মালয়েশিয়া এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স এর বিশেষ উঠান বৈঠক। - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
মালয়েশিয়া এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স এর বিশেষ উঠান বৈঠক।

মালয়েশিয়া এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স এর বিশেষ উঠান বৈঠক।

মালয়েশিয়া এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স এর বিশেষ উঠান বৈঠক।

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের এর উদ্যোগে এক বিশেষ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

এনসিপি মালয়েশিয়ার যুগ্ম সচিব জনাব মুশফিক আহমেদ এর সঞ্চালনায়

উক্ত উঠান বৈঠকে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি(NCP)র যুগ্ম সদস্য সচিব জনাব ফরিদুল হক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি(NCP)র যুগ্ম সদস্য সচিব এবং গ্লোবাল ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের সম্পাদক জনাব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ।

 

আজকের উঠান বৈঠক ছিলো একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রোগ্রাম।

এখানে মালয়েশিয়া এনসিপির বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে দেশ গঠনে,নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নে,দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে এনসিপির পরবর্তী ভাবনা ভিশন সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন রাখেন।

 

আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান দুই আলোচক সবার প্রশ্নের চুলচেড়া বিশ্লেষণ করেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসীরা কেন এনসিপির সঙ্গে যোগদান করবে?

 

এই প্রশ্নের জবাবে ফরিদুল হক বলেন—

 

“প্রবাসীরা এনসিপির সঙ্গে যোগদান করবে একটি সমৃদ্ধ, কল্যাণমুখী ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায়। এমন একটি বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তারা গর্ববোধ করবে এবং ভবিষ্যতে নির্ভয়ে ও সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরে আসতে পারবে। তারা চায়, তাদের আগামী প্রজন্ম যেন একটি নিরাপদ, সুন্দর ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে বেড়ে উঠতে পারে।

 

প্রবাসীরা এনসিপির সঙ্গে থাকবে, কারণ তারা বিশ্বাস করে—এনসিপির নেতৃত্বে রাষ্ট্রের সংস্কার, মৌলিক পরিবর্তন এবং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

 

প্রবাসীরা আরও চায়, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের যে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বৈষম্য রয়েছে, তার অবসান হোক। প্রবাসীদের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত হোক এবং দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে তাদের অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পাক।

 

এই প্রত্যাশা থেকেই প্রবাসীরা এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হবে—একটি নতুন, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে।”

 

ফরিদুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন—

 

“প্রধানমন্ত্রীকে দশবার ‘মাননীয়’ বলতেও আমরা রাজি আছি, যদি তিনি সত্যিকার অর্থে দেশে দুর্নীতি বন্ধ করতে পারেন, অনিয়ম বন্ধ করতে পারেন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের চুরি-লুটপাট বন্ধ করতে পারেন।

 

একজন প্রধানমন্ত্রীর সত্যিকার কাজ হবে দেশের অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।


মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হাইকমিশনে ৫ বছরে সাড়ে চার’শ অভিযোগের মধ্যে , ৩৩০টির সমাধান।

 

 

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

 

 

সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে প্রিয় মানুষদের সঙ্গ ছেড়ে প্রতিবছর লাখ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে পাড়ি জমালেও সবার ভাগ্য পরিবর্তন হয় না। মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে কলিং ভিসায় গিয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশি নিয়োগ-সংক্রান্ত ঋণের বোঝা, বকেয়া বেতন, অভিবাসন ও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা, এবং দেশে ফেরত পাঠানোর পরও নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন পার করেন।

 

 

 

দেশটিতে ২০২২ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হাইকমিশন বেতন, ভিসা নবায়নসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রায় ৪৫০ টির মত অভিযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে ৩৩০ টির অধিক অভিযোগ নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে মধ্যস্থতা এবং মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে জানিয়েছে দূতাবাস।

 

 

 

গত ৮ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে Responsible Business Alliance—RBA আয়োজিত “From Commitment to Action: Best Practices of Human Rights Due Diligence Across Supply Chain” শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় মালয়েশিয়ায় অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় Best Practices তুলে ধরে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

 

 

 

এসময় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মত শাহানারা মনিকা অভিবাসী কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে বলেন, কর্মী, নিয়োগকর্তা, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় করে অভিযোগের সমাধান, ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিতকরণ, কল্যাণমূলক সহায়তা এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে হাইকমিশন কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হাইকমিশনে ৫ বছরে সাড়ে চার’শ অভিযোগের মধ্যে , ৩৩০টির সমাধান

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিশেষ বার্তা।

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

‘মাইগ্র্যান্ট রিপেট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২’-এর মাধ্যমে নথিবিহীন বিদেশিদের দেশে ফেরার সুযোগ দিচ্ছে মালয়েশিয়া সরকার। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ভিসাহীন বাংলাদেশিদের দেশে ফিরে যেতে তাগিদ দিয়েছে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

 

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ফেসবুক পেজে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) তরিকুল ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান।

 

ভিডিও বার্তায় তরিকুল ইসলাম বলেন, “আপনারা হয়তো জানেন, অনিয়মিত বা নথিবিহীন বিদেশি অভিবাসীদের জন্য বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকারের ইমিগ্রেশন বিভাগের একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর নাম ‘মাইগ্র্যান্ট রিপেট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২’ বা ‘বিআরএম ২.০’। এই কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বা নথিবিহীন বিদেশি নাগরিক বা কর্মীরা আইনসম্মতভাবে ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

 

“প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা এই কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে চান, তাদের সহজ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। যাদের বৈধ পাসপোর্ট নেই বা পাসপোর্টের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে, তারা বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে একটি ট্রাভেল পারমিট বা টিপি নেবেন।

 

“এরপর দেশে ফেরার জন্য বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। মালয়েশিয়ার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, টিকিটের যাত্রার তারিখ ইমিগ্রেশনে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কমপক্ষে পাঁচ দিন পর এবং ১৪ দিনের মধ্যে হতে হবে।”

 

আবেদনকারীকে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে জানিয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, “কোনো প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে না। আবেদনের সময় সঙ্গে রাখতে হবে—মূল পাসপোর্ট অথবা ট্রাভেল পারমিট, পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার কপি, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন উভয় পাসপোর্ট এবং বাংলাদেশে ফেরার বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট।

 

“সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি ও প্রযোজ্য জরিমানা ইমিগ্রেশন বিভাগের অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ ফি ও শর্তাবলি ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নিতে হবে।”

 

অনিয়মিত বাংলাদেশিদের সতর্ক করে তরিকুল ইসলাম বলেন, “মনে রাখবেন, বিআরএম ২.০-এর আবেদন করতে কোনো দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন। নিজের আবেদন নিজেই করুন এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

 

“ভাই ও বোনেরা, আপনারা যদি এই কর্মসূচির আওতায় আইনসম্মতভাবে এবং নিরাপদে দেশে ফিরতে চান, তাহলে শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নিন।”

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিশেষ বার্তা।

ইতালিতে জনপ্রিয় বাংলাদেশী অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্টাটাসে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।

 

ফেসবুক স্টাটাসে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ইতালির ভেনিসে জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা আজমেরী হক বাঁধনের ওপর নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একজন নারী তথা জুলাই যোদ্ধাকে বিদেশের মাটিতে একা পেয়ে এ ধরনের কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা প্রমাণ করে, ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের সামান্যতম অনুশোচনা হয়নি। সেহেতু এ সন্ত্রাসীদের জন্য আমাদের মনেও কখনও সামান্যতম সহানুভূতি জাগ্রত হবে না। কঠোর হাতে দমন করা হবে, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।

অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলায় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের কড়া প্রতিবাদ

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া এখনো প্রায় ১৪০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধানে তৃতীয় দিনও উদ্ধারকারী দলগুলো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ এগোলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

নেপালি পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার ঢল ও ভূমিধসের পর এই বিপর্যয় ঘটে। এতে বাড়িঘর, সড়ক, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত নেপালে থাকা ২৯০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ৮৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ত্রিশূলী-১ প্রকল্পের ৬৩ জন কর্মী এবং তামিলনাড়ুর ২১ জন রয়েছেন।

 

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, বন্যার পর প্রায় ৩০০ ভারতীয় পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো ১৭৮ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন।

 

নেপাল ও তিব্বতে মিলিয়ে মোট ৮২৬ জন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন।

 

নতুন বন্যার সতর্কতা চীনের

 

নেপালে ভয়াবহ বন্যার ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে চীন।

 

চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে একটি প্রাকৃতিক বাঁধের কারণে জলাধার বা ‘ব্যারিয়ার লেক’ তৈরি হয়েছে।

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২, নিখোঁজ ১৪০০

নেপালের চারিদিকে ধ্বংসস্তূপ। দেশটির রসুয়া জেলার ফ্ল্যাশ ফ্লাডের আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভারতের বিহারে। হাই এলার্টে গোটা বিহার। চলছে মাইকিং, মানুষজনকে সতর্ক করা হচ্ছে। ভোতে কোশি নদী হয়ে, ত্রিসুলী ও গণ্ডক নদী ধরে বিহারে প্রবেশ করতে পারে তিব্বতের পানি।

 

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী হাই লেভেল টিম গঠন করে সব সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী নদীর চারদিকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নদীর বাঁধ এবং বাঁধের চারপাশ বুধবার এবং বৃহস্পতিবার নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে রাতে নাইট পেট্রোলিং বাড়ানোর প্রতি জোর দেয়া হয়েছে।

গন্ডক নদীর পাশে থাকা পশ্চিম চম্পারন, পূর্ব চম্পারণ, মোজাফফরনগর, বৈশালী, গোপালগঞ্জ, সারণ জেলা প্লাবিত হতে পারে এমন আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনকে হাই এলার্টে রাখা হয়েছে। রাজ্যের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

 

নেপাল থেকে গণ্ডক নদীতে হয়ে বিহারে প্রবেশ করবে পানি। প্রশাসনের আশঙ্কা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একসঙ্গে সাড়ে তিন লাখ কিউসেক পানি পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসবে।

নিহত বেড়ে ১৬০ পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত নেপাল, বিহারে ঢুকে পড়ছে পানি

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের নিহত ৯ জনের মরদেহ আসছে ২৭ আগস্ট, এর মধ্যে ৭ জনই নওগাঁর

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

 

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। নিহতদের মধ্যে ৭ জনই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ২৫ আগস্টের এক সরকারি চিঠির সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

চিঠিতে জানানো হয়, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। পরবর্তীতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করে।

 

সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ বিমানের BG-340 ফ্লাইটে আগামী ২৭ আগস্ট বিকেল ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহগুলো পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

 

নিহত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মধ্যে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলারই সাতজন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার একজন এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একজন রয়েছেন।

 

নওগাঁ (আত্রাই উপজেলা): মৃত ফরিদ, মৃত রুবেল প্রামাণিক, মৃত সোহেল রানা, মৃত কলিমউদ্দিন ইসলাম, মৃত মোহন আলী, মৃত সুমন আলী ও মৃত আব্দুল জলিল সরকার।

নাটোর (নলডাঙ্গা উপজেলার): মৃত রবিউল ইসলাম।

রাজশাহী (বাগমারা উপজেলার): মৃত শ্যামল উদ্দিন মাঝি।

মরদেহ গ্রহণ ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি ৭ জনের পরিচয় শনাক্তকরণ ও মরদেহ আনার বিষয়ে ওই চিঠিতে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের নিহত ৯ জনের মরদেহ আসছে ২৭ আগস্ট, এর মধ্যে ৭ জনই নওগাঁর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মালয়েশিয়া এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স এর বিশেষ উঠান বৈঠক।

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

১১ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের এর উদ্যোগে এক বিশেষ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

এনসিপি মালয়েশিয়ার যুগ্ম সচিব জনাব মুশফিক আহমেদ এর সঞ্চালনায়

উক্ত উঠান বৈঠকে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি(NCP)র যুগ্ম সদস্য সচিব জনাব ফরিদুল হক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি(NCP)র যুগ্ম সদস্য সচিব এবং গ্লোবাল ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের সম্পাদক জনাব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ।

 

আজকের উঠান বৈঠক ছিলো একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রোগ্রাম।

এখানে মালয়েশিয়া এনসিপির বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে দেশ গঠনে,নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নে,দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে এনসিপির পরবর্তী ভাবনা ভিশন সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন রাখেন।

 

আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান দুই আলোচক সবার প্রশ্নের চুলচেড়া বিশ্লেষণ করেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসীরা কেন এনসিপির সঙ্গে যোগদান করবে?

 

এই প্রশ্নের জবাবে ফরিদুল হক বলেন—

 

“প্রবাসীরা এনসিপির সঙ্গে যোগদান করবে একটি সমৃদ্ধ, কল্যাণমুখী ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায়। এমন একটি বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তারা গর্ববোধ করবে এবং ভবিষ্যতে নির্ভয়ে ও সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরে আসতে পারবে। তারা চায়, তাদের আগামী প্রজন্ম যেন একটি নিরাপদ, সুন্দর ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে বেড়ে উঠতে পারে।

 

প্রবাসীরা এনসিপির সঙ্গে থাকবে, কারণ তারা বিশ্বাস করে—এনসিপির নেতৃত্বে রাষ্ট্রের সংস্কার, মৌলিক পরিবর্তন এবং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

 

প্রবাসীরা আরও চায়, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের যে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বৈষম্য রয়েছে, তার অবসান হোক। প্রবাসীদের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত হোক এবং দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে তাদের অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পাক।

 

এই প্রত্যাশা থেকেই প্রবাসীরা এনসিপির সঙ্গে যুক্ত হবে—একটি নতুন, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে।”

 

ফরিদুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন—

 

“প্রধানমন্ত্রীকে দশবার ‘মাননীয়’ বলতেও আমরা রাজি আছি, যদি তিনি সত্যিকার অর্থে দেশে দুর্নীতি বন্ধ করতে পারেন, অনিয়ম বন্ধ করতে পারেন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের চুরি-লুটপাট বন্ধ করতে পারেন।

 

একজন প্রধানমন্ত্রীর সত্যিকার কাজ হবে দেশের অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

মালয়েশিয়া এনসিপি-ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স এর বিশেষ উঠান বৈঠক।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জিপিএ-৫ পাওয়া ২৫ শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা।

 

মোঃ সাহাজুদ্দিন সরকার, ক্রাইম রিপোর্টার, গাজীপুর।

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ২৫ জন শিক্ষার্থীকে কলেজে ভর্তি ফি বাবদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ টেপ বল ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি সারোয়ার হোসেন আকুল প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।

 

মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করা এবং কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

 

এ সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

 

পাশাপাশি পূর্ব চন্দ্র স্পোর্টিং ক্লাব ও গণপাঠাগারের সদস্য হওয়ার জন্য সকল শিক্ষার্থীকে আহ্বান জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও জ্ঞানচর্চায় সম্পৃক্ত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জিপিএ-৫ পাওয়া ২৫ শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা

গাইবান্ধায় রাতের আঁধারে ডাকাতি, ছুরি ঠেকিয়ে লুটে নিল স্বর্ণ-নগদ টাকা

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট ইউনিয়নের বাজুনিয়া পাড়ায় গভীর রাতে এক বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়িতে থাকা নারীদের গলায় ছুরি ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৬ লাখ টাকা এবং জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল।

 

পরিবারসূত্রে জানা যায়,বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ৩ টার দিকে নাকাইহাট ইউনিয়নের বাজুনিয়া পাড়ার মোহাম্মদ হাজির বাড়িতে একদল ডাকাত হানা দেয়। ডাকাতরা বাড়িতে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। এ সময় বাড়িতে থাকা নারীদের গলায় ছুরি ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

 

পরে ডাকাতরা ঘরে থাকা প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৬ লাখ টাকা, জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও অন্যান্য মালামাল লুট করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

গাইবান্ধায় রাতের আঁধারে ডাকাতি, ছুরি ঠেকিয়ে লুটে নিল স্বর্ণ-নগদ টাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ২০০ বছরের পুরোনো স্ট্যাম্প উদ্ধার।

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিবিহীন কষ্টিপাথরের মূর্তি, প্রাচীন আমলের সামগ্রী ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবহৃত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)। উদ্ধার করা এসব সামগ্রীর সিজার মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা।

 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়ন সদর থেকে আনুমানিক ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও সদর থানার লক্ষীপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে ৫০ বিজিবি। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমান, জি, আর্টিলারি।

 

৫০ বিজিবি জানায়, অভিযানে আসামিবিহীন অবস্থায় ১৪ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি, ২২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের তিনটি কষ্টিপাথরের টুকরা, প্রাচীন আমলের দুটি মদের খালি বোতল, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবহৃত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো দুটি স্ট্যাম্প এবং একটি শঙ্খ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা কষ্টিপাথরের সামগ্রীর মোট ওজন ৩৬ কেজি ৫০০ গ্রাম।

 

উদ্ধার করা সামগ্রীর সর্বমোট সিজার মূল্য ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে ৫০ বিজিবি।

 

৫০ বিজিবি জানায়, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত বিভিন্ন কৌশলী পরিকল্পনার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদকদ্রব্য, মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)। সীমান্তের নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যেকোনো তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ২০০ বছরের পুরোনো স্ট্যাম্প উদ্ধার।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে স্বাক্ষর হয়েছে, সেগুলো সবই বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য যেখানে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, সেখানে সংবিধান সংশোধন করেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

 

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার। আমরা দাড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ যা কিছু স্বাক্ষর হয়েছে, তার সবটাই বাস্তবায়ন করব। বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধান সংশোধন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।’

 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

 

এ সময় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) উপস্থিত ছিলেন।

 

চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে সংশোধনের নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব এবং বর্তমান সরকারও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সে পথেই এগোতে চায়।

 

তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশন মাত্র নয়টি কর্মদিবস চলেছে। ২৭ আগস্ট অধিবেশন শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপিত এবং ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদের কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধিতে নোটিশ ও আলোচনা হয়েছে। বিধি ৬৮-এ দুটি নোটিশের ওপর আলোচনা, বিধি ৭১-এ ১৪টি বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং দুই মিনিটের বক্তব্যের বিধিতে ১২৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে।

 

চিফ হুইপ জানান, প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জন্য ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টির উত্তর দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা সব মিলিয়ে ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টির উত্তর দিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর এবং সম্পত্তিতে আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংক্রান্ত আইন অন্যতম। এ আইন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

চিফ হুইপ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা সন্তানদের সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর বৃদ্ধ বয়সে অসহায় হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করতে বাধ্য হন। নতুন আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

এ আইন নিয়ে বিরোধিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও সম্মান নিশ্চিত করার বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। ধর্মীয় বিধানের কথা যারা বলছেন, তাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বাবা-মাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত সব বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে: চিফ হুইপ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীকাল শনিবার থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

 

তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

 

জনস্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সকল বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

সূত্র: বাসস

সারাদেশে ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু কাল, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তিনি বলেন, আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধনের ঘোষণা দেবেন।

 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা নদীর চর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের ২৪ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিও আরও সমৃদ্ধ হবে।

 

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ২০০৪ সালে এই প্রকল্পের সমীক্ষা করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর ২০২৬ সালে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী আরও বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচিও নতুন করে শুরু করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।

 

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

দেশীয় অর্থায়নেই সম্পন্ন হবে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প: পানি সম্পদ মন্ত্রী

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট তৃতীয়বারের মতো পুনরায় খুলে দেয়া হয়েছে।

 

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু হয়। বর্তমানে লেকে পানির উচ্চতা রয়েছে ১০৫.৫১ ফুট এমএসএল।

 

কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, লেকের পানি বাড়ায় রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর প্লাবিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। লেকের পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে নেমে এলে জলকপাটগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

 

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লেকের বর্তমান পানির উচ্চতা ১০৫.৫১ ফুট। পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়েছে এবং পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে নেমে এলে এগুলো বন্ধ করা হবে।

 

উল্লেখ্য, কাপ্তাই লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। সম্ভাব্য দুর্যোগ এড়াতেই কর্তৃপক্ষ এই আগাম সতর্কতা অবলম্বন করছে।

খুলে দেয়া হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

এর আগে গত ৩১ আগস্ট সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আকস্মিকভাবে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিনই স্বাক্ষর করা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

 

ঘটনাটি নজরে আসার পর সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের মোট ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

 

কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে অফিসে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করাকে গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

 

এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ‘খ’ ধারায় বর্ণিত অপরাধের শামিল বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।

 

কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন ও গাড়িচালক নাদিম হায়দার।

 

এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতও নোটিশ পেয়েছেন।

 

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আরও কয়েকজনের বিষয়েও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

এদিকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তারকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি এখনো একই পদে বহাল রয়েছেন।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের বেশি একই কর্মস্থলে কর্মরত কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পরবর্তী সময়ে তাদের বিষয়েও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অফিসে না এসেই হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, দুই এসিল্যান্ড বদলি

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সব প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও যত্নশীল হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে গাছপালা ও প্রাণিকুলের যত্ন নেওয়া মানুষের দায়িত্ব। কোনো প্রাণীকে আঘাত না করে তাদের প্রতি মমত্ববোধ দেখাতে হবে।

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে রাজশাহীর পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকার সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, তেজগাঁও মহিলা কলেজ এবং টঙ্গীর শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বেশি করে গাছ রোপন এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখার আহ্বান জানান। ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রাণিকুলের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ারও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গান, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও বাদ্যযন্ত্র চর্চায় অংশ নিতে তিনি তাদের উৎসাহিত করেন। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের ক্বিরাত চর্চারও পরামর্শ দেন।

 

শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে।

 

পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৩৬ জন ছাত্রী ও আটজন শিক্ষক এবং সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৫০ জন ছাত্রী ও চারজন শিক্ষক এদিন জাতীয় সংসদ ভবনে আসেন। এ ছাড়া, তেজগাঁও মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ৪৬ জন ছাত্রী ও ১১ জন শিক্ষক এবং শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ৪৭ জন শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষক সংসদ ভবনে আসেন। তারা জাতীয় সংসদের অধিবেশন প্রত্যক্ষ করেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও কথা বলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা তাদের অনুপ্রাণিত করেছে এবং এ সাক্ষাৎ তাদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রাণিকুলের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে ও যত্নশীল হতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d