জ্বালানি সংকট-দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ ২৯ বিষয়ে সরকার ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম টিডিসি রিপোর্ট - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
জ্বালানি সংকট-দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ ২৯ বিষয়ে সরকার ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম টিডিসি রিপোর্ট

জ্বালানি সংকট-দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ ২৯ বিষয়ে সরকার ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম টিডিসি রিপোর্ট

চলমান জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে নিরপেক্ষতা বজায় রাখাসহ ২৯ বিষয়ে বর্তমান সরকার ব্যর্থ বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সোমবার (২৪ আগস্ট) এনসিপির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ব্যর্থতার এসব দাবি উত্থাপন করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে জ্বালানির বাজার, সারের সংকট ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। তারা বলেছিল নির্বাচন হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু আমরা দেখছি এখন সেটা আরও উল্টো খারাপ হয়েছে।’

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী পদের জন্য বিএনপির দলীয় সংগঠনের লোকেরা মারামারি করছে। ইউএনওর অফিসে গিয়ে মারধর করছে। সরকারের সমালোচনা করায় একজন বিচারককে আদালতের এজলাসে মারধর ও অফিস কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে। ঢাকা কলেজের ফুটপাতে চাঁদাবাজি নিয়ে তাদের অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে। যার কোনো বিচার আমরা হতে দেখিনি।

 

নির্বাচিত সরকারের প্রথম বৈদেশিক সফর নিয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে মালয়েশিয়া সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে। কিন্তু তথ্য বলছে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বিদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানির পরিমাণ কমেছে। সেখানে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিকরা যেতে পারছেন না। এছাড়া আমরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জনশক্তি রপ্তানির কাজটি সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হচ্ছে। ’

 

জুলাই গণহত্যার বিচারের প্রশ্নে চিফ হুইপ বলেন, জুলাই গণহত্যা নিয়ে সরকারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখছি না। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের করা নানান সংস্কারকে দুর্বল করা হচ্ছে। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। জুলাই আহতদের পুনর্বাসনে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখছি না।

 

সরকারের বৈদেশিক নীতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকারের বৈদেশিক নীতির মধ্যে আমরা একধরনের দ্বিধান্বিত পররাষ্ট্রনীতি, আত্মবিশ্বাসহীন পররাষ্ট্রনীতি দেখতে পাচ্ছি। সরকার কখনো প্রবল আত্মবিশ্বাসে বিবৃতি দিচ্ছে আবার কখনো দেখি কর্তব্যবিমুখ। সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকার অনেক বড় বড় বিবৃতি দিয়েছে, কিন্তু জুলাই জাদুঘরে ফেলানির স্মারকটি সরানো হয়েছে। যাতে ভারত অখুশি না হয়। এছাড়া ভারত সফর নিয়ে একটা দ্বিধার মধ্যে আছে। শেখ হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে ভারতের সঙ্গে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা আমরা দেখিনি।’

 

 

সংস্কারকে দুর্বল করা নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ বিএনপি নিজের ৩১ দফা থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। সাংবিধানিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তারা দলীয় লোক নিয়োগ দিচ্ছে। এছাড়া মানবাধিকার কমিশন, দুদক ও ন্যায়পালের মতো বিষয়গুলোকে সরকার উপেক্ষা করে যাচ্ছে।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির দপ্তর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত ও সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

 

এ ছাড়া বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ভোট দিয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার জন্য এই ভোটে অংশ নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

 

সংসদে বিএনপির সদস্য সংখ্যা ২৪৭ জন হওয়ায় সংখ্যার সমীকরণে মির্জা ফখরুলের জয় কার্যত নিশ্চিত। তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

 

সংসদ সদস্য হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও ভোট দিতে পারবেন। অন্যদিকে সংসদ সদস্য না হওয়ায় অলি আহমদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গোপন নয়। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টার পরপরই সংসদ কক্ষে ভোট গণনা শুরু হবে। গণনা শেষে সেখানেই ফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। পরে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা

বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এ আশ্বাস দেন। এ সময় শেখ মোহাম্মদ বাংলাদেশকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান কাতারের নেতৃত্বের কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

 

বৈঠকে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয় আলোচনা করতে গিয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসাবে অভিহিত করেছেন। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে, বিশেষ করে বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, সম্ভাব্য সব সহযোগিতার নিশ্চয়তা তিনি দিয়েছেন।”

 

এদিকে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু উল্লেখ না করে অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা বলা হয়েছে কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, দ্বিপাক্ষীয় সহযোগিতামূলক সম্পর্ক এবং অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি সর্বশেষ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সে সম্পর্ককে শক্তিশালী করার পন্থা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে কাতারের নেতৃত্বের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। কাতারের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন তিনি এবং পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে দেশটির গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

 

এ সময় পরস্পরের জন্য সুবিধাজনক সময়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন খলিলুর রহমান।

 

বৈঠকে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশেনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানানোর কথা বলেছে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে খলিলুর রহমানকে কাতারের সমর্থন ও সহযোগিতার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ।

 

পরে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ সময় তারা পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন।

 

বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ দুই দেশের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

 

কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনের সফরের প্রথমদিন মঙ্গলবার কাতারের অর্থমন্ত্রী আলী বিন আহমেদ আল কুওয়ারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে বিনিয়োগ, ব্যাংকিং ও অন্যান্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।

 

এরপর খলিলুর রহমান কাতার অ্যানার্জির সদরদপ্তরে দেশটির জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী সাদ শেরিদা আল কাবীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সহযোগিতা, বিশেষত এলএনজি সরবরাহ খাতে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা বলেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে: কাতারের প্রধানমন্ত্রী

খাবারে খাসি না পেয়ে বিয়ের আসর থেকে চলে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই জাপানপ্রবাসী অবশেষে বিয়ে করেছেন। এবার বড় খাসির খদর দিয়েই বিয়ে করেছেন তিনি।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে প্রবাসী জুনায়েদ মিয়া সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে বিয়ের ছবি পোস্ট দিয়ে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার কাছে দোয়া ও শান্তিময়, সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করছি।’

 

জানা গেছে, প্রবাসী জুনায়েদ মিয়ার স্ত্রীর নাম জান্নাত আক্তার। তিনি আখাউড়ার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে। স্থানীয় একটি মহিলা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী জান্নাত। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামার বাড়িতে। জুনায়েদ মিয়ার বাড়িও একই গ্রামে। নতুন বিয়েতে ৬ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে খদরে (বড় থালায় বিশেষ আয়োজন) খাসি না পাওয়ায় বিয়ে না করেই চলে গেছেন জাপান প্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়া। উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

 

বর জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উপলক্ষে বর জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছালে ফুল দিয়ে তাকে বরণ করা হয়। এ সময় ফুল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি উপস্থিত লোকজনের সামনে বিরূপ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে। পরে ফুল ও গেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

একপর্যায়ে আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য খদরে খাবার দেওয়া হয়। এ সময় খদরে খাসি না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান। তিনি খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।

 

এ সময় কনে পক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত অনেকেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই একা কনের বাড়ি থেকে ফিরে যান জুনায়েদ।

নতুন বিয়ে করে যে বার্তা দিলেন খাসি কাণ্ডে বিয়ে ভাঙা সেই প্রবাসী

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। রাজধানীর ধানমন্ডিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে হানা দেয় একদল সেনা সদস্য।

 

হত্যা করা হয় শেখ মুজিবুর রহমান, তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা, তিন ছেলে কামাল, জামাল ও রাসেল, ভাগিনা ফজলুল হক মনি ও তার স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ পরিবারের ১৭ সদস্যকে। দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

 

তখন অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত ছিল দেশ। বাকশাল গঠন করে কায়েম করা হয়েছিল একদলীয় শাসন। নিষিদ্ধ হয়েছিল বাকি সব দল।

 

এ বিষয়ে চর্চার সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যারা যুদ্ধ করেছেন, তারাই আবার তাকে হত্যা করলেন। তো এখানে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা কাজ করেছে। ব্যক্তিগত ক্ষোভ কাজ করেছে। ওই সরকার যদি একটা গণঅভ্যুত্থান হতে পারত, তাহলে ও ন্যায্যতা পেত। কিন্তু আপনি একদিন সকালবেলা একটা বাড়িতে ঢুকে আপনি হত্যা করে আসলেন।

 

তবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব মফিদুল হক বলেন, সপরিবারে উৎখাত করা এরকম ঘটনা কিন্তু মধ্যযুগের একটি ঘটনা। যারা ঘটনাটা ঘটিয়েছে, তারা কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী চক্রান্তমূলকভাবে এই কাজটা করেছে। এটা রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই ঘটনাটার পরিণতিতে আমরা আসিনি।

 

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ ত্বরান্বিত করে। ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। এর মধ্যে ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ৫১ বছর আজ

জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘আমাদের দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলীয় জোট থেকে মনোনীত হয়েছেন আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আমরা তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আগামী ২০ তারিখে নির্বাচিত করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।’

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

 

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান এবং সমর্থক ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবেন।

 

তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট থেকে কর্নেল অলি আহমদও রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেয়েছেন। তার পক্ষ থেকেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।ফলে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসবেন— এ প্রশ্নের উত্তরে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমাদের আর কোনো সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে বলার নেই।’

‘আমরা মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে চাই’

ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে গায়ের জোর ও পেশিশক্তির পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

 

তিনি বলেন, ‘শক্তি থাকলেই সব সময় শক্তি দেখাতে হয় না। আমরা চাই জুলাইয়ের পরে ক্যাম্পাসগুলোতে মেধার চর্চা হোক। মেধার ভিত্তিতে কম্পিটিশন হোক। যুদ্ধ হলে ইন্টেলেকচুয়াল ওয়ার হওয়া উচিত। গায়ের জোর সবাই দেখাতে পারে, কিন্তু ছাত্রশিবির গায়ের জোর দেখাতে চায় না। আমরা চাই মেধা নিয়ে প্রতিযোগিতা হোক।’

 

বুধবার (১২ আগস্ট) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুবি শাখার আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকা স্বাভাবিক। তবে সেই প্রতিযোগিতা হতে হবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। পেশিশক্তি প্রদর্শন করে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ছাত্ররাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনো জায়গায় মাইর খেলেও মাইরের কোনো জবাব দিচ্ছি না। তার মানে এই না যে আমাদের শক্তি নেই। এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। শক্তি থাকলেই সব সময় শক্তি দেখাতে হয় না।’

 

ছাত্ররাজনীতির প্রতিযোগিতার ধরন ব্যাখ্যা করে শিবির সভাপতি বলেন, ‘আমি একটা নবীনবরণ করলে তুমি আরও ১০টা নবীনবরণ করো। আমি স্টুডেন্টদের নিয়ে হায়ার এডুকেশনের একটা প্রোগ্রাম করলে তুমি আরও ২০টা করো। আমি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে প্রোগ্রাম করলে তুমি আরও ভালো প্রোগ্রাম করো। এভাবেই প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত।’

 

তিনি বলেন, ‘গায়ের জোর দিয়ে সবাই কিছু একটা করতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য কে বেশি কাজ করতে পারে, কে বেশি ভালো উদ্যোগ নিতে পারে, কে শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো নিয়ে বেশি কথা বলতে পারে—সেই প্রতিযোগিতাই হওয়া উচিত।’

 

সাদ্দাম হোসেন বলেন, জুলাইয়ের পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন ধরনের ছাত্ররাজনীতির চর্চা প্রয়োজন। ছাত্রসংগঠনগুলোর কাজ হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ক্যারিয়ার ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা।

 

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের পরে ক্যাম্পাসগুলোতে মেধার চর্চা হওয়া উচিত। মেধার ভিত্তিতে কম্পিটিশন হওয়া উচিত। যুদ্ধটা হলে ইনটেলেকচুয়াল ওয়ার হওয়া উচিত।’

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিবির সভাপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জায়গা নয়; এটি জ্ঞান, মেধা, নৈতিকতা ও নেতৃত্ব তৈরির প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হবে।

 

তিনি বলেন, একটা সোসাইটি এমনিই তৈরি হয় না। একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ মুখের কথায় তৈরি হয় না। যে সোসাইটি নিজেকে তৈরি করতে পেরেছে, সেই সোসাইটির মানুষগুলোকে আগে তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি শুধু সার্টিফিকেট দেয়, কিন্তু নৈতিক মানুষ তৈরি করতে না পারে, তাহলে সেই শিক্ষা সমাজের জন্য কতটা কার্যকর—সেটা ভাবতে হবে।

 

দেশের উন্নয়নে মেধাবীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে শিবির সভাপতি সিঙ্গাপুরের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মেধাবীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি দেশ দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশেও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে।

 

তিনি বলেন, মেধার মূল্যায়ন না থাকলে কোনো সোসাইটি এগোতে পারে না। মেধাবীদের সামনে নিয়ে আসতে হবে। যারা যোগ্য, যারা মেধাবী, যারা নৈতিক—তাদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

 

শিবির সভাপতি আরও বলেন, ছাত্ররাজনীতির মূল প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো কিছু করার ক্ষেত্রে। সংগঠনগুলো কে কত বেশি শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে পারে, কে কত বেশি শিক্ষামূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিতে পারে এবং কে কত বেশি যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে পারে—তার ভিত্তিতেই নিজেদের প্রমাণ করা উচিত।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) কুমিল্লা শহরের ঢুলিপাড়া চৌমুহনী এলাকায় এ নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান কুবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় পরিচালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

 

এ ছাড়াও প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের অন্য নেতারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা।

গায়ের জোর নয়, মেধা নিয়ে প্রতিযোগিতা চাই: শিবির সভাপতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কালিগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অপরাধীকে দল-মত না দেখে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ

এস. এম. নাসির উদ্দীন, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা, উন্নয়ন সমন্বয় ও এনজিও বিষয়ক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মিলন সাহা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা ও সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ-আশাশুনি) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে—এমন কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দল-মতকে প্রাধান্য না দিয়ে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকারি বরাদ্দের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এসব কাজে কোনো ধরনের অন্যায় ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না।

 

সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মইনুল ইসলাম খান, কালিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত ঘোষ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল ওহাব সিদ্দিক, সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রউফ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু এবং কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু।

 

এছাড়া বক্তব্য দেন কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন, নলতা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান, ধলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান গাজী শওকাত হোসেন, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোস্তফা আখেরুজ্জামান পল্টু, হাজী তোফিল উদ্দিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা শফিউল্লাহ এবং কালিগঞ্জ বিজিবি খানজিয়া ক্যাম্পের সুবেদার সাদেক।

 

সভায় কালিগঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত পৃথক তিনটি হত্যাকাণ্ড, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালানের কারণে যুবসমাজের বিপথগামিতা এবং বিভিন্ন মোড়ে কেরাম বোর্ড খেলা বন্ধসহ আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

 

সমাপনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বলেন, উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মদ, জুয়া, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সভায় উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্য, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালিগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অপরাধীকে দল-মত না দেখে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ

চিকিৎসক-জনবল সংকটে ঝুঁকছে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অবকাঠামো যন্ত্রপাতি আছে, নেই পর্যাপ্ত জনব , বন্ধু অপারেশন থিয়েটার, জটিল রোগী যাচ্ছে জেলা সদর ও রংপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম:

২৫/আগস্ট/২৬ইংঃ নীলফামারী প্রান্তিক উপজেলার ডিমলায় প্রায়

সাড়ে তিন লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র ৫০ শয্যার

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক অবকাঠামো, রয়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম কিন্তু চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ব্যহত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়েছে অপারেশন থিয়েটার। ফলে দুর্ঘটনায় আহত রুগী, জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষ কিংবা প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ানসহ প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের জন্য ছুটতে হচ্ছে জেলা সদর কিংবা রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে প্রতিদিনই ভোগান্তিরতে পরছে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দরিদ্র ও

নিম্নআয়ের রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ খরচ করে। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উপর নির্ভরশীল মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৬০ টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন প্রয়োজনের তুলনায় কমসংখ্যক জনবল। শূন্য রয়েছে ৯৩ টি পদ। এর মধ্যে চিকিৎসকের ৩৩ টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১৮ টি পদই শূন্য । দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদটিও খালি রয়েছে। আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) পদ থাকলেও বর্তমানে ওই পদে কোন চিকিৎসক নেই। ফলে একজন মেডিকেল অফিসার কে ভারপ্রাপ্ত আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের কারণে বহির্বিভাগে রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার প্রয়োজনীয় বিশেষ চিকিৎসক ও অন্যান্য সুবিধা না থাকায় অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হয়েছে অস্ত্রোপচার সেবায়। হাসপাতালে অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকার পরও জনবল সংকটে দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন থিয়েটার কার্যত বন্ধ। ফলে জরুরী অস্ত্রোপচারে প্রয়োজন এমন রোগীদের জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় তাদের অনেকেই অর্থ খরচ করে বাইরের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হচ্ছে। এতে যাতায়ত , পরীক্ষা-নিরীক্ষা ঔষধ ও চিকিৎসার খরচ মিলিয়ে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন হওয়ায় দরিদ্র পরিবারের প্রসূতি নারীদের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি থাকার পরেও শুধু জনবল সংকটে সেবা বন্ধ থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত চিকিৎসকসহ শুন্য পদগুলো পূরণ করে অপারেশন থিয়েটার চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুধু বহির্বিভাগে রোগী দেখা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। জরুরী চিকিৎসা, প্রসূতি সেবা, অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবায নিশ্চিত করতে হলে অনুমোদিত পথ অনুযায়ী চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল থাকা জরুরি। বিশেষ করে ডিমলা উপজেলার মত বড় জনসংখ্যার একটি উপজেলার জন্য জনবল সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের উপর। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শূন্য পথ গুলো পূরণ হলে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা আরো কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে, ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান পরিস্থিতি সরকারি স্বাস্থ্য অবকাঠামোর একটি বড় বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে – ভবন আছে, যন্ত্রপাতি আছে, কিন্তু সেগুলো পরিচালনার মত পর্যাপ্ত জনবল নেই। ফলে সরকারি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লাখো মানুষ। স্থানীয়দের প্রশ্ন, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবলই না থাকে, তাহলে কোটি কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত অবকাঠামো ও কেনা আধুনিক যন্ত্রপাতি কতটা কাজে আসছে? ডিমলার মানুষের এই প্রশ্ন উত্তর খুঁজতে দ্রুত শূন্য পদ পুরন, অপারেশন থিয়েটার চালু এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেবা নিশ্চিত করার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।

চিকিৎসক-জনবল সংকটে ঝুঁকছে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অবকাঠামো যন্ত্রপাতি আছে, নেই পর্যাপ্ত জনবল

নওগাঁয় ৩৮ কেজি কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ সাজেদুল নামে একজন আটক

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি

নওগাঁয় টাস্কফোর্সের অভিযানে ৩৮ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের তারা দেবী মূর্তিসহ মো. সাজেদুল ইসলাম (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা মূর্তিটির আনুমানিক সিজার মূল্য ৩৮ লাখ ১০ হাজার টাকা।

 

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার বাইপাস এলাকার সাদিয়া মার্কেটে এ অভিযান চালানো হয়।

 

 

আটক সাজেদুল ইসলাম নওগাঁ সদর উপজেলার চকগোবিন্দ গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে। বিবিসি ভোটার মালিক।

 

নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ টহলদল ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মো. রাশেদের নেতৃত্বে পুলিশসহ সমন্বিত টাস্কফোর্স সাদিয়া মার্কেট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একটি ফার্নিচারের দোকানে তল্লাশি চালিয়ে সাজেদুল ইসলামকে আটক করা হয়।

 

 

পরে তার কাছ থেকে ৩৮ দশমিক ১০০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের একটি তারা দেবী মূর্তি উদ্ধার করা হয়।

 

বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা মূর্তিটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে।

 

আটক সাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি

মোবাইল নং ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তারিখঃ ২৫-৮-২০২৬

নওগাঁয় ৩৮ কেজি কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ সাজেদুল নামে একজন আটক 

অবিলম্বে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও কার্যক্রম শুরুর দাবি

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিদ্যমান নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শ্রম মন্ত্রী, শ্রম সচিব, চেয়ারম্যান, নিম্নতম মজুরি বোর্ড, সভাপতি বিজিএমইএ, সভাপতি বিকেএমইএ কে স্মারকলিপি প্রদান করে ।

 

সংগঠনের আহ্বায়ক লাভলী ইয়াসমীন ও সদস্য সচিব নাহিদুল হাসান নয়ন এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের রপ্তানি আয়, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাক শিল্প। এই শিল্পের সাফল্যের পেছনে শ্রমিকদের শ্রম, দক্ষতা ও নিরলস পরিশ্রমের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অথচ ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি অত্যন্ত অপ্রতুল।

 

বিবৃতিতে অনুষ্ঠানে আরো উপস্তিত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ এর যুগ্ন-আহবায়ক মরিয়ম আক্তান, যুগ্ন-সদস্য সচিব মোরশেদ আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শ্যাম দুলাল, বিভিন্ন ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় নেতা সর্ব বনাব আখি, দুলাল, রোজিনা অক্তার, রুপালী আক্তার, গোলাম মোস্তফা, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

 

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৩৯(৬) অনুযায়ী নির্ধারিত নিম্নতম মজুরি প্রতি তিন বছর অন্তর পুনর্নির্ধারণের বিধান রয়েছে। ২০২৩ সালে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য বর্তমান ১২,৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট গেজেট ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ প্রকাশিত হয়। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় নতুন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা জরুরি।

 

গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ বলছে, গত কয়েক বছরে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন, পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের আয় সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। ফলে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

বিশেষ করে খাদ্য ও পুষ্টির ব্যয় বৃদ্ধি শ্রমিক পরিবারের জীবনযাত্রায় মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। অপর্যাপ্ত আয়ের কারণে অনেক শ্রমিককে ঋণগ্রস্ত হতে হচ্ছে, অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক ব্যয় কমিয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে ক্রমবর্ধমান বাসাভাড়াও শ্রমিক পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, “মজুরি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার।” শ্রমিক ও তার পরিবারের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে শুধু প্রচলিত ‘Minimum Wage’ নয়, বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় Living Wage বা জীবনধারণ উপযোগী মজুরি নির্ধারণের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

 

গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ নিম্নলিখিত দাবিসমূহ উত্থাপন করেছে—

তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

মজুরি বোর্ডে প্রকৃত, স্বাধীন ও প্রতিনিধিত্বশীল শ্রমিক প্রতিনিধি নিশ্চিত করতে হবে।

খাদ্য, পুষ্টি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন, শিশু পরিচর্যা, ইউটিলিটি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।

নতুন মজুরি কাঠামোকে Living Wage-কেন্দ্রিক করতে হবে, যাতে শ্রমিক ও তার পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ হয়।

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত মজুরি সমন্বয়ের ব্যবস্থা বিবেচনা করতে হবে।

সাব-কন্ট্রাক্ট, ছোট ও অনিবন্ধিত কারখানাসহ তৈরি পোশাক শিল্পের সকল শ্রমিককে নতুন মজুরি কাঠামোর কার্যকর আওতায় আনতে হবে।

 

শ্রমিক সংগঠন, মালিকপক্ষ, সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।

 

শ্রমিক পরিবারের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় নিরূপণে একটি স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক জরিপ পরিচালনা করতে হবে।

 

নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ন্যায্য ও জীবনধারণ উপযোগী মজুরি নিশ্চিত হলে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।

 

তারা শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন, কার্যক্রম শুরু এবং জীবনধারণ উপযোগী নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অবিলম্বে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও কার্যক্রম শুরুর দাবি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তার আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।

 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি মানবজাতির হেদায়েত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তার প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।’

 

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)। মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন। তার জীবনাচরণে আমরা যেমন আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্যের শিক্ষা পাই, তেমনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার অপূর্ব প্রকাশ দেখতে পাই।’

 

মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।

 

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন এক সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তার জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ হতে পারে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তার আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।’

 

তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তার আদর্শকে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। তার শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করুক। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক-এই পবিত্র দিনে এটাই আমার আন্তরিক প্রার্থনা।’

 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে তিনি দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।

মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাতক্ষীরায় পাওনা ফেরত ও সম্পত্তি বিক্রি বন্ধের দাবি, ডিসির কাছে বুশরা আমানত কারীদের আবেদন

 

এস. এম. নাসির উদ্দীন, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বুশরা গ্রুপের প্রায় ১০ হাজার আমানতকারীর পাওনা অর্থ ফেরত দিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানটির কালিগঞ্জ শাখা অফিস সিলগালা করে সম্পত্তি বিক্রি বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।

 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহার মাধ্যমে এ আবেদন করা হয়। আবেদনে বুশরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ শরিফুল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিচালক ইকবাল কবির পলাশকে বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আবেদনে বলা হয়, বুশরা গ্রুপের বুশরা কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং বুশরা ইসলামী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের অধীনে আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থ জমা রেখে আসছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রচলিত নিয়ম ও শর্তের প্রতি আস্থা রেখে তারা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ আমানত হিসেবে রাখেন।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রয়োজনের সময় আমানত উত্তোলনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অনেক আমানতকারী তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। কেউ এক বছর, কেউ দুই বছর কিংবা তারও বেশি সময় আগে মূল আমানতের টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করলেও টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আমানতকারীদের মধ্যে মো. হাসানুজ্জামান, মো. আব্দুল মান্নান, এস এম রেদওয়ানুল ফেরদাউস রনি, মমতাজ বেগমসহ কয়েকশ গ্রাহকের অভিযোগ, টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করতে গেলে তাদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার হতে হচ্ছে। এতে অনেক আমানতকারী ও তাদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন বলে আবেদনে দাবি করা হয়।

 

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুশরা গ্রুপের কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। আমানতকারীদের আশঙ্কা, সম্পত্তি বিক্রি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে তাদের পাওনা অর্থ আদায় আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

 

এ কারণে আমানতকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বুশরা গ্রুপের আমানতকারীদের পাওনা অর্থ ফেরত প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিষয়টির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনোভাবে যাতে সম্পত্তি নিয়ে লেনদেন করা না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

 

আবেদনের সঙ্গে কালিগঞ্জ শাখা অফিসের সম্পত্তির বিবরণও সংযুক্ত করা হয়েছে। সেখানে দলিল নম্বর ১৯৯৬/২০২০, মৌজা বাজারগ্রাম, সি.এস. খতিয়ান ০৫, এস.এ. খতিয়ান ১১ এবং দাগ নম্বর ৩৪০/৩৪২ উল্লেখ করা হয়েছে। জমির পরিমাণ প্রায় ০.২৯৭২ একর বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

 

আবেদনের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কালিগঞ্জ; সহকারী কমিশনার (ভূমি), কালিগঞ্জ; সাব-রেজিস্ট্রার, রেজিস্ট্রি অফিস, কালিগঞ্জ এবং দলিল লেখক সমিতির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের কাছেও দেওয়া হয়েছে।

 

ডিসি সাতক্ষীরাকে স্মারকলিপি দেওয়ার সময় ৩ আসনের এমপি হাফেজ মুহাম্মদ রবিউল বাশারের কাছে বুশরা গ্রুপের আমানতকারীরা অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি দেখব, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

 

আবেদনকারীদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আমানতকারীদের স্বার্থ ও জনস্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিক্রয় বা হস্তান্তর বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

তবে বুশরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ শরিফুল ইসলাম ও নির্বাহী পরিচালক ইকবাল কবির পলাশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য পরবর্তীতে পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

সাতক্ষীরায় পাওনা ফেরত ও সম্পত্তি বিক্রি বন্ধের দাবি, ডিসির কাছে বুশরা আমানত কারীদের আবেদন

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় সোহাগ পরিবহণের একটি বাসের ধাক্কায় আনন্দ দাস (৫৮) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৬টা ২০ মিনিটের দিকে পাটকেলঘাটা থানার শাকদা ব্রিজসংলগ্ন মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত আনন্দ দাস শাকদা গ্রামের মৃত কৃষ্ণপদ দাসের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে শাকদা ব্রিজসংলগ্ন মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন আনন্দ দাস। এ সময় ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী সোহাগ পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

দুর্ঘটনার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে পড়ে যায়। এতে বাসের কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে যান।

 

পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি বর্তমানে মহাসড়কের পাশে রয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে তার নিজ বাড়িতে রাখা হয়েছে। চালক ও সহকারীকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

পাটকেলঘাটা থানার ওসি মো.শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত সোহাগ পরিবহণের বাসটি সড়কের পাশে পড়ে আছে। নিহত ব্যক্তির লাশ স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি খর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। চালক ও হেলপারকে আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সাতক্ষীরায় বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন নদী ও বাঁধের অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। পরিদর্শনকালে তিনি চলমান নদীতীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও মান যাচাইয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাডে’ ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন। ‍

 

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রতিমন্ত্রী মৌলভীবাজার জেলার কুশিয়ারা নদীর উভয় তীরে চলমান নদীতীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রকল্পের অগ্রগতি, কাজের মান এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত অবহিত হন।

 

প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

 

পরে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করেন তিনি। সাম্প্রতিক ফ্ল্যাশ ফ্লাডে ক্ষতিগ্রস্ত খোয়াই নদী রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে ঘুরে দেখে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের নির্দেশ দেন।

 

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি রোধে এবং খোয়াই নদী রক্ষা বাঁধের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

 

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনা মোতাবেক ফ্ল্যাশ ফ্লাডে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দেখতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসেছি। নদী ও বাঁধের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

পরিদর্শনকালে স্থানীয় হুইপ জি কে গউছ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট চিফ ইঞ্জিনিয়ার, সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের জরুরি মেরামত দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন

খোয়াই নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন, দ্রুত মেরামতের নির্দেশ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

ঢাকা কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাসে মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সিট না দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সিট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারাও সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা কলেজের ওয়েবসাইটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আবাসিক ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা প্রকাশের পরই অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, ভালো ফলাফল এবং ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত সিট বরাদ্দের তালিকায় তাদের নাম রাখা হয়নি।

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসিক সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে মেধা, নিয়মিত উপস্থিতি ও আর্থিক অসচ্ছলতাকে গুরুত্ব দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী সিট পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক সিটের প্রত্যাশায় থাকা অনেক অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি উঠেছে।

 

মারুফ মিয়া নামের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, এই রকম একটা অন্যায় করার আগে ডিপার্টমেন্টের প্রধানের বুক কেঁপে উঠলো না? আমার আর্থিক অবস্থা জানার পর ও কেন সিট দিলো না?

 

মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শাহিন আলম নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমি ডিপার্টমেন্টে ভাইভা দিয়েছি এবং সেখানে উত্তীর্ণও হয়েছি। পরবর্তীতে আবাসিক হলে সিট পাওয়া শিক্ষার্থীদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, সেখানে আমার নামও ছিল। কিন্তু হঠাৎ আজ দেখলাম, সেই তালিকা থেকে আমার নাম বাদ দেয়া হয়েছে। অথচ আমার জায়গায় যাকে সিট দেয়া হয়েছে, তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যে ভাইভাতেও অংশ নেয়নি। এমন আরেকজনকে সিট দেয়া হয়েছে, যে ক্লাসে অনিয়মিত হওয়ায় ইতোমধ্যে ডিসকলেজিয়েট। রাজনৈতিক পরিচয় থাকাতেই কেবল সিট পেয়েছে।

 

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক তাজবিউল হাসান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, সিট না পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে লেখেন, নিজেকে সেভাবে তৈরি কর যাতে করে রাতের আঁধারে সিট বরাদ্দের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে গোপনে বসে নিজেদের মতো করে হলে সিট নিতে পারো অথবা ভবিষ্যতে কারো জন্য দিতে পারো।

 

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ শাখা শিবিরের সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, নতুন করে সিট পাওয়া ১১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রদল করেন না- এমন একজন শিক্ষার্থী কি সিট পেয়েছেন? কলেজ প্রশাসনের এই তামাশা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে রাখবে। যে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না, তারা শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হওয়ার নৈতিক যোগ্যতাও হারিয়েছে। মেরুদণ্ডহীন এই প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করাটা সবচেয়ে বড় ভুল।

 

তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের দাসত্বের অধ্যায় শেষ হতে না হতেই, এই নির্লজ্জ ও অথর্ব প্রশাসন নতুন করে আরেকটি ছাত্রসংগঠনকে মনিব হিসেবে মেনে নিয়েছে। শুধু ক্ষমতার মুখ বদলেছে, কিন্তু প্রশাসনের চরিত্র বদলায়নি।

 

যাদের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নেয়া হলো, যেসব অসহায় ও হকদার শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করা হলো- তাদের আর্তনাদ একদিন ফিরেও আসতে পারে। মনে রাখবেন, অন্যের সন্তানের ন্যায্য অধিকার নষ্ট করে কেউ চিরদিন নিশ্চিন্ত থাকতে পারে না। আপনাদেরও সন্তান আছে; একদিন নিজের সন্তানের বঞ্চনা দেখে যেন হা-হুতাশ করতে না হয়। হাজার হাজার অসহায়-মেধাবী ছাত্রের হক যারা নষ্ট করলো, আজ হোক, কাল হোক তাদের অথবা তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে আল্লাহ এর প্রতিদান দিবেই।

 

ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে লেখেন, ঢাকা কলেজ প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে- শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল ও পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে হলে সিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুরুর দিকে বিভাগ থেকে ভাইভার মাধ্যমে যাদের নাম সুপারিশ করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে কোনো কারণ ছাড়াই তাদের নাম কেটে দেয়া হয়েছে। এখানে মেধার বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করা হয়নি।

 

প্রশাসনের কাছে আমার স্পষ্ট প্রশ্ন- কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায়, কিংবা কোন মন্ত্রীর ফোন কল ও রেফারেন্সে আপনারা তালিকা থেকে মেধাবীদের নাম কাটতে বাধ্য হলেন? এই স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের জবাবদিহিতা কিন্তু আপনাদের রেডি রাখতে হবে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, আমাদের ঢাকা কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাসে সিটের সংখ্যা সীমিত। এই সীমিত সিটের বিপরীতে একাধিক শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। ফলে সিট দিতে আমাদের সমস্যা হয়েছে।

 

আর নাম কেটে দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এরকম যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রে সেই সিটের বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে।

 

এদিকে হলে সিট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে একদল শিক্ষার্থী।

ঢাকা কলেজের হলে দলীয় পরিচয়ে সিট বরাদ্দের অভিযোগ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তেজগাঁও থানা শ্রমিকলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার মো. আবুল কাশেম পাটোয়ারী ওরফে ‘হাতকাটা কাশেম’ এর পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

 

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১৮ আগস্ট আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর গত ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল হান্নান আসামিকে এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন রাখেন সোমবার।

 

এদিকে, আসামিপক্ষে আইনজীবী মনির হোসেন সুমন ও মাসুদ রানা রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

২০২৪ সালের ২২ আগস্ট খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন মামলাটি করেন।

 

মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হাসান এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন খালেদা জিয়া। ওই সময় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাপেক্স ভবনের সামনে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা তার গাড়িবহরে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, কাশেম এই মামলাত ৪৯ নম্বর আসামি। তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। পরে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হবে।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা: শ্রমিকলীগ নেতা হাতকাটা কাশেম ৫ দিনের রিমান্ডে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d