আর্জেন্টিনা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতারক দল: স্প্যানিশ সাংবাদিক - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
আর্জেন্টিনা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতারক দল: স্প্যানিশ সাংবাদিক

আর্জেন্টিনা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতারক দল: স্প্যানিশ সাংবাদিক

মধ্যে রাতে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফাইনাল। তবে এর মহারণ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের পারদ চড়তে শুরু করেছে। স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হাইভোল্টেজ ফাইনালের আগে আলবিসেলেস্তেদের এক হাত নিলেন স্প্যানিশ সাংবাদিক রবার্তো গোমেজ। রেডিও মার্কার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘লা ত্রিবু’-তে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনাকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ‘প্রতারক দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন তোলপাড় চলছে।

 

স্প্যানিশ এই প্রবীণ সাংবাদিকের দাবি, লিওনেল স্কালোনির দল শুধু ফুটবল খেলে না, বরং মাঠে প্রতিপক্ষকে অনবরত উস্কানি দেয়। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণকে ‘সহিংস’ উল্লেখ করে তিনি দলটিকে একটি হিংস্র দল হিসেবেও মন্তব্য করেন। গোমেজের মতে, ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হিসেবে আর্জেন্টিনা সবচেয়ে বাজে এবং কঠিন একটি দল। তবে এই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেন তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরবে বলেও তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।

 

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ফাইনালের পথচলা মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি রেফারিং বিতর্কেও জড়িয়েছে বারবার। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের ফুটবলার এবং কোচেরা হারের পর রেফারিং নিয়ে সরাসরি আঙুল তুলেছেন, যা স্কালোনি বাহিনীর জয়গুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে।

 

স্প্যানিশ সাংবাদিক গোমেজ সেই বিতর্ককেই উস্কে দিয়ে বলেন, শুধু এই বিশ্বকাপেই নয়, এর আগে আর্জেন্টিনা যে তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছে, তার সবগুলোর পেছনেই জড়িয়ে আছে নানা বিতর্কিত ইতিহাস। মাঠের মহাযুদ্ধের আগে স্প্যানিশ ক্যাম্প থেকে আসা এমন কড়া মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণ ফাইনালের উত্তেজনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

 

আর্জেন্টিনার ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেও দেশটির ফুটবল প্রতিভাকে অস্বীকার করতে পারেননি এই স্প্যানিশ সাংবাদিক। আলফ্রেডো ডি স্টেফানো, ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসির নাম উল্লেখ করে তিনি স্বীকার করেন যে, ইতিহাসসেরা ফুটবলাররা এই দেশ থেকেই এসেছেন এবং লিওনেল স্কালোনিও একজন অসাধারণ কোচ।


চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের স্কুলছাত্রী মরিয়মকে (১০) ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

 

সোমবার (২০ জুলাই) শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চুয়াডাঙ্গার বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোক্তাগীর আলম আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

 

আসামি আবুল হোসেনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী গয়েশপুর গ্রামে। আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর গোয়ালপাড়া গ্রামের মরিয়ম খাতুন কয়েকজন শিশুকে সাথে নিয়ে মাঠে শাক তুলতে যায়। এ সময় শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে আসামী মরিয়মকে একটি ভুট্টাখেতের ভেতর নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ শেষে হত্যা করে।

 

এ ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্ত আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু আদালতের পিপি এমএম শাহজাহান মুকুল জানান, ‘৩১জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই রায় ঘোষণা করেন আদালত।’ আদালতের রায়ে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তষ্টি প্রকাশ করেন। এমন বিচার অব্যাহত থাকলে দেশে ধর্ষণ হত্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

ইউরো জয়ের দুই বছর পর এবার বিশ্বকাপও জিতে ফুটবলের নতুন পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা আরও শক্ত করলো স্পেন। শুধু পুরুষদেরই নয়, নারী ও বয়সভিত্তিক সব পর্যায় মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে ১৬টি আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছে লা রোজারা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন আর শক্তিশালী একাডেমি কাঠামোই স্পেনকে এনে দিয়েছে এই অবিশ্বাস্য সাফল্য।

 

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। এর আগে ২০২৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ২০১০ সালেও ইউরোর পর বিশ্বকাপ জয়ের একই কীর্তি গড়েছিল স্পেন।

পুরুষ ও নারী— উভয় ফুটবলে একই সময়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রথম দেশ এখন স্পেন। ২০২৩ সালে নারী বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার পুরুষ দলের বিশ্বকাপ শিরোপা সেই ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

 

শুধু সিনিয়র পর্যায় নয়, বয়সভিত্তিক দলগুলোর সাফল্যও চোখে পড়ার মতো। ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে স্পেন জিতেছে মোট ১৬টি ইউরোপীয় ও বিশ্ব শিরোপা।

 

নারী ফুটবলে এই সময়ে স্পেন জিতেছে— ২০২৩ নারী বিশ্বকাপ, ২০২৪ ও ২০২৫ নেশনস লিগ, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ২০২২, অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো টানা পাঁচবার (২০২২-২০২৬), অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ (২০২২) ও ইউরো (২০২৪)।

 

অন্যদিকে পুরুষ ফুটবলে জিতেছে— ২০২৬ বিশ্বকাপ, ২০২৪ ইউরো, ২০২৩ নেশনস লিগ, ২০২৪ অলিম্পিক স্বর্ণ এবং ২০২৬ এর অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো।

 

স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ গিলেম বালাগের ভাষায়, এটি শুধু একটি ভালো দলের সাফল্য নয়, বরং পুরো দেশের ফুটবল দর্শন ও পরিকল্পনার প্রতিফলন। তার মতে, স্পেনে সবাই একই ফুটবল দর্শনে বিশ্বাস করে। এ কারণেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে।

 

দেশটির নারী ফুটবলেও গত এক দশকে এসেছে আমূল পরিবর্তন। বার্সেলোনার সাবেক খেলোয়াড় মারিয়া গারিদো জানান, কয়েক বছর আগেও মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত একাডেমি, সুযোগ-সুবিধা কিংবা আর্থিক সহায়তা ছিল না। এখন উন্নত অবকাঠামো, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং পেশাদার পরিবেশ নারী ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

 

এই অর্জনগুলো দিয়ে শক্তিশালী ভবিষ্যতের বার্তা দিয়েছে স্পেন। দলটির হয়ে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বকাপজয়ী হয়েছেন লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি। এই দুই তরুণকে ঘিরে স্পেনের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, স্পেন এমন একটি ফুটবল দর্শন তৈরি করেছে, যার ধারেকাছেও এখন অন্য কোনো দল যেতে পারছে না।

 

আর ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি মনে করেন, স্পেনের এই আধিপত্য কাকতালীয় নয়। তার ভাষায়, তারা এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলেছে, যার ফল এখন প্রতিটি পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে। স্পেনের সাম্প্রতিক সাফল্য বলছে, বিশ্ব ফুটবলের নতুন মানদণ্ড এখন লা রোজাই।

পাঁচ বছরে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৬ শিরোপা, বিশ্ব ফুটবলে স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য

বিশ্বকাপে হারের পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে একই বিমানে ফিরছেন না লিওনেল স্কালোনির দলের সবাই। কয়েকজন ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাবেন। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিনিধিদলের একটি অংশ সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে বুয়েনস এইরেসে পৌঁছাবে।

 

বাংলাদেশ সময় তখন মঙ্গলবার রাত ২টা। সোমবার ভোরে নিউইয়র্ক থেকে ভাড়া করা বিমানে আর্জেন্টিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কথা প্রতিনিধিদলটির।

 

এক বিবৃতিতে ফেরার সময়সূচি জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটি জানিয়েছে, দলের কয়েকজন ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নিজ নিজ ক্লাবে যোগ দিতে অথবা ছুটি কাটাতে আলাদা গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হবেন। বাকি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোচিং স্টাফ ও দলের অন্য সদস্যরা দেশে ফিরবেন।

 

তবে কারা বুয়েনস এইরেসগামী বিমানে থাকবেন, সেই তালিকা প্রকাশ করেনি এএফএ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এবং সেখানকার ক্লাবে খেলার কারণে লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো দে পলের দেশে না ফেরার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও তাদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

 

পুরো দল একসঙ্গে দেশে না ফেরায় আপাতত কোনো শোভাযাত্রা বা আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার পরিকল্পনাও নেই। রানার্সআপ দলটি উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত নিলে সেই দিন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।

 

সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এএফএ বলেছে, বিশ্বকাপজুড়ে প্রতিটি শহর ও স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইনদের সমর্থন দলের শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও জাতীয় দল ও দেশের মানুষের সম্পর্ক যেকোনো ফলাফলের চেয়ে বড় বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

 

এএফএর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পতাকা, বার্তা, শোভাযাত্রা ও নিঃশর্ত ভালোবাসার মাধ্যমে সমর্থকেরা আবারও প্রমাণ করেছেন যে জাতীয় দল আর্জেন্টিনার মানুষের অমূল্য সম্পদ। আনন্দের সময়ের মতো কঠিন মুহূর্তেও পাশে থাকার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

 

রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে কোনো দল গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে শিরোপা জেতে স্পেন।

ভিন্ন পথে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা, জানা গেল দেশে ফেরার সময়

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে শুধু শিরোপাই হারায়নি আর্জেন্টিনা, গড়েছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ইতিহাসও। মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড পাওয়া দল এখন আর্জেন্টিনা।

 

নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবারসির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করেন এনজো। রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান, যা লাল কার্ডে রূপ নেয়। ফলে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

 

অতিরিক্ত সময়ে সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস। সেই একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জিতে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় স্পেন।

 

এনজোর এই লাল কার্ড বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসেও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ফাইনালে লাল কার্ড দেখা মাত্র ষষ্ঠ ফুটবলার। আর তার এই বহিষ্কারের ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের লাল কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনটিতে—যা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। এর আগে ১৯৯০ সালের ফাইনালে পেদ্রো মনসন ও গুস্তাভো দেসোত্তিও লাল কার্ড দেখেছিলেন।

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডে আর্জেন্টিনার লজ্জার রেকর্ড

ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক

দশ বছর আগে যে স্টেডিয়ামে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে ভক্তদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করেছিলেন মেসি, অবসর ভেঙে সেই মেট লাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের দিকে তাকিয়ে ছিল ভক্ত-সমর্থকরা। ১৯৭৮ বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মারিও কেম্পস হাতে সোনালী রঙের ট্রফি উচুঁ করে ধরে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসি এন্ড কোং-কে দিয়েছেন অনুপ্রেরণা। দারুণসব রেকর্ড নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চে সব আলোটাই পড়েছে মেসিদের উপরে। জিতলে উপর্যুপরি ২ বার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডে ইতালি ( ১৯৩৪, ১৯৩৮)-ব্রাজিলের (১৯৫৮,১৯৬২) সঙ্গী হবে আর্জেন্টিনা। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনার নায়ক মেসির হাতে উপর্যুপরি দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ট্রফির দিকেই ছিল সমর্থকদের চোখ। তবে কিক অফের আগে স্পেন ফুটবলের রেনেসাঁর প্রতিনিধি ইনিয়েস্তার হাতে স্বর্নালী ট্রফিটাই একটু বেশি উজ্জীবিত করেছে নতুন স্পেনকে। আর্জেন্টিনার নেগেটিভ কৌশলের ফুটবলকে হতভম্ব করে উপর্যুপরি আক্রমনে সুফল তুলে নিয়েছে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে খেলার ১১৬তম মিনিটে ফেরান টোরেসের গোলে (১-০) ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ট্রফি পুনরুদ্ধার করেছে স্পেন।

 

এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিটি জয়ে একক কৃতিত্ব রাখা মেসিকে বোতলবন্দি করে রাখার কৌশলে জিতেছেন স্পেন কোচ। লা লিগায় ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময়ে খেলেছেন মেসি। সে কারণেই স্পেন কোচ লা ফুয়েন্তে এবং তাঁর শিষ্যরা মেসির কৌশলটা ভালই জানেন। মেসিকে আটকে রাখার কৌশলে এদিন পুরোপুরি সফল স্পেনের ডিফেন্স।

 

৪-৪-২ ফরমেশনে আর্জেন্টিনার দুই ফরোয়ার্ড মেসি-আলভারেজ স্পেন ডিফেন্ডারেদের কড়া মার্কিংয়ে থাকায় শুরু থেকেই নিষ্ক্রিয় ছিলেন। স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উপস্থিতির সঙ্গে পেরে না উঠলেও খেলার নিয়ন্ত্রনটা কিন্তু ছিল স্পেনের। আশ্চর্য হলেও সত্য, ১২০ মিনিটে খেলার নিয়ন্ত্রন ৬৫% নিয়ে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে খেলেছে স্পেন। আশ্চর্য হলেও সত্য,স্পেনের গোলপোষ্ট লক্ষ্য করে একটি মাত্র শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। অথচ, টার্গেটে ১২টি শট নিয়েছে স্পেন।

 

বিপরীতে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে পরিচিত টিকিটাকা ফুটবল প্রদর্শনীই করেছে স্পেন পুরো ম্যাচে। নিজেদের পায়ে অধিকাংশ সময়ে বলের নিয়ন্ত্রন নিয়ে ওয়ান টাচে পাস দিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবলারদের ক্লান্ত করতে চেষ্টা করেছে স্পেন ফুটবল দল। স্পেনের ৭৬২টি পাসের বিপরীতে আর্জেন্টিনার পাস সংখ্যার সমষ্টি মাত্র ৩৫৮। এটাই ফাইনালে স্পেনের একতরফা খেলার স্বাক্ষ্য দিচ্ছে।

 

প্রথমার্ধে দুটি পরিকল্পিত আক্রমনের দুটিই করেছে স্পেন। উইং অ্যাটাকে বর্তমানের সেনসেশন ইয়ামাল খেলার ৫মিনিটের মাথায় বিপজ্জনকভাবে ডি বক্সে ঢুকে পড়ে মিডফিল্ডার ওলমোকে দিয়েছিলেন পাস। সেই পাস পেয়ে ওলমো থ্রু বাড়িয়েছিলেন ইয়ামালকে। তবে ইয়ামাল বলটি নিয়ন্ত্রণে নিলেও আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বলটি বিপদমুক্ত হয়।

 

খেলার ৩৯তম মিনিটে স্পেনের পরিকল্পিত আক্রমনে বড় বিপদের আলামত ছিল। লাপোর্তে, রদ্রি এবং বায়েনার দারুণ বোঝাপড়ায় আক্রমন থেকে ফাবিয়ান পাস পেয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়া ওইয়ারজাবালের দিকে বলটি ঠেলে দেন। বক্সের কোনা থেকে বাঁ-পায়ের জোরালো শট নিয়েছিলেন তিনি। তবে আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ শুয়ে পদে বলটি বিপদমুক্ত করেন। প্রথমার্ধে মেসি ১৫বার বলে টাচ করেছেন। তবে হাইড্রেশন ব্রেকের আগে একবার গোলের উৎস তৈরি করে দিয়েছিলেন মেসি। খেলার ২২ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক বক্সের প্রান্তে থাকা গঞ্জালেজের দিকে একটি চমৎকার বল বাড়িয়ে দেন, কিন্তু তিনি বলের নিয়ন্ত্রণ ঠিকমতো করতে পারেননি। ১৯ বছর আগে যে ছেলেটিকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন মেসি, সেই ইয়ামালের শৈল্পিক ফুটবল, ড্রিবলিংয়ে ভবিষ্যতের মেসির ক্লোন দেখতে পেয়েছে বিশ্ব। ৮৬ বার বলে টাচ করে প্রতিবারই আর্জেন্টিনার গোলসীমায় বিপজ্জনকভাবে ঢুকেছেন ইয়ামাল।

 

ডিফেন্ডার কুবার্সি-পোরো-লাপোর্তের তৈরি করা দেয়াল ভাঙতে পারেনি আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে। ডিফেন্সিভ মিড ফিল্ডারের ভুমিকা পালন করতে ওভারল্যাপ করে লেফট উইংয়ে বার বার চলে গেছেন স্পেনের পরিশ্রমী ফুটবলার কুকুরেয়া।

 

দ্বিতীয়ার্ধেও হাইড্রেশন ব্রেকের আগে খেলার নিয়ন্ত্রন ছিল স্পেনের। পরিচিত স্ট্র্যাটেজি ছেড়ে আর্জেন্টিনা এই পর্বে ডিফেন্সে দিয়েছে বেশি মনযোগ। তারপরও স্পেনের আক্রমনে বার বার ডিফেন্স এলোমেলো হয়েছে। খেলার ৬৪ মিনিটের মাথায় স্পেন ডান দিক দিয়ে সুন্দরভাবে আক্রমণ শানায়। পেদ্রি বক্সের কোনায় থাকা ওলমোকে দিয়েছিলেন পাস। সেই পাস পেয়ে জটলার মধ্যে ওলমোর নেয়া জোরালো শট আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন।

 

খেলার ৭৭ মিনিটের মাথায় ক্রস থেকে স্পেনের পেদ্রি গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তার শটটি সৌভাগ্যবশত এমিলিয়ানো মার্টিনেজের হাতে গিয়ে পড়ে। পরের মিনিটে ইয়ামাল দ্রুতগতিতে দৌড় আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার মেদিনা আটকে দিলেও ক্লিয়ার করতে পারেননি। ফিরতি বলটিতে কুবার্সি নিয়েছিলেন জোরালো শট। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ কর্নারের বিনিময়ে তা প্রতিহত করেন।

 

ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে (৯০+৩) ফার্নান্দেজ একটি আলগা বলের পেছনে ছুটতে গিয়ে কুবার্সির সাথে সজোরে ধাক্কা খান এবং সাথে সাথেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন! ম্যাচের শুরুতে অভিনয়ের জন্য হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল! আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজকে দ্বিতীয়বারের মতো হলুদ কার্ড দেখিয়ে ( লাল কার্ড) মাঠ থেকে বহিষ্কৃত করেন রেফারি।

 

নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে ইনজুরি টাইমের ৬ষ্ঠ মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেয়া স্পেন সেনশেসন ইয়ামালে ফ্রি কিক বাঁ দিকে লাফিয়ে কর্নারের বিনিয়মে সেভ করেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক মার্টিনেজ।

 

খেলোয়াড় পরিবর্তনের সুফল পেয়েছে স্পেন। ওয়েরজাবালের জায়গায় ফেরান টোরেস, অ্যালেক্স বাইনারের জায়গায় নিকো উইলিয়ামস, দানি ওলমোর জায়গায় মিকেল মেরিনোকে মাঠে নামালে আক্রমরে ধার বাড়ে স্পেনের।

 

১০ জনের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেন আক্রমনের ধার বাড়িয়েছে। খেলার ৯৩ মিনিটের মাথায় পেদ্রির বক্সে পাঠানো চমৎকার পাস থেকে বদলি খেলোয়াড় উইলিয়ামসের দুর্দান্ত ফ্লিক আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক মার্টিনেজ শুণ্যে লাফিয়ে বিপদমুক্ত করেন। খেলার ৯৬তম মিনিটে উইলিয়ামসের শট জালে জড়িয়েছিল। তবে ডি বক্সে মেরিনো ওটামেন্ডিকে ফাউল করায় রেফারি গোলটি বাতিল করে দেন!

 

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে (১০৬ মিনিট) কাঙ্খিত গোল পায় স্পেন। খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার মাত্র ৩৭ সেকেন্ডের মধ্যেই, নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেন ডান দিক দিয়ে দারুণভাবে আক্রমণ থেকে পোরোরের ক্রসে উইলিয়ামস বলটি নিয়ন্ত্রণে এনে ফেরান তোরেসকে দিয়েছে ব্যাকপাস। সেই পাস থেকে জোরালো শটে গোল করেন ফেরান তোরেস (১-০) থেকে তোরেস সজোরে বল জালে জড়িয়ে দিলে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগিয়ে যায় স্পেন।

 

পুরো খেলায় আর্জেন্টিনা মাত্র একবার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে। এবং তা একেবারে শেষ মুহূর্তে। মেসির কর্নার থেকে সিমিওনের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে টাইব্রেকার ভাগ্যে গড়ায়নি ফাইনাল।

 

ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক ১১টি সেভ করেছেন – যা বিশ্বকাপের ফাইনালে যেকোনো গোলরক্ষকের করা রেকর্ডে (১৯৬৬ সাল থেকে) যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ড্রিবলিংয়ে রেকর্ড করেছেন স্পেন সেনসেশন ইয়ামাল। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির ৭ টি ড্রিবলিং এখনও রেকর্ড। তবে তাঁর পরের রেকর্ডটি এখন ইয়ামালের। বিশ্বকাপের ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ৫টির বেশি ড্রিবল সম্পন্ন করেছেন ইয়ামাল। এই রেকর্ড সঙ্গে নিয়েই শুরু হলো স্পেনের নতুন রূপকথা।

মেসির আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ভেঙে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগের রাতে সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং দলের নেপথ্যে কাজ করা সদস্যদের সঙ্গে তোলা একটি দলীয় ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই দল এমন এক ইতিহাস গড়েছে, যা কখনো মুছে ফেলা যাবে না।

 

নিউ জার্সিতে ফাইনালের আগে তোলা ছবিতে ২৬ সদস্যের খেলোয়াড়দলের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ, চিকিৎসক, সরঞ্জামকর্মী, রাঁধুনি, কর্মকর্তাসহ আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও উপস্থিত ছিলেন। ফাইনালের আগে এটিই ছিল পুরো দলের শেষ আনুষ্ঠানিক দলীয় ছবি।

 

ছবির ক্যাপশনে মেসি লেখেন, গত কয়েক বছরের সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন শুধু শিরোপা নয়, বরং সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত, একসঙ্গে লড়াই করা, কঠিন সময় পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো এবং প্রতিটি যাত্রাকে উপভোগ করা।

 

তিনি দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, এই দল এমন এক ইতিহাস লিখেছে, যা আমরা কখনো ভুলব না এবং কেউ মুছতেও পারবে না।’ একই সঙ্গে তিনি সমর্থকদেরও আর্জেন্টিনার পাশে থাকার আহ্বান জানান।

 

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে মেসির ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে পরাজয়ের পর ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পান তিনি। এবার ৩৯ বছর বয়সে সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।

 

চলতি বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথে বড় ভূমিকা রেখেছেন মেসি। এখন পর্যন্ত তিনি করেছেন ৮ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪টি গোল। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল না পেলেও আর্জেন্টিনার দুই গোলেই ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

 

বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার লক্ষ্য চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা এবং ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়া। অন্যদিকে, স্পেন চাইছে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি জিততে।

ফাইনালের আগে মেসির আবেগঘন বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

তিনটি নিষ্পাপ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে চান শাহানা আক্তার সাথী

 

“আমি মরতে চাই না… আমার তিনটি সন্তান এখনও খুব ছোট। ওদের জন্য আমাকে বাঁচতেই হবে…”

এই আর্তনাদ আজ ক্যান্সারে আক্রান্ত শাহানা আক্তার সাথীর।

 

তিনি নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির একজন শিক্ষার্থী। অথচ জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়টাতেই তিনি লড়ছেন ফোর স্টেজ ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগের বিরুদ্ধে।

একজন মায়ের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার সন্তান। শাহানা আক্তার সাথীরও রয়েছে তিনটি ফুটফুটে সন্তান। প্রতিদিন তারা মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, আশা করে মা আবার সুস্থ হয়ে তাদের বুকে জড়িয়ে নেবেন। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা হলো, জীবন বাঁচানোর এই লড়াইয়ে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবার আজ অসহায়।

 

ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ শুধু একজন মানুষের নয়, এটি একটি পরিবারের যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধে আজ শাহানা একা নন, যদি আমরা সবাই তার পাশে দাঁড়াই।

হয়তো আপনার এক কাপ চায়ের দাম, একটি দিনের ছোট্ট খরচ, অথবা সামান্য কিছু অর্থ একজন মায়ের চিকিৎসার জন্য আশার আলো হয়ে উঠতে পারে। আপনার সহযোগিতায় তিনটি নিষ্পাপ শিশু তাদের মাকে ফিরে পেতে পারে।

 

আসুন, মানবতার ডাকে সাড়া দিই। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই। সাহায্য করতে না পারলেও অন্তত এই আবেদনটি শেয়ার করুন, যেন আরও অনেক হৃদয়বান মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

সহায়তা পাঠানোর বিকাশ (পার্সোনাল): 01734-830142

 

একজন মাকে বাঁচানো মানে শুধু একটি জীবন বাঁচানো নয়, তিনটি শিশুর ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন আর আশ্রয়কে বাঁচিয়ে রাখা।

আসুন, শাহানা আক্তার সাথীর পাশে দাঁড়াই। কারণ মানবতাই মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

 

সাদিয়া আফরিন, গণ টেলিভিশন, খুলনা।

তিনটি নিষ্পাপ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে চান শাহানা আক্তার সাথী

ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানী নয়াদিল্লি।

 

সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও সেখানে জড়ো হয় ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকারীরা।

 

এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেন্ট্রাল দিল্লির কিছু অংশে মোবাইল ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

মেডিকেল কলেজগুলোর জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা—নিটটের কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রার ডাক দেওয়া হয়। যন্তর-মন্তর বিক্ষোভস্থলে জড়ো হওয়া প্রধানত তরুণদের এই জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠি ও ডান্ডাও ব্যবহার করেছে। পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে কিছু আন্দোলনকারী এবং পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন।

 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিজেপি তার সমর্থকদের ‘শান্ত থাকার’ আহ্বান জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমনকি আপনাদের যদি নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় আটকে দেওয়া হয়, তবুও শান্ত থাকুন এবং শান্তি বজায় রাখুন। আমরা কেবল শান্তি ও ভালোবাসা দিয়ে এতে জয়ী হব।

 

পুলিশ রোববার এই আন্দোলনের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এবং বড় ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছিল। তারা সতর্কও করেছিল, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

 

এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পুলিশ জানায়, পূর্বানুমতিসহ যন্তর-মন্তরের নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল ছাড়া অন্য কোথাও প্রতিবাদ পদযাত্রা, মিছিল, বিক্ষোভ এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দিল্লি পুলিশ সকল নাগরিককে আইনকে শ্রদ্ধা করার, যে কোনো অননুমোদিত সমাবেশ বা মিছিলে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার এবং জনশান্তি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছে।

 

দিল্লি মেট্রো স্টেশনগুলোতে বিশৃঙ্খলা

 

নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লির পাঁচটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। স্টেশনগুলো হলো—রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয় এবং সেবা তীর্থ।

এগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনে তীব্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এর ফলে শত শত যাত্রী আটকা পড়েন অথবা তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য দীর্ঘ পথ ব্যবহারে বাধ্য হন। দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত ইন্টারচেঞ্জ মেট্রো স্টেশন রাজীব চকে যাত্রীদের বন্ধ প্রবেশ ও বাহির পথের গেটগুলোর কাছে ভিড় করতে দেখা গেছে।

 

সিজেপির বিক্ষোভ

 

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ‘পরজীবী’ এবং ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর গত মে মাসে অভিজিৎ দিপকে একটি ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল সংগঠন হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টি চালু করেছিলেন। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এটি ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঝড় তোলে এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লাখ লাখ অনুসারী অর্জন করে। এটি বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, অধিকারকর্মী, শিল্পী এবং ক্রীড়াবিদদের সমর্থনও আকর্ষণ করে।

 

৩০ বছর বয়সি দিপকে, যিনি গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন, তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে কথিত অনিয়মের পর শিক্ষা খাতে সংস্কারের দাবিতে দিল্লির বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে জুনে ভারতে ফিরে আসেন। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি গত ২৮ জুন যন্তর-মন্তরে আমরণ অনশনে বসেন।

 

তবে ৫৯ বছর বয়সি ওয়াংচুককে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থার কথা উল্লেখ করে গত শনিবার পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সোমবার (২০ জুলাই) হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক হাতে লেখা নোটে ওয়াংচুক বলেন, সরকার যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় কথিত প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অন্যান্য ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে অথবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপি ও নেতারা যদি তাকে আশ্বাস দেন যে তারা পার্লামেন্টে এই বিষয়টি উত্থাপন করবেন, তবেই কেবল তার অনশন ভাঙবে।

রণক্ষেত্র দিল্লি, বন্ধ ইন্টারনেট

লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিযান থামাতে পারেনি দিল্লি পুলিশ। পুলিশের বাধা কাটিয়েই সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে যান বিক্ষোভকারীরা।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মিছিল এগিয়ে আসতেই নিরাপত্তার কারণে সংসদের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

খবরে বলা হয়, সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সদস্যরাসহ বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।

 

এই পরিস্থিতিতে সিজেপির সংসদ অভিযান নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল দিল্লি পুলিশ। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়া হয়। তার পরেও অবশ্য বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংসদ ভবনের দিকে এগোতে থাকেন।

 

বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। তাদের বাসে উঠিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সিজেপি নেতাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ।

 

সোমবার (২০ জুলাই) ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে লং মার্চের উদ্দেশ্যে যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অ্যাক্টিভিস্ট একত্রিত হন। আন্দোলনকারীদের পদযাত্রা রুখতে পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে দিল্লি পুলিশ। মোতায়েন করা হয় শত শত নিরাপত্তা কর্মী।

 

সকালে সেন্ট্রাল দিল্লির বিক্ষোভস্থল থেকে মিছিল নিয়ে তারা পার্লামেন্টের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। বেশকিছু স্থানে বসানো নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রায় ২০ হাজার মানুষ (যাদের অধিকাংশই ছাত্র-যুবক) সোমবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল।

 

এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পেশাদারত্বের সঙ্গে সামাল দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত মে মাসে ৩০ বছর বয়সি অভিজিৎ দীপকে নামে এক ব্যক্তি সিজেপি গঠন করেন, যা অতি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল, শিল্পী ও সুশীল সমাজের সমর্থন লাভ করে।

 

এর আগে গত শনিবার পুলিশ অনশনরত ৫৯ বছর বয়সি প্রখ্যাত জলবায়ু ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে যন্তর মন্তর থেকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায় আজ সোমবারের কর্মসূচিতে বাড়তি উত্তেজনা যোগ হয়।

বাধা পেরিয়ে সংসদ ভবনের কাছে ককরোচ পার্টির সদস্যরা, উত্তপ্ত দিল্লি

দেশের প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা কার্যকর, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

সোমবার (২০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

বৈঠকে, কর্মসূচির অগ্রগতি এবং দেশব্যাপী সম্প্রসারণের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া, ধাপে ধাপে সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিস্তারের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

এছাড়া তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের স্কুলছাত্রী মরিয়মকে (১০) ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

 

সোমবার (২০ জুলাই) শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চুয়াডাঙ্গার বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোক্তাগীর আলম আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

 

আসামি আবুল হোসেনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী গয়েশপুর গ্রামে। আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর গোয়ালপাড়া গ্রামের মরিয়ম খাতুন কয়েকজন শিশুকে সাথে নিয়ে মাঠে শাক তুলতে যায়। এ সময় শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে আসামী মরিয়মকে একটি ভুট্টাখেতের ভেতর নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ শেষে হত্যা করে।

 

এ ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্ত আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু আদালতের পিপি এমএম শাহজাহান মুকুল জানান, ‘৩১জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই রায় ঘোষণা করেন আদালত।’ আদালতের রায়ে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তষ্টি প্রকাশ করেন। এমন বিচার অব্যাহত থাকলে দেশে ধর্ষণ হত্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

নোয়ালীর সেনবাগে বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে গিয়ে ফুটবল খেলা দেখা ও দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর মো. আলাউদ্দিন ওরফে রায়হান (২৭) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার ভোরে উপজেলার কেশারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রায়হান ওই বাড়ির কুয়েতপ্রবাসী আব্দুল বারেকের ছেলে।

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রায়হান সৌদি আরবপ্রবাসী ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন তিনি। পাঁচ-ছয় মাস আগে বিয়ে করেন। রোববার দিবাগত রাতে স্থানীয় কানকিরহাট বাজারে বন্ধুদের সঙ্গে আর্জেন্টিনা-স্পেনের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে যান। খেলা শেষে ভোররাতে বাড়ি ফেরেন তিনি।

 

বাইরে গিয়ে খেলা দেখা ও দেরিতে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে স্ত্রী মারজাহান আক্তার মমতাজের (১৮) সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সোমবার সকালে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। তখন রায়হান স্ত্রীকে আত্মহত্যার হুমকি দেন। ঘর থেকে বের হয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর স্ত্রী আবার ফিরে আসেন এবং স্বামী রায়হানকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

সেনবাগ থানার ওসি আবদুর রহিম সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

 

বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ইমরান খান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে রায়হান আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

বন্ধুদের নিয়ে বাইরে ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, যুবকের আত্মহত্যা

ইউরো জয়ের দুই বছর পর এবার বিশ্বকাপও জিতে ফুটবলের নতুন পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা আরও শক্ত করলো স্পেন। শুধু পুরুষদেরই নয়, নারী ও বয়সভিত্তিক সব পর্যায় মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে ১৬টি আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছে লা রোজারা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন আর শক্তিশালী একাডেমি কাঠামোই স্পেনকে এনে দিয়েছে এই অবিশ্বাস্য সাফল্য।

 

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। এর আগে ২০২৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ২০১০ সালেও ইউরোর পর বিশ্বকাপ জয়ের একই কীর্তি গড়েছিল স্পেন।

পুরুষ ও নারী— উভয় ফুটবলে একই সময়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রথম দেশ এখন স্পেন। ২০২৩ সালে নারী বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার পুরুষ দলের বিশ্বকাপ শিরোপা সেই ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

 

শুধু সিনিয়র পর্যায় নয়, বয়সভিত্তিক দলগুলোর সাফল্যও চোখে পড়ার মতো। ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে স্পেন জিতেছে মোট ১৬টি ইউরোপীয় ও বিশ্ব শিরোপা।

 

নারী ফুটবলে এই সময়ে স্পেন জিতেছে— ২০২৩ নারী বিশ্বকাপ, ২০২৪ ও ২০২৫ নেশনস লিগ, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ২০২২, অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো টানা পাঁচবার (২০২২-২০২৬), অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ (২০২২) ও ইউরো (২০২৪)।

 

অন্যদিকে পুরুষ ফুটবলে জিতেছে— ২০২৬ বিশ্বকাপ, ২০২৪ ইউরো, ২০২৩ নেশনস লিগ, ২০২৪ অলিম্পিক স্বর্ণ এবং ২০২৬ এর অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো।

 

স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ গিলেম বালাগের ভাষায়, এটি শুধু একটি ভালো দলের সাফল্য নয়, বরং পুরো দেশের ফুটবল দর্শন ও পরিকল্পনার প্রতিফলন। তার মতে, স্পেনে সবাই একই ফুটবল দর্শনে বিশ্বাস করে। এ কারণেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে।

 

দেশটির নারী ফুটবলেও গত এক দশকে এসেছে আমূল পরিবর্তন। বার্সেলোনার সাবেক খেলোয়াড় মারিয়া গারিদো জানান, কয়েক বছর আগেও মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত একাডেমি, সুযোগ-সুবিধা কিংবা আর্থিক সহায়তা ছিল না। এখন উন্নত অবকাঠামো, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং পেশাদার পরিবেশ নারী ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

 

এই অর্জনগুলো দিয়ে শক্তিশালী ভবিষ্যতের বার্তা দিয়েছে স্পেন। দলটির হয়ে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বকাপজয়ী হয়েছেন লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি। এই দুই তরুণকে ঘিরে স্পেনের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, স্পেন এমন একটি ফুটবল দর্শন তৈরি করেছে, যার ধারেকাছেও এখন অন্য কোনো দল যেতে পারছে না।

 

আর ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি মনে করেন, স্পেনের এই আধিপত্য কাকতালীয় নয়। তার ভাষায়, তারা এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলেছে, যার ফল এখন প্রতিটি পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে। স্পেনের সাম্প্রতিক সাফল্য বলছে, বিশ্ব ফুটবলের নতুন মানদণ্ড এখন লা রোজাই।

পাঁচ বছরে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৬ শিরোপা, বিশ্ব ফুটবলে স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য

বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রিয় দলের হারে সাতক্ষীরায় আর্জেন্টিনা সমর্থকের মৃত্যু

 

 

মো: তুহিন হোসেন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

 

 

বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালে প্রিয় দল হেরে যাওয়ার শোকে সাতক্ষীরায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাফিজুর রহমান ওরফে লালটু (৩৫) নামে এক আর্জেন্টিনা সমর্থকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরা পৌর শহরের রসুলপুর এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত হাফিজুর রহমান লালটু উক্ত এলাকার মো. আনছার আলীর ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত লালটু ফুটবলের কট্টর ভক্ত এবং আর্জেন্টিনার একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। সদ্য সমাপ্ত টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচই তিনি বন্ধুদের সঙ্গে কদমতলা এলাকায় বড় পর্দায় উপভোগ করেছেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার ভোরেও কদমতলা এলাকায় বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল খেলা দেখতে যান তিনি। খেলা শুরুর আগে বন্ধুদের নিয়ে সেখানে নৈশভোজেরও আয়োজন করা হয়েছিল।

তবে খেলার শেষ বাঁশি বাজতেই ঘটে বিপত্তি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর প্রিয় দল আর্জেন্টিনা হেরে গেলে প্রচণ্ড মানসিক কষ্টে ভেঙে পড়েন লালটু। থমথমে মন নিয়ে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ তিনি তীব্র শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করেন। একপর্যায়ে স্বজনরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহতের নিকটাত্মীয় শেখ জাকির হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রিয় দলের পরাজয় লালটু মেনে নিতে পারেনি। খেলা শেষে মন খারাপ করে বাড়ি ফেরার পরই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যায় সে।”

এদিকে, প্রিয় দলের হার এবং তরতাজা তরুণ লালটুর এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পুরো রসুলপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রিয় দলের হারে সাতক্ষীরায় আর্জেন্টিনা সমর্থকের মৃত্যু

বিশ্বকাপে হারের পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে একই বিমানে ফিরছেন না লিওনেল স্কালোনির দলের সবাই। কয়েকজন ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাবেন। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিনিধিদলের একটি অংশ সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে বুয়েনস এইরেসে পৌঁছাবে।

 

বাংলাদেশ সময় তখন মঙ্গলবার রাত ২টা। সোমবার ভোরে নিউইয়র্ক থেকে ভাড়া করা বিমানে আর্জেন্টিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কথা প্রতিনিধিদলটির।

 

এক বিবৃতিতে ফেরার সময়সূচি জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটি জানিয়েছে, দলের কয়েকজন ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নিজ নিজ ক্লাবে যোগ দিতে অথবা ছুটি কাটাতে আলাদা গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হবেন। বাকি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোচিং স্টাফ ও দলের অন্য সদস্যরা দেশে ফিরবেন।

 

তবে কারা বুয়েনস এইরেসগামী বিমানে থাকবেন, সেই তালিকা প্রকাশ করেনি এএফএ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এবং সেখানকার ক্লাবে খেলার কারণে লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো দে পলের দেশে না ফেরার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও তাদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

 

পুরো দল একসঙ্গে দেশে না ফেরায় আপাতত কোনো শোভাযাত্রা বা আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার পরিকল্পনাও নেই। রানার্সআপ দলটি উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত নিলে সেই দিন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।

 

সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এএফএ বলেছে, বিশ্বকাপজুড়ে প্রতিটি শহর ও স্টেডিয়ামে আর্জেন্টাইনদের সমর্থন দলের শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও জাতীয় দল ও দেশের মানুষের সম্পর্ক যেকোনো ফলাফলের চেয়ে বড় বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

 

এএফএর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পতাকা, বার্তা, শোভাযাত্রা ও নিঃশর্ত ভালোবাসার মাধ্যমে সমর্থকেরা আবারও প্রমাণ করেছেন যে জাতীয় দল আর্জেন্টিনার মানুষের অমূল্য সম্পদ। আনন্দের সময়ের মতো কঠিন মুহূর্তেও পাশে থাকার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

 

রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে কোনো দল গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে শিরোপা জেতে স্পেন।

ভিন্ন পথে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা, জানা গেল দেশে ফেরার সময়

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে শুধু শিরোপাই হারায়নি আর্জেন্টিনা, গড়েছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ইতিহাসও। মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড পাওয়া দল এখন আর্জেন্টিনা।

 

নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবারসির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করেন এনজো। রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান, যা লাল কার্ডে রূপ নেয়। ফলে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

 

অতিরিক্ত সময়ে সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস। সেই একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জিতে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় স্পেন।

 

এনজোর এই লাল কার্ড বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসেও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ফাইনালে লাল কার্ড দেখা মাত্র ষষ্ঠ ফুটবলার। আর তার এই বহিষ্কারের ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের লাল কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনটিতে—যা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। এর আগে ১৯৯০ সালের ফাইনালে পেদ্রো মনসন ও গুস্তাভো দেসোত্তিও লাল কার্ড দেখেছিলেন।

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডে আর্জেন্টিনার লজ্জার রেকর্ড

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d