সাতক্ষীরা শ্যামনগরে সেই নারীর ভুমিষ্ঠ সন্তানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন বিএনপি নেতা ড. মনিরুজ্জামান - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
সাতক্ষীরা শ্যামনগরে সেই নারীর ভুমিষ্ঠ সন্তানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন বিএনপি নেতা ড. মনিরুজ্জামান

সাতক্ষীরা শ্যামনগরে সেই নারীর ভুমিষ্ঠ সন্তানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন বিএনপি নেতা ড. মনিরুজ্জামান

সাতক্ষীরা শ্যামনগরে সেই নারীর ভুমিষ্ঠ সন্তানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন বিএনপি নেতা ড. মনিরুজ্জামান

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি :

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে রাস্তার মধ্যে প্রসব বেদনায় কাতর এক নারীর জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে দিয়ে রীতিমত প্রসংশায় ভাসলেন বিএনপি নেতা ড. মোঃ মনিরুজ্জামান। শনিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালে যান সেই নারীর সদ্য ভুমিষ্ঠ সন্তানকে দেখতে। তিনি চিকিৎসকদের কাছে প্রসূতি মা ও তার সন্তানের স্বাস্থ্যের খোজখবর নেন।

শুক্রবার শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার চাঁদনীমুখা গ্রামের বনজীবী হারুন গাজীর স্ত্রী হিরা খাতুনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর জন্য তিনি নিজের ব্যবহৃত গাড়ি ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে প্রায় ২৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রসূতিকে বহনকারী গাড়িটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে পৌছাতেই হিরা খাতুন কন্যা সন্তানের জম্ম দেন। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার নীলডুমুর খেয়াঘাটে।

প্রসূতির মা রুমি বেগমসহ অন্যরা জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় হিরা খাতুনের প্রসব বেদনা শুরু হয়। তবে তার স্বামী ও জামাই হারুন মধু সংগ্রহের কাজে সুন্দরবনে অবস্থান করায় সিদ্ধান্ত নিতে যেয়ে তারা দেরি করে ফেলেন।

একপর্যায়ে রাত আটটার দিকে পরিস্থিতি খারাপের দিকে চলে যাওয়ায় প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে নৌকা চালিয়ে হিরাকে নীলডুমুর খেয়াঘাটে নেয়া হয়। তবে সেখানে পৌছে কোন যানবাহন না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন সকলে। এসময় তীব্র প্রসব বেদনায় চিৎকার করতে থাকা প্রসূতি হিরার মুখ চেপে ধরার চেষ্টা করেন তারা। বিষয়টি দেখে ঘটানাক্রমে সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান এগিয়ে যান এবং নিজের গাড়ি দিয়ে তাদের হাসপাতালে পৌছে দেন।

রুমি বেগম জানান, দুর্গম আর উপকুলবর্তী হওয়ায় রাতে কোন যানবাহন পাওয়া যায় না। নৌকা একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হলেও রাতে মেলে না। এলাকায় প্রসূতিদের উপযুক্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্র না থাকায় প্রসব বেদনা শুরু হলেই শ্যামনগর সদরে ছুটতে হয়। ইতিপুর্বে এভাবে একাধিক প্রসুতির মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মনিরুজ্জামানের কল্যাণে মেয়েটা সময়মত হাসপাতালে পৌছাতে পেরেছিল। গতকাল শুক্রবার সকালে মনিরুজ্জামান নানা ধরনের উপঢৌকন নিয়ে সদ্যজাত সন্তানসহ ঐ প্রসূতিকে দেখতে এসেছিল।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ড. মোঃ মনিরুজ্জামানের ভাষ্য তিনি গাবুরায় কর্মী সভা শেষে শ্যামনগরের উদ্দেশ্যে রুনা দিয়ে পথিমধ্যে উক্ত প্রসূতি ও তার অসহায় স্বজনদের দেখতে পান। এসময় খোঁজ নিতে যেয়ে তাদের বিপদের কথা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে নিজে মোটরভ্যানযোগে শ্যামনগরে ফিরলেও হিরা ও তার স্বজনদের ব্যক্তিগত গাড়িযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তরিকুল ইসলাম জানান সময়মত হাসপাতালে পৌছানের কারনে সমুহ বিপদ থেকে সদ্যজাত শিশু ও তার মা রক্ষা পেয়েছে। দু’জনেই সুস্থ- তথ্য দিযে তিনি আরও বলেন, গাবুরার জন্য বিশেষ একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র অতি জরুরী। তিনি ড. মনিরুজ্জামানের প্রশংসা করে বলেন, তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

এদিকে সচেতন নাগরিকরা জানান, এমন মানবিক আচারণ প্রত্যেকের করা উচিত। মনিরুজ্জামান অন্যের জন্য অনুকরণীয় আচারণ করলেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রভাষক দেবাশীষ মিস্ত্রি।


সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে কঠোর বার্তা দিলেন সাতক্ষীরার নতুন পুলিশ সুপার

 

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

 

সাংবাদিকদের সাথে সাতক্ষীরার নবাগত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম এর পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ( ১৬মে) সকাল ১০ টায় সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনসে জেলা পুলিশের আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অর্থ) এস এম রাজু আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সরকার, ডি আই -১ আব্দুল আলিম, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাছরাঙা টেলভিশনের জেলা প্রতিনিধি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, দৈনিক সাতক্ষীরার সকাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মো. আমিরুজ্জামান বাবু, সাংবাদিক কালিদাস রায়, আনন্দ টিভির জেলা প্রতিনিধি হাসানুর রহমান, গণ টিভি ও দৈনিক চৌকস পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি মো: তুহিন হোসেন প্রমুখ। এসময় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য, ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় নবাগত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, অপরাধীদোর কোন পরিচয় নেই, পুলিশ বিভাগে যারা অপরাধ করবে পোষাক না দেখে নিরপেক্ষ তদন্ত করবো। জনগনের নিরাপত্তা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সমাজে কোন বিশৃঙ্খলা না হয়, চাঁদাবাজী না হয়, সেগুলো নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকবে পুলিশের পক্ষ থেকে। তিনি আরো বলেন, আমার প্রচেষ্টা থাকবে শিশুরা যেন মাদকসহ কোন বিপথে না যায়, কারন শিশুরা আগামীতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যাবে। তারা বিপথে গেলে আমার খারাপ লাগবে। আমিও সাতক্ষীরার, আমি এখানে যে কয়দিন থাকবো ততদিন আমার জীবনের সাথে সাতক্ষীরা মিশে থাকবে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে কঠোর বার্তা দিলেন সাতক্ষীরার নতুন পুলিশ সুপার

🌧️ খুলনার আকাশে হঠাৎ কালো মেঘ, সন্ধ্যা নামতেই শুরু ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি

 

📅 বুধবার | ১৩ মে ২০২৬

✍️ প্রতিবেদনে: ওমর ফারুক

 

খুলনার আকাশে বুধবার বিকেল থেকেই দেখা যায় হঠাৎ ঘন কালো মেঘের আনাগোনা। দিনের শেষ ভাগে রোদের তীব্রতা কমে এসে পুরো আকাশ ঢেকে যায় কালো মেঘে। সন্ধ্যা নামতে না নামতেই শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, যা কিছুক্ষণের মধ্যেই রূপ নেয় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে।

 

বৃষ্টির সঙ্গে ছিল দমকা হাওয়া। হঠাৎ এমন আবহাওয়ার পরিবর্তনে নগরজীবনে নেমে আসে ভোগান্তি। অফিসফেরত মানুষ ও পথচারীরা পড়েন বিপাকে। অনেককে রাস্তার পাশে দোকান কিংবা ভবনের নিচে আশ্রয় নিতে দেখা যায়।

 

স্থানীয়দের মতে, কয়েকদিনের তীব্র গরমের পর এমন বৃষ্টি স্বস্তি নিয়ে এলেও ঝড়ো হাওয়ায় আতঙ্কও ছড়ায় অনেকের মধ্যে। বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় রাস্তায় থাকা মানুষজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

 

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো খুলনাতেও এমন বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

খুলনার আকাশে হঠাৎ কালো মেঘ, সন্ধ্যা নামতেই শুরু ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি

সাতক্ষীরা জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ।

সভায় সুন্দরবনে জলদস্যুদের তৎপরতা বন্ধ, চাঁদাবাজি বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকসহ সকল ধরনের অবক্ষয় থেকে রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া, যানজট সমস্যা সমাধান, চিংড়িতে জেলি পুশ রোধ, ট্রাক স্টান্ড স্থাপন, মাদকদ্রব্য প্রতিরোধ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও কুরবানীর হাট স্থাপনসহ আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাসার, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম, সাতক্ষীরা পৌরসভার সিইও মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুর রহমান, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল হাসেম, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত, সেনাবাহিনী সাতক্ষীরা ক্যাম্পের সিনিয়র ওরেন্ট অফিসার মো. তোফাজ্জেল হোসেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেন, বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মো. ওমর ফারুক প্রমুখ।

এছাড়াও সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরা জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদী রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর ও টেকসই পদক্ষেপ

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলে খোলপেটুয়া নদী কেবল একটি জলাধার নয়, এটি এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা ও অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করা এই জনপদের জন্য নদীভাঙন এক চিরস্থায়ী অভিশাপ। আর এই ক্ষতকে আরও গভীর করে তুলছে এক শ্রেণির অসাধু চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলন। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে রাতের আঁধারে পরিচালিত অভিযান এই দস্যুতা রোধে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

শ্যামনগরে বর্তমানে কোনো বৈধ বালুমহাল নেই। তবুও জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোলপেটুয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়েছেন। বিশেষ করে রাতের আঁধারে বালু দস্যুদের ধরতে এই তৎপরতা প্রমাণ করে যে, প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সচেতন। তবে প্রশ্ন থেকে যায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইজারা বিহীন নদী থেকে বালু তোলার সাহস এই চক্রটি পায় কোথায়?

খোলপেটুয়া নদীটি অত্যন্ত ভাঙনপ্রবণ। এই নদীর পাড় রক্ষা করতে প্রতি বছর সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়। অথচ একদল স্বার্থান্বেষী মানুষ সামান্য ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে পাড়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। এতে কেবল বাঁধের ঝুঁকি বাড়ছে না, বরং উপকূলীয় বাস্তুসংস্থান এবং মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিও হুমকির মুখে পড়ছে। বালু উত্তোলনকারীরা মূলত সাধারণ মানুষের জীবনের বিনিময়ে নিজেদের পকেট ভারী করছে।

প্রশাসনের এই অভিযানকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে কেবল মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনা বা কয়েকজনকে জরিমানা করাই যথেষ্ট নয়। বালু দস্যুতার এই শিকড় অনেক গভীরে। এদের পেছনে থাকা রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবশালী শক্তির উৎসগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নদী এলাকায় নিয়মিত টহল ব্যবস্থা জোরদার এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে একটি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

নদী বাঁচলে উপকূল বাঁচবে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান যেন লোক দেখানো বা সাময়িক কোনো তৎপরতা না হয়। বরং খোলপেটুয়া নদীকে দস্যুমুক্ত করতে এই অভিযান নিয়মিত ও স্থায়ী হোক এটাই উপকূলবাসীর প্রত্যাশা। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়, বরং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদী রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর ও টেকসই পদক্ষেপ

সাতক্ষীরায় শূন্যের কোটায় হাম-রুবেলা

 

মোঃ তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

 

সারা দেশে উদ্বেকজনক হারে হাম রুবেলা আক্রান্ত হলেও সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা এখনও শুন্যের কোটায় রয়েছে। জেলায় এখন পর্যন্ত হাম-রুবেলা উপসর্গে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি ।

জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে জেলায় নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির পাশাপাশি এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। গত ২০ এপ্রিল শুরু হওয়া এই টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা। সেই হিসেবে টিকাদান কার্যাক্রম শেষ হতে চলছে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। নিয়মিত শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং টিকাকেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে সন্তুষ্টি দেখা গেছে।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, “সারা দেশের মতো সাতক্ষীরায় তেমন কোনো হাম আক্রান্ত রোগী নেই। তবে জেলায় এ পর্যন্ত পজেটিভ পাওয়া গেছে তিনজনের। তারা সকলে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এখনও পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে মারা যায়নি কেউ।” তিনি আরো বলেন, “আমাদের এখন অনেক সন্দেহজনক রোগী পাওয়া যাচ্ছে আমরা তাদের স্যাম্পল সংগ্রহ করে ঢাকাতে পাঠিয়েছি। জেলায় এ পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ১ লাখ ৭৪হাজার ৪৩২ জন শিশুকে টিকা দিয়েছি এখন প্রায় তিন হাজারের মত বাকি আছে। এম আর ভাকসিনের ক্ষেত্রে জেলার প্রতিটা ডিপার্টমেন্ট সহযোগিতা করেছে। কোথাও কোনো নেগেটিভ খবর পাওয়া যায়নি বরং জনগনের আস্থা বেড়েছে।”

সাতক্ষীরায় শূন্যের কোটায় হাম-রুবেলা

সাতক্ষীরার আম: রেললাইন হলে খুলবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

 

মোঃ তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:

 

গ্রীষ্ম এলেই প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। মাঠে-ঘাটে, গ্রামে-গঞ্জে আর শহরের অলিগলিতে তখন ছড়িয়ে পড়ে পাকা আমের মিষ্টি ঘ্রাণ। আর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপদ সাতক্ষীরা এখন সেই ঘ্রাণে মুখরিত। জেলার বিস্তীর্ণ আমবাগানে শুরু হয়েছে মৌসুমের প্রথম দিকের আম পাড়া। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত আম পাড়া ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গত ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগসহ আগাম জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। আর আগামী ১৫ মে থেকে শুরু হবে বহুল জনপ্রিয় ও সুস্বাদু হিমসাগর আম সংগ্রহ। মৌসুমের শুরুতেই সাতক্ষীরার বাজার, সড়ক ও কুরিয়ার সার্ভিসগুলোতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। আমকে ঘিরে যেন পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বাজার এখন আমের বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ভোর হতেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যান, ট্রলি, মিনি ট্রাক ও ছোট যানবাহনে করে আমবাগানের মালিক ও ব্যবসায়ীরা আম নিয়ে বাজারে আসছেন। পাইকাররা সেই আম কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনদের জন্য সুন্দর কুরিয়ার, এস এ পরিবহনসহ বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম পাঠাচ্ছেন। আম মৌসুম ঘিরে কুরিয়ার সার্ভিস ও পরিবহন খাতেও সৃষ্টি হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ। বর্তমানে প্রতি মন আম প্রায় ১৬০০ টাকা দরে কিনলেও কুরিয়ারে পাঠাতে প্রতি কেজিতে গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তবুও সাতক্ষীরার আমের স্বাদ ও সুনামের কারণে মানুষ আগ্রহ নিয়ে এই আম সংগ্রহ করছেন।

একসময় দেশের বাজারে রাজশাহীর আমের কদর ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরার আমও দেশের মানুষের কাছে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার হিমসাগর আম এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ আমের স্বাদ, মিষ্টতা ও ঘ্রাণ এমন যে, একবার খেলে মানুষ বারবার খেতে চান। অনেকে মজা করে বলেন, সাতক্ষীরার হিমসাগর আম সামনে থাকলে বয়স, ডায়েট কিংবা সংযম-সবকিছু ভুলে মানুষ বেশি খেয়ে ফেলেন। এই আমের আঁশ কম, শাঁস বেশি এবং স্বাদে অনন্য হওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ-সব বয়সী মানুষের কাছে এটি সমান প্রিয়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হয় এবং প্রতিবছর হাজার হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার সদর, তালা, কলারোয়া, দেবহাটা , আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য আমবাগান। সাতক্ষীরার মাটি, আবহাওয়া ও লবণাক্ততাসহ পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এখানকার আমে একটি স্বতন্ত্র স্বাদ তৈরি হয়। শুধু দেশেই নয়, সাতক্ষীরার আম এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে সাতক্ষীরার আমের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে আম শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে আম মৌসুমে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে মাঝেমধ্যে এই সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী অপরিপক্ক আম আগেভাগে গাছ থেকে নামিয়ে কৃত্রিম উপায়ে মেডিসিন প্রয়োগ করে দ্রুত পাকিয়ে বাজারজাত করেন। এতে আমের স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বিভিন্ন সময়ে অপরিপক্ক ও কেমিক্যালযুক্ত আম জব্দ করে ধ্বংসও করা হয়েছে। মূলত এই অনিয়ম ঠেকাতে এবং বাজারে নিরাপদ ও পরিপক্ক আম নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন আম পাড়া ক্যালেন্ডার চালু করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম পাড়া নিষিদ্ধ করায় ক্রেতারা এখন তুলনামূলক নিরাপদ ও সুস্বাদু আম পাচ্ছেন।

আম শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। আমে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। পাকা আম চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। গরমের সময় শরীরে শক্তি জোগাতেও আম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের মতে, পরিমিত পরিমাণে আম খেলে হজম শক্তি বাড়ে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পায়।

সাতক্ষীরার আম শিল্পকে ঘিরে অর্থনীতির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা আরও বহুগুণ বাড়তে পারতো যদি এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেললাইন বাস্তবায়ন হতো। সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে। স্থানীয়দের মতে, এই রেললাইন চালু হলে আম, চিংড়ি মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনে বিপ্লব ঘটবে। বর্তমানে যেখানে কুরিয়ার বা সড়কপথে প্রতি কেজি আম ঢাকায় পাঠাতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, সেখানে রেলপথ চালু হলে খুব অল্প খরচে দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য পরিবহন সম্ভব হতো। এতে একদিকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হতেন, অন্যদিকে দেশের সাধারণ ভোক্তারাও কম দামে মানসম্মত আম কিনতে পারতেন।

এছাড়া রেললাইন চালু হলে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারতো। সাতক্ষীরার বিখ্যাত চিংড়ি মাছ, আম, পাট ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা যেতো। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ভ্রমণেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতো। সড়কপথের তুলনায় রেলপথে আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সহজেই সাতক্ষীরার সুন্দরবন দেখতে আসতে পারতেন। এতে পর্যটন খাত যেমন সমৃদ্ধ হতো, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিও নতুন গতি পেতো।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব কাজ কিংবা জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি। ফলে সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে। অথচ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে সাতক্ষীরা শুধু আম কিংবা চিংড়ির জেলা হিসেবেই নয়, দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হতে পারতো।

আজ যখন সাতক্ষীরার বাজার আমের ঘ্রাণে মুখরিত, যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাতক্ষীরার আমের কদর বাড়ছে, তখন এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজন আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষিভিত্তিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। কারণ সাতক্ষীরার আম শুধু একটি ফল নয়, এটি এ অঞ্চলের অর্থনীতি, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার প্রতীক।

সাতক্ষীরার আম: রেললাইন হলে খুলবে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মাদক উদ্ধারে পুরস্কার পেলেন কাশিমপুর থানার ওসি মোল্লা খালিদ হোসেন।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার

ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর ।

 

মাদক উদ্ধার অভিযান, আসামি গ্রেফতার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিমপুর থানার ওসি মোল্লা মোহাম্মদ খালিদ হোসেন সহ তার পুরো ইউনিটকে পুরস্কৃত করেছে পুলিশ কমিশনার

 

গত ১৩-০৫-২০২৬ খ্রি. তারিখে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করা হয়।

 

উল্লেখযোগ্য অভিযানের মধ্যে রয়েছে কাশিমপুর থানার বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার এবং প্রায় ০৮ লক্ষ টাকা মূল্যের ১৫০ গ্রাম হেরোইন ও ৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার।

 

উল্লেখিত ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ ডিসি(ক্রাইম) নর্থ, এসি(ক্রাইম)-সদর জোন, ওসি-কাশিমপুরসহ অন্যান্য পুলিশ অফিসারগণ তাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে মাদক উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পুরস্কৃত হন। তাদের এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ কমিশনার মহোদয় পুরস্কার প্রদান করেন, যা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ), মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেন।

 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে সর্বদা তৎপর এবং জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মাদক উদ্ধারে পুরস্কার পেলেন কাশিমপুর থানার ওসি মোল্লা খালিদ হোসেন

সাতক্ষীরা শ্যামনগরে সেই নারীর ভুমিষ্ঠ সন্তানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন বিএনপি নেতা ড. মনিরুজ্জামান

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি :

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে রাস্তার মধ্যে প্রসব বেদনায় কাতর এক নারীর জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে দিয়ে রীতিমত প্রসংশায় ভাসলেন বিএনপি নেতা ড. মোঃ মনিরুজ্জামান। শনিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালে যান সেই নারীর সদ্য ভুমিষ্ঠ সন্তানকে দেখতে। তিনি চিকিৎসকদের কাছে প্রসূতি মা ও তার সন্তানের স্বাস্থ্যের খোজখবর নেন।

শুক্রবার শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার চাঁদনীমুখা গ্রামের বনজীবী হারুন গাজীর স্ত্রী হিরা খাতুনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর জন্য তিনি নিজের ব্যবহৃত গাড়ি ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে প্রায় ২৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রসূতিকে বহনকারী গাড়িটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে পৌছাতেই হিরা খাতুন কন্যা সন্তানের জম্ম দেন। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার নীলডুমুর খেয়াঘাটে।

প্রসূতির মা রুমি বেগমসহ অন্যরা জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় হিরা খাতুনের প্রসব বেদনা শুরু হয়। তবে তার স্বামী ও জামাই হারুন মধু সংগ্রহের কাজে সুন্দরবনে অবস্থান করায় সিদ্ধান্ত নিতে যেয়ে তারা দেরি করে ফেলেন।

একপর্যায়ে রাত আটটার দিকে পরিস্থিতি খারাপের দিকে চলে যাওয়ায় প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে নৌকা চালিয়ে হিরাকে নীলডুমুর খেয়াঘাটে নেয়া হয়। তবে সেখানে পৌছে কোন যানবাহন না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন সকলে। এসময় তীব্র প্রসব বেদনায় চিৎকার করতে থাকা প্রসূতি হিরার মুখ চেপে ধরার চেষ্টা করেন তারা। বিষয়টি দেখে ঘটানাক্রমে সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান এগিয়ে যান এবং নিজের গাড়ি দিয়ে তাদের হাসপাতালে পৌছে দেন।

রুমি বেগম জানান, দুর্গম আর উপকুলবর্তী হওয়ায় রাতে কোন যানবাহন পাওয়া যায় না। নৌকা একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হলেও রাতে মেলে না। এলাকায় প্রসূতিদের উপযুক্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্র না থাকায় প্রসব বেদনা শুরু হলেই শ্যামনগর সদরে ছুটতে হয়। ইতিপুর্বে এভাবে একাধিক প্রসুতির মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মনিরুজ্জামানের কল্যাণে মেয়েটা সময়মত হাসপাতালে পৌছাতে পেরেছিল। গতকাল শুক্রবার সকালে মনিরুজ্জামান নানা ধরনের উপঢৌকন নিয়ে সদ্যজাত সন্তানসহ ঐ প্রসূতিকে দেখতে এসেছিল।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ড. মোঃ মনিরুজ্জামানের ভাষ্য তিনি গাবুরায় কর্মী সভা শেষে শ্যামনগরের উদ্দেশ্যে রুনা দিয়ে পথিমধ্যে উক্ত প্রসূতি ও তার অসহায় স্বজনদের দেখতে পান। এসময় খোঁজ নিতে যেয়ে তাদের বিপদের কথা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে নিজে মোটরভ্যানযোগে শ্যামনগরে ফিরলেও হিরা ও তার স্বজনদের ব্যক্তিগত গাড়িযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তরিকুল ইসলাম জানান সময়মত হাসপাতালে পৌছানের কারনে সমুহ বিপদ থেকে সদ্যজাত শিশু ও তার মা রক্ষা পেয়েছে। দু’জনেই সুস্থ- তথ্য দিযে তিনি আরও বলেন, গাবুরার জন্য বিশেষ একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র অতি জরুরী। তিনি ড. মনিরুজ্জামানের প্রশংসা করে বলেন, তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

এদিকে সচেতন নাগরিকরা জানান, এমন মানবিক আচারণ প্রত্যেকের করা উচিত। মনিরুজ্জামান অন্যের জন্য অনুকরণীয় আচারণ করলেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রভাষক দেবাশীষ মিস্ত্রি।

সাতক্ষীরা শ্যামনগরে সেই নারীর ভুমিষ্ঠ সন্তানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন বিএনপি নেতা ড. মনিরুজ্জামান

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে কঠোর বার্তা দিলেন সাতক্ষীরার নতুন পুলিশ সুপার

 

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

 

সাংবাদিকদের সাথে সাতক্ষীরার নবাগত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম এর পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ( ১৬মে) সকাল ১০ টায় সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনসে জেলা পুলিশের আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অর্থ) এস এম রাজু আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সরকার, ডি আই -১ আব্দুল আলিম, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাছরাঙা টেলভিশনের জেলা প্রতিনিধি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, দৈনিক সাতক্ষীরার সকাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মো. আমিরুজ্জামান বাবু, সাংবাদিক কালিদাস রায়, আনন্দ টিভির জেলা প্রতিনিধি হাসানুর রহমান, গণ টিভি ও দৈনিক চৌকস পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি মো: তুহিন হোসেন প্রমুখ। এসময় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য, ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় নবাগত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, অপরাধীদোর কোন পরিচয় নেই, পুলিশ বিভাগে যারা অপরাধ করবে পোষাক না দেখে নিরপেক্ষ তদন্ত করবো। জনগনের নিরাপত্তা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সমাজে কোন বিশৃঙ্খলা না হয়, চাঁদাবাজী না হয়, সেগুলো নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকবে পুলিশের পক্ষ থেকে। তিনি আরো বলেন, আমার প্রচেষ্টা থাকবে শিশুরা যেন মাদকসহ কোন বিপথে না যায়, কারন শিশুরা আগামীতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যাবে। তারা বিপথে গেলে আমার খারাপ লাগবে। আমিও সাতক্ষীরার, আমি এখানে যে কয়দিন থাকবো ততদিন আমার জীবনের সাথে সাতক্ষীরা মিশে থাকবে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে কঠোর বার্তা দিলেন সাতক্ষীরার নতুন পুলিশ সুপার

দেশের ১৩ জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (১৬ মে) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মাদারীপুর, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

এদিকে সারা দেশে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সংস্থাটি বলছে, আগামীকাল রবিবার সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

 

সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

 

আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। অপর একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

দাবদাহে পুড়ছে ১৩ জেলা, অব্যাহত থাকার আভাস

লিভারজনিত জটিলতায় অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার–এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক, লেখক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান।

 

শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কারিনার প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন।

 

পোস্টে মারুফ কামাল খান লিখেছেন, কায়সার হামিদের মেয়ে শুধু এটুকু জানতাম। কারিনা কায়সারকে সামনা সামনি দেখিনি। দেশ ও মানুষের প্রতি নিজের ভালোবাসা ও কমিটমেন্ট প্রমাণ করে গেছে কারিনা ফ্যাসিবাদ-বিরোধী জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে সক্রিয় অংশ নিয়ে।তিনি আরও লেখেন, কারিনারা নিজের জন্য কিছু চায়নি, কেবল চেয়েছে একটি সুন্দর বাসযোগ্য দেশ। কারিনার মৃত্যুসংবাদ আমাকে প্রচণ্ড কষ্ট দিচ্ছে। আল্লাহ্ মেয়েটিকে পরজন্মে অনন্ত শান্তি ও সুখ দিন— এই প্রার্থনা।

 

কারিনা কায়সারের অকাল মৃত্যুতে সামাজিক মাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন এবং তার দেশপ্রেম ও সামাজিক সচেতনতার কথা স্মরণ করছেন।

কারিনারা নিজের জন্য কিছু চায়নি, চেয়েছে একটি সুন্দর বাসযোগ্য দেশ: মারুফ কামাল খান

রাজধানীর শ্যামলীতে চিকিৎসক ও নার্সের অবহেলায় হাম উপসর্গে আক্রান্ত এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

 

শুক্রবার (১৫ মে) রাতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্বজনদের অভিযোগ— চিকিৎসক ও নার্সের অবহেলায় শিশুটি মারা গেছে। তারা জানান, তিনদিন আগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৯ মাসের শিশুটি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান স্বজনরা।

 

যদিও এই অভিযোগকে ভিক্তিহীন উল্লেখ করেন হাসপাতালের কর্তব্যরত আবাসিক চিকিৎসক ডা. আসিফ হান্নান। তিনি জানান, শিশুটি হাম ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত ছিল। গতকাল তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।

 

শিশুটিকে হাসপাতালের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি চিকিৎসকের। তবে, যদি কারো দোষ প্রমাণিত হয় তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রাজধানীতে চিকিৎসক-নার্সের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ কয়েক টুকরো করার অভিযোগ উঠেছে আসমা আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পালং মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করেছে।

 

শুক্রবার (১৫ মে) রাতে শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর এলাকার জিয়া সরদার পিরোজপুর জেলার আসমা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা শরীয়তপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সর্বশেষ চন্দ্রপুর এলাকায় একটি বাসায় থাকতেন তারা।

 

আরও জানা গেছে, সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী আসমা আক্তার লোহার রড দিয়ে জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের ধারণা।

 

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর মরদেহ গোপন করতে ধারাল অস্ত্র দিয়ে দেহ কয়েক টুকরো করা হয়। পরে হাড় ও মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় মরদেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে সদর উপজেলার আটং এলাকার বৃক্ষতলা সংলগ্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। পরে পুরোনো ভাড়া বাসার একটি ফ্রিজে মরদেহের অংশ রাখার চেষ্টা করলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

 

বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে আটক করে।

 

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ড্রাম খুলে মরদেহের অংশ দেখতে পায়। জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী ঘটনাটি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঝগড়া করে স্বামীকে হত্যার পর টুকরো টুকরো, আটক আসমা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার দিন প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এমন তথ্য জানিয়েছে প্রশাসন।

 

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম।

 

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মে সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসংলগ্ন বিশমাইল গেইট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে দিয়ে ব্যাচেলর কোয়ার্টারের মোড় হয়ে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে প্রান্তিক গেটে পৌঁছান।

 

সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর মহিলা ক্লাব ও কলতান বিদ্যানিকেতনের সামনে দিয়ে চৌরঙ্গীর দিকে এগিয়ে যান তিনি।

 

এরপর সন্ধ্যা ৭টা ৩১ মিনিটে পদ্মপুকুরের উত্তর পাশের মাটির রাস্তায় প্রবেশ করেন এবং ৭টা ৪৩ মিনিটে সেখান থেকে বের হন। কিছুক্ষণ পর আবারও একই রাস্তায় ঢুকতে দেখা যায় তাকে।রাত ৮টা ৭ মিনিটে চৌরঙ্গী মোড় হয়ে মেডিকেলের সামনে দিয়ে ৮টা ২৬ মিনিটে প্রথমবারের মতো ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে শহীদ সালাম বরকত হলের মোড়ে যান অভিযুক্ত। পরে রাত ৮টা ৩৩ মিনিটে একই মোড় থেকে ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে আবার ট্রান্সপোর্ট এলাকায় ফিরে যান।

 

এরপর ট্রান্সপোর্ট এলাকা থেকে আবারও ঘটনাস্থল অতিক্রম করে শহীদ সালাম বরকত হল পেরিয়ে রাত ৯টায় আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের সামনে যান তিনি। সেখান থেকে পুনরায় শহীদ সালাম বরকত হলের মোড়ে এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে ট্রান্সপোর্ট এলাকায় ফিরে যান।

 

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রাত ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্তত দুবার ঘটনাস্থলের সামনে গিয়ে আবার ফিরে আসেন।

 

এরপর রাত ১০টা ২০ মিনিটে আবার চৌরঙ্গীর মোড় হয়ে ছাত্রী হলসংলগ্ন রাস্তা, শহীদ মিনার ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে দিয়ে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে ট্রান্সপোর্ট এলাকায় ফেরেন। পরে রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে আবার ঘটনাস্থলের দিকে যেতে দেখা যায় তাকে।

 

সবশেষে রাত ১১টা ১ মিনিটের দিকে শহীদ সালাম বরকত হলের দিকে গিয়ে ফেরার পথে রাত ১১টা ১৩ মিনিটে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।

 

তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি কীভাবে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, একাধিক মনিটরে রেকর্ডিং পর্যবেক্ষণ চলছে। তথ্য পাওয়া গেলে পরে জানানো হবে। আমরা সব ফুটেজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে সহায়তা করছি। পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা একসঙ্গে অপরাধীকে খুঁজে বের করতে কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই সে ধরা পড়বে।

রাতভর ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা, এরপরই ধর্ষণচেষ্টা— জাবির ঘটনায় নতুন তথ্য

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার মারা গেছেন। লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

 

শনিবার (১৬ মে) তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাবা এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্ট করে কায়সার হামিদ লিখেছেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দু:খের সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রানপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে। আমার মেয়ের কোন ভূল ত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।’

 

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘যারা এই দু:সময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করবেন সবাই, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুক। আমিন।’

কারিনা কায়সার মারা গেছেন

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদে এক পিতল ব্যবসায়ীর মেয়ে তার প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে নতুন জীবন শুরু করার নেশায় নিজের বাড়িতেই ১ কোটি ২০ লাখ টাকার দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিন্ন জাতে বিয়েতে পরিবারের আপত্তি থাকায় এই তরুণী তার প্রেমিক ও সহযোগীদের বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি করতে সাহায্য করেন।

 

শুক্রবার (১৫ মে) এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরানের মেয়ে আরিবা, তার প্রেমিক আরশাদ ওয়ারসিসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১১ মে ভোরে মুরাদাবাদের এই ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।

 

মুরাদাবাদ পুলিশ জানায়, গত ১১ মে ভোর ৪টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরানের বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। ডাকাতরা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

যাওয়ার সময় তারা বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআরটিও সঙ্গে নিয়ে যায় যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে। ঘটনার সময় বাড়িতে ইমরান, তার স্ত্রী সীমা এবং তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে চারটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।

 

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ইমরানের মেয়ে আরিবা গত সাত-আট বছর ধরে আমরাহ জেলার বাসিন্দা আরশাদ ওয়ারসির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। ভিন্ন জাতের হওয়ায় পরিবার এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তারা দুজনে মিলে বাড়ি থেকে টাকা লুট করে নতুন জায়গায় জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেন।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আরিবা তার প্রেমিককে বাড়িতে কত টাকা রাখা আছে সেই তথ্য দেন। এমনকি এক মাস আগেই তিনি আরশাদকে বাড়ির প্রধান ফটকের চাবি সরবরাহ করেছিলেন এবং ঘটনার দিন রাতে ডিজিটাল লকটি ভেতর থেকে খুলে দেন, যাতে ডাকাতরা সহজেই ঘরে প্রবেশ করতে পারে।

 

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পুলিশ ৪৭ লাখ ২৪ হাজার রুপি নগদ টাকা, চারটি দেশি পিস্তল, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং দুটি গাড়ি উদ্ধার করেছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বাকি টাকা ও অলঙ্কার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত পাঁচজনকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিজের মেয়ের এমন বিশ্বাসহীনতায় ব্যবসায়ীর পরিবারে শোক ও বিস্ময়ের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিককে দিয়ে বাবার বাড়িতেই ডাকাতি করালেন তরুণী

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d