
চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম কারাগারে
সংবাদদাতা : ইয়াছিন মোড়ল
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের নেতা হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমবার (১০ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তারা। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদীপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সিরাজুল ইসলাম এবং আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার। তারা আদালতে বলেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা জামিনে বাইরে থাকলে সরকারি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবু বক্কর ও সৈয়দ ইফতেখার আলী।
এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ মণ্ডল ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সোমবার তারা সাতক্ষীরা আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জাল উদ্দিন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। মামলায় তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের কাছে চাঁদা দাবি এবং নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। একই সঙ্গে কাজ চালিয়ে গেলে প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর ২৩ মে দুপুরে হাজী মো. নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তাকে বাধা দিতে গিয়ে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসও মারধরের শিকার হন।
এ সময় প্রকৌশলী জাহিদ হাসানের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন মামলার বাদী।
হামলায় আহত প্রকৌশলী জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে পরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে মামলার প্রধান আসামি হাজী মো. নজরুল ইসলাম শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, তাকে জড়িয়ে করা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
হামলার সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেছেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম।
Leave a Reply