তৃতীয় দিনের জোয়ারেও রাঙ্গাবালীর ছয় গ্রামসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
তৃতীয় দিনের জোয়ারেও রাঙ্গাবালীর ছয় গ্রামসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

তৃতীয় দিনের জোয়ারেও রাঙ্গাবালীর ছয় গ্রামসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হলেও এর প্রভাবে টানা তৃতীয় দিনের মতো জোয়ারে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয়টি গ্রামসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

 

শুক্রবার দুপুরে জোয়ারে দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকা উপজেলার চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আঙিনা তলিয়ে যায়। অনেক পরিবারের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল লঘুচাপে পরিণত হলেও পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি না থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। এর সঙ্গে ছিল মৃদু দমকা হাওয়া।

 

দুপুরের জোয়ারে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের গরুভাঙা, মধ্য চালিতাবুনিয়া, বিবির হাওলা, চালিতাবুনিয়া বাজার ও চিনাবুনিয়া এবং চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রাম প্লাবিত হয়। তবে বৃহস্পতিবারের তুলনায় জোয়ারের পানির উচ্চতা কিছুটা কম ছিল।

 

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধের কারণে অস্বাভাবিক জোয়ার হলেই লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। ফলে প্রতি বছরই একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. খায়রুল হাসান বলেন, জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে প্রায় ৩ কিলোমিটার এবং চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা এলাকায় প্রায় ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত রয়েছে। ফলে জোয়ারের পানি বাড়লেই এসব এলাকায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, আইডব্লিউএমের মাধ্যমে নতুন একটি প্রকল্পের সমীক্ষা ও যাচাই-বাছাই চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) জমা দেওয়া হবে। ডিপিপি অনুমোদিত হলে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ।


সোমবার (১৩ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বন্যা সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকায় বর্তমানে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ এই সাত জেলায় মোট ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন মানুষ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

প্রাণ হারানো ৫৪ জনের মধ্যে ৩১ জনই মারা গেছেন কক্সবাজারে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩, বান্দরবানে ৬, রাঙামাটিতে ৩ ও মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারিভাবে ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা অতিভারী বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদীর বাম তীরের জেলা লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৬টার তথ্য অনুযায়ী দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২২ মিটার, যা বিপদসীমা চেয়ে ৭ সেন্টিমিটার ওপরে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারতের উজানে থেকে আসা পানি এবং গত কয়েক দিনের টানা অতিভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপরে থাকা পানি মঙ্গলবার সকালেই বেড়ে ৭ সেন্টিমিটার ওপরে পৌঁছেছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকছে। চরাঞ্চলের অনেক এলাকায় নৌকা ও ভেলাই হয়ে উঠেছে মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র বলছে, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

 

ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের চরের বাসিন্দা সামসুল আলম বলেন, ‘সোমবার থেকে পানি বাড়লেও আজ সকালে আরও বেড়েছে। কয়েকটি বাড়িতে ইতোমধ্যে পানি উঠেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বড় বন্যা হতে পারে। তখন দুর্বল বাঁধগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’

 

শৈলমারী চরের মফিজুর রহমান বলেন, ‘উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টির কারণে প্রতিবছরই আমাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় সামান্য পানি বাড়লেই চরাঞ্চল তলিয়ে যায়। দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা দরকার।’

 

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মনদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছেও পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিস্তার পানি বাড়ছে হু হু করে, বন্যার আশঙ্কা

আজ ভোর ৫টা থেকেই ঢাকায় ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়েছে। থেমে থেমে এই বৃষ্টি চলছে। রাজধানীর অনেকে রাস্তায় এরই মধ্যে পানি জমে গেছে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে এসব রাস্তায়। পথচারীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

 

আজ রোববার (১২ জুলাই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে রাজধানীবাসীর ঘুম ভেঙেছে বৃষ্টির শব্দে। বৃষ্টিতে মিরপুর, মতিঝিল, নয়াপল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এ কারণে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ে।

 

এদিকে, কয়েক দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে কোথাও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে গত ছয় দিনে চট্টগ্রাম বিভাগে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ। এছাড়া টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৪২ কিলোমিটার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

 

এদিকে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্ভাবাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

ভোর থেকেই ঢাকায় বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ

টানা ৪ দিন ধরে সমুদ্র উপকূলবর্তী চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুরোটাই পানির নিচে। বন্যাকবলিত এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে। পানিবন্দি শত শত পরিবার। অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, তলিয়ে গেছে সড়ক, ফসলি জমি। এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিহীন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নে একটি যৌথ পরিবারের মাটির ঘরটি ছিল মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই। সেখানে ৫ পরিবারের সদস্যরা থাকতেন। কিন্তু বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে ডুবে আছে ঘরটি। এমনকি ভেসে গেছে আসবাবপত্র।

 

ঠিক এই পরিবারের দুর্দশার মতো বন্যাকবলিত ছনুয়া ইউনিয়নের বেশির ভাগ পরিবারের মাটির ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার গৃহহীন। খোলা আকাশ এখন তাদের ঠিকানা। কেউবা মাথা গোঁজার জন্য ছুটছেন উঁচু স্থান ও আশ্রয়কেন্দ্রে।

 

চট্টগ্রামে বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর অন্যতম বাঁশখালী এলাকার অনেক ঘরবাড়ি হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে থাকায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি। এখনও ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় অসহায় এসব মানুষের দিন কাটছে কষ্টে।

 

অন্যদিকে, বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ভেসে গেছে ঘেরের মাছ। ক্ষতির মুখে ধান ও লবণচাষিরা।

 

এছাড়াও বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাঁশখালীতে পুঁইছড়ি, শেখের খিল, কাথারিয়া ও গণ্ডামারা-সহ ৫/৬টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগ চরমে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুরো এলাকা পানির নিচে, মানুষের দুর্ভোগ চরমে

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগের মধ্যেই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল চাপে খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে অসংখ্য বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে কৃষি খাতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

গত ৯ জুলাই রাত প্রায় ৯টায় সদর উপজেলার চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। মুহূর্তেই নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে প্রথম দিনেই প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

পরবর্তী সময়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫টিতে। নতুন করে বাহুবল উপজেলার লামাতাশী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এবং সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নের আরও কয়েকটি এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

 

চরহামুয়া, কালীগঞ্জ, লস্করপুর, পইল, তেঘরিয়া, আলাপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত পানি ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু স্থানে চলে গেছে।

 

কেউ আশ্রয় নিয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কেউ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে, আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলাপুর-কালীগঞ্জ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ড্রেজার বসিয়ে গভীরভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে।

 

সম্প্রতি আরও কয়েকটি শক্তিশালী ড্রেজার যুক্ত হওয়ায় নদীর তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং তীররক্ষা বাঁধের ভিত্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের চাপ সেই দুর্বল অংশে পড়ায় বাঁধটি ধসে যায় বলে দাবি তাদের।

 

১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে। অবিলম্বে খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।”

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহুবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাননি। বরং প্রতিবাদকারীদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির সুযোগে একটি প্রভাবশালী চক্র বছরের পর বছর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে এসেছে।

 

বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

 

পরিদর্শনকালে হুইপ জি কে গউছ বলেন, অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত সংস্কার করতে হবে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

 

তিনি জেলা প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত, বাঁধ সংস্কার এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

পরিদর্শন শেষে তিনি পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও রান্না করা খাবার বিতরণ করছে।

 

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম জানান, বন্যার পানিতে একাধিক মাছের খামার ভেসে গেছে। বিভিন্ন জাতের সবজির ক্ষেত, ফলের বাগান ও কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে কৃষি খাতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, খোয়াই নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও জেলার কালনী-কুশিয়ারা ও সুতাং নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে থাকলেও কমছে।

 

অন্যদিকে আজমিরীগঞ্জে কালনী-কুশিয়ারা নদী এবং শায়েস্তাগঞ্জ-লাখাইয়ের সুতাং নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

 

পাউবো আরও জানিয়েছে, সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এবং বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের রাঘপুর এলাকায় খোয়াই নদীর ডান তীরে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

 

দুর্গত এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত করলেই হবে না; খোয়াই নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা, নদী ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

তাদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে খোয়াই নদী তীরবর্তী আরও বিস্তীর্ণ এলাকা একই ধরনের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২৫ গ্রাম, পানিবন্দি অর্ধলক্ষ মানুষ

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের মধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীর পূর্ব তীরের চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে হঠাৎ বাঁধটি ভেঙে গেলে নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং রাতের মধ্যেই আরও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর চরহামুয়া, কালীগঞ্জসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত পানি ছড়িয়ে পড়ে। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে সরে যেতে শুরু করেছেন।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে ১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন, ৪ নম্বর পইল ইউনিয়ন, ৩ নম্বর তেঘরিয়া ইউনিয়ন এবং ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে তীররক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রবল স্রোতের চাপে সেই দুর্বল বাঁধ ভেঙে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের দাবি।

 

১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নিয়মের বাইরে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে। প্রবল পানির চাপে সেটি ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে খোয়াই নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।”

 

এদিকে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২০ গ্রাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাভারের বিরুলিয়ায় রাজারবাগ চায়না বার ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

শুক্রবার বিকেলে কমলাপুর স্কুল সংলগ্ন মাঠে উক্ত টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়, রাজারবাগ তরুণ ও যুব সংঘের আয়োজনে, জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উক্ত টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়, এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ,আমির শিরালী, অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন, সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মির সাব্বির, এ সময় উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলা ওলামা দলের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান শামীম, সাভার থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব হাসান, বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য , বিল্লাল হোসেন মোল্লা, বিরুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাওন শিরালী, সহ আরো অনেকেই ।

সাভারের বিরুলিয়ায় রাজারবাগ চায়না বার ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাভারের বিরুলিয়ায় রাজারবাগ চায়না বার ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

শুক্রবার বিকেলে কমলাপুর স্কুল সংলগ্ন মাঠে উক্ত টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়, রাজারবাগ তরুণ ও যুব সংঘের আয়োজনে, জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উক্ত টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়, এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ,আমির শিরালী, অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন, সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মির সাব্বির, এ সময় উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলা ওলামা দলের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান শামীম, সাভার থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব হাসান, বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য , বিল্লাল হোসেন মোল্লা, বিরুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাওন শিরালী, সহ আরো অনেকেই ।

সাভারের বিরুলিয়ায় রাজারবাগ চায়না বার ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাজারে রয়েছে জোরপূর্বক অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের এক রোমহর্ষক অধ্যায়। এই নির্যাতন প্রক্রিয়ার মূল হোতা মাজারের প্রভাবশালী হেড বাবুর্চি সোহেল। তার অধীনে রয়েছে ফয়েজসহ কয়েকজন। মাজারে আসা কোনো সাধারণ মানুষ যদি এই সিন্ডিকেটের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন, তবে তাকে ‘জুতাচোর’ বা ‘মোবাইল চোর’ সাব্যস্ত করে চক্রের সদস্যরা। পরে ওই ব্যক্তির পরিবারকে খবর দিয়ে থানা-পুলিশের হাত থেকে বাঁচানোর আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।

 

মানতের গরু জবাইয়ের পর মাংস রান্না করা বাবদ বাবুর্চির বিল দুই হাজার টাকা এবং খাসির ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু গরুতে ১০ থেকে ১৮ হাজার টাকা এবং খাসিতে নেওয়া হয় দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এছাড়া গরু-খাসির মাংস, মাথা, ভুঁড়ি, চামড়া ও পা নিয়ে যান বাবুর্চিরা।

 

পশুর চামড়া ছাড়ানোর সময় সিন্ডিকেটের কসাইরা সুকৌশলে চামড়ার গায়ে ১০ থেকে ১৫ কেজি আস্ত মাংস রেখে দেন। এছাড়া কয়েকটি ধাপে মাংস গায়েব করা হয়। ফলে একটি গরুর তিন ভাগের এক ভাগও রান্না করা হয় না। এছাড়া শিন্নি পাকের পর অর্ধেকই নিয়ে যান বাবুর্চিরা।

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কোটি টাকার সিন্ডিকেটের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দানবাক্স খুলে মাত্র ২৫ দিনে ৬৪ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ, বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও মানতের পশু পাওয়ার পর মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনা, দান সংগ্রহ ও বণ্টন নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রাতিষ্ঠানিক তদারকির অভাবে প্রায় ৭০০ বছর ধরে চলা মাজারের দানবাক্সগুলোর দানের অর্থ সরাসরি বস্তায় ভরে মাজারের প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে চলে যেত। এ নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হলে ১৮ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসন মাজারের তিনটি ডেক ও চারটি দানবাক্স সিলগালা করে দেয়। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন দানবাক্স সিলগালা করে সিসিটিভির নজরদারিতে তা খোলার পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর চিত্র; মাত্র ২৫ দিনেই মেলে ৬৪ লাখ টাকারও বেশি নগদ, সঙ্গে ১২ দেশের মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও ৬৫টি ছাগল। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, মাজারে দীর্ঘদিন ধরে টাকা-পয়সার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব রাখার নিয়ম ছিল না। টাকা কোথায় যাচ্ছে বা কত জমা হচ্ছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে কেউ বলতে পারতেন না। এই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার জন্য সম্প্রতি দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে পুলিশের কাছে না দিয়ে ব্যতিক্রমী উপায়ে ‘শাস্তি’ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করিয়ে তওবা করানোর পর ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির আস্তানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিমের (৩৫) বিরুদ্ধে একটি মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করেন।

 

পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তাকে নিজের ভুল স্বীকার করে তওবা করতে বলা হয়। একই সঙ্গে তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করানো হয়। ভবিষ্যতে চুরি বা অন্য কোনো অপরাধে জড়াবেন না—এ মর্মে তার কাছ থেকে অঙ্গীকারও নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহাম্মদ খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। শুক্রবার মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরির চেষ্টা করলে স্থানীয়রা রেজাউল করিমকে হাতেনাতে আটক করেন। আমাদের উদ্দেশ্য তাকে অপমান করা নয়, বরং সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়া। তাই তার কাছ থেকে তওবা করিয়ে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করানো হয়েছে।’

 

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমাদের কেউ অবহিত করেননি। তবে চুরির অভিযোগে কাউকে আটক করা হলে তাকে অবশ্যই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।’

পুলিশে নয়, ১০০ রাকাত নামাজ পড়িয়ে দিলেন ‘শাস্তি’

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল এই সময়ে সাংবাদিকদেরও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তিনি বলেন, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্রযুক্তি। তাই এসব প্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি তথ্য প্রকাশের আগে যথাযথ যাচাই করা অপরিহার্য।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে রাজশাহীতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে তিন দিনব্যাপী ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন পিআইবির মহাপরিচালক।

 

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের এগিয়ে যেতে হবে। এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং সাংবাদিকতার সহায়ক প্রযুক্তি, তাই এগুলোর দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ পরিবেশনের জন্য প্রতিটি তথ্য প্রকাশের আগে যথাযথ যাচাই করা অপরিহার্য। ভুয়া তথ্য ও গুজব মোকাবিলায় সাংবাদিকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পেশাগত নৈতিকতা আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহায়তা করতে সরকার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, কল্যাণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে। এসব উদ্যোগের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাংবাদিকরা আরও দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পরিবেশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ ও প্রযুক্তি-সচেতন সাংবাদিকরাই জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

 

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) তত্ত্বাবধানে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য পরিবেশনের জন্য সাংবাদিকদের নিয়মিত প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ভুয়া তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে ফ্যাক্ট চেকিং এখন সময়ের অপরিহার্য দক্ষতা, যা গণমাধ্যমের বিশ্বাস যোগ্যতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশাসন ও গণমাধ্যম পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতা আরও শক্তিশালী হবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ আবদুল আউয়াল বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান দায়িত্বশীল ও নির্ভুল সংবাদ পরিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

 

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. ডালিম হোসেন শান্তর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন- পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন, দৈনিক রাজশাহীর সংবাদ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ডা. নাজিব ওয়াদুদ ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন। তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ৪০ জন সাংবাদিক গ্ৰহণ করেন। পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন জানান, এআই সাংবাদিকের বিকল্প নয়; বরং তথ্য অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সংবাদ প্রস্তুতিতে এটি একটি কার্যকর সহায়ক প্রযুক্তি। তবে এআই থেকে পাওয়া প্রতিটি তথ্য নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করেই সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।

 

উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক ধারণা, সাংবাদিকতায় এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার, কার্যকর প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, সংবাদ লেখা, তথ্য বিশ্লেষণ, অনুবাদ, সারসংক্ষেপ তৈরি এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এআই ব্যবহারের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও যাচাই, রিভার্স ইমেজ সার্চ, ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স, মেটাডেটা বিশ্লেষণ, জিওলোকেশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য শনাক্ত ও যাচাইয়ের আধুনিক কৌশল শেখানো হয়। প্রশিক্ষণে সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের নৈতিকতা, কপি রাইট, তথ্যের গোপনীয়তা এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের এগিয়ে যেতে হবে: পিআইবি মহাপরিচালক

ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি দাবি করেছেন, জামায়াত-শিবিরের ‘গুপ্ত কৌশলের’ কারণেই দেশে ফ্যাসিবাদ দীর্ঘায়িত হয়েছিল। একইসঙ্গে তার অভিযোগ, গত ১৬ বছরে ছাত্রলীগের ভেতরে গুপ্তভাবে না থেকে যদি শিবির প্রকাশ্যে প্রতিরোধ গড়ে তুলত, তাহলে ছাত্রলীগ এত শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারত না এবং শেখ হাসিনাও এতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারতেন না।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রাশেদ খান।

 

পোস্টে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘লীগ ধর’ শীর্ষক প্রতীকী ম্যারাথন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, ‘আজকে ঢাবিতে শিবির যে “লীগ ধর” নামে ম্যারাথন দৌড় দিয়ে প্রতীকীভাবে লীগকে পেটালো, ঠিক বিগত ১৬ বছর ছাত্রলীগের মধ্যে গুপ্ত না থেকে সত্যিই যদি লীগকে পেটাতো, তাহলে ছাত্রলীগ দানব হয়ে উঠতে পারত না। শেখ হাসিনাও এতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারতেন না।’

 

পোস্টে রাশেদ খান আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, শিবিরের ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৯০ শতাংশই একসময় ঠিক এভাবেই লীগের পেছনে দৌড়ঝাঁপ করেছে।’

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের গুপ্ত কৌশলের কারণেই ফ্যাসিবাদ দীর্ঘায়িত হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যদি লীগের পতন না হতো, তাহলে শিবির তাদের কৌশলের অংশ হিসেবে ছাত্রলীগের মধ্যেই থেকে যেত। আজ যাদের অনেককে শিবিরের কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে, তাদের অনেককেই তখন ছাত্রলীগের বড় বড় পদে দেখা যেত।’

 

শিবিরের গুপ্ত কৌশল’ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রাশেদের

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মাহামুদুর রহমান সৈকত (ডাকনাম টুনা)কে নিয়ে তার বোনের লেখা একটি আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পোস্টটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই শহীদ সৈকতকে স্মরণ করে পোস্টটি শেয়ার করছেন।

 

পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন মাহামুদুর রহমান সৈকত। পরে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের ভাষ্য, গুলিটি তার মাথায় আঘাত করে।

 

জুলাই আন্দোলনের সময় দেওয়া সেই পোস্টে সৈকতের বোন লিখেছিলেন, ‘ছবির ছেলেটা আমার ভাই। আমাদের দুই বোনের একমাত্র আদরের ভাই। আমরা ওকে কতটা ভালোবাসতাম, সেটা হয়তো আর কখনো বলা হবে না।’

 

শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, ছোটবেলায় পরিবারের সবাই তাকে ‘টুনা’ নামে ডাকতেন। বয়স বাড়লেও পরিবারের কাছে তিনি ‘টুনা’ই ছিলেন। জন্মদিন ঘনিয়ে এলেই কেক নিয়ে নানা আবদার করতেন। তার উপস্থিতিতে পরিবারের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল আনন্দে ভরা।

 

ভাইকে হারানোর বেদনার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘এখন বুকে শুধু হাহাকার। মনে হয় কী যেন নেই। আমাদের কলিজাকে গুলি করে মারা হয়েছে। আমার ফুলের মতো ভাইটাকে ঠান্ডা মাথায় মাথায় গুলি করা হয়েছে। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশের চেয়ে ভারী এই পৃথিবীতে আর কিছু আছে?’

 

বিচারের আকুতি জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘বিচার কাকে দেব? আল্লাহর কাছেই বিচার দিলাম। আমার আল্লাহ কখনো কারও সঙ্গে অবিচার করেন না। হাশরের ময়দানে বিচার করবেন আমার আল্লাহ।’

 

ভাইয়ের মানবিকতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পোস্টে লেখেন, ‘আমার ছোট্ট ভাইটা নির্দোষ ছিল। সে বীরের মতো একজন বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়েছিল। কারণ, আমাদের পারিবারিক শিক্ষা ছিল—বিপদে কাউকে দেখলে সাহায্য করতে হয়।’

 

আরও লেখেন, ‘কখনো আর ভাইকে দেখতে পারব না, জড়িয়ে ধরতে পারব না, গালে-কপালে চুমু দিতে পারব না। আর কখনো বলতে পারব না—“টুনা, পানি দে”, “টুনা, কয়েলটা ধরিয়ে দে”।’

 

পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘আমার ভাই শহীদ। শুক্রবার বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে তার মাথায় গুলি করা হয়েছে। সবাইকে জানাতে চাই, আমার ভাই শহীদ ও নিষ্পাপ। সে কখনো কারও ক্ষতি করেনি।’

 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পোস্টটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পোস্টটি শেয়ার করে শহীদ সৈকতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছেন।

জুলাইয়ে নিহত সৈকতকে নিয়ে বোনের আবেগঘন পোস্ট ফের ভাইরাল

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হলেও এর প্রভাবে টানা তৃতীয় দিনের মতো জোয়ারে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয়টি গ্রামসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

 

শুক্রবার দুপুরে জোয়ারে দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকা উপজেলার চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আঙিনা তলিয়ে যায়। অনেক পরিবারের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল লঘুচাপে পরিণত হলেও পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি না থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। এর সঙ্গে ছিল মৃদু দমকা হাওয়া।

 

দুপুরের জোয়ারে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের গরুভাঙা, মধ্য চালিতাবুনিয়া, বিবির হাওলা, চালিতাবুনিয়া বাজার ও চিনাবুনিয়া এবং চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রাম প্লাবিত হয়। তবে বৃহস্পতিবারের তুলনায় জোয়ারের পানির উচ্চতা কিছুটা কম ছিল।

 

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধের কারণে অস্বাভাবিক জোয়ার হলেই লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। ফলে প্রতি বছরই একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. খায়রুল হাসান বলেন, জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে প্রায় ৩ কিলোমিটার এবং চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা এলাকায় প্রায় ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত রয়েছে। ফলে জোয়ারের পানি বাড়লেই এসব এলাকায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, আইডব্লিউএমের মাধ্যমে নতুন একটি প্রকল্পের সমীক্ষা ও যাচাই-বাছাই চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) জমা দেওয়া হবে। ডিপিপি অনুমোদিত হলে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ।

তৃতীয় দিনের জোয়ারেও রাঙ্গাবালীর ছয় গ্রামসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি মনে করি যে, বিরোধী দল শুধুমাত্র তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে (জুলাই সনদ) তারা ব্যবহার করতে চায়। আমরা কিন্তু চাই না যে, জুলাই শুধু ক্ষমতার যাওয়ার জন্য আরেকটা হাতিয়ারে পরিণত হোক।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলেন। বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, বিএনপির প্রায় ১৭শ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। বিএনপি কয়েক হাজার মানুষ হত্যা হয়েছে এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে। সুতরাং এই কথাগুলো বারবার করে আমাদেরকে বলতে হয় এজন্য যে, অনেকে এটাকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।

 

তিনি বলেন, আমরা লিবারাল ডেমোক্রেসির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছি, সেই লিবারেল ডেমোক্রেসির পক্ষে আমরা যেতে চাই। আমার প্রায় একটা কথা মনে হয় যে, আমরা এখান (লিবারেল ডেমোক্রেসি) থেকে সরে যেতে চাই কেন? ডেমোক্রেসি থাকতে আমাদের প্রবলেমটা কোথায়? আমরা ডেমোক্রেসিতে থাকি। বিভাজনের রাজনীতি না করি। আমরা সবাই মিলে যেভাবে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, যুদ্ধ করেছিলাম, আমরা স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আবার ২৪শে আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াই করে আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছি। এখন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সবাই মিলে আমরা এটাকে যদি সেই জায়গায় নিয়ে যেতে পারি, যেখানে আমাদের সেই লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাতে পারব।

 

অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টার ও জাতীয় সাংবাদিক সমিতি যৌথভাবে এই স্মরণসভার আয়োজন করে।

 

অনুষ্ঠানের শেষে প্রয়াত অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য দেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, এমাজউদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুল লফিত মাসুদ, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, আবুল কাশেম হায়দার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুদার, এম আবদুল্লাহ, অধ্যাপক ওমর ফারুক, অধ্যাপক শেখ সাদী ও কবি নাহিদ নজরুল প্রমুখ।

ক্ষমতায় যেতে তারা জুলাইকে ব্যবহার করতে চায়: বিএনপি মহাসচিব

ঢাকার আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কের পাশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বর্জ্য ফেলতে গিয়ে তিনজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী জেলা প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শনে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। ঘটনাস্থলেই তাদের সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কসংলগ্ন পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শনে গেলে এ ঘটনা ধরা পড়ে।

 

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর আগেও একাধিকবার মহাসড়কের পাশে কোনো অবস্থাতেই বর্জ্য না ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হলেও কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী তা অমান্য করে সেখানে বর্জ্য ফেলছিলেন। ঘটনাস্থলেই জেলা প্রশাসক অভিযুক্তদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।

 

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, মহাসড়কের পাশে কোনোভাবেই বর্জ্য ফেলা যাবে না। এ বিষয়ে আগেই স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও যারা নির্দেশ অমান্য করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

 

জেলা প্রশাসন জানায়, পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে মহাসড়ক ও জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের কারণে ভোগান্তিতে থাকা আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়ককে পরিচ্ছন্ন, দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

 

এ কর্মসূচির আওতায় মহাসড়কের দুই পাশে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ও অবৈধভাবে ফেলা বর্জ্য অপসারণ করে নির্ধারিত ল্যান্ডফিলে স্থানান্তর করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তার দুই পাশ বালি ও মাটি দিয়ে ভরাট করে স্লোপ নির্মাণের কাজ চলছে, যাতে বর্ষাকালে মাটি ক্ষয় রোধ করা যায়। সবুজায়নের অংশ হিসেবে সড়কের দুই পাশে নিম, সুপারি ও নারিকেল গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে যাতে কেউ মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে জন্য দুই পাশে সুরক্ষা বেড়া নির্মাণেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়ককে স্থায়ীভাবে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব রাখতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। এ ধরনের অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

মহাসড়কে বর্জ্য ফেলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা ৩ পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ডিসির নির্দেশে সাময়িক বরখাস্ত

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d