করে কায়সার হামিদ লিখেছেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দু:খের সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রানপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে। আমার মেয়ের কোন ভূল ত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।’

 

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘যারা এই দু:সময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুক। আমিন।’

কারিনা কায়সার মারা গেছেন

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদে এক পিতল ব্যবসায়ীর মেয়ে তার প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে নতুন জীবন শুরু করার নেশায় নিজের বাড়িতেই ১ কোটি ২০ লাখ টাকার দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিন্ন জাতে বিয়েতে পরিবারের আপত্তি থাকায় এই তরুণী তার প্রেমিক ও সহযোগীদের বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি করতে সাহায্য করেন।

 

শুক্রবার (১৫ মে) এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরানের মেয়ে আরিবা, তার প্রেমিক আরশাদ ওয়ারসিসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১১ মে ভোরে মুরাদাবাদের এই ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।

 

মুরাদাবাদ পুলিশ জানায়, গত ১১ মে ভোর ৪টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরানের বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। ডাকাতরা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

যাওয়ার সময় তারা বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআরটিও সঙ্গে নিয়ে যায় যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে। ঘটনার সময় বাড়িতে ইমরান, তার স্ত্রী সীমা এবং তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে চারটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।

 

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ইমরানের মেয়ে আরিবা গত সাত-আট বছর ধরে আমরাহ জেলার বাসিন্দা আরশাদ ওয়ারসির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। ভিন্ন জাতের হওয়ায় পরিবার এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তারা দুজনে মিলে বাড়ি থেকে টাকা লুট করে নতুন জায়গায় জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেন।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আরিবা তার প্রেমিককে বাড়িতে কত টাকা রাখা আছে সেই তথ্য দেন। এমনকি এক মাস আগেই তিনি আরশাদকে বাড়ির প্রধান ফটকের চাবি সরবরাহ করেছিলেন এবং ঘটনার দিন রাতে ডিজিটাল লকটি ভেতর থেকে খুলে দেন, যাতে ডাকাতরা সহজেই ঘরে প্রবেশ করতে পারে।

 

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পুলিশ ৪৭ লাখ ২৪ হাজার রুপি নগদ টাকা, চারটি দেশি পিস্তল, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং দুটি গাড়ি উদ্ধার করেছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বাকি টাকা ও অলঙ্কার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত পাঁচজনকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিজের মেয়ের এমন বিশ্বাসহীনতায় ব্যবসায়ীর পরিবারে শোক ও বিস্ময়ের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিককে দিয়ে বাবার বাড়িতেই ডাকাতি করালেন তরুণী

রাজশাহীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আব্দুল কাদের ওরফে সজীব (৩১) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

বুধবার (১৩ মে) রাতে রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল কাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সজীব’ নামে পরিচিত। তার বাবার নাম কামরুল ইসলাম।

 

জানা গেছে, বুধবার সকালে ‘ডিয়া ব্লগ’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ব্যঙ্গ করে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নওগাঁ জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করেন।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, শিমুলের নেতৃত্বে কয়েকজন টিকটকার ব্যক্তিগত গাড়িতে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসরে যাওয়ার সময় মাঝপথে থেমে ভিডিও ধারণ করেন। সেখানে বিএনপি মহাসচিবকে নিয়ে ট্রল ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হয়।

 

ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির নেতারাও ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও অন্যরা সেটি সংরক্ষণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ওঠে।

 

পরে ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের কান ধরে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, তিনি মূলত মজার ভিডিও তৈরি করেন। সে কারণেই রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন নিয়েও ‘ফানি ভিডিও’ করেছিলেন।

 

এদিকে বুধবার রাতে যুবদল, তাঁতী দল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা আব্দুল কাদেরকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেন। তাদের দাবি, একজন সম্মানিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে যেভাবে হেয় করে কথা বলা হয়েছে, তা মানহানিকর।

 

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, থানায় সোপর্দ করা কনটেন্ট ক্রিয়েটর ভুল স্বীকার করায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও বাদী না থাকায় এবং আমলযোগ্য অপরাধ না হওয়ায় তাকে কোনো ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

মির্জা ফখরুলকে নিয়ে ব্যঙ্গ ভিডিও, ধরা খেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর

সবজির বাজারে অস্বস্তি আরো বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হাতে গোনা দুয়েকটি বাদে প্রায় সব সবজির জন্য গুণতে হবে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তাতে সীমিত আয়ের ক্রেতাদের জন্য বেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে সবজি বাজার।

 

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির চড়া দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

 

গত সপ্তাহে যে কাঁচামরিচ পাওয়া যেত ১২০ টাকায়, আজ ছুটির দিনে এর জন্য গুণতে হচ্ছে ১৬০ টাকা। পেপে, বেগুন, শসার দামও শতকের ঘরে।

 

দোকানদারদের দাবি, বৃষ্টিতে দেশের নিন্মাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় রাজধানীতে সবজির যোগান কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

 

মাছের বাজারও চড়া। তেলাপিয়া আর চাষের পাঙ্গাস মিলছে দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা কেজিতে। চাষের রুই-কাতলার দাম হাকা হচ্ছে চারশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা। মিঠা পানির মাছের জন্য গুণতে হবে ৬শ’ থেকে হাজার টাকা কেজি। মানভেদে চিংড়ি মিলছে ৮শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা কেজিতে।

 

নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় বাজার ইলিশের দেখা মিলছে। তবে, খুব কম ক্রেতারই এই মাছ কেনার সামর্থ্য আছে। এক কেজি আকারের নদীর ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার টাকা। ৭শ’ থেকে ৮শ’ গ্রামের ইলিশ নিতে চাইলে, দিতে হবে দুই হাজার টাকা বেশি।

 

বিক্রেতারা বলছেন, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে নদীতে ইলিশের আহরণ বাড়তে পারে। তখন দামও নাগালের মধ্যে আসবে।

 

এদিকে, ডিমের বাজারে চলছে চরম নৈরাজ্য। মাসের ব্যবধানে ডজনপ্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

 

এ নিয়ে বিক্রেতাদের দাবি, দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছে ব্যবসায়ী সমিতি। এছাড়া উৎপাদন কম আর বৃষ্টির অজুহাত তো রয়েছেই।

 

ব্রয়লার আগের মতোই ১৮০ টাকা, সোনালি ৩২০-৩৪০ টাকা আর দেশি মুরগী বিকোচ্ছে ৭২০-৭৫০ টাকাতেই।

বেড়েছে সবজি-ডিম-মুরগির দাম, ভোক্তার নাভিশ্বাস

কালিয়াকৈরে শেষ বয়সে প্রতারণার ফাঁদে নিঃস্ব এক আনসার সদস্যের পরিবার।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার,

ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর।

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। জমি কেনার স্বপ্ন দেখিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্যের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ আবুল বাসার। জীবনের পুরো সঞ্চয় আর পেনশনের অর্ধেক টাকা হারিয়ে এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈরের কামারিয়া এলাকার হানিফ আলী ও আলী হোসেনের কাছে ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে ১৫ শতাংশ জমি কেনার জন্য বায়না বাবদ মোট ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য মোঃ আবুল বাসার। দীর্ঘদিন ধরে টাকা লেনদেনের পর ২০২০ সালের ১৫ মে জমি রেজিস্ট্রির দিন নির্ধারণ করা হয়।

 

কিন্তু নির্ধারিত দিনে অভিযুক্ত আলী হোসেন, হানিফ আলী, নজরুল ইসলাম ও ইমরান হোসেন দলিল লেখক আব্দুর রহমানের অফিস থেকে হঠাৎ কৌশলে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

 

পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিযুক্তরা আবুল বাসারকে ১৫ শতাংশ জমির দখল বুঝিয়ে দিলেও কিছুদিন পর জানায়, তাকে পুরো ১৫ শতাংশ নয়, দেওয়া হবে মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ জমি। এরপর আরও সময় পার হলে পুরো জমি রেজিস্ট্রি করে দিতেও অস্বীকৃতি জানায় তারা।

 

ভুক্তভোগী আবুল বাসার জানান, দেশের নিরাপত্তায় চাকরি করে জীবনের সব সঞ্চয় আর পেনশনের অর্ধেক টাকা জমিয়ে শেষ বয়সে একটু নিশ্চিন্তে থাকার আশায় জমি কিনতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এখন প্রতারণার শিকার হয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তার।

কালিয়াকৈরে শেষ বয়সে প্রতারণার ফাঁদে নিঃস্ব এক আনসার সদস্যের পরিবার। 

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নীরব থাকার অভিযোগকে সরাসরি মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, দুটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে এই মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন।

 

তিনি আজ এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘দুইটি দলের কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে প্রচার করছেন যে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আমি কিছু বলি নি, কিছু করি নি। আমি নাকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছের মানুষ ছিলাম – এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বাঁচাতে এখন চুপ থাকছি।’

 

তিনি জানান, ভিন্ন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কর্মকাণ্ড বহু আগেই উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল তাকে। তার ভাষ্য, ‘তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন হয়ে আমি ২০২৪ সালেই প্রশ্ন তুলি। তখনকার বিষয় ছিলো জুলাই গণঅভুথানে আহতদের চিকিৎসায় ধীরগতি ও অবহেলা।’

 

ডা. জারা বলেন, তিনি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে কথা বলে আসছেন এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে মতামত দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত ভিডিওগুলো বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যাচ্ছে।

 

তার কথা, ‘হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনে দায় কার, তা খুঁজে বের করতে একটি সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন, সেই দাবীও জানিয়েছি প্রায় একমাস আগে – এপ্রিল মাসের ১৯ তারিখে। আর এক মাসেরও বেশি আগে থেকে আমি বিভিন্ন সভা-সেমিনারে আমি হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে কথা বলে আসছি, সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আমার মতামত দিয়েছি। এসব ভিডিও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে সার্চ করলেই দেখা যায়। কিছু স্ক্রিনশটও দিচ্ছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘একটি গণস্বাস্থ্য সংকটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর এই চেষ্টা দুর্ভাগ্যজনক। শিশুরা অসুস্থ হচ্ছে, মারা যাচ্ছে: এই সময়ে দলীয় কর্মীদের কাজ হওয়া উচিত ছিলো সমাধানে অংশ নেওয়া। কিন্তু তারা বরাবরের মতই বেছে নিয়েছে মিথ্যা প্রচার করা।’

উপদেষ্টার কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন হয়ে ২০২৪ সালেই প্রশ্ন তুলেছিলাম: তাসনিম জারা

বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা

 

বিশেষ প্রতিনিধি:মামুন হাওলাদার

 

দীর্ঘ আট বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘোষিত হয়েছে বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের আংশিক নতুন কমিটি। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্যাডে এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আতিকুর রহমান রাসেল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়ামুল কবির রাহুল দায়িত্ব পেয়েছেন।

এদিকে, এই কমিটিতে শামীম শিকদারকে সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত করায় শরণখোলা উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। কমিটি ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা শামীম শিকদারের ছবি পোস্ট করে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

তৃণমূলের কর্মীরা মনে করছেন, এই কমিটির মাধ্যমে দলে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়েছে। শামীম শিকদারের মতো নেতৃত্ব জেলা কমিটিতে স্থান পাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে দল আরও সুসংগঠিত হবে বলে তাদের বিশ্বাস।

ঘোষিত আংশিক কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে শেখ আল মামুনসহ বেশ কয়েকজন নেতার নাম প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানালেও, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পদবঞ্চিতদের মাঝে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে সাধারণ কর্মীদের প্রত্যাশা, আতিকুর রহমান রাসেল ও নিয়ামুল কবির রাহুলের নেতৃত্বে জেলা ছাত্রদল দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে রাজপথে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।

বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।

 

 

এসময় তিনি জানান, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে, যাকে দেখে ফোরকান বলে ধারণা করছেন তার পরিবার ও মামলার বাদী। তবে লাশ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

 

পুলিশ সুপার জানান, পাঁচ খুনের ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি ফোরকানকে গ্রেফতারে তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের এলাকায় এবং অপর একটি দল বেনাপোলে যায়, যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। পরে মেহেরপুরে এক বাস হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন।

 

এরপর পুলিশের একটি দল পদ্মা সেতুতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নামছেন। গাড়ি থেকে নেমে তিনি হাতের ব্যাগ ও মোবাইলটি ফুটপাতের ওপর রাখেন। এরপর দেড় থেকে দুই মিনিট অপেক্ষা করে রেলিংয়ের ওপর উঠে নদীতে লাফ দেন।

 

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মামলার বাদী (নিহত শারমিনের বাবা) এবং গোপালগঞ্জে ফোরকানের ভাই জব্বারসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ভিডিওটি দেখানো হয়। তারা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তাদের কাছে মনে হয়েছে ভিডিওর ওই ব্যক্তিটিই ফোরকান। তবে মুখ পরিষ্কার দেখা না যাওয়ায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

 

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার থেকে ভাড়া করেছিলেন ফোরকান। চালককে তিনি বলেছিলেন যে, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় সেখানে যাওয়ার জন্য তিনি গাড়িটি নিচ্ছেন। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখায় চালক ফোরকানকে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেননি।

 

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি যে ফোরকানের, তা ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফোরকান ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে দ্বিতীয় কারও সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা দেয়া হয়েছে, যাতে কোনো অজ্ঞাতনামা লাশ পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

 

গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

 

পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়ার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। ঘটনার পরদিন শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে তিন শিশুকন্যা, মা শারমিন এবং শ্যালক রসুলের গলাকাটা ও বীভৎস মরদেহ দেখতে পান।

 

মরদেহের পাশে থাকা কিছু প্রিন্ট করা কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ করেছিলেন। ওই পারিবারিক কলহের জেরেই তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

গাজীপুরে আলোচিত ৫ খুন: সেই ফোরকান পদ্মায় লাফ দিয়েছেন, ধারণা পরিবারের

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d