
সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করছেন অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তিনি পদত্যাগপত্র পাঠাবেন।
পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি আজ পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।
গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর পিএসসির তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের অন্য সদস্যরা পদত্যাগ করেন। এরপর ৯ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শকে হত্যার ঘটনায় মোহাম্মদ আজাদ নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আজাদ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মো. কবির হোসেনের ছেলে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী তানিয়া বেগমের সঙ্গে আজাদের পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এ নিয়ে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই দিবাগত রাতে আজাদ তার স্ত্রী তানিয়া বেগমের হাত-পায়ে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে শক দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তানিয়ার মৃত্যু হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। নিহত তানিয়া বেগম তিন সন্তানের জননী ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা মায়া বেগম বাদী হয়ে তার জামাতা মোহাম্মদ আজাদকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পাশাপাশি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে তানিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হয়।
পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত মঙ্গলবার মোহাম্মদ আজাদকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. এনামুল হক সরকার বলেন, আদালতে বাদী পক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তারা দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান।

পড়ার টেবিল নেই। কখনো বিছানায়, কখনো মায়ের সেলাই মেশিনের ওপর বই রেখে পড়তে হয়েছে। বাড়িতে যাওয়ার জন্য নেই কোনো পাকা রাস্তা। অন্যের লিচুবাগানের ভেতর দিয়ে সরু পথ পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় টিনের ছাপড়া ঘরে। অভাবের সংসারের এসব সীমাবদ্ধতা থামাতে পারেনি সাদিয়া আফরিনকে। সব পিছুটান ছাপিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।
সাদিয়ার বাড়ি দিনাজপুর সদর উপজেলার মাসিমপুর সরকারপাড়া এলাকায়। বাবা মো. সেলিম একজন চালকল শ্রমিক। মা আরফা বেগম ঘর-গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি বাড়িতে সেলাই কাজ করেন। সেলিম-আরফা দম্পতির তিন মেয়ের মধ্যে সাদিয়া বড়। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ায় পরিবার ও গ্রামজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।
তবে সাদিয়ার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক বছর ধরে প্রতি বুধবারের এক বিশেষ পাঠশালা। সেই পাঠশালার শিক্ষক ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম।
সীমিত আয়ে সংসার চালানোর পর মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছিল সেলিম-আরফা দম্পতির। গত বছরের জুলাইয়ে মেয়ের পড়াশোনার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন আরফা বেগম। এক সপ্তাহ পর মেয়েকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এ সময় জেলা প্রশাসক তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং পড়াশোনা নিয়ে সাদিয়াকে নানা প্রশ্ন করেন। সেদিন বেশির ভাগ প্রশ্নের উত্তর ঠিকঠাক দিতে না পারলেও সেখান থেকেই সাদিয়ার জীবনের নতুন অধ্যায়ের শুরু।
জেলা প্রশাসক শুধু আর্থিক সহায়তার আশ্বাসই দেননি, পড়াশোনার কৌশলও বুঝিয়ে দেন। সাত দিনের পড়া ঠিক করে দিয়ে প্রতি বুধবার গণশুনানির দিন সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে পড়া দিতে বলেন। ঠিক করে দেন প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিনও। চার মাস পর আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরের মাসেই সাদিয়াকে ৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তবে অর্থের সেই সহায়তার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে নিয়মিত পড়াশোনার তদারকি।
এরপর শুরু হয় সাদিয়ার বুধবারের যাত্রা। সপ্তাহের সাত দিনের পড়া নিয়ে সে হাজির হতো দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। পড়া দিত, ভুল হলে সংশোধন করত, নতুন পড়া নিয়ে বাড়ি ফিরত। এভাবে এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ করে কেটে যায় মাস। কেটে যায় পুরো একটি বছর। প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে পড়া দেওয়া এবং নতুন পড়া নিয়ে বাড়ি ফেরা সাদিয়ার জীবনের নিয়মিত অংশ হয়ে ওঠে।
জেলা প্রশাসক সাদিয়ার বিদ্যালয় দিনাজপুর সদর উপজেলার কাদের বকস মেমোরিয়াল হাই স্কুল পরিদর্শনে গিয়েও তার খোঁজ নিতেন। ওই বিদ্যালয়সহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে জেলা প্রশাসকের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করার ঘটনাও রয়েছে।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল তালিকায় সাদিয়ার রোল নম্বরের পাশে জিপিএ-৫ দেখে আনন্দে ভরে ওঠে সেলিম-আরফা দম্পতির ঘর। পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি সাদিয়াকে অভিনন্দন জানান এবং মিষ্টিমুখ করান। এক বছর ধরে প্রতি বুধবার যে মেয়েটি পড়া দিতে তার কাছে যেত, সেই মেয়েটির হাতে এবার ছিল সাফল্যের খবর।
সম্প্রতি সাদিয়াদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র দুই শতক জমির ওপর টিনের ছাপড়া ঘর। ঘরের মাঝখানে দেওয়া একটি বেড়া পুরো ঘরটিকে দুই ভাগ করেছে। এক পাশে সাদিয়ার বাবা-মা ও ছোট বোনের ঘুমানোর জায়গা। অন্য পাশে সাদিয়া ও তার মেঝ বোনের থাকার জায়গা। একটি আলমারির ওপর সাজানো সাদিয়ার বইপত্র। ঘরের পাশেই ছোট্ট একটি রান্নাঘর। রান্নাঘরের টিনের চালে লকলকে লতার ফাঁকে ঝুলছে চালকুমড়া।
সাদিয়ার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকসেদ আলী বলেন, এবার বিদ্যালয় থেকে ৪৩ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ২২ জন পাশ করেছে। একমাত্র সাদিয়া আফরিনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। জেলা প্রশাসক স্যার প্রায় সময়ই আমাদের স্কুলে আসেন, ক্লাসও নেন। সাদিয়াকে নিজের মেয়ের মতো দেখতেন, পড়াতেন। তার ভালো ফলাফলে আমরা আনন্দিত।
সাদিয়ার মা আরফা বেগম বলেন, নিজে পড়ালেখা করতে পারিনি। কষ্ট করে মেয়েদের পড়ালেখা করাচ্ছি। মেয়ের বই কেনার জন্য আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে ডিসি স্যারের কাছে আবেদন করেছিলাম। স্যার আমাদের সহযোগিতা করেছেন। শুধু অর্থ দিয়ে নয়, মেয়েকে নিয়মিত পড়া দিয়েছেন, পড়া নিয়েছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন। আজকে মেয়েটা ভালো রেজাল্ট করেছে। অনেকেই খোঁজখবর নিচ্ছে, এটা অনেক আনন্দের।
মেয়ের সাফল্যে খুশি বাবা মো. সেলিমও। তবে আনন্দের পাশাপাশি তার কণ্ঠে আছে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা। তিনি বলেন, ডিসি স্যার আমার মেয়ের নিয়মিত খোঁজ রেখেছেন, তাকে সহায়তা করেছেন। মেয়েটাকে একটা পড়ার টেবিল পর্যন্ত কিনে দিতে পারিনি। হয় বিছানায়, নয়তো ওর মায়ের সেলাই মেশিনের ওপর বই রেখেই পড়ালেখা করেছে। মেয়ে অনেক দূর পর্যন্ত পড়ালেখা করতে চায়। জানি না কতদূর পর্যন্ত পড়াতে পারব।
পড়ালেখা শেষ করে সরকারি চাকরি করার প্রত্যাশা সাদিয়ার। মা-বাবার অভাবের সংসার হলেও স্বপ্ন দেখতে ছাড়েনি সে। সাদিয়া বলে, ডিসি স্যারের কাছে পড়া দিতে প্রথমদিকে ভয় পেতাম। কিন্তু পড়াগুলো নিয়মিত করতাম। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি স্যার অনেক সাহস দিয়েছেন।
সাদিয়ার বিষয়ে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম হাবিবুল হাসান বলেন, স্যার ব্যস্ততার ফাঁকে নিয়মিত স্কুল পরিদর্শন করেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে সাদিয়াকে অর্থ সহায়তার পাশাপাশি পড়ালেখার একটি রুটিন ঠিক করে দিয়েছিলেন। সে বিষয়গুলো মেনে চলেছে।
তিনি বলেন, গত দেড় বছরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৪০০ দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি তার মায়ের সঙ্গে এসেছিল। বই কেনার জন্য কিছু টাকার জন্য আবেদন করেছিল। প্রথম দিন কথা বলে বুঝেছিলাম, ওর মধ্যে বেশ আগ্রহ আছে। তারপর ওকে একটা চ্যালেঞ্জ দিলাম। ও সত্যি সত্যি রুটিন মেনে হোমওয়ার্কগুলো করেছে।
তিনি বলেন, এমন হাজারো সাদিয়া রয়েছে আমাদের চারপাশে, যারা লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ-কলমও পায় না। দিনাজপুরের বেশ কিছু স্কুল ঘুরছি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। গত দেড় বছরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।

অপরাধ দমনে পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি, গাইবান্ধায় সম্মাননা পেলেন ডিবি ওস
শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা, মাদক উদ্ধার, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানসহ অপরাধ দমনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকারকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন ডিবি ওসি আব্দুল মোত্তালিব সরকারের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের গ্রেফতার, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এসব কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ডিবি ওসিকে এ বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মেয়ের বিয়ের কেনাকাটা করতে শহরে এসে হারিয়ে ফেলেছিলেন ৫০ হাজার টাকা। সেই টাকা ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের তাজুল ইসলাম।
এদিকে সড়কে পড়ে থাকা টাকাভর্তি ব্যাগটি কুড়িয়ে নিয়ে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য।
রোববার বিকালে জেলা শহরের কাউতুলি এলাকায় তথ্য-প্রমাণ যাচাই শেষে তাজুল ইসলামের হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেয়ের বিয়ের কেনাকাটার জন্য রসুলপুর গ্রাম থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতুলি মোড়ে আসেন তাজুল ইসলাম। অটোরিকশা থেকে নেমে ভাড়া পরিশোধের সময় অসাবধানতাবশত তার সঙ্গে থাকা টাকাভর্তি একটি ব্যাগ সড়কে পড়ে যায়। ব্যাগে ছিল মেয়ের বিয়ের বাজারের জন্য রাখা ৫০ হাজার টাকা।
এ সময় দায়িত্ব পালনরত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই নুরুল আমিন সড়কে পড়ে থাকা ব্যাগটি দেখতে পান। পরে ব্যাগটি খুলে ভেতরে নগদ ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পাশাপাশি টাকার প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেয় পুলিশ।
এদিকে টাকা হারানোর পর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাজুল ইসলাম। পরে তার দেওয়া তথ্য ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, তিনিই টাকার প্রকৃত মালিক। এরপর তার হাতে পুরো ৫০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
টাকা ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত তাজুল ইসলাম বলেন, মাইয়ার বিয়ার বাজার করার লাইজ্ঞা গেরাম থেইক্কা শহরে আইছিলাম। পরে দেহি আমার সব টেহা হাড়াই গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে জানতে পারলাম এক পুলিশ অফিসার আমার টাকাগুলো পেয়েছেন। প্রমাণ দেওয়ার পর তারা আমারে টেহা বুঝাইয়া দিছে। দুনিয়াতে এখনও সৎমানুষ আছে। যার কারণে আমি বড় বিপদ থেইক্কা উদ্ধার অইছি। নাইলে মাইয়ার বিয়া দিতে অনেক কষ্ট হইত।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মো. রাসেলুর রহমান বলেন, তাজুল ইসলাম টাকা হারানোর বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তার দেওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করে নগদ ৫০ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরায় পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার: ‘টেমি’ হাফিজ ও মাছুরাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, চুরি-ডাকাতির আতঙ্কে জনজীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মাননীয় ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি)সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের সুনাম ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত ভিডিও বক্তব্য ও সংবাদকে পরিকল্পিত অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সচেতন মহল ও স্থানীয়দের দাবি, মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে ভিডিও তৈরি করে এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ফেসবুকে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুযোগ তৈরি করতে চাইছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। চুরি-ডাকাতির আশঙ্কায় জনজীবনে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
আইজিপিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিতুন, ডি-১ হাফিজুর রহমান, ডিবির অফিসার ইনচার্জ মো. নিজামুদ্দিন, কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাফিজুর রহমান, কালিগঞ্জ থানার এসআই কামাল হোসেন, এসআই সুদীপ, এসআই পিংকু, এএসআই রফিকসহ ৭/৮ জন পুলিশ সদস্য তাঁকে ডেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এসআই কামাল হোসেন ও এসআই সুদীপ মহিলা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে তাঁর ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালান। এ সময় তাঁর বৈধভাবে ক্রয়কৃত একটি OPPO মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং তাঁকে আটক করে মিথ্যা মামলায় চালান করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা অবৈধ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তাঁকে হয়রানি, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং জেলার আলোচিত মাদক, অস্ত্র ও ডাকাত চক্রের সদস্য ইয়ার আলী, বাহার আলী, রেজাউ ও রফিকুলের সহযোগী হিসেবে পরিচিত একাধিক মামলার আসাম ‘টেমি’ হাফিজুর রহমান (৪৮), পিতা: মৃত এলাইবাক্স গাজী, সাং: বাজারগ্রাম, থানা: কালিগঞ্জ অভিযোগ লিখে নিজে স্বাক্ষরে দাখিল করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর সহযোগী হিসেবে পরিচিত জেলার আলোচিত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ব্ল্যাকমেইলার ‘লেডি ডাকাত’ মোছা. মাছুরা বেগম (৩৫), স্বামী: ছুবাহান (কুখ্যাত চোর), পিতা: আবু বক্কার সিদ্দীক গাজী, সাং: চন্ডিপুর, থানা: শ্যামনগর, বর্তমান ঠিকানা: মঞ্জিতপুর, থানা ও জেলা: সাতক্ষীরা কে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
ওই অভিযোগে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী এস. এম. নাসির উদ্দীনকেও জড়ানো হয়েছে। অভিযোগের জবাবে বলা হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত নন। সততা, সুনাম, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংবাদিকতা এবং বৈধ ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মাদক, চোরাচালান, সংঘবদ্ধ চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্যগত সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। এ কারণেই স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং নিজেদের বিরুদ্ধে চলমান আইনগত প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা, পুলিশকে হয়রানি করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেই এ ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে।
তাঁদের আরও দাবি, টেমি হাফিজ, মাছুরা খাতুন, ইয়াবা ব্যবসায়ী তানভীর এবং তাঁদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ড আড়াল করতেই দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই রাতে সশস্ত্র ডাকাত দল মধুসূদন কর্মকারের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে গৃহকর্তা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারাত্মকভাবে আহত করার ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় এজাহার নং-০৪ (তারিখ: ০৬/০৭/২০২৫), পেনাল কোডের ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, উক্ত ঘটনার তদন্তকালে পুলিশি কলাকৌশল প্রয়োগ এবং মোবাইল প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্তে আরও জানা যায়, মামলার অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ওই আসামির কাছে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা অজ্ঞাত স্থানে বিক্রি করা হয়েছে। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাতক্ষীরা শহর থেকে মোছা. মাছুরা বেগম (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, শ্যামনগরের ভেটখালী এলাকার বাসিন্দা, কুখ্যাত চোর ছুবানের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী মাছুরার এর আগে ডজনখানেক বিয়ে হয়েছে। ছুবান একসময় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আহত হয়ে পঙ্গু হন বলেও স্থানীয়দের দাবি।
এ ছাড়া মাছুরা ২০১৮ সালে শ্যামনগর বিআরটিসি কাউন্টার মালিক মতির সঙ্গে তাঁর দেবর, সুন্দরবন-ডাকাতদের জন্য বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে ভেটখালী এলাকা থেকে পুলিশের হাতে আটক হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে ২০২৩ সালে নিজ বাড়ি থেকে ইয়াবাসহ তাঁকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় শ্যামনগর থানায় দায়ের করা দুটি মাদক মামলার তথ্য রয়েছে—মামলা নং-৩১, তারিখ: ৩০/০১/২০২৩ এবং মামলা নং-০৬, তারিখ: ১০/১২/২০১৮।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাছুরা খাতুন ও টেমি হাফিজ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে অজ্ঞান পার্টির সদস্য হিসেবে সক্রিয় থাকা, চুরি, ডাকাতি, ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য, ভুয়া সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তাঁরা বারবার আইনি সুবিধা পেয়েছেন এবং গ্রেপ্তারের পরও স্বল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগের বিষয়গুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিবেদনটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও সংযুক্ত করা যেতে পারে।

শ্যামনগর থানার ওসি শাফিউল পাটোয়ারী জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচি*।
সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,
শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,
“দৈনিক আমাদের দেশ”।
সাতক্ষীরা জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শ্যামনগর থানার ওসি *মো. শাফিউল পাটোয়ারী*।
সোমবার ১৭ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় জুলাই মাসের শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, মামলা তদন্ত ও নিষ্পত্তি এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক বজায় রাখাসহ সার্বিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ওসি শাফিউল পাটোয়ারীকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার *আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম* আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সম্মাননা স্মারক ও নগদ অর্থ তুলে দেন।
এছাড়াও বিভিন্ন অভিযানে দক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় এসআই আনোয়ার, এসআই সুদীপ, এএসআই নবী ও এএসআই জাফরকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সহ সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হওয়ায় শ্যামনগর থানার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সম্মাননা পাওয়ার পর ওসি শাফিউল পাটোয়ারী বলেন, “এই অর্জন শ্যামনগর থানার সকল পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের সেবায় আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবো।


Leave a Reply