স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিককে নিয়ে ট্রেনের নি/চে ঝাঁ/প দিলেন ত/রুণী - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিককে নিয়ে ট্রেনের নি/চে ঝাঁ/প দিলেন ত/রুণী

স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিককে নিয়ে ট্রেনের নি/চে ঝাঁ/প দিলেন ত/রুণী

গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক প্রেমিক যুগলের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ইজ্জতপুর রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর আউটার সিগন্যাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলো মোছা. রিনা আক্তার (২৫) উপজেলার ৬ নং বরমী ইউনিয়নের পাইটালবাড়ি গ্রামের মো. সিদ্দিক মিয়ার কন্যা। ও প্রেমিক আল আমিন। প্রেমিকের বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। নিহত রিনা স্থানীয় আরবেলা ফ্যাশন কারখানার শ্রমিক ছিলেন। প্রেমিক আল আমিন স্থানীয় হ্যামস গার্মেন্টসের শ্রমিক ছিলেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা রত্না বেগম জানান, দুপুরের পর থেকে দুজন রেলপথ ধরে হাঁটাহাঁটি, গল্প ও খুনসুটি করছিলেন এবং দীর্ঘ সময় সেখানে বসে সময় কাটান। হঠাৎ সন্ধ্যার দিকে তাঁদের মৃত্যুর খবর পাই।

 

স্থানীয় বাসিন্দা লিপি বেগম বলেন, বিকাল ৫টার দিকে রেলপথে হাঁটাহাঁটি করার সময় দুজন ছেলে ডাকাডাকি করে জানায় সিগন্যালের পাশে দুজন মানুষের লাশ রেলপথে পড়ে আছে। এরপর আশপাশের লোকজন গিয়ে দুজনের মরদেহ দেখতে পায়।

 

নিহত রিনা আক্তারের ভাই সুমন বলেন, পূর্বের স্বামীর ঘর থেকে চলে এসে প্রেমিক আল আমিনকে বিয়ে করে বোন। বিয়ের পর থেকে তাদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নাই। কী কারণে আত্মহত্যা করছে তা বলতে পারবো না।

 

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম সিরাজী বলেন, বিকালের দিকে এক ছেলে এক মেয়ে ময়মনসিংহগামী কমিউটার আপ-ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়। এরপর ট্রেনের নিচে পড়ে তাদের মরদেহ অনেক দূর নিয়ে যায়। মরদেহের অংশ ছিঁড়ে ছিঁড়ে রেলপথের প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক জুড়ে পড়ে রয়েছে।

 

জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল এসে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। এবিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


তিনি বলেন, জুলাই সনদ এবং রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপি অনীহা দেখিয়েছে। তারা পূর্বতন সরকারগুলোর মতোই এগিয়ে যাচ্ছে।

 

আশা করা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কারের মাধ্যমে হবে। কিন্তু বিএনপি এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

 

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি সংস্কারের পথে হাঁটলে ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল মিলে এককভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া যেত; কিন্তু তারা সেটা করেনি। এ জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা

হয়েছে।

কর্নেল অলিকে কেন রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হলো, জানালেন নাহিদ ইসলাম

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে দলটি।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমিরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

বৈঠকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে রোববার (৯ আগস্ট) ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিরোধীদলের প্রার্থী দেয়ার বিষয়টি ১১ দলীয় ঐক্যের ওই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।

 

এছাড়া দেশের বিরাজমান সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার ইস্যু ও ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেবে জামায়াত

কুমিল্লার দেবিদ্বারে সকাল থেকে নিখোঁজ এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ টুকরা করে ১১টি পলিথিনের প্যাকেটে ভরে বস্তাবন্দী করে ঘরের পেছনে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লাইলী বেগম (৩৫) নামে এক ভাড়াটিয়াকে স্থানীয়রা আটক করে মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় দেবিদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত ফরিদা বেগম (৫৫) দেবিদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়াবাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার (৬৫) স্ত্রী। মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বেগম বাড়িতে একাই থাকতেন। বাড়ির একটি ঘর লাইলী আক্তারের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল।

 

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে মোহনা আবাসিক এলাকায় বাড়ি তৈরি করে সেখানে বসবাস শুরু করেন ফরিদা বেগম ও তার পরিবার। ফরিদার দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। শনিবার সকালে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

 

স্বজনেরা জানান, ডায়াবেটিসের কারণে ফরিদা বেগম প্রতিদিন হাঁটতে বের হতেন। তাই সকালে তাকে বাড়িতে না পেয়ে প্রথমে আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ আশপাশে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে এলাকায় মাইকিং করা হয়। স্বজনদের দাবি, নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি।

 

এর মধ্যে বিকেলে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পান। পরে সেগুলোর মধ্যে ফরিদার খণ্ডিত মরদেহ রয়েছে বলে শনাক্ত করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে মরদেহটি টুকরা করে ১১টি পলিথিনে প্যাকেট করা হয়। পরে প্যাকেটগুলো বস্তায় ভরে ঘরের পেছনে ফেলে রাখা হয়।

 

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ফরিদার বাসার ভাড়াটে লাইলী বেগমকে আটক করেন। তাকে মারধরের পর বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানেও বিক্ষুব্ধ লোকজন অবস্থান নেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিপুলসংখ্যক পুলিশ গিয়ে লাইলীকে থানায় নিয়ে যায়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, লাইলী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ফরিদা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ সময় তিনি তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমনসহ আরও কয়েকজনের নাম বলেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

 

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা বেগমের টুকরা করা মরদেহের কয়েকটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

ওসি আরও বলেন, আটক লাইলী বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকেও পুলিশ চেষ্টা করছে।

টুকরা করে ১১টি পলিথিনে ভরা হয়েছে নারীর লাশ, এখনো উদ্ধার হয়নি মাথা ও পা

ফেসবুকে ল্যাপটপ বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে যশোরে আসা এক যুবককে ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাদের আটক করা হয়।

 

আটকরা হলেন, যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার আলোচিত রাজা এবং তার দুই সহযোগী বৃষ্টি ও জারা।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নড়াইলের কালিয়া এলাকার এক যুবক ফেসবুকে ল্যাপটপ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞাপন দেখে রাজা ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ল্যাপটপটি কিনবেন জানিয়ে তাকে যশোরে আসতে বলেন। পরে ওই যুবক ল্যাপটপ নিয়ে যশোরে এলে রাজা তাকে একটি ঘরে নিয়ে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ।

 

সেখানে বৃষ্টি ও জারাকে ব্যবহার করে ওই যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তোলা হয়। পরে এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও ল্যাপটপ নিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা আদায় করা হয়। একপর্যায়ে যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার এসআই আল আমিন ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের একপর্যায়ে শনিবার রাতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে প্রথমে রাজাকে আটক করা হয়। পরে একই স্থান থেকে বৃষ্টি ও জারাকেও আটক করা হয়।

 

কোতোয়ালি থানার এসআই আল আমিন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক থানায় মামলা করবেন। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

পুলিশের দাবি, চক্রটি নারীদের ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলত। পরে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়া হতো। আটক তিনজনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে এবং এর আগেও তারা আটক হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যুবককে ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলে ভয়ভীতি দেখাতেন বৃষ্টি ও জারা

পাঁচ দিনের সফরে দক্ষিণ সুদান ও আবেই গেলেন সেনাপ্রধান

বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোকাহত লিওনেল মেসি যখন পরিবারের পাশে থাকতে আর্জেন্টিনায়, তখন মাঠে নেমে বন্ধুর পাশে দাঁড়ালেন রদ্রিগো দে পল। নিজের জার্সির নিচে মেসির ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলতে নেমেছিলেন ইন্টার মায়ামির এই আর্জেন্টাইন তারকা। গোল করেই সেই জার্সি প্রকাশ করেন এবং আবেগঘনভাবে মেসির প্রয়াত বাবাকে শ্রদ্ধা জানান।

 

শনিবারের দিনটি মেসি পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ইন্টার মায়ামির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে পরিবারের পাশে থাকতে রোজারিওতে ফিরে যান মেসি।

 

এ কারণে লিগস কাপের গ্রুপ পর্বে মনতেরের বিপক্ষে ম্যাচে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির অনুপস্থিতিতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হয় অন্যদের। সেই দায়িত্বের অন্যতম একজন ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু দে পল।

 

ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল ইন্টার মায়ামি। একপর্যায়ে বক্সের বাইরে থেকে বজ্রগতির এক শটে দারুণ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দে পল।

 

গোল করার পরই নিজের জার্সি খুলে ফেলেন তিনি। তখন প্রকাশ পায় আসল চমক। নিজের জার্সির নিচে তিনি পরে ছিলেন মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি। গোল করার পর সেই জার্সি দেখিয়ে মেসি ও তাঁর পরিবারের প্রতি ভালোবাসা ও সমবেদনা জানান দে পল।

 

মেসির কঠিন সময়ে তাঁর পাশে থাকার এটি ছিল দে পলের আবেগঘন এক বার্তা। মাঠের বাইরেও দুজনের বন্ধুত্ব বেশ গভীর। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে শুরু করে ইন্টার মায়ামি—দুই জায়গাতেই মেসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে দে পলের।

 

মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও জার্মান বেরতেরামে না থাকায় মনতেরের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির জন্য ম্যাচটি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ৩২ বছর বয়সী দে পল সামনে থেকে দায়িত্ব নেন। গোল করে দলকে যেমন এগিয়ে দেন, তেমনি বন্ধুর পরিবারের কঠিন সময়েও পাশে থাকার বার্তা দেন।

 

মেসির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর ফুটবল বিশ্বের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। দে পলের এই শ্রদ্ধা যেন সেই শোকের মধ্যেই বন্ধুত্বের আরেকটি গভীর উদাহরণ হয়ে থাকল।

 

মেসি যখন রোজারিওতে বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে পরিবারের সঙ্গে, তখন তাঁর হয়ে মাঠে লড়লেন দে পল। আর গোলের পর মেসির ১০ নম্বর জার্সি দেখিয়ে জানিয়ে দিলেন—কঠিন সময়ে বন্ধুকে তিনি একা হতে দেবেন না।

মেসির জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন দে পল, গোল করে উৎসর্গ করলেন মেসির প্রয়াত বাবাকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বর দুপুর ১২টা থেকে অনলাইনে ভর্তি আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ১০ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। পাঁচটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে।

 

আজ রবিবার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে একাডেমিক কাউন্সিলের ৮০তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্যের অফিস কনফারেন্স রুমে বিশেষ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এবারও ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা পাঁচটি ইউনিটে অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞান ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদভুক্ত ইউনিট-A, কলা ও আইন অনুষদভুক্ত ইউনিট-B, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ইউনিট-C, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ইউনিট-D এবং চারুকলা অনুষদভুক্ত ইউনিট-E-এর মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

 

সব ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা হবে MCQ পদ্ধতিতে। এবার সব ইউনিটের পরীক্ষা বিভাগীয় শহর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

 

ইউনিট-A-এর পরীক্ষা হবে ১ জানুয়ারি ২০২৭ (শুক্রবার)। ইউনিট-E-এর পরীক্ষা হবে ৮ জানুয়ারি (শুক্রবার)। ইউনিট-B-এর পরীক্ষা হবে ১৫ জানুয়ারি (শুক্রবার)। ইউনিট-C-এর পরীক্ষা হবে ২২ জানুয়ারি (শুক্রবার)। সর্বশেষ ইউনিট-D-এর পরীক্ষা হবে ২৩ জানুয়ারি (শনিবার)।

 

ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের ২০২৩ অথবা ২০২৪ সালে এসএসসি বা সমমান এবং ২০২৬ সালে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

 

বিজ্ঞান ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদভুক্ত ইউনিট-A-এ আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৭.০০ থাকতে হবে। তবে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৩.০০-এর কম হলে আবেদন করা যাবে না।

 

কলা ও আইন অনুষদভুক্ত ইউনিট-B-এর জন্য দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.০০ থাকতে হবে। কোনো একটি পরীক্ষায় জিপিএ ২.৭৫-এর কম হলে আবেদন করা যাবে না।

 

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ইউনিট-C-এর ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.৫০ থাকতে হবে। কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৩.০০-এর কম হলেও আবেদনযোগ্যতা থাকবে না।সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ইউনিট-D-এর জন্য দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.০০ থাকতে হবে। কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ২.৭৫-এর কম হওয়া যাবে না।

 

চারুকলা অনুষদভুক্ত ইউনিট-E-তে আবেদনের জন্য দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৫.৫০ থাকতে হবে। কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ২.৫০-এর কম হলে আবেদন করা যাবে না। ভর্তি কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি এবং ইউনিটভিত্তিক ভর্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৪ এপ্রিল ২০২৭ থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনলাইন আবেদন, ভর্তি পরীক্ষা এবং পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বহিঃসদস্য এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন।

জবির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ, আবেদন শুরু ১৫ নভেম্বর

দেশে প্রাইভেট টিউশন মহামারি আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, অতিরিক্ত প্রাইভেট নির্ভরতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই বিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পাঠদান ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

 

রোববার (৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে। এ জন্য প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা, কর্মমুখী শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পরও অনেক শিক্ষার্থী মৌলিক বিষয়গুলো ঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারছে না বলে অভিযোগ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধাপে ধাপে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

একই সঙ্গে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলাকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

দেশে প্রাইভেট টিউশন মহামারি আকার ধারণ করেছে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

তিনি বলেন, জুলাই সনদ এবং রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপি অনীহা দেখিয়েছে। তারা পূর্বতন সরকারগুলোর মতোই এগিয়ে যাচ্ছে।

 

আশা করা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কারের মাধ্যমে হবে। কিন্তু বিএনপি এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

 

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি সংস্কারের পথে হাঁটলে ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল মিলে এককভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া যেত; কিন্তু তারা সেটা করেনি। এ জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা

হয়েছে।

কর্নেল অলিকে কেন রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হলো, জানালেন নাহিদ ইসলাম

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে দলটি।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমিরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

বৈঠকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে রোববার (৯ আগস্ট) ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিরোধীদলের প্রার্থী দেয়ার বিষয়টি ১১ দলীয় ঐক্যের ওই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।

 

এছাড়া দেশের বিরাজমান সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার ইস্যু ও ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেবে জামায়াত

কুমিল্লার দেবিদ্বারে সকাল থেকে নিখোঁজ এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ টুকরা করে ১১টি পলিথিনের প্যাকেটে ভরে বস্তাবন্দী করে ঘরের পেছনে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লাইলী বেগম (৩৫) নামে এক ভাড়াটিয়াকে স্থানীয়রা আটক করে মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

 

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় দেবিদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত ফরিদা বেগম (৫৫) দেবিদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়াবাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার (৬৫) স্ত্রী। মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বেগম বাড়িতে একাই থাকতেন। বাড়ির একটি ঘর লাইলী আক্তারের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল।

 

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে মোহনা আবাসিক এলাকায় বাড়ি তৈরি করে সেখানে বসবাস শুরু করেন ফরিদা বেগম ও তার পরিবার। ফরিদার দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। শনিবার সকালে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

 

স্বজনেরা জানান, ডায়াবেটিসের কারণে ফরিদা বেগম প্রতিদিন হাঁটতে বের হতেন। তাই সকালে তাকে বাড়িতে না পেয়ে প্রথমে আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ আশপাশে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে এলাকায় মাইকিং করা হয়। স্বজনদের দাবি, নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি।

 

এর মধ্যে বিকেলে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পান। পরে সেগুলোর মধ্যে ফরিদার খণ্ডিত মরদেহ রয়েছে বলে শনাক্ত করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে মরদেহটি টুকরা করে ১১টি পলিথিনে প্যাকেট করা হয়। পরে প্যাকেটগুলো বস্তায় ভরে ঘরের পেছনে ফেলে রাখা হয়।

 

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ফরিদার বাসার ভাড়াটে লাইলী বেগমকে আটক করেন। তাকে মারধরের পর বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানেও বিক্ষুব্ধ লোকজন অবস্থান নেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিপুলসংখ্যক পুলিশ গিয়ে লাইলীকে থানায় নিয়ে যায়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, লাইলী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ফরিদা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ সময় তিনি তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমনসহ আরও কয়েকজনের নাম বলেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

 

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা বেগমের টুকরা করা মরদেহের কয়েকটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

ওসি আরও বলেন, আটক লাইলী বেগমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকেও পুলিশ চেষ্টা করছে।

টুকরা করে ১১টি পলিথিনে ভরা হয়েছে নারীর লাশ, এখনো উদ্ধার হয়নি মাথা ও পা

গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক প্রেমিক যুগলের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ইজ্জতপুর রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর আউটার সিগন্যাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলো মোছা. রিনা আক্তার (২৫) উপজেলার ৬ নং বরমী ইউনিয়নের পাইটালবাড়ি গ্রামের মো. সিদ্দিক মিয়ার কন্যা। ও প্রেমিক আল আমিন। প্রেমিকের বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। নিহত রিনা স্থানীয় আরবেলা ফ্যাশন কারখানার শ্রমিক ছিলেন। প্রেমিক আল আমিন স্থানীয় হ্যামস গার্মেন্টসের শ্রমিক ছিলেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা রত্না বেগম জানান, দুপুরের পর থেকে দুজন রেলপথ ধরে হাঁটাহাঁটি, গল্প ও খুনসুটি করছিলেন এবং দীর্ঘ সময় সেখানে বসে সময় কাটান। হঠাৎ সন্ধ্যার দিকে তাঁদের মৃত্যুর খবর পাই।

 

স্থানীয় বাসিন্দা লিপি বেগম বলেন, বিকাল ৫টার দিকে রেলপথে হাঁটাহাঁটি করার সময় দুজন ছেলে ডাকাডাকি করে জানায় সিগন্যালের পাশে দুজন মানুষের লাশ রেলপথে পড়ে আছে। এরপর আশপাশের লোকজন গিয়ে দুজনের মরদেহ দেখতে পায়।

 

নিহত রিনা আক্তারের ভাই সুমন বলেন, পূর্বের স্বামীর ঘর থেকে চলে এসে প্রেমিক আল আমিনকে বিয়ে করে বোন। বিয়ের পর থেকে তাদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নাই। কী কারণে আত্মহত্যা করছে তা বলতে পারবো না।

 

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম সিরাজী বলেন, বিকালের দিকে এক ছেলে এক মেয়ে ময়মনসিংহগামী কমিউটার আপ-ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়। এরপর ট্রেনের নিচে পড়ে তাদের মরদেহ অনেক দূর নিয়ে যায়। মরদেহের অংশ ছিঁড়ে ছিঁড়ে রেলপথের প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক জুড়ে পড়ে রয়েছে।

 

জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল এসে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। এবিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিককে নিয়ে ট্রেনের নি/চে ঝাঁ/প দিলেন ত/রুণী

ফেসবুকে ল্যাপটপ বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে যশোরে আসা এক যুবককে ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাদের আটক করা হয়।

 

আটকরা হলেন, যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার আলোচিত রাজা এবং তার দুই সহযোগী বৃষ্টি ও জারা।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নড়াইলের কালিয়া এলাকার এক যুবক ফেসবুকে ল্যাপটপ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞাপন দেখে রাজা ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ল্যাপটপটি কিনবেন জানিয়ে তাকে যশোরে আসতে বলেন। পরে ওই যুবক ল্যাপটপ নিয়ে যশোরে এলে রাজা তাকে একটি ঘরে নিয়ে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ।

 

সেখানে বৃষ্টি ও জারাকে ব্যবহার করে ওই যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তোলা হয়। পরে এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও ল্যাপটপ নিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা আদায় করা হয়। একপর্যায়ে যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার এসআই আল আমিন ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের একপর্যায়ে শনিবার রাতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে প্রথমে রাজাকে আটক করা হয়। পরে একই স্থান থেকে বৃষ্টি ও জারাকেও আটক করা হয়।

 

কোতোয়ালি থানার এসআই আল আমিন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক থানায় মামলা করবেন। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

পুলিশের দাবি, চক্রটি নারীদের ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলত। পরে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়া হতো। আটক তিনজনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে এবং এর আগেও তারা আটক হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যুবককে ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলে ভয়ভীতি দেখাতেন বৃষ্টি ও জারা

পাঁচ দিনের সফরে দক্ষিণ সুদান ও আবেই গেলেন সেনাপ্রধান

শ্রমিক ছাটাই নির্যাতন বন্ধ করে,ছাটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল,বন্ধকৃত কারখানা চালু , হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের দাবী করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

০৮ই আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখ রোজ শনিবার,বেলা ১১.০০ ঘটিকায় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় সভাপতি , বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মোঃ রফিকুল ইসলাম সুজন।সভায় বক্তব্য রাখেন সুমাইয়া ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক,বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, মোঃ আবু কালাম ,সহ সাধারন সম্পাদক,বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, শিক্ষা ও সমাজ কল্যান সম্পাদক, রাশিদা আক্তার,বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাভার আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি মোঃ আলী আকবর খান,সাজিয়া রহমান, মাহমুদা হোসেন মিলি , হাসিনা খানম প্রমুখ।

 

সভায় সভাপতির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন পোশাক শিল্পের সংকট সমাধানে গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকটের কারনে শ্রমিক ছাটাই, কর্মচ্যুত বেড়েই চলছে। মালিক -শ্রমিক উভয়েই হতাশ। উক্ত সমস্যার সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন,দ্রব্যমুল্যের উর্দ্ধোগতি,শ্রমিক- কর্মচারীর ক্রয় ক্ষমতার নাগালের বাহিরে। অবিলম্বে দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রন, শ্রমিকদের মাঝে ব্যপক অসন্তোষ বিরাজমান করছে। অবিলম্বে মজুরী বোর্ড গঠন করে শ্রমিকদের পূর্ণমজুরী নির্ধারন এর দাবি, শ্রমিক – কর্মচারীদের বকেয়া বেতন -ভাতা, ছাটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুর্নবহাল, হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

তিনি আরো বলেন সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত এ্যালিয়েন্স নীট কম্পোজিট লিঃ এর বে আইনীভাবে ৫৬৫ জন ছাটাইকৃত শ্রমিকদের অবিলম্বে কাজে পুর্নবহালের দাবি করেন,বকেয় বেতন ,ভাতা পরিশোধ করতে হবে এবং বেক নীট লিঃ,তান্যাম ডিজাইন লিঃ (লুসাকা গ্রুপ), এর ১৪০ জন শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্তর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার পূর্বক কাজে পুর্নবহালের দাবী জানাই।

 

তিনি আরো বলেন গাজীপুরে লিথী গ্রুপের ০৫টি কারখানার ৩৫০০জন শ্রমিককে সমস্যা সমাধানের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাই। ম্যাক্সন্স স্পিনিং মিলস, ত্রিপক্ষীয় চুক্তি মোতাবেক বন্ধ কারখানা চালু, হয়রানী মুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বকেয়া বেতন -ভাতা পরিশোধ না করা হলে শ্রমিক – কর্মচারীগন বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে। প্রাইড গ্রুপ,রিজাইনকৃত ও ছাটাইকৃত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন – ভাতা পরিশোধ করতে হবে।,বেক্সিমকো গ্রুপ বন্ধ কারখানা চালু কর, বকেয়া বেতন – ভাতা পরিশোধ কর,

 

বক্তারা বলেন বেলকুচি নীটিং এন্ড ডায়িং, সহ সকল কারখানার শ্রমিক – কর্মচারীদের সকল বকেয়া বেতন -ভাতা পরিশোধ, শ্রমিকদের রেশনিং চালু, শ্রমিক ছাটাই- নির্যাতন,বিভিন্ন শিল্প অঞ্চলের চলমান শ্রম অসন্তোষ দ্রুত নিরসন,মামলা- হামলা বন্ধ,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক কর্মচারীদের নামে হয়রানী মুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবী জানান।দাবী বাস্তবায়ন না হলে যে প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিক -কর্মচারীদের বকেয়া বেতন- ভাতা পরিশোধ না করেন বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।

শ্রমিক ছাটাই নির্যাতন বন্ধ করে,ছাটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল,বন্ধকৃত কারখানা চালু , হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের দাবী করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন

বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোকাহত লিওনেল মেসি যখন পরিবারের পাশে থাকতে আর্জেন্টিনায়, তখন মাঠে নেমে বন্ধুর পাশে দাঁড়ালেন রদ্রিগো দে পল। নিজের জার্সির নিচে মেসির ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলতে নেমেছিলেন ইন্টার মায়ামির এই আর্জেন্টাইন তারকা। গোল করেই সেই জার্সি প্রকাশ করেন এবং আবেগঘনভাবে মেসির প্রয়াত বাবাকে শ্রদ্ধা জানান।

 

শনিবারের দিনটি মেসি পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ইন্টার মায়ামির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে পরিবারের পাশে থাকতে রোজারিওতে ফিরে যান মেসি।

 

এ কারণে লিগস কাপের গ্রুপ পর্বে মনতেরের বিপক্ষে ম্যাচে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির অনুপস্থিতিতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হয় অন্যদের। সেই দায়িত্বের অন্যতম একজন ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু দে পল।

 

ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল ইন্টার মায়ামি। একপর্যায়ে বক্সের বাইরে থেকে বজ্রগতির এক শটে দারুণ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দে পল।

 

গোল করার পরই নিজের জার্সি খুলে ফেলেন তিনি। তখন প্রকাশ পায় আসল চমক। নিজের জার্সির নিচে তিনি পরে ছিলেন মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি। গোল করার পর সেই জার্সি দেখিয়ে মেসি ও তাঁর পরিবারের প্রতি ভালোবাসা ও সমবেদনা জানান দে পল।

 

মেসির কঠিন সময়ে তাঁর পাশে থাকার এটি ছিল দে পলের আবেগঘন এক বার্তা। মাঠের বাইরেও দুজনের বন্ধুত্ব বেশ গভীর। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে শুরু করে ইন্টার মায়ামি—দুই জায়গাতেই মেসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে দে পলের।

 

মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও জার্মান বেরতেরামে না থাকায় মনতেরের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির জন্য ম্যাচটি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ৩২ বছর বয়সী দে পল সামনে থেকে দায়িত্ব নেন। গোল করে দলকে যেমন এগিয়ে দেন, তেমনি বন্ধুর পরিবারের কঠিন সময়েও পাশে থাকার বার্তা দেন।

 

মেসির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর ফুটবল বিশ্বের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। দে পলের এই শ্রদ্ধা যেন সেই শোকের মধ্যেই বন্ধুত্বের আরেকটি গভীর উদাহরণ হয়ে থাকল।

 

মেসি যখন রোজারিওতে বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে পরিবারের সঙ্গে, তখন তাঁর হয়ে মাঠে লড়লেন দে পল। আর গোলের পর মেসির ১০ নম্বর জার্সি দেখিয়ে জানিয়ে দিলেন—কঠিন সময়ে বন্ধুকে তিনি একা হতে দেবেন না।

মেসির জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন দে পল, গোল করে উৎসর্গ করলেন মেসির প্রয়াত বাবাকে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d