অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে পরীক্ষা দিতে পারলেন না দুই ছাত্রী, খোয়ালেন গয়না-প্রবেশপত্র - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে পরীক্ষা দিতে পারলেন না দুই ছাত্রী, খোয়ালেন গয়না-প্রবেশপত্র

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে পরীক্ষা দিতে পারলেন না দুই ছাত্রী, খোয়ালেন গয়না-প্রবেশপত্র

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে স্বর্ণালংকার ও পরীক্ষার প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়ে পরীক্ষা দিতে পারেননি দুই পরীক্ষার্থী।

 

ভুক্তভোগীরা হলেন, জান্নাতুল নাঈমা (১৯) ও প্রাহিমা আক্তার শশী (১৯)। তারা নোয়াখালী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তাদের পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল সোনাপুর কলেজ।

 

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাইজদী শহরের মেহরান ডাইন রেস্তোরাঁর সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নাঈমা ও প্রাহিমা একই এলাকার বাসিন্দা। শনিবার সকালে তারা পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য সোনাপুরগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। অটোরিকশাটি মেহরান ডাইন রেস্তোরাঁর সামনে পৌঁছালে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে তাদের অচেতন করে ফেলে। পরে তাদের শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার এবং সঙ্গে থাকা পরীক্ষার প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

পরে সিএনজিচালক দুই শিক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় রেখে চলে যান। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। বর্তমানে তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার কারণে তারা নির্ধারিত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

 

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার্থীদের স্বজনরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানায়নি। তবে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শনিবারের (১১ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবহাওয়ার মারাত্মক অবনতি ও বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) আগামীকাল শনিবারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের (বিষয় কোড-২৭৫) পরীক্ষাটি স্থগিত করা হলো।

 

এতে আরও বলা হয়, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।

 

এ ছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় সব কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাইকিং করে এলাকায় বিষয়টি জানিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সড়কে হাঁটতে গিয়ে আইন বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আশরাফুল নামের এক নবীন শিক্ষার্থী বিষধর সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

 

বুধবার (৮ জুলাই) রাত সোয়া ১১টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাকসুর আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া। তিনি বলেন, রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হল সংলগ্ন এলাকায় টিউশন করে ফেরার পথে তাঁকে বিষধর সাপে কাটার কথা জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।

 

চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হল সংলগ্ন সড়কের মাঝে সাপে কাটে তাকে। সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কয়েকজন ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। তবে এখান থেকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। নগরে জলাবদ্ধতা থাকায় নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।

 

চবির সহকারী প্রক্টর ড. কামরুল হোসাইন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি এবং আহত ওই শিক্ষার্থীকে ফলোআপে রেখেছি। অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত আছে কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে শহরে নেওয়া যাচ্ছে না।

 

অন্যদিকে চবি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে চলতে গিয়ে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। যার ধারাবাহিকতায় আজকে এক নবীন শিক্ষার্থী বিষধর সাপের কামড়ের শিকার হলেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চবির প্রতিটি সড়কে দ্রুত পাওয়ারফুল সড়কবাতির দাবি তাদের।

সাপের কামড়ে আহত চবি শিক্ষার্থী, জলাবদ্ধতায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া যাচ্ছে না

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একটি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল করার দায়ে ৭ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি দল সুজাতপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করে এ ব্যবস্থা নেয়।

 

কেন্দ্র সচিব মাসুদ পারভেজ বলেন, অসদুপায়ের দায়ে তাদের অব্যাহতি প্রদান করা হয়। বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নাউরী আদর্শ কলেজের ৬ জন অনিয়মিত ছাত্র-ছাত্রী ও নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রী কলেজের একজন নিয়মিত ছাত্রী। কেন্দ্রে প্রবেশের সময়ে তাদের পরিহিত শার্টের মধ্যে লিখে নকল নিয়ে আসেন তারা। পরিদর্শনের সময় তাদের কাছে নকল পাওয়া গেলে ৭ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

 

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, সন্দেহ হলে ওই শিক্ষার্থীদের তল্লাশিকালে বড় একটি সাদা কাপড়ে লেখা নকল পাওয়া যায়। যেটিতে প্যারাগ্রাফ, এপ্লিকেশন লিখে আনে। এগুলো জাস্ট ওয়ার্ড চেঞ্জ করে তারা লিখে দিত। এই সাদা কাপড় সেলাই করে অ্যাপ্রনের সাথে নিয়ে এসেছিল। কেউ কেউ আবার জামা-হাতে লিখে এনেছিল। কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় প্রথমে একজনকে ধরা হয়। পরে মোট ৭ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এইচএসসিতে নকলের দায়ে চাঁদপুরের এক কেন্দ্রের ৭ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান বন্যা পরিস্থিতি এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দেওয়া প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার এইচএসসি পরীক্ষা এবং একই এলাকার বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা-২০২৬।

 

তবে দেশের অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলাগুলো ছাড়া অন্যান্য জেলায় মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর নতুন তারিখ ও সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি ধাপে ধাপে চূড়ান্ত হয়। প্রথম দফায় মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শুধু চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে রাত ১২টার দিকে এই তালিকায় যুক্ত হয় কক্সবাজার জেলার নাম। সবশেষে রাত ১টা ১৫ মিনিটে জারি করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলাতেই পরীক্ষা স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলায় বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় উচ্চ শব্দে মাইক বাজানোর প্রতিবাদ করায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আয়শা আফরিনের ওপর হামলা ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। হামলার পরও থেমে না থেকে অভিযুক্তরা তার পরিবারকে প্রাণনাশ ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতাই ভুগছে বলে জানিয়েছেন।

 

রোববার (৫ জুলাই) রাতে ৯ টার দিকে হামলার এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আয়শা আফরিন জানান, তার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। এ সময় তাদের বাসার সামনে একটি মাজার শরিফের নামে চাঁদা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো হচ্ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ শব্দ চলতে থাকায় পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। তিনি অত্যন্ত ভদ্রভাবে মাইকের শব্দ কমিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

 

তবে তার এ অনুরোধে ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার চেষ্টা করেন। এ সময় শাহ আলম ও তার ছেলে অপুসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

আয়শা আফরিনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করেন। একপর্যায়ে তার কাপড় টানাটানি করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে কোপ দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।

 

তিনি বলেন, ‘আমি শুধু শব্দটা একটু কমাতে বলেছিলাম। একটি যৌক্তিক ও সাধারণ অনুরোধের কারণে আমার ওপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে, তা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে কোপ দেওয়ার সেই মুহূর্তগুলো এখনো আমাকে আতঙ্কিত করে। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’

আয়শা বলেন, ‘নিজের এলাকায়, নিজের পরিচিত পরিবেশে থেকেও আজ আমি নিরাপদ নই। একজন শিক্ষার্থী ও একজন নারী হিসেবে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

 

হামলার পরও অভিযুক্তরা থেমে থাকেনি বলে অভিযোগ করেন এই শিক্ষার্থী। তার দাবি, ঘটনার পর হামলাকারীরা তাদের বাসার সামনে এসে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। তারা থানায় অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আরও বড় ক্ষতি করার হুমকি দেন। এমনকি তাদের বাসা ও দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কথাও বলে যায়।

 

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর থেকে পুরো পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে আয়শার বাবা-মা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পরিবারের দাবি, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের তারা শনাক্ত করেছেন এবং তাদের ছবি সংগ্রহ করেছেন।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম, অপুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

তবে ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

পরীক্ষার পড়ায় ব্যাঘাত, শব্দ কমাতে বলতেই জবি ছাত্রীর ওপর হামলা

শুরুতে বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। করোনা মহামারির কারণে থমকে গিয়েছিল স্বপ্নের পথচলা। সরকারি চাকরি করতে করতেই দিনের পর দিন সীমিত সময় নিয়ে চালিয়ে গেছেন প্রস্তুতি। শেষ পর্যন্ত ৪৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জন। এটি একজন চাকরিপ্রার্থীর ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও সঠিক পরিকল্পনার ফল।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা গোলাম কিবরিয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। বাবা পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে বড় হয়েছেন। অযথা আড্ডা কিংবা সময় নষ্ট করার অভ্যাস কখনোই ছিল না।

 

চিটাগাং পুলিশ ইনস্টিটিউশন (বর্তমান সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ) থেকে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার অনেক বন্ধু অনার্সে পড়ার সময় থেকেই ব্যাংকসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিত। কিন্তু আমি একাডেমিক বিষয়টা ভালোভাবে শেখার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছি। অনেকদিন এমন হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বই পড়েছি, নোট করেছি। তখন হয়তো বুঝিনি, কিন্তু আজ মনে হয় সেই সময়গুলোই আমার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ছিল।’

 

মাস্টার্স শেষ করার পর ৪১তম বিসিএসে অংশ নেন কিবরিয়া। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় প্রিলিমিনারিতেই বাদ পড়েন। এরপরই শুরু হয় করোনা মহামারি। দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তা যেন স্বপ্নের পথকে আরও কঠিন করে তোলে। তিনি বলেন, ‘প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হওয়ার পর বুঝেছিলাম, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না; প্রস্তুতিটাও হতে হবে পরিকল্পিত। তাই নতুন করে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো খুঁজতে শুরু করি।’

 

গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘৪৪তম বিসিএস থেকেই শুরু হয় প্রকৃত প্রস্তুতি। সিলেবাস বিশ্লেষণ করে প্রথমেই বুঝতে পারি, গণিতই আমার সবচেয়ে দুর্বল বিষয়। আমি সিদ্ধান্ত নিই, যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই, সেটিকেই সবচেয়ে বেশি সময় দেব। তাই প্রতিদিনের রুটিনে গণিতকে প্রথমেই রাখতাম। এভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।’

এর মধ্যে সরকারি একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় অফিসে কাটলেও সন্ধ্যার পর নিয়মিত পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। আর ছুটির দিনগুলোতে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়ে আগের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করতেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই ইংরেজিতে পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ৪৪তম ও ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষাও ইংরেজিতে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এটি তাকে অন্যদের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রেখেছে।

 

৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ পান কিবরিয়া। কিন্তু সেখানেই থেমে যাননি। লক্ষ্য ছিল শিক্ষা ক্যাডার। সেই স্বপ্নই পূরণ হয় ৪৭তম বিসিএসে। শুধু শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশই নয়, সমাজবিজ্ঞান বিষয়েও প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।

 

গোলাম কিবরিয়া জানান, তার ভাইভা হয়েছিল ১০ জুন ২০২৫, উভয় ক্যাডারের ভাইভার প্রথম দিন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ভালো হওয়ায় তিনি আশাবাদী ছিলেন। ফল প্রকাশের দিন অফিস শেষে বাসায় ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারেন ফল প্রকাশ হয়েছে। নিজের নামের পাশে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়ার খবর দেখে যে অনুভূতি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় বলেই জানান তিনি।

 

শিক্ষা ক্যাডারে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষা ক্যাডারে এসেছি শুধু চাকরি করার জন্য নয়। আমি চাই গবেষণার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধানে কাজ করতে। শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনার মধ্য দিয়েই দেশের উন্নয়ন সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।’

অফিসের দিনে ৫-৬ ঘণ্টা পড়তেন, ছুটির দিনে পুষিয়ে নিতেন ১৫-১৬ ঘণ্টা পড়ে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

খেলা তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব সিক্সটিনে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তের ট্যাকলটা করতে গিয়েই পকেট থেকে রেফারি বের করেছিলেন হলুদ কার্ড। গনজালো মন্টিয়েলের হয়তো তখন কার্ডের কথা ভাবার সময় ছিল না, লক্ষ্য ছিল একটাই—দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলা। কিন্তু সেই একটি হলুদ কার্ডই এখন আর্জেন্টিনার এই রাইট-ব্যাকের জন্য রূপ নিয়েছে এক অদৃশ্য খাঁচায়।

 

 

 

কালড় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালের টিকিট কাটার এই লড়াইয়ে মন্টিয়েল প্রথম একাদশে থাকবেন কি না, তা নিয়ে লিওনেল স্কালোনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভাববেন।

 

 

 

তবে তিনি খেলুন কিংবা বদলি হিসেবে নামুন—একটা অদৃশ্য সতর্কবার্তা তার মাথার ওপর ঝুলছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হবে মন্টিয়েলকে। আর্জেন্টিনা যদি সেমিফাইনালে চলেও যায়, নিষেধাজ্ঞার খাঁড়ায় পড়ে সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হবে ২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে।

 

 

 

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের শুরু (শেষ ৩২) থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় যদি দুটি ভিন্ন ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখেন, তবে পরবর্তী ম্যাচের জন্য তিনি নিষিদ্ধ হবেন। কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর এই কার্ডের হিসাব মুছে যায়। সেমিফাইনালে ফ্রেশ কার্ড নিয়ে নামার সুযোগ থাকে।

 

 

 

কিন্তু মন্টিয়েলের সমস্যা হলো, তিনি অলরেডি শেষ ষোলোতেই একটা কার্ড হজম করে বসে আছেন। কোয়ার্টার ফাইনালের বৈতরণী পার হওয়ার ম্যাচে মন্টিয়েলকে তাই খেলতে হবে ‘পায়ে বরফ আর মাথায় বরফ’ বেঁধে।

 

 

 

চলতি বিশ্বকাপে মন্টিয়েলের ভূমিকা আর্জেন্টিনার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে প্রথমার্ধের পরই তাঁকে তুলে নাহুয়েল মোলিনাকে নামিয়েছিলেন স্কালোনি। কিন্তু মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে আবার মোলিনার জায়গায় নেমে খানিটা জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দেন রিভার প্লেটের এই রাইট-ব্যাক; তাঁর পাস থেকেই এসেছিল লিওনেল মেসির সেই সমতাসূচক গোলটি।

 

 

 

স্কালোনির দলের এখন একমাত্র অগ্রাধিকার সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখা, যেখানে প্রতিপক্ষ হতে পারে নরওয়ে অথবা ইংল্যান্ড। দলের লক্ষ্য অর্জনে মাঠে কেউ গা বাঁচিয়ে খেলবেন না, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মন্টিয়েল ভালো করেই জানেন তার বর্তমান পরিস্থিতি।

 

 

 

আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি তাঁকে সামলাতে হবে নিজের আবেগকেও। অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় কি মন্টিয়েল পারবেন হলুদ কার্ডের ফাঁদ এড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে স্বপ্নের সেমিফাইনালে নিয়ে যেতে? সে উত্তর মাঠের লড়াইয়ের জন্য তোলা থাকুক।

হাত-পা-মাথায় ‘বরফ বেঁধে’ খেলতে হবে মন্টিয়েলকে

স্টাফ রিপোর্টার

তানিন পিয়াস চৌধুরী

তাং -১১/০৭/২০২৬ শনিবার

 

হেডলাইন: নড়াইলে কালিয়ায় ওয়ান শু’টা’র গান ও দেশীয় অ*স্ত্রসহ শীর্ষ স*ন্ত্রাসী খবির মোল্লা গ্রে*প্তার—

 

র‌্যাবের একটি চৌকস আভিযানিক দল নড়াইলের কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের সিলিমপুর গ্রাম থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী খবির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে তার কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটার গান,দুই রাউন্ড গুলি ও বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে র‌্যাবের এমন অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় জনগণ।

 

র‌্যাব-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

 

গ্রেপ্তার খবির মোল্লা কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের সিলিমপুর গ্রামের কাউসার মোল্লার ছেলে।

 

র‌্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির ঘটনায় খবির মোল্লার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

কালিয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,গ্রেফতারকৃত আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয় নাই। তাকে হস্তান্তর করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

নড়াইল কালিয়া থেকে

তানিন পিয়াস চৌধুরী

গন টেলিভিশন সংবাদ

নড়াইলে কালিয়ায় ওয়ান শু’টা’র গান ও দেশীয় অ*স্ত্রসহ শীর্ষ স*ন্ত্রাসী খবির মোল্লা গ্রে*প্তার

টানা ৪ দিন ধরে সমুদ্র উপকূলবর্তী চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুরোটাই পানির নিচে। বন্যাকবলিত এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে। পানিবন্দি শত শত পরিবার। অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, তলিয়ে গেছে সড়ক, ফসলি জমি। এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিহীন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নে একটি যৌথ পরিবারের মাটির ঘরটি ছিল মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই। সেখানে ৫ পরিবারের সদস্যরা থাকতেন। কিন্তু বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে ডুবে আছে ঘরটি। এমনকি ভেসে গেছে আসবাবপত্র।

 

ঠিক এই পরিবারের দুর্দশার মতো বন্যাকবলিত ছনুয়া ইউনিয়নের বেশির ভাগ পরিবারের মাটির ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার গৃহহীন। খোলা আকাশ এখন তাদের ঠিকানা। কেউবা মাথা গোঁজার জন্য ছুটছেন উঁচু স্থান ও আশ্রয়কেন্দ্রে।

 

চট্টগ্রামে বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর অন্যতম বাঁশখালী এলাকার অনেক ঘরবাড়ি হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে থাকায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি। এখনও ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় অসহায় এসব মানুষের দিন কাটছে কষ্টে।

 

অন্যদিকে, বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ভেসে গেছে ঘেরের মাছ। ক্ষতির মুখে ধান ও লবণচাষিরা।

 

এছাড়াও বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাঁশখালীতে পুঁইছড়ি, শেখের খিল, কাথারিয়া ও গণ্ডামারা-সহ ৫/৬টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগ চরমে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুরো এলাকা পানির নিচে, মানুষের দুর্ভোগ চরমে

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে স্বর্ণালংকার ও পরীক্ষার প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়ে পরীক্ষা দিতে পারেননি দুই পরীক্ষার্থী।

 

ভুক্তভোগীরা হলেন, জান্নাতুল নাঈমা (১৯) ও প্রাহিমা আক্তার শশী (১৯)। তারা নোয়াখালী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তাদের পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল সোনাপুর কলেজ।

 

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাইজদী শহরের মেহরান ডাইন রেস্তোরাঁর সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নাঈমা ও প্রাহিমা একই এলাকার বাসিন্দা। শনিবার সকালে তারা পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য সোনাপুরগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। অটোরিকশাটি মেহরান ডাইন রেস্তোরাঁর সামনে পৌঁছালে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে তাদের অচেতন করে ফেলে। পরে তাদের শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার এবং সঙ্গে থাকা পরীক্ষার প্রবেশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

পরে সিএনজিচালক দুই শিক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় রেখে চলে যান। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। বর্তমানে তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার কারণে তারা নির্ধারিত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

 

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার্থীদের স্বজনরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানায়নি। তবে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে পরীক্ষা দিতে পারলেন না দুই ছাত্রী, খোয়ালেন গয়না-প্রবেশপত্র

মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ হেফাজত থেকে গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি হাসিনা বেগমকে (৩৫) পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিয়ানগর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

 

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হাসিনা বেগমের অবস্থান শনাক্ত করার পর মাদারীপুর সদর মডেল থানার একটি বিশেষ দল কেরানীগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাদারীপুরে নিয়ে আসা হয়। বেলা দেড়টার দিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে মাদারীপুর সদর মডেল থানার অস্থায়ী ভবনের বারান্দার একটি কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান হাসিনা। ওই রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাকে আটক করেছিলেন। থানার মূল ভবন নির্মাণাধীন থাকায় ওসির সরকারি বাসভবনের নিচতলায় অস্থায়ীভাবে থানার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে হাজতখানা না থাকায় পুলিশি হেফাজতে একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল তাকে।

 

মাদারীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম শাহারিয়ার জানান, পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর ঘটনায় হাসিনা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

 

এদিকে এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এসআই রমজান আলীসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিকনার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

থানার গ্রিল ভেঙে পালানো নারী আসামি কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁওয়ে ২০ বোতল ফেনসিডিল সহ এক নারীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ ( ডিবি)।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

(১১)ই জুলাই শনিবার দিবাগত রাতে ঠা’কুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)র বিশেষ অ’ভিযানে ২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় একজন নারীকে গ্রেফতার করা হ’য়েছে এবং অপর একজন ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পা’লিয়ে যায়।

 

ডিবির ওসি গোলাম রসুল জানান, পলাতক আসামি বিলাতু চন্দ্র (৩৯), পিতা- মৃত কার্তিক চন্দ্র, গ্রাম- মহব্বতপুর (মোড়লপাড়া), সদর উপজেলা, ঠাকুরগাঁও বাসীন্দা।

 

অভিযানে গ্রেফতার হন গহনা বালা (৫৫), স্বামী- মৃত কার্তিক চন্দ্র, একই গ্রামের বাসিন্দা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১০ নং জামালপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর মোড়লপাড়া এলাকায় পলাতক আসামি বিলাতু চন্দ্রের বসতবাড়িতে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ২০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে।

 

ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসিডিবি গোলাম রসুল জানান এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আটক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা সংক্রান্ত সকল আইনগত কার্যক্রম শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ২০ বোতল ফেনসিডিল সহ এক নারীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ ( ডিবি)।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় স্ত্রীকে বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছেন-এমন ধারণা নিয়ে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন এক যুবক।

 

তবে গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন তাঁর স্ত্রী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার জিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে চারটার দিকে মোহাম্মদ কাজল (২৮) বুড়িচং থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান, তিনি তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। প্রায় একই সময়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ওই ঘটনার খবর আসে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজলের স্ত্রী ইভা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, ইভার গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। প্রথমে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

অভিযুক্ত কাজল উপজেলার বলরামপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে জিয়াপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ইভা স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

 

বাড়ির মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, ভোররাতে কাজল তাঁর কাছে এসে জানান, তিনি স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। এরপর তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকে ইভাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

 

ইভার বড় বোন নিপা আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই বিদেশে যাওয়ার কথা বলে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন কাজল। টাকা না দেওয়ায় প্রায়ই ইভাকে মারধর করতেন। ঘটনার আগের দিনও তাঁকে মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, যৌতুকের টাকা না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে ইভাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত কাজল পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। আহত নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্ত্রীর গলা কেটে থানায় আত্মসমর্পণ, ঢামেকে ভর্তি

ঝালকাঠির নলছিটিতে পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক চাপে পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন এক নারী। তবে স্থানীয়দের দ্রুত উদ্ধার তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নলছিটি ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া নারী লাকি আক্তার নলছিটি শহরের বাসিন্দা। তিনি আদম আলীর ছেলে সাইদুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জান।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেরিঘাট এলাকায় ৫ বছর বয়সী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন লাকি আক্তার। বিষয়টি চোখে পড়তেই আশপাশের লোকজন কোনো বিলম্ব না করে নদীতে নেমে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে মা ও মেয়েকে নিরাপদে তীরে তুলে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

লাকি আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে তার দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো ছিল না। কিছুদিন আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে মেয়ের অভিভাবকত্ব নিয়ে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়েন তিনি। দীর্ঘদিনের মানসিক অস্থিরতা থেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

 

এ বিষয়ে সাইদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

নলছিটি থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জান বলেন, ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মা ও শিশু বর্তমানে সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার পর তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিশু সন্তানকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে মায়ের ঝাঁপ, অতঃপর..

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগের মধ্যেই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল চাপে খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে অসংখ্য বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে কৃষি খাতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

গত ৯ জুলাই রাত প্রায় ৯টায় সদর উপজেলার চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। মুহূর্তেই নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে প্রথম দিনেই প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

পরবর্তী সময়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫টিতে। নতুন করে বাহুবল উপজেলার লামাতাশী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এবং সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নের আরও কয়েকটি এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

 

চরহামুয়া, কালীগঞ্জ, লস্করপুর, পইল, তেঘরিয়া, আলাপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত পানি ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু স্থানে চলে গেছে।

 

কেউ আশ্রয় নিয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কেউ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে, আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলাপুর-কালীগঞ্জ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ড্রেজার বসিয়ে গভীরভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে।

 

সম্প্রতি আরও কয়েকটি শক্তিশালী ড্রেজার যুক্ত হওয়ায় নদীর তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং তীররক্ষা বাঁধের ভিত্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের চাপ সেই দুর্বল অংশে পড়ায় বাঁধটি ধসে যায় বলে দাবি তাদের।

 

১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে। অবিলম্বে খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।”

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহুবার প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাননি। বরং প্রতিবাদকারীদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির সুযোগে একটি প্রভাবশালী চক্র বছরের পর বছর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে এসেছে।

 

বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

 

পরিদর্শনকালে হুইপ জি কে গউছ বলেন, অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত সংস্কার করতে হবে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

 

তিনি জেলা প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত, বাঁধ সংস্কার এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

পরিদর্শন শেষে তিনি পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও রান্না করা খাবার বিতরণ করছে।

 

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম জানান, বন্যার পানিতে একাধিক মাছের খামার ভেসে গেছে। বিভিন্ন জাতের সবজির ক্ষেত, ফলের বাগান ও কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে কৃষি খাতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, খোয়াই নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও জেলার কালনী-কুশিয়ারা ও সুতাং নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে থাকলেও কমছে।

 

অন্যদিকে আজমিরীগঞ্জে কালনী-কুশিয়ারা নদী এবং শায়েস্তাগঞ্জ-লাখাইয়ের সুতাং নদীর পানি এখনও বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

 

পাউবো আরও জানিয়েছে, সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এবং বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের রাঘপুর এলাকায় খোয়াই নদীর ডান তীরে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

 

দুর্গত এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত করলেই হবে না; খোয়াই নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা, নদী ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

তাদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে খোয়াই নদী তীরবর্তী আরও বিস্তীর্ণ এলাকা একই ধরনের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২৫ গ্রাম, পানিবন্দি অর্ধলক্ষ মানুষ

ঢাকা মেডিকেলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d