খেলাধুলা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগের রাতে সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং দলের নেপথ্যে কাজ করা সদস্যদের সঙ্গে তোলা একটি দলীয় ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই দল এমন এক ইতিহাস গড়েছে, যা কখনো মুছে ফেলা যাবে না।

 

নিউ জার্সিতে ফাইনালের আগে তোলা ছবিতে ২৬ সদস্যের খেলোয়াড়দলের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ, চিকিৎসক, সরঞ্জামকর্মী, রাঁধুনি, কর্মকর্তাসহ আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও উপস্থিত ছিলেন। ফাইনালের আগে এটিই ছিল পুরো দলের শেষ আনুষ্ঠানিক দলীয় ছবি।

 

ছবির ক্যাপশনে মেসি লেখেন, গত কয়েক বছরের সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন শুধু শিরোপা নয়, বরং সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত, একসঙ্গে লড়াই করা, কঠিন সময় পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো এবং প্রতিটি যাত্রাকে উপভোগ করা।

 

তিনি দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, এই দল এমন এক ইতিহাস লিখেছে, যা আমরা কখনো ভুলব না এবং কেউ মুছতেও পারবে না।’ একই সঙ্গে তিনি সমর্থকদেরও আর্জেন্টিনার পাশে থাকার আহ্বান জানান।

 

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে মেসির ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে পরাজয়ের পর ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পান তিনি। এবার ৩৯ বছর বয়সে সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।

 

চলতি বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথে বড় ভূমিকা রেখেছেন মেসি। এখন পর্যন্ত তিনি করেছেন ৮ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪টি গোল। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল না পেলেও আর্জেন্টিনার দুই গোলেই ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

 

বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার লক্ষ্য চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা এবং ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়া। অন্যদিকে, স্পেন চাইছে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি জিততে।

ফাইনালের আগে মেসির আবেগঘন বার্তা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগের রাতে সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং দলের নেপথ্যে কাজ করা সদস্যদের সঙ্গে তোলা বিস্তারিত

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফলে ব্যক্তিগত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিততে এখন মেসির সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন সমীকরণ।

 

বর্তমানে টুর্নামেন্টে এমবাপ্পের গোল ১০টি, সঙ্গে রয়েছে ৪টি অ্যাসিস্ট। অন্যদিকে, মেসির ঝুলিতে রয়েছে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ গোলসংখ্যায় দুই গোল পিছিয়ে থেকেই ফাইনালে মাঠে নামবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

 

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এমবাপ্পে দুটি গোল করে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেন। সেই সঙ্গে সব বিশ্বকাপ মিলিয়ে তার মোট গোল দাঁড়ায় ২২টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড।

 

এ অবস্থায় গোল্ডেন বুট জিততে হলে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মেসিকে অন্তত দুটি গোল করতে হবে, যাতে তিনি এমবাপ্পের সমান ১০ গোলে পৌঁছাতে পারেন। তবে গোলসংখ্যা সমান হলেও বিজয়ী নির্ধারণে অ্যাসিস্ট ও অন্যান্য টাইব্রেকার বিবেচনায় আসতে পারে। বর্তমানে দুইজনেরই অ্যাসিস্ট সমান ৪টি। তাই শুধু সমতায় ফিরলেই হবে না, প্রয়োজনে টাইব্রেকারেও এগিয়ে থাকতে হবে মেসিকে।

 

ফাইনালই হবে মেসির শেষ সুযোগ। স্পেনের বিপক্ষে তিনি গোল করতে পারলে শুধু আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাই বাড়বে না, ব্যক্তিগতভাবে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়েও টিকে থাকবেন। ফলে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে শিরোপার পাশাপাশি ব্যক্তিগত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের দিকেও থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের বাড়তি নজর।

গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে যে কঠিন সমীকরণ

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান বিস্তারিত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

 

রোববার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামবে দুই দল।

 

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

 

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অপরাজিত থাকা আর্জেন্টিনা ফাইনালেও পরীক্ষিত কৌশলেই খেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্কালোনি বরাবরের মতো ৪-৪-২ ফরমেশনেই দল সাজানোর সম্ভাবনা বেশি। গোলপোস্টে থাকবেন নির্ভরযোগ্য এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। চার সদস্যের রক্ষণভাগে দেখা যেতে পারে নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও নিকোলাস তালিয়াফিকোকে।

 

মাঝমাঠে রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ওপর থাকবে খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার দায়িত্ব। এই চার ফুটবলারের সমন্বয়ই আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডকে শক্তিশালী করে তুলেছে পুরো টুর্নামেন্টে।

 

আক্রমণভাগে অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে থাকবেন হুলিয়ান আলভারেজ। চলতি বিশ্বকাপে মেসি ইতোমধ্যে ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে ফাইনালে ওঠার পথে বড় অবদান রেখেছেন আলভারেজও।

 

স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ– গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ডিফেন্ডার: নাহুয়েল মলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো। মিডফিল্ডার: রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ

 

ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।   রোববার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামবে দুই দল।   সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে বিস্তারিত

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াই শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এই ম্যাচ বিশেষ এক আবেগ তৈরি করেছে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিবারেও। কারণ তার জীবনের বড় একটি অধ্যায় জড়িয়ে আছে স্পেনের সঙ্গে। স্ত্রী স্প্যানিশ, দুই সন্তানের জন্মও স্পেনে। ফলে শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচে পরিবারের একাংশের সমর্থন থাকবে স্পেনের পক্ষে, আর অন্য অংশ থাকবে আর্জেন্টিনার পাশে।

 

ফাইনালের আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে স্কালোনি জানান, স্ত্রী ও দুই ছেলে অবশ্যই আর্জেন্টিনাকেই সমর্থন করবে। তার ভাষায়, জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কতটা চাপ, পরিশ্রম ও আবেগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেটা তার স্ত্রী খুব ভালো করেই বোঝেন। সন্তানরাও সেই বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত।

 

২০০৮ সালে ইতালির লাৎসিও ছেড়ে স্প্যানিশ ক্লাব মায়োর্কায় যোগ দেওয়ার পর এলিসা মন্তেরোর সঙ্গে পরিচয় হয় স্কালোনির। পরে তাদের সংসার গড়ে ওঠে। ২০১২ সালে বড় ছেলে ইয়ান এবং ২০১৬ সালে ছোট ছেলে নোয়ার জন্ম হয় মায়োর্কাতেই। জন্মসূত্রে স্প্যানিশ নাগরিক হলেও, দুই সন্তান বাবার দেশ আর্জেন্টিনারই সমর্থক।

 

২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ের পর আর্জেন্টিনার উদ্‌যাপনে স্কালোনির দুই ছেলেকে আকাশি-সাদা জার্সি পরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেখা গিয়েছিল। সেই স্মৃতিই ইঙ্গিত দেয়, ফাইনালেও তাদের পছন্দের দল কোনটি।

 

তবে স্কালোনির শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের অবস্থান ভিন্ন। তাদের সবার বসবাস স্পেনের মায়োর্কায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই তারা স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষায় থাকবেন।

 

এ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, মায়োর্কায় থাকা আত্মীয়দের জন্য পরিস্থিতি সহজ নয়। একদিকে নিজের দেশের প্রতি সমর্থন, অন্যদিকে পরিবারের সম্পর্ক—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে নেওয়াটাই তাঁদের জন্য সবচেয়ে কঠিন।

 

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বসেরার মুকুট ফিরে পেতে মাঠে নামবে স্পেন। ফলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি স্কালোনির পরিবারের আবেগও হয়ে উঠেছে এই ফাইনালের এক অনন্য গল্প।

ফাইনালের আগে স্কালোনির নিজ ঘরেই দ্বন্দ্ব!

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াই শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এই ম্যাচ বিশেষ এক আবেগ তৈরি করেছে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিবারেও। কারণ তার জীবনের বড় একটি অধ্যায় বিস্তারিত

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মহারণের আগে লামিন ইয়ামালের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন।

 

স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরইএফইএফ) জানিয়েছে, তরুণ এই ফরোয়ার্ড পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং ফাইনালে খেলতে প্রস্তুত।

 

বৃহস্পতিবার নিউ জার্সিতে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর প্রথম অনুশীলনে মূল দলের সঙ্গে দেখা যায়নি ইয়ামালকে। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় পেদ্রো পোরোর সঙ্গে মাঠের একপাশে আলাদাভাবে হালকা রিকভারি সেশন করেন তিনি। এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তার চোট নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

 

তবে রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরইএফইএফ জানায়, ইয়ামাল ও পোরোর আলাদা অনুশীলন ছিল কেবল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। দীর্ঘ টুর্নামেন্টের ধকল কাটিয়ে খেলোয়াড়দের সতেজ রাখতে এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ইয়ামালের কোনো চোট নেই। বিশ্বকাপের ফাইনালে তাকে শতভাগ ফিট অবস্থায় মাঠে নামানোর লক্ষ্যেই এই বিশেষ রিকভারি সেশন পরিচালনা করা হয়েছে।

 

ফলে রোববার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের আক্রমণভাগে লামিন ইয়ামালকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তার উপস্থিতি স্পেনের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

 

 

ইয়ামালের চোট শঙ্কা নিয়ে যা জানাল স্পেন

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মহারণের আগে লামিন ইয়ামালের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন।   স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরইএফইএফ) জানিয়েছে, তরুণ এই ফরোয়ার্ড পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং বিস্তারিত

আরেকটি রুদ্ধশ্বাস জয়। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ ঘুরিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেছে আর্জেন্টিনা। এমন এক জয়ের পর লিওনেল মেসির প্রথম কথাই ছিল দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনাকে নিয়ে।

 

ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ওপর থেকে ম্যারাডোনা আজ দারুণ উপভোগ করছেন। আজকের দিনটা তার জন্য খুবই বিশেষ। তাকে এই আনন্দ দিতে পেরে আমরা খুশি। যেভাবেই হোক, ওপর থেকে তিনি এটা উপভোগ করুন। এই জয় তার জন্যও একটি উপহার।’

 

সাক্ষাৎকারের সময় সাংবাদিক মাতিয়াস পেল্লিচিওনি মেসির হাতে তুলে দেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার পরিহিত জার্সির একটি রেপ্লিকা জার্সি।

 

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই মানেই ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইতিহাসের আবেগ। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন, মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ম্যারাডোনা যা করেছিলেন, তা আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।

 

প্রথমে লাফিয়ে উঠে ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, এরপর কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রায় মাঝ মাঠ থেকে দৌড়ে গিয়ে একক নৈপুণ্যে সেই শতাব্দী সেরা গোল- যেটিকে অনেকেই এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা গোল বলে মনে করেন।

 

ম্যারাডোনার ওই স্মরণীয় পারফরম্যান্স ছাড়াও ইংল্যান্ডের সঙ্গে রয়েছে আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড যুদ্ধের ইতিহাস। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে এখনও বাড়তি আবেগের।

 

বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের সঙ্গে সেই যুদ্ধের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও ম্যাচটির গুরুত্ব তারা অনুভব করেছেন নিজেদের মতো করেই। গ্যালারিতে উড়েছে ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার, দর্শকদের কণ্ঠেও ছিল ভিন্ন রকম আবেগ।

 

মেসি বলেন, ‘জাতীয় সংগীতের সময়ই বিশেষ কিছু অনুভব করছিলাম। দর্শকদের গলা ছিল অন্য রকম। আমরা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে সেটা বুঝতে পারছিলাম। জানতাম এটা একটা ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু আবেগ সব সময় নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আমরা সেই অনুভূতি নিয়েই খেলেছি।’

 

আর্জেন্টিনার গ্যালারিতে এখন প্রায়ই শোনা যায় একটি গান- ‘ফকল্যান্ডের জন্য, দিয়েগোর জন্য, আর লিওর শেষ লক্ষ্যের জন্য।’ ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেই গানের প্রথম দুটি যেন পূর্ণতা পেল। শেষ অংশের অপেক্ষা এখন রোববারের ফাইনাল।

এই জয় ম্যারাডোনার জন্য একটি উপহার: মেসি

আরেকটি রুদ্ধশ্বাস জয়। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ ঘুরিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেছে আর্জেন্টিনা। এমন এক জয়ের পর লিওনেল মেসির প্রথম কথাই ছিল দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনাকে বিস্তারিত

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার দুই নম্বর গেট এলাকায় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের খেলা দেখার সময় জনসমাগমের মধ্যে এক তরুণকে ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা।

 

বুধবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

 

আহত তরুণের নাম মো. আসাদুল হক (২১)। তিনি বাঁশখালীর ছনুয়া এলাকার শিকদার বাড়ির ইয়াছিন আলীর ছেলে। বর্তমানে নগরীর হামজারবাগ এলাকার সরওয়ারের বাড়িতে থাকেন।

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের খেলা চলাকালে জনসমাগমের মধ্যে অজ্ঞাত কয়েকজন দুর্বৃত্ত আসাদুল হককে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

পরে তার বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে রাত ২টা ২৯ মিনিটে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

 

তিনি আরও জানান, আহত আসাদুল হক বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড খেলা দেখার সময় তরুণকে ছুরিকাঘাত

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার দুই নম্বর গেট এলাকায় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের খেলা দেখার সময় জনসমাগমের মধ্যে এক তরুণকে ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা।   বুধবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ বিস্তারিত

প্রতিপক্ষ বদলায়, তবে আর্জেন্টিনার গল্পটা একই থাকে। রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু, সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচেই কামব্যাকের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা।

 

এবার ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষেও লড়াই হবে সমানে-সমান, এমনটাই মনে করেন লিওনেল মেসি।

 

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার দিবাগত রাত ১টায় শিরোপার লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে তারা।

 

নিজের ক্যারিয়ারের বড় সময় স্পেনেই কাটিয়েছেন মেসি। তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা যায় ওই দেশের ক্লাব বার্সেলোনাকে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের পর মেসি নিজেও বললেন সেই কথা।

 

একইসঙ্গে আর্জেন্টাইন মহাতারকা এটিও জানিয়ে রাখলেন, ফাইনাল ম্যাচটি হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

 

“অসাধারণ সব খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া স্পেন দুর্দান্ত। তাদের খেলার ধরনও চমৎকার। এই দলকে আমি ভালোভাবে চিনি। তাদের খেলার দর্শন অনেক বছরের পুরোনো। তাদের ফুটবলারদেরও অনেককে চিনি আমি।”

 

“অনেকের বিপক্ষে আমি খেলেছি। অনেককে বার্সেলোনায় দেখেছি। যে ক্লাবকে আমি সবসময় ভালোবাসি। এটি বিশেষ ম্যাচ। বিশ্বকাপের ফাইনাল সবসময়ই স্পেশাল। আমার ধারণা, ম্যাচটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।”

 

প্রথম সেমি-ফাইনালে তারকাখচিত ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে স্পেন। তাদের সামনে এবার দ্বিতীয় শিরোপার হাতছানি। অন্য দিকে ব্যাক টু ব্যাক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ফাইনাল খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা।

স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে’, বললেন মেসি

প্রতিপক্ষ বদলায়, তবে আর্জেন্টিনার গল্পটা একই থাকে। রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু, সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচেই কামব্যাকের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা।   এবার ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষেও বিস্তারিত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা- ইংল্যান্ড ম্যাচকে সামনে রেখে আলোচনায় এক ক্রীড়া জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী। তার দাবি, সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে এতটাই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে যে নির্ধারিত ৯০ মিনিট কিংবা অতিরিক্ত সময়েও কোনো দলই জয়সূচক ব্যবধান গড়ে তুলতে পারবে না। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে টাইব্রেকারে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য পরিচিত জ্যোতিষী জর্জিও আরমাস সম্প্রতি এই মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। তিনি অতীতে চিলির কোলো-কোলো, পেরুর আলিয়ানজা লিমা, প্যারাগুয়ের অলিম্পিয়া, আর্জেন্টিনার বোকা জুনিয়র্স, রেসিং ক্লাব এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে ঘিরেও বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।

 

নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে আরমাস ২০২৫ সালের ২৮ জুন করা একটি পুরোনো পোস্টের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠবে এবং দলের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজকে টাইব্রেকারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। পুরোনো সেই পোস্ট উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন, ‘ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়েছে। কত আগেই বলেছিলাম! দিবুকে প্রস্তুত থাকতে হবে; আমরা টাইব্রেকারে যাচ্ছি।’

 

তবে ম্যাচের চূড়ান্ত ফল নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী করেননি আরমাস। তার মতে, দুই দলই শক্তির দিক থেকে প্রায় সমান এবং কে জিতবে তা আগে থেকে বলা কঠিন।

 

অন্যদিকে, এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও দাবি করেন, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক ও চলতি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। আরমাস বলেন, ‘আমাদের লিওর সেরা ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে জ্যোতিষীর চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা- ইংল্যান্ড ম্যাচকে সামনে রেখে আলোচনায় এক ক্রীড়া জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী। তার দাবি, সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে এতটাই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে যে নির্ধারিত ৯০ মিনিট কিংবা বিস্তারিত

ম্যাচের শুরুর দিকেই পেনাল্টিতে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ল ফ্রান্স। এরপর যেন আর দিশা খুঁজে পেল না বর্তমান রানার্স-আপরা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও এক গোল করে তাদের বিদায় করে দিল স্পেন। আর ম্যাচ শেষে রেফারির মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম।

 

ডালাস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে ফ্রান্স। ম্যাচে বলতে গেলে স্পেনের সামনে পাত্তাই পায়নি দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। মিডফিল্ডের পূর্ণ দখল নিজেদের কাছে রেখে ফ্রান্সকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলাই করেছে স্পেন।

 

ম্যাচ শেষে তাই নিজেদের ব্যর্থতা মেনে নেন দেশম। তবে অনেক কথার ভিড়ে ৩৫ বছর বয়সী ম্যাচ রেফারি ইভান বার্টনের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ফ্রান্সের কোচ। তার মতে, এত বড় ম্যাচ পরিচালনার জন্য উপযুক্ত ছিলেন না এল সালভাদরের এই রেফারি।

 

“রেফারিং নিয়ে… আমাদের হারের পর যদি আমি কিছু বলি, তবে আমাকে ক্রাই বেবি মনে হবে। কিন্তু আমি আপনাদের জিজ্ঞাসা করছি, এই রেফারি কি একটি সেমি-ফাইনাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত ছিলেন? চতুর্থ ও পঞ্চম রেফারি দারুণ ছিলেন। কিন্তু মূল রেফারি?”

 

পেনাল্টির বিষয়টি ছিল, তবে শুধু সেটিই নয়, সবকিছু মিলিয়েই এমনটা মনে হয়েছে। আজকের রেফারির বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ নেই, তবে আপনারা নিজেদেরই প্রশ্ন করে দেখুন।”এছাড়া পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও জানিয়ে রাখেন ফ্রান্সের কোচ।

 

“আমি শুধু যে আজ হেরেছি বলেই এ কথা বলছি তা নয়। এমন আরও বেশ কিছু পরিস্থিতি ছিল। এছাড়া কিছু পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তও ছিল।”

 

তবে যোগ্যতর দল হিসেবে স্পেন জেতায় প্রতিপক্ষকে পূর্ণ কৃতিত্ব দিতেও ভোলেননি দেশম।

 

 

“খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবেই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, কিন্তু আমাদের সৎ হতে হবে: আমরা টেকনিক্যাল দিক থেকে পিছিয়ে ছিলাম। হারের মূল কারণ হলো, আমরা পারফরম্যান্সের মান অনুযায়ী খেলতে পারিনি।”

 

“আমরা এমন কিছু টেকনিক্যাল ভুল করেছি এবং ভুল পাস দিয়েছি যা থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হতে পারত। এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের খেলা। আমরা এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলব। আমরা যা অর্জন করেছি, আমি তার সবটুকু মুছে ফেলতে চাই না, তবে এই ম্যাচে স্পেন

 

 

ম্যাচ হেরে রেফারির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ফ্রান্স কোচের

ম্যাচের শুরুর দিকেই পেনাল্টিতে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ল ফ্রান্স। এরপর যেন আর দিশা খুঁজে পেল না বর্তমান রানার্স-আপরা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও এক গোল করে তাদের বিদায় করে দিল স্পেন। আর বিস্তারিত

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাস ও যাত্রীবাহী লেগুনা গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদগাঁও থেকে ছেড়ে আসা চকরিয়াগামী একটি নম্বরবিহীন যাত্রীবাহী লেগুনা গাড়ি মহাসড়কের খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লাল-সবুজ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী এসি বাস গাড়িটিকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। এতে লেগুনা গাড়িটির ছাদ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং দুমড়ে-মুচড়ে মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে।দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে চার যাত্রীর মৃত্যু হয়।নিহতরা হলেন- চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী সেগুন বাগিচা এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (২৫), ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম গজারীয়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. রফিক (২৮), চকরিয়ার ফুলছড়ি শিয়ালপাড়া এলাকার মৃত মঞ্জুর আলমের ছেলে মো. শাহেদ (২৭) এবং ঈদগাঁও উপজেলার খুটাখালী নতুন অফিস এলাকার আমিনুল হকের ছেলে মো. জিয়াবুল হক (২৫)।

 

এদের মধ্যে জসিম উদ্দিন মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে এবং অপর তিনজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

 

এদিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত পাঁচজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন- জিয়াবুল হক (৪০), মো. সরওয়ার (১৯), সৈয়দ আলম (৫০) ও মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫)। এছাড়া সৈয়দ করিম (৩০) নামে আহত আরেক যাত্রী কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

চকরিয়ায় বাস-লেগুনা সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৪ জনের, আহত ৫

শ্যামনগরে ভুল করে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, বিয়ের ১ দিন আগেই শোকের ছায়া।

সংবাদদাতা: জিয়াউর রহমান জিয়া,

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি,

 

 

*শ্যামনগর, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি*

*তারিখ: ১২/০৮/২০২৬*

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে *সোহানা পারভীন (১৭)* নামে এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

 

আগামীকাল বৃহস্পতিবার পারিবারিকভাবে তার বিয়ের কথা ছিল। বিয়ের আনন্দের আগেই এমন ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

 

পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে ভুলক্রমে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সোহানা। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত সোহানা পারভীন জয়নগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে।

 

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।

 

একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলে একটি সম্ভাবনাময় জীবন অকালে ঝরে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোক ও দুঃখের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

বিয়ের ১ দিন আগেই শোকের ছায়া ,ভুল করে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু

গাইবান্ধায় দৈনিক করতোয়া’র ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

উৎসবমুখর পরিবেশে ও নানাবিধ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গাইবান্ধায় দেশের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা ‘দৈনিক করতোয়া’-এর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গাইবান্ধা প্রেসক্লাব (মূলধারা) ও দৈনিক করতোয়া জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, কেক কাটা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার বিকেল ৫টায় শহরের হযরত শাহবাঙ্গাল কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রাঙ্গণে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দৈনিক করতোয়ার গাইবান্ধা প্রতিনিধি ও গাইবান্ধা প্রেসক্লাব (মূলধারা)-এর সভাপতি সৈয়দ নুরুল আলম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা প্রেসক্লাব (মূলধারা)-এর সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রহমান স্বপন, সহ-সভাপতি শাহাবুল শাহীন তোতা, সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ বাদল, কোষাধ্যক্ষ ফজলে রাব্বি মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক বাবু, ক্রীড়া সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রিন্স এবং দপ্তর সম্পাদক ফারহান শেখ।

এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী সদস্য আবুল কাসেম, মো. তৌহিদুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান, এস. এম. শাকির হায়দার, নিয়াম শেখ, মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট কাশেম ইয়াসবীর, তাজরুল ইসলামসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

আলোচনা সভা শেষে জন্মদিনের কেক কাটা হয়। পরবর্তীতে দৈনিক করতোয়ার সার্বিক সমৃদ্ধি এবং পত্রিকাটির সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালুর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা কালেক্টরেট মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি যোবায়ের আহমেদ। মোনাজাতে শাহবাঙ্গাল কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

গাইবান্ধায় দৈনিক করতোয়া’র ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

দীর্ঘ ৩২ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে পাচারের শিকার হয়ে নিখোঁজ হন বরগুনার মেয়ে আছিয়া। ওই সময়ে তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করলেও কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ধান মিলেছে আছিয়ার।

 

বর্তমানে ৭ সন্তানের জননী আছিয়া বাংলাদেশে ফিরতে চান ৯৫ বছর বয়সি বাবার কাছে। অপরদিকে হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে মৃত্যুর আগে কাছে পেতে ব্যাকুল হয়ে আছেন বৃদ্ধ বাবা তমিজ উদ্দিন।

 

আছিয়ার পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে তমিজ উদ্দিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ১৯৯০ সালের দিকে বরগুনা ছেড়ে ঢাকা চলে যান। সেখানে গিয়ে মিরপুর ২ নম্বরের বড়বাগ নামক এলাকার একটি বাড়িতে বসবাস শুরু করেন তারা। ওই সময় তমিজ উদ্দিন ঢাকায় দিনমজুরির কাজ করে সংসার পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের কোনো একদিন বিকেলে ঘর থেকে বের হয়ে মেয়ে আছিয়া নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও আছিয়ার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

নিখোঁজ মেয়ে আছিয়ার কোনো সন্ধান না পেয়ে স্ত্রীসহ বাকি ৬ সন্তানদের নিয়ে আবারও বরগুনায় ফিরে আসেন তমিজ উদ্দিন। হারানো মেয়ের শোক নিয়েই তিনি পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেও বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন। এছাড়া গত তিন বছর আগে আছিয়াকে হারানোর শোক নিয়ে মারা যান মা রাহেলা। তবে দীর্ঘ ৩২ বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ধান মিলেছে নিখোঁজ মেয়ে আছিয়ার।

 

সন্ধান মেলার পর থেকেই মেয়ের সঙ্গে প্রতিদিন মোবাইল ফোনে কথা হয় বাবা তমিজ উদ্দিনের। তবে দীর্ঘ বছর পর মোবাইল ফোনে মেয়ের মুখ দেখাসহ কণ্ঠ শুনতে পলেও মেয়েকে কাছে পেতে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তিনি। পাকিস্তান থেকে আছিয়াও এখন ফিরতে চান বাবার কাছে।

 

হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও কলে কথা হয় পাকিস্তান থাকা আছিয়ার সঙ্গে। তিনি গণমাধ্যমে জানান, একটি চক্র তাকে ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ভারতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে কিছুদিন রেখে পাকিস্তানের মোজাফফর নগরে পাঠানো হয়। এরপর সেখানে ৪০ হাজার রুপির বিনিময়ে একজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের এক নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে হয় আছিয়ার। বর্তমানে সেখানে তার ৬ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তান রয়েছে। তবে এক বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর স্বজনদের কথা মনে পড়লে তিনি নিজের পরিচয় এবং বাংলাদেশে থাকা বাবার নাম ও ঠিকানা জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। পরে ওই পোস্টটি খোঁজ নামের একটি ফেসবুক পেজে শেয়ার করলে প্রথমে স্থানীয় রিয়াজ উদ্দিন খান নামে একজনের নজরে আসলে সন্ধান মেলে আছিয়ার বাবা ও স্বজনদের। এর পর ২০ জুলাই থেকেই বাবার সঙ্গে নিয়মিত কথা শুরু হয় পাচারের শিকার হয়ে নিখোঁজ থাকা আছিয়ার।

 

আছিয়া আরও বলেন, পরিবারের সন্ধান পাওয়ার পর এখন তিনি দেশে ফিরতে চান। আর সবার সহযোগিতা বিশেষ করে সরকারি সহযোগিতা পেলে দ্রুতই দেশে ফিরতে পারবেন বলেও জানান আছিয়া।

 

এ বিষয়ে আছিয়ার ভাই মোস্তফা গণমাধ্যমে বলেন, আমার বোনের বয়স যখন ১৬-১৭ বছর তখন বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাইনি। না পেয়ে এক সময় ধরেই নিয়েছিলাম, সে হয়তো আর বেঁচে নেই। কিন্তু এখন পাকিস্তানে বোনের খোঁজ মিলেছে। বোনকে ফেরত পেতে আমাদের সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

দীর্ঘ ৩২ বছর পর হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে খুঁজে পেয়ে বৃদ্ধ বাবা তমিজ উদ্দিন বলেন, হারিয়ে যাওয়ার পর আছিয়াকে কোথাও খুঁজে পাইনি। ৩২ বছর পর মোবাইল মেয়েকে দেখতে পেয়েছি। মৃত্যু আগে একবার হলেও মেয়েকে কাছে পেতে চাই। সরকারের কাছে আবেদন জানাই যাতে আছিয়াকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

 

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক তাছলিমা গণমাধ্যমকে বলেন, আছিয়ার ফিরে আসার জন্য দুটি প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মধ্যে তার যদি বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন অথবা নাগরিকত্ব সনদ থাকে তা নিয়ে পাকিস্তানের হাইকমিশনে গিয়ে প্রমাণ করতে পারলে একটি ট্রাভেল পাস পেতে পারেন। তবে যেহেতু ৩২ বছর ধরে পাকিস্তানে রয়েছেন তার যদি জন্ম নিবন্ধন অথবা নাগরিকত্ব সনদ না থাকে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে থাকা স্বজনরা জেলা প্রশাসককে মাধ্যম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর একটি আবেদন করতে পারেন। সে অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান যে নীতি রয়েছে, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

৩২ বছর আগে ঢাকায় হারিয়ে যাওয়া মেয়ের সন্ধান মিলল পাকিস্তানে

দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমনটি জানা গেছে।

 

দলটির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, গত ১০ দিনে বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময় শেষে এলজিআরডি মন্ত্রী ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান।

 

এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগে সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন দলের চেয়ারম্যান।

 

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই বৈঠকেই তারেক রহমান প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে পারেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচনের বিষয়ে তিনি সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন।

 

এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য গণমাধ্যমে বলেন, ‘বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হবে। এরপর প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে।’

 

সূত্র জানায়, ৭৮ বছর বয়সী ফখরুল এই বৈঠকেই তার মন্ত্রিত্বের পদ ছাড়তে পারেন, এমনটি ধারণা করা হচ্ছে।

 

এরপর বিএনপি নেতারা নির্বাচন কমিশনে যাবেন। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হতে পারে এবং এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে।

 

বিএনপির চিফ হুইপ ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি গণমাধ্যমে জানান, জামায়াতে ইসলামী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বিএনপি তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেবে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম জনসমক্ষে ঘোষণা করা হবে।’

 

তফসিল অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে।

 

গত ১ আগস্টের এক বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্বাচনের জন্য তারেক রহমানকে পূর্ণ ক্ষমতা দেয়। ৯ আগস্ট হুইপ মনি এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর পরের দিন রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।

 

আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদীয় অধিবেশনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোট দেবেন।

 

২৪ জুলাই মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। তখন থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

 

এলজিআরডি মন্ত্রী ছাড়াও ফখরুল বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য এবং বিএনপির মহাসচিবের পদে রয়েছেন। তিনি যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তবে তাকে এই তিনটি পদই ছেড়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ও দলকে তার স্থলাভিষিক্ত বা বিকল্প ব্যক্তি নির্বাচন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা আজ

দশকের পর দশক হাজারো শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার পর একজন শিক্ষক অবসরে যান। জীবনের শেষ সময় একটু ভালোভাবে কাটানোর জন্য নিজের সঞ্চিত অবসরের টাকা ভরসা তাদের। কিন্তু এ টাকা সময়মতো ফেরত না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল তাদের। অবশেষে সেই ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) দুটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

এর আগে গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানা বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দিতে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়া হবে। অবসর সুবিধা বোর্ডের অর্থ পাবেন ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী। আর কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পাবেন ৫৩ হাজার ৪৭৭ জন আবেদনকারী। আগামী শনিবার (১৫ আগস্ট) অর্থ বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান।

 

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য মোট সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। অবসর সুবিধার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে পাবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। আর কল্যাণ ট্রাস্টের ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পাবেন।

 

জানা গেছে, শিক্ষকদের চাঁদা, ব্যাংকে জমা থাকা টাকার সুদ এবং মাঝেমধ্যে সরকারের দেওয়া থোক বরাদ্দ ও বন্ড সুবিধার ভিত্তিতে এই টাকা দেওয়া হয়। অবসরসুবিধার জন্য চাকরিকালীন শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ প্রতি মাসে কেটে রাখা হয়। কল্যাণসুবিধার জন্য কাটা হয় আরও ৪ শতাংশ। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই হারে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। এর আগে অবসরসুবিধার জন্য ৪ শতাংশ এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ২ শতাংশ হারে চাঁদা নেওয়া হতো।

 

এ ছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসরসুবিধা ও ৩০ টাকা কল্যাণসুবিধা তহবিলে জমা হয়। বাকি অর্থ সরকার এবং জমা করা অর্থের সুদ থেকে সমন্বয় করা হয়।

 

সূত্রমতে, সর্বোচ্চ গ্রেডে অর্থাৎ অধ্যক্ষদের ক্ষেত্রে অবসরসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় ৩৮ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। কল্যাণসুবিধা হিসেবে একজন অধ্যক্ষ মোট ২০ লাখের বেশি টাকা পান। অন্যদিকে মাধ্যমিকের একজন সহকারী শিক্ষক অবসরসুবিধা হিসেবে পান প্রায় ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ টাকা। আর একজন সহকারী শিক্ষক কল্যাণসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় পৌনে ৭ লাখ টাকা পান। এর মধ্যে চাঁদার পরিমাণ প্রায় ৭৭ হাজার টাকা। কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই টাকা আরও কম।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের সূত্র জানিয়েছে, মূলত এখন দুই প্রতিষ্ঠানে যে টাকা জমা আছে, তা দিয়েই এই আংশিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

 

অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা বাড়ল

জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সহায়তা নিচ্ছে। এশিয়ায় চীন, ভারত, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া এ তালিকায় রয়েছে।

 

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এসব দেশে বেসরকারিভাবে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন কার্যক্রম বহু আগে থেকেই সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশগুলো আমদানীকৃত উদ্বৃত্ত জ্বালানি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করছে। এ দেশগুলোর বেসরকারি উদ্যোক্তারা অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তা রাষ্ট্রায়ত্ত বা বেসরকারি পরিশোধনাগারে পরিশোধন করছে। পরে তা স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি স্টেশন, শিল্পকারখানায় বিক্রি করছে।

 

এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি, পরিচালন ব্যয় এবং প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে খুচরা জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। দেশের বাইরে আঞ্চলিক বাজারেও তারা এ জ্বালানি বিক্রি করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশেও জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বেসরকারি খাতকে সংযুক্ত করার বিষয়টি সরকার বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালার খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

ভারতজুড়ে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে রিলায়েন্স : ভারতের বেসরকারি কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চুক্তির মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। গুজরাটের বিশাল জামনগর রিফাইনারি কমপ্লেক্সে তা পরিশোধন করা হয়। এই পরিশোধনাগারে উৎপাদন হয় পেট্রোল ও ডিজেল। রিলায়েন্স তাদের নিজস্ব খুচরা জ্বালানি স্টেশনের নেটওয়ার্ক ও শিল্প গ্রাহকদের কাছে ভারতজুড়ে এ জ্বালানি বিক্রি করে। মূলত মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, আমেরিকা এবং রাশিয়ার জাতীয় তেল কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভারতের এ বেসরকারি কোম্পানিটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট ক্রয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে।

 

রিলায়েন্স বিশাল আকারের তেলবাহী জাহাজের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ভারতের জামনগরের নিকটবর্তী বন্দরগুলোতে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করে। সুপার ট্যাংকারগুলো উপকূলের অদূরে স্থাপিত ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম)-এর মাধ্যমে বিশাল সব স্টোরেজ ট্যাংকে অপরিশোধিত তেল খালাস করে। এরপর অপরিশোধিত তেল জামনগর রিফাইনারিতে পাঠানো হয়, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও জটিল তেল শোধন কেন্দ্র। এ রিফাইনারি অপরিশোধিত তেলকে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি যেমন-পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েল এবং পেট্রোকেমিক্যাল ফিডস্টকে রূপান্তর করে।

 

বিশ্বব্যাপী সরকারকে সহায়তা করছে বেসরকারি খাত

পরিবেশবান্ধব নির্মাণের ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দৃষ্টিনন্দন মাদারগঞ্জের মসজিদ।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

আজানের ধ্বনিতে প্রতিদিন মুখর হয়ে ওঠে মাদারগঞ্জ জামে মসজিদ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে এখানে সমবেত হন শতাধিক মুসল্লি। তাঁদের কাছে এটি ইবাদতের স্থান, এলাকার মানুষের কাছে ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনকেন্দ্র। তবে এর আরেকটি পরিচয়ও আছে এটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণের একটি দৃশ্যমান উদাহরণ।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যখন তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও ঋতুচক্রের পরিবর্তন প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দকে বদলে দিচ্ছে, তখন নির্মাণ খাতেও পরিবেশের ওপর চাপ কমানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

এমন বাস্তবতায় প্রচলিত পোড়া ইটের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহারকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মাদারগঞ্জ গ্রামে মসজিদ নির্মাণ করেছে ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)।

 

ইএসডিওর নিজস্ব অর্থায়নে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ৯০০ বর্গফুট আয়তনের মাদারগঞ্জ জামে মসজিদে প্রচলিত পোড়া ইটের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক। পুরো স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি হলো ব্লক।

 

আকারের হিসাবে একটি হলো ব্লক প্রায় চারটি প্রচলিত পোড়া ইটের সমপরিমাণ। সেই হিসাবে মসজিদটিতে ব্যবহৃত ২ হাজার ৬০০টি হলো ব্লক প্রায় ১০ হাজার ৪০০টি পোড়া ইটের সমপরিমাণ নির্মাণকাজের ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিদিন নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের পাশাপাশি আশপাশের মানুষও মসজিদটির নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হলো ব্লক সম্পর্কে জানতে পারছেন। ফলে ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি মসজিদটি স্থানীয় মানুষের সামনে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরছে।

 

নামাজ আদায় করতে আসা আব্দুল লতিফ, মুনসুর আলী, মোকলেসুর ও দুলালসহ স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি জানান,,মাদারগঞ্জ জামে মসজিদটি নির্মাণের ফলে আমাদের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আগে এলাকার মানুষকে নামাজ আদায়ের জন্য নানা ধরনের অসুবিধার মধ্যে পড়তে হতো। এখন একটি সুন্দর, পরিপাটি ও স্থায়ী মসজিদে আমরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারছি। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এখানে নামাজ পড়তে আসেন। শুধু নামাজ আদায় নয়, মসজিদটি আমাদের এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামাজিক বন্ধনও আরও দৃঢ় করেছে।

 

তাঁরা আরও বলেন, মসজিদটি নির্মাণে পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে এ বিষয়টি আমাদের কাছে নতুন ও আনন্দের। আমরা আগে এ ধরনের নির্মাণসামগ্রী সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না। এখন মসজিদের দেয়াল ও নির্মাণকাজ দেখে বুঝতে পারছি, প্রচলিত পোড়া ইটের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প উপকরণ দিয়েও সুন্দর ও টেকসই স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব। ইএসডিও শুধু আমাদের একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেয়নি, একই সঙ্গে আমাদের একটি নতুন চিন্তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

 

মসজিদটি নির্মাণ করে দেওয়ায় ইএসডিওর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আশরাফ আলী। তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও স্থায়ী মসজিদ ছিল আমাদের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। ইএসডিও সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে। এখন শতাধিক মুসল্লি এখানে সুন্দর পরিবেশে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা বিশেষভাবে আনন্দিত যে মসজিদটি পরিবেশবান্ধব হলো ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে আমাদের ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি এলাকার মানুষ নতুন ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণপ্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন। এমন মহতী উদ্যোগের জন্য মাদারগঞ্জবাসী ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ইএসডিওর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

 

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে আমাদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া বড় একটি সহযোগিতা। এলাকার মানুষের একার পক্ষে এত বড় একটি কাজ বাস্তবায়ন করা কঠিন ছিল। ইএসডিও পাশে দাঁড়ানোয় আজ আমরা একটি সুন্দর মসজিদ পেয়েছি।

 

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, মসজিদটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী দিয়ে তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি, এই মসজিদ দেখে এলাকার অন্য মানুষও বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারে আগ্রহী হবেন।

 

এ বিষয়ে ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, আমরা প্রতিনিয়ত এর প্রভাব অনুভব করছি। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশের কথা ভাবতে হবে। উন্নয়ন এমন হতে হবে, যা মানুষের প্রয়োজন পূরণ করবে এবং একই সঙ্গে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী শুধু আলোচনা, প্রশিক্ষণ কিংবা প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকুক। মানুষ এর বাস্তব ব্যবহার দেখুক এবং উপলব্ধি করুক যে প্রচলিত পোড়া ইটের কার্যকর বিকল্প ব্যবহার করেও সুন্দর ও কার্যকর স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব। মাদারগঞ্জ জামে মসজিদ সেই চিন্তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।

পরিবেশবান্ধব নির্মাণের ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দৃষ্টিনন্দন মাদারগঞ্জের মসজিদ।

মালয়েশিয়ায় ১২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাস বেতন নেই। সমাধানে কোম্পানি পরিদর্শনে দূতাবাস

 

মো:নুরুল ইসলাম সুজন কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়া।।

 

মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের প্লাইউড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মেনটাকাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন বিএইচডি-তে কর্মরত প্রায় ২৫০ জন অভিবাসী শ্রমিক জানিয়েছেন, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের বেতন দেওয়া হয়নি, যার ফলে তাঁদের এবং দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের শ্রমিকরাও দাবি করেছেন যে, তাঁদের চাকরির চুক্তিতে উল্লিখিত শর্তের চেয়ে ভিন্ন কর্মপরিবেশে তাঁদেরকে কাজ করতে হয়েছে।

১২৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের একজন মুখপাত্র স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রী মালয়েশিয়া টুডে-কে জানান যে, বকেয়া মজুরি এখানে তাদের দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে এবং দেশে থাকা তাদের পরিবারগুলো ঋণ বা বন্ধকী ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে।

 

তারা জানান কলিং ভিসায় মালয়েশিয়া যেতে বেশিরভাগেরই জনপ্রতি প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার রিঙ্গিত খরচ হয়েছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ তারা ব্যাংক ঋণ, নিজেদের জমি বন্ধক রেখে অথবা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ধার করে জোগাড় করেছিলেন। ভাগ্য বদলের আশায় পাড়িজমানো এসব কর্মীদের পরিবার তাদের পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল। কর্মীরা বলেন “আমরা এখানে যখন সংগ্রাম করছি, আমাদের প্রিয়জনেরাও তখন দুর্ভোগ ও উদ্বেগের সম্মুখীন হচ্ছেন। আমরা আশা করি মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেবে”।

 

উল্লখ্য, কোম্পানিটির বৈদেশিক বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ।

 

শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন যে, চুক্তিতে নির্ধারিত আট ঘণ্টার পরিবর্তে তাঁদেরকে দৈনিক ৬৫ রিঙ্গিত মজুরিতে দিনে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো এবং তাঁদেরকে নিয়মিতভাবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন দেওয়া হতো না।

“তারা আমাদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে, যা আমাদের চুক্তির লঙ্ঘন। এছাড়াও, আমাদের বার্ষিক ছুটিতে দেশে যেতে চাইলে মালয়েশিয়ায় ফিরে আসা নিশ্চিত করার জন্য ২৫০০ রিঙ্গিত জামানত চাইছে। এটা ঠিক নয়,” মুখপাত্র বলেন।

 

তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশ হাই কমিশন ও শ্রম বিভাগকে বিষয়টি জানালেও তাদের অভিযোগ তদন্ত করতে কোনো কর্মকর্তা আসেননি।

 

তবে কর্মীদের অভিযোগ সঠিক নয় দাবী করে দূতাবাস থেকে আরটিভিকে জানায়, গতকাল ১১ আগস্ট) সকাল ১১ টায় কর্মীদের পক্ষ থেকে জানানোর পর দূতাবাস থেকে নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সকল সমস্যা সমাধানের লক্ষে আগামীকাল ১৩ আগস্ট দূতাবাস, নিয়োগকর্তা এবং কর্মী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যে দূতাবাসের প্রতিনিধি দল সেখানে রওনা দিয়েছেন।

 

এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির একজন মুখপাত্র জানান, কোম্পানির নিজস্ব সমস্যার কারণে বেতন প্রদানে বিলম্ব হয়েছে।

তিনি বলেছেন, কোম্পানি কর্মীদের বেতনের একাংশ পরিশোধ করেছে, কিন্তু ঠিক কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে তা জানাতে রাজি হননি।

 

আমরা বলছি না যে আমরা তাদের পাওনা পরিশোধ করব না। আমরা যত দ্রুত সম্ভব তাদের বকেয়া নিষ্পত্তি করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

“সমস্যা হলো, তারা আমাদের পরিকল্পনা শুনতে চায় না। তাদের সাথে কথা বলাও কঠিন, কারণ তারা আক্রমণাত্মক,” তিনি বললেন।

 

মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, শ্রমিকদের দাবি দিন দিন বাড়ছিল, যার ফলে কোম্পানির পক্ষে বিষয়টি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। তিনি আরও বলেন, কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য তাদের অন্যান্য অভিযোগগুলোকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় ১২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাস বেতন নেই। সমাধানে কোম্পানি পরিদর্শনে দূতাবাস

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩