নিবন্ধন করেও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
নিবন্ধন করেও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী

নিবন্ধন করেও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী

সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে কাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেও প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। এর মধ্যে রয়েছে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসায় ৬১ হাজারের বেশি এবং কারিগরির ৯০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।

 

বুধবার (১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একাদশ শ্রেণিতে মোট ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬১ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছিল।

 

তাদের মধ্যে পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৭ জন। ফলে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেনি। অর্থাৎ নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ পরীক্ষার বাইরে চলে গেছে।

 

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম প্রথম বর্ষে রেজিস্ট্রেশন করেছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৭৮ হাজার ২৬৯ জন ফরম পূরণ করেছে। বাকি ৬১ হাজার ৬৬০ জন ফরম পূরণ না করায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। এ বোর্ডে ফরম পূরণ না করার হার ৪৪ দশমিক ০৭ শতাংশ।

 

অন্যদিকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একাদশ শ্রেণির (ভোকেশনাল) ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। তাদের মধ্যে ফরম পূরণ করেছে ৭৫ হাজার ১৯৭ জন। ফলে ৯০ হাজার ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা থেকে ছিটকে গেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ফরম পূরণ না করা শিক্ষার্থীর হার ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ, যা বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

 

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়টি আমরা অ্যানালাইসিস করছি। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার অসমতা দূর করতে কাজ করছি, যেনো ড্রপ আউট না হয়।

 

উল্লেখ্য, মোট ১৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৩২ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করলেও ফরম পূরণ করেছে ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৩ জন। অন্যদিকে ফরম পূরণ না করায় মোট ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৯ জন শিক্ষার্থী এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। অর্থাৎ নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ পরীক্ষা শুরুর আগেই ঝরে গেছে।


আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁস ও নকল ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে এবার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

 

এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ফরম পূরণ করেছেন ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী। সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে। এই বোর্ডে ৩১০টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা দেবে তিন লাখ ৩৯৩ জন। দেশের দুই হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে বসবেন শিক্ষার্থীরা। প্রথম দিন দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে।

 

পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশের জন্য বলা হয়েছে। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনাসহ সব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

 

এ বছর এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা চলবে ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হবে।

বৃহস্পতিবার শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর সতর্কতা

একবার নয়, দুইবার নয়—চারবার ব্যর্থতার তিক্ত স্বাদ পেয়েছেন। কখনও প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাদ পড়েছেন, কখনও ভাইভা পর্যন্ত গিয়েও ফিরতে হয়েছে খালি হাতে, আবার কখনও লিখিত পরীক্ষার বাধা পেরোতে পারেননি। তবুও স্বপ্ন থেকে একচুলও সরে যাননি ভোলার চরফ্যাশনের মো. সাইফুল ইসলাম সুমন। দীর্ঘ অপেক্ষা, নিরন্তর পরিশ্রম আর অদম্য আত্মবিশ্বাসের পুরস্কার হিসেবে অবশেষে ৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

 

সুমনের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের উত্তর আইচা গ্রামের তালুকদার বাড়িতে। বাবা মো. শাহে আলম তালুকদার ও মা মোছা. রোকেয়া বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি মেজো। গ্রামের সাধারণ পরিবেশেই বেড়ে ওঠা সুমনের শৈশব কেটেছে খেলাধুলা আর পড়াশোনার সমন্বয়ে।

 

পড়ালেখার হাতেখড়ি শুরু হয় রসুপুর কো-ইড প্রাইমারি থেকে। শিক্ষাজীবনের শুরু চরফ্যাশনেই। ২০১০ সালে চর আইচা হাই স্কুল থেকে এসএসসি (৪.৬৯) এবং ২০১২ সালে রসুলপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি (৪.৯০) নিয়ে পাস করেন। এরপর ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন।

 

বিসিএস জার্নি বিষয়ে সাইফুল ইসলাম সুমন বলেন,বিসিএসের স্বপ্ন নিয়ে আমার পথচলা শুরু হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে। প্রথম পরীক্ষা ছিল ৪১তম বিসিএস। কিন্তু শুরুটা ছিল হতাশার—প্রিলিমিনারিতেই বাদ পড়ি। এরপর ৪৩তম ও ৪৪তম বিসিএসে ভাইভা পর্যন্ত পৌঁছেও কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার পায়নি।এরপর ৪৬তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায়ও ব্যর্থ হন। অনেকেই হয়তো এতবার ব্যর্থ হওয়ার পর স্বপ্ন বদলে ফেলতেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম, একদিন না একদিন সফলতা আসবেই। সেই বিশ্বাসই আজ আমাকে পৌঁছে দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।

 

প্রস্তুতি সম্পর্কে সুমন বলেন, ‘প্রস্তুতির গল্পটাও ছিল সংগ্রামের। দিনে কোচিংয়ে ক্লাস নেওয়া, রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা, প্রতিদিন অনলাইন এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া—এভাবেই নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি। লিখিত পরীক্ষার জন্য কয়েকজন বন্ধু ও সিনিয়রদের নিয়ে স্টাডি গ্রুপ তৈরি করে নিয়মিত পরীক্ষা দিতাম এবং একে অপরের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতাম। সুমনের মতে, এই অনুশীলনই প্রস্তুতিকে আরও শাণিত করেছে।

 

বর্তমানে সুমন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি চাকরির ব্যস্ততার মাঝেও বিসিএসের স্বপ্নকে বিসর্জন দেননি। অফিস শেষে বই, নোট আর মডেল টেস্টই ছিল তার নিত্যসঙ্গী।

 

ক্যাডার চয়েজ ক্ষেত্রে সুমন বলেন,ক্যাডার চয়েজ দেবার বেলায় একটু কৌশলী হওয়া উচিত। কারন আমি যে জবটা ওন করি সেই অনুযায়ী ই চয়েস হওয়া উচিত। অযথা চয়েজ দিয়ে পদ নষ্ট করার কোনো মানে নেই।

 

তিনি বলেন,আমি ছোটবেলা থেকেই পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম এবং সমাজে ঘটে যাওয়া অন্যায় দেখে মনে হতো, যদি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতাম! সেই শৈশবের স্বপ্নই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে সুমন বলেন, তিনি এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে চান, যেন মানুষের কল্যাণে করা কাজের জন্য সবাই তাকে মনে রাখে। তিনি বলেন,আমি কোনো স্থান ছেড়ে আসলেও মানুষ যেন আমার সৎ কাজের জন্য আমাকে মনে রাখে। এমন কোনো কাজ না করা যেটা আমি এবং আমার পরিবারকে খাটো করে। এছাড়াও সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চান তিনি।

 

তিনি বিসিএস প্রত্যাশীদের উদ্দেশে বলেন,একজন চাকরিপ্রার্থী হিসেবে যদি পারিবারিক পিছুটান না থাকে তাহলে একমাত্র বিসিএসকে ফোকাস করে পড়লে দ্রুতই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব তবে যদি পারিবারিক আর্থিক অস্বচ্ছলতা থাকে তবে বিকল্প চিন্তাও মাথায় রাখা উচিত। যেমন আমি বিসিএসের পাশাপাশি কৃষি ব্যাংকে সুপারিশপ্রাপ্ত ও জনতা ব্যাংকে ছয় মাসের মত জব করি। পরবর্তীতে বর্তমানে বোরহানউদ্দিন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

 

তিনি আরও বলেন, ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়। প্রতিটি ব্যর্থতা নতুন করে শেখার সুযোগ তৈরি করে। ধৈর্য, নিয়মিত অনুশীলন এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে একদিন সফলতা ধরা দিতেই পারে।

 

সুমন আরও বলেন,আমার গ্রাম বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষা যেখানে মানুষজনের ভিতর বিসিএস ক্যাডার নিয়ে এখনো স্পষ্ট ধারনা নেই। আমার স্বপ্ন ছিলো ক্যাডার হয়ে নিজ এলাকার তরুনদের আইডল হবার যাতে পরবর্তীতে আরো তরুনরা পড়ালেখায় আগ্রহী হয় এবং আমার এলাকার চেহারা পাল্টে যায়।

 

সুমনের এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী, স্বজন এবং চরফ্যাশনের মানুষের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, তিনি সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ পুলিশের একজন আদর্শ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং ভোলার জন্য বয়ে আনবেন নতুন গৌরব।

চার বিসিএসে ব্যর্থ হয়েও থামেননি, পঞ্চম চেষ্টায় এএসপি চরফ্যাশনের সাইফুল

অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে এবারের পরীক্ষা। পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী। সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থীদের জন্য একাধিক কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

 

এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা চলবে ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ইতোমধ্যে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে।

 

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় শুরু হওয়া পরীক্ষা চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষাকক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।

 

এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৮৬৯ জন। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন।

 

পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হবে। আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড জানিয়েছে, সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে সব বোর্ডে একই মানদণ্ডে উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

 

এবার সারা দেশে ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৪০টিই রাজধানী ঢাকায়।

 

সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্র বিতরণ, উত্তরপত্র সংরক্ষণ, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা, ক্যালকুলেটর ব্যবহার, শৌচাগার তল্লাশি এবং ডিজিটাল নজরদারিসহ মোট ৩৫টি নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

অভিন্ন প্রশ্নে কাল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। ঢাকা মহানগরীর ৩০৯টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্র করে কেন্দ্রে যাতায়াত নির্বিঘ্নকরণসহ ঢাকা মহানগরের সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে বেশ কিছু নির্দেশনা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ জুন সকাল ১০টা থেকে ঢাকা মহানগরীর ৩০৯টি কেন্দ্রে হবে। এইচএসসি/সমমান পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াত নির্বিঘ্নকরণসহ ঢাকা মহানগরের সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সম্মানিত নগরবাসী ও যানবাহন চালকদের নিম্নবর্ণিত নির্দেশনাসমূহ মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো—

 

– পরীক্ষার্থীরা যথেষ্ট সময় নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।

 

– যেসব পরীক্ষার্থী ব্যক্তিগত যানবাহনে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসবেন তারা পরীক্ষা কেন্দ্রের সম্মুখে নামার পরিবর্তে কম ব্যস্ত নিকটবর্তী স্থানে নেমে পরীক্ষা কেন্দ্রে হেঁটে আসবেন। পরীক্ষা শেষে ফেরার সময়ও কেন্দ্র থেকে হেঁটে গিয়ে নিকটবর্তী কম ব্যস্ত কোনো স্থান হতে গাড়িতে উঠবেন।

 

– কোনো যানবাহন (প্রাইভেটকার) পরীক্ষা কেন্দ্রের নিকটবর্তী সড়কে পার্কিং করে রাখা যাবে না (পার্কিং করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে)।

 

– অভিভাবদের পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশের সড়কে অবস্থান না করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

 

(অভিভাবকদের সড়কে অবস্থান করে যান চলাচলে বিঘ্ন করা সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী অপরাধযোগ্য অপরাধ)।

 

– পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়ার সুবিধার্থে (সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত) পরীক্ষার্থী ব্যতীত অন্য সব যাত্রী জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্র সংলগ্ন সড়কসমূহ যথাসম্ভব পরিহার করে চলবেন।

এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে ডিএমপির বিশেষ নির্দেশনা

আগামী জুলাই মাস থেকে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন নিয়মিত দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দুই মাসের বকেয়া বেতনও জুলাই মাসেই পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল স্তরের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত সেপ্টেম্বর থেকে এনটিআরসির মাধ্যমে মাদরাসায় প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনীয় ছিল। তিনি বলেন, শিক্ষক ছিলোনা তাই তো এসব পদে নিয়োগ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করেছে, যা প্রশংসনীয় উদ্যোগগুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বাজেটে টাকা রাখেনি।

 

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর দেখা গেল ৫০১ কোটি টাকা প্রয়োজন কিন্তু সেটাও নেই। অন্তর্বর্তী সরকার বাজেটে টাকা রাখেনি বলে মাদরাসা শিক্ষকদের ২ মাসের বেতন দেওয়া যায়নি। তবে জুলাই মাস থেকে বকেয়াসহ বেতন নিয়মিত হবে।

 

এসময় শিক্ষামন্ত্রী জানান, ইসলামী শিক্ষায় যারা পড়াশোনা করছেন তাদের দল মতের উর্ধে উঠে জীবনযাপন করতে হবে। এসময় সংসদে জামায়েতে ইসলাম কতটা ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই আলোচনার কথা জানিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল ইসলামের পথে থাকার আহবান জানান তিনি।

দুই মাসের বকেয়াসহ জুলাই থেকে নিয়মিত বেতন পাবেন মাদরাসা শিক্ষকরা

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ফাঁসের ভুয়া খবর ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

রোববার (২৮ জুন) সকালে সিলেট জালালাবাদ গ্যাস অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে সিলেট অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে সরকারের আমলে মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এছাড়া, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সাত হাজার কোটি টাকা লুট করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

 

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বাজেটের বিষয়টি বিবেচনা না করেই মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ফাঁসের ভুয়া খবর ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা: পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপি সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল।

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সকল পরীক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক সাইফুদ্দিন সাইফুল।

 

আজ এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি পরীক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করেন।

 

শুভেচ্ছা বার্তায় সাইফুদ্দিন সাইফুল বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি তাদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গড়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। আমি আশা করি, আমাদের সাভারসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ধৈর্য, মেধা ও মনোযোগের সাথে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজেদের মেধার সর্বোচ্চ স্বাক্ষর রাখবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরাই আমাদের আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। তাদের এই পথচলায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবদান অনস্বীকার্য। আমি সকল পরীক্ষার্থীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পরীক্ষায় আশানুরূপ সাফল্য কামনা করছি। আল্লাহ যেন তাদের মনের আশা পূরণ করেন এবং তারা যেন দেশ ও জাতির কল্যাণে নিয়োজিত হতে পারে।”

 

একই সাথে তিনি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি পরীক্ষার্থীরা যাতে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপি সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল

ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক

২৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলার অগ্রগতি না হওয়া, সরকারি দলের সাথে সম্ভাব্য ‘আন্ডারটেবিল সমঝোতা’ এবং গ্রুপটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কেউ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কথা বললে তারা তাদের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো শুরু করে। হাসনাতের এই বক্তব্যের পর থেকে গত চারদিনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বসুন্ধরার মালিকানাধীন ৫টি সংবাদমাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে ধারাবাহিক সমন্বিত নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

 

দ্য ডিসেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ এর সংসদের বক্তৃতার পর গত ২৮ জুন সকাল ৭টা থেকে আজ ১ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত মোট ৪ দিনে (৮০ ঘণ্টায়) বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ ২৪, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ২৪ ডটকমে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বমোট ৯৯টি নেতিবাচক কন্টেন্ট প্রচার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই হুবহু একই প্রতিবেদন অল্প সময়ের ব্যবধানে ৫টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

 

সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন “আমরা দেখেছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বসুন্ধরার পুত্র আনভির দেশে ঢোকার সাহস পায় নাই। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আমরা দেখেছি সদর্পে এই সোবহানের পুত্র, এই ধর্ষক, দেশে ঢুকেছে।”

 

তিনি সেখানে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মামলার কি অগ্রগতি হয়েছে সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই আন্ডারটেবিল কোন ধরনের সমঝোতা হয়েছে কিনা। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধাটা কোথায় সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।”

 

হাসনাত আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বসুন্ধরা গ্রুপ যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের গুম খুন হত্যাকে যারা বৈধতা দিয়েছে তাদের খুঁটির জোর কোথায় সেটা আমরা জানতে চাই।” “ সরকার দলের অনেকেই মাঝে মাঝে আমাদের কাছে এসে দু:খ প্রকাশ করে যে আসলে আমরা জেল খেটেছি, আমরা কষ্ট করেছি, আমাদের সন্তানদের সাথে আমরা থাকতে পারিনাই, কিন্তু আমাদের দলেরই কিছু কিছু মানুষ বসুন্ধরার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে। তাদের মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে।”

 

“যেই মিডিয়া তারেক রহমানকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে ফ্রেমিং করেছে, সেই মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে আজকে বসুন্ধরা গ্রুপে আজকে এই সংসদ সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের অনেকেই তারা সেখানে যুক্ত”, বলেন তিনি।

 

“এই বসুন্ধরার বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া লেলিয়ে দেওয়া হয়।”

 

“এতদিন ধরে যারা মিডিয়াকে, যারা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা বয়ান উৎপাদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন” তিনি দাবি করেন।

 

৪ দিনে ৫ মিডিয়ায় ৯৯টি কন্টেন্ট

দ্য ডিসেন্টের এই বিশ্লেষণে শুধুমাত্র বসুন্ধরা গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কনটেন্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে। কনটেন্ট সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণের আওতায় প্রিন্ট সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

 

২৮ জুন সকাল ৭টা ৪ মিনিটে কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে “হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা” শিরোনামে প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এর আট মিনিট পর, সকাল ৭টা ১২ মিনিটে একই বিষয় নিয়ে একটি ফটোকার্ডও প্রকাশ করা হয়।

 

ওই সময় থেকে ১ জুলাই দুপুর ২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ৭৯ ঘণ্টায়, বসুন্ধরা গ্রুপের এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে মোট ৯৯টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়।

 

পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের মধ্যে কালের কণ্ঠে সর্বাধিক ৭৬টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ছিল ৩৫টি ভিডিও (ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক মিলিয়ে),১১টি সংবাদ প্রতিবেদন এবং ৩০টি ফটোকার্ড।

 

 

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

ফ্যাক্ট চেক

ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন

মিডিয়া ওয়াচ

ডিসইনফরমেশন এক্টর

অপিনিয়ন

আমাদের সম্পর্কে

ক্যারিয়ার

যোগাযোগ

শর্তাবলি

গোপনীয়তার নিয়মাবলি

Follow us:

মিডিয়া ওয়াচ

menu

বসুন্ধরার বিরুদ্ধে বক্তব্যের পর ৫টি মিডিয়ায় হাসনাতের বিরুদ্ধে ৮০ ঘণ্টায় ৯৯ কনটেন্ট

 

Roby Hossain

লেখক

রবি হোসাইন

১ জুলাই, ২০২৬

লিংক কপি করুন

২৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলার অগ্রগতি না হওয়া, সরকারি দলের সাথে সম্ভাব্য ‘আন্ডারটেবিল সমঝোতা’ এবং গ্রুপটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কেউ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কথা বললে তারা তাদের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো শুরু করে। হাসনাতের এই বক্তব্যের পর থেকে গত চারদিনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বসুন্ধরার মালিকানাধীন ৫টি সংবাদমাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে ধারাবাহিক সমন্বিত নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

 

দ্য ডিসেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ এর সংসদের বক্তৃতার পর গত ২৮ জুন সকাল ৭টা থেকে আজ ১ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত মোট ৪ দিনে (৮০ ঘণ্টায়) বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ ২৪, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ২৪ ডটকমে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বমোট ৯৯টি নেতিবাচক কন্টেন্ট প্রচার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই হুবহু একই প্রতিবেদন অল্প সময়ের ব্যবধানে ৫টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

 

সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন “আমরা দেখেছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বসুন্ধরার পুত্র আনভির দেশে ঢোকার সাহস পায় নাই। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আমরা দেখেছি সদর্পে এই সোবহানের পুত্র, এই ধর্ষক, দেশে ঢুকেছে।”

 

তিনি সেখানে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মামলার কি অগ্রগতি হয়েছে সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই আন্ডারটেবিল কোন ধরনের সমঝোতা হয়েছে কিনা। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধাটা কোথায় সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।”

 

হাসনাত আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বসুন্ধরা গ্রুপ যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের গুম খুন হত্যাকে যারা বৈধতা দিয়েছে তাদের খুঁটির জোর কোথায় সেটা আমরা জানতে চাই।” “ সরকার দলের অনেকেই মাঝে মাঝে আমাদের কাছে এসে দু:খ প্রকাশ করে যে আসলে আমরা জেল খেটেছি, আমরা কষ্ট করেছি, আমাদের সন্তানদের সাথে আমরা থাকতে পারিনাই, কিন্তু আমাদের দলেরই কিছু কিছু মানুষ বসুন্ধরার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে। তাদের মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে।”

 

“যেই মিডিয়া তারেক রহমানকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে ফ্রেমিং করেছে, সেই মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে আজকে বসুন্ধরা গ্রুপে আজকে এই সংসদ সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের অনেকেই তারা সেখানে যুক্ত”, বলেন তিনি।

 

“এই বসুন্ধরার বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া লেলিয়ে দেওয়া হয়।”

 

“এতদিন ধরে যারা মিডিয়াকে, যারা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা বয়ান উৎপাদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন” তিনি দাবি করেন।

 

৪ দিনে ৫ মিডিয়ায় ৯৯টি কন্টেন্ট

দ্য ডিসেন্টের এই বিশ্লেষণে শুধুমাত্র বসুন্ধরা গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কনটেন্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে। কনটেন্ট সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণের আওতায় প্রিন্ট সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

 

২৮ জুন সকাল ৭টা ৪ মিনিটে কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে “হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা” শিরোনামে প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এর আট মিনিট পর, সকাল ৭টা ১২ মিনিটে একই বিষয় নিয়ে একটি ফটোকার্ডও প্রকাশ করা হয়।

 

ওই সময় থেকে ১ জুলাই দুপুর ২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ৭৯ ঘণ্টায়, বসুন্ধরা গ্রুপের এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে মোট ৯৯টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়।

 

পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের মধ্যে কালের কণ্ঠে সর্বাধিক ৭৬টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ছিল ৩৫টি ভিডিও (ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক মিলিয়ে),১১টি সংবাদ প্রতিবেদন এবং ৩০টি ফটোকার্ড।

 

কোন সংবাদমাধ্যমে কতটি কনটেন্ট?

সংবাদমাধ্যমের নাম

 

কনটেন্টের সংখ্যা

 

কালের কণ্ঠ

 

৭৬

 

ডেইলি সান

 

 

বাংলাদেশ প্রতিদিন

 

 

বাংলানিউজ২৪

 

 

নিউজ২৪

 

 

সর্বমোট

 

৯৯

 

ডেইলি সানে মোট ৯টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়, যার মধ্যে ছিল ৬টি সংবাদ ও ৩টি ফটোকার্ড।

 

বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত হয় মোট ৫টি কনটেন্ট, যার মধ্যে ছিল ৩টি সংবাদ ও ২টি ফটোকার্ড।

 

বাংলানিউজ২৪ এ প্রকাশিত হয় মোট ৫টি কনটেন্ট, যার মধ্যে ছিল ৪টি সংবাদ ও ১টি ফটোকার্ড।

 

অন্যদিকে নিউজ২৪ এ একই সময়পর্বে হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে ৪টি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

 

দিনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট প্রকাশিত হয় ২৮ জুন। সেদিন পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে মিলিয়ে মোট ৩৭টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। পরদিন ২৯ জুন প্রকাশিত হয় ১৮টি কনটেন্ট। আর ৩০ জুন প্রকাশিত হয় ২৭টি কনটেন্ট। ১ জুলাই প্রতিবেদন লেখার সময় (দুপুর ২টা) পর্যন্ত আরও ১৭টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে।

 

৯৯টি কনটেন্টে ঘুরেফিরে ৯টি ‘খবর’

২৮ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত প্রকাশিত ৯৯টি কনটেন্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, এগুলোর বড় অংশই কোনো স্বতন্ত্র প্রতিবেদন নয়। একই বিষয় বা অভিযোগকে বিভিন্ন ফরম্যাটে সংবাদ, ভিডিও, ইংরেজি অনুবাদ এবং ফটোকার্ড হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার প্রকাশ করা হয়েছে।

 

বিশ্লেষণে অন্তত ৯টি স্বতন্ত্র বা মূল কনটেন্ট চিহ্নিত করা যায়, যেগুলো খণ্ডিত করেই অধিকাংশ কনটেন্ট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো “হাসনাত আবদুল্লাহ: সাদা সাদা, কালা কালা”, “মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ”, “হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার”, মো. তারেক রহমানের একটি ভিডিও বক্তব্য, রাশেদ খানের বক্তব্য, “হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিয়েছিল” শিরোনামের ভিডিও এবং “চেতনাবোধ না থাকলে মানুষ হাসনাতদের প্রত্যাখ্যান করবে” শিরোনামের ভিডিও। পরবর্তীতে এর সাথে নতুন করে যুক্ত করা হয় বিএনপি নেতা এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য (“নেতারা শুধু জয় দেখেছেন…”) এবং নির্দিষ্ট প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে “মসজিদের অর্থ বরাদ্দে ই-টেন্ডার নৈরাজ্য” সংক্রান্ত সংবাদ।

 

এই নয়টি মূল কনটেন্ট থেকেই বিভিন্ন শিরোনাম, ভাষা, প্ল্যাটফর্ম ও ফরম্যাটে বাকি কনটেন্টগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।

 

দিনভিত্তিক প্রচার

২৮ জুন: এই দিন সবচেয়ে বেশি (৩৭টি) কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। এদিন একই শিরোনাম, একই বিষয় এবং একই কনটেন্ট একাধিক সংবাদমাধ্যম ও প্ল্যাটফর্মে পুনঃপ্রচার করা হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য “হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা” শিরোনামে কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪ বসুন্ধরা গ্রুপের এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমেই সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই শিরোনাম কালের কণ্ঠে আবার ফটোকার্ড হিসেবেও প্রকাশ করা হয়।

 

একই দিনে “হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ” ভিডিওটি কালের কণ্ঠের ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক এই তিনটি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়। এছাড়া “হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিয়েছিল” এবং “হাসনাত ও হান্নান মাসউদ বাজেট বাদ দিয়ে চানাচুর মার্কা আলোচনা করেছেন” এই দুটি ভিডিও ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রকাশিত হয়।

 

২৯ জুন: আগের দিন প্রকাশিত একই অভিযোগ ও বক্তব্য নতুন প্ল্যাটফর্ম ও নতুন সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রচার করা হয়। “হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার” শিরোনামটি কালের কণ্ঠে ইউটিউব ভিডিও, সংবাদ ও ফটোকার্ড এই তিনটি ফরম্যাটে প্রকাশ করা হয়।

 

২৮ জুন কালের কণ্ঠে প্রকাশিত “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণকারী হাসনাত-সারজিসরা ৬০০ শিশুর মৃত্যুর পেছনে দায়ী : মো. তারেক” শিরোনামটি পরদিন (২৯ জুন) বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪-এ প্রকাশিত হয়। একই দিনে ২৮ জুনের “হাসনাত ও হান্নান মাসউদ বাজেট বাদ দিয়ে চানাচুর মার্কা আলোচনা করেছেন” ভিডিওটি কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটেও নতুন করে প্রকাশ করা হয়।

 

৩০ জুন: এদিনও একই শিরোনাম ও একই ধরনের কনটেন্ট একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। “মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ” শিরোনামের সংবাদটি কালের কণ্ঠ, বাংলানিউজ২৪, নিউজ২৪ এবং ডেইলি সানের বাংলা সংস্করণে প্রকাশিত হয়।

 

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সানে “Hasnat Abdullah: White outside, black inside”, “Day labourer’s family alleges brutal assault by supporters of Hasnat Abdullah” এবং “Tale of Hasnat Abdullah’s rise as a ‘mob emperor’” এই তিনটি শিরোনামে সংবাদ ও ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়।

 

একই সঙ্গে “Tale of Hasnat Abdullah’s rise as a ‘mob emperor'” শিরোনামে বাংলাদেশ প্রতিদিনেও সংবাদটি প্রকাশিত হয়। এছাড়া এই দিন নতুন করে বিএনপি নেতা এম এ আউয়ালের বক্তব্য নিয়ে “এনসিপির নেতারা শুধু জয় দেখেছেন, পরাজয় দেখেননি : আউয়াল খান” শিরোনামে কালের কণ্ঠে সংবাদ, একাধিক ভিডিও (ইউটিউব ও ফেসবুক) এবং ফটোকার্ড প্রচার করা হয়।

 

১ জুলাই: সর্বশেষ এই দিনে প্রচারণায় আরও কয়েকটি নতুন অভিযোগ যুক্ত করা হয়। বিশেষ করে “মসজিদের অর্থ বরাদ্দে হাসনাতের ই-টেন্ডার নৈরাজ্য” শিরোনামে কালের কণ্ঠে একটি সংবাদ, দুটি ভিডিও (ইউটিউব ও ফেসবুক) এবং অন্তত ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়।

 

পাশাপাশি “‘খেজুরের মতো হাসনাতের কাছে ল্যাম্পপোস্টসহ অন্যান্য কাজের হিসাব চান এলাকাবাসী’” শিরোনামের সংবাদটি কালের কণ্ঠ ও বাংলানিউজ২৪-এ প্রকাশিত হয় এবং কালের কণ্ঠে এ নিয়ে একাধিক ফটোকার্ড ছড়ানো হয়।

 

এছাড়া “হাসনাত-সারজিস কোন অতিগোপনীয় অভিযোগ নিয়ে দুদকে গিয়েছিলেন, তদন্ত চান রাশেদ খান” শিরোনামেও কালের কণ্ঠে

সংবাদ ও ফটোকার্ড প্রকাশিত হয়। এদিন আগের “মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ” সংবাদটি নিউজ২৪-এ পুনরায় প্রচার করা হয়।

 

 

 

বসুন্ধরার বিরুদ্ধে বক্তব্যের পর ৫টি মিডিয়ায় হাসনাতের বিরুদ্ধে ৮০ ঘণ্টায় ৯৯ কনটেন্ট

ফেনী সীমান্ত থেকে উদ্ধার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবক, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

 

প্রতিনিধি : রহিম আলী জাবেদ

 

ফেনী সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের পর আটক হওয়া এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বাংলাদেশি যুবককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

 

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ফেনীর পরশুরাম উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল (২২) গত ৩০ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানসিক বিভ্রান্তির কারণে তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভারতের ৪৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মন্ডুবস্তি ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা তাকে আটক করে।

 

বিষয়টি জানতে পেরে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) দ্রুত বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক যুবককে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি হয়।

 

বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ফেনী ব্যাটালিয়নের মজুমদারহাট বিওপি এবং বিএসএফের বিলোনিয়া ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে মোস্তাফিজুর রহমান রুবেলকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

 

ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধ, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা এবং মাদক ও চোরাচালান দমনে তাদের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

 

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান।

ফেনী সীমান্ত থেকে উদ্ধার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবক, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

জামালপুরে জানালার গ্রিল কেটে বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি হীরার আংটি, নগদ ১ লাখ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী সিভিল জজ আহমাদুল কবির সাকিল জামালপুর আদালতের মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতে এবং তার স্ত্রী সিভিল জজ নুসরাত জেরিন জেনি দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে কর্মরত।

 

স্থানীয়রা জানান, পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেনের তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলায় গত সাত মাস ধরে ভাড়া থাকেন বিচারক দম্পতি আহমাদুল কবির সাকিল ও নুসরাত জেরিন জেনি। মঙ্গলবার বিকেলে স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হন আহমাদুল কবির সাকিল। বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি হীরার আংটি, নগদ ১ লাখ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।

 

সিভিল জজ আহমাদুল কবির সাকিল বলেন, রাত ৮টার দিকে বাসায় ফিরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি জানালার গ্রিল কাটা, ঘর তছনছ এবং আলমারি-ড্রয়ারের জিনিসপত্র এলোমেলো। তখন বুঝতে পারি, বাসায় চুরি হয়েছে।

 

বাড়ির মালিক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার তিনতলা ভবনে পাঁচটি ইউনিট রয়েছে। এই বাসায় আগে কখনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও বর্তমানে তা অচল। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে সিসিটিভি বিকল করে দুর্বৃত্তরা চুরি করেছে।

 

এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, বিচারক দম্পতির তৃতীয় তলার ভাড়া বাসায় গ্রিল কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুরে জানালার গ্রিল কেটে বিচারক দম্পতির বাসায় চুরি

রাজবাড়ীর কালুখালীতে যাত্রীবাহী বাস ও একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ চালক নিহত হয়েছেন। বুধবার (১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের খাগজানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীরা জানায়, পাংশা থেকে দৌলতদিয়াগামী একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়াগামী চৌধুরী ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয়।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহ উদ্ধার করে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

 

কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান উম্মন জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

পাংশা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাজ্জাত দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত চালকের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

রাজবাড়ীতে বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকের মৃত্যু

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় একটি সুপারি বাগান থেকে ৪টি গাঁজার গাছ জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

 

বুধবার (১ জুলাই) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাটগোপালপুর গ্রামের মোল্লাপাড়ায় অভিযান চালায় ভূরুঙ্গামারী পুলিশ।

 

পুলিশ জানায়, মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত মাজেদুল ইসলাম মঞ্জু দীর্ঘদিন ধরে সুপারি বাগানে গাঁজার চাষ করে আসছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়। অভিযানে সুপারি বাগান থেকে প্রায় ১২ ফুট উঁচু দুটি এবং প্রায় ২ ফুট উঁচু দুটি গাঁজার গাছ জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় অভিযুক্ত মাজেদুল ইসলাম মঞ্জুকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

 

পুলিশ আরও জানায়, ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় প্রচুর সুপারি বাগান থাকায় কিছু মাদক কারবারি এসব বাগানে গোপনে গাঁজার চাষ করছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ভূরুঙ্গামারীতে সুপারি বাগানে গাঁজা চাষ, অভিযানে জব্দ ৪টি গাছ

শরণখোলায় স্কুল ফিডিংয়ের ডিম খেয়ে অসুস্থ ১১ শিক্ষার্থী

 

বিশেষ প্রতিনিধি

মামুন হাওলাদার

 

বাগেরহাটের শরণখোলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সেদ্ধ ডিম খাওয়ার পর ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে শরণখোলা উপজেলার ১ নং ধানসাগর ইউনিয়নের ৯৮ পূর্ব ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে বর্তমানে তারা সুস্থ রয়েছে এবং পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এদিকে ডিমের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষায় পাঠানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওসাকা-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার আলিম আল রাজি মুক্তি বলেন, শরণখোলার ১১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে সব গুলো বিদ্যালয় একই সময়ে ডিম সরবরাহ করা হয়েছে। অন্য কোনো বিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা সংবাদ পাওয়া যায় নি। একটি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিশু কী কারণে সাময়িক অসুস্থ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আক্রান্ত সবাই বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানেই ডিম সেদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের খাওয়ানো হয় এবং সব ডিমই ভালো ছিল। প্রথম শিফটের শিক্ষার্থীরা একই ডিম খেয়েও অসুস্থ হয়নি। তবে দ্বিতীয় শিফটের কয়েকজন শিক্ষার্থী ডিম খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। কী কারণে এমন হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস জানান, ডিম খাওয়ার পর ১১ জন শিশু পেটব্যথা ও অস্বস্তিবোধ করায় হাসপাতালে ভর্তি হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর তারা সুস্থ হয়ে ওঠে। সতর্কতার অংশ হিসেবে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনির আহমেদ বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ডিমে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। একই ডিম প্রথম শিফটের শিক্ষার্থীরাও খেয়েছে, তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। এরপরও পরীক্ষার জন্য ডিমের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যদের মধ্যেও মানসিক প্রভাবের কারণে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে নমুনা পরীক্ষা করা হবে।

শরণখোলায় স্কুল ফিডিংয়ের ডিম খেয়ে অসুস্থ ১১ শিক্ষার্থী

জুয়া, অনলাইন জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল পাস হয়েছে। বিদ্যমান দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭ রহিত করে নতুন আইনটি করা হচ্ছে।

 

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬ পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

 

বিলে অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ (বেটিং), বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয় সংজ্ঞায়ন করে অপরাধের প্রকৃতিভেদে ১৪ ধরনের সাজার (অর্থদণ্ড/কারাদণ্ড/উভয় দণ্ড) বিধান রাখা হয়েছে।

 

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার অপরাধ করলে পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

কেউ অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের সাজা হবে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।

 

বিলে জুয়া, জুয়ার স্থান, জুয়ার সামগ্রী, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া—এসবেরও সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে।

জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস: অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁস ও নকল ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে এবার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

 

এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ফরম পূরণ করেছেন ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী। সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে। এই বোর্ডে ৩১০টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা দেবে তিন লাখ ৩৯৩ জন। দেশের দুই হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে বসবেন শিক্ষার্থীরা। প্রথম দিন দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে।

 

পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশের জন্য বলা হয়েছে। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনাসহ সব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

 

এ বছর এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা চলবে ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হবে।

বৃহস্পতিবার শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর সতর্কতা

রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পুরো এলাকা ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি চট্টগ্রামে নতুন একটি থানা এবং চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে তিনটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)।

 

আজ বুধবার (১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নিকার ১২১তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

প্রসঙ্গত, ঢাকা ছাড়াও পূর্বাচল নতুন শহরের বড় একটি অংশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় পড়েছে, আবার কিছু অংশ পড়েছে গাজীপুরের কালীগঞ্জে। তিন জেলায় বিভক্ত হওয়ায় এ প্রকল্পের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা হচ্ছিল।

 

সেই সমস্যা দূর করতে প্রকল্পটির পুরো এলাকা ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। যা আজ অনুমোদন পেল।

 

আর চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ করা হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠন হতে যাচ্ছে।

 

এছাড়া, কুমিল্লার মুরাদনগরকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে নতুন উপজেলা এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন উপজেলা গঠন হবে।

ঢাকায় যুক্ত হবে পূর্বাচল; নতুন একটি থানা ও তিন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d