বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডে আর্জেন্টিনার লজ্জার রেকর্ড - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডে আর্জেন্টিনার লজ্জার রেকর্ড

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডে আর্জেন্টিনার লজ্জার রেকর্ড

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে শুধু শিরোপাই হারায়নি আর্জেন্টিনা, গড়েছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ইতিহাসও। মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড পাওয়া দল এখন আর্জেন্টিনা।

 

নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবারসির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করেন এনজো। রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান, যা লাল কার্ডে রূপ নেয়। ফলে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

 

অতিরিক্ত সময়ে সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস। সেই একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জিতে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় স্পেন।

 

এনজোর এই লাল কার্ড বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসেও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ফাইনালে লাল কার্ড দেখা মাত্র ষষ্ঠ ফুটবলার। আর তার এই বহিষ্কারের ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের লাল কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনটিতে—যা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। এর আগে ১৯৯০ সালের ফাইনালে পেদ্রো মনসন ও গুস্তাভো দেসোত্তিও লাল কার্ড দেখেছিলেন।


২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে স্পেন। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন আলোচনার তুঙ্গে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেলার একটি ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, এই চেলসি তারকা একটি সাধারণ সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে করে বিশ্বকাপ ট্রফির মতো দেখতে একটি বস্তু নিয়ে স্টেডিয়াম ছাড়ছেন। অত্যন্ত মূল্যবান এই ট্রফিটি এভাবে ‘ময়লা ফেলার ব্যাগে’ বহনের দৃশ্য দেখে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খেলোয়াড়েরা যখন ড্রেসিংরুমের দিকে ফিরছিলেন, তখন ক্যামেরায় ধরা পড়ে কুকুরেলার এই অদ্ভুত দৃশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি শপিং ব্যাগের ভেতর সোনালী রঙের ট্রফিটি নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন তিনি।

 

বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি এমন সাদামাটাভাবে বহন করতে দেখে নেটিজেন ও সাংবাদিকেরা বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তবে এই রহস্যের সমাধান হয়েছে খুব দ্রুতই। জানা গেছে, কুকুরেলার ব্যাগে থাকা বস্তুটি আসল ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ছিল না; বরং সেটি ছিল লেগো (LEGO) দিয়ে তৈরি ট্রফির একটি হুবহু প্রতিচ্ছবি বা খেলনা। শখের বশে তৈরি করা এই লেগো ট্রফিটিই তিনি প্লাস্টিকের ব্যাগে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

কুকুরেয়ার প্লাস্টিকের ব্যাগে ‘বিশ্বকাপ ট্রফি’! আসল রহস্য কী?

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের স্কুলছাত্রী মরিয়মকে (১০) ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

 

সোমবার (২০ জুলাই) শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চুয়াডাঙ্গার বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোক্তাগীর আলম আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

 

আসামি আবুল হোসেনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী গয়েশপুর গ্রামে। আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর গোয়ালপাড়া গ্রামের মরিয়ম খাতুন কয়েকজন শিশুকে সাথে নিয়ে মাঠে শাক তুলতে যায়। এ সময় শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে আসামী মরিয়মকে একটি ভুট্টাখেতের ভেতর নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ শেষে হত্যা করে।

 

এ ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্ত আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু আদালতের পিপি এমএম শাহজাহান মুকুল জানান, ‘৩১জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই রায় ঘোষণা করেন আদালত।’ আদালতের রায়ে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তষ্টি প্রকাশ করেন। এমন বিচার অব্যাহত থাকলে দেশে ধর্ষণ হত্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

ইউরো জয়ের দুই বছর পর এবার বিশ্বকাপও জিতে ফুটবলের নতুন পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা আরও শক্ত করলো স্পেন। শুধু পুরুষদেরই নয়, নারী ও বয়সভিত্তিক সব পর্যায় মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে ১৬টি আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছে লা রোজারা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন আর শক্তিশালী একাডেমি কাঠামোই স্পেনকে এনে দিয়েছে এই অবিশ্বাস্য সাফল্য।

 

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। এর আগে ২০২৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ২০১০ সালেও ইউরোর পর বিশ্বকাপ জয়ের একই কীর্তি গড়েছিল স্পেন।

পুরুষ ও নারী— উভয় ফুটবলে একই সময়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রথম দেশ এখন স্পেন। ২০২৩ সালে নারী বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার পুরুষ দলের বিশ্বকাপ শিরোপা সেই ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

 

শুধু সিনিয়র পর্যায় নয়, বয়সভিত্তিক দলগুলোর সাফল্যও চোখে পড়ার মতো। ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে স্পেন জিতেছে মোট ১৬টি ইউরোপীয় ও বিশ্ব শিরোপা।

 

নারী ফুটবলে এই সময়ে স্পেন জিতেছে— ২০২৩ নারী বিশ্বকাপ, ২০২৪ ও ২০২৫ নেশনস লিগ, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ২০২২, অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো টানা পাঁচবার (২০২২-২০২৬), অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ (২০২২) ও ইউরো (২০২৪)।

 

অন্যদিকে পুরুষ ফুটবলে জিতেছে— ২০২৬ বিশ্বকাপ, ২০২৪ ইউরো, ২০২৩ নেশনস লিগ, ২০২৪ অলিম্পিক স্বর্ণ এবং ২০২৬ এর অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো।

 

স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ গিলেম বালাগের ভাষায়, এটি শুধু একটি ভালো দলের সাফল্য নয়, বরং পুরো দেশের ফুটবল দর্শন ও পরিকল্পনার প্রতিফলন। তার মতে, স্পেনে সবাই একই ফুটবল দর্শনে বিশ্বাস করে। এ কারণেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে।

 

দেশটির নারী ফুটবলেও গত এক দশকে এসেছে আমূল পরিবর্তন। বার্সেলোনার সাবেক খেলোয়াড় মারিয়া গারিদো জানান, কয়েক বছর আগেও মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত একাডেমি, সুযোগ-সুবিধা কিংবা আর্থিক সহায়তা ছিল না। এখন উন্নত অবকাঠামো, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং পেশাদার পরিবেশ নারী ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

 

এই অর্জনগুলো দিয়ে শক্তিশালী ভবিষ্যতের বার্তা দিয়েছে স্পেন। দলটির হয়ে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বকাপজয়ী হয়েছেন লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি। এই দুই তরুণকে ঘিরে স্পেনের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, স্পেন এমন একটি ফুটবল দর্শন তৈরি করেছে, যার ধারেকাছেও এখন অন্য কোনো দল যেতে পারছে না।

 

আর ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি মনে করেন, স্পেনের এই আধিপত্য কাকতালীয় নয়। তার ভাষায়, তারা এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলেছে, যার ফল এখন প্রতিটি পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে। স্পেনের সাম্প্রতিক সাফল্য বলছে, বিশ্ব ফুটবলের নতুন মানদণ্ড এখন লা রোজাই।

পাঁচ বছরে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৬ শিরোপা, বিশ্ব ফুটবলে স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য

বিশ্বকাপে হারের পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে একই বিমানে ফিরছেন না লিওনেল স্কালোনির দলের সবাই। কয়েকজন ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাবেন। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিনিধিদলের একটি অংশ সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে বুয়েনস এইরেসে পৌঁছাবে।

 

বাংলাদেশ সময় তখন মঙ্গলবার রাত ২টা। সোমবার ভোরে নিউইয়র্ক থেকে ভাড়া করা বিমানে আর্জেন্টিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কথা প্রতিনিধিদলটির।

 

এক বিবৃতিতে ফেরার সময়সূচি জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটি জানিয়েছে, দলের কয়েকজন ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নিজ নিজ ক্লাবে যোগ দিতে অথবা ছুটি কাটাতে আলাদা গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হবেন। বাকি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোচিং স্টাফ ও দলের অন্য সদস্যরা দেশে ফিরবেন।

 

তবে কারা বুয়েনস এইরেসগামী বিমানে থাকবেন, সেই তালিকা প্রকাশ করেনি এএফএ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এবং সেখানকার ক্লাবে খেলার কারণে লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো দে পলের দেশে না ফেরার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও তাদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

 

পুরো দল একসঙ্গে দেশে না ফেরায় আপাতত কোনো শোভাযাত্রা বা আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার পরিকল্পনাও নেই। রানার্সআপ দলটি উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত নিলে সেই দিন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।

 

সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এএফএ বলেছে, বিশ্বকাপজুড়ে প্রতিটি শহর ও স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইনদের সমর্থন দলের শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও জাতীয় দল ও দেশের মানুষের সম্পর্ক যেকোনো ফলাফলের চেয়ে বড় বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

 

এএফএর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পতাকা, বার্তা, শোভাযাত্রা ও নিঃশর্ত ভালোবাসার মাধ্যমে সমর্থকেরা আবারও প্রমাণ করেছেন যে জাতীয় দল আর্জেন্টিনার মানুষের অমূল্য সম্পদ। আনন্দের সময়ের মতো কঠিন মুহূর্তেও পাশে থাকার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

 

রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে কোনো দল গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে শিরোপা জেতে স্পেন।

ভিন্ন পথে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা, জানা গেল দেশে ফেরার সময়

ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক

দশ বছর আগে যে স্টেডিয়ামে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে ভক্তদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করেছিলেন মেসি, অবসর ভেঙে সেই মেট লাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের দিকে তাকিয়ে ছিল ভক্ত-সমর্থকরা। ১৯৭৮ বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মারিও কেম্পস হাতে সোনালী রঙের ট্রফি উচুঁ করে ধরে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসি এন্ড কোং-কে দিয়েছেন অনুপ্রেরণা। দারুণসব রেকর্ড নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চে সব আলোটাই পড়েছে মেসিদের উপরে। জিতলে উপর্যুপরি ২ বার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডে ইতালি ( ১৯৩৪, ১৯৩৮)-ব্রাজিলের (১৯৫৮,১৯৬২) সঙ্গী হবে আর্জেন্টিনা। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনার নায়ক মেসির হাতে উপর্যুপরি দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ট্রফির দিকেই ছিল সমর্থকদের চোখ। তবে কিক অফের আগে স্পেন ফুটবলের রেনেসাঁর প্রতিনিধি ইনিয়েস্তার হাতে স্বর্নালী ট্রফিটাই একটু বেশি উজ্জীবিত করেছে নতুন স্পেনকে। আর্জেন্টিনার নেগেটিভ কৌশলের ফুটবলকে হতভম্ব করে উপর্যুপরি আক্রমনে সুফল তুলে নিয়েছে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে খেলার ১১৬তম মিনিটে ফেরান টোরেসের গোলে (১-০) ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ট্রফি পুনরুদ্ধার করেছে স্পেন।

 

এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিটি জয়ে একক কৃতিত্ব রাখা মেসিকে বোতলবন্দি করে রাখার কৌশলে জিতেছেন স্পেন কোচ। লা লিগায় ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময়ে খেলেছেন মেসি। সে কারণেই স্পেন কোচ লা ফুয়েন্তে এবং তাঁর শিষ্যরা মেসির কৌশলটা ভালই জানেন। মেসিকে আটকে রাখার কৌশলে এদিন পুরোপুরি সফল স্পেনের ডিফেন্স।

 

৪-৪-২ ফরমেশনে আর্জেন্টিনার দুই ফরোয়ার্ড মেসি-আলভারেজ স্পেন ডিফেন্ডারেদের কড়া মার্কিংয়ে থাকায় শুরু থেকেই নিষ্ক্রিয় ছিলেন। স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উপস্থিতির সঙ্গে পেরে না উঠলেও খেলার নিয়ন্ত্রনটা কিন্তু ছিল স্পেনের। আশ্চর্য হলেও সত্য, ১২০ মিনিটে খেলার নিয়ন্ত্রন ৬৫% নিয়ে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে খেলেছে স্পেন। আশ্চর্য হলেও সত্য,স্পেনের গোলপোষ্ট লক্ষ্য করে একটি মাত্র শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। অথচ, টার্গেটে ১২টি শট নিয়েছে স্পেন।

 

বিপরীতে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে পরিচিত টিকিটাকা ফুটবল প্রদর্শনীই করেছে স্পেন পুরো ম্যাচে। নিজেদের পায়ে অধিকাংশ সময়ে বলের নিয়ন্ত্রন নিয়ে ওয়ান টাচে পাস দিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবলারদের ক্লান্ত করতে চেষ্টা করেছে স্পেন ফুটবল দল। স্পেনের ৭৬২টি পাসের বিপরীতে আর্জেন্টিনার পাস সংখ্যার সমষ্টি মাত্র ৩৫৮। এটাই ফাইনালে স্পেনের একতরফা খেলার স্বাক্ষ্য দিচ্ছে।

 

প্রথমার্ধে দুটি পরিকল্পিত আক্রমনের দুটিই করেছে স্পেন। উইং অ্যাটাকে বর্তমানের সেনসেশন ইয়ামাল খেলার ৫মিনিটের মাথায় বিপজ্জনকভাবে ডি বক্সে ঢুকে পড়ে মিডফিল্ডার ওলমোকে দিয়েছিলেন পাস। সেই পাস পেয়ে ওলমো থ্রু বাড়িয়েছিলেন ইয়ামালকে। তবে ইয়ামাল বলটি নিয়ন্ত্রণে নিলেও আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বলটি বিপদমুক্ত হয়।

 

খেলার ৩৯তম মিনিটে স্পেনের পরিকল্পিত আক্রমনে বড় বিপদের আলামত ছিল। লাপোর্তে, রদ্রি এবং বায়েনার দারুণ বোঝাপড়ায় আক্রমন থেকে ফাবিয়ান পাস পেয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়া ওইয়ারজাবালের দিকে বলটি ঠেলে দেন। বক্সের কোনা থেকে বাঁ-পায়ের জোরালো শট নিয়েছিলেন তিনি। তবে আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ শুয়ে পদে বলটি বিপদমুক্ত করেন। প্রথমার্ধে মেসি ১৫বার বলে টাচ করেছেন। তবে হাইড্রেশন ব্রেকের আগে একবার গোলের উৎস তৈরি করে দিয়েছিলেন মেসি। খেলার ২২ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক বক্সের প্রান্তে থাকা গঞ্জালেজের দিকে একটি চমৎকার বল বাড়িয়ে দেন, কিন্তু তিনি বলের নিয়ন্ত্রণ ঠিকমতো করতে পারেননি। ১৯ বছর আগে যে ছেলেটিকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন মেসি, সেই ইয়ামালের শৈল্পিক ফুটবল, ড্রিবলিংয়ে ভবিষ্যতের মেসির ক্লোন দেখতে পেয়েছে বিশ্ব। ৮৬ বার বলে টাচ করে প্রতিবারই আর্জেন্টিনার গোলসীমায় বিপজ্জনকভাবে ঢুকেছেন ইয়ামাল।

 

ডিফেন্ডার কুবার্সি-পোরো-লাপোর্তের তৈরি করা দেয়াল ভাঙতে পারেনি আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে। ডিফেন্সিভ মিড ফিল্ডারের ভুমিকা পালন করতে ওভারল্যাপ করে লেফট উইংয়ে বার বার চলে গেছেন স্পেনের পরিশ্রমী ফুটবলার কুকুরেয়া।

 

দ্বিতীয়ার্ধেও হাইড্রেশন ব্রেকের আগে খেলার নিয়ন্ত্রন ছিল স্পেনের। পরিচিত স্ট্র্যাটেজি ছেড়ে আর্জেন্টিনা এই পর্বে ডিফেন্সে দিয়েছে বেশি মনযোগ। তারপরও স্পেনের আক্রমনে বার বার ডিফেন্স এলোমেলো হয়েছে। খেলার ৬৪ মিনিটের মাথায় স্পেন ডান দিক দিয়ে সুন্দরভাবে আক্রমণ শানায়। পেদ্রি বক্সের কোনায় থাকা ওলমোকে দিয়েছিলেন পাস। সেই পাস পেয়ে জটলার মধ্যে ওলমোর নেয়া জোরালো শট আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন।

 

খেলার ৭৭ মিনিটের মাথায় ক্রস থেকে স্পেনের পেদ্রি গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তার শটটি সৌভাগ্যবশত এমিলিয়ানো মার্টিনেজের হাতে গিয়ে পড়ে। পরের মিনিটে ইয়ামাল দ্রুতগতিতে দৌড় আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার মেদিনা আটকে দিলেও ক্লিয়ার করতে পারেননি। ফিরতি বলটিতে কুবার্সি নিয়েছিলেন জোরালো শট। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ কর্নারের বিনিময়ে তা প্রতিহত করেন।

 

ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে (৯০+৩) ফার্নান্দেজ একটি আলগা বলের পেছনে ছুটতে গিয়ে কুবার্সির সাথে সজোরে ধাক্কা খান এবং সাথে সাথেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন! ম্যাচের শুরুতে অভিনয়ের জন্য হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল! আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজকে দ্বিতীয়বারের মতো হলুদ কার্ড দেখিয়ে ( লাল কার্ড) মাঠ থেকে বহিষ্কৃত করেন রেফারি।

 

নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে ইনজুরি টাইমের ৬ষ্ঠ মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেয়া স্পেন সেনশেসন ইয়ামালে ফ্রি কিক বাঁ দিকে লাফিয়ে কর্নারের বিনিয়মে সেভ করেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক মার্টিনেজ।

 

খেলোয়াড় পরিবর্তনের সুফল পেয়েছে স্পেন। ওয়েরজাবালের জায়গায় ফেরান টোরেস, অ্যালেক্স বাইনারের জায়গায় নিকো উইলিয়ামস, দানি ওলমোর জায়গায় মিকেল মেরিনোকে মাঠে নামালে আক্রমরে ধার বাড়ে স্পেনের।

 

১০ জনের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেন আক্রমনের ধার বাড়িয়েছে। খেলার ৯৩ মিনিটের মাথায় পেদ্রির বক্সে পাঠানো চমৎকার পাস থেকে বদলি খেলোয়াড় উইলিয়ামসের দুর্দান্ত ফ্লিক আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক মার্টিনেজ শুণ্যে লাফিয়ে বিপদমুক্ত করেন। খেলার ৯৬তম মিনিটে উইলিয়ামসের শট জালে জড়িয়েছিল। তবে ডি বক্সে মেরিনো ওটামেন্ডিকে ফাউল করায় রেফারি গোলটি বাতিল করে দেন!

 

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে (১০৬ মিনিট) কাঙ্খিত গোল পায় স্পেন। খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার মাত্র ৩৭ সেকেন্ডের মধ্যেই, নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেন ডান দিক দিয়ে দারুণভাবে আক্রমণ থেকে পোরোরের ক্রসে উইলিয়ামস বলটি নিয়ন্ত্রণে এনে ফেরান তোরেসকে দিয়েছে ব্যাকপাস। সেই পাস থেকে জোরালো শটে গোল করেন ফেরান তোরেস (১-০) থেকে তোরেস সজোরে বল জালে জড়িয়ে দিলে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগিয়ে যায় স্পেন।

 

পুরো খেলায় আর্জেন্টিনা মাত্র একবার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে। এবং তা একেবারে শেষ মুহূর্তে। মেসির কর্নার থেকে সিমিওনের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে টাইব্রেকার ভাগ্যে গড়ায়নি ফাইনাল।

 

ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক ১১টি সেভ করেছেন – যা বিশ্বকাপের ফাইনালে যেকোনো গোলরক্ষকের করা রেকর্ডে (১৯৬৬ সাল থেকে) যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ড্রিবলিংয়ে রেকর্ড করেছেন স্পেন সেনসেশন ইয়ামাল। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির ৭ টি ড্রিবলিং এখনও রেকর্ড। তবে তাঁর পরের রেকর্ডটি এখন ইয়ামালের। বিশ্বকাপের ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ৫টির বেশি ড্রিবল সম্পন্ন করেছেন ইয়ামাল। এই রেকর্ড সঙ্গে নিয়েই শুরু হলো স্পেনের নতুন রূপকথা।

মেসির আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ভেঙে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

মধ্যে রাতে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফাইনাল। তবে এর মহারণ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের পারদ চড়তে শুরু করেছে। স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হাইভোল্টেজ ফাইনালের আগে আলবিসেলেস্তেদের এক হাত নিলেন স্প্যানিশ সাংবাদিক রবার্তো গোমেজ। রেডিও মার্কার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘লা ত্রিবু’-তে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনাকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ‘প্রতারক দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন তোলপাড় চলছে।

 

স্প্যানিশ এই প্রবীণ সাংবাদিকের দাবি, লিওনেল স্কালোনির দল শুধু ফুটবল খেলে না, বরং মাঠে প্রতিপক্ষকে অনবরত উস্কানি দেয়। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণকে ‘সহিংস’ উল্লেখ করে তিনি দলটিকে একটি হিংস্র দল হিসেবেও মন্তব্য করেন। গোমেজের মতে, ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হিসেবে আর্জেন্টিনা সবচেয়ে বাজে এবং কঠিন একটি দল। তবে এই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেন তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরবে বলেও তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।

 

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ফাইনালের পথচলা মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি রেফারিং বিতর্কেও জড়িয়েছে বারবার। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের ফুটবলার এবং কোচেরা হারের পর রেফারিং নিয়ে সরাসরি আঙুল তুলেছেন, যা স্কালোনি বাহিনীর জয়গুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে।

 

স্প্যানিশ সাংবাদিক গোমেজ সেই বিতর্ককেই উস্কে দিয়ে বলেন, শুধু এই বিশ্বকাপেই নয়, এর আগে আর্জেন্টিনা যে তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছে, তার সবগুলোর পেছনেই জড়িয়ে আছে নানা বিতর্কিত ইতিহাস। মাঠের মহাযুদ্ধের আগে স্প্যানিশ ক্যাম্প থেকে আসা এমন কড়া মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণ ফাইনালের উত্তেজনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

 

আর্জেন্টিনার ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেও দেশটির ফুটবল প্রতিভাকে অস্বীকার করতে পারেননি এই স্প্যানিশ সাংবাদিক। আলফ্রেডো ডি স্টেফানো, ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসির নাম উল্লেখ করে তিনি স্বীকার করেন যে, ইতিহাসসেরা ফুটবলাররা এই দেশ থেকেই এসেছেন এবং লিওনেল স্কালোনিও একজন অসাধারণ কোচ।

আর্জেন্টিনা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতারক দল: স্প্যানিশ সাংবাদিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

শ্যামনগরে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে লিডার্স -এর প্রকল্পের উপজেলা অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

 

ডি এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা, আগাম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা জোরদার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিডার্স -এর উদ্যোগে প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় ICIMOD-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)-এর আর্থিক সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP)-এর কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আলহাজ মাস্টার নজরুল ইসলাম, সভাপতি, লিডার্স নির্বাহী পরিষদ

 

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্যামনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হাসান। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস. এম. দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদ হাসান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শফিক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, কমিউনিটি নেতা এবং অন্যান্য অংশীজন সভায় অংশগ্রহণ করেন।

 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লিডার্সের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এ. বি. এম. জাকারিয়া। তিনি বলেন, PROAACT প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন, অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (LAPA) প্রণয়ন, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন, কমিউনিটি ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, টেকসই জীবিকা উন্নয়ন এবং আগাম প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা, স্থানীয় জ্ঞান ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির সহযোগিতা কামনা করেন।লিডার্সের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. মুজাহিদুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সভার শেষে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও সুপারিশ গ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

শ্যামনগরে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে লিডার্স -এর প্রকল্পের উপজেলা অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত 

জামায়াতের এক সংসদ সদস্যকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও সম্পাদনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুর ভিডিও যুক্ত করার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আম জনতা পার্টির সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানের সমালোচনা করে পৃথক ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মশিউর রহমান ও সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজেদের ফেসবুক পেজ থেকে এ পোস্ট করেন তারা।

 

মশিউর রহমান তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘জামায়াতের এমপির ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সঙ্গে এনসিপির এমপি ডা. মাহমুদা মিতু আপুর ভিডিও জুড়ে দিয়ে আম জনতা পার্টির সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান যে মহা অন্যায়টা করলো, সেটার কোনো ক্ষমা হবে না। আম তারেকের কী মা-বোন নেই?’

 

 

এ ঘটনার পর নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানান ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি লেখেন, ‘আসলে তারেককে নিয়ে কথা বলতে আমার ঘৃণা লাগে। তার স্ত্রীকে যখন বডি শেমিং করা হয়েছিল, তখন আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু একজন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের হয়রানি আশা করি না।

 

তিনি আরও লেখেন, ‘আমার বক্তব্যের ভিন্ন বিশ্লেষণ বা সমালোচনা করা যেত। কিন্তু যে নোংরামিটা করা হয়েছে, সেটি সত্যিই ঘৃণ্য। তিনি যা করেছেন, তা আইনগতভাবেও অন্যায়। এখন সেই স্ক্রিনশট নিয়ে অনেকেই নোংরা মন্তব্য করছেন। পুরো বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’

 

এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এক তরুণীর সঙ্গে জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে মুহুর্তেই দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে দ্বিতীয়বারের মতো সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির এবং দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য।’

সেই ভাইরাল ভিডিওতে মিতুকে জুড়ে দেওয়ায় তারেককে নিয়ে এনসিপির ক্ষোভ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের একথা জানান।

 

প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, “অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।

 

ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জনাব গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।

 

এবিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলকে নিয়ে যা বলল জামায়াত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে আরও দুই সন্দেহভাজন সাবেক সেনা সদস্যের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তের স্বার্থে করা পিবিআইয়ের আবেদনের পর এ আদেশ দেওয়া হয়।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

তিনি জানান, গত ১৭ জুলাই কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম-১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক সন্দেহভাজন দুই সাবেক সেনা সদস্য—জাহিদুল ইসলাম ও ফয়সাল আহমেদ রাব্বীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেন। জাহিদুল ইসলাম সিরাজগঞ্জের মেঘাই গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে এবং ফয়সাল আহমেদ রাব্বী কুমিল্লার রাজাপাড়া লক্ষীনগর এলাকার এম এ হান্নানের ছেলে।

 

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হলে আদালত ডিএনএ সংগ্রহের অনুমতি দেন। এর আগে মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান, সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সাবেক সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।

 

এদিকে মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাহিন আলম কুয়েতে পালিয়ে গেছেন বলে তথ্য রয়েছে। তবে জাহিদুজ্জামান বর্তমানে কোথায় আছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি হাফিজুর রহমান বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

 

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ তদন্তের পরও মামলাটির রহস্য এখনো পুরোপুরি উদ্ঘাটিত হয়নি।

তনু হত্যা মামলা, আরও দুই সাবেক সেনা সদস্যের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ

ফেনীর সোনাগাজীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির সমাবেশে নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনার জেরে ফেনীর দুই দলীয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের একজনকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দলটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। শোকজ পাওয়া দুই নেতা হলেন-এনসিপির ফেনী জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দিন সজীব এবং সোনাগাজী উপজেলা আহবায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আকবর হোসেন।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুজাউদ্দিন সজীবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

 

আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আকবর হোসেনকে অবিলম্বে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন তার বিরুদ্ধে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেই বিষয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত আত্মপক্ষ সমর্থন, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যা কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে দাখিল করতে বলা হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে নোটিশটি জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাগাজী উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আকবর হোসেন বলেন, সেদিন দফায় দফায় যে ঝামেলা হয়েছে, তার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এ অভিযোগে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে কেউ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এমন কিছু কখনো আশা করিনি। বিষয়টি আমি কেন্দ্রকে জানাব।

 

জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দিন সজীব বলেন, শোকজের বিষয়টি আমাদের দলীয় ফেসবুক পেইজে দেখেছি। এখনো সরাসরি কোনো চিঠি হাতে পাইনি। তবে ধারণা করছি, আমি যেহেতু সোনাগাজীর ওই কর্মসূচির মূল আয়োজক ছিলাম এবং সেখানে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, সম্ভবত শৃঙ্খলা রক্ষায় ত্রুটি থাকার কারণেই আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে, গত ৯ জুলাই সন্ধ্যায় সোনাগাজী পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে মঞ্চে দুইপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে অনুষ্ঠান শেষে সভাস্থল ও মঞ্চের সামনে দফায় দফায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

জুলাই পদযাত্রায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনায় এনসিপির দুই নেতাকে শোকজ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেছেন, শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না। শেখ হাসিনা কখনোই আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না। তাকে দিল্লির ওই অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। তার লাশ ভারতও দিল্লির পানিতে ভাসিয়ে দেবে।

 

সোমবার (২০ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে পিরোজপুর শহরে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও পথসভায় পিরোজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সরোয়ার তুষার বলেন, এই বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আর আসা হবে না, তার জানাজা হবে না, তার কবর হবে না। একজন মুসলমানের সন্তান হিসেবে এর চেয়ে বড় কলঙ্ক আর কিছু হতে পারে না।

 

এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, গণভোট নাকি তারাই আবিষ্কার করেছেন। এখন গণভোটের পক্ষে থাকা জনগণের ভোট নিজেদের দিকে নেওয়ার পর তিনি বলছেন, গণভোট অবৈধ।

 

তিনি বলেন, গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে বিএনপি নামক দলটির গঠনও অবৈধ ছিল। গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে আপনারা যে সরকার গঠন করেছেন এবং ক্ষমতায় এসেছেন, সেটিও অবৈধ। সুতরাং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের ছাড় দেবে না।

 

সরোয়ার তুষার আরও বলেন, জুলাই সনদ যেহেতু বাস্তবায়ন হচ্ছে না, বাংলাদেশের জনগণ বিএনপি সরকারকে ভণ্ড ও প্রতারক সরকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

 

পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হাসান জুনায়েদ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. শামীম হামিদী।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা এনসিপির সভাপতি হুমায়ুন কবির। সঞ্চালনা করেন জেলা সদস্যসচিব মাইনুল আহসান মুন্না।

শেখ হাসিনার লাশ ভারতও দিল্লির পানিতে ভাসিয়ে দেবে : সরোয়ার তুষার

‎নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও পটকা ফাটানোর ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।

 

সোমবার (২০ জুলাই) রাত ১০টায় ফতুল্লার হাজীগঞ্জ ঈদগাহ সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাজীগঞ্জ ঈদগাহ সড়ক এলাকার বাসিন্দা ফারুক মিয়ার ছেলে অপূর্ব ব্রাজিল সমর্থক। তার সঙ্গে ওই এলাকার আরও অর্ধশত ব্রাজিল সমর্থক রয়েছেন।

 

একই এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে হাবিব (২০) আর্জেন্টিনার সমর্থক। তার সঙ্গেও প্রায় অর্ধশত আর্জেন্টিনার সমর্থক রয়েছেন।

ব্রাজিল হেরে যাওয়ায় তখন হাবিবসহ আর্জেন্টিনার সমর্থকরা আনন্দ উল্লাস করেন। এতে ব্রাজিলের সমর্থক অপূর্ব ও তার লোকজন বিষয়টি মনে রাখেন।

 

সোমবার আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ায় অপূর্ব ও তার লোকজনও আনন্দ উল্লাস করেন। এতে হাবিব ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের ধাওয়া দেন।

 

এরপর ব্রাজিল সমর্থকরা দলবল বাড়িয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে ব্যাপক লুটপাট চালান এবং নারীসহ কয়েকজনকে মারধর করেন। এরপর যাওয়ার সময় কয়েকটি পটকা ফাটান। এসময় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে এলাকাবাসী যোগ দিয়ে ব্রাজিলের বেশ কয়জন সমর্থককে মারধর করেন।

 

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে যারা সংঘর্ষে জড়িয়েছেন, তারা সবাই কিশোর বয়সের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উভয় গ্রুপের লোকজন পালিয়েছেন। তাদের ধরার চেষ্টা করছি।

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৮

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের নামে ছড়িয়ে পড়া বিজ্ঞপ্তি ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির নামে ২৭ জুলাই ২০২৬ থেকে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে এমন দাবি করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ওই বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

আরও বলা হয়, এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

 

পরীক্ষা-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা ও বিজ্ঞপ্তি শুধুমাত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

5

 

এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস বা শেয়ার না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। একই সঙ্গে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের জরুরি সতর্ক বার্তা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে স্পেন। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন আলোচনার তুঙ্গে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেলার একটি ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, এই চেলসি তারকা একটি সাধারণ সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে করে বিশ্বকাপ ট্রফির মতো দেখতে একটি বস্তু নিয়ে স্টেডিয়াম ছাড়ছেন। অত্যন্ত মূল্যবান এই ট্রফিটি এভাবে ‘ময়লা ফেলার ব্যাগে’ বহনের দৃশ্য দেখে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খেলোয়াড়েরা যখন ড্রেসিংরুমের দিকে ফিরছিলেন, তখন ক্যামেরায় ধরা পড়ে কুকুরেলার এই অদ্ভুত দৃশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি শপিং ব্যাগের ভেতর সোনালী রঙের ট্রফিটি নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন তিনি।

 

বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি এমন সাদামাটাভাবে বহন করতে দেখে নেটিজেন ও সাংবাদিকেরা বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তবে এই রহস্যের সমাধান হয়েছে খুব দ্রুতই। জানা গেছে, কুকুরেলার ব্যাগে থাকা বস্তুটি আসল ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ছিল না; বরং সেটি ছিল লেগো (LEGO) দিয়ে তৈরি ট্রফির একটি হুবহু প্রতিচ্ছবি বা খেলনা। শখের বশে তৈরি করা এই লেগো ট্রফিটিই তিনি প্লাস্টিকের ব্যাগে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

কুকুরেয়ার প্লাস্টিকের ব্যাগে ‘বিশ্বকাপ ট্রফি’! আসল রহস্য কী?

প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম।

 

গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখে আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছাঃ মাকছুদা বেগম ও মোছাঃ মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মোঃ মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।

 

আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে ১ লক্ষ টাকা আদায় করে।

 

আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়।

 

আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মোঃ মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

 

পরবর্তীতে, হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

প্রকৃতপক্ষে, গত ১৭ জুন, ২০২৬ তারিখে পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাঃ মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তার পিতা মোঃ মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।

 

যারা আমাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

 

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন এমপি গাজী নজরুল

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d