ক্যাম্পাস - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।

সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে কাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেও প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। এর মধ্যে রয়েছে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসায় ৬১ হাজারের বেশি এবং কারিগরির ৯০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।

 

বুধবার (১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একাদশ শ্রেণিতে মোট ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬১ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছিল।

 

তাদের মধ্যে পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৭ জন। ফলে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেনি। অর্থাৎ নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ পরীক্ষার বাইরে চলে গেছে।

 

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম প্রথম বর্ষে রেজিস্ট্রেশন করেছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৭৮ হাজার ২৬৯ জন ফরম পূরণ করেছে। বাকি ৬১ হাজার ৬৬০ জন ফরম পূরণ না করায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। এ বোর্ডে ফরম পূরণ না করার হার ৪৪ দশমিক ০৭ শতাংশ।

 

অন্যদিকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একাদশ শ্রেণির (ভোকেশনাল) ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। তাদের মধ্যে ফরম পূরণ করেছে ৭৫ হাজার ১৯৭ জন। ফলে ৯০ হাজার ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা থেকে ছিটকে গেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ফরম পূরণ না করা শিক্ষার্থীর হার ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ, যা বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

 

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়টি আমরা অ্যানালাইসিস করছি। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার অসমতা দূর করতে কাজ করছি, যেনো ড্রপ আউট না হয়।

 

উল্লেখ্য, মোট ১৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৩২ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করলেও ফরম পূরণ করেছে ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৩ জন। অন্যদিকে ফরম পূরণ না করায় মোট ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৯ জন শিক্ষার্থী এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। অর্থাৎ নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ পরীক্ষা শুরুর আগেই ঝরে গেছে।

নিবন্ধন করেও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী

সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে কাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেও প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। এর মধ্যে রয়েছে বিস্তারিত

একবার নয়, দুইবার নয়—চারবার ব্যর্থতার তিক্ত স্বাদ পেয়েছেন। কখনও প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাদ পড়েছেন, কখনও ভাইভা পর্যন্ত গিয়েও ফিরতে হয়েছে খালি হাতে, আবার কখনও লিখিত পরীক্ষার বাধা পেরোতে পারেননি। তবুও স্বপ্ন থেকে একচুলও সরে যাননি ভোলার চরফ্যাশনের মো. সাইফুল ইসলাম সুমন। দীর্ঘ অপেক্ষা, নিরন্তর পরিশ্রম আর অদম্য আত্মবিশ্বাসের পুরস্কার হিসেবে অবশেষে ৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

 

সুমনের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের উত্তর আইচা গ্রামের তালুকদার বাড়িতে। বাবা মো. শাহে আলম তালুকদার ও মা মোছা. রোকেয়া বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি মেজো। গ্রামের সাধারণ পরিবেশেই বেড়ে ওঠা সুমনের শৈশব কেটেছে খেলাধুলা আর পড়াশোনার সমন্বয়ে।

 

পড়ালেখার হাতেখড়ি শুরু হয় রসুপুর কো-ইড প্রাইমারি থেকে। শিক্ষাজীবনের শুরু চরফ্যাশনেই। ২০১০ সালে চর আইচা হাই স্কুল থেকে এসএসসি (৪.৬৯) এবং ২০১২ সালে রসুলপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি (৪.৯০) নিয়ে পাস করেন। এরপর ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন।

 

বিসিএস জার্নি বিষয়ে সাইফুল ইসলাম সুমন বলেন,বিসিএসের স্বপ্ন নিয়ে আমার পথচলা শুরু হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে। প্রথম পরীক্ষা ছিল ৪১তম বিসিএস। কিন্তু শুরুটা ছিল হতাশার—প্রিলিমিনারিতেই বাদ পড়ি। এরপর ৪৩তম ও ৪৪তম বিসিএসে ভাইভা পর্যন্ত পৌঁছেও কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার পায়নি।এরপর ৪৬তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায়ও ব্যর্থ হন। অনেকেই হয়তো এতবার ব্যর্থ হওয়ার পর স্বপ্ন বদলে ফেলতেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম, একদিন না একদিন সফলতা আসবেই। সেই বিশ্বাসই আজ আমাকে পৌঁছে দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।

 

প্রস্তুতি সম্পর্কে সুমন বলেন, ‘প্রস্তুতির গল্পটাও ছিল সংগ্রামের। দিনে কোচিংয়ে ক্লাস নেওয়া, রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা, প্রতিদিন অনলাইন এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া—এভাবেই নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি। লিখিত পরীক্ষার জন্য কয়েকজন বন্ধু ও সিনিয়রদের নিয়ে স্টাডি গ্রুপ তৈরি করে নিয়মিত পরীক্ষা দিতাম এবং একে অপরের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতাম। সুমনের মতে, এই অনুশীলনই প্রস্তুতিকে আরও শাণিত করেছে।

 

বর্তমানে সুমন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি চাকরির ব্যস্ততার মাঝেও বিসিএসের স্বপ্নকে বিসর্জন দেননি। অফিস শেষে বই, নোট আর মডেল টেস্টই ছিল তার নিত্যসঙ্গী।

 

ক্যাডার চয়েজ ক্ষেত্রে সুমন বলেন,ক্যাডার চয়েজ দেবার বেলায় একটু কৌশলী হওয়া উচিত। কারন আমি যে জবটা ওন করি সেই অনুযায়ী ই চয়েস হওয়া উচিত। অযথা চয়েজ দিয়ে পদ নষ্ট করার কোনো মানে নেই।

 

তিনি বলেন,আমি ছোটবেলা থেকেই পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম এবং সমাজে ঘটে যাওয়া অন্যায় দেখে মনে হতো, যদি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতাম! সেই শৈশবের স্বপ্নই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে সুমন বলেন, তিনি এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে চান, যেন মানুষের কল্যাণে করা কাজের জন্য সবাই তাকে মনে রাখে। তিনি বলেন,আমি কোনো স্থান ছেড়ে আসলেও মানুষ যেন আমার সৎ কাজের জন্য আমাকে মনে রাখে। এমন কোনো কাজ না করা যেটা আমি এবং আমার পরিবারকে খাটো করে। এছাড়াও সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চান তিনি।

 

তিনি বিসিএস প্রত্যাশীদের উদ্দেশে বলেন,একজন চাকরিপ্রার্থী হিসেবে যদি পারিবারিক পিছুটান না থাকে তাহলে একমাত্র বিসিএসকে ফোকাস করে পড়লে দ্রুতই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব তবে যদি পারিবারিক আর্থিক অস্বচ্ছলতা থাকে তবে বিকল্প চিন্তাও মাথায় রাখা উচিত। যেমন আমি বিসিএসের পাশাপাশি কৃষি ব্যাংকে সুপারিশপ্রাপ্ত ও জনতা ব্যাংকে ছয় মাসের মত জব করি। পরবর্তীতে বর্তমানে বোরহানউদ্দিন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

 

তিনি আরও বলেন, ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়। প্রতিটি ব্যর্থতা নতুন করে শেখার সুযোগ তৈরি করে। ধৈর্য, নিয়মিত অনুশীলন এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে একদিন সফলতা ধরা দিতেই পারে।

 

সুমন আরও বলেন,আমার গ্রাম বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষা যেখানে মানুষজনের ভিতর বিসিএস ক্যাডার নিয়ে এখনো স্পষ্ট ধারনা নেই। আমার স্বপ্ন ছিলো ক্যাডার হয়ে নিজ এলাকার তরুনদের আইডল হবার যাতে পরবর্তীতে আরো তরুনরা পড়ালেখায় আগ্রহী হয় এবং আমার এলাকার চেহারা পাল্টে যায়।

 

সুমনের এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী, স্বজন এবং চরফ্যাশনের মানুষের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, তিনি সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ পুলিশের একজন আদর্শ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং ভোলার জন্য বয়ে আনবেন নতুন গৌরব।

চার বিসিএসে ব্যর্থ হয়েও থামেননি, পঞ্চম চেষ্টায় এএসপি চরফ্যাশনের সাইফুল

একবার নয়, দুইবার নয়—চারবার ব্যর্থতার তিক্ত স্বাদ পেয়েছেন। কখনও প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাদ পড়েছেন, কখনও ভাইভা পর্যন্ত গিয়েও ফিরতে হয়েছে খালি হাতে, আবার কখনও লিখিত পরীক্ষার বাধা পেরোতে পারেননি। তবুও স্বপ্ন বিস্তারিত

অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে এবারের পরীক্ষা। পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী। সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থীদের জন্য একাধিক কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

 

এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা চলবে ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ইতোমধ্যে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে।

 

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় শুরু হওয়া পরীক্ষা চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষাকক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।

 

এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৮৬৯ জন। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন।

 

পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হবে। আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড জানিয়েছে, সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে সব বোর্ডে একই মানদণ্ডে উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

 

এবার সারা দেশে ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৪০টিই রাজধানী ঢাকায়।

 

সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্র বিতরণ, উত্তরপত্র সংরক্ষণ, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা, ক্যালকুলেটর ব্যবহার, শৌচাগার তল্লাশি এবং ডিজিটাল নজরদারিসহ মোট ৩৫টি নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

অভিন্ন প্রশ্নে কাল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে এবারের পরীক্ষা। পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হওয়া এ বিস্তারিত

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। ঢাকা মহানগরীর ৩০৯টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্র করে কেন্দ্রে যাতায়াত নির্বিঘ্নকরণসহ ঢাকা মহানগরের সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে বেশ কিছু নির্দেশনা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ জুন সকাল ১০টা থেকে ঢাকা মহানগরীর ৩০৯টি কেন্দ্রে হবে। এইচএসসি/সমমান পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াত নির্বিঘ্নকরণসহ ঢাকা মহানগরের সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সম্মানিত নগরবাসী ও যানবাহন চালকদের নিম্নবর্ণিত নির্দেশনাসমূহ মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো—

 

– পরীক্ষার্থীরা যথেষ্ট সময় নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।

 

– যেসব পরীক্ষার্থী ব্যক্তিগত যানবাহনে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসবেন তারা পরীক্ষা কেন্দ্রের সম্মুখে নামার পরিবর্তে কম ব্যস্ত নিকটবর্তী স্থানে নেমে পরীক্ষা কেন্দ্রে হেঁটে আসবেন। পরীক্ষা শেষে ফেরার সময়ও কেন্দ্র থেকে হেঁটে গিয়ে নিকটবর্তী কম ব্যস্ত কোনো স্থান হতে গাড়িতে উঠবেন।

 

– কোনো যানবাহন (প্রাইভেটকার) পরীক্ষা কেন্দ্রের নিকটবর্তী সড়কে পার্কিং করে রাখা যাবে না (পার্কিং করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে)।

 

– অভিভাবদের পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশের সড়কে অবস্থান না করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

 

(অভিভাবকদের সড়কে অবস্থান করে যান চলাচলে বিঘ্ন করা সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী অপরাধযোগ্য অপরাধ)।

 

– পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়ার সুবিধার্থে (সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত) পরীক্ষার্থী ব্যতীত অন্য সব যাত্রী জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্র সংলগ্ন সড়কসমূহ যথাসম্ভব পরিহার করে চলবেন।

এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে ডিএমপির বিশেষ নির্দেশনা

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। ঢাকা মহানগরীর ৩০৯টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্র করে কেন্দ্রে যাতায়াত নির্বিঘ্নকরণসহ ঢাকা মহানগরের সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিস্তারিত

আগামী জুলাই মাস থেকে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন নিয়মিত দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দুই মাসের বকেয়া বেতনও জুলাই মাসেই পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল স্তরের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত সেপ্টেম্বর থেকে এনটিআরসির মাধ্যমে মাদরাসায় প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনীয় ছিল। তিনি বলেন, শিক্ষক ছিলোনা তাই তো এসব পদে নিয়োগ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করেছে, যা প্রশংসনীয় উদ্যোগগুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বাজেটে টাকা রাখেনি।

 

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর দেখা গেল ৫০১ কোটি টাকা প্রয়োজন কিন্তু সেটাও নেই। অন্তর্বর্তী সরকার বাজেটে টাকা রাখেনি বলে মাদরাসা শিক্ষকদের ২ মাসের বেতন দেওয়া যায়নি। তবে জুলাই মাস থেকে বকেয়াসহ বেতন নিয়মিত হবে।

 

এসময় শিক্ষামন্ত্রী জানান, ইসলামী শিক্ষায় যারা পড়াশোনা করছেন তাদের দল মতের উর্ধে উঠে জীবনযাপন করতে হবে। এসময় সংসদে জামায়েতে ইসলাম কতটা ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই আলোচনার কথা জানিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল ইসলামের পথে থাকার আহবান জানান তিনি।

দুই মাসের বকেয়াসহ জুলাই থেকে নিয়মিত বেতন পাবেন মাদরাসা শিক্ষকরা

আগামী জুলাই মাস থেকে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন নিয়মিত দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দুই মাসের বকেয়া বেতনও জুলাই মাসেই পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিস্তারিত

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ফাঁসের ভুয়া খবর ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

রোববার (২৮ জুন) সকালে সিলেট জালালাবাদ গ্যাস অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে সিলেট অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে সরকারের আমলে মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এছাড়া, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সাত হাজার কোটি টাকা লুট করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

 

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বাজেটের বিষয়টি বিবেচনা না করেই মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ফাঁসের ভুয়া খবর ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ফাঁসের ভুয়া খবর ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।   রোববার (২৮ জুন) সকালে সিলেট জালালাবাদ গ্যাস অডিটোরিয়ামে বিস্তারিত

ভাইরাল হওয়া সংসদ সচিবালয়ের অর্থ শাখা-২ থেকে ইস্যুকৃত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখের একটি পত্রে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা ১০ জনের নামে অনুদান মঞ্জুরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

তালিকায় ১ নম্বরে হবোখালী গ্রামের ফাইজা, পিতা মো. বাচ্চুর নামে ১০ হাজার টাকা এবং ৮ নম্বরে ফাইজা, পিতা মো. আতাউরের নামে আরও ১০ হাজার টাকা অনুদানের উল্লেখ রয়েছে। এ দুই নামের মধ্যে একটি সংসদ সদস্যের মেয়ের বলে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

 

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য বছরে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য ঐচ্ছিক তহবিল পান।’ তিনি শপথ নেওয়ার পর চলতি অর্থবছরে তার আসনের জন্য মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

 

তিনি দাবি করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ সচিবালয়ে তালিকা জমা দেওয়ার তাগিদ থাকায় তিনি ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএস) বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহ করে জমা দিতে বলেন। তার ভাষ্য, পিএস পরে পরিচিত কয়েকটি নাম দিয়ে তালিকা জমা দিয়েছেন, কিন্তু তিনি তালিকাটি দেখার সুযোগ পাননি।

 

সংসদ সদস্য আরও জানান, এখনও তিনি ওই অর্থ হাতে পাননি এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা অনুযায়ী পরবর্তীতে অনুদান বিতরণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নতুন তালিকা পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

 

সমালোচনার বিষয়ে আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘জনগণের হকের একটি পয়সাও আমি বা আমার পরিবারের কেউ আগামী পাঁচ বছরে স্পর্শ করবে না। যারা আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন, তাদের জন্যও আমার অফুরন্ত দোয়া রইল।’

 

জানা গেছে, সদর উপজেলার জন্য ১০ জনের নামে ৮০ হাজার টাকা এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের নামে ১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দের পৃথক তালিকাও রয়েছে।

জামায়াত এমপির ঐচ্ছিক তহবিলের তালিকায় নিজের মেয়ের নাম

ভাইরাল হওয়া সংসদ সচিবালয়ের অর্থ শাখা-২ থেকে ইস্যুকৃত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখের একটি পত্রে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ বিস্তারিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে এক তরুণকে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুজন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

শনিবার (২৭ জুন) ভুক্তভোগী সাজিদ হাসানের শ্বশুর মাসুম চৌধুরী বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় অপহরণের মামলা দায়ের করেন।

 

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে সাজিদ হাসান ও তার এক বন্ধুকে ধরে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আটকে রাখা হয়। পরে ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ তুলে সাজিদের পরিবারের কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

 

মুক্তিপণের দাবির ফোন পাওয়ার পর ভুক্তভোগীর শ্বশুর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। তবে এ সময় আরও দুজন পালিয়ে যায়।

 

মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আটক অবস্থায় থাকা তরুণের পকেট থেকে একজন যুবক ইয়াবা বের করছেন। পুলিশ বলছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়।

 

গ্রেফতার হওয়া তিনজনের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শ্রেণির শিক্ষার্থী। এছাড়া পলাতক আরেকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।

 

এদিকে, ভুক্তভোগী সাজিদ হাসানের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হয়েছে দাবি করে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 

শাহবাগ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি অপহরণের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ায় এ বিষয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। পলাতক দুজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তারা গ্রেফতার হলে পুরো চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা পরে শুনেছি। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওইখানে একজন ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ তাদের নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে, আমরা কোনও হস্তক্ষেপ করব না।’

তরুণকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি, ঢাবি শিক্ষার্থীসহ গ্রেফতার ৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে এক তরুণকে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় অপহরণ মামলা বিস্তারিত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম সমাবর্তন ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

 

শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট হলে অনুষ্ঠিত সিনেটের ৪৩তম বার্ষিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। উপাচার্যের সভাপতিত্বে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

 

উপাচার্য জানান, ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এবার ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৭ম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে তিনি আগ্রহী। এ বিষয়ে সিনেট সদস্যদের পরামর্শ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান উপাচার্য।

 

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) মনোনীত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সিনেটে অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তবে এবারের সিনেট অধিবেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েও সদ্য নির্বাচিত জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম অংশ নিতে পারেননি।

 

বার্ষিক সিনেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতি, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া গত বছরের ২৮ জুন অনুষ্ঠিত সিনেটের ৪২তম বার্ষিক সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন ও নিশ্চিতকরণের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সিনেট সদস্য, মনোনীত প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

 

২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে হতে যাচ্ছে জাবির ৭ম সমাবর্তন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম সমাবর্তন ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।   শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট হলে অনুষ্ঠিত বিস্তারিত

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয় ছুটির পর প্রধান শিক্ষিকা স্কুল ত্যাগ করার সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা তার কাছে থাকা ব্যাগটি দেখতে চান। প্রথমে তিনি ব্যাগ দেখাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে স্থানীয়দের চাপে ব্যাগ খুলে দেখাতে বাধ্য হন। এ সময় ব্যাগের ভেতর থেকে সরকারি বরাদ্দের ২৪টি ডিম ও ২২ পিস রুটি পাওয়া যায় বলে দাবি করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।

 

শুক্রবার (২৬ জুন) এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষিকার ব্যাগ থেকে ডিম ও রুটি বের করে আনতে দেখা যায়। এরপর থেকেই পুরো এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার যে খাবার বরাদ্দ দিয়েছে, তা আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তাদের মতে, শিশুদের অধিকারভুক্ত খাদ্যসামগ্রী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

 

তবে এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তার মিষ্টির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এদিকে ঘটনাটির বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, রানিরহাট ১০নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টি আমি জেনেছি। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের ডিম-রুটি মিলল প্রধান শিক্ষিকার ব্যাগে

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয় ছুটির পর প্রধান শিক্ষিকা স্কুল ত্যাগ করার সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা তার কাছে থাকা ব্যাগটি দেখতে চান। প্রথমে তিনি ব্যাগ দেখাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে স্থানীয়দের বিস্তারিত

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড

 

আতিকুর রহমান আশিক , মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

মানিকগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা দায়ের করার দায়ে লাভলী আক্তার নামে এক নারীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে আদালতে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক দোলন বিশ্বাস এ রায় দেন।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা করেন স্ত্রী লাভলী আক্তার। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল আরিফুল পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে মারধর করেন। পরে আরও একটি ঘটনায় যৌতুক দাবির অভিযোগ আনা হয়।

তবে অভিযোগে উল্লেখিত দুই ঘটনার সময়ই আরিফুল ইসলাম বিদেশে ছিলেন। তিনি ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল চাকরির উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান এবং দেশে ফেরেন ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি।

 

গত ২৭ জুলাই সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। পরে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে পিটিশন দাখিল করেন।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদী লাভলী আক্তারকে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন কোহিনুর বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আসামিকে খালাস দেন। পরে মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি বিবেচনায় যৌতুক নিরোধ আইনের ৬ ধারায় বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতে আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

 

বাদী পক্ষের আইনজীবী সমাপ্তি আক্তার বলেন, ১০ দিনের সাজা হওয়ায় আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করা হয়। পরে আদালত এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকা বন্ডের লাভলী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন।

 

মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা মামলা করে কাউকে হয়রানি করলে মামলার বাদীকেও যে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, এই রায় তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এ ধরনের রায় হলে সমাজে ঢালাওভাবে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড 

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে

গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

১৩ আগষ্ট ২০২৬’ তারিখ সকাল ১১ টায় গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চের উদ্যোগে বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৬ আগষ্ট গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মঞ্চের সদস্য সচিব শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতা জনাব মোঃ সফিকুল ইসলাম, কামরুন নাহার, তপন সাহা, কামরুজ্জামান ফিরোজ, আবু কালাম, মিজানুর রহমান শিকদার, সাজিয়া রহমান, মাহমুদা হোসেন মিলি প্রমূখ।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকার পে-স্কেল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে চরম বৈষম্যে সৃষ্টি করেছেন। বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র কতখানি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে তার প্রমাণ হচ্ছে পে-স্কেল। ঘোষিত পে-স্কেলে একজন সচিব এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা অপর দিকে একজন অফিস সহকারী (পিয়ন) তার বেতন ধরা হয়েছে ৪১ হাজার টাকা। অথচ যারা উৎপাদন করে সেই শ্রমিক বিশেষকরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরী হচ্ছে ১২ হাজার ৫ শত টাকা। এর মধ্য দিয়ে সরকার সমাজে প্রবল বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। এই বৈষম্য দুর করতে শ্রমিকের জন্য জাতীয় নিম্নতম মজুরী ৩০ হাজার টাকা এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণা করে শ্রমিকদের বাঁচার মত মজুরী ঘোষণা করতে হবে। বর্তমান উর্দ্ধমূখী বাজার ব্যবস্থায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা যে মজুরী পান তা দিয়ে তাদের জীবন চলেনা। ফলে শিল্পের শ্রমক অসন্তষ লেগেই রয়েছে। শিল্পের উৎপাদনের সুষ্ঠ পরিবেশ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরী বৃদ্ধির বিকল্প নাই। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিগত ২০২৩ সালের ঘোষিত মজুরী আগামী নভেম্বরে শেষ হয়ে যাবে। ডিসেম্বর ২০২৬ সাল থেকে নতুন মজুরী কার্যকর হওয়ার কথা। এখন মাত্র চার মাস সময় আছে সরকার কাল বিলম্ব না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ন্যূনতম মজুরী বোর্ড ঘোষণা করতে হবে এবং বোর্ডের গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের মধ্য থেকে নির্বাচিত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত দাবিতে আগামী ১৬ আগষ্ট মাননীয় শ্রমমন্ত্রী মহোদয়ের নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে। একই সাথে উক্ত স্মারকলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে অবগতির জন্য পাঠানো হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে

গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিপিসি-৩ গাইবান্ধা র‌্যাব-১৩ ক্যাম্পের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এই সচেতনতা মুলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিপিসি-৩ ও র‌্যাব-১৩ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ রেজাউল হকের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাজহারুল মান্নান । এছাড়াও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী, রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউটসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দেড় ঘন্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেয়।

 

মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধি সহ সকল পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে বিপদগামী মাদকাসক্ত তরুণদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

অপরদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়, সরকারের নির্দেশনায় মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনাসহ মাদক ও সামাজিক অপরাধ নির্মুলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।

 

সভা শেষে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহনকরা শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরন করা হয়।

গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আত্মসমর্পন করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। আজবৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিশা। শুনানি নিয়ে আদালত জামিনের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক।গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছিল।

 

জামিন পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তানজিন তিশা বললেন, ২৭ হাজার টাকার একটা শাড়ি নাকি আত্মসাৎ করেছি। আমার ১৫ বছরের একটা ক্যারিয়ার। এটা কারোর কাছে কাম্য নয়, একটা শাড়ির জন্য আদালতে আসবো। আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই আদালতে এসেছি। তবে মামলায় অনেকগুলো মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমি শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণা এমন কিছুই করিনি।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটা কথা বলতে চাই, মামলার বাদী একজন নারী। তিনি নিজের স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে আমার সঙ্গে এটা (মামলা) করেছে। অনেক ধরনের হুমকি দিয়েছে। আগামীতে সবকিছু তুলে ধরব। আমার নামে যে মামলা করেছে তাকে চিনি না।

 

এদিন তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন৷ এরপর তার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে জামিন পেয়ে তিনি আদালত প্রাঙ্গন ছাড়েন। এসময় উৎসুক জনতা তাকে দেখতে ভীড় জমান।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে সেটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তানজিন তিশা। এ ঘটনায় ২০২৫ সালে অনলাইন ফ্যাশন পেজের এডমিন আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। ওই সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিবি পুলিশকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে তানজিল তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন জমা দেন পুলিশ। সেই প্রতিবেদনের আদালত আমলে গ্রহণ করে গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়।

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন তানজিন তিশা

পটুয়াখালীর বাউফলের নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর রায়সাহেব এলাকায় হামলার ঘটনার জামায়াত নেতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে, হামলার শিকার বিএনপি সমর্থক মাঈনুদ্দিন (২৫) বাদি হয়ে বাউফল থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

 

বুধবার (১২আগস্ট) দুপুরের অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে দ্রুতই তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

গ্রেফতার আসামিরা হলেন— চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি সাইফুল শরীফ (৪০), ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি সোহাগ হাওলাদার (২৮) ও জামায়াত সমর্থক আল-আমিন (২৮)।

 

পুলিশ জানায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব এলাকার লালচরে মহিষের পাল জেলেদের মাছ ধরার চাই নষ্ট করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধের মিমাংসার জন্য সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে রায় সাহেব এলাকায় সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশ বৈঠকে মহিষ খামারিদের পক্ষে অবস্থান নেয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। অপরদিকে, জেলেদের পক্ষে অবস্থান নেন বিএনপির সমর্থক ভুক্তভোগী মাইনুদ্দিন।

 

সালিশ চলাকালে দু’পক্ষই বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জামায়াত নেতা-কর্মীদের হামলা চালিয়ে মাঈনুদ্দিন, শাহিন, সোহেল রাড়ি, মামুন, ইউনুস, মমতাজ ও রানী বেগমসহ ৭ জন আহত করেন।

 

এদের মধ্যে গুরুতর আহত শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, হামলার মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

বাউফলে বিএনপি সমর্থকদের কু/পিয়ে জখম, জামায়াতের ৩ নেতা-কর্মী গ্রেফতার

চাঁদপুরে সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে জেলার রেলওয়ে স্টেশনের ছায়াবানী রেল ক্রসিংয়ের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত তায়েবা আক্তার (১৪) চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুদী মাদরাসা রোড এলাকার বিষ্ণুদী ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবার নাম তাজুল ইসলাম ও মা আমেনা বেগম।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রেনটি ছায়াবানী রেল ক্রসিং পার হয়ে পূর্ব পাশে পৌঁছালে তায়েবা রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

চাঁদপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব কর বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার অভিভাবকেরা থানায় এসেছেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

চাঁদপুরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘আমাদের দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলীয় জোট থেকে মনোনীত হয়েছেন আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আমরা তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আগামী ২০ তারিখে নির্বাচিত করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।’

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

 

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান এবং সমর্থক ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবেন।

 

তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট থেকে কর্নেল অলি আহমদও রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেয়েছেন। তার পক্ষ থেকেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।ফলে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসবেন— এ প্রশ্নের উত্তরে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমাদের আর কোনো সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে বলার নেই।’

‘আমরা মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে চাই’

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায়। তাদের সফলতার জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে দেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি আশা করেন, তাদের সফর বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা দেবে।

 

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনিও ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ব্যবসা বিকশিত হওয়ার জন্য সঠিক নীতি ও পরিবেশ প্রয়োজন—এটা তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছয় মাস বয়সি, ভবিষ্যৎমুখী সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই। আপনাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং এটি আপনাদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।’

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মেহেরপুরের গাংনীতে এসএসসি পরীক্ষায় টানা দুবার ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর রামিদুজ্জামান টুটুল (১৭) নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। পরিবারের সদস্যদের বকাঝকার পর অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

 

রামিদুজ্জামান টুটুল গাংনী উপজেলার কোদাইলকাটি পশ্চিম পাড়ার মিন্টু হোসেনের ছেলে এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিশাখুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

 

টুটুলের দাদা আনিচ উদ্দিন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন মাঠে যাওয়ার আগে টুটুলকে ঘুম থেকে ডেকে তুলি। আজও সকাল ছয়টার দিকে ডাকতে গিয়ে তাকে ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে নামিয়ে দেখা যায়, সে আর বেঁচে নেই।’

 

প্রতিবেশী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘টুটুল এমনিতেই খুব ভদ্র ছেলে। গ্রামের কারও সঙ্গে কখনো খারাপ আচরণ করেনি। তবে গত বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। এ বছরও ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এ নিয়ে পরিবারের লোকজন তাকে কিছুটা বকাঝকা করেছিলেন। এরপর সে অভিমান করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছি।’

 

ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মহাসিন আলী বলেন, ‘আমাদের পুলিশ ক্যাম্পের কাছেই কোদাইলকাটি পশ্চিম পাড়ায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেবেন।’

এসএসসিতে ইংরেজিতে দুবার ফেল, বকাঝকার পর সকালে মিলল শিক্ষার্থীর লা/শ

রাজশাহীতে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়েছে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় দিনে-রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ১১০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে।

 

রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র ব্যবস্থাপক রবেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে রাজশাহী মহানগরীতেও বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী জানান, বুধবার নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১১০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এ সময়ে ২৮ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে। বৃহস্পতিবারও একই অবস্থা।

 

তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের পরিমাণ পরিবর্তিত হচ্ছে। কখনো চাহিদার পুরো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, আবার কখনো ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তবে মহানগরীতে গড়ে ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

 

এর আগে মঙ্গলবার রাতে মহানগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৯ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১১৩ মেগাওয়াট। বর্তমানে মহানগরীতে দিনে-রাতে গড়ে ১৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ১১১ মেগাওয়াট। এতে গড়ে ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে।

 

তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এই ঘাটতিতে মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভও তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রাজশাহীর ১৪ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনে কাছে চিঠি

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩