
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর নকআউট মঞ্চে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এবারের আসরের সবচেয়ে বড় চমক কেপ ভার্দে। কাগজে-কলমে লিওনেল স্কালোনির দল এই ম্যাচে শতভাগ ফেভারিট হলেও, মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এক অবিশ্বাস্য ও অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী করে পুরো ফুটবল বিশ্বকে তোলপাড় করে দিয়েছেন দূরপ্রাচ্যের দেশ ইস্ট তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে মানুয়েল রামোস-হোর্তা।
আর্জেন্টিনা বা কেপ ভার্দে কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান না হয়েও আফ্রিকান দলটির প্রতি এক অন্ধ বিশ্বাস, অটল আস্থা ও কিছু অদ্ভুত বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক যুক্তি দাঁড় করিয়ে ভাইরাল হয়েছেন এই নোবেলজয়ী রাষ্ট্রপ্রধান। তার সোজাসাপ্টা দাবি, এই নকআউট ম্যাচেই চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি তার প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেতে যাচ্ছেন এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টাইনরা কোনোভাবেই রুখতে পারবে না কেপ ভার্দেকে।
খেলোয়াড়দের খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে ভৌগোলিক প্রতিকূলতা কেপ ভার্দে কেন জিতবে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে খুঁটিনাটি কোনো কিছুই বাদ দেননি তিমুরিজ প্রেসিডেন্ট রামোস-হোর্তা। তিনি বলেন, কঠোর খাদ্যাভ্যাসের কারণে কেপ ভার্দিয়ানদের এক অতুলনীয় শারীরিক ও আধ্যাত্মিক গঠন রয়েছে। তাদের এই বিশেষ ডায়েটে থাকে কাচুপা, যা মূলত ভুট্টা, শিম, মাংস এবং অন্যান্য অনেক প্রোটিনের এক জাদুকরী মিশ্রণ।
এছাড়া রুক্ষ প্রকৃতির প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে লড়াই করে তাদের মধ্যে এক অসাধারণ সহনশীলতা গড়ে উঠেছে। শুধু শারীরিক গঠন বা পুষ্টিগুণ দিয়েই নিজের যুক্তি শেষ করেননি তিনি, টেনে এনেছেন তাদের অনন্য সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ও। তার মতে, কেপ ভার্দিয়ানরা খুব ধার্মিক। ক্যাথলিজম ও আফ্রিকান আধ্যাত্মিক প্রথার সমন্বয় থেকে তাদের এই বিশ্বাস গড়ে উঠেছে। তাই সব ঈশ্বরের আশীর্বাদ এই দলটির সঙ্গে আছে।
বক্তব্যের শুরু থেকেই কেপ ভার্দের পক্ষে ওকালতি করা এই প্রেসিডেন্ট নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে আরও যোগ করেন, কেপ ভার্দে ইতোমধ্যেই জিতে গেছে। এবারের বিশ্বকাপে অবশ্য তিন ম্যাচ খেলে এখন পর্যন্ত হারেনি কেপ ভার্দে। স্পেন, উরুগুয়ে আর সৌদি আরবের মতো কঠিন গ্রুপে পড়েও তিন তিনটি লড়াকু ড্র নিয়ে শেষ ৩২-এ উঠে এসে ইতোমধ্যেই ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার এই পুচকে দলটি। তবে এবার সামনে ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় আগামী শনিবার ভোর ৪টায় শুরু হবে এই রোমাঞ্চকর মাঠের যুদ্ধ
Leave a Reply