চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শনিবারের (১১ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবহাওয়ার মারাত্মক অবনতি ও বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) আগামীকাল শনিবারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের (বিষয় কোড-২৭৫) পরীক্ষাটি স্থগিত করা হলো।

 

এতে আরও বলা হয়, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।

 

এ ছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় সব কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাইকিং করে এলাকায় বিষয়টি জানিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সড়কে হাঁটতে গিয়ে আইন বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আশরাফুল নামের এক নবীন শিক্ষার্থী বিষধর সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।

 

বুধবার (৮ জুলাই) রাত সোয়া ১১টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাকসুর আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া। তিনি বলেন, রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হল সংলগ্ন এলাকায় টিউশন করে ফেরার পথে তাঁকে বিষধর সাপে কাটার কথা জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।

 

চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হল সংলগ্ন সড়কের মাঝে সাপে কাটে তাকে। সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কয়েকজন ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। তবে এখান থেকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। নগরে জলাবদ্ধতা থাকায় নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।

 

চবির সহকারী প্রক্টর ড. কামরুল হোসাইন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি এবং আহত ওই শিক্ষার্থীকে ফলোআপে রেখেছি। অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত আছে কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে শহরে নেওয়া যাচ্ছে না।

 

অন্যদিকে চবি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে চলতে গিয়ে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। যার ধারাবাহিকতায় আজকে এক নবীন শিক্ষার্থী বিষধর সাপের কামড়ের শিকার হলেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চবির প্রতিটি সড়কে দ্রুত পাওয়ারফুল সড়কবাতির দাবি তাদের।

সাপের কামড়ে আহত চবি শিক্ষার্থী, জলাবদ্ধতায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া যাচ্ছে না

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একটি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল করার দায়ে ৭ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি দল সুজাতপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করে এ ব্যবস্থা নেয়।

 

কেন্দ্র সচিব মাসুদ পারভেজ বলেন, অসদুপায়ের দায়ে তাদের অব্যাহতি প্রদান করা হয়। বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নাউরী আদর্শ কলেজের ৬ জন অনিয়মিত ছাত্র-ছাত্রী ও নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রী কলেজের একজন নিয়মিত ছাত্রী। কেন্দ্রে প্রবেশের সময়ে তাদের পরিহিত শার্টের মধ্যে লিখে নকল নিয়ে আসেন তারা। পরিদর্শনের সময় তাদের কাছে নকল পাওয়া গেলে ৭ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

 

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, সন্দেহ হলে ওই শিক্ষার্থীদের তল্লাশিকালে বড় একটি সাদা কাপড়ে লেখা নকল পাওয়া যায়। যেটিতে প্যারাগ্রাফ, এপ্লিকেশন লিখে আনে। এগুলো জাস্ট ওয়ার্ড চেঞ্জ করে তারা লিখে দিত। এই সাদা কাপড় সেলাই করে অ্যাপ্রনের সাথে নিয়ে এসেছিল। কেউ কেউ আবার জামা-হাতে লিখে এনেছিল। কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় প্রথমে একজনকে ধরা হয়। পরে মোট ৭ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এইচএসসিতে নকলের দায়ে চাঁদপুরের এক কেন্দ্রের ৭ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলমান বন্যা পরিস্থিতি এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দেওয়া প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার এইচএসসি পরীক্ষা এবং একই এলাকার বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা-২০২৬।

 

তবে দেশের অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলাগুলো ছাড়া অন্যান্য জেলায় মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর নতুন তারিখ ও সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি ধাপে ধাপে চূড়ান্ত হয়। প্রথম দফায় মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শুধু চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে রাত ১২টার দিকে এই তালিকায় যুক্ত হয় কক্সবাজার জেলার নাম। সবশেষে রাত ১টা ১৫ মিনিটে জারি করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলাতেই পরীক্ষা স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলায় বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় উচ্চ শব্দে মাইক বাজানোর প্রতিবাদ করায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আয়শা আফরিনের ওপর হামলা ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। হামলার পরও থেমে না থেকে অভিযুক্তরা তার পরিবারকে প্রাণনাশ ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতাই ভুগছে বলে জানিয়েছেন।

 

রোববার (৫ জুলাই) রাতে ৯ টার দিকে হামলার এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আয়শা আফরিন জানান, তার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। এ সময় তাদের বাসার সামনে একটি মাজার শরিফের নামে চাঁদা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো হচ্ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ শব্দ চলতে থাকায় পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। তিনি অত্যন্ত ভদ্রভাবে মাইকের শব্দ কমিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

 

তবে তার এ অনুরোধে ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার চেষ্টা করেন। এ সময় শাহ আলম ও তার ছেলে অপুসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

আয়শা আফরিনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করেন। একপর্যায়ে তার কাপড় টানাটানি করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে কোপ দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।

 

তিনি বলেন, ‘আমি শুধু শব্দটা একটু কমাতে বলেছিলাম। একটি যৌক্তিক ও সাধারণ অনুরোধের কারণে আমার ওপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে, তা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে কোপ দেওয়ার সেই মুহূর্তগুলো এখনো আমাকে আতঙ্কিত করে। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’

আয়শা বলেন, ‘নিজের এলাকায়, নিজের পরিচিত পরিবেশে থেকেও আজ আমি নিরাপদ নই। একজন শিক্ষার্থী ও একজন নারী হিসেবে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

 

হামলার পরও অভিযুক্তরা থেমে থাকেনি বলে অভিযোগ করেন এই শিক্ষার্থী। তার দাবি, ঘটনার পর হামলাকারীরা তাদের বাসার সামনে এসে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। তারা থানায় অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আরও বড় ক্ষতি করার হুমকি দেন। এমনকি তাদের বাসা ও দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কথাও বলে যায়।

 

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর থেকে পুরো পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে আয়শার বাবা-মা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পরিবারের দাবি, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের তারা শনাক্ত করেছেন এবং তাদের ছবি সংগ্রহ করেছেন।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম, অপুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

তবে ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

পরীক্ষার পড়ায় ব্যাঘাত, শব্দ কমাতে বলতেই জবি ছাত্রীর ওপর হামলা

শুরুতে বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। করোনা মহামারির কারণে থমকে গিয়েছিল স্বপ্নের পথচলা। সরকারি চাকরি করতে করতেই দিনের পর দিন সীমিত সময় নিয়ে চালিয়ে গেছেন প্রস্তুতি। শেষ পর্যন্ত ৪৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জন। এটি একজন চাকরিপ্রার্থীর ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও সঠিক পরিকল্পনার ফল।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা গোলাম কিবরিয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। বাবা পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে বড় হয়েছেন। অযথা আড্ডা কিংবা সময় নষ্ট করার অভ্যাস কখনোই ছিল না।

 

চিটাগাং পুলিশ ইনস্টিটিউশন (বর্তমান সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ) থেকে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার অনেক বন্ধু অনার্সে পড়ার সময় থেকেই ব্যাংকসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিত। কিন্তু আমি একাডেমিক বিষয়টা ভালোভাবে শেখার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছি। অনেকদিন এমন হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বই পড়েছি, নোট করেছি। তখন হয়তো বুঝিনি, কিন্তু আজ মনে হয় সেই সময়গুলোই আমার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ছিল।’

 

মাস্টার্স শেষ করার পর ৪১তম বিসিএসে অংশ নেন কিবরিয়া। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় প্রিলিমিনারিতেই বাদ পড়েন। এরপরই শুরু হয় করোনা মহামারি। দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তা যেন স্বপ্নের পথকে আরও কঠিন করে তোলে। তিনি বলেন, ‘প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হওয়ার পর বুঝেছিলাম, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না; প্রস্তুতিটাও হতে হবে পরিকল্পিত। তাই নতুন করে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো খুঁজতে শুরু করি।’

 

গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘৪৪তম বিসিএস থেকেই শুরু হয় প্রকৃত প্রস্তুতি। সিলেবাস বিশ্লেষণ করে প্রথমেই বুঝতে পারি, গণিতই আমার সবচেয়ে দুর্বল বিষয়। আমি সিদ্ধান্ত নিই, যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই, সেটিকেই সবচেয়ে বেশি সময় দেব। তাই প্রতিদিনের রুটিনে গণিতকে প্রথমেই রাখতাম। এভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।’

এর মধ্যে সরকারি একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় অফিসে কাটলেও সন্ধ্যার পর নিয়মিত পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। আর ছুটির দিনগুলোতে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়ে আগের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করতেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই ইংরেজিতে পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ৪৪তম ও ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষাও ইংরেজিতে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এটি তাকে অন্যদের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে রেখেছে।

 

৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ পান কিবরিয়া। কিন্তু সেখানেই থেমে যাননি। লক্ষ্য ছিল শিক্ষা ক্যাডার। সেই স্বপ্নই পূরণ হয় ৪৭তম বিসিএসে। শুধু শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশই নয়, সমাজবিজ্ঞান বিষয়েও প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।

 

গোলাম কিবরিয়া জানান, তার ভাইভা হয়েছিল ১০ জুন ২০২৫, উভয় ক্যাডারের ভাইভার প্রথম দিন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ভালো হওয়ায় তিনি আশাবাদী ছিলেন। ফল প্রকাশের দিন অফিস শেষে বাসায় ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারেন ফল প্রকাশ হয়েছে। নিজের নামের পাশে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম হওয়ার খবর দেখে যে অনুভূতি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় বলেই জানান তিনি।

 

শিক্ষা ক্যাডারে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষা ক্যাডারে এসেছি শুধু চাকরি করার জন্য নয়। আমি চাই গবেষণার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধানে কাজ করতে। শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনার মধ্য দিয়েই দেশের উন্নয়ন সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি।’

অফিসের দিনে ৫-৬ ঘণ্টা পড়তেন, ছুটির দিনে পুষিয়ে নিতেন ১৫-১৬ ঘণ্টা পড়ে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া এডমিট কার্ড বানিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে এক ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটকের পর ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কসবা পৌরশহরের টিআলী কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছামিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

জরিমানা দেওয়া দুজন হলেন, কসবা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তাসফিয়া জান্নাত (১৮) এবং তার সহযোগী ইনজামুল হক (১৯)।

 

ভ্রাম্যমান আদালত জানায়, বৃহস্পতিবার টিআলী কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ভুয়া এডমিট কার্ডধারী এক পরীক্ষার্থীকে দায়িত্বরত শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে প্রবেশপত্র ভুয়া বলে নিশ্চিত হন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ।

 

এ সময় কসবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানজিল কবিরের ভ্রাম্যমান আদালত ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে পৃথকভাবে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডেরও আদেশ দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় কোড নম্বর ও পরীক্ষার বিষয় মিল না থাকায় আমরা বিষয়টি নিশ্চিত হই। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়।

 

এ বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এডমিট কার্ড জাল করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এ ধরনের প্রতারণা ক্ষমার অযোগ্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কসবায় ভুয়া প্রবেশপত্রে এইচএসসি পরীক্ষার চেষ্টা, দুজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের মধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার খোয়াই নদীর পূর্ব তীরের চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকায় নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে হঠাৎ বাঁধটি ভেঙে গেলে নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং রাতের মধ্যেই আরও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর চরহামুয়া, কালীগঞ্জসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত পানি ছড়িয়ে পড়ে। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে সরে যেতে শুরু করেছেন।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে ১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন, ৪ নম্বর পইল ইউনিয়ন, ৩ নম্বর তেঘরিয়া ইউনিয়ন এবং ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে তীররক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রবল স্রোতের চাপে সেই দুর্বল বাঁধ ভেঙে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের দাবি।

 

১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নিয়মের বাইরে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে। প্রবল পানির চাপে সেটি ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে খোয়াই নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।”

 

এদিকে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২০ গ্রাম

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন।

 

এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি এসব অঞ্চলে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে।

 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

 

এদিকে সাতকানিয়ায় উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

 

বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

 

সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

 

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

 

এদিকে গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খাদ্য সংকটে চট্টগ্রামের লাখ লাখ পানিবন্দি মানুষ

দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আগামী ডিসেম্বরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেছেন।

 

টেলিফোনে বৃহস্পতিবার রাতে রয়টার্সকে সাক্ষাৎকারটি দেন তিনি। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে শুক্রবার। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশে ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই তা যেন নিজের মাটিতেই হয়।’

 

জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ও তাঁর দলের সদস্যরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। আদালতে নিজেদের সমর্পণ করার মাধ্যমে তাঁরা মূলত বর্তমান কর্তৃপক্ষের আচরণের পরীক্ষা নিতে চান।

 

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কয়েক দফায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। রয়টার্স লিখেছে, দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে বর্তমান সরকার যখন স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তখন শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র হতে পারে।

ভারতে নির্বাসিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা এই প্রথমবারের মতো দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করলেন। দেশে ফেরা বা এর সময়সূচির ব্যাপারে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেননি জানিয়ে বলেন, ‘তারা আমাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বারবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে। আমি নিজেই চলে যাব।’

 

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেয়েছেন। রয়টার্স দলটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে সাড়া পায়নি।

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শনিবারের (১১ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবহাওয়ার মারাত্মক অবনতি ও বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) আগামীকাল শনিবারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের (বিষয় কোড-২৭৫) পরীক্ষাটি স্থগিত করা হলো।

 

এতে আরও বলা হয়, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।

 

এ ছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় সব কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাইকিং করে এলাকায় বিষয়টি জানিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

শুক্রবার (১০ জুলাই) উত্তর আমেরিকা থেকে দেশে ফেরার পর ভূমধ্যসাগর উপকূলের আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হন অসংখ্য সমর্থক। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে স্বাগত জানাতে সেখানে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর ছবি সংবলিত ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ধন্যবাদ’।

 

এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে মিশর। চারবারের চেষ্টায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পায় দলটি। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট।

 

বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে নিউ আলামেইন শহর প্রদক্ষিণ করেন খেলোয়াড়রা। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো সমর্থকের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তারা। শনিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

সমর্থকদের হাতে প্রধান কোচ হোসাম হাসানের বড় বড় ছবিও দেখা যায়, যেগুলোতে ফিলিস্তিনের পতাকা জড়ানো ছিল। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনের প্রতি তার প্রকাশ্য সমর্থনের স্বীকৃতি হিসেবেই এমন আয়োজন করা হয়েছে। টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি একাধিকবার মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন এবং সংবাদ সম্মেলনেও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বক্তব্য দেন।

 

শেষ ষোলোয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় মিশর। ম্যাচের শেষ ১১ মিনিটে টানা তিন গোল হজম করে বিদায় নিতে হলেও বিশ্বকাপে এটিই দেশটির ইতিহাসের সেরা সাফল্য। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর শেষ ৩২-এ অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছিল ফারাওরা।

আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায়, মিশর দলকে বরণ করলেন হাজারো সমর্থক

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার। পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয়েছে পাহাড়ধস। পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। জলমগ্ন ঘরবাড়িতে খাবার ও থাকার অবস্থা নেই।

 

এরইমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে শুকনো খাবারসহ ত্রাণ সহায়তা। বৃষ্টি এখনও বন্ধ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢল ও বানের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

টানা কয়েকদিন ধরে পানি তলিয়ে গেছে বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকা। টানা বর্ষণে সাঙ্গু, মাতামুহুরী আর বাঁকখালী নদীর পানি বেড়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিচু এলাকাগুলো। চরম ভোগান্তিতে পানিবন্দি এলাকার বাসিন্দারা।

 

পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন উপজেলাসহ ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বৈরি আবহাওয়ায় বিপাকে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। অনেকেই উঠেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে শুকনো খাবার।

 

আর টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়িসহ নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের কারণে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। খোলা হয়েছে একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র। সাজেকে আটকা পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।

 

এদিকে, খাগড়াছড়িতে চেঙ্গী নদী ও আশপাশের ছড়া-খালের পানি নেমে যাওয়ায় শহরের নিচু এলাকার ঘরবাড়ি ও সড়ক থেকে পানি নেমেছে। শুরু হয়েছে যান চলাচল। তবে, দীঘিনালার মাইনী নদীর পানিতে ছোট মেরুং ইউনিয়নে এখনও জলমগ্ন হাজারো পরিবার। থেমে থেমে চলছে বৃষ্টিপাত।

 

এছাড়াও কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামুসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল এখনও পানিতে তলিয়ে আছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে চকরিয়ার নিচু এলাকার বাসিন্দারা। বৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলের কারণে নিমজ্জিত বিস্তীর্ণ এলাকা। পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন।

 

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি উপচে লোকালয় ডুবেছে। চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। বৃষ্টি কিছুটা কমে আসায় চট্টগ্রাম নগরীর বেশিরভাগ জলাবদ্ধ এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে, এখনও নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে আছে।

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। এ সময় ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের কোথাও কোথাও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টায় প্রকাশিত ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানান আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক।

 

সতর্কবার্তায় বলা হয়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) এবং অতি ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।

 

এতে আরও বলা হয়, ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

 

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

দেশের ৮ বিভাগেই অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের শঙ্কা

টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চারটি বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে পাহাড়ধসে অন্তত ৩০ জন মারা গেছেন। এছাড়া বিভাগের অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

 

এর মধ্যেই বৃষ্টিপাত নিয়ে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় বৃষ্টির পরিমাণ কমেছে।

এর আগে যেখানে ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় তা নেমে এসেছে ২১১ মিলিমিটারে।

 

তবে দেশের সব অঞ্চলের জন্য স্বস্তির খবর নয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এখনও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় থেমে থেমে সারাদিন বৃষ্টি হতে পারে।

 

জুলাই মাস বর্ষাকালের মধ্যভাগ হওয়ায় এই সময়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক বলেও উল্লেখ করেন আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ। তিনি, এ মাসে এমন বৃষ্টিপাত অস্বাভাবিক নয়।

 

বৃষ্টির পরিস্থিতি কবে থেকে আরও উন্নতি হতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগামী শনি ও রোববার থেকে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।

 

এছাড়া আবহাওয়ার উন্নতি হলে শনিবার থেকেই নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি থাকা সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন এই আবহাওয়াবিদ।

কবে থেকে কমতে পারে ভারী বৃষ্টি, জানালেন আবহাওয়াবিদ

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের ১৪টি জেলার ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

শনিবার (তারিখ) প্রকাশিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণও হতে পারে।

 

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুলের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা (২ দিন) রংপুর,রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪–৮৮ মি.মি) থেকে অতি ভারি (৮৮ মি.মি-বেশি) বর্ষণ হতে পারে।

 

এছাড়া, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে আজ শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য আবহাওয়া অফিসের দেওয়া অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৪টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

 

এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ০১ নম্বর (পুনঃ) ০১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের সতর্ক বার্তা

বাঁশখালীর গুনাগরি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকতেই হঠাৎ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এই ডাক। কেউ ঘরের বারান্দা থেকে, কেউ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে, আবার কেউ কোমরসমান পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে অন্যদের খবর দিচ্ছিলেন। কয়েকজন শিশু দৌড়ে সামনে চলে যায়। বয়স্করাও ভিড় করে রাস্তার পাশে।

 

‘দাদু’—এই একটি শব্দেই সবাই চিনে ফেলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে। নির্বাচনের আগ থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই সম্বোধন এখন অনেকের মুখে মুখে। শুক্রবার বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকায় তার সফরের সময় সেই ডাক যেন বাস্তব দৃশ্যে রূপ নেয়।

ডা. শফিকুর রহমান গাড়ি থেকে নেমে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। এরপর লাবুর দোকানের পাশে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যান। সেখানে তিন দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

 

ত্রাণ বিতরণ শেষ করেই তিনি থেমে থাকেননি। যে বাড়িগুলোতে পানি ঢুকে মানুষ বের হতে পারছেন না, সেগুলো দেখতে নিজেই এগিয়ে যান। পাঞ্জাবির নিচের অংশ গুটিয়ে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে একের পর এক বাড়িতে পৌঁছান। কোথাও দরজার সামনে দাঁড়িয়ে খোঁজ নেন, কোথাও ঘরের ভেতরে থাকা শিশু ও বৃদ্ধদের সঙ্গে কথা বলেন। কারও হাতে তুলে দেন সহায়তা, কারও কাঁধে হাত রেখে সাহস জোগান।

 

গুনাগরির বাসিন্দা আহমেদ হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে আমরা পানির মধ্যে আছি। অনেকেই এসেছে, ছবি তুলে চলে গেছে। কিন্তু উনি আমাদের ঘরের সামনে পর্যন্ত এসে খোঁজ নিয়েছেন।

 

লাবুর দোকানের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নেওয়া ফারাছা বেগম বলেন, আমাদের ঘরের চাল পর্যন্ত পানি। আমরা শুধু প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি। উনি এসে আমাদের কথা শুনেছেন। সাহায্য দিয়েছেন। এতে মনে হচ্ছে কেউ অন্তত আমাদের কথা ভাবছে।

 

স্থানীয় তরুণ রুবেল হোসেন বলেন, মানুষ তাকে ‘দাদু’ বলে ডাকে। আজ দেখলাম, ডাক শুনে তিনি মানুষের কাছেই চলে গেলেন। নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে ত্রাণ দিয়ে ফিরে যাননি।

 

একই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কিরণ বালা জলদাস বলেন, আমার সঙ্গে ছোট নাতি আছে, আবার ২০ দিনের একটা শিশুও আছে। উনি এসে বাচ্চাদের খোঁজ নিলেন। এই সময় কেউ পাশে দাঁড়ালে সাহস পাওয়া যায়।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গুনাগরির অন্তত ৩০০টি বাড়ি পানির নিচে। অনেক পরিবার তিন দিন ধরে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। কেউ স্কুলে, কেউ দোকানের দোতলায়, কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ।

 

ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

 

তিনি বলেন, আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি। বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা শুনতেই এসেছি।

 

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দল বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের দুর্ভোগ কাগজে-কলমে বোঝা যায় না। মাঠে এসে না দেখলে এই কষ্ট অনুভব করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত দ্রুত উদ্ধার, পুনর্বাসন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা।

 

সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। মহান আল্লাহ তাদের মাগফিরাত দান করুন।

 

বক্তব্য শেষ করে তিনি আবারও পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দিকে এগিয়ে যান। কেউ তার সঙ্গে হাত মেলাতে চান, কেউ ছবি তুলতে চান, আবার কেউ শুধু নিজের ক্ষতির কথা বলতে চান।

 

পেছন থেকে তখনও ভেসে আসছিল একই ডাক ‘দাদু আসছে… দাদু আসছে…’

বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি : জামায়াত আমির

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d