ছাত্রীদের গোপনে ছবি তুলে যুবদল নেতা আটক, মুচলেকায় মুক্তি - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
ছাত্রীদের গোপনে ছবি তুলে যুবদল নেতা আটক, মুচলেকায় মুক্তি

ছাত্রীদের গোপনে ছবি তুলে যুবদল নেতা আটক, মুচলেকায় মুক্তি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে আটক হওয়া দেবাশীষ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ না করার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ চৌধুরীর বাড়ি ঢাকার ধামরাই উপজেলায়। তিনি ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। ঘটনার সময় তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজার সঙ্গে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয়ে দেওয়া লিখিত স্বীকারোক্তিতে দেবাশীষ চৌধুরী উল্লেখ করেন, খাবার খাওয়ার পর তিনি কয়েকজন নারীর গোপনে ছবি তুলেছিলেন। তিনি এ কাজকে ভুল বলে স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে কারও অনুমতি ছাড়া এ ধরনের ছবি আর তুলবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ চৌধুরী ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে দুটি বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে সেগুলো নষ্ট করা হয়।

 

মুচলেকা গ্রহণের সময় ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

 

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি (দেবাশীষ) ক্যাম্পাসে এসেছিলেন এবং দুজন ছাত্রীর ছবি তুলেছেন। বিষয়টি অন্য ছাত্রীদের দৃষ্টিগোচর হয় এবং তাঁর ফোনেও সেটির প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে আসার পর তিনি নিঃশর্তভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং তিনি ও তাঁর গাড়ি কখনো ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। তাই তাঁকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


নোয়াখালীর চাটখিলে তিন সন্তানকে রেখে নগদ টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার এবং মালামাল নিয়ে এক মসজিদের মুয়াজ্জিনের সঙ্গে উধাও হয়েছেন নিশাত আক্তার (৩০) নামের এক কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী।

 

রোববার (২৮ জুন) এ ঘটনায় চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিশাতের মা মোসা. নাজমা আক্তার (৬০)।

 

অভিযুক্ত মো. রিয়াজ হোসেন (২৬) চাটখিল দক্ষিণ বাজারস্থ নোমান হাসপাতালের পেছনের মিজি বাড়ি মসজিদের মুয়াজ্জিন ও লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চাটখিলে থাকার সুবাদে নিশাত আক্তারের সঙ্গে গোপনে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

 

নিশাত আক্তার উপজেলার ৭ নম্বর হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু ইউসুফের মেয়ে।

 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নিশাত আক্তারের স্বামী একজন কানাডা প্রবাসী। স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে তিনি ৩ সন্তানসহ দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। বাবার বাড়িতে থাকাকালীন চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. রিয়াজের সঙ্গে নিশাতের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্কের জেরে গত ২৭ জুন দুপুরে রিয়াজ ও নিশাত কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত তার ৩ সন্তানকে নিশাতের বাবার বাড়িতে রেখে গেছেন।

 

নিশাতের মা দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৬টি স্বর্ণের আংটি, ৫টি চেইন, ২টি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়েছেন। এর আগেও স্বামীর বাড়ির কথা বলে নিশাত ঘর থেকে টিভি, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং তার নিজের ব্যবহৃত ২ লাখ টাকা মূল্যের একটি স্কুটিসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে যায়।

 

মেয়ের নিখোঁজের পর শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে রিয়াজ ও নিশাতের বিয়ের একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

 

ওই হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তারা গত ৪ মে আগের কাবিননামা বাতিল করে নতুন কাবিননামা নির্ধারণপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিয়ের পরও নিশাত পরিকল্পিতভাবে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এই অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের আটক করতে এবং নিয়ে যাওয়া নগদ টাকা ও মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।

 

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান জানান, তিনি সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদটি জেনেছেন। তবে কেউ তার কাছে অভিযোগ করেনি।

৩ সন্তান রেখে মুয়াজ্জিনের সঙ্গে উধাও কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী

সরকারি দপ্তর ফাঁকি দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন প্রাইভেট হাসপাতালে। এমন অবস্থায় কয়েকজন সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখা মাত্রই দৌড়ে পালালেন জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সেই চিকিৎসক। হাতেনাতে ধরা খেয়ে এমন দৌড়ে পালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের আরামবাগ এলাকার চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া অবস্থায় ধরা খেয়ে এমন দৌড়ে পালানোর ভিডিও ফাইরাল হওয়ায় পর শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অভিযুক্ত চিকিৎসক মো. ইনজামাম উল হক। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুরে চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়ে ডা. মো. ইনজামাম উল হক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এমনকি ভাইরাল হওয়া ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে, এক রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম করছিলেন তিনি। এসময় কয়েকজন সাংবাদিক তাকে সেখানে গিয়ে দেখতে পান এবং ভিডিও ধারন করেন। চিকিৎসা দেয়া অবস্থায় সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখতে পেয়েই চেয়ার থেকে উঠেই ভৌঁ দৌড় দেন ডা. ইনজামাম উল হক। বেরিয়ে যান হাসপাতাল থেকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতক্ষ্যদর্শী মিনার আহমেদ, সাকির আলী জানান, হঠাৎ করেই হাসপাতাল থেকে ডাক্তারকে দৌড়ে বেরিয়ে আসতে দেখতে পায়। তার পেছন পেছন কয়েকজন সাংবাদিকও ক্যামেরা নিয়ে আসে। এরপর রাস্তায় দাঁড়িয়ে ওই চিকিৎসকও নিজের মুঠোফোন বের করে সেখানে নামাজ পড়তে এসেছেন বলে দাবি করে ফেসবুকে লাইভ করতে থাকেন। পরে জানা গেল, তিনি (ডা. ইনজামাম উল হক) অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে এসে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।

 

চিকিৎসকের দৌড়ে পালানোর ভিডিও ফাইরাল হওয়ায় পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম নামের এক যুবক লিখেছেন, জনগণের টাকায় সরকারি দপ্তরে চাকুরি করে সেখানে নিয়মিত থাকেন না। অথচ অফিস টাইমে তাকে পাওয়া যায় প্রাইভেট হাসপাতালে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এভাবেই এসব চিকিৎসককে রুখে দিতে হবে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

 

চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন ও তত্বাবধায়ক শ্রী বিশ্বজিৎ জানান, দুপুরের বিরতিতে সিভিল সার্জন অফিস থেকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে এসেছিলেন ডা. ইনজামাম উল হক। শ্রী বিশ্বজিৎ আরও জানান, একটি সিন্ডিকেট প্রত্যেক চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল এই সিন ক্রিয়েট করা হয়েছে। এটি নিছকই সাংবাদিকদের সাথে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

 

এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) ডা. মো. ইনজামাম উল হক। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিলেও উত্তর দেননি তিনি। এদিকে, রাত ১২টার দিকে ডা. মো. ইনজামাম উল হক তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আজ চারজন সাংবাদিক ও ডা. মো: ইনজামাম উল হক এর মধ্যে উদ্ভূত যে পরিস্থিতি নিয়ে ভূল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিলো, তার সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে। নেতিবাচক মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন।

 

এবিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, ডা. ইনজামাম উল হক সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমার সাথে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে অফিসেই ছিল। কিন্তু অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। এনিয়ে কোন অভিযোগও পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, অফিস চলাকালীন সময়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কোন সুযোগ নেই। এমন কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাংবাদিক দেখে দৌড়ে পালালেন অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে থাকা চিকিৎসক

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক মা। এরমধ্যে ২ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৩ নবজাতকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া গ্রামের প্রবাসী মাহমুদুল হাসানের স্ত্রী চাঁদনী বেগম এই সন্তানদের জন্ম দেন। এটি তাদের প্রথম সন্তান।

 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পাঁচ নবজাতকের মধ্যে সবচেয়ে বড়টির ওজন ৮০০ গ্রাম। তারা সবাই গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহে জন্ম নিয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত ২৮ সপ্তাহের আগে জন্ম নেওয়া নবজাতকের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।

 

বিকেল ৪টার দিকে প্রসবব্যথা নিয়ে চাঁদনী বেগমকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। পরে চিকিৎসকরা স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিন ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের জন্ম করান। জন্মের পর দুই নবজাতকের কোনো হার্টবিট পাওয়া যায়নি।

 

চিকিৎসকরা জানান, এ ধরনের অপরিণত নবজাতকদের যে ধরনের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ) প্রয়োজন, সেই সুবিধা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেই। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুদের ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও বাকি তিন নবজাতককে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ফরিদপুরে একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম দিলেন মা, দুই নবজাতকের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের কলাকান্দা ইউনিয়নের কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পারিবারিক ক্ষোভ থেকে মা মজিদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে ছেলে মো. জনিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন মতলব সার্কেলের এএসপি জাবীর হুসনাইন সানীব।

 

তিনি জানান, গত ২৫ জুন ৯৯৯-এর সংবাদের ভিত্তিতে মতলব উত্তর থানাধীন কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটির মাথার খুলি থেকে চুল খসে পড়েছিল এবং বাম হাত ও বাম পা হাঁটুর নিচ থেকে শেয়াল খেয়ে ফেলায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না।

 

তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পিবিআই ও সিআইডিকে অবহিত করা হয়।

 

মামলাটি সম্পূর্ণ ক্ল্যুলেস হওয়ায় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের এএসপি জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে বিশেষ টিম গঠন করা হয়। মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এসআই সাদেক, এসআই মিজান, এসআই রেজাউল ও এএসআই রবিউলের সমন্বয়ে গঠিত টিম তদন্ত শুরু করে। প্রতিদিন রাতে তদন্তের অগ্রগতি মনিটরিং করা হয়।

 

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লোকেশন বিশ্লেষণ ও ম্যানুয়াল সোর্সিংয়ের মাধ্যমে মো. জনি নামের এক ব্যক্তির ওপর সন্দেহ হয়। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

 

গ্রেফতারকৃত জনি জানায়, তার মা মজিদা বেগম ৩টি বিয়ে করেন। ছোটবেলা থেকে বাবা-মায়ের আদর ছাড়া মামাবাড়িতে নিগৃহীত হয়ে বড় হওয়ায় মায়ের প্রতি তার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। জনি ঢাকায় ফল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করত।

 

পারিবারিক অশান্তির জেরে গত ১৭ জুন সে তার মাকে ছেঙ্গারচর বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যায়।

 

সেখানে কলাবাগানের দুই আইলের মাঝে জমে থাকা পানিতে মাকে চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে নিহতের মোবাইল ফোনটি দূরবর্তী একটি পুকুরে ফেলে দেয়।

 

গ্রেফতারকৃত আসামি জনিকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ও নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।

চাঁদপুরে মাকে হত্যার অভিযোগের ছেলে গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া এডমিট কার্ড বানিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে এক ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটকের পর ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কসবা পৌরশহরের টিআলী কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছামিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

জরিমানা দেওয়া দুজন হলেন, কসবা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তাসফিয়া জান্নাত (১৮) এবং তার সহযোগী ইনজামুল হক (১৯)।

 

ভ্রাম্যমান আদালত জানায়, বৃহস্পতিবার টিআলী কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ভুয়া এডমিট কার্ডধারী এক পরীক্ষার্থীকে দায়িত্বরত শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে প্রবেশপত্র ভুয়া বলে নিশ্চিত হন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ।

 

এ সময় কসবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানজিল কবিরের ভ্রাম্যমান আদালত ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে পৃথকভাবে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডেরও আদেশ দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় কোড নম্বর ও পরীক্ষার বিষয় মিল না থাকায় আমরা বিষয়টি নিশ্চিত হই। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়।

 

এ বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এডমিট কার্ড জাল করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এ ধরনের প্রতারণা ক্ষমার অযোগ্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কসবায় ভুয়া প্রবেশপত্রে এইচএসসি পরীক্ষার চেষ্টা, দুজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

পাঁচ বছর আগে ঢাকার মহাখালী এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ ৬ টুকরো করার দায়ে স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় দেন।

 

২০২১ সালে ঢাকার মহাখালী এলাকায় চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। এই ঘটনায় তখন বেশ আলোচনাও হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে স্বামীকে হত্যা করেন স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পী। পরে হত্যার ঘটনা গোপন করতে মরদেহ ৬ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহের ছয় টুকরার মধ্যে মূল দেহটি পড়ে ছিল মহাখালীর আমতলী সড়কে। দুই হাত ও দুই পা পুলিশ উদ্ধার করে মহাখালীর এনা বাস কাউন্টারের সামনের সড়ক থেকে। আর মরদেহের মাথা উদ্ধার করা হয় বনানী-১১ নম্বরের লেক থেকে। পরে প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক আলামতের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর ৬ টুকরো, স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার আলি আবদুল্লাহ বলেছেন, জানাজা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল কোনো ধরনের হামলা চালালে তার ‘চরম প্রতিশোধ’ নেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে আমেরিকা ও জায়নবাদীদের যে কোনো ভুল পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দিচ্ছি। দেশের বিরুদ্ধে হামলা বা আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করলে ওই দিনই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। চার মাসেরও বেশি সময় তার লাশ সংরক্ষণের পর রোববার ভোর থেকে রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় জানাজা শুরু হচ্ছে। এতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

 

খামেনিকে আগামী ৯ জুলাই তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন করা হবে। তেহরানসহ মোট পাঁচটি শহরে জানাজা বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এসব অনুষ্ঠানে দেড় কোটিরও বেশি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপুল এই জনসমাগমকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য মার্কিন বা ইসরাইলি হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হলেও তিনি মার্কিন হামলায় গুরুতর আহত হন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বাবার জানাজায় সরাসরি অংশ নেবেন না বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ইরান।

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, খামেনির শেষকৃত্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান। বিশেষ করে মাশহাদে দাফনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে হামলার আশঙ্কার কথাও তারা উল্লেখ করছেন।

 

এদিকে শেষকৃত্যের সময় নির্বাচন নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। কারণ, তেহরানে খামেনির জানাজা শুরু হওয়ার সময়ই যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে দেশটির ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের (সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল) আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাঁচ দিনব্যাপী বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওয়াশিংটনের সমান্তরালে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বে এই বৃহৎ আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে নানা রাজনৈতিক জল্পনাও তৈরি হয়েছে।

 

খামেনির জানাজায় হামলা হলে চরম প্রতিশোধ, হুঁশিয়ারি তেহরানের

মনোযোগ থাকবে শুধুই কেপ ভার্দে ম্যাচে। আর কোন কিছুতে নয়।’ আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল সতীর্থদের এভাবেই সতর্ক করেছেন। দলের তরুণ সতীর্থদের তিনি বলেছেন- এই জার্সি পরাই শেষ পরা হতে পারে। এভাবেই তিনি এতো বছর খেলে এসেছেন বলেও মন্তব্য করেন।

 

শনিবার মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ডি পল বলেন, ‘আগামী ম্যাচের বাইরে কিছু ভাবলে তা বড় ভুল হবে। আগামী ম্যাচই শেষ ম্যাচ হতে পারে। এভাবেই আমি দেখে আসছি। কিন্তু এটাই যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেজন্য যা যা করণীয় আমি করবো। এটাই আমার মানসিকতা।’

 

এবারের বিশ্বকাপে এরই মধ্যে একাধিক অঘটন ঘটে গেছে। টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করেছে প্যারাগুয়ে। টুর্নামেন্টের ফেবারিট নেদারল্যান্ডস টাইব্রেকারে মরক্কোর কাছে হেরেছে। ইংল্যান্ডকে ডিআর কঙ্গো, বেলজিয়ামকে প্রায় রুখে দিয়েছিল সেনেগাল। এসব থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়া ডি পল। আকাশি-সাদা জার্সির জন্য সর্বস্ব বাজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা তরুণদের বলছি, এই যে জাতীয় দলের জার্সি পরে নামছো, এটাই শেষ ম্যাচ হতে পারে। যেন শেষ ম্যাচ না হয়, সেটা নিশ্চিত করেই খেলো। এভাবেই আমি গত আট-নয় বছর খেলে আসছি। এই জার্সি পরলে আমি কখনো পিছনে ফিরে তাকাই না। দেশের হয়ে খেলা, জাতীয় দলের জার্সি পরা সর্বোচ্চ সম্মান। এটার জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে খেলতে হবে।’

‘কেপ ভার্দে ম্যাচই শেষ’ ধরে খেলার আহ্বান ডি পলের

ফিফা বিশ্বকাপে রাউন্ড অব ৩২-র ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছে ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর রেফারিদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ।

 

টরোন্টোতে ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান রোনালদো। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গনসালো রামোসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।

 

ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ইওস্কো গাভার্দিওলের শটে ক্রোয়েশিয়া সমতা ফিরিয়েছে বলে মনে হলেও, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় অফসাইডের সিদ্ধান্ত আসে এবং গোলটি বাতিল হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে ক্রোয়েশিয়ার গোল বাতিল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দালিচ বলেন, ‘আজকের রেফারিং খুবই বাজে ছিল। আমার মনে হয়েছে আমাদের আরও বেশ কিছু ফ্রি-কিক পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দিনশেষে ক্রোয়েশিয়া হেরে গেছে। আমি কোনো অজুহাত খুঁজব না। এই ম্যাচটি আমরা আগেই জিতে নিতে পারতাম।’

 

ভিএআর নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ক্রোয়েশিয়ার কোচ বলেন, ‘আপনারা নিজেই দেখতে পাচ্ছেন যে কীভাবে ফুটবল থেকে আবেগগুলোকে আক্ষরিক অর্থেই মেরে ফেলা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে এই সিদ্ধান্তগুলো খেলাটাকে পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এবং ফুটবল খেলার আসল আনন্দটাই কেড়ে নিচ্ছে।’

 

দালিচ আরও বলেন, ‘এটা বলছি না যে ভিএআর কখনো কখনো সাহায্য করে না; কিন্তু এটা আপনার ভেতরের আবেগ, আপনার অনুভূতি—সবকিছুকে পুরোপুরি মেরে ফেলে। মাঠের ওই মুহূর্তে আপনি যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তার সবটাই ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়া সত্যিই খুব কঠিন।’

 

সোনালী প্রজন্মের বিদায় ঘটলেও ক্রোয়েশীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ২০১৭ সাল থেকে দলটির দায়িত্বে থাকা এই কোচ, ‘আমি ক্রোয়েশিয়া দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে মোটেও ভীত নই। আমাদের অনেক তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে এবং তাদের কয়েকজন আজকেও নিজেদের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে। এবার আমাদের নতুন এক শুরুর অপেক্ষা।’

 

নিজের কোচের দায়িত্বে থাকা না-থাকা নিয়ে দালিচ বলেন, ‘পরবর্তী বিশ্বকাপে কী হবে তা কেবল ঈশ্বরই জানেন, তবে দেশে ফিরে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।’

 

এটি ছিল ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক লুকা মদরিচের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। বছরের পর বছর ধরে ক্রোয়েশীয় ফুটবলের হৃদস্পন্দন হয়ে থাকা এই মিডফিল্ডারের এমন বিদায় ছুঁয়ে গেছে দালিচকেও, ‘হ্যাঁ, এটাই সম্ভবত তাঁর শেষ বিশ্বকাপ ছিল। আর আমার ভীষণ খারাপ লাগছে যে যাত্রাটা এভাবে শেষ হলো। আমরা আসলে এক চমৎকার ও গৌরবময় অধ্যায়ের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি।’

 

পর্তুগালের বিপক্ষে হেরে ২০১৮ সালের রানার্স-আপ এবং ২০২২ সালের তৃতীয় স্থান অধিকারী ক্রোয়েশিয়াকে এবার বিশ্বকাপ থেকে খালি হাতেই বিদায় নিতে হচ্ছে।

রেফারিং খুবই বাজে ছিল: বিদায়ের পর ক্রোয়েশিয়া কোচ

দেশের সাইবার আইনকে সময়োপযোগী ও আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করা হবে। এ লক্ষ্যে আইনজীবীদের কাছ থেকে দ্রুত মতামত, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সরকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

 

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে ল রিপোর্টার্স ফোরামের বার্ষিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের আয়না হলেও আমাদের গণমাধ্যমের সেই আয়না এখনও নিখুঁত নয়। তাই দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

 

সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গণমাধ্যমে বয়ান তৈরির প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার পক্ষে বা বিপক্ষে বয়ান তৈরি করতে গিয়ে কেউ যদি প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাইবার আইনকে সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করা হবে

 

ভোলার চরফ্যাশনে বালুভর্তি ট্রলির ধাক্কায় দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে সহপাঠীরা। পরে তারা নিহতের মরদেহ কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরাপদ সড়কের দাবি জানান।

 

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার শশীভূষণ থানার চেয়ারম্যান বাজার-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত লিয়া আক্তার (১৫) হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফিক আহমেদের মেয়ে। সে চেয়ারম্যান বাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

 

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মতো সকালে লিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। চেয়ারম্যান-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়কে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা বালুভর্তি একটি ট্রলি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রলিচালক পালিয়ে যান।

 

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে সহপাঠীরা লিয়ার মরদেহ কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং চেয়ারম্যান-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা ‘বোনের হত্যার বিচার চাই’, ‘ঘাতক চালকের শাস্তি চাই’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে দেওয়া হয় এবং মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

 

শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হাসান জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রলিটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ট্রলির ধাক্কায় মাদ্রাসাছাত্রী নিহত, মরদেহ কাঁধে নিয়ে সহপাঠীদের বিক্ষোভ

আগামী ৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে উইঙ্গার রাফিনহার খেলা নিয়ে এখনো রয়েছে অনিশ্চয়তা।

 

গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে ডান উরুতে চোট পান বার্সেলোনার এই তারকা। এরপর থেকেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নকআউট পর্বের ম্যাচের আগে টানা তিন দিন দলের মূল অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি রাফিনহা।

 

বুধবার তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করলেও দীর্ঘ সময় মাঠে থাকতে পারেননি। এতে তার সুস্থতার অগ্রগতি দেখা গেলেও এখনও পুরোপুরি ম্যাচ-ফিট নন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ ও মেডিকেল বিভাগ।

 

ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নরওয়ের বিপক্ষে রাফিনহাকে খেলানো হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ম্যাচের ঠিক আগে। ফিটনেস নিয়ে সামান্যতম শঙ্কা থাকলেও তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না দল।

 

এদিকে মঙ্গলবারের অনুশীলনে অনুপস্থিত ছিলেন রায়ান। তবে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন জানিয়েছে, এটি চোটজনিত নয়; ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবেই তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।

 

অন্যদিকে মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার অবস্থাও এখনও অনিশ্চিত। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে উরুতে চোট পাওয়ার পর থেকে মাঠের বাইরে রয়েছেন তিনি। কবে নাগাদ তিনি দলে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি ব্রাজিল টিম ম্যানেজমেন্ট।

নরওয়ের বিপক্ষে রাফিনহা খেলবেন কি না, সিদ্ধান্ত ম্যাচের আগে

নোয়াখালীর চাটখিলে তিন সন্তানকে রেখে নগদ টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার এবং মালামাল নিয়ে এক মসজিদের মুয়াজ্জিনের সঙ্গে উধাও হয়েছেন নিশাত আক্তার (৩০) নামের এক কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী।

 

রোববার (২৮ জুন) এ ঘটনায় চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিশাতের মা মোসা. নাজমা আক্তার (৬০)।

 

অভিযুক্ত মো. রিয়াজ হোসেন (২৬) চাটখিল দক্ষিণ বাজারস্থ নোমান হাসপাতালের পেছনের মিজি বাড়ি মসজিদের মুয়াজ্জিন ও লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চাটখিলে থাকার সুবাদে নিশাত আক্তারের সঙ্গে গোপনে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

 

নিশাত আক্তার উপজেলার ৭ নম্বর হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু ইউসুফের মেয়ে।

 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নিশাত আক্তারের স্বামী একজন কানাডা প্রবাসী। স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে তিনি ৩ সন্তানসহ দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। বাবার বাড়িতে থাকাকালীন চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. রিয়াজের সঙ্গে নিশাতের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্কের জেরে গত ২৭ জুন দুপুরে রিয়াজ ও নিশাত কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত তার ৩ সন্তানকে নিশাতের বাবার বাড়িতে রেখে গেছেন।

 

নিশাতের মা দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৬টি স্বর্ণের আংটি, ৫টি চেইন, ২টি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়েছেন। এর আগেও স্বামীর বাড়ির কথা বলে নিশাত ঘর থেকে টিভি, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং তার নিজের ব্যবহৃত ২ লাখ টাকা মূল্যের একটি স্কুটিসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে যায়।

 

মেয়ের নিখোঁজের পর শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে রিয়াজ ও নিশাতের বিয়ের একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

 

ওই হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তারা গত ৪ মে আগের কাবিননামা বাতিল করে নতুন কাবিননামা নির্ধারণপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিয়ের পরও নিশাত পরিকল্পিতভাবে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এই অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের আটক করতে এবং নিয়ে যাওয়া নগদ টাকা ও মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।

 

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান জানান, তিনি সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদটি জেনেছেন। তবে কেউ তার কাছে অভিযোগ করেনি।

৩ সন্তান রেখে মুয়াজ্জিনের সঙ্গে উধাও কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী

শেষ ৩২-এ জাপান বাধা পেরিয়ে এখন শেষ ষোলোর মহারণে মাঠে নামার অপেক্ষায় ব্রাজিল। রোববার রাতে নরওয়েকে মোকাবিলা করবে সেলেসাওরা। ম্যাচটি কঠিন হবে বলে মনে করেন ব্রাজিলের তরুণ স্ট্রাইকার এন্দ্রিক।

 

নরওয়ে ম্যাচেও পাওয়া যাবে না দলের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাফিনিয়াকে। চোটে পড়েছেন তিনি। আলাদা করে রাফিনিয়াকে নিয়েও কথা বলেছেন এন্দ্রিক। বার্সেলোনা তারকা দ্রুত বিশ্বকাপের ম্যাচে মাঠে ফেরার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন বলে জানান তিনি, ‘রাফিনিয়া একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়। তাঁর এই ইনজুরিতে আমরা সবাই ভীষণ দুঃখিত। আশা করি সে দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরবে। এই ইনজুরিটা তাঁর জন্য দুর্ভাগ্যজনক ছিল। আমরা তাঁকে দ্রুত মাঠে ফিরে পেতে চাই, কারণ সে নিশ্চয়ই মাঠে নামার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। তবে সে দ্রুত ফেরার জন্য সকাল, দুপুর, রাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।’

 

গ্রুপ পর্বের পর শেষ ৩২-এ জাপানের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে পড়ে সেলেসাওরা। যদিও পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে চমৎকার জয় তুলে নিয়ে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। নরওয়ের বিপক্ষেও ম্যাচটি সহজ হবে না মনে করেন এন্দ্রিক।

 

‘এটি একটি বড় ম্যাচ, তাদের (নরওয়ে) দারুণ সব খেলোয়াড় আছে। কোনো সন্দেহ নেই যে এটি একটি চমৎকার ম্যাচ হতে যাচ্ছে। যেখানে দুই দলই জয়ের জন্য লড়বে। আশা করি আমরা দুর্দান্ত ম্যাচ উপহার দিতে পারব। জানি, এখন ভুলের কোনো সুযোগ নেই। গত ম্যাচে আমরা প্রথমে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিলাম এবং দ্বিতীয় গোলটি পেতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। তাই এবার যদি আমরা প্রথমে পিছিয়েও পড়ি, আমাদের শান্ত থাকতে হবে, ধৈর্য ধরতে হবে এবং জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ এখন নকআউট পর্ব, আমাদের জিততেই হবে।’

রাফিনিয়া দ্রুত ফেরার জন্য সকাল-দুপুর-রাত পরিশ্রম করছে’

সরকারি দপ্তর ফাঁকি দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন প্রাইভেট হাসপাতালে। এমন অবস্থায় কয়েকজন সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখা মাত্রই দৌড়ে পালালেন জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সেই চিকিৎসক। হাতেনাতে ধরা খেয়ে এমন দৌড়ে পালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের আরামবাগ এলাকার চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া অবস্থায় ধরা খেয়ে এমন দৌড়ে পালানোর ভিডিও ফাইরাল হওয়ায় পর শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অভিযুক্ত চিকিৎসক মো. ইনজামাম উল হক। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুরে চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়ে ডা. মো. ইনজামাম উল হক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এমনকি ভাইরাল হওয়া ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে, এক রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম করছিলেন তিনি। এসময় কয়েকজন সাংবাদিক তাকে সেখানে গিয়ে দেখতে পান এবং ভিডিও ধারন করেন। চিকিৎসা দেয়া অবস্থায় সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখতে পেয়েই চেয়ার থেকে উঠেই ভৌঁ দৌড় দেন ডা. ইনজামাম উল হক। বেরিয়ে যান হাসপাতাল থেকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতক্ষ্যদর্শী মিনার আহমেদ, সাকির আলী জানান, হঠাৎ করেই হাসপাতাল থেকে ডাক্তারকে দৌড়ে বেরিয়ে আসতে দেখতে পায়। তার পেছন পেছন কয়েকজন সাংবাদিকও ক্যামেরা নিয়ে আসে। এরপর রাস্তায় দাঁড়িয়ে ওই চিকিৎসকও নিজের মুঠোফোন বের করে সেখানে নামাজ পড়তে এসেছেন বলে দাবি করে ফেসবুকে লাইভ করতে থাকেন। পরে জানা গেল, তিনি (ডা. ইনজামাম উল হক) অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে এসে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।

 

চিকিৎসকের দৌড়ে পালানোর ভিডিও ফাইরাল হওয়ায় পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম নামের এক যুবক লিখেছেন, জনগণের টাকায় সরকারি দপ্তরে চাকুরি করে সেখানে নিয়মিত থাকেন না। অথচ অফিস টাইমে তাকে পাওয়া যায় প্রাইভেট হাসপাতালে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এভাবেই এসব চিকিৎসককে রুখে দিতে হবে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

 

চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন ও তত্বাবধায়ক শ্রী বিশ্বজিৎ জানান, দুপুরের বিরতিতে সিভিল সার্জন অফিস থেকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে এসেছিলেন ডা. ইনজামাম উল হক। শ্রী বিশ্বজিৎ আরও জানান, একটি সিন্ডিকেট প্রত্যেক চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল এই সিন ক্রিয়েট করা হয়েছে। এটি নিছকই সাংবাদিকদের সাথে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

 

এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) ডা. মো. ইনজামাম উল হক। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিলেও উত্তর দেননি তিনি। এদিকে, রাত ১২টার দিকে ডা. মো. ইনজামাম উল হক তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আজ চারজন সাংবাদিক ও ডা. মো: ইনজামাম উল হক এর মধ্যে উদ্ভূত যে পরিস্থিতি নিয়ে ভূল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিলো, তার সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে। নেতিবাচক মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন।

 

এবিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, ডা. ইনজামাম উল হক সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমার সাথে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে অফিসেই ছিল। কিন্তু অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। এনিয়ে কোন অভিযোগও পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, অফিস চলাকালীন সময়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কোন সুযোগ নেই। এমন কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাংবাদিক দেখে দৌড়ে পালালেন অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে থাকা চিকিৎসক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে আটক হওয়া দেবাশীষ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ না করার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ চৌধুরীর বাড়ি ঢাকার ধামরাই উপজেলায়। তিনি ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। ঘটনার সময় তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজার সঙ্গে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয়ে দেওয়া লিখিত স্বীকারোক্তিতে দেবাশীষ চৌধুরী উল্লেখ করেন, খাবার খাওয়ার পর তিনি কয়েকজন নারীর গোপনে ছবি তুলেছিলেন। তিনি এ কাজকে ভুল বলে স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে কারও অনুমতি ছাড়া এ ধরনের ছবি আর তুলবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ চৌধুরী ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে দুটি বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে সেগুলো নষ্ট করা হয়।

 

মুচলেকা গ্রহণের সময় ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

 

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি (দেবাশীষ) ক্যাম্পাসে এসেছিলেন এবং দুজন ছাত্রীর ছবি তুলেছেন। বিষয়টি অন্য ছাত্রীদের দৃষ্টিগোচর হয় এবং তাঁর ফোনেও সেটির প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে আসার পর তিনি নিঃশর্তভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং তিনি ও তাঁর গাড়ি কখনো ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। তাই তাঁকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রীদের গোপনে ছবি তুলে যুবদল নেতা আটক, মুচলেকায় মুক্তি

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d