নওগাঁয় গণ/ধ/র্ষ/ণের শিকার হলেন সাত বছরের শিশু, গ্রেপ্তার দুই কিশোর, শিশু চিকিৎসাধীন হাসপাতালে  - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
নওগাঁয় গণ/ধ/র্ষ/ণের শিকার হলেন সাত বছরের শিশু, গ্রেপ্তার দুই কিশোর, শিশু চিকিৎসাধীন হাসপাতালে 

নওগাঁয় গণ/ধ/র্ষ/ণের শিকার হলেন সাত বছরের শিশু, গ্রেপ্তার দুই কিশোর, শিশু চিকিৎসাধীন হাসপাতালে 

নওগাঁয় গণধর্ষণের শিকার হলেন সাত বছরের শিশু, গ্রেপ্তার দুই কিশোর, শিশু চিকিৎসাধীন হাসপাতালে

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর রাণীনগরে ৭ বছরের এক শিশু কন্যাকে ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় রাণীনগর থানা পুলিশ।

 

ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার বিকেলে রাণীনগর উপজেলার ১ নং খট্টেশ্বর ইউনিয়নের লোহাচূড়া গ্রামে। পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশুটি বিকেলে নিজ বাড়ির আশেপাশে খেলাধুলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী দুই কিশোর তাকে মোবাইলে কার্টুন দেখার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে একটি ফাঁকা বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে একটি ঘরের ভেতর দুই কিশোর পালাক্রমে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।

 

এদিকে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে একপর্যায়ে অভিযুক্ত কিশোররা শিশুটিকে সেখানে ফেলে রেখে চম্পট দেয়।

 

পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে বুধবার গভীর রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে রাণীনগর থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পরই পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে।

 

নৃশংস এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল জানান, ঘটনার পর শিশুটির মা থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।


মাদকমুক্ত গাইবান্ধা গড়ার প্রত্যয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠি

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রতিরোধে করনীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ(২৭ আগষ্ট) বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ত্রন অধিদপ্তরের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা বেগমের সভাপতিত্বে ও শিরিন আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মো. মনিরুজ্জামান, গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(বি সার্কেল)শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।

 

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাদক দ্রব নিয়ত্রনের উপ- পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি)এ্যাডভোকেট মো.মিজানুর রহমান মিজান,গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসউজ্জামান মোনাসহ সুধিজন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ।

 

দেড় ঘন্টাব্যাপী আলোচনা সভায় মাদকের কু-প্রভাব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, মাদক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি। যা ব্যক্তি পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। যুব সমাজ কে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করতে মাদক নির্মুলে সকল কে একযোগে কাজ করতে হবে। সেই সাথে মাদক কারবারি ও মাদক সেবীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

শেষে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকল কে মাদক থেকে বিরত থাকার জন্য শপথ বাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক।

মাদকমুক্ত গাইবান্ধা গড়ার প্রত্যয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নওগাঁর আত্রাই নদীতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি

নওগাঁর ধামইরহাটে আত্রাই নদীর পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।৬ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের রসপুর (শিমুলতলী) সংলগ্ন আত্রাই নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত শিশুরা হলো—রসপুর (শিমুলতলী) গ্রামের মোঃ তৌহিদুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ জিসান উন নবী (৯) এবং একই গ্রামের মোঃ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ তাওহিদ ইসলাম (৭)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে জিসান ও তাওহিদ একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে অন্যান্যদের সাথে রসপুর গ্রাম সংলগ্ন আত্রাই নদীতে মাছ ধরতে যায়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের লোকজন তাদের দেখতে না পেয়ে নদী ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন নদীতে মাছ ধরার জন্য জাল ফেললে শিশু দুটির নিথর দেহ জালের সঙ্গে উঠে আসে। পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয়রা ও শিশুদের অভিভাবকরা দ্রুত উদ্ধার করে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ধামইরহাট থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই গ্রামের দুই শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি

মোবাইল নং ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তাং ২৭-৮-২০২৬

নওগাঁর আত্রাই নদীতে ডু/বে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃ/ত্যু

 

কাশিমপুরে মামলা প্রত্যাহারে হুমকি: বাড়িতে হামলা, যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ; ভিকটিম নিখোঁজ

 

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে ধর্ষণ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ বাদিনীর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং তার ছেলে মোঃ আশিক মোল্লাকে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে অপহৃত তরুণীকে ভারতে পাচার করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরও ভিকটিম আফরিন আক্তার হাবিবা এখনো উদ্ধার হয়নি বলে দাবি পরিবারের।

 

এ ঘটনায় মোছাঃ আমেনা বেগম (৫৩) গত ২৬ আগস্ট কাশিমপুর থানায় এজাহার রুজুর আবেদন করেছেন। এজাহারে মেহেদী হাসান (২৬), হৃদয় হাসান (২৫), জাহিদুল ইসলাম (৩৬), জাকির (৩৮), মাছুরা খাতুন (৩৫) ও হাফিজুর রহমান (৪৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদিনীর মেয়ে আফরিন আক্তার হাবিবা (১৭)-কে ধর্ষণের অভিযোগে ১ নম্বর আসামি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে কাশিমপুর থানায় মামলা নং-৬(৮)২৪, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় অভিযোগপত্র নং-৮১, তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০২৫ দাখিল করা হয়। মামলাটি বর্তমানে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা নং-৩৮৩/২০২৫ হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।

 

এজাহারে আমেনা বেগম অভিযোগ করেন, ১ নম্বর আসামি কারামুক্ত হওয়ার পর থেকেই মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি, হুমকি ও মানসিক চাপ দিয়ে আসছিলেন।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ১ নম্বর আসামি তার মেয়ে আফরিন আক্তার হাবিবাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে একই দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে ফেরত দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হয়।

 

পরবর্তীতে গত ২৮ জুন ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ১ থেকে ৬ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন বাদিনীর বসতবাড়িতে এসে তার মেয়ে আফরিন আক্তার হাবিবাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং আটক করে রাখে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৩১ জুলাই ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ১ নম্বর আসামি তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে বাদিনীর মোবাইল ফোনে কল করে ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেন। এ সময় তিনি মামলা প্রত্যাহার করলে হাবিবাকে ফেরত দেওয়া হবে, অন্যথায় তাকে ও তার মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করা অথবা মানব পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

বাদিনীর অভিযোগ, ৫ ও ৬ নম্বর আসামি মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং তার মেয়েকে অপহরণ ও গুমের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। এই চক্র ভিকটিমকে ভারতে পাচার করে দিয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আমেনা বেগম গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, ওই মামলা সি.পি. মামলা নং-২০০/২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় দায়ের করা হয়েছে এবং বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।

 

অভিযোগে বলা হয়, নালিশি মামলা দায়েরের বিষয়টি জানতে পেরে আসামিরা বাদী ও তার পরিবারের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ৩টা ২২ মিনিটে ১ থেকে ৬ নম্বর আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন রামদা, লোহার রড, বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদিনীর বসতবাড়ির উঠানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং লাথি মেরে ঘরের দরজার ক্ষতিসাধন করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

একপর্যায়ে আসামিরা ‘কোর্টে মামলা দিয়েছিস, মামলা তুলবি না?’ বলে ঘরের দুটি থাই গ্লাস ভাঙচুর করে জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এ সময় ১ নম্বর আসামির নির্দেশে অন্য আসামিরা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বাদিনীর ছেলে মোঃ আশিক মোল্লা (২৬)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। একপর্যায়ে তার গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষয়ক্ষতি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

বাদিনীর ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা মামলা প্রত্যাহার না করলে আশিক মোল্লাকে হত্যা এবং অপহৃত আফরিন আক্তার হাবিবাকে ভারতে পাচার করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত আশিক মোল্লাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজীপুরে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয় বলে বাদিনী জানিয়েছেন।

 

এজাহার দায়েরে বিলম্বের কারণ হিসেবে বাদিনী উল্লেখ করেন, আহত ছেলের চিকিৎসা, হাসপাতালে অবস্থান এবং স্বজনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও পরামর্শের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় উপস্থিত হয়ে এজাহার দায়ের করা সম্ভব হয়নি।

 

বাদিনী বলেন, ঘটনাগুলো একই ধারাবাহিকতায় সংঘটিত হয়ে আসছে এবং বর্তমানে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। বিশেষ করে তার মেয়ে আফরিন আক্তার হাবিবাকে অপহরণের পর অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখা এবং তাকে ভারতে পাচার ও হত্যার হুমকির কারণে তার জীবন ও নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

 

এ ঘটনায় ১ থেকে ৬ নম্বর আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত এফআইআর রুজু, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং অপহৃত আফরিন আক্তার হাবিবাকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন বাদিনী।

 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কাশিমপুরে মামলা প্রত্যাহারে হুমকি: বাড়িতে হামলা, যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ; ভিকটিম নিখোঁজ

নওগাঁ ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান, ১২০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার তিন

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নওগাঁর একটি টিম বদলগাছী থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ১২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযান পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি টিম জানতে পারে, বদলগাছী থানাধীন হলুদবিহার গ্রামের সুমন নামের এক ব্যক্তি তার বসতবাড়িতে মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১০টার দিকে অভিযান পরিচালনা করে সুমন হোসেন (৩৬), পিতা—ময়েন উদ্দিন, গ্রাম—হলুদবিহার, থানা—বদলগাছী, জেলা—নওগাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। উপস্থিত লোকজনের সামনে তার দেহ তল্লাশি করে পরিহিত প্যান্টের পকেট থেকে ১২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় সুমনের দুই সহযোগী গোলাম মোস্তফা (২৮), পিতা—মৃত আহমেদ আলী, গ্রাম—কোলার পালশা, থানা—বদলগাছী এবং আবুল কাশেম (৪৬), পিতা—মৃত শাহজাহান, গ্রাম—খামার আক্কেলপুর, থানা—বদলগাছী, জেলা—নওগাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বদলগাছী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নওগাঁ ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান, ১২০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার তিন

নওগাঁয় ১৪ বিজিবির অভিযানে নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর ধামইরহাট সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫৮০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেছো পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ১০টা ৪০ মিনিটে কালুপাড়া বিওপির টহল কমান্ডার হাবিলদার মোঃ বাদশা আলমগীরের নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত পিলার ২৭২/৭-এস থেকে আনুমানিক ২ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ধামইরহাট থানাধীন নিকেশ্বর ফুটবল মাঠের উত্তর পাশে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মাদককারবারিরা রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়।

 

পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ৫৮০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

 

এ ঘটনায় ধামইরহাট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) জানায়, নওগাঁ ও জয়পুরহাট সীমান্তবর্তী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অবৈধ সীমান্ত পারাপার প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নওগাঁ থেকে বিশেষ প্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম হেলাল এর পাঠানো ভিডিও চিত্র

নওগাঁয় ১৪ বিজিবির অভিযানে নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার 

নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে শত শত মানুষ। বুধবারের (২৬ আগস্ট) আকস্মিক এই বন্যায় রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

নেপালে এখন অবস্থান করছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। তবে তিনি নিরাপদে আছেন বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা অপু নিজের জন্য চিন্তা না করে দোয়া চেয়েছেন।

 

বুধবার সন্ধ্যায় অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমি পোখারাতে আছি। যেখানে আছি নিরাপদে আছি। তবে পোখারা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার হাইওয়ে রাস্তায় ভয়াবহভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। জানতে পেরেছি, এই রাস্তা ঠিক হতে মাসখানেক সময় লাগবে। আমাদের গাড়ি ঠিক করা হয়েছে। আগামীকাল কাঠমান্ডু যাব। ফ্লাইটে অনেক চাপ চলছে। কাঠমান্ডু থেকে পরশুদিনের (শুক্রবার) ফ্লাইটে ঢাকা ফিরব।’

 

নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমার জন্য চিন্তা না করবেন না। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন নিরাপদে দেশে আমার সন্তানের কাছে ফিরতে পারি।’

 

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে নেপাল গিয়েছেন অপু বিশ্বাস। সিনেমাটিতে অপুর বিপরীতে অভিনয় করছেন মুর্তজা পলাশ। এতে আরো অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেতা রজতাভ দত্ত, শ্যাম ভট্টাচার্য প্রমুখ।

 

ঢালিউড অপু বিশ্বাস

নেপালে ভালো আছি চিন্তা করবেন না: অপু বিশ্বাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাংবাদিকের ছবি পোস্ট করে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ, আমির উদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

নওগাঁর পোরশায় ভূমি অফিস সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে চাঁদাবাজসহ বিভিন্ন অপবাদ দেওয়ার অভিযোগে আমির উদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নওগাঁর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সাংবাদিক সবুজ হোসেন।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর আমির উদ্দিন বাবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের ছবি প্রকাশ করে বিভিন্ন মিথ্যা ও মানহানিকর অপপ্রচার চালান। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই এলাকায় গেলে সাংবাদিকদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

 

বাদীপক্ষের অভিযোগ, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এসব অপপ্রচার ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

 

সাংবাদিক সবুজ হোসেন বলেন, “সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো ধরনের হুমকি, হয়রানি বা মানহানিকর অপপ্রচার মেনে নেওয়া হবে না। এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।”

 

এদিকে, মামলায় করা অভিযোগের বিষয়ে আমির উদ্দিন বাবুর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

সাংবাদিকের ছবি পোস্ট করে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ, আমির উদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা 

মাদকমুক্ত গাইবান্ধা গড়ার প্রত্যয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠি

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রতিরোধে করনীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ(২৭ আগষ্ট) বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ত্রন অধিদপ্তরের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা বেগমের সভাপতিত্বে ও শিরিন আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মো. মনিরুজ্জামান, গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(বি সার্কেল)শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।

 

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাদক দ্রব নিয়ত্রনের উপ- পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি)এ্যাডভোকেট মো.মিজানুর রহমান মিজান,গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসউজ্জামান মোনাসহ সুধিজন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ।

 

দেড় ঘন্টাব্যাপী আলোচনা সভায় মাদকের কু-প্রভাব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, মাদক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি। যা ব্যক্তি পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। যুব সমাজ কে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করতে মাদক নির্মুলে সকল কে একযোগে কাজ করতে হবে। সেই সাথে মাদক কারবারি ও মাদক সেবীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

শেষে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকল কে মাদক থেকে বিরত থাকার জন্য শপথ বাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক।

মাদকমুক্ত গাইবান্ধা গড়ার প্রত্যয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নওগাঁর আত্রাই নদীতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি

নওগাঁর ধামইরহাটে আত্রাই নদীর পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।৬ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের রসপুর (শিমুলতলী) সংলগ্ন আত্রাই নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত শিশুরা হলো—রসপুর (শিমুলতলী) গ্রামের মোঃ তৌহিদুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ জিসান উন নবী (৯) এবং একই গ্রামের মোঃ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ তাওহিদ ইসলাম (৭)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে জিসান ও তাওহিদ একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে অন্যান্যদের সাথে রসপুর গ্রাম সংলগ্ন আত্রাই নদীতে মাছ ধরতে যায়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের লোকজন তাদের দেখতে না পেয়ে নদী ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন নদীতে মাছ ধরার জন্য জাল ফেললে শিশু দুটির নিথর দেহ জালের সঙ্গে উঠে আসে। পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয়রা ও শিশুদের অভিভাবকরা দ্রুত উদ্ধার করে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ধামইরহাট থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই গ্রামের দুই শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি

মোবাইল নং ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তাং ২৭-৮-২০২৬

নওগাঁর আত্রাই নদীতে ডু/বে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃ/ত্যু

 

কাশিমপুরে মামলা প্রত্যাহারে হুমকি: বাড়িতে হামলা, যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ; ভিকটিম নিখোঁজ

 

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে ধর্ষণ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ বাদিনীর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং তার ছেলে মোঃ আশিক মোল্লাকে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে অপহৃত তরুণীকে ভারতে পাচার করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরও ভিকটিম আফরিন আক্তার হাবিবা এখনো উদ্ধার হয়নি বলে দাবি পরিবারের।

 

এ ঘটনায় মোছাঃ আমেনা বেগম (৫৩) গত ২৬ আগস্ট কাশিমপুর থানায় এজাহার রুজুর আবেদন করেছেন। এজাহারে মেহেদী হাসান (২৬), হৃদয় হাসান (২৫), জাহিদুল ইসলাম (৩৬), জাকির (৩৮), মাছুরা খাতুন (৩৫) ও হাফিজুর রহমান (৪৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদিনীর মেয়ে আফরিন আক্তার হাবিবা (১৭)-কে ধর্ষণের অভিযোগে ১ নম্বর আসামি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে কাশিমপুর থানায় মামলা নং-৬(৮)২৪, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় অভিযোগপত্র নং-৮১, তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০২৫ দাখিল করা হয়। মামলাটি বর্তমানে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা নং-৩৮৩/২০২৫ হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।

 

এজাহারে আমেনা বেগম অভিযোগ করেন, ১ নম্বর আসামি কারামুক্ত হওয়ার পর থেকেই মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি, হুমকি ও মানসিক চাপ দিয়ে আসছিলেন।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ১ নম্বর আসামি তার মেয়ে আফরিন আক্তার হাবিবাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে একই দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে ফেরত দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হয়।

 

পরবর্তীতে গত ২৮ জুন ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ১ থেকে ৬ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন বাদিনীর বসতবাড়িতে এসে তার মেয়ে আফরিন আক্তার হাবিবাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং আটক করে রাখে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৩১ জুলাই ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ১ নম্বর আসামি তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে বাদিনীর মোবাইল ফোনে কল করে ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেন। এ সময় তিনি মামলা প্রত্যাহার করলে হাবিবাকে ফেরত দেওয়া হবে, অন্যথায় তাকে ও তার মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করা অথবা মানব পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

বাদিনীর অভিযোগ, ৫ ও ৬ নম্বর আসামি মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং তার মেয়েকে অপহরণ ও গুমের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। এই চক্র ভিকটিমকে ভারতে পাচার করে দিয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আমেনা বেগম গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, ওই মামলা সি.পি. মামলা নং-২০০/২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় দায়ের করা হয়েছে এবং বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।

 

অভিযোগে বলা হয়, নালিশি মামলা দায়েরের বিষয়টি জানতে পেরে আসামিরা বাদী ও তার পরিবারের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ৩টা ২২ মিনিটে ১ থেকে ৬ নম্বর আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন রামদা, লোহার রড, বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদিনীর বসতবাড়ির উঠানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং লাথি মেরে ঘরের দরজার ক্ষতিসাধন করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

একপর্যায়ে আসামিরা ‘কোর্টে মামলা দিয়েছিস, মামলা তুলবি না?’ বলে ঘরের দুটি থাই গ্লাস ভাঙচুর করে জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এ সময় ১ নম্বর আসামির নির্দেশে অন্য আসামিরা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বাদিনীর ছেলে মোঃ আশিক মোল্লা (২৬)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। একপর্যায়ে তার গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষয়ক্ষতি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

বাদিনীর ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা মামলা প্রত্যাহার না করলে আশিক মোল্লাকে হত্যা এবং অপহৃত আফরিন আক্তার হাবিবাকে ভারতে পাচার করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত আশিক মোল্লাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজীপুরে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয় বলে বাদিনী জানিয়েছেন।

 

এজাহার দায়েরে বিলম্বের কারণ হিসেবে বাদিনী উল্লেখ করেন, আহত ছেলের চিকিৎসা, হাসপাতালে অবস্থান এবং স্বজনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও পরামর্শের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় উপস্থিত হয়ে এজাহার দায়ের করা সম্ভব হয়নি।

 

বাদিনী বলেন, ঘটনাগুলো একই ধারাবাহিকতায় সংঘটিত হয়ে আসছে এবং বর্তমানে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। বিশেষ করে তার মেয়ে আফরিন আক্তার হাবিবাকে অপহরণের পর অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখা এবং তাকে ভারতে পাচার ও হত্যার হুমকির কারণে তার জীবন ও নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

 

এ ঘটনায় ১ থেকে ৬ নম্বর আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত এফআইআর রুজু, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং অপহৃত আফরিন আক্তার হাবিবাকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন বাদিনী।

 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কাশিমপুরে মামলা প্রত্যাহারে হুমকি: বাড়িতে হামলা, যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ; ভিকটিম নিখোঁজ

নওগাঁয় গণধর্ষণের শিকার হলেন সাত বছরের শিশু, গ্রেপ্তার দুই কিশোর, শিশু চিকিৎসাধীন হাসপাতালে

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর রাণীনগরে ৭ বছরের এক শিশু কন্যাকে ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় রাণীনগর থানা পুলিশ।

 

ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার বিকেলে রাণীনগর উপজেলার ১ নং খট্টেশ্বর ইউনিয়নের লোহাচূড়া গ্রামে। পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশুটি বিকেলে নিজ বাড়ির আশেপাশে খেলাধুলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী দুই কিশোর তাকে মোবাইলে কার্টুন দেখার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে একটি ফাঁকা বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে একটি ঘরের ভেতর দুই কিশোর পালাক্রমে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।

 

এদিকে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে একপর্যায়ে অভিযুক্ত কিশোররা শিশুটিকে সেখানে ফেলে রেখে চম্পট দেয়।

 

পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে বুধবার গভীর রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে রাণীনগর থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পরই পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে।

 

নৃশংস এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল জানান, ঘটনার পর শিশুটির মা থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।

নওগাঁয় গণ/ধ/র্ষ/ণের শিকার হলেন সাত বছরের শিশু, গ্রেপ্তার দুই কিশোর, শিশু চিকিৎসাধীন হাসপাতালে 

নওগাঁ ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান, ১২০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার তিন

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নওগাঁর একটি টিম বদলগাছী থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ১২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযান পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি টিম জানতে পারে, বদলগাছী থানাধীন হলুদবিহার গ্রামের সুমন নামের এক ব্যক্তি তার বসতবাড়িতে মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১০টার দিকে অভিযান পরিচালনা করে সুমন হোসেন (৩৬), পিতা—ময়েন উদ্দিন, গ্রাম—হলুদবিহার, থানা—বদলগাছী, জেলা—নওগাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। উপস্থিত লোকজনের সামনে তার দেহ তল্লাশি করে পরিহিত প্যান্টের পকেট থেকে ১২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় সুমনের দুই সহযোগী গোলাম মোস্তফা (২৮), পিতা—মৃত আহমেদ আলী, গ্রাম—কোলার পালশা, থানা—বদলগাছী এবং আবুল কাশেম (৪৬), পিতা—মৃত শাহজাহান, গ্রাম—খামার আক্কেলপুর, থানা—বদলগাছী, জেলা—নওগাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বদলগাছী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নওগাঁ ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান, ১২০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার তিন

নওগাঁয় ১৪ বিজিবির অভিযানে নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর ধামইরহাট সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫৮০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেছো পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ১০টা ৪০ মিনিটে কালুপাড়া বিওপির টহল কমান্ডার হাবিলদার মোঃ বাদশা আলমগীরের নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত পিলার ২৭২/৭-এস থেকে আনুমানিক ২ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ধামইরহাট থানাধীন নিকেশ্বর ফুটবল মাঠের উত্তর পাশে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মাদককারবারিরা রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়।

 

পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ৫৮০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

 

এ ঘটনায় ধামইরহাট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) জানায়, নওগাঁ ও জয়পুরহাট সীমান্তবর্তী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অবৈধ সীমান্ত পারাপার প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নওগাঁ থেকে বিশেষ প্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম হেলাল এর পাঠানো ভিডিও চিত্র

নওগাঁয় ১৪ বিজিবির অভিযানে নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার 

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা প্রকাশ করেন।

 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গঠিত এই প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়া দেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের স্বার্থে কতটা প্রভাব ফেলবে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তা গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন দেশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জোটে যুক্ত হচ্ছে। সার্ক, বিমসটেক, ইন্দো-প্যাসিফিক বা ব্রিকসের মতোই বিশ্বজুড়ে একাধিক কৌশলগত জোটের বিস্তার ঘটছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই জোটটি ন্যাটোর আদলে গঠিত, যার মূল শর্ত হলো—সদস্য যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে তা তিনটি দেশের ওপর যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। এটি কেবল সামরিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সদস্য দেশগুলোর অর্থায়ন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে আগ্রহী অন্যান্য দেশের জন্যও এতে যোগ দেওয়ার সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে।

 

চুক্তির সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি ও বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই পদক্ষপে নেওয়া হবে। এতে দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে কি না, তা প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, যৌথ জোটভুক্ত সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক শ্রমবাজারের সম্পর্ক রয়েছে, যেখানে প্রায় ৪০ লাখ প্রবাসী নিয়োজিত। পাশাপাশি তুরস্কের সঙ্গেও সম্প্রতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনা বেশ জোরদার হয়েছে। তাই সার্বিক দিক পর্যালোচনা করেই বাংলাদেশ সরকার এই মক্কা চুক্তির বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

সৌদি-তুর্কি-পাকিস্তান সামরিক জোটে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে। ওই ছাত্রী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি বকুল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করতে খুঁজছে পুলিশ।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে আবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

 

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর বিএনপি নেতা বকুল মিয়া তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুলের নেতৃত্বে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ও তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

পরিবারের দাবি, গত ১ আগস্ট ওই ছাত্রীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকেরা তাকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।

 

ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রীর ভাষ্য, ‘ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বকুল মিয়া ও আবু মিয়া আমাকে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যেত। তখন আমি কিছু বুঝতাম না। তারা অন্য লোকজন দিয়েও আমাকে ধর্ষণ করিয়েছে। আমি বিষয়টি প্রকাশ করায় তারা আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমি এর কঠিন বিচার চাই।’

 

অভিযোগের বিষয়ে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। আজ রাতেই বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

কেন্দুয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে।

দলবদ্ধ ধ/র্ষণে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী, বিএনপি নেতাকে খুঁজছে পুলিশ

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে। ওই ছাত্রী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি বকুল মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করতে খুঁজছে পুলিশ।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে আবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

 

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর বিএনপি নেতা বকুল মিয়া তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুলের নেতৃত্বে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ও তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

পরিবারের দাবি, গত ১ আগস্ট ওই ছাত্রীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকেরা তাকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।

 

ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রীর ভাষ্য, ‘ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বকুল মিয়া ও আবু মিয়া আমাকে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যেত। তখন আমি কিছু বুঝতাম না। তারা অন্য লোকজন দিয়েও আমাকে ধর্ষণ করিয়েছে। আমি বিষয়টি প্রকাশ করায় তারা আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমি এর কঠিন বিচার চাই।’

 

অভিযোগের বিষয়ে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। আজ রাতেই বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

কেন্দুয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে।

দলবদ্ধ ধ/র্ষণে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী, বিএনপি নেতাকে খুঁজছে পুলিশ

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d