
ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়াগত সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
পাউবো জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ ও মার্কুলি স্টেশনে এবং সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা স্টেশনে সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আগামী তিন দিনে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী দুই দিনে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র–যমুনা নদ-নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী পাঁচ দিনে তা কিছুটা বাড়তে পারে, তবে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে গঙ্গা–পদ্মা নদীর পানি বাড়লেও তা বিপদসীমার নিচেই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে এবং কিছু এলাকায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, ভুলাই ও কংস নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, যা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর বিভাগের দুধকুমার নদীর পানি বাড়লেও তিস্তা ও ধরলা নদী আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু নদীর পানি বাড়লেও কয়েকটি নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো।
অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে অনেক জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কিছু কিছু জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০ জুনের পর দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে, যা চলমান ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমিয়ে আনতে পারে। চলতি জুন মাসে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে বলেও আভাস দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply