নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, চারজনের নামে মামলা  - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, চারজনের নামে মামলা 

নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, চারজনের নামে মামলা 

 

নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, চারজনের নামে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

বৃহস্পতিবার

২৭/আগস্ট ২০২৬ইং

নীলফামারীতে নাছরিন নাহার (৩৫)‌ নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে চারজনের নামে হত্যা মামলা

দায়ের করা হয়েছে। এর আগে বুধবার মধ্যরাতে সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের লালপাড়া এলাকাস্থ আব্দুল মান্নানের বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নাছরিন নাহার নীলফামারী শহরের কলেজ পাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের মেয়ে এবং লালপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নানের স্ত্রী। মামলা সূত্রে জানাযায়, চার বছর আগে

কুন্দুপুকুর লালপাড়া এলাকার মৃত. আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মান্নানের সাথে বিয়ে হয় নাছরিনের। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ায় নাছরিনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল মান্নান। বিয়ের সময় জামাতাকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দেয় মেয়ের পরিবার। কিছুদিন থেকে আরও তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নাছরিনকে চাপ দিচ্ছিলো মান্নান ও তার পরিবার। এরেই জের ধরে বুধবার রাতে (২৬ আগস্ট) জামাতা আব্দুল মান্নান, বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন, প্রথম স্ত্রীর ছেলে আলমগীর হোসেন ও তার স্ত্রী আরিফা বেগম মারধোর করে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা শুরু করা হয়। নাছরিনের পিতা আব্দুল জব্বার অভিযোগ করে বলেন, ৩ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছিল ছেলের পরিবার। কয়েক দফায় শারীরীক মানসিক নির্যাতন করা হয়। এ নিয়ে বিচার শালিশও করা হয়। ঘটনার দিন আবারও যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হলে মেয়ে এর প্রতিবাদ জানানোয় তাকে হত্যা করা হয়। আব্দুল জব্বার বলেন, এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। বিষয়টি নিশ্চিত করে নীলফামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরা দেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নাছরিন নাহারের বাবা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে নীলফামারী জেলা সদর থানায় মামলা করেছেন।


সাভারের আশুলিয়ায় ভুয়া পত্রিকা অফিসের আড়ালে পরিচালিত একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক দুই কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ ও নিম্নমানের ভারতীয় কনডম ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় সাভার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

উপজেলা প্রশাসন জানায়, বাইপাইল এলাকায় ভুয়া সংবাদপত্রের সাইনবোর্ড ও একাধিক সামাজিক সংগঠনের পরিচয়ের আড়ালে একটি প্রতিষ্ঠানে অবৈধ ও নকল জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী মোড়কজাত ও মজুত করা হচ্ছিল।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ কনডম ও অন্যান্য জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের কাঁচামাল ভারত থেকে আমদানি করা হতো বলে জানা গেছে।

 

অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটি কোনো অনুমোদিত বা বৈধ প্রতিষ্ঠান নয়। এখানে অবৈধভাবে নিম্নমানের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী মোড়কজাত ও মজুত করা হচ্ছিল। এসব পণ্যের অধিকাংশই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা হতো। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। পাশাপাশি পণ্যের মান যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় এগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

 

তিনি জানান, এর আগে একই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল এবং ভবনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার শর্তে সিলগালা খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু মালিকপক্ষ নিয়ম না মেনে গোপনে পুনরায় যৌন উত্তেজক ওষুধ ও নকল কনডম প্রস্তুত ও মোড়কজাতসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

 

ইউএনও সাইফুল ইসলাম আরও জানান, অভিযান শেষে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মালামাল ট্রাকে তুলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।

 

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের মূল অভিযুক্ত ও কর্ণধার শাহাদত হোসেন শান্তু অভিযানের সময় ঢাকায় অবস্থান করায় তাকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাও পালিয়ে যায়।

 

জড়িতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ইউএনও।

 

প্রশাসনের অভিযানে ২ কোটি টাকার কনডম জব্দ

চাঁদপুর থেকে নিখোঁজ স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টুসহ তার পরিবারের সদস্যদের চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ।

 

জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালায় এবং তার পরিবারের চার সদস্যকে আটক করে।

 

চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কালামের নেতৃত্বে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। তিনি জানান, আটকের পর তাদের চাঁদপুরে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্যের জন্য পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় চাঁদপুর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য আত্মগোপনে ছিলেন। বিষয়টি না জেনে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার খবর ছড়াচ্ছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি।

 

আত্মগোপনে থাকা পরিবারের সদস্যরা হলেন- পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম এবং ছোট ছেলে রুপম দাস। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

পিন্টু দাসের আত্মীয় উপমা দে জানান, পিন্টু, তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে চাঁদপুর শহরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

 

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পিন্টু বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে- স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে তা ফেরত দিতে পারেননি তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন।

 

একাধিকবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ শহরের কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন পিন্টু দাস। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম টাকা দিয়ে স্বর্ণ বন্ধক রাখা হতো।

 

রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান অভিযোগ করেন, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস তাকে পরদিন আসতে বলেন। এরপর তিনি জানতে পারেন, পিন্টু দাস পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে গেছেন।

 

রাসেল খান জানান, স্বর্ণ ফেরত ও টাকা না পাওয়ায় তিনি গত ২৪ আগস্ট পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন।

 

এদিকে দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন। তারাও বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আত্মগোপনে থাকা সেই স্বর্ণ ব্যবসায়ী সপরিবারে আটক

বিয়ের দাবিতে ছেলের বাড়িতে ১৫ বছরের কিশোরীর অনশন

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারী সদর উপজেলার ১১ নং সোনারায় ইউনিয়নের সোনারায় চক দুবুলিয়া গ্রামের ডাঙ্গাপাড়ায় বিয়ের দাবিতে এক কিশোরীর অনশনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার

(২৭/আগস্ট/২৬ইং) কিশোরীর দাবি, একই এলাকার জাবেদ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার দীঘদীনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। বর্তমানে সে ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলেও দাবি করেছে কিশোরী মোসলেমা।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জাবেদ আলীর ছেলে আব্দুল্লার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন একই গ্রামের মশিউর রহমানের মেয়ে মোসলেমা (১৫) তার দাবি, আব্দুল্লাহ তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে বিয়েতে সম্মতি না দেওয়ায় তিনি ওই বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন।

 

কিশোরী মোসলেমা (১৫)ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল্লাহ তাকে একটি মুঠোফোন উপহার দেয় সবসময় কথা বলার জন্য। এবং এই মুঠোফোন দিয়ে আব্দুল্লাহ তার সাথে যোগাযোগ করতো, সম্পর্ক গভীর হলে আব্দুল্লাহ তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক শুরু করে। একাধিকবার যৌন মিলনের ফলে বর্তমানে তিনি ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলেও দাবি করেছেন। তবে তার গর্ভধারণের বিষয়টি চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

 

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে বর্তমান ঢাকায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে মোসলেমা আক্তার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ফলে তাদের দুজনেরই বিয়ের আইনগত বয়স হয়নি বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

 

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার দাবি সত্য হলে তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি উঠেছে।

 

এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ ও তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, কিশোরীর গর্ভধারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বয়স সম্পর্কে সরকারি বা চিকিৎসা সূত্রের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

বিয়ের দাবিতে ছেলের বাড়িতে ১৫ বছরের কিশোরীর অনশন

মাদকমুক্ত গাইবান্ধা গড়ার প্রত্যয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠি

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রতিরোধে করনীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ(২৭ আগষ্ট) বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ত্রন অধিদপ্তরের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা বেগমের সভাপতিত্বে ও শিরিন আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মো. মনিরুজ্জামান, গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(বি সার্কেল)শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।

 

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাদক দ্রব নিয়ত্রনের উপ- পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি)এ্যাডভোকেট মো.মিজানুর রহমান মিজান,গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসউজ্জামান মোনাসহ সুধিজন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ।

 

দেড় ঘন্টাব্যাপী আলোচনা সভায় মাদকের কু-প্রভাব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, মাদক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি। যা ব্যক্তি পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। যুব সমাজ কে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করতে মাদক নির্মুলে সকল কে একযোগে কাজ করতে হবে। সেই সাথে মাদক কারবারি ও মাদক সেবীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

শেষে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকল কে মাদক থেকে বিরত থাকার জন্য শপথ বাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক।

মাদকমুক্ত গাইবান্ধা গড়ার প্রত্যয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নওগাঁর আত্রাই নদীতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি

নওগাঁর ধামইরহাটে আত্রাই নদীর পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।৬ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের রসপুর (শিমুলতলী) সংলগ্ন আত্রাই নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত শিশুরা হলো—রসপুর (শিমুলতলী) গ্রামের মোঃ তৌহিদুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ জিসান উন নবী (৯) এবং একই গ্রামের মোঃ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ তাওহিদ ইসলাম (৭)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে জিসান ও তাওহিদ একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে অন্যান্যদের সাথে রসপুর গ্রাম সংলগ্ন আত্রাই নদীতে মাছ ধরতে যায়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের লোকজন তাদের দেখতে না পেয়ে নদী ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন নদীতে মাছ ধরার জন্য জাল ফেললে শিশু দুটির নিথর দেহ জালের সঙ্গে উঠে আসে। পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয়রা ও শিশুদের অভিভাবকরা দ্রুত উদ্ধার করে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ধামইরহাট থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই গ্রামের দুই শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি

মোবাইল নং ০১৭২৪২৫৫৭০৬

তাং ২৭-৮-২০২৬

নওগাঁর আত্রাই নদীতে ডু/বে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃ/ত্যু

 

কাশিমপুরে মামলা প্রত্যাহারে হুমকি: বাড়িতে হামলা, যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ; ভিকটিম নিখোঁজ

 

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে ধর্ষণ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ বাদিনীর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং তার ছেলে মোঃ আশিক মোল্লাকে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে অপহৃত তরুণীকে ভারতে পাচার করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরও ভিকটিম আফরিন আক্তার হাবিবা এখনো উদ্ধার হয়নি বলে দাবি পরিবারের।

 

এ ঘটনায় মোছাঃ আমেনা বেগম (৫৩) গত ২৬ আগস্ট কাশিমপুর থানায় এজাহার রুজুর আবেদন করেছেন। এজাহারে মেহেদী হাসান (২৬), হৃদয় হাসান (২৫), জাহিদুল ইসলাম (৩৬), জাকির (৩৮), মাছুরা খাতুন (৩৫) ও হাফিজুর রহমান (৪৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদিনীর মেয়ে আফরিন আক্তার হাবিবা (১৭)-কে ধর্ষণের অভিযোগে ১ নম্বর আসামি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে কাশিমপুর থানায় মামলা নং-৬(৮)২৪, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় অভিযোগপত্র নং-৮১, তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০২৫ দাখিল করা হয়। মামলাটি বর্তমানে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা নং-৩৮৩/২০২৫ হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।

 

এজাহারে আমেনা বেগম অভিযোগ করেন, ১ নম্বর আসামি কারামুক্ত হওয়ার পর থেকেই মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি, হুমকি ও মানসিক চাপ দিয়ে আসছিলেন।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ১ নম্বর আসামি তার মেয়ে আফরিন আক্তার হাবিবাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে একই দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে ফেরত দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হয়।

 

পরবর্তীতে গত ২৮ জুন ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ১ থেকে ৬ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন বাদিনীর বসতবাড়িতে এসে তার মেয়ে আফরিন আক্তার হাবিবাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং আটক করে রাখে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৩১ জুলাই ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ১ নম্বর আসামি তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে বাদিনীর মোবাইল ফোনে কল করে ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেন। এ সময় তিনি মামলা প্রত্যাহার করলে হাবিবাকে ফেরত দেওয়া হবে, অন্যথায় তাকে ও তার মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করা অথবা মানব পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

বাদিনীর অভিযোগ, ৫ ও ৬ নম্বর আসামি মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং তার মেয়েকে অপহরণ ও গুমের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। এই চক্র ভিকটিমকে ভারতে পাচার করে দিয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আমেনা বেগম গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, ওই মামলা সি.পি. মামলা নং-২০০/২০২৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় দায়ের করা হয়েছে এবং বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।

 

অভিযোগে বলা হয়, নালিশি মামলা দায়েরের বিষয়টি জানতে পেরে আসামিরা বাদী ও তার পরিবারের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ৩টা ২২ মিনিটে ১ থেকে ৬ নম্বর আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন রামদা, লোহার রড, বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদিনীর বসতবাড়ির উঠানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং লাথি মেরে ঘরের দরজার ক্ষতিসাধন করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

একপর্যায়ে আসামিরা ‘কোর্টে মামলা দিয়েছিস, মামলা তুলবি না?’ বলে ঘরের দুটি থাই গ্লাস ভাঙচুর করে জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এ সময় ১ নম্বর আসামির নির্দেশে অন্য আসামিরা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বাদিনীর ছেলে মোঃ আশিক মোল্লা (২৬)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। একপর্যায়ে তার গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষয়ক্ষতি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

বাদিনীর ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা মামলা প্রত্যাহার না করলে আশিক মোল্লাকে হত্যা এবং অপহৃত আফরিন আক্তার হাবিবাকে ভারতে পাচার করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত আশিক মোল্লাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজীপুরে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয় বলে বাদিনী জানিয়েছেন।

 

এজাহার দায়েরে বিলম্বের কারণ হিসেবে বাদিনী উল্লেখ করেন, আহত ছেলের চিকিৎসা, হাসপাতালে অবস্থান এবং স্বজনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও পরামর্শের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় উপস্থিত হয়ে এজাহার দায়ের করা সম্ভব হয়নি।

 

বাদিনী বলেন, ঘটনাগুলো একই ধারাবাহিকতায় সংঘটিত হয়ে আসছে এবং বর্তমানে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। বিশেষ করে তার মেয়ে আফরিন আক্তার হাবিবাকে অপহরণের পর অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখা এবং তাকে ভারতে পাচার ও হত্যার হুমকির কারণে তার জীবন ও নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

 

এ ঘটনায় ১ থেকে ৬ নম্বর আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত এফআইআর রুজু, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং অপহৃত আফরিন আক্তার হাবিবাকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন বাদিনী।

 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কাশিমপুরে মামলা প্রত্যাহারে হুমকি: বাড়িতে হামলা, যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ; ভিকটিম নিখোঁজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইতালি প্রবাসী হবু বরের চাওয়ামতো অশ্লীল ছবি না দেওয়ায় এক তরুণীর বিয়ে ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে অভিমানে ইঁদুরের বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই তরুণী।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী তরুণী উপজেলার শ্রীনগর এলাকার জীবন মিয়ার মেয়ে মীম বেগম (২০)। অভিযুক্ত হবু স্বামী একই ইউনিয়নের শিরার বাড়ির দুলাল মিয়ার ছেলে ইতালী প্রবাসী পাভেল মিয়া (২২)।

 

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাত মাস আগে শ্রীনগর ইউনিয়নের জীবন মিয়ার মেয়ে মীম বেগমের সঙ্গে একই এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে পাভেল মিয়ার বিয়ের কথা দুই পরিবারের মাঝে পাকাপাকি হয়। ওইদিনই পাভেলের পরিবার মীম বেগমকে একটি আংটি পরিয়ে দেয়। পাভেল ইতালি থেকে ওই তরুণীর সঙ্গে সাত মাস ধরে মোবাইলফোনে যোগাযোগ রাখেন।

 

সম্পর্ক গভীরতায় পাভেল মীমের কাছে ফোনে অনৈতিক আবদার করে নগ্ন ছবি পাঠাতে বলেন। সেই চাওয়া না মেটানোয় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পাভেল আংটি ও কিছু নগদ টাকা ফেরত দিয়ে বিয়ে ভেঙে দেন। এ ঘটনায় অভিমানে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে ওই তরুণী ইঁদুর মারার বিষ খান।

 

পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে মারা যান।

 

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক মিয়া বলেন, ‘বিয়ের কথা হয়েছে আমি জানতাম। ওই তরুণীর মৃত্যুর খবরের পর স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, অনৈতিক দাবির কারণেই তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়ে বিয়ে ভেঙে যায়।’

 

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অশ্লীল ছবি না পাঠানোয় বিয়ে ভাঙলো হবু বর, তরুণীর আত্মহত্যা

সাভারের আশুলিয়ায় ভুয়া পত্রিকা অফিসের আড়ালে পরিচালিত একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক দুই কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ ও নিম্নমানের ভারতীয় কনডম ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় সাভার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

উপজেলা প্রশাসন জানায়, বাইপাইল এলাকায় ভুয়া সংবাদপত্রের সাইনবোর্ড ও একাধিক সামাজিক সংগঠনের পরিচয়ের আড়ালে একটি প্রতিষ্ঠানে অবৈধ ও নকল জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী মোড়কজাত ও মজুত করা হচ্ছিল।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ কনডম ও অন্যান্য জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের কাঁচামাল ভারত থেকে আমদানি করা হতো বলে জানা গেছে।

 

অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটি কোনো অনুমোদিত বা বৈধ প্রতিষ্ঠান নয়। এখানে অবৈধভাবে নিম্নমানের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী মোড়কজাত ও মজুত করা হচ্ছিল। এসব পণ্যের অধিকাংশই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা হতো। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। পাশাপাশি পণ্যের মান যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় এগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

 

তিনি জানান, এর আগে একই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল এবং ভবনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার শর্তে সিলগালা খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু মালিকপক্ষ নিয়ম না মেনে গোপনে পুনরায় যৌন উত্তেজক ওষুধ ও নকল কনডম প্রস্তুত ও মোড়কজাতসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

 

ইউএনও সাইফুল ইসলাম আরও জানান, অভিযান শেষে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মালামাল ট্রাকে তুলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।

 

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের মূল অভিযুক্ত ও কর্ণধার শাহাদত হোসেন শান্তু অভিযানের সময় ঢাকায় অবস্থান করায় তাকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাও পালিয়ে যায়।

 

জড়িতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ইউএনও।

 

প্রশাসনের অভিযানে ২ কোটি টাকার কনডম জব্দ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

অভিযোগপত্রভুক্ত অপর আসামি হলেন আমান উল্লাহর ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়া (৩২)।

 

তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে প্রধান আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদীর ডিএনএ ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিলে যাওয়ার পর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোনা জেলা আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ।

 

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল বলেন, আদালতের নির্দেশে ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো নমুনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি আদালতে পৌঁছেছে। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের ফলাফলে নবজাতকের সঙ্গে আমান উল্লাহ মাহমুদীর পিতৃত্বের সম্ভাবনা ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত হয়েছে।

 

এর আগে আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোম থেকে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। এর আগে গত ১৭ মে অভিযুক্ত আমান উল্লাহর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ২ জুলাই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই ১১ বছর বয়সী শিশু একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমান উল্লাহ মাহমুদীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আমান উল্লাহ শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

 

পরে গত ৭ মে আদালত আমান উল্লাহকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ১০ মে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।

 

এদিকে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তার মা আদালতে সুরক্ষার আবেদন করেন। পরে ১২ মে আদালত শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্তপর্ব শেষ হয়েছে। এখন অভিযোগপত্রের ওপর আদালতের পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম শেষে মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে এগিয়ে যাবে।

১১ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ ণ মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহসহ দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

চাঁদপুর থেকে নিখোঁজ স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টুসহ তার পরিবারের সদস্যদের চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ।

 

জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালায় এবং তার পরিবারের চার সদস্যকে আটক করে।

 

চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কালামের নেতৃত্বে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। তিনি জানান, আটকের পর তাদের চাঁদপুরে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্যের জন্য পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় চাঁদপুর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য আত্মগোপনে ছিলেন। বিষয়টি না জেনে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার খবর ছড়াচ্ছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি।

 

আত্মগোপনে থাকা পরিবারের সদস্যরা হলেন- পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম এবং ছোট ছেলে রুপম দাস। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

পিন্টু দাসের আত্মীয় উপমা দে জানান, পিন্টু, তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে চাঁদপুর শহরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

 

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পিন্টু বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে- স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে তা ফেরত দিতে পারেননি তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন।

 

একাধিকবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ শহরের কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন পিন্টু দাস। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম টাকা দিয়ে স্বর্ণ বন্ধক রাখা হতো।

 

রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান অভিযোগ করেন, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস তাকে পরদিন আসতে বলেন। এরপর তিনি জানতে পারেন, পিন্টু দাস পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে গেছেন।

 

রাসেল খান জানান, স্বর্ণ ফেরত ও টাকা না পাওয়ায় তিনি গত ২৪ আগস্ট পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন।

 

এদিকে দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন। তারাও বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আত্মগোপনে থাকা সেই স্বর্ণ ব্যবসায়ী সপরিবারে আটক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া এখনো প্রায় ১৪০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধানে তৃতীয় দিনও উদ্ধারকারী দলগুলো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ এগোলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

নেপালি পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার ঢল ও ভূমিধসের পর এই বিপর্যয় ঘটে। এতে বাড়িঘর, সড়ক, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত নেপালে থাকা ২৯০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ৮৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ত্রিশূলী-১ প্রকল্পের ৬৩ জন কর্মী এবং তামিলনাড়ুর ২১ জন রয়েছেন।

 

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, বন্যার পর প্রায় ৩০০ ভারতীয় পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো ১৭৮ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন।

 

নেপাল ও তিব্বতে মিলিয়ে মোট ৮২৬ জন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন।

 

নতুন বন্যার সতর্কতা চীনের

 

নেপালে ভয়াবহ বন্যার ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে চীন।

 

চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে একটি প্রাকৃতিক বাঁধের কারণে জলাধার বা ‘ব্যারিয়ার লেক’ তৈরি হয়েছে।

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২, নিখোঁজ ১৪০০

 

নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, চারজনের নামে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

বৃহস্পতিবার

২৭/আগস্ট ২০২৬ইং

নীলফামারীতে নাছরিন নাহার (৩৫)‌ নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে চারজনের নামে হত্যা মামলা

দায়ের করা হয়েছে। এর আগে বুধবার মধ্যরাতে সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের লালপাড়া এলাকাস্থ আব্দুল মান্নানের বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নাছরিন নাহার নীলফামারী শহরের কলেজ পাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের মেয়ে এবং লালপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নানের স্ত্রী। মামলা সূত্রে জানাযায়, চার বছর আগে

কুন্দুপুকুর লালপাড়া এলাকার মৃত. আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মান্নানের সাথে বিয়ে হয় নাছরিনের। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ায় নাছরিনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল মান্নান। বিয়ের সময় জামাতাকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দেয় মেয়ের পরিবার। কিছুদিন থেকে আরও তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নাছরিনকে চাপ দিচ্ছিলো মান্নান ও তার পরিবার। এরেই জের ধরে বুধবার রাতে (২৬ আগস্ট) জামাতা আব্দুল মান্নান, বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন, প্রথম স্ত্রীর ছেলে আলমগীর হোসেন ও তার স্ত্রী আরিফা বেগম মারধোর করে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা শুরু করা হয়। নাছরিনের পিতা আব্দুল জব্বার অভিযোগ করে বলেন, ৩ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছিল ছেলের পরিবার। কয়েক দফায় শারীরীক মানসিক নির্যাতন করা হয়। এ নিয়ে বিচার শালিশও করা হয়। ঘটনার দিন আবারও যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হলে মেয়ে এর প্রতিবাদ জানানোয় তাকে হত্যা করা হয়। আব্দুল জব্বার বলেন, এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। বিষয়টি নিশ্চিত করে নীলফামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরা দেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নাছরিন নাহারের বাবা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে নীলফামারী জেলা সদর থানায় মামলা করেছেন।

নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, চারজনের নামে মামলা 

বিয়ের দাবিতে ছেলের বাড়িতে ১৫ বছরের কিশোরীর অনশন

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারী সদর উপজেলার ১১ নং সোনারায় ইউনিয়নের সোনারায় চক দুবুলিয়া গ্রামের ডাঙ্গাপাড়ায় বিয়ের দাবিতে এক কিশোরীর অনশনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার

(২৭/আগস্ট/২৬ইং) কিশোরীর দাবি, একই এলাকার জাবেদ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার দীঘদীনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। বর্তমানে সে ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলেও দাবি করেছে কিশোরী মোসলেমা।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জাবেদ আলীর ছেলে আব্দুল্লার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন একই গ্রামের মশিউর রহমানের মেয়ে মোসলেমা (১৫) তার দাবি, আব্দুল্লাহ তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে বিয়েতে সম্মতি না দেওয়ায় তিনি ওই বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন।

 

কিশোরী মোসলেমা (১৫)ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল্লাহ তাকে একটি মুঠোফোন উপহার দেয় সবসময় কথা বলার জন্য। এবং এই মুঠোফোন দিয়ে আব্দুল্লাহ তার সাথে যোগাযোগ করতো, সম্পর্ক গভীর হলে আব্দুল্লাহ তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক শুরু করে। একাধিকবার যৌন মিলনের ফলে বর্তমানে তিনি ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলেও দাবি করেছেন। তবে তার গর্ভধারণের বিষয়টি চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

 

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে বর্তমান ঢাকায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে মোসলেমা আক্তার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ফলে তাদের দুজনেরই বিয়ের আইনগত বয়স হয়নি বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

 

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার দাবি সত্য হলে তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি উঠেছে।

 

এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ ও তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, কিশোরীর গর্ভধারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বয়স সম্পর্কে সরকারি বা চিকিৎসা সূত্রের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

বিয়ের দাবিতে ছেলের বাড়িতে ১৫ বছরের কিশোরীর অনশন

নওগাঁ ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ: পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার ২ কিশোরের স্বীকারোক্ত

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধি

নওগাঁর রানীনগরে ৬ বছরের এক শিশুকন্যাকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগে দুই বখাটে কিশোরকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো—মোঃ ইফতিয়াক (১৫) ও মোঃ মাৎরুফ (১৬)।

 

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪:০০ ঘটিকার সময় ওই শিশুকন্যাটি পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা মাত্রই নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় রানীনগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম দ্রুত অভিযানে নামে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত দুই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

 

এ ঘটনায় রানীনগর থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-১২, তারিখ: ২৭/০৮/২০২৬ খ্রিঃ) রুজু করা হয়েছে।

 

গ্রেফতারের পর রানীনগর থানা ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৃথক জিজ্ঞাসাসাবাদে অভিযুক্ত দুই কিশোর পুলিশের নিকট শিশুটিকে ধর্ষণের কথা প্রাথমিকভবে স্বীকার করেছে।

 

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, নারী ও শিশুদের ওপর সংঘটিত যেকোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করবে এবং অপরাধীদের আইন অনুযায়ী কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

নওগাঁ ৬ বছরের শিশু ধ/ র্ষ/ণ: পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার ২ কিশোরের স্বীকারোক্তি

সাংবাদিকের ছবি পোস্ট করে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ, আমির উদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

নওগাঁর পোরশায় ভূমি অফিস সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে চাঁদাবাজসহ বিভিন্ন অপবাদ দেওয়ার অভিযোগে আমির উদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নওগাঁর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সাংবাদিক সবুজ হোসেন।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর আমির উদ্দিন বাবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের ছবি প্রকাশ করে বিভিন্ন মিথ্যা ও মানহানিকর অপপ্রচার চালান। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই এলাকায় গেলে সাংবাদিকদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

 

বাদীপক্ষের অভিযোগ, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এসব অপপ্রচার ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

 

সাংবাদিক সবুজ হোসেন বলেন, “সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো ধরনের হুমকি, হয়রানি বা মানহানিকর অপপ্রচার মেনে নেওয়া হবে না। এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।”

 

এদিকে, মামলায় করা অভিযোগের বিষয়ে আমির উদ্দিন বাবুর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

সাংবাদিকের ছবি পোস্ট করে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ, আমির উদ্দিন বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা 

মাদকমুক্ত গাইবান্ধা গড়ার প্রত্যয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠি

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রতিরোধে করনীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ(২৭ আগষ্ট) বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ত্রন অধিদপ্তরের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা বেগমের সভাপতিত্বে ও শিরিন আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মো. মনিরুজ্জামান, গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(বি সার্কেল)শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।

 

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাদক দ্রব নিয়ত্রনের উপ- পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি)এ্যাডভোকেট মো.মিজানুর রহমান মিজান,গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসউজ্জামান মোনাসহ সুধিজন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ।

 

দেড় ঘন্টাব্যাপী আলোচনা সভায় মাদকের কু-প্রভাব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, মাদক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি। যা ব্যক্তি পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। যুব সমাজ কে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করতে মাদক নির্মুলে সকল কে একযোগে কাজ করতে হবে। সেই সাথে মাদক কারবারি ও মাদক সেবীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

শেষে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকল কে মাদক থেকে বিরত থাকার জন্য শপথ বাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক।

মাদকমুক্ত গাইবান্ধা গড়ার প্রত্যয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d