শীর্ষখবর - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি ইরানের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

 

জানা যায়, জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে আগামী ৪ জুলাই স্পিকার দেশে ফিরবেন।

 

উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শাহাদাৎ বরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৬ বছর। তিনি ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর পরিবর্তিত শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৮০ সালে অল্প সময়ের জন্য তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সূচনার পর তিনি ইসলামী বিপ্লবী বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাঁকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচন করে

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন স্পিকার

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।   বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকার বিস্তারিত

ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক

২৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলার অগ্রগতি না হওয়া, সরকারি দলের সাথে সম্ভাব্য ‘আন্ডারটেবিল সমঝোতা’ এবং গ্রুপটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কেউ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কথা বললে তারা তাদের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো শুরু করে। হাসনাতের এই বক্তব্যের পর থেকে গত চারদিনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বসুন্ধরার মালিকানাধীন ৫টি সংবাদমাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে ধারাবাহিক সমন্বিত নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

 

দ্য ডিসেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ এর সংসদের বক্তৃতার পর গত ২৮ জুন সকাল ৭টা থেকে আজ ১ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত মোট ৪ দিনে (৮০ ঘণ্টায়) বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ ২৪, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ২৪ ডটকমে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বমোট ৯৯টি নেতিবাচক কন্টেন্ট প্রচার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই হুবহু একই প্রতিবেদন অল্প সময়ের ব্যবধানে ৫টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

 

সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন “আমরা দেখেছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বসুন্ধরার পুত্র আনভির দেশে ঢোকার সাহস পায় নাই। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আমরা দেখেছি সদর্পে এই সোবহানের পুত্র, এই ধর্ষক, দেশে ঢুকেছে।”

 

তিনি সেখানে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মামলার কি অগ্রগতি হয়েছে সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই আন্ডারটেবিল কোন ধরনের সমঝোতা হয়েছে কিনা। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধাটা কোথায় সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।”

 

হাসনাত আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বসুন্ধরা গ্রুপ যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের গুম খুন হত্যাকে যারা বৈধতা দিয়েছে তাদের খুঁটির জোর কোথায় সেটা আমরা জানতে চাই।” “ সরকার দলের অনেকেই মাঝে মাঝে আমাদের কাছে এসে দু:খ প্রকাশ করে যে আসলে আমরা জেল খেটেছি, আমরা কষ্ট করেছি, আমাদের সন্তানদের সাথে আমরা থাকতে পারিনাই, কিন্তু আমাদের দলেরই কিছু কিছু মানুষ বসুন্ধরার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে। তাদের মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে।”

 

“যেই মিডিয়া তারেক রহমানকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে ফ্রেমিং করেছে, সেই মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে আজকে বসুন্ধরা গ্রুপে আজকে এই সংসদ সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের অনেকেই তারা সেখানে যুক্ত”, বলেন তিনি।

 

“এই বসুন্ধরার বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া লেলিয়ে দেওয়া হয়।”

 

“এতদিন ধরে যারা মিডিয়াকে, যারা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা বয়ান উৎপাদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন” তিনি দাবি করেন।

 

৪ দিনে ৫ মিডিয়ায় ৯৯টি কন্টেন্ট

দ্য ডিসেন্টের এই বিশ্লেষণে শুধুমাত্র বসুন্ধরা গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কনটেন্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে। কনটেন্ট সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণের আওতায় প্রিন্ট সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

 

২৮ জুন সকাল ৭টা ৪ মিনিটে কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে “হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা” শিরোনামে প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এর আট মিনিট পর, সকাল ৭টা ১২ মিনিটে একই বিষয় নিয়ে একটি ফটোকার্ডও প্রকাশ করা হয়।

 

ওই সময় থেকে ১ জুলাই দুপুর ২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ৭৯ ঘণ্টায়, বসুন্ধরা গ্রুপের এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে মোট ৯৯টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়।

 

পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের মধ্যে কালের কণ্ঠে সর্বাধিক ৭৬টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ছিল ৩৫টি ভিডিও (ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক মিলিয়ে),১১টি সংবাদ প্রতিবেদন এবং ৩০টি ফটোকার্ড।

 

 

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স

ফ্যাক্ট চেক

ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন

মিডিয়া ওয়াচ

ডিসইনফরমেশন এক্টর

অপিনিয়ন

আমাদের সম্পর্কে

ক্যারিয়ার

যোগাযোগ

শর্তাবলি

গোপনীয়তার নিয়মাবলি

Follow us:

মিডিয়া ওয়াচ

menu

বসুন্ধরার বিরুদ্ধে বক্তব্যের পর ৫টি মিডিয়ায় হাসনাতের বিরুদ্ধে ৮০ ঘণ্টায় ৯৯ কনটেন্ট

 

Roby Hossain

লেখক

রবি হোসাইন

১ জুলাই, ২০২৬

লিংক কপি করুন

২৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলার অগ্রগতি না হওয়া, সরকারি দলের সাথে সম্ভাব্য ‘আন্ডারটেবিল সমঝোতা’ এবং গ্রুপটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কেউ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কথা বললে তারা তাদের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো শুরু করে। হাসনাতের এই বক্তব্যের পর থেকে গত চারদিনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বসুন্ধরার মালিকানাধীন ৫টি সংবাদমাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে ধারাবাহিক সমন্বিত নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

 

দ্য ডিসেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ এর সংসদের বক্তৃতার পর গত ২৮ জুন সকাল ৭টা থেকে আজ ১ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত মোট ৪ দিনে (৮০ ঘণ্টায়) বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ ২৪, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ২৪ ডটকমে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বমোট ৯৯টি নেতিবাচক কন্টেন্ট প্রচার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই হুবহু একই প্রতিবেদন অল্প সময়ের ব্যবধানে ৫টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

 

সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন “আমরা দেখেছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বসুন্ধরার পুত্র আনভির দেশে ঢোকার সাহস পায় নাই। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আমরা দেখেছি সদর্পে এই সোবহানের পুত্র, এই ধর্ষক, দেশে ঢুকেছে।”

 

তিনি সেখানে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মামলার কি অগ্রগতি হয়েছে সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই আন্ডারটেবিল কোন ধরনের সমঝোতা হয়েছে কিনা। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধাটা কোথায় সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।”

 

হাসনাত আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বসুন্ধরা গ্রুপ যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের গুম খুন হত্যাকে যারা বৈধতা দিয়েছে তাদের খুঁটির জোর কোথায় সেটা আমরা জানতে চাই।” “ সরকার দলের অনেকেই মাঝে মাঝে আমাদের কাছে এসে দু:খ প্রকাশ করে যে আসলে আমরা জেল খেটেছি, আমরা কষ্ট করেছি, আমাদের সন্তানদের সাথে আমরা থাকতে পারিনাই, কিন্তু আমাদের দলেরই কিছু কিছু মানুষ বসুন্ধরার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে। তাদের মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে।”

 

“যেই মিডিয়া তারেক রহমানকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে ফ্রেমিং করেছে, সেই মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে আজকে বসুন্ধরা গ্রুপে আজকে এই সংসদ সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের অনেকেই তারা সেখানে যুক্ত”, বলেন তিনি।

 

“এই বসুন্ধরার বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া লেলিয়ে দেওয়া হয়।”

 

“এতদিন ধরে যারা মিডিয়াকে, যারা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা বয়ান উৎপাদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন” তিনি দাবি করেন।

 

৪ দিনে ৫ মিডিয়ায় ৯৯টি কন্টেন্ট

দ্য ডিসেন্টের এই বিশ্লেষণে শুধুমাত্র বসুন্ধরা গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কনটেন্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে। কনটেন্ট সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণের আওতায় প্রিন্ট সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

 

২৮ জুন সকাল ৭টা ৪ মিনিটে কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে “হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা” শিরোনামে প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এর আট মিনিট পর, সকাল ৭টা ১২ মিনিটে একই বিষয় নিয়ে একটি ফটোকার্ডও প্রকাশ করা হয়।

 

ওই সময় থেকে ১ জুলাই দুপুর ২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ৭৯ ঘণ্টায়, বসুন্ধরা গ্রুপের এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে মোট ৯৯টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়।

 

পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের মধ্যে কালের কণ্ঠে সর্বাধিক ৭৬টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ছিল ৩৫টি ভিডিও (ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক মিলিয়ে),১১টি সংবাদ প্রতিবেদন এবং ৩০টি ফটোকার্ড।

 

কোন সংবাদমাধ্যমে কতটি কনটেন্ট?

সংবাদমাধ্যমের নাম

 

কনটেন্টের সংখ্যা

 

কালের কণ্ঠ

 

৭৬

 

ডেইলি সান

 

 

বাংলাদেশ প্রতিদিন

 

 

বাংলানিউজ২৪

 

 

নিউজ২৪

 

 

সর্বমোট

 

৯৯

 

ডেইলি সানে মোট ৯টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়, যার মধ্যে ছিল ৬টি সংবাদ ও ৩টি ফটোকার্ড।

 

বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত হয় মোট ৫টি কনটেন্ট, যার মধ্যে ছিল ৩টি সংবাদ ও ২টি ফটোকার্ড।

 

বাংলানিউজ২৪ এ প্রকাশিত হয় মোট ৫টি কনটেন্ট, যার মধ্যে ছিল ৪টি সংবাদ ও ১টি ফটোকার্ড।

 

অন্যদিকে নিউজ২৪ এ একই সময়পর্বে হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে ৪টি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

 

দিনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট প্রকাশিত হয় ২৮ জুন। সেদিন পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে মিলিয়ে মোট ৩৭টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। পরদিন ২৯ জুন প্রকাশিত হয় ১৮টি কনটেন্ট। আর ৩০ জুন প্রকাশিত হয় ২৭টি কনটেন্ট। ১ জুলাই প্রতিবেদন লেখার সময় (দুপুর ২টা) পর্যন্ত আরও ১৭টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে।

 

৯৯টি কনটেন্টে ঘুরেফিরে ৯টি ‘খবর’

২৮ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত প্রকাশিত ৯৯টি কনটেন্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, এগুলোর বড় অংশই কোনো স্বতন্ত্র প্রতিবেদন নয়। একই বিষয় বা অভিযোগকে বিভিন্ন ফরম্যাটে সংবাদ, ভিডিও, ইংরেজি অনুবাদ এবং ফটোকার্ড হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার প্রকাশ করা হয়েছে।

 

বিশ্লেষণে অন্তত ৯টি স্বতন্ত্র বা মূল কনটেন্ট চিহ্নিত করা যায়, যেগুলো খণ্ডিত করেই অধিকাংশ কনটেন্ট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো “হাসনাত আবদুল্লাহ: সাদা সাদা, কালা কালা”, “মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ”, “হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার”, মো. তারেক রহমানের একটি ভিডিও বক্তব্য, রাশেদ খানের বক্তব্য, “হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিয়েছিল” শিরোনামের ভিডিও এবং “চেতনাবোধ না থাকলে মানুষ হাসনাতদের প্রত্যাখ্যান করবে” শিরোনামের ভিডিও। পরবর্তীতে এর সাথে নতুন করে যুক্ত করা হয় বিএনপি নেতা এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য (“নেতারা শুধু জয় দেখেছেন…”) এবং নির্দিষ্ট প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে “মসজিদের অর্থ বরাদ্দে ই-টেন্ডার নৈরাজ্য” সংক্রান্ত সংবাদ।

 

এই নয়টি মূল কনটেন্ট থেকেই বিভিন্ন শিরোনাম, ভাষা, প্ল্যাটফর্ম ও ফরম্যাটে বাকি কনটেন্টগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।

 

দিনভিত্তিক প্রচার

২৮ জুন: এই দিন সবচেয়ে বেশি (৩৭টি) কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। এদিন একই শিরোনাম, একই বিষয় এবং একই কনটেন্ট একাধিক সংবাদমাধ্যম ও প্ল্যাটফর্মে পুনঃপ্রচার করা হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য “হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা” শিরোনামে কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪ বসুন্ধরা গ্রুপের এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমেই সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই শিরোনাম কালের কণ্ঠে আবার ফটোকার্ড হিসেবেও প্রকাশ করা হয়।

 

একই দিনে “হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ” ভিডিওটি কালের কণ্ঠের ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক এই তিনটি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়। এছাড়া “হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিয়েছিল” এবং “হাসনাত ও হান্নান মাসউদ বাজেট বাদ দিয়ে চানাচুর মার্কা আলোচনা করেছেন” এই দুটি ভিডিও ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রকাশিত হয়।

 

২৯ জুন: আগের দিন প্রকাশিত একই অভিযোগ ও বক্তব্য নতুন প্ল্যাটফর্ম ও নতুন সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রচার করা হয়। “হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার” শিরোনামটি কালের কণ্ঠে ইউটিউব ভিডিও, সংবাদ ও ফটোকার্ড এই তিনটি ফরম্যাটে প্রকাশ করা হয়।

 

২৮ জুন কালের কণ্ঠে প্রকাশিত “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণকারী হাসনাত-সারজিসরা ৬০০ শিশুর মৃত্যুর পেছনে দায়ী : মো. তারেক” শিরোনামটি পরদিন (২৯ জুন) বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪-এ প্রকাশিত হয়। একই দিনে ২৮ জুনের “হাসনাত ও হান্নান মাসউদ বাজেট বাদ দিয়ে চানাচুর মার্কা আলোচনা করেছেন” ভিডিওটি কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটেও নতুন করে প্রকাশ করা হয়।

 

৩০ জুন: এদিনও একই শিরোনাম ও একই ধরনের কনটেন্ট একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। “মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ” শিরোনামের সংবাদটি কালের কণ্ঠ, বাংলানিউজ২৪, নিউজ২৪ এবং ডেইলি সানের বাংলা সংস্করণে প্রকাশিত হয়।

 

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সানে “Hasnat Abdullah: White outside, black inside”, “Day labourer’s family alleges brutal assault by supporters of Hasnat Abdullah” এবং “Tale of Hasnat Abdullah’s rise as a ‘mob emperor’” এই তিনটি শিরোনামে সংবাদ ও ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়।

 

একই সঙ্গে “Tale of Hasnat Abdullah’s rise as a ‘mob emperor'” শিরোনামে বাংলাদেশ প্রতিদিনেও সংবাদটি প্রকাশিত হয়। এছাড়া এই দিন নতুন করে বিএনপি নেতা এম এ আউয়ালের বক্তব্য নিয়ে “এনসিপির নেতারা শুধু জয় দেখেছেন, পরাজয় দেখেননি : আউয়াল খান” শিরোনামে কালের কণ্ঠে সংবাদ, একাধিক ভিডিও (ইউটিউব ও ফেসবুক) এবং ফটোকার্ড প্রচার করা হয়।

 

১ জুলাই: সর্বশেষ এই দিনে প্রচারণায় আরও কয়েকটি নতুন অভিযোগ যুক্ত করা হয়। বিশেষ করে “মসজিদের অর্থ বরাদ্দে হাসনাতের ই-টেন্ডার নৈরাজ্য” শিরোনামে কালের কণ্ঠে একটি সংবাদ, দুটি ভিডিও (ইউটিউব ও ফেসবুক) এবং অন্তত ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়।

 

পাশাপাশি “‘খেজুরের মতো হাসনাতের কাছে ল্যাম্পপোস্টসহ অন্যান্য কাজের হিসাব চান এলাকাবাসী’” শিরোনামের সংবাদটি কালের কণ্ঠ ও বাংলানিউজ২৪-এ প্রকাশিত হয় এবং কালের কণ্ঠে এ নিয়ে একাধিক ফটোকার্ড ছড়ানো হয়।

 

এছাড়া “হাসনাত-সারজিস কোন অতিগোপনীয় অভিযোগ নিয়ে দুদকে গিয়েছিলেন, তদন্ত চান রাশেদ খান” শিরোনামেও কালের কণ্ঠে

সংবাদ ও ফটোকার্ড প্রকাশিত হয়। এদিন আগের “মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ” সংবাদটি নিউজ২৪-এ পুনরায় প্রচার করা হয়।

 

 

 

বসুন্ধরার বিরুদ্ধে বক্তব্যের পর ৫টি মিডিয়ায় হাসনাতের বিরুদ্ধে ৮০ ঘণ্টায় ৯৯ কনটেন্ট

ডেস্ক রিপোর্টঃ মোঃ ওমর ফারুক ২৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে করা দুদকের বিস্তারিত

পুলিশ সদস্যদের নতুন পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। বুধবার (১ জুলাই) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির ও ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদসহ সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের নতুন পোশাকে দেখা যায়।

 

নতুন পোশাক অনুযায়ী, মেট্রোপলিটনের পুলিশ পরবে হালকা জলপাই রঙের শার্ট আর খাকি প্যান্ট। আর বাকিদের পোশাকের রঙ গাঢ় নীল আর খাকি প্যান্ট। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশের সংস্কারের অংশ হিসেবে পোশাকে বড় পরিবর্তন আনা হয়। তবে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আগের সেই পোশাক বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়। বুধবার সকাল ৯ ঘটিকায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সেক্টর-১, রোড নং-১০২, রাজউক সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল স্ট্যাক ইয়ার্ড (প্লট নং-৪৪)-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পটির উদ্বোধন করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

নতুন পোশাকে পুলিশ

পুলিশ সদস্যদের নতুন পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। বুধবার (১ জুলাই) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির ও ডিএমপি কমিশনার বিস্তারিত

কালিগঞ্জের ঠেকরা রহিমপুরে মৎস্য ঘের থেকে যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের ঠেকরা রহিমপুর গ্রামে একটি মৎস্য ঘের থেকে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ।

 

বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও এসআই আব্দুর রহিম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সঞ্জিব (৩২), পিতা—গোপাল চন্দ্র সরকার, ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাদের পাশাপাশি দুটি মাছের ঘের রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাবা-ছেলে মাছের ঘেরে কাজ করতে যান। রাত প্রায় ১০টার দিকে তার বাবা বাড়িতে ফিরে এলেও সঞ্জিব আর বাড়িতে ফেরেননি। পরে পরিবারের সদস্যরা রাতভর খোঁজাখুঁজির পর সকালে মাছের ঘেরে গিয়ে পানি উত্তোলনের ড্রেনের পাশে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ দেখতে পান।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

 

 

কালিগঞ্জের ঠেকরা রহিমপুরে মৎস্য ঘের থেকে যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার

কালিগঞ্জের ঠেকরা রহিমপুরে মৎস্য ঘের থেকে যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের ঠেকরা রহিমপুর গ্রামে একটি মৎস্য ঘের থেকে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে কালিগঞ্জ থানা বিস্তারিত

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (নিটোর বা পঙ্গু হাসপাতাল) দালালবিরোধী অভিযানে নারীসহ ১৩ জনকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

সোমবার (২৯ জুন) র‍্যাব-২ এর একটি আভিধানিক দল তিন হাসপাতালে অভিযান চালায়।

 

তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-২ উপ-অধিনায়ক স্কোয়ার্ডন লিডার নিফাজ রহমান জানান, আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পেরেছি- এখানে একটি অসাধু দালাল চক্রের কারণে সাধারণ রোগীদের বিভিন্ন ভোগান্তি পোহাতে হয়। আজ আমাদের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো- দালাল চক্র চিহ্নিতকরণ ও গ্রেফতার, তাৎক্ষণিক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছ ও রোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও দালাল চক্র চিহ্নিত করতে সোহরাওয়ার্দী, পঙ্গু ও হৃদরোগ হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আমরা নারীসহ ১৩ জন দালালকে আটক করি। আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তিনি।

 

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা সাংবাদিকদের বলেন, চলমান দালালবিরোধী অভিযানে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হয়। মাঝে মাঝে র‍্যাবের অভিযানের কারণে আমাদের কাজটা সহজ হয়েছে।

 

চিহ্নিত দালাল ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের কোনো কর্মচারী জড়িত থাকার প্রমাণ পাইনি। এর আগে আউট সোর্সিংয়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়।

রাজধানীর তিন সরকারি হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান, আটক ১৩

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (নিটোর বা পঙ্গু হাসপাতাল) দালালবিরোধী অভিযানে নারীসহ ১৩ জনকে আটক বিস্তারিত

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জ ডট. শপের প্রধান উপদেষ্টা ও পরিচালক মাসুকুর রহমান সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর ধোলাইখাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অভিযানের নেতৃত্ব দেন গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান।

 

তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। তার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

এর আগে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী ই-অরেঞ্জ ডট শপের প্রধান উপদেষ্টা ও পরিচালক মাসুকুর রহমান সুমনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত।

 

প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের একটি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শেষে এই পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম।

 

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- লেন— ই-অরেঞ্জ ডট শপের পৃষ্ঠপোষক শেখ সোহেল রানা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমানুল্লাহ চৌধুরী এবং পরিচালক জায়েদুল ফিরোজ ও নাজনিন নাহার বিথী।

 

মামলায় অভিযোগে বলা হয়, ই-অরেঞ্জ শপের কর্মকর্তারা স্বল্প মূল্যে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয়ে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে প্রলোভিত করেন। ওই প্রলোভনের শিকার হয়ে বাদী ২০২১ সালের ২৩ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত তিনটি মোটরসাইকেল ও একটি ল্যাপটপের জন্য মোট ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৭০০ টাকা আসামিদের প্রতিষ্ঠানে পরিশোধ করেন। ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহের শর্ত থাকলেও তারা আর পণ্য সরবরাহ করেননি।

 

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও আসামিরা পণ্য সরবরাহ না করায় ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর ই-অরেঞ্জের অফিসে গেলে টাকা না দিয়ে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

 

উল্লেখ্য, প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সারা দেশে ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে শত শত মামলা রয়েছে।

ই-অরেঞ্জের প্রধান উপদেষ্টা গ্রেপ্তার

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জ ডট. শপের প্রধান উপদেষ্টা ও পরিচালক মাসুকুর রহমান সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর ধোলাইখাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অভিযানের নেতৃত্ব বিস্তারিত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা চাঁনমারী এলাকার মো. নাছির উদ্দিন (৬০) নামে এক ডিশ লাইন ক্যাবল ব্যবসায়ী হত্যা মামলার আসামি শরীফকে পুলিশের সামনেই মাটিতে ফেলে মারধর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

 

আইনজীবীরা জানান, চাঁদমারী এলাকার ডিশ লাইন ক্যাবল ব্যবসায়ী মো. নাছির উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি শরীফকে রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে তোলা হয়। তাকে কোর্ট হাজত থেকে আদালতে নেওয়ার পথে নিহত নাছির উদ্দিনের এলাকার লোকজন পুলিশের সামনেই আসামি শরীফের ওপর হামলার চেষ্টা করে।

 

একপর্যায়ে আসামি শরীফ আদালতের দরজার সামনে পড়ে যান। তখন বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মাটিতে ফেলে মারধর করে। পরে আরও পুলিশ সদস্য ও আইনজীবীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর তার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।আদালত তার বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া সবুজ বলেন, নাছির উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি শরীফের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলাম দুই পক্ষের শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

 

আসামিকে মারধর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই হত্যা মামলার আসামির ওপর এলাকাবাসী অনেক ক্ষুব্ধ। আর তাই তাকে সরাসরি দেখে বিক্ষুব্ধ মানুষ নিজেদের ঠিক রাখতে না পেরে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে আমরা আইনজীবী ও পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতাকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।”

 

কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, “হত্যা মামলার আসামিকে আদালতে নেওয়ার পথে একটি পক্ষ হামলার চেষ্টা করেছিল। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। সেই সঙ্গে আদালত আসামির বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।”

আদালতে প্রঙ্গণে আসামিকে পুলিশের সামনে মারধর

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা চাঁনমারী এলাকার মো. নাছির উদ্দিন (৬০) নামে এক ডিশ লাইন ক্যাবল ব্যবসায়ী হত্যা মামলার আসামি শরীফকে পুলিশের সামনেই মাটিতে ফেলে মারধর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে বিস্তারিত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম (২২) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর প্রেমিকার বিরুদ্ধে। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে উপজেলার পৌর এলাকার লক্ষীপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

 

এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিকা নাইমা জাহান ও তাঁর বন্ধু আরিয়ান খানকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত সিয়াম লক্ষীপুর গ্রামের হাজী এনামুল হকের ছেলে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নাইমা জাহানের সঙ্গে সিয়ামের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গতকাল রোববার রাতে নাইমা সিয়ামের লক্ষীপুরের বাড়িতে আসেন। রাতে সিয়ামের ঘরের একটি কক্ষে সিয়াম, নাইমা এবং সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান অবস্থান করছিলেন।

 

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইমা দাবি করেছেন, তাঁদের দুজনের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিয়ে নিয়ে বিরোধ চলছিল। আজ ভোরে সিয়াম তাঁকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বললে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে আঘাত করেন নাইমা।

 

পরে সিয়ামের চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে নাইমা ও আরিয়ানকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিয়ামের লাশ উদ্ধার করে এবং ওই দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

 

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোছাইন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইমা সিয়ামকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। আটক নাইমা ও তাঁর বন্ধু আরিয়ানকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিয়ে না করায় কুমিল্লায় প্রেমিককে ছুরিকাঘাতে ‘হত্যা’, প্রেমিকা ও বন্ধু আটক

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় সাইয়েদ আবদুল্লাহ সিয়াম (২২) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর প্রেমিকার বিরুদ্ধে। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে উপজেলার পৌর এলাকার লক্ষীপুর বিস্তারিত

বাংলাদেশের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের নিকটবর্তী সীমান্ত এলাকায় এক ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে পরপর তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

 

সোমবার ২৯ জুন ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে ভারতের মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ-ভুটান সীমান্ত এবং মেঘালয় অঞ্চলে এই ভূকম্পনগুলোর উৎপত্তি হয়।

 

ভারতের সরকারি ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি’র তথ্য অনুযায়ী,

বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ১২ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ভারতের মণিপুরে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩.৫ এবং এর উপকেন্দ্র ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৯ কিলোমিটার গভীরে।

 

দ্বিতীয় ভূমিকম্প (অরুণাচল-ভুটান সীমান্ত):

 

এর প্রায় পাঁচ মিনিট পর, ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে অরুণাচল প্রদেশ ও ভুটান সীমান্তবর্তী এলাকায় দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি হয়। ৩ মাত্রার এই ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল মাত্র ৭ কিলোমিটার গভীরে।

 

তৃতীয় ভূমিকম্প (মেঘালয়):

 

সর্বশেষ ভোর ৫টা ৫ মিনিটে সুনামগঞ্জের উত্তরের এলাকা সংলগ্ন ভারতের মেঘালয় রাজ্যে তৃতীয় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিল ২.৯ এবং এটি ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সংগঠিত হয়।

 

এর আগে এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ও সীমান্ত এলাকায় আরও দুটি ভূমিকম্পের রেকর্ড পাওয়া গেছে:

 

কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্ত: গত রোববার (২৮ জুন) রাতেও কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

 

নারায়ণগঞ্জ (অভ্যন্তরীণ): দেশের ভেতরে সর্বশেষ গত ২২ জুন রাত ৯টা ২৮ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প সংগঠিত হয়।

 

ভূ-পৃষ্ঠের ১৬ কিলোমিটার গভীরতায় উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পটি ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় অনুভূত হয়েছিল।

বাংলাদেশের আশপাশে এক ঘণ্টায় তিনবার ভূমিকম্প!

বাংলাদেশের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের নিকটবর্তী সীমান্ত এলাকায় এক ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে পরপর তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।   সোমবার ২৯ জুন ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে ভারতের মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ-ভুটান বিস্তারিত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব গ্রহণের পেছনের ঘটনা তুলে ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে দায়িত্ব নিতে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

 

রোববার সাভারের জিরাবোতে ইউনূস সেন্টার ও গ্রামীণ গ্রুপ আয়োজিত ১৬তম ‘সোশ্যাল বিজনেস ডে’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

ড. ইউনূস জানান, সে সময় তিনি ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর আসিফ মাহমুদ একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দেশের নেতৃত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানান। তবে শুরুতে তিনি এ দায়িত্ব নিতে রাজি হননি।

 

ড. ইউনুস বলেন, ‘আমি বারবার আসিফকে বলছিলাম, অন্য কাউকে খুঁজে নাও। আমি এই ধরনের কাজের জন্য উপযুক্ত নই। আমি শুধু সেই কাজগুলোই করি যা করতে আমি আনন্দ পাই।’

 

জবাবে আসিফ মাহমুদ তাকে বলেছিলেন, ‘অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। পুরো দেশ একটি সরকারের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আপনি রাজি না হওয়ার কারণে তিন দিন ধরে দেশে কোনো সরকার নেই।’

 

আসিফের এই কথার পর ড. ইউনুস দায়িত্ব নিতে সম্মতি জানান। সম্মতি দেওয়ার সাথে সাথেই আসিফ তাকে বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব বিমানের টিকিট কেটে চলে আসুন। প্রথম ফ্লাইটেই চলে আসুন।’

সরকার গঠনের দায়িত্ব নিতে আমাকে রাজি করিয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ: ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব গ্রহণের পেছনের ঘটনা তুলে ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে দায়িত্ব নিতে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন জুলাই বিস্তারিত

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। রাজধানীর ধানমন্ডিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে হানা দেয় একদল সেনা সদস্য।

 

হত্যা করা হয় শেখ মুজিবুর রহমান, তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা, তিন ছেলে কামাল, জামাল ও রাসেল, ভাগিনা ফজলুল হক মনি ও তার স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ পরিবারের ১৭ সদস্যকে। দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

 

তখন অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত ছিল দেশ। বাকশাল গঠন করে কায়েম করা হয়েছিল একদলীয় শাসন। নিষিদ্ধ হয়েছিল বাকি সব দল।

 

এ বিষয়ে চর্চার সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যারা যুদ্ধ করেছেন, তারাই আবার তাকে হত্যা করলেন। তো এখানে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা কাজ করেছে। ব্যক্তিগত ক্ষোভ কাজ করেছে। ওই সরকার যদি একটা গণঅভ্যুত্থান হতে পারত, তাহলে ও ন্যায্যতা পেত। কিন্তু আপনি একদিন সকালবেলা একটা বাড়িতে ঢুকে আপনি হত্যা করে আসলেন।

 

তবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব মফিদুল হক বলেন, সপরিবারে উৎখাত করা এরকম ঘটনা কিন্তু মধ্যযুগের একটি ঘটনা। যারা ঘটনাটা ঘটিয়েছে, তারা কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী চক্রান্তমূলকভাবে এই কাজটা করেছে। এটা রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই ঘটনাটার পরিণতিতে আমরা আসিনি।

 

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ ত্বরান্বিত করে। ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। এর মধ্যে ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ৫১ বছর আজ

১৯৯১ সালের পর আবারও রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে মুখোমুখি সরকার ও বিরোধী পক্ষ। পঞ্চম জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি পদে সেবার বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। আর বিরোধী দলের প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী।

 

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে দেশ। ২৩তম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিরোধী দল মনোনয়ন দিয়েছে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদকে।

 

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও কেন রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে বিরোধীরা- এমন প্রশ্নে জোট নেতাদের দাবি, জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, বরং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করাই তাদের লক্ষ্য।

 

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থ কি? যদি দল একজনকে নির্বাচন দিয়ে একজনকেই মনোনয়ন দিয়ে দিলো, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি বিজয়ী হলেন। এটা তো দলের, এটা তো জাতির স্বার্থ না। জাতীয় স্বার্থ হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যদি একজন রাষ্ট্রপতি হন, তিনি জাতির ভূমিকা পালন করবেন।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিরোধী দলের একটা স্বাতন্ত্র্যবোধ থাকতে হয়, স্বকীয়তা থাকতে হয়। এক কথায় গণতান্ত্রিক চর্চাটাকে আমরা জনগণের সামনে নতুনভাবে নিয়ে এসেছি পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা কি করতে চাই- এই মেসেজটা আমরা দিতে চাই।

 

বিরোধী জোট বলছে, ভিন্ন একটি বার্তাও দিতে চাইছেন তারা। দলীয় পরিচয়ের বাইরে মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ এক রাজনীতিককে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে সামনে আনার চেষ্টা করেছেন।

 

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবাইকে নিয়ে যে দেশ গড়তে চায় এটা তার একটা উৎকৃষ্ট প্রমাণ। দেশ এবং জনগণের স্বার্থে, দেশ গড়ার প্রয়োজনে আমরা সুনির্দিষ্ট দল, সুনির্দিষ্ট আদর্শ, দলীয় গণ্ডি এবং নিজস্ব চিন্তাধারার দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে দেশকে প্রাধান্য দিই।

 

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এ বিষয়ে আরও বলেন, তিনি একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। এটা হচ্ছে জাতীয় বিষয়। আর সর্বদলীয় ১১ দলের মধ্যে যেহেতু এখানে ১১টি দলের বিষয়, সবার কাছে যিনি গ্রহণযোগ্য এবং সবার মধ্যে যিনি সিনিয়র, তাকেই নির্বাচন করা হয়েছে। ফলে আমি মনে করি কর্নেল অলি খুব ভালো একজন চয়েস বিরোধী দলের জন্য।

 

জুলাই সনদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদান দলীয় প্রভাবমুক্ত করার দাবিও জানান বিরোধী জোটের নেতারা।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার কারণ জানাল বিরোধী জোট

অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা সেবা থেকে আর বঞ্চিত হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের ৫০০ বেডের ভবন উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অক্টোবর মাসে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল খুলে দেয়া হবে।

 

তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা সেবা থেকে আর বঞ্চিত হবে না। যাতে বিদেশে যেতে না হয় এমন একটা চিকিৎসা ব্যবস্থা আমরা গড়তে চাই ।

 

এর আগে, সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনটি উদ্বোধন করেন।

 

উদ্বোধনকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি মোনাজাতে অংশ নেন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

 

দেশে স্নায়ুরোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত করতে নতুন এই ৫০০ শয্যা যুক্ত হওয়ার ফলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১ হাজারে।

 

দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশে এত বড় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এর আগে ২০১২ সালে ১০ তলা ভবনে প্রথম ৩০০ বেডের হাসপাতাল চালু করা হয়। ব্যাপক হারে রোগী আসতে থাকায় সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পরে আরো ২০০ বেড বাড়ানো হয়। এবার নবনির্মিত ১৫ তলা ভবনে আরো ৫০০ বেড বাড়ানো হলো।

অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের এক কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় অবস্থানকালে তাকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে ধানমন্ডি থানায় নেওয়া হয়।জানাে গেছে, আটক ব্যক্তির নাম অর্ণব দাস (৩৭)। সকাল সোয়া ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাঙা বাড়িতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসলে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধানমন্ডি থানায় নেওয়া হয়েছে।

 

এদিন ভোর থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর ভেঙে দেওয়ার বাড়ির সামনে সড়কের দুই পাশে পুলিশের ব্যারিকেড দেখা যায়। বাড়ির সামনের সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছেধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম বলেন, আটক ব্যক্তির নাম অর্ণব দাস। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সক্রিয় কর্মী বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, ১৫ আগস্ট ঘিরে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ।

ফুল দিতে এসে ধানমন্ডি থেকে যুবলীগ কর্মী আটক

 

নীলফামারীতে সাপের ছোবলে ২ জনের মৃত্য

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

মাইদুল ইসলাম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে পৃথক স্থানে সাপের ছোবলে ঘুমন্ত শিশুসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল বৈদ্যপাড়া এলাকার আব্দুর রহমানের মেয়ে রুনা (১০)ও বড়ভিটা ইউনিয়নের জুড়াবান্ধা মালিপাড়া গ্রামের বিপুল রায়ের ছেলে বিজয়া রায় (২০) স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিপুল রায় গত শুক্রবার

(৭ আগস্ট) রাতে সনাতন ধর্মীয় মনসার গানের মঞ্চে অভিনয় করছিলেন। রাস্তায় জেলেদের কাছ থেকে নেওয়া অবিষধর সাপ মনে করে অভিনয় দৃশ্যপর্বে দর্শকদের সাপের খেলা দেখাচ্ছিলেন।

এসময়ে সাপটি তার হাতে ছোবল দেয়। সে বাড়িতে আসার পরে ব্যথা অনুভব করলে স্বজনেরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে এক সপ্তাহ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে (১৩ আগস্ট) বৃহস্পতিবার রাতে মারা যায় সে। অপরদিকে শুক্রবার ভোররাতে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু রুনার ডান হাতে একটি বিষধর সাপ কামড় দেয়। এ সময় সে মা-বাবার সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল। পরে সে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে স্বজনেরা তাকে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন। শুক্রবার

(১৪ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল গফুর বলেন, এ ঘটনায় পৃথক অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নীলফামারীতে সাপের ছোবলে ২ জনের মৃত্যু

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিকের জন্মদিন উপলক্ষে সারা দেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি।

 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচির কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় কিংবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

 

ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হবে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। সেখানে বেলা ১১টায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম খালেদা খানম এবং ডাকনাম পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে হলেও শৈশবের একটি সময় তিনি জলপাইগুড়িতে আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন। পরে পরিবারসহ দিনাজপুরে বসবাস শুরু করেন। সেখানে মিশনারি স্কুল ও দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।

 

১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে তার নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের সময় জিয়াউর রহমান নিহত হলে বিএনপির নেতৃত্বে আসেন খালেদা জিয়া। এরপর ধীরে ধীরে দেশের রাজনীতিতে তার প্রভাব বাড়তে থাকে।

 

১৯৮৩ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জোট গঠন করে তৎকালীন এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। দীর্ঘ আন্দোলনে তার নেতৃত্বের কারণে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি।

 

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে আরও দুই দফায় সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

 

রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়ে মামলা, কারাবাস ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় খালেদা জিয়াকে। ওয়ান-ইলেভেনের পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও তিনি কারাবন্দী ছিলেন। পরে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

এরপর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। দেশে ও বিদেশে চিকিৎসাও নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

 

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্বে রয়েছেন তার জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন।

আপসহীন নেত্রী’ বেগম জিয়ার জন্মদিন আজ

বাড়িতে ছাগল ঢুকা কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে হামলা ও শ্লীলতাহানি, ইউপি সদস্যসহ আসামী ১০।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লী উপজেলার ৩নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ভুজেন চন্দ্র রায়সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর, ভাঙচুর, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পরেশ চন্দ্র রায়।

 

লিখিত অভিযোগে পরেশ চন্দ্র রায় দাবি করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ছাগল বাড়ীতে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে গত ৯ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ভুজেন চন্দ্র রায়সহ অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন।

 

অভিযোগে বলা হয়, এ সময় অভিযুক্তরা ঘরের গাছের শক্ত ডাল দিয়ে পরেশ চন্দ্র রায়ের বাবা মোটাই শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তার মেয়েকে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয়।

 

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় অভিযুক্তরা পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

অভিযুক্তরা হলেন, ১। ইউপি সদস্য ভুজেন চন্দ্র, ২। পশুরাম রায়, ৩। দারগা নাথ, ৪। আশীষ, ৫। সমারু, সকলের পিতা গনেশ চন্দ্র রায়, ৬। জগন্নাথ, ৭। পরিতোষ, উভয়ের পিতা- দারগা নাথ, ৮। প্রদীপ, ৯। মালা রানী, ১০। সুকনী রানী সকলের সাং- কচুবাড়ী হাটপাড়া, ভূল্লী,  ঠাকুরগাঁও।

 

ঘটনার বিষয়ে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে পারবেন বলেও অভিযোগকারী উল্লেখ করেন।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী পরেশ চন্দ্র রায়।

 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ভুজেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি ভিক্তিহীন বলে দাবি করেন।

 

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ভূল্লী থানার সাব ইন্সপেক্টর আব্দুল মোত্তালেব জানান, অভিযোগটি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলমান আছে।

বাড়িতে ছাগল ঢুকা কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে হামলা ও শ্লীলতাহানি, ইউপি সদস্যসহ আসামী ১০

শ্যামনগরে বিনামূল্যে গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি

পিপিআর ও ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে টিকা প্রদা

 

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: বিনামূল্যে গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি পিপিআর ও ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে টিকা প্রদান। প্রাণিসম্পদের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, খামারিদের আর্থিক ক্ষতি কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গরুর ক্ষুরা রোগ (Foot and Mouth Disease-FMD) এবং ছাগল-ভেড়ার পিপিআর রোগ (Peste des Petits Ruminants-PPR) প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের যাদবপুর হাটখোলায় Climate Action at Local Level (CALL) প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে Local Development Agriculture and Research Society (LEDARS)। কর্মসূচিতে অর্থায়ন করছে Global Alliance for Improved Nutrition (GAIN)।

দিনব্যাপী পরিচালিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় খামারিদের তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে FMD ও PPR টিকা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নির্ধারিত সময়ে টিকা প্রয়োগের গুরুত্ব, রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ এবং নিরাপদ ও আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কৈখালী ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জনাব শাহীনুর রহমান, এআইটি অনিমেষ পরামান্য, ভ্যাকসিনেটর সিকান্দার, ইউনিয়ন MSP কমিটির সদস্য জনাব দিপক কুমার মন্ডল, যাদবপুর জলবায়ু সহনশীল দলের সভাপতি তাছলিমা খাতুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া CALL প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা জনাব সুব্রত কুমার গাইন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় করেন CALL প্রকল্পের মাঠ সহায়ক মোঃ কানিজুর রহমান।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ক্ষুরা রোগ (FMD) ও পিপিআর (PPR) প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম ক্ষতিকর সংক্রামক রোগ। এসব রোগে আক্রান্ত হলে গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং গুরুতর ক্ষেত্রে পশুর মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হয়। এতে খামারিরা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। তাই নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে টিকাদান করা এসব রোগ প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়। তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাণিসম্পদের রোগঝুঁকি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় CALL প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে খামারিদের বিনামূল্যে টিকাদান, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

শ্যামনগরে বিনামূল্যে গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি পিপিআর ও ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে তিন শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়াকে টিকা প্রদান

সাউথ বাংলা ব্যাংকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কলারোয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম এ হাকিম সবুজ গ্রেপ্তার

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসির একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং কলারোয়া উপজেলা বিএনপির যুবদলের আহ্বায়ক এম এ হাকিম সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে কলারোয়া থানা পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় কলারোয়া উপজেলার একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসির দায়ের করা মামলায় আদালত থেকে এম এ হাকিম সবুজের বিরুদ্ধে সাজা হয়। ওই মামলায় আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ জানায়।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলারোয়া থানা পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে কলারোয়া উপজেলার একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় নেওয়া হয়। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

এ বিষয়ে কলারোয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের সাজা পরোয়ানা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে এম এ হাকিম সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে, এম এ হাকিম সবুজের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি কলারোয়া উপজেলা বিএনপির যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন।

 

তবে মামলার বিস্তারিত ধারা, আদালতের রায়ের তারিখ এবং সাজার মেয়াদ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালত ও পুলিশের নথি যাচাই করে বিস্তারিত জানা যাবে।

সাউথ বাংলা ব্যাংকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কলারোয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম এ হাকিম সবুজ গ্রেপ্তার

পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রবাসীর বাড়িতে চুরির সময় স্থানীয়দের হাতে নাঈম (২৫) নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা আটক হয়েছেন। আটকের আগে ওই যুবকের ছুরিকাঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী, মেয়ে ও এক প্রতিবেশীসহ তিনজন আহত হন।

 

আহতদের উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে স্বরূপকাঠী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

 

আটক নাঈম একই এলাকার মো. রফিক মিয়ার ছেলে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাঈম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের বাড়ির পাশে থাকা একটি সুপারি গাছ বেয়ে উঠে নাঈম ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরে থাকা ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী নাজমা আক্তার তাকে দেখে ফেলেন। নাজমা মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করলে নাঈম তাকে বাধা দেন। একপর্যায়ে হাতে থাকা ছুরি দিয়ে নাজমাকে আঘাত করা হয়। নাজমার চিৎকার শুনে তার মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে নুহিন মিয়া তাদের উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে আহত করা হয়। আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে নাঈমকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা আক্তার বলেন, ঘরে কাজ করার সময় হঠাৎ দেখি নাঈম সুপারি গাছ বেয়ে ঘরে ঢুকেছে। আমি মোবাইলে ফোন করতে গেলে সে বাধা দেয়। পরে চিৎকার করলে ছুরি দিয়ে আমাকে আঘাত করে। আমার মেয়ে ও প্রতিবেশী নুহিন এগিয়ে এলে তাদেরও আহত করা হয়।

 

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান জানান, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দস্যুতার সময় স্থানীয়রা নাঈম নামে এক যুবককে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দস্যুতার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চুরি করতে গিয়ে ছু/রি/কাঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী-মেয়েকে জখম, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আটক

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩