পরীক্ষার পড়ায় ব্যাঘাত, শব্দ কমাতে বলতেই জবি ছাত্রীর ওপর হামলা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
পরীক্ষার পড়ায় ব্যাঘাত, শব্দ কমাতে বলতেই জবি ছাত্রীর ওপর হামলা

পরীক্ষার পড়ায় ব্যাঘাত, শব্দ কমাতে বলতেই জবি ছাত্রীর ওপর হামলা

পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় উচ্চ শব্দে মাইক বাজানোর প্রতিবাদ করায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আয়শা আফরিনের ওপর হামলা ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। হামলার পরও থেমে না থেকে অভিযুক্তরা তার পরিবারকে প্রাণনাশ ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতাই ভুগছে বলে জানিয়েছেন।

 

রোববার (৫ জুলাই) রাতে ৯ টার দিকে হামলার এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আয়শা আফরিন জানান, তার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। এ সময় তাদের বাসার সামনে একটি মাজার শরিফের নামে চাঁদা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো হচ্ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ শব্দ চলতে থাকায় পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। তিনি অত্যন্ত ভদ্রভাবে মাইকের শব্দ কমিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

 

তবে তার এ অনুরোধে ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার চেষ্টা করেন। এ সময় শাহ আলম ও তার ছেলে অপুসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

আয়শা আফরিনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করেন। একপর্যায়ে তার কাপড় টানাটানি করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে কোপ দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।

 

তিনি বলেন, ‘আমি শুধু শব্দটা একটু কমাতে বলেছিলাম। একটি যৌক্তিক ও সাধারণ অনুরোধের কারণে আমার ওপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে, তা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে কোপ দেওয়ার সেই মুহূর্তগুলো এখনো আমাকে আতঙ্কিত করে। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’

আয়শা বলেন, ‘নিজের এলাকায়, নিজের পরিচিত পরিবেশে থেকেও আজ আমি নিরাপদ নই। একজন শিক্ষার্থী ও একজন নারী হিসেবে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

 

হামলার পরও অভিযুক্তরা থেমে থাকেনি বলে অভিযোগ করেন এই শিক্ষার্থী। তার দাবি, ঘটনার পর হামলাকারীরা তাদের বাসার সামনে এসে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। তারা থানায় অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আরও বড় ক্ষতি করার হুমকি দেন। এমনকি তাদের বাসা ও দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কথাও বলে যায়।

 

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর থেকে পুরো পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে আয়শার বাবা-মা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পরিবারের দাবি, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের তারা শনাক্ত করেছেন এবং তাদের ছবি সংগ্রহ করেছেন।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম, অপুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

তবে ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।


সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় বোমা হামলার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির উদ্যোগে রাজধানীতে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে রাত ১২টার দিকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

 

শাহবাগে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভের পাদদেশে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

 

মশাল মিছিলে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবদিন শিশির, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিনসহ ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

 

সমাবেশ শেষে নেতারা সাভারের হামলার ঘটনার বিচার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

 

এর আগে ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

সাভারে বোমা হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে এনসিপির মশাল মিছিল

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’-পরবর্তী সমাবেশ চলাকালে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে সাভার পৌর এলাকার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে চারজন আহত হন। আহতরা হলেন শাহীন খন্দকার (৩০), জসিম (২৬), শাহাদাত হোসেন (৪০) ও ইমরান (৩৫)। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

 

এদিকে এ হামলার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই বোমা বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? আমাদেরকে খুন করার পরিকল্পনায় এখানে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল রাতে সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

 

এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য প্রদানকালে সমাবেশস্থলে ককটেল হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় মঞ্চে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সাভার থানার সামনে অবস্থান নেন। পরে তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল থানার ভেতরে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ হামলার পেছনে সরকার ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জড়িত। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। এছাড়া মামলা থেকে আওয়ামী সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সাভার থেকে আমরা আগস্টে কর্মসূচি সমাপ্ত করেছিলাম। তারা বিদ্যুৎ বন্ধ করে এখানে বোমা ফাটিয়েছে। আমরা মনে করি প্রশাসনের সহায়তায় আজকের এই পদযাত্রাকে বন্ধ করার জন্য এখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। সরকারকে ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার দিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার জন্য আপনাদের জবাব দিতে হবে।

এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা হুঁশিয়ার থাকুন। আমরা জুলাইয়ের আন্দোলন চালিয়ে যাব। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করব, হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করব, সীমান্ত সুরক্ষা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবি সফলভাবে আদায় নিশ্চিত করব।

 

পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সভার দায়িত্বে যারা ছিল—পুলিশ প্রশাসন, ডিসিÑ কেন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেল? কীভাবে এটা ঘটল? এই এলাকার এমপি কী করছে? সে কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে? তিনি এ সময় এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এনসিপির পদযাত্রা চলমান থাকবে। ভয়ভীতি, বোমাবাজি—সবকিছুকে উপেক্ষা করে আমাদের পদযাত্রা চলমান থাকবে।

 

সাভার থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু করেন। তিনি বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

সাভারে এনসিপির সমাবেশস্থলে ককটেল হামলা, আহত ৪

বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ থেকে প্রিয় দল ব্রাজিলের বিদায় সহ্য করতে না পেরে আলমগীর হোসেন (৩৫) না‌মে এক সমর্থক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত থাকলেও চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর।

 

সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচটি নিজ বাড়িতে বন্ধুবান্ধব ও অন্যান্য ব্রাজিল সমর্থকদের সঙ্গে দেখছিলেন আলমগীর। শুরু থেকেই তিনি দারুণ উৎসাহ-উদ্দীপনায় খেলা উপভোগ করছিলেন তিনি। তবে ব্রাজিল পিছিয়ে পড়ার পর থেকেই তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। খেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হলে তিনি প্রবল মানসিক আঘাত পান। কিছুক্ষণের মধ্যেই বুকে তীব্র ব্যথা, অস্বস্তি ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।

 

পরে তার স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করে পর্যবেক্ষণে রাখেন।

 

আলমগীরের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ব্রাজিল ফুটবল দলের নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই বন্ধুদের নিয়ে খেলা দেখতেন এবং দলের জয়-পরাজয়কে খুব আবেগের সঙ্গে গ্রহণ করতেন। এবারের বিদায় তিনি মানসিকভাবে মেনে নিতে পারেননি।

 

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত আবেগ, মানসিক চাপ বা হঠাৎ তীব্র উত্তেজনা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। খেলাধুলা বিনোদনের বিষয় হলেও তা নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেয়া উচিত নয়।

 

তিনি আরও বলেন, আলমগীর হোসেন বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং সুস্থতা নিশ্চিত করতে তাকে আরও কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

 

ব্রাজিলের হার সইতে না পেরে কুড়িগ্রামে সমর্থকের হার্ট অ্যাটাক

বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ থেকে প্রিয় দলের বিদায় ও প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের উপহাস (ট্রল) সইতে না রতন (২১) নামে এক ব্রাজিল সমর্থক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

জানা গেছে, নিহত রতন ওই এলাকার হোসেন মিস্ত্রির ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন। তার মাত্র দুই মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে ব্রাজিল ও নরওয়ে ফুটবল দলের মধ্যকার খেলায় প্রিয় দল ব্রাজিলের পরাজয় তিনি মানসিকভাবে মেনে নিতে পারছিলেন না। তার ওপর সকালের দিকে প্রতিপক্ষ ফুটবল দলের সমর্থকদের অনবরত নেতিবাচক ট্রল ও উপহাসের শিকার হন তিনি। পরাজয়ের কষ্ট এবং প্রতিপক্ষের বিদ্রূপ সইতে না পেরে তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভেঙে পড়েন এই যুবক। পরে নিজের শোবার ঘরে গিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

 

রতনের বাবা হোসেন মিস্ত্রি বলেন, রাতে খেলা দেখে ছেলে ঘুমিয়ে পড়েছিল। বেলা ১১টার দিকেও ঘরের ভেতর থেকে তার কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় আমাদের সন্দেহ হয়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখি ঘরের আড়ার সঙ্গে রশিতে ঝুলছে রতন। পরবর্তীতে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার ওসি (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিবার নিশ্চিত করেছে যে রতন ব্রাজিলের কট্টর সমর্থক ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, দল হেরে যাওয়ার গ্লানি ও ট্রল সইতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

 

পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা দাবি না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্রল সইতে না পেরে ব্রাজিল সমর্থকের আত্মহত্যা!

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় আসমা আক্তার (৫) নামে এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তার জেঠাতো ভাই শাহাদাত হোসেনকে (২৬) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। একই সাথে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

 

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জেলার বিশেষ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আকতার এ রায় ঘোষণা করেন।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাত উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাবুল হোসেনের ছেলে এবং নিহতের জেঠাতো ভাই।

 

নারীও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি সেলিম শাহী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদেশে আরও বলা হয়েছে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখতে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

 

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আসমা। ঘটনার নয় দিন পর বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকি থেকে আসামির তথ্যের ভিত্তিতে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিমের জেঠাতো ভাই শাহাদাতকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলাকালে শাহাদাত আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, ধর্ষণের পর ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় সে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং মরদেহ সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে রাখে।

 

এরপর ৬ এপ্রিল নিহত শিশুর বাবা মাওলানা শাহজাহান বাদী হয়ে চাটখিল সদর থানায় শাহাদাতকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন।

আসমা ধর্ষণ-হত্যা: চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে, প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এ মামলায় একজন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ৩টায় জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ‘ট্রাইব্যুনাল-১’-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু, বিজু মিয়া, বাদশা মিয়া, জুয়েল মিয়া, আশরাফুল ইসলাম, জসিম ও আছমত।

 

অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইদ্রিস আলীকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানান, গত বছরের ২৫ মে রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া এলাকায় এক গৃহবধূকে অপহরণ করে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটায়। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বকশীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

 

তিনি আরও জানান, মামলায় মোট ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। চিকিৎসা প্রতিবেদন, আলামত ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত ৭ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইদ্রিস আলীকে খালাস দেওয়া হয়। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

 

 

জামালপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শ্যামনগরে অবৈধভাবে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগ!

শ্যামনগরে আইন আদালতের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে অন্যের পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনার প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন শ্যামনগরের বাদঘাটা গ্রামের মৃত শাহাদাতৎ হোসেনের কন্যা সিরাতুন নেছা ফাল্গুনী। তিনি বলেন, আমি একজন সরকারি প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক। চাকুরি এবং বৈবাহিক সূত্রে যশোরে বসবাস করে আসছি। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা মৌজায় আমার পৈতৃকসুত্রে এবং ক্রয়কৃত মোট দশ শতক জমি রয়েছে।

শ্যামনগরে অবৈধভাবে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগ

টিসিবির ডিলারশিপ পুনরায় নবায়নের দাবি,গাইবান্ধায় ডিলারদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা জেলায় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ(টিসিবির) ডিলারদের পুনঃনবায়ন বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রত্যাহার ও পুনোরায় নবায়নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বেলা ১২ টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে জেলা টিসিবি ডিলার বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন মো. জছিজার রহমান সুজা, এম এ রশিদ, আখতারুজ্জামান, শাহ আলম সেলিমসহ অন্যরা।

 

বক্তারা বলেন, সম্প্রতি টিসিবি কর্তৃক ২০২৬ সালের জুন মাসে যাদের জিলারশীপের মেয়াদ শেষ হয়েছে তাদের পুনঃনবায়ন না করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। জেলায় মোট একশত ছাব্বিশ জন টিসিবির ডিলার রয়েছে।

 

একেক জনের বয়স চল্লিশ থেকে পঞ্চান্নো বা তার উর্দ্ধে। এই বয়সে ডিলারশীপ বাতিল করলে অসহায়ের মতো দুর্বিষহ অবস্থা সৃষ্টি হবে। আমাদের ডিলারদের বিরুদ্ধে দুর্ণীতি, অর্থ আত্নসাৎ, পণ্য বিতরনের অনিয়মের কোনো অভিযোগ নেই।

 

২০২২ এর নীতিমালায় বলা ছিল কোনো রকম অনিয়ম ছাড়া সুষ্ঠভাবে ডিলারশীপ পরিচালনা করলে পরবর্তীতে নবায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম চালাতে পারবে। কিন্তুুু বর্তমান নীতিমালায় সেই নিয়মটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

বক্তারা অতিদ্রুত টিসিবি’র ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা সংশোধিত-২০২৫ ও মেয়াদোত্তীর্ণ টিসিবির ডিলারদের পুনঃ নবায়ন বন্ধ রাখার নির্দেশনা বাতিল, অভিযোগবিহীন ও সফলভাবে দায়িত্বপালন কারী ডিলারদের পুনোরায় নবায়ন করা সহ ৫ দফা দাবি জানান।

 

মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

টিসিবির ডিলারশিপ পুনরায় নবায়নের দাবি,গাইবান্ধায় ডিলারদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

বিশ্বকাপে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে আজ (৭ জুলাই) মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে দুই দল একাধিকবার মুখোমুখি হলেও বিশ্বকাপের মূল আসরে সিনিয়র দল হিসেবে এই প্রথম তারা একে অপরের বিপক্ষে খেলতে নামছে। আর পরিসংখ্যান পুরোপুরি আর্জেন্টিনার পক্ষে।

 

দুই দেশের মধ্যে প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে, ১৯২৮ সালে আমস্টারডাম অলিম্পিকের সেমিফাইনালে। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা মিশরকে উড়িয়ে দিয়েছিল ৬-০ গোলে। এরপর দীর্ঘ ৭০ বছরের বিরতি শেষে ২০০১ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে দুই দল আবার মুখোমুখি হয়। যেখানেও আর্জেন্টিনা জেতে বড় ব্যবধানে ৭-১ গোলে।

 

সিনিয়র দল হিসেবে দুই দল প্রথমবার মুখোমুখি হয় ২০০৮ সালে কায়রোতে এক প্রীতি ম্যাচে। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে জয় পায়। গোল দুটি করেন আগুয়েরো ও নিকোলাস বুর্দিসো। চোটের কারণে সেই ম্যাচে লিওনেল মেসি খেলতে পারেননি।

 

দুই দলের সবশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০২১ সালের টোকিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ে। সেখানে মেদিনার একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনা জয় পায় ১-০ ব্যবধানে। সেই দলের মেদিনা ছাড়াও আরও দুই খেলোয়াড় অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার ও আলমাদা এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল দলে রয়েছেন।

 

সব মিলিয়ে প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে দুই দল সাতবার মুখোমুখি হয়েছে, আর প্রতিবারই জিতেছে আর্জেন্টিনা। মিশর কখনই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পায়নি।

আর্জেন্টিনা বনাম মিশর: ইতিহাস মেসিদের পক্ষে

জলঢাকায় কলের শিক্ষার্থী হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

মাইদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

জেলা নীলফামারী

নীলফামারীর জলঢাকায় কলেজ শিক্ষার্থী কিবরিয়া ইসলাম পিয়েল হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মীরগঞ্জ বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন নিহতের বাবা কফদ্দি মাহমুদ, বড় বোন কেয়া লাবনী রুনা, কুলসুম আক্তার,মামা খালেকুজ্জামান লেবু, মাহাবুব আলম স্থানীয় সাইদুল ইসলামসহ অনেকে।

এ সময় বক্তারা বলেন, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিহতের চাচার পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ১১ জুন সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে কিবরিয়া ইসলাম পিয়েলের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, এ ঘটনায় চারজন আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জলঢাকায় কলের শিক্ষার্থী হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জে একটি দ্রুতগামী ট্রাকের চাকা বিস্ফোরণ হয়ে পথচারীদের ওপর উঠে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

এতে দুই শিক্ষার্থী ও এক নারীসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর থানাধীন গোলড়া চরখড এলাকার আকিজ স্কুলের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এক নারীকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে এগারো টার দিকে ঢাকা-গামী একটি ট্রাক আকিজ স্কুলের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ একটি চাকা বিকট শব্দে ফেটে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে থাকা পথচারীদের ওপর উঠে যায়। এ সময় রাস্তা পারাপারের অপেক্ষায় থাকা অজ্ঞাত পরিচয় দুই শিক্ষার্থী ও এক নারী গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া ট্রাকের ধাক্কায় গাড়ির চালকের সহকারীসহ (হেলপার) আরও দুজন সাধারণ যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দুই শিক্ষার্থী ও দুই হেলপার চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে আহত নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

 

এদিকে দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক বিল্লাল হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। একই সাথে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে গোলড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সেলিম মাতুব্বার জানান , চালককে আটক করা হয়েছে।ট্রাকটি জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। এই ঘটনায় গোলড়া হাইওয়ে থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে যানবাহন চলাচল ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জে একটি দ্রুতগামী ট্রাকের চাকা বিস্ফোরণ হয়ে পথচারীদের ওপর উঠে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সুফিয়া (৫০) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

 

আতিকুর রহমান আশিক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

 

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্বামী মো: ইসমাইল হোসেনকে (৫৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের হরগজ বেপারী পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা—তা নিয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারটিতে পারিবারিক কলহ চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে সুফিয়া খাতুনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে গুঞ্জন শুরু হয়। খবর পেয়ে সাটুরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী ইসমাইল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।

 

এদিকে নিহতের ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। নিহতের ছেলে ইসরাফিল (২৫) দাবি করেন, “আমার মা দীর্ঘদিন যাবত মানসিক রোগে ভুগছিলেন। তিনি আত্মহত্যা করেছেন।”

তবে ছেলের এই দাবি নাকচ করে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন নিহতের বড় ভাই রমজান আলী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমার বোন কোনো অবস্থাতেই আত্মহত্যা করেনি, তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি আমার বোনের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, নিহত গৃহবধূর হাত ও পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামীকে থানায় আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সুফিয়া (৫০) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় উচ্চ শব্দে মাইক বাজানোর প্রতিবাদ করায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আয়শা আফরিনের ওপর হামলা ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। হামলার পরও থেমে না থেকে অভিযুক্তরা তার পরিবারকে প্রাণনাশ ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতাই ভুগছে বলে জানিয়েছেন।

 

রোববার (৫ জুলাই) রাতে ৯ টার দিকে হামলার এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আয়শা আফরিন জানান, তার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। এ সময় তাদের বাসার সামনে একটি মাজার শরিফের নামে চাঁদা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো হচ্ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ শব্দ চলতে থাকায় পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। তিনি অত্যন্ত ভদ্রভাবে মাইকের শব্দ কমিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

 

তবে তার এ অনুরোধে ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার চেষ্টা করেন। এ সময় শাহ আলম ও তার ছেলে অপুসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

আয়শা আফরিনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করেন। একপর্যায়ে তার কাপড় টানাটানি করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে কোপ দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।

 

তিনি বলেন, ‘আমি শুধু শব্দটা একটু কমাতে বলেছিলাম। একটি যৌক্তিক ও সাধারণ অনুরোধের কারণে আমার ওপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে, তা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে কোপ দেওয়ার সেই মুহূর্তগুলো এখনো আমাকে আতঙ্কিত করে। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’

আয়শা বলেন, ‘নিজের এলাকায়, নিজের পরিচিত পরিবেশে থেকেও আজ আমি নিরাপদ নই। একজন শিক্ষার্থী ও একজন নারী হিসেবে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

 

হামলার পরও অভিযুক্তরা থেমে থাকেনি বলে অভিযোগ করেন এই শিক্ষার্থী। তার দাবি, ঘটনার পর হামলাকারীরা তাদের বাসার সামনে এসে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। তারা থানায় অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আরও বড় ক্ষতি করার হুমকি দেন। এমনকি তাদের বাসা ও দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কথাও বলে যায়।

 

ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর থেকে পুরো পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে আয়শার বাবা-মা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পরিবারের দাবি, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের তারা শনাক্ত করেছেন এবং তাদের ছবি সংগ্রহ করেছেন।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম, অপুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

তবে ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

পরীক্ষার পড়ায় ব্যাঘাত, শব্দ কমাতে বলতেই জবি ছাত্রীর ওপর হামলা

বিশ্বকাপে নামের জোরে কোনো ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়—এমন বার্তাই দিলেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার মতে, এবারের বিশ্বকাপে বড় দলগুলোও তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ছে। তাই শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

 

মঙ্গলবার আটলান্টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগের দিন স্থানীয় সময় রোববার সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, এবারের বিশ্বকাপে কোনো দলই প্রতিপক্ষকে সহজে হারাতে পারছে না।

 

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপ সবার জন্যই কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন কোনো দল নেই, যারা পুরোপুরি আধিপত্য দেখাতে পেরেছে। ফ্রান্সকে শক্তিশালী মনে হচ্ছিল, এখনও তারা শক্তিশালী দল। কিন্তু তারাও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ভুগেছে।’

 

স্পেনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘স্পেনও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছে। বিশ্বকাপের আগে যে ছন্দে দলগুলো ছিল, সেই ধারাবাহিকতা কেউ ধরে রাখতে পারেনি। প্রতিপক্ষরা ভালো খেলছে, পরিবেশও ভিন্ন। অনেক ম্যাচ খেলার কারণে ফুটবলারদের ওপর শারীরিক চাপও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।’

 

গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানকে হারিয়ে নিজেদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর শেষ ষোলোতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

 

স্কালোনি জানান, ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং মিসরের বিপক্ষে খেলতে প্রস্তুত। এই ম্যাচে খেললে বিশ্বকাপে নিজের রেকর্ড ৩০তম ম্যাচে মাঠে নামবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

 

‘লিও পুরোপুরি ভালো আছে। ১২০ মিনিট খেলার পরও সে কোনো শারীরিক সমস্যার কথা জানায়নি,’ বলেন স্কালোনি।

 

বিশ্বকাপ কঠিন হলেও নিজেদের এখনও অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে দেখছেন আর্জেন্টিনা কোচ, ‘এই দলটি বহু বছর ধরেই যেখানেই খেলেছে, শিরোপার দাবিদার হিসেবে মাঠে নেমেছে। অনেক সময় পরিকল্পনা পুরোপুরি সফল হয় না কিংবা প্রতিপক্ষ কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। তবুও আমরা নিজেদের মান ধরে রেখেছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক। টানা চারটি ম্যাচ জিতেছি, সেটি অবশ্যই ইতিবাচক। তবে উন্নতির জায়গাও আছে।’

 

মিসরকে নিয়ে সতর্ক স্কালোনি বলেন, ‘আমরা জানি মিসর খুব ভালো একটি দল। তাদের অভিজ্ঞ ফুটবলার রয়েছে, আর কোচও দীর্ঘদিন ধরে দলটির সঙ্গে কাজ করছেন। তাই আমরা পুরোপুরি সতর্ক।’

 

এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হবেন লিওনেল মেসি ও মিসরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ।

 

সালাহকে নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘সালাহ অসাধারণ একজন ফুটবলার। তার বিপক্ষে খেলতে পারা আনন্দের বিষয়। তবে আমরা সব সময়ই ব্যক্তিগতভাবে নয়, দলগতভাবেই প্রতিপক্ষের বড় তারকাদের মোকাবিলার পরিকল্পনা করি।’

 

মঙ্গলবারের এই ম্যাচের বিজয়ী কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়া ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দলের মুখোমুখি হবে।

বিশ্বকাপে নামের জোরে জেতা সম্ভব নয়, মিসরকেও হালকা করে নেওয়ার সুযোগ নেই: স্কালোনি

স্বাস্থ্যসেবাকে কোনো বিশেষ সুবিধা নয় বরং একটি মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর গুলশানে এক কর্মশালায় যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের মানুষকে চিকিৎসা ব্যয়ের ৭২ শতাংশই নিজেদের পকেট থেকে দিতে হয়, যা সাধারণ মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সবার জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতের তাগিদ দেন তিনি।

 

এদিকে, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এবারের বাজেটে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, গ্রাম পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জুবাইদা রহমানের

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি প্রশিক্ষণ এলাকায় মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান।

 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে বিস্তীর্ণ অংশ পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন তিনি।

 

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ফার্ম বেস এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি রেইড মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

 

এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া, সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। এমনকি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়েও তাঁদের খোঁজখবর নিয়ে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

 

একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন।

 

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d