শাওন-মাহির বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
শাওন-মাহির বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ

শাওন-মাহির বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ

জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মাহিয়া মাহি ও শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম।

 

গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে সংগঠনটির তিন নেতা এ অভিযোগ জমা দেন। বিষয়টি জানা গেছে আজ শনিবার।

 

এ নিয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, অভিযোগটি সাইবার-সংক্রান্ত হওয়ায় তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে নিহত, আহত এবং আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।


 

ভোলার চরফ্যাশনে বালুভর্তি ট্রলির ধাক্কায় দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে সহপাঠীরা। পরে তারা নিহতের মরদেহ কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরাপদ সড়কের দাবি জানান।

 

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার শশীভূষণ থানার চেয়ারম্যান বাজার-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত লিয়া আক্তার (১৫) হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফিক আহমেদের মেয়ে। সে চেয়ারম্যান বাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

 

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মতো সকালে লিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। চেয়ারম্যান-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়কে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা বালুভর্তি একটি ট্রলি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রলিচালক পালিয়ে যান।

 

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে সহপাঠীরা লিয়ার মরদেহ কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং চেয়ারম্যান-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা ‘বোনের হত্যার বিচার চাই’, ‘ঘাতক চালকের শাস্তি চাই’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে দেওয়া হয় এবং মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

 

শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হাসান জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রলিটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ট্রলির ধাক্কায় মাদ্রাসাছাত্রী নিহত, মরদেহ কাঁধে নিয়ে সহপাঠীদের বিক্ষোভ

কালিয়াকৈরে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জমি দখল করে অবৈধ দোকান ও বাস কাউন্টার নির্মাণের অভিযোগ।

 

মোঃ সাহাজিদ্দিন সরকার, ক্রাইম রিপোর্টার গাজীপুর।

 

গাজীপুরের মৌচাকে সড়ক ও জনপদ (সওজ) অধিদপ্তরের জমি দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট ও বাস কাউন্টার

রেন্ট এ কার অফিস নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

এতে একদিকে সরকারি সম্পত্তি বেদখল হচ্ছে, অন্যদিকে সড়কে যানজট ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি মহল সওজের জমি দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান এবং বাস কাউন্টার পরিচালনা করছে। ফলে মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং জনসাধারণের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

 

এলাকাবাসী জানান, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে অবৈধ দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

 

স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জমি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে সরকারি জমি পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তির নোটিশ টানানো হয় এতে বলা আছে সাত দিনের ভিতরে অবৈধ দখলদারদের সরে যেতে বলা হয়, না হলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।

কালিয়াকৈরে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জমি দখল করে অবৈধ দোকান ও বাস কাউন্টার নির্মাণের অভিযোগ

১৭-১৮ বছরেও পাকা হলো না শুকুরখোলা গ্রামের একমাত্র সড়ক, কাদা-পানিতে দুর্ভোগে ৮০-১০০ পরিবারের মানুষ

 

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শুকুরখোলা গ্রামের প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি পরিবারের একমাত্র চলাচলের সড়কটি দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরেও পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী, নারী, শিশু ও বয়স্কসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

সম্প্রতি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও জমে থাকা পানির কারণে হেঁটে চলাচল করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মোটরসাইকেল, ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনও প্রায়ই এই সড়ক ব্যবহার করতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৭-১৮ বছরে এলাকায় একটি পাকা সড়কও নির্মাণ করা হয়নি। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের সময় উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।

 

আমাদের এলাকায় অনেক রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বসবাস রয়েছে। কিন্তু এলাকার উন্নয়নে তাদের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা আমরা দেখতে পাইনি। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”

 

গোলাম রাসুল

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক উদ্যোগে শুকুরখোলা গ্রামের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান হবে। আমরা সরকারের কাছে বিলাসী কোনো প্রকল্প চাই না; শুধু একটি টেকসই পাকা সড়ক চাই, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।”

 

মো. গোলাম রসুল বলেন, “বর্তমানে আমাদের উপজেলায় জাতীয় সংসদের দুইজন মাননীয় সংসদ সদস্য রয়েছেন। সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৪-এর সংসদ সদস্য মোছা. সাবিরা সুলতানা মুন্নি এবং যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মোশলে উদ্দীন ফরিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।”

 

এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো নতুন সড়ক নয়; বহু বছর ধরে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যায়, কৃষকরা কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যান এবং সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে শুকুরখোলা গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টেকসইভাবে পাকা নির্মাণ করবেন। এতে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে, অন্যদিকে সরকারের চলমান গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের সুফলও এই এলাকার সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবেন।

১৭-১৮ বছরেও পাকা হলো না শুকুরখোলা গ্রামের একমাত্র সড়ক, কাদা-পানিতে দুর্ভোগে ৮০-১০০ পরিবারের মানুষ

অবৈধ দোকানের দখলে ঐতিহ্যবাহী নীলফামারীর বড় মাঠ, সংকুচিত হচ্ছেন বড় ক্রীড়াঙ্গন

মাইদুল ইসলাম: (জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী)

এক সময় জেলার

ক্রীড়াচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল নীলফামারী শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠ। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত এখানে হাঁটাহাঁটি ক্রিকেট ফুটবল, ভলিবল কাবাডি ও বিভিন্ন

ক্রীড়া আয়োজনের মধ্যে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু এখন সেই মাঠের একাংশ গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ দোকান। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে মাঠের উন্মুক্ত পরিবেশ , সংকুচিত হচ্ছে খেলাধুলার পরিসর। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের একপাশ জুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান চা, ফাস্টফুড,

পান- সিগারেটসহ নানা ধরনের ব্যবসা চলছে সেখানে। দোকানগুলোর কারণে মাঠের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল হয়ে গেছে। সেখানে একসময় ভলিবল ও কাবাডি খেলা হত, সেখানে এখন আর খেলাধুলার সুযোগ নেই। দুটি ক্রিকেট মাঠের মধ্যে একটি কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিকেলে মাঠে অনুশীলনে আসা খেলোয়ারদের মধ্যে দেখা যায় হতাশা। একটি মাঠ ক্রিকেট পিচে একাধিক দলকে অনুশীলন করতে

হওয়ায় সৃষ্টি হয় ভিড় ও ভিড় ও সময় সংকট অনেকেই অনুশীলন না করে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ দোকান গুলোর কারণে প্রতিদিন মাঠে জমছে প্লাস্টিক, খাবারের উচ্ছিষ্ট ও নানা ধরনের ময়লা ও আবর্জনা। এতে মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে দখল চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাবেক ক্রিকেট খেলোয়ার আব্দুস সালাম বাবলা বলেন,’এই মাঠ থেকেই জেলার অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছে। এখন মাঠের বড় একটি অংশ অবৈধ দোকানের দখলে। এতে খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে দ্রুত এসব দোকান উচ্ছেদ করা দরকার।” ক্রিকেট খেলোয়ার সোহাগ আলী বলেন, আগে দুটি ক্রিকেট পিচ ব্যবহার করা যেত। এখন একটি কার্যত দখলে চলে গেছে। কোন টুর্নামেন্ট চললে অনুশীলনের জন্য আর জায়গা থাকে না। মাঠ দখলমুক্ত হলে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করতে পারবে।”আরেক খেলোয়াড় নাজমুস সাকিব

জুন বলেন,”বড় মাঠ শুধু খেলোয়াড়দের নয় পুরো জেলার মানুষের সম্পদ। অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হলে মাঠের পরিবেশ ফিরে আসবে এবং নতুন প্রজন্ম খেলাধুলার সুযোগ পাবে।’এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আবু মোহাম্মদ সোয়েম বলেন,”অবৈধ দোকান উচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রথমে দোকানিদের নোটিশ দিয়ে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার জন্য সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা স্থান ত্যাগ না করলে আইনানুক ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”জেলা ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠকে অবৈধ দখলমুক্ত করে আবারও খেলাধুলা ও বিনোদনের উন্মুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। কারণ একটি মাঠ শুধু খেলাধুলার স্থান নয়, এটি একটি জেলার সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি।

অবৈধ দোকানের দখলে ঐতিহ্যবাহী নীলফামারীর বড় মাঠ, সংকুচিত হচ্ছেন বড় ক্রীড়াঙ্গন

স্টাফ রিপোর্টার

তানিন পিয়াস চৌধুরী

তাং:০২/০৭/২০২৬

 

হেডলাইন:নড়াইলে গাছে বেঁধে নির্যাতন প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু।

 

নড়াইল সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা সেই মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ার হোসেন (৩২) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনাতে তিনি মারা যান।

নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

আনোয়ার উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে।

 

মামলার এজাহার ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকালে তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন দেখতে পান।

 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস ও হৃদয় বিশ্বাসসহ কয়েকজন আনোয়ারকে চুরির অভিযোগে ধরে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

নড়াইল থেকে

তানিন পিয়াস চৌধুরী

গন টেলিভিশন

নড়াইলে গাছে বেঁধে নির্যাতন প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

ফেনী সীমান্ত থেকে উদ্ধার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবক, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

 

প্রতিনিধি : রহিম আলী জাবেদ

 

ফেনী সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের পর আটক হওয়া এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বাংলাদেশি যুবককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

 

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ফেনীর পরশুরাম উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল (২২) গত ৩০ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানসিক বিভ্রান্তির কারণে তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভারতের ৪৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মন্ডুবস্তি ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা তাকে আটক করে।

 

বিষয়টি জানতে পেরে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) দ্রুত বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক যুবককে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি হয়।

 

বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ফেনী ব্যাটালিয়নের মজুমদারহাট বিওপি এবং বিএসএফের বিলোনিয়া ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে মোস্তাফিজুর রহমান রুবেলকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

 

ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধ, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা এবং মাদক ও চোরাচালান দমনে তাদের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

 

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান।

ফেনী সীমান্ত থেকে উদ্ধার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবক, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কুমিল্লা সদর দক্ষিণের বিজয়পুর বাজারে ভারসাম্যহীন ভাসমান এক ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ল্যাংরা খোকনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী বরুড়া উপজেলার ঝলম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

জানা গেছে, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজার এলাকার ওই ভারসাম্যহীন নারী সারা দিন বাজারে ঘোরাঘুরি করে আশপাশের দোকানগুলোর সামনে কিংবা ফুটপাতে রাতযাপন করত।

 

সম্প্রতি ভারসাম্যহীন ওই নারী বিজয়পুর বাজারস্থ একটি কনফেকশনারী দোকানের সামনে রাতযাপন করছিল। গভীর রাতে দুর্গাপুর গ্রামের ল্যাংরা খোকন ওরফে জুয়ারি খোকন ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে ধর্ষণ করে।

 

পরে আজ শনিবার সকাল থেকে ধর্ষণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার সিসি টিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী অভিযুক্ত খোকনকে গ্রেফতারে অভিযানে নামে পুলিশের একাধিক টিম। পরে সন্ধ্যায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝলম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, ল্যাংরা খোকন জুয়া, নারী কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এগুলো ছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জুয়ার বোর্ড চালাচ্ছে। একটি রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় খোকন একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এদিকে শিকারপুর নামক স্থান থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

 

সহকারী পুলিশ সুপার (কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, ধর্ষণের খবরের পরপরই পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে। সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী বরুড়া উপজেলার ঝলম থেকে খোকনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে।

কুমিল্লায় ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেফতার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। তাদের হত্যাকারীদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে।

 

শনিবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।

 

শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের পরিবার ও যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান, স্বীকৃতি ও জীবনমান নিশ্চিতকরণ, পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানে সরকার কাজ করছে।

 

জুলাই শহীদদের হত্যাকারীদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি প্রথমেই বলেছি, রাষ্ট্র-দেশ তার যথাসাধ্য দিয়ে আপনাদের মূল্যায়নের চেষ্টা করবে, আপনাদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করবে। কিন্তু একই সঙ্গে আপনাদের আত্মত্যাগকে যে রকম মূল্যায়ন করবে, আপনাদের বিরুদ্ধে যে অন্যায় হয়েছে, যেভাবে আপনার আপনজনকে হত্যা করা হয়েছে, অবশ্যই তার জন্য দায়ীদের বিচার হবে এই দেশের আইনে।’

 

পাশাপাশি বিচারের নামে কারও প্রতি যেন অবিচার না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ, যে আপনজনকে আপনি হারিয়েছেন, সে যদি দেখতে পারে তার প্রতি যে অন্যায় হয়েছে সেই অন্যায়ের বিচার করতে গিয়ে আমরা অবিচার করে ফেলেছি; নিশ্চয়ই সেই মানুষটি ওপার থেকে শান্তি পাবে না। সে জন্য অবশ্যই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে আইন অনুযায়ী আইনের যে সকল নিয়ম, সবগুলো বজায় রেখে, দরকার হলে আমরা একটু সময় নেব। কিন্তু যে অন্যায়কারী, যে হত্যাকারী তার যাতে সঠিক বিচার হয়।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বারবার ভাবছিলাম এই মুহূর্তে যদি আমি আমার মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, আপনার ওপর যে অবিচার ও অন্যায় হয়েছে, আপনি কি চান আমি এসবের প্রতিশোধ নিই? আমার বিশ্বাস মা বলতেন, এই মুহূর্তে তোমার কাজ সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমি জানি, আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করলে তিনিও আমাকে একই উত্তর দিতেন।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি, এখানে মা উপস্থিত আছেন। উনি দেখেছেন কীভাবে সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এখানে ভাই উপস্থিত আছেন, সে দেখেছে কীভাবে তার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।’ ‘আপনাদের এই কষ্টের বিপরীতে শুধু একটি কথাই আমি বলতে চাই, আপনাদের যে কষ্ট, সেই কষ্টটি আমিও বুঝি, অনুভব করতে পারি।’

 

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘স্বৈরাচারের সময় থেকে শুরু করে ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনে অনেকেই, বহু, হাজারো লাখো মানুষ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সেই নির্যাতনের যে কষ্ট আপনাদের এখনো ভোগ করে বেড়াতে হচ্ছে; সে রকম শারীরিক কষ্ট, মানসিক কষ্ট প্রতিটি কষ্ট আমাকেও ভোগ করতে, বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এ কারণে আপনাদের সেই কষ্ট সেটি মানসিক হোক, সেটি শারীরিক হোক, আমি কিছুটা হলেও অনুভব করতে সক্ষম।’

 

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমি ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী, আয়োজক সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল বক্তব্য দেন

জুলাইয়ে শহীদ-আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব

বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেউই হয়তো হিসেবে রাখেনি কেপ ভার্দের নাম। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ দেশটি স্বাভাবিকভাবেই ছিল আন্ডারডগ। কিন্তু তারাই মাঠে রেখেছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাপ। রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নিলেও, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নাভিশ্বাস তুলে ছেড়েছে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশ।

 

টুর্নামেন্টজুড়ে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের বড় কারিগর দলটির গোলকিপার ভোজিনিয়া। তার মতে, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-র ম্যাচেও জয়ী দলের মতোই খেলেছে কেপ ভার্দে। কিন্তু ভাগ্য পাশে না পাওয়া মেলেনি জয়।

মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোরের ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গিয়ে জিতেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

 

অথচ নির্ধারিত সময়েই জিতে যেতে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু বারবার তাদের গোলের জন্য জোরাল সব আক্রমণ প্রতিহত করে দিয়েছেন ভোজিনহা। বিপজ্জনক জায়গা থেকে লিওনেল মেসির কথা একাধিক ফ্রি কিক তিনি ফিরিয়েছেন অসামান্য ক্ষিপ্রতায়।

 

সব মিলিয়ে ম্যাচে ৮টি সেভ করেছেন ভোজিনিয়া। বিশ্বকাপের ৪ ম্যাচে তার সেভ মোট ১৮টি। এর সঙ্গে দলের অন্যান্যরাও দারুণ ফুটবল খেললে আর্জেন্টিনাকে ১১৩ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখতে সক্ষম হয় কেপ ভার্দে।

অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে মেসির কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে প্রথম ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও কেপ ভার্দের ফুটবলারের মাথায় লেগে বল জালে জড়ালে ম্যাচ জিতে যায় আর্জেন্টিনা। মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য টাইব্রেকারে ম্যাচটি নিতে পারেনি কেপ ভার্দে।

 

ম্যাচ শেষে পরাজয়ের আক্ষেপ থাকলেও, নিজেদের পারফরম্যান্সে গর্ব করার কথাই বলেন ভোজিনিয়া। ফিফায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিক্রিয়া জানান কেপ ভার্দের প্রাচীর বনে যাওয়া এই গোলকিপার।

 

“আমার মনে হয়, ম্যাচটি জেতার জন্য আমরা যথেষ্ট ভালো খেলেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, ফুটবল এমনই। আর্জেন্টিনা সেট পিস থেকে তৃতীয় গোলটি করে, কিন্তু আমরা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সাথে সমান তালে পাল্লা দিয়ে খেলেছি।”

 

এসময় আর্জেন্টিনার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা থাকার কথাও বলেন ভোজিনিয়া।

 

“মেসি এবং আর্জেন্টিনার প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি আমাদের অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে মাঠে নামার পর, প্রতিপক্ষের দক্ষতা সম্পর্কে জানা থাকলেও, আমাদের নিজেদের এবং আমাদের খেলার ওপরই মনোযোগ দিতে হয়।”

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিজয়ীর মতোই খেলেছি: ভোজিনিয়া

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আগামী ৫ জুলাই মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। অন্যদিকে ৭ জুলাই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও মিসর। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ম্যাচের আগে ইতিহাস কিন্তু দুই দক্ষিণ আমেরিকান পরাশক্তির জন্য ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।

 

পরিসংখ্যান বলছে, ব্রাজিল ও নরওয়ে এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে চারবার মুখোমুখি হয়েছে। অবাক করার বিষয় হলো, এই চার দেখায় একবারও জয়ের দেখা পায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নরওয়ের কাছে দুটি ম্যাচে হেরেছে ব্রাজিল, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ হেড-টু-হেড রেকর্ডে এখন পর্যন্ত নরওয়ের বিপক্ষে জয়শূন্য ব্রাজিল।

 

এমন পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে ব্রাজিল শিবিরের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। যদিও বর্তমান দলের শক্তি, খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং টুর্নামেন্টের পরিস্থিতি অতীতের পরিসংখ্যানকে বদলে দিতে পারে, তবুও ইতিহাসের পাতায় নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।

 

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে মিসরের চ্যালেঞ্জ। এই দুই দল এর আগে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে দাপুটে ফুটবল খেলেই বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফলে অতীতের রেকর্ড বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।

 

তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। প্রতিটি ম্যাচই নতুন, আর নকআউট পর্বে একটি ভুলই বদলে দিতে পারে পুরো সমীকরণ। তারপরও ইতিহাসের বিচারে শেষ ষোলোর আগে আর্জেন্টিনা যেমন পাচ্ছে আত্মবিশ্বাসের বাড়তি রসদ, তেমনি ব্রাজিলকে তাড়া করে ফিরছে নরওয়ের বিপক্ষে জয়হীন অতীত।

 

ব্রাজিল ও নরওয়ের পরিসংখ্যান:

*মোট ম্যাচ: ৪টি

*ব্রাজিলের জয়: ০টি

*নরওয়ের জয়: ২টি

*ড্র: ২টি

 

ম্যাচগুলোর ফলাফল:

*১৯৮৮ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): ব্রাজিল ১-১ নরওয়ে

*১৯৯৭ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): নরওয়ে ৪-২ ব্রাজিল

*১৯৯৮ (ফিফা বিশ্বকাপ, গ্রুপ পর্ব): নরওয়ে ২-১ ব্রাজিল

*২০০৬ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): ব্রাজিল ১-১ নরওয়ে

 

আর্জেন্টিনা ও মিসরের পরিসংখ্যান:

*মোট ম্যাচ: ১টি

*আর্জেন্টিনার জয়: ১টি

*মিসরের জয়: ০টি

*ড্র: ০টি

 

সর্বশেষ সাক্ষাৎ: ২০০৮ সালের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ

ফল: আর্জেন্টিনা ২-০ মিসর

পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনার জন্য সুখবর, ব্রাজিল শিবিরে বড় দুঃসংবাদ

জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মাহিয়া মাহি ও শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম।

 

গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে সংগঠনটির তিন নেতা এ অভিযোগ জমা দেন। বিষয়টি জানা গেছে আজ শনিবার।

 

এ নিয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, অভিযোগটি সাইবার-সংক্রান্ত হওয়ায় তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে নিহত, আহত এবং আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

শাওন-মাহির বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২’র ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা মূল্যায়ন করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার মতে, প্রতিপক্ষকে সহজভাবে দেখার কোনো সুযোগই ছিল না এবং শুরু থেকেই তারা জানতেন কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।

 

মেসি বলেন, কেপ ভার্দের অপরাজিত যাত্রা মোটেও কাকতালীয় ছিল না। স্পেন কিংবা উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও তারা ভালো ফল করেছে, তাই ম্যাচটি যে কঠিন হবে, সে বিষয়ে আর্জেন্টিনা আগেই সতর্ক ছিল। তার ভাষায়, প্রথম গোলটি করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গোল পাওয়ার পর মনে হয়েছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে আরও স্বচ্ছন্দে খেলা যাবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক উল্টোটা।

 

আর্জেন্টাইন অধিনায়ক স্বীকার করেছেন, ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে তার দল বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। রক্ষণভাগ কিছুটা বেশি নিচে নেমে যাওয়ায় প্রতিপক্ষকে কাঙ্ক্ষিতভাবে চাপে রাখা সম্ভব হয়নি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেপ ভার্দে সমতাসূচক গোলও আদায় করে নেয়। তবে এমন পরিস্থিতির জন্য দল মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

মেসির মতে, নকআউট পর্বের ফুটবলে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। এখানে কোনো দলই প্রতিপক্ষকে বিনা লড়াইয়ে কিছু ছেড়ে দেয় না। কেবল নামের কারণে কোনো দলকে দুর্বল মনে করা হতে পারে, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন লড়াই তাকে বিস্মিত করেনি।

প্রথম গোলের পর দলে কী ঘটেছিল, জানালেন মেসি

কেপ ভার্দের এই স্বপ্নযাত্রার নেপথ্যে মাঠ ও মাঠের বাইরে সবচেয়ে বড় তারকা ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী অখ্যাত এই গোলকিপার স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পুরো দুনিয়াকে নিজেকে চিনিয়েছেন তার অতি মানবীয় পারফরম্যান্স দিয়ে। একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে হতাশায় স্প্যানিশদের হতাশায় ফেলে দেন তিনি। পুরো ম্যাচে ৭টি সেভ করে ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হন ভোজিনিয়া।

 

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আজ ৮টি সেভ করে এবারের বিশ্বকাপে নিজের মোট সেভের সংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গেছেন ভোজিনিয়া। চলতি টুর্নামেন্টে তার চেয়ে বেশি সেভ করেছেন শুধু কুরাসাওয়ের এলোয় রুম (২০) এবং প্যারাগুয়ের অরল্যান্ডো গিল (১৯)।

 

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৪০ বা তার বেশি বয়সী গোলকিপারদের মধ্যে কেবল পিটার শিলটন (১৯৯০ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে ২৮টি) এবং দিনো জফ (১৯৮২ সালে ইতালির হয়ে ২৭টি) এক টুর্নামেন্টে এর চেয়ে বেশি সেভ করতে পেরেছেন।

 

পরিসংখ্যান যে সবসময় মাঠের আসল গল্প বলতে পারে না—তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ কেপ ভার্দের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান। টুর্নামেন্টে তারা কোনো ম্যাচ জেতেনি, অথচ তাদের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র এবং সৌদি আরবকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দে জায়গা করে নিয়েছিল শেষ ৩২-এ। এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স কি দলটির সমর্থকরা কখনো কল্পনা করতে পেরেছিল?

 

এরপর আজ নকআউট পর্বে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটিকে তারা টেনে নিয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। ঘড়ির কাটায় ১১১তম মিনিট, ম্যাচ তখন ২-২ সমতায়, মনে হচ্ছিল পেনাল্টি শুট আউট নির্ধারণ হবে ম্যাচের ফল কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না কেপ ভার্দের। বোর্গেসের আত্মঘাতী গোলে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত এই গোলেই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দেয়।

 

ফলাফলে লেখা থাকবে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু পুরো বিশ্ব ইতিমধ্যেই দেখেছে আফ্রিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রের লড়াকু মানসিকতা। বারবার পিছিয়ে পড়েও চোখে চোখ রাঙিয়ে কেপ ভার্দে কিভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে।

 

এক ম্যাচে ৮টি সেভ করে নতুন আফ্রিকান রেকর্ডও গড়েছেন ভোজিনিয়া। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে আলজেরিয়ার রাইস এম’বোলহির পর নকআউট পর্বে কোনো আফ্রিকান গোলকিপারের এটি সর্বোচ্চ সেভের কীর্তি।

 

২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, দুইবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা—সবার বিপক্ষেই চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে কেপভার্দে। পুরো টুর্নামেন্টে তারা ৪টি গোল করেছে, হজম করেছে ৫টি, ৩টি ম্যাচ ড্র করেছে এবং মাত্র ১টিতে হেরেছে।

 

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক। অথচ দেশটির মাত্র ৪,০৩৩ বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ লাখ উনত্রিশ হাজার।

 

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল কেপ ভার্দে। ম্যাচের শুরুতেই রায়ান মেন্ডেস আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বেশ ভালোই পরীক্ষা নেন। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় লাতিন আমেরিকার জায়ান্টরা।

 

ম্যাচের ৩১ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত এক শটে বল জালের ছাদে পাঠান লিওনেল মেসি। এটি ছিল টুর্নামেন্টে তার সপ্তম গোল।

 

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও বিরতির পর বদলে যায় কেপ ভার্দে। মেন্ডেসের পাস থেকে ডেরয় ডুয়ার্তে কঠিন কোণ থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান। এটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের ইতিহাসে প্রথম গোল।

 

নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯২ মিনিটে কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে নেন। পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি কেপ ভার্দে। ১০৩ মিনিটে সিডনি লোপেস কাবরাল এক বাঁকানো শটে গোল করে ম্যাচ আবার ২-২ সমতায় আনেন।

 

১১১ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে রোমেরো জোরালো হেড করেন, যা কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্গেসের গায়ে সামান্য লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এই আত্মঘাতী গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

 

ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ফ্রি-কিক থেকে লোপেস কাবরালের একটি বুলেট গতির শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। নাহলে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়াত। এই সেভের মাধ্যমেই আর্জেন্টিনার শেষ-১৬ নিশ্চিত হয়।

 

বিদায় নিলেও বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছে কেপ ভার্দে। সেই সঙ্গে বিশ্ব চিনেছে ভোজিনিয়া নামের এক লড়াকু বীরকে।

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের রূপকথা এবং ৪০ বছরের এক প্রাচীর

সিন্ডিকেটের স্বেচ্ছাচারিতায় চলছে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি// ঠিকাদার নিয়োগে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় একটি সমবায় সংস্থা। “আলো ঘরে ঘরে, প্রগতি দেশে দেশে” এ স্লোগানকে সামনে রেখে কাজ করার কথা থাকলেও ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে ঘুষ বাণিজ্য, অতিরিক্ত ও ‘ভূতুড়ে’ বিল আদায়, টেন্ডারে অনিয়ম এবং দীর্ঘ লোডশেডিং ও ঠিকাদার নিয়োগ বানিজ্যের মত নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

 

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে মিনি ঠিকাদার তালিকাভুক্তকরণ ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, গোপনীয়তা এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। যোগ্যতাসম্পন্ন স্থানীয় ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জেলার বাহিরের নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নানা দুর্নীতির কারনে একদিকে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে গ্রামীন জনগণের সেবায় নিয়োজিত এ প্রতিষ্ঠানটি অপরদিকে কাজেও গতি হারা্েচ্ছ সরকারের “আলো ঘরে ঘরে”বাস্তবায়িত প্রকল্পটি।

 

জানাযায়,ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে স্বল্প দৈর্ঘ্য, লাইন নির্মাণ, রক্ষনাবেক্ষন ও আপগ্রেডেশন কাজের জন্য গত বছরের মাঝামাঝি মিনি ঠিকাদার প্রাথমিক তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পূর্বের তালিকাভুক্ত কিছু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ তাহাদের পছন্দমতো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে বাধার সৃষ্টি করে। তালিকাভুক্তির ১৭২ টি আবেদনের বিপরীতে আগের জিএম আসাদুজ্জামান খান প্রথমে ৩১ টি এবং পরবর্তীতে আরো ৮ টি সহ মোট ৩৯ টি প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তভৃুক্ত করে যাদের অধিকাংশই জেলার বাহিরের এবং অনেক দূরের প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে নানা প্রশ্ন উঠলে ১৭২ টি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রেজাউল করিম একটি নির্দেশনা দিলেও তা অমান্য করে সম্প্রতি গোপনেই ৩৯ টি প্রতিষ্ঠানের নাম চুরান্ত করে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

অবৈধ উপায়ে অর্থের বিনিময়ে পছন্দের গুটিকয়েক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক তালিকাভুক্তির কারণে ভোগান্তিতে পড়বে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুইটি জেলা অথ্যাৎ ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার সাধারণ জনগণ । সিন্ডিকেট সহ গুটিকয়েক এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি থাকবে দুই জেলার প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ।

 

আরাফাত এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী ভুক্তভোগী এনামুল হক অভিযোগ করে বলেন, আমি স্বচ্ছতার সাথে অনেক বছর ধরেই এ প্রতিষ্ঠানে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করে আসছি। কোনদিন কাজের মান নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখিন হইনি। এবারো নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় বিল পরিশোধ করে সব কাগজপত্র জমা দেই। আমাকে বাদ দিয়ে দূরের জেলার কোন প্রতিষ্ঠান কিভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় তা আমার জানা নেই। সহকারী জেনারেল র্মানেজার (এজিএম ই এন্ড সি) নাহিদ ইসলাম আমাকে বড় বিএনপি নেতার সুপারিশ আনতে বলেন। তারপর নাকি কিছু করা যেতে পারে।

 

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আশরাফুল আলম খান বলেন, মিনি ঠিকাদার নিয়োগের সার্কুলারটা অতীত এবং আগেই ক্লোজ হয়ে গিয়েছে। ১৭২ আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩৯ টি প্রতিষ্ঠান ইনলিস্টেট হয়েছে। অতীতে কিভাবে কি হযেছে তা আমার জানা নেই। তবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যাচাই বাছাইয়ে স্বচ্ছতা বা বাছাই কমিটির পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দেয়নি।

সিন্ডিকেটের স্বেচ্ছাচারিতায় চলছে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি// ঠিকাদার নিয়োগে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর ম্যাচ এগিয়ে আনার আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফলে ইংল্যান্ড-মেক্সিকোর পাশাপাশি ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচও পূর্বনির্ধারিত সময়েই হবে।

 

শুক্রবার রাতে বিবিসি জানায়, আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়ে ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচের সময় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে ফিফা। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো—দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত সূচি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচটি হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ম্যাচ শুরুর সময় বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হলেও, সেটি সূচি পরিবর্তনের কারণ হচ্ছে না।

 

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ফিফা শুরুতে ম্যাচটি কয়েক ঘণ্টা এগিয়ে এনে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১২টা) শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে সময় পরিবর্তনের ওই প্রস্তাবের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

 

সূচি পরিবর্তন হলে শুধু ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচই নয়, এর প্রভাব পড়ত ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচের সময়সূচিতেও। যদি ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচ ৬ ঘণ্টা এগিয়ে আসত সেক্ষেত্রে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হত ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ। তবে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, সমর্থকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং আয়োজনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় রেখে শেষ পর্যন্ত আগের সূচিই বহাল রাখা হয়েছে।

 

ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর ম্যাচটি হবে বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৬টায়। এর আগে নিউ জার্সিতে ব্রাজিল ও নরওয়ের শেষ ষোলোর লড়াই মাঠে গড়াবে রোববার দিবাগত রাত ২টায়, পূর্বনির্ধারিত সময়েই।

 

বদলাচ্ছে না ইংল্যান্ড ও ব্রাজিলের ম্যাচের সূচি

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d