আলোচনার প্রস্তাব দিল মোদি সরকার, শর্ত দিল আন্দোলনকারীরা - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
আলোচনার প্রস্তাব দিল মোদি সরকার, শর্ত দিল আন্দোলনকারীরা

আলোচনার প্রস্তাব দিল মোদি সরকার, শর্ত দিল আন্দোলনকারীরা

ভারতে শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে রাজধানী দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তবে সরকারের প্রস্তাবে সাড়া দিলেও আলোচনার স্থান নিয়ে শর্ত দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবন বা কার্যালয়ে নয়, যন্তর মন্তর কিংবা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে বৈঠক হতে হবে। খবর এনডিটিভির।

 

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, বুধবার (২২ জুলাই) থেকেই আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের কাছে আলোচনার জন্য চারটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকার আন্দোলনকারীদের সুবিধাজনক যেকোনো সময় আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

 

তিনি বলেন, ‘সরকার আপনাদের সুবিধাজনক যেকোনো সময় সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। আলোচনা জেপি নাড্ডার কার্যালয় বা বাসভবনে হতে পারে। আমরা অহমিকা বা মর্যাদার লড়াইয়ে বিশ্বাস করি না। আলোচনায় আমি এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা উপস্থিত থাকব। ধাপে ধাপে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।’

 

তবে সরকারের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির বক্তব্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবন বা কার্যালয়ে নয়, যন্তর মন্তর অথবা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে হবে। এমন পরিবেশেই অর্থবহ সংলাপ সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

 

নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন ইতোমধ্যে দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনা ও কলকাতাসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বেড়েছে।

 

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা চালালেও, আলোচনার স্থান নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে সমাধান কবে আসবে, তা এখনো অনিশ্চিত।


পাহাড়ের প্রতিধ্বনি, এক বেলুচ নারী কমান্ডারের জবানবন্দি

 

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

 

বেলুচিস্তানের রুক্ষ, ধূসর পাহাড়শ্রেণির পটভূমিতে যখন একটি ভিডিওতে প্রথম দেখা যায় সামরিক পোশাক পরিহিতা এক নারীকে চারপাশে সারিবদ্ধ সশস্ত্র নারী যোদ্ধা, দৃষ্টিতে দৃঢ়তা, কণ্ঠে অবিচল আত্মবিশ্বাস তখন সে দৃশ্য নিছক একটি প্রচার-ভিডিও থেকে অনেক বেশি কিছু হয়ে ওঠে। তা হয়ে ওঠে একটি প্রশ্ন, একটি ঘোষণা, এবং একই সঙ্গে একটি ইতিহাসের নতুন পাতার সূচনা। বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) তাঁকে পরিচয় দিয়েছে সংগঠনের একজন কমান্ডার হিসেবে, যুদ্ধনাম ‘সাদো’ নাম শাইনাজ বালোচ। ধারণা করা হচ্ছে, দশকের পর দশক ধরে চলা এই সশস্ত্র আন্দোলনে তিনিই প্রথম নারী, যিনি এতটা প্রকাশ্য ও উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের আসনে উপবিষ্ট হয়েছেন।

 

তাঁর এই আবির্ভাব নিছক আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়। এটি ঘটছে এমন এক সময়ে, যখন বেলুচিস্তানে নাগরিক প্রতিরোধ ও সশস্ত্র সংগ্রাম দুটি ভিন্ন স্রোত ক্রমশ একে অপরের কাছাকাছি এসে মিলিত হচ্ছে। একদিকে বেলুচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি)-র মতো নাগরিক আন্দোলন, যার নেতৃত্বে আছেন মেহরাং বালোচ ও সাম্মি দীন বালোচের মতো নাম, যাঁরা জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও সামরিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করে চলেছেন বছরের পর বছর ধরে। অন্যদিকে ক্রমশ সক্রিয় হয়ে উঠছে সশস্ত্র প্রতিরোধ। আর ঠিক এই দুই স্রোতের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছেন শাইনাজ বালোচ একজন রাজনৈতিক সচেতন নারী, যিনি বৃহত্তর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাধারণ কর্মী থেকে সরাসরি এক অস্ত্রধারী কমান্ডারের ভূমিকায় উত্তরিত হয়েছেন।

 

বহু বছর ধরে বেলুচিস্তানের লড়াইকে বাইরের দুনিয়া দেখেছে এক সংকীর্ণ চোখে কখনো গোত্রীয় দ্বন্দ্ব, কখনো পশ্চাৎপদতা, কখনো-বা বহিঃশক্তির চক্রান্ত হিসেবে। আর নারীদের বেলায় সেই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আরও সংকীর্ণ তাঁদের কেবল ভুক্তভোগী, কেবল শোকার্ত মা-বোন হিসেবেই চিত্রিত করা হয়েছে বারবার। শাইনাজ বালোচের আবির্ভাব সেই বহু পুরনো বয়ানকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি নিজেকে কান্নার প্রতিমূর্তি হতে দিতে রাজি নন। বরং নিজেকে তিনি উপস্থাপন করেছেন সংগ্রামের গতিপথ নির্ধারণে সক্রিয় এক কুশীলব হিসেবে।

 

নিচের এই বিশেষ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো তাঁর সেই বিরল সাক্ষাৎকারের মূল বক্তব্য এক নারীর ভাবনার জগৎ, যিনি নাগরিক সক্রিয়তা থেকে সশস্ত্র নেতৃত্বে পা রেখেছেন, ঠিক এমন এক মুহূর্তে, যখন বেলুচিস্তানের সংঘাত পৌঁছে গেছে নতুন এক তীব্রতায়।

 

★ ‘বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্তি’, নেতৃত্বের দর্শনগত ভিত্তি

 

শাইনাজ বালোচ তাঁর নেতৃত্বে ওঠার পথকে কোনো একক ঘটনার ফল বলে মানতে নারাজ। তাঁর ভাষায়, এটি এক দার্শনিক উত্তরণ হেগেলের বিচ্ছিন্নতা-উত্তরণের (Entfremdung) ধারণার প্রতিধ্বনি। তাঁর যুক্তি, মানুষ নিজের প্রকৃত সত্তা খুঁজে পায় না নিঃসঙ্গতায়, বরং ইতিহাসের বৃহৎ প্রবাহে নিজেকে স্থাপন করার মধ্য দিয়েই। দখলদারিত্ব তাঁর কাছে কোনো বাহ্যিক আঘাত নয় এটি জন্ম থেকেই মানুষের ভেতরে বাস করা এক কাঠামোগত বাস্তবতা। তাঁর কথায়, ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে টিকে থাকাটাই এক ধরনের আত্ম-বিচ্ছিন্নতা, আর প্রকৃত চেতনার জন্ম হয় সেই সত্য উপলব্ধির মুহূর্তে। তাই তাঁর কাছে অস্ত্র হাতে তোলা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিজের ভেতরের সত্তার সঙ্গে চূড়ান্ত পুনর্মিলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বেলুচিস্তানের মুক্তি সম্ভব নয় যদি জনসংখ্যার অর্ধেক নারীসমাজ কেবল ইতিহাসের দর্শক হয়ে থাকে। নারীরা এই সংগ্রামে আসছে না কোনো আনুষ্ঠানিকতা পূরণে, বরং নিজেদের হারানো ঐতিহাসিক ভূমিকা পুনরুদ্ধারের তাগিদে।

 

★ নারীরা কখনোই নীরব দর্শক ছিল না

 

রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন গুম, নির্যাতন, প্রতিবাদকারীদের ওপর আক্রমণ তাঁকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রথমেই একটি প্রচলিত ধারণা খণ্ডন করেন। তাঁর দাবি, বেলুচ নারীরা কোনোদিনই আন্দোলনের প্রান্তবর্তী চরিত্র ছিলেন না, সশস্ত্র হোক বা নিরস্ত্র উভয় পরিসরেই তাঁরা গঠন করেছেন প্রতিরোধের মূল কাঠামো। তিনি এমন এক বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রত্যাখ্যান করেন, যা নারীর অস্ত্র হাতে তোলাকে সবসময় ব্যক্তিগত শোক বা ট্রমার ফল বলে সরলীকরণ করে। তাঁর ভাষায়, তাঁর সিদ্ধান্ত এসেছে সচেতন, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রত্যয় থেকে, কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে নয়। নাগরিক আন্দোলন যেমন বিওয়াইসি রাষ্ট্রের নৈতিক ব্যর্থতা প্রকাশ্যে আনে, তেমনি তিনি মনে করেন কেবল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দিয়ে একটি সুসজ্জিত সামরিক কাঠামোর পতন ঘটানো যায় না।

 

★ নারী যোদ্ধার উত্থান, তিনটি মাত্রা

 

মজিদ ব্রিগেডের ফিদায়ী অভিযানে নারীর ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শাইনাজ তিনটি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। প্রথমত, রাজনৈতিক ও কাঠামোগত কারণ রাষ্ট্র তাঁর ভাষায় প্রতিটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পথ বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে সশস্ত্র প্রতিরোধ আর ঐচ্ছিক নয়, অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র উপায় হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয়ত, তিনি মনে করেন, আন্দোলনের ভেতরেই ঘটেছে এক অভ্যন্তরীণ রূপান্তর সমাজের সেকেলে, পিতৃতান্ত্রিক ও সামন্ততান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে বছরের পর বছর ধরে চলা আন্দোলনের চাপে, যা নারীকে যুদ্ধক্ষেত্রে নামার আগেই ঘরের ভেতরে মুক্ত করেছে। তৃতীয়ত, তরুণ নারীদের বাড়তে থাকা শিক্ষার হার ও রাজনৈতিক সচেতনতা। তাঁর মতে, একজন নারী যোদ্ধা একই সঙ্গে দুটি বার্তা বহন করে রাষ্ট্রের প্রতি, যে তার দমননীতি ব্যর্থ হয়েছে; আর নিজের সমাজের প্রতি, যে জাতীয় মুক্তি অসম্পূর্ণ থাকবে লিঙ্গ মুক্তি ছাড়া।

 

★ আমাকে সবসময় বলা হয় নারী কমান্ডার

 

সবচেয়ে ক্ষুরধার প্রশ্নটি ছিল আত্মঘাতী অভিযানে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে এটি কি সত্যিকারের সিদ্ধান্ত, নাকি হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া বাধ্যবাধকতা? শাইনাজ এই প্রশ্নকেই একধরনের পক্ষপাত বলে চিহ্নিত করেন। তাঁর যুক্তি, একজন পুরুষ যোদ্ধা যখন উচ্চ ঝুঁকির অভিযানে যোগ দেয়, তাকে দেখা হয় আদর্শবাদী সৈনিক হিসেবে, কিন্তু একজন নারীর একই সিদ্ধান্তে সন্দেহের চোখে খোঁজা হয় বহিরাগত প্রভাব, মানসিক দুর্বলতা কিংবা জবরদস্তি। তাঁর ভাষায় ‘একজন পুরুষ কমান্ডারকে শুধু কমান্ডার বলা হয়, আমাকে বলা হয় নারী কমান্ডার।’ তিনি দাবি করেন, তাঁদের সংগঠনে যোদ্ধা নির্বাচন হয় দীর্ঘ আদর্শিক মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে, আবেগ বা প্রতিশোধের তাড়নায় নয়।

 

★ নাগরিক আন্দোলন বনাম অস্ত্র, প্রতিযোগিতা নয়, ধারাবাহিকতা

 

বিওয়াইসি-র মতো অহিংস আন্দোলনের সঙ্গে সশস্ত্র প্রতিরোধের সম্পর্ক নিয়ে শাইনাজের অবস্থান স্পষ্ট তিনি এই দুই পথকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং একই চেতনার দুটি ভিন্ন প্রকাশ বলে বর্ণনা করেন। তবে ফ্রাঁৎস ফানোঁর বরাত দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন ঔপনিবেশিকতা যুক্তির ভাষা বোঝে না, তা কেবল সংগঠিত শক্তির সামনেই নতিস্বীকার করে। নাগরিক মিছিল ও ধরনাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকার করলেও মনে করেন, রাষ্ট্র এই প্রতিবাদগুলোকে নিয়মিতভাবে উপেক্ষা বা দমন করে চলেছে।

বৈধতা, ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দবন্ধ এবং ভূরাজনীতি

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেলুচ প্রশ্নকে ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর চশমা দিয়ে দেখার প্রবণতা নিয়ে তিনি তীব্র আপত্তি জানান। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বৈধতা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই প্রায়শই বৈশ্বিক শোষণ ও দখলদারিত্বের সহযোগী, তাই তাদের সনদের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তিনি মনে করেন, ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দটি এক রাজনৈতিক হাতিয়ার, যা জাতীয় মুক্তি আন্দোলনগুলোকে অবৈধ প্রতিপন্ন করতে ব্যবহৃত হয়। তাঁর ভাষায়, আন্তর্জাতিক জনমত পরিবর্তনের পথ বৈশ্বিক বিবেকের কাছে আবেদন নয়, বরং কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি করা।

 

★আমি কমান্ডার, এইটুকুই যথেষ্ট

 

সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে ব্যক্তিগত অংশে শাইনাজ কথা বলেন এক নারী কমান্ডার হিসেবে তাঁর নিজস্ব অবস্থান নিয়ে। তিনি প্রত্যাখ্যান করেন ‘প্রতিনিধিত্বের বোঝা’-র ধারণা তাঁর ভাষায়, পুরুষ সহযোদ্ধাদের কখনো পরিবারের সম্মিলিত শোকের ভার বহন করতে হয় না, অথচ নারীর কাছে সেই প্রত্যাশা থেকেই যায়। তিনি চান এমন এক বেলুচিস্তান, যেখানে এই বৈষম্যমূলক প্রত্যাশাগুলোর অস্তিত্বই থাকবে না। তাঁর কাছে বিজয়ের অর্থ কেবল একটি নতুন সীমানা বা ক্ষমতার হাতবদল নয় বরং ন্যায়বিচার, লিঙ্গসাম্য ও সম্পদের যৌথ মালিকানার ওপর দাঁড়ানো এক নতুন সমাজব্যবস্থা, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিচয় নির্ধারিত হবে যুদ্ধ বা দারিদ্র্যের ইতিহাস দিয়ে নয়, বরং তাদের নিজস্ব সম্ভাবনা দিয়ে।

 

★ সম্পাদকীয় নোট

 

বেলুচিস্তানের সংঘাত প্রবেশ করেছে এক নতুন, তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ে। এতদিন আন্তর্জাতিক দৃষ্টি মূলত নিবদ্ধ ছিল বিওয়াইসি এবং মেহরাং বালোচ, সাম্মি দীন বালোচের মতো নেতৃত্বের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর, সশস্ত্র বিদ্রোহের ভেতরকার পরিবর্তনগুলো তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত থেকে গেছে। শাইনাজ বালোচের প্রকাশ্য আবির্ভাব এই সংঘাতের এক লক্ষণীয় বাঁক নির্দেশ করে।

 

এই লেখাটি একটি সাক্ষাৎকার-ভিত্তিক প্রতিবেদনের ভাবানুবাদ ও সাহিত্যিক উপস্থাপনা মাত্র। এখানে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণভাবে সাক্ষাৎকারদাতা নিজের তা কোনোভাবেই এই লেখার অনুবাদক বা কোনো প্রকাশনার নীতিগত অবস্থান নয়।

 

একটি সশস্ত্র আন্দোলনকে বোঝার চেষ্টা তার পদ্ধতিকে সমর্থন করা নয়, বরং তা সাংবাদিকতার এক মৌলিক দায়িত্ব, জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতগুলোকে বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা।

পাঠকদের প্রতি অনুরোধ, এই বিবরণের পাশাপাশি রাষ্ট্র, স্বাধীন পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনও বিবেচনায় নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার এই দীর্ঘ ও জটিল সংঘাত সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা গড়ে তোলার জন্য।

 

অনুবাদ ও উপস্থাপনা, জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান,লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর

পাহাড়ের প্রতিধ্বনি, এক বেলুচ নারী কমান্ডারের জবানবন্দি

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে যাওয়ার পথে দেয়া অনুপ্রেরণামূলক ভাষণের একটি ভিডিও প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর ভিডিওটির একটি অংশ ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে মেসির বলা ‘সবকিছু ভুলে যাও’ বাক্যটির গোপন অর্থ খুঁজতে শুরু করেছিলেন অনেকে। তবে সম্প্রতি পুরো ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর সেই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে।

 

মাঠে নামার আগে সতীর্থদের উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘চলো সবাই, শান্ত থাকো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যেন শান্ত থাকি। শুধু খেলায় মনোযোগ দাও। সবকিছু ভুলে যাও। শুধু খেলো, খেলায় মনোযোগ দাও। চলো।’

 

তার এই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল চাপমুক্ত থেকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটি খেলা।

 

মাঠে প্রবেশের সময় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে কৌশলগত কিছু কথোপকথনও শোনা যায়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজকে উদ্দেশ করে ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো বলেন, প্রতিপক্ষের আক্রমণে কীভাবে চাপ সৃষ্টি করতে হবে এবং লামিন ইয়ামালকে সামলানোর পরিকল্পনা নিয়ে।

 

লিসান্দ্রো ‘লিচা’ মার্টিনেজ দিবুকে সতর্ক করে বলেন, প্রতিপক্ষ ভেতরে ঢুকে শট নেয়ার চেষ্টা করবে, তাই সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পরে লিচা নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে বলেন, ‘পুরো ম্যাচ জুড়ে তাকে আটকে রাখবে।’ দিবুকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি বল নিশ্চিতভাবে ধরবে, মানসিকভাবে শক্ত থাকো।’

 

এ সময় মেসি আবারও ডিফেন্ডারদের বলেন, প্রতিপক্ষ আক্রমণে এলে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এনজো ফার্নান্দেজ যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে সামনে উঠে না যান। সবশেষে কুতি রোমেরো দিবুকে বলেন, ‘আজ তোমার দিন।’ জবাবে দিবুর আত্মবিশ্বাসী উত্তর ছিল, ‘আজ আমার দিন। আজ ইতিহাসে লেখা থাকবে।’

 

এরপর দুই দল মাঠে প্রবেশ করে এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। তবে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়তে থাকে। খেলার বিভিন্ন মুহূর্তে তীব্র লড়াই ও বাকবিনিময় দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে।

 

ভিডিওটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক সম্পর্কে জানতে চাইলে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখি না। এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। আপনারা কী নিয়ে বলছেন, সে সম্পর্কেও আমার কোনো ধারণা নেই।’

ফাইনালের আগমুহূর্তে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী হচ্ছিল? স্পষ্ট করলো দেশটির গণমাধ্যম

সূর্য ডুবে গেলেও রাজপথের উত্তাপ আর প্রতিবাদের আগুন নিভে যায়নি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। সারাদিন মধ্য দিল্লি দখল করে রাখা আন্দোলন রাতেও থামেনি। সোমবার (২০ জুলাই) কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাজার হাজার মানুষ পার্লামেন্টের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় আন্দোলনকারীদের। বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তারক্ষীর বাঁধায় পিছু হঠতে বাধ্য হয় তারা, কয়েক ঘণ্টা পর আন্দোলনকারীরা আবারও জড়ো হন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।

 

বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুদের কণ্ঠে বিভিন্ন ধরনের স্লোগানে পুরো জন্তর মন্তর এলাকা মুখর দেখা যায়। রাত ৮টা ৩০ মিনিটে জনপথ রোডে উল্টে পড়া দিল্লি পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর উঠে ১০ থেকে ১৫ জন যুবক ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। নিচে জড়ো হওয়া হাজারো বিক্ষোভকারী জোরালো করতালিকা, বাঁশি এবং তালি দিয়ে তাদের সঙ্গে সুর মেলান। আরেক পাশে অনেকে স্লোগান দিচ্ছেন, ‘লড়েঙ্গে, জিতেঙ্গে।’

 

দ্র প্রিন্ট বলছে, দৃশ্যটি ঠিক ১২ ঘণ্টা আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার সম্পূর্ণ বিপরীত, যখন একই বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে পুলিশের বলপ্রয়োগের মুখোমুখি হয়েছিলেন। হট্টগোলের মাঝে এক বিক্ষোভকারী চিৎকার করে বলেন, ‘কতজনকে মারবে? আমরা বাড়ি ফিরে যাব না।’

 

জিন্দাবাদ’ এবং ‘নেহি চলেগি, নেহি চলেগি’ স্লোগানের মাঝে বিক্ষোভকারীরা ভারতের জাতীয় পতাকা নাড়াচ্ছেন এবং বি আর আম্বেদকরের ছবি ধরে রাখছেন।

 

তাদের মধ্যে মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে একটি বেঞ্চে শুয়ে আছেন ২০ বছর বয়সি ভিডিও এডিটর মোহাম্মদ আয়ান। ইন্ডিয়া গেটের কাছে মিছিলে যোগ দেওয়ার পর পুলিশ চড়াও হলে টিয়ারশেল তার মাথায় আঘাত করে। চিকিৎসা নেওয়ার পর আয়ান সোজা আবারও জন্তর মন্তরে ফিরে এসেছেন।

 

তিনি বলেন, ‘অল্প কিছুদূর হেঁটেছিলাম, তার পরই পুলিশ জনতার ওপর চড়াও হয়। আমি দৌড়েছিলাম, কিন্তু আহত হই। একটি কাঁদানে গ্যাসের শেল আমার মাথায় আঘাত করে। আমি শ্বাস নিতে পারছিলাম না। আমি আমার বাবার বয়সের মানুষকে মার খেতে ও আহত হতে দেখেছি।’

 

তার চলে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি জানান, ‘আজ পাশে না দাঁড়ালে কে দাঁড়াবে? সরকার জানুক তারা বাড়ি ফিরে যাবেন না, এখানেই অবস্থান করবেন। আমরা ফিরে যাচ্ছি না।’

 

অনেক বিক্ষোভকারীর কাছে সোমবারের পুলিশি পদক্ষেপের প্রভাব কর্তৃপক্ষ যা চেয়েছিল তার ঠিক উল্টো হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মউ থেকে আসা দিল্লির বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর বয়সি ছাত্র শ্রেয়াংশ চন্দ্র ভাস্কর জানান, এটি ছিল তার সপ্তমবারের মতো এই আন্দোলনে যোগ দেওয়া। তিনি জানতেন যে সোমবার তাকে সেখানে থাকতেই হবে।

 

মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট ও পোস্টার ধরে রাখা মানুষের সাগরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি জানেন কেন এত মানুষ ফিরে এসেছে?’

 

তিনি আরও বলেন, ‘কারণ আমরা আর ভয় পাই না। জবাবদিহি চাওয়ার জন্য যারা আমাদের শাস্তি দেয়, তাদের আমরা ভয় পাই না। আমরা এখানেই দাঁড়িয়ে থাকব।’

 

শ্রেয়াংশ বলেন, ‘যে মুহূর্তে পুলিশ আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করল এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ল, সেই মুহূর্তেই ভয় শেষ হয়ে গেছে।’ শ্রেয়াংশ আবার ভিড়ের দিকে ইঙ্গিত করার আগে একটু থামেন। আবার তিনি শুরু করেন, ‘আপনি কি জানেন এই মানুষগুলো কী করছিল? আমরা আহতদের রক্ষা করার চেষ্টা করছিলাম।’

স্লোগানে স্লোগানে মুখর দিল্লি, রাতভর অবস্থান আন্দোলনকারীদের

ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানী নয়াদিল্লি।

 

সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও সেখানে জড়ো হয় ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকারীরা।

 

এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেন্ট্রাল দিল্লির কিছু অংশে মোবাইল ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

মেডিকেল কলেজগুলোর জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা—নিটটের কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রার ডাক দেওয়া হয়। যন্তর-মন্তর বিক্ষোভস্থলে জড়ো হওয়া প্রধানত তরুণদের এই জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠি ও ডান্ডাও ব্যবহার করেছে। পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে কিছু আন্দোলনকারী এবং পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন।

 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিজেপি তার সমর্থকদের ‘শান্ত থাকার’ আহ্বান জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমনকি আপনাদের যদি নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় আটকে দেওয়া হয়, তবুও শান্ত থাকুন এবং শান্তি বজায় রাখুন। আমরা কেবল শান্তি ও ভালোবাসা দিয়ে এতে জয়ী হব।

 

পুলিশ রোববার এই আন্দোলনের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এবং বড় ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছিল। তারা সতর্কও করেছিল, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

 

এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পুলিশ জানায়, পূর্বানুমতিসহ যন্তর-মন্তরের নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল ছাড়া অন্য কোথাও প্রতিবাদ পদযাত্রা, মিছিল, বিক্ষোভ এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দিল্লি পুলিশ সকল নাগরিককে আইনকে শ্রদ্ধা করার, যে কোনো অননুমোদিত সমাবেশ বা মিছিলে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার এবং জনশান্তি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছে।

 

দিল্লি মেট্রো স্টেশনগুলোতে বিশৃঙ্খলা

 

নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লির পাঁচটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। স্টেশনগুলো হলো—রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয় এবং সেবা তীর্থ।

এগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনে তীব্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এর ফলে শত শত যাত্রী আটকা পড়েন অথবা তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য দীর্ঘ পথ ব্যবহারে বাধ্য হন। দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত ইন্টারচেঞ্জ মেট্রো স্টেশন রাজীব চকে যাত্রীদের বন্ধ প্রবেশ ও বাহির পথের গেটগুলোর কাছে ভিড় করতে দেখা গেছে।

 

সিজেপির বিক্ষোভ

 

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ‘পরজীবী’ এবং ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর গত মে মাসে অভিজিৎ দিপকে একটি ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল সংগঠন হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টি চালু করেছিলেন। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এটি ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঝড় তোলে এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লাখ লাখ অনুসারী অর্জন করে। এটি বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, অধিকারকর্মী, শিল্পী এবং ক্রীড়াবিদদের সমর্থনও আকর্ষণ করে।

 

৩০ বছর বয়সি দিপকে, যিনি গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন, তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে কথিত অনিয়মের পর শিক্ষা খাতে সংস্কারের দাবিতে দিল্লির বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে জুনে ভারতে ফিরে আসেন। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি গত ২৮ জুন যন্তর-মন্তরে আমরণ অনশনে বসেন।

 

তবে ৫৯ বছর বয়সি ওয়াংচুককে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থার কথা উল্লেখ করে গত শনিবার পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সোমবার (২০ জুলাই) হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক হাতে লেখা নোটে ওয়াংচুক বলেন, সরকার যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় কথিত প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অন্যান্য ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে অথবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপি ও নেতারা যদি তাকে আশ্বাস দেন যে তারা পার্লামেন্টে এই বিষয়টি উত্থাপন করবেন, তবেই কেবল তার অনশন ভাঙবে।

রণক্ষেত্র দিল্লি, বন্ধ ইন্টারনেট

লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিযান থামাতে পারেনি দিল্লি পুলিশ। পুলিশের বাধা কাটিয়েই সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে যান বিক্ষোভকারীরা।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মিছিল এগিয়ে আসতেই নিরাপত্তার কারণে সংসদের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

খবরে বলা হয়, সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সদস্যরাসহ বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।

 

এই পরিস্থিতিতে সিজেপির সংসদ অভিযান নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল দিল্লি পুলিশ। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়া হয়। তার পরেও অবশ্য বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংসদ ভবনের দিকে এগোতে থাকেন।

 

বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। তাদের বাসে উঠিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সিজেপি নেতাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ।

 

সোমবার (২০ জুলাই) ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে লং মার্চের উদ্দেশ্যে যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অ্যাক্টিভিস্ট একত্রিত হন। আন্দোলনকারীদের পদযাত্রা রুখতে পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে দিল্লি পুলিশ। মোতায়েন করা হয় শত শত নিরাপত্তা কর্মী।

 

সকালে সেন্ট্রাল দিল্লির বিক্ষোভস্থল থেকে মিছিল নিয়ে তারা পার্লামেন্টের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। বেশকিছু স্থানে বসানো নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রায় ২০ হাজার মানুষ (যাদের অধিকাংশই ছাত্র-যুবক) সোমবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল।

 

এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পেশাদারত্বের সঙ্গে সামাল দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত মে মাসে ৩০ বছর বয়সি অভিজিৎ দীপকে নামে এক ব্যক্তি সিজেপি গঠন করেন, যা অতি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল, শিল্পী ও সুশীল সমাজের সমর্থন লাভ করে।

 

এর আগে গত শনিবার পুলিশ অনশনরত ৫৯ বছর বয়সি প্রখ্যাত জলবায়ু ও শিক্ষা আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে যন্তর মন্তর থেকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায় আজ সোমবারের কর্মসূচিতে বাড়তি উত্তেজনা যোগ হয়।

বাধা পেরিয়ে সংসদ ভবনের কাছে ককরোচ পার্টির সদস্যরা, উত্তপ্ত দিল্লি

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরকারের কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদলের উদ্যোগ নেওয়ার পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের পার্লামেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে। এর ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকার পুনর্গঠনের মাধ্যমে যুদ্ধকালীন প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও দক্ষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।

ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো দায়িত্ব পালনকালে দেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং যুদ্ধকালীন প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে নতুন পরিস্থিতির আলোকে সরকারে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সে বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

পদত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতরে দুটি তাজা বোমা পাওয়া গেছে। যা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম।

 

শুক্রবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাতাটির বোতামে চাপ দিলেই ডিভাইসটি যেন বিস্ফোরিত হয়, এমন করে এটি তৈরি করা হয়েছিল।

 

মেট্রো স্টেশনে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাপলা চত্ত্বরের দিকে একটি রথযাত্রা যাচ্ছিল। তখন রথযাত্রার একজন তাদেরকে রাস্তায় একটি ছাতা পড়ে থাকার তথ্য দেয়। তারা ছাতাটি ধরতেই ভেতরে লাল আলো জ্বলতে দেখেন। ছাতাটি সেখানে রেখে পুলিশকে খবর দেন আনসার সদস্যরা। পুলিশ এসে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সড়ক বন্ধ করে দেয় এবং বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়। পরে বোম ডিসপোজাল ইউনিট এসে ৭টা ৫০ মিনিটে একটি বোম এবং অপরটি ৮টা ১০ মিনিটে নিস্ক্রিয় করে।

মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর বোমা, নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের চাড়ালডাংগা সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। তবে বিজিবি সেই চেষ্টা রুখে দিয়েছে।

 

বিষয়টি ১৬ বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়ন থেকে শুক্রবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ১৬-বিজিবির নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধীনে চাড়ালডাংগা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ২১৯/২৪-আর এর কাছ দিয়ে বিএসএফের ১২ ব্যাটালিয়নের টিলাশন ক্যাম্পের সদস্যরা ৭ ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি চাড়ালডাংগা বিওপির বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেই চেষ্টা প্রতিহত করে।

 

এ সময় বিজিবি সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের শূন্য লাইনের ভারতীয় অংশে অবস্থানরত অবস্থায় শনাক্ত করেন। বর্তমানে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে সম্পূর্ণ বাধা প্রদান করা হয়েছে এবং নিকটবর্তী তারবিহীন অংশ দিয়ে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বিজিবি জানায়।

 

প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে ওই সীমান্ত দিয়ে দুই দফা পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ।

গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার জানান, পদত্যাগ পত্রটি আমি গ্রহণ করেছি এবং সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

 

স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ আরও জানান, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সে অনুযায়ী আমি দায়িত্বে থাকব।

 

রাষ্ট্রপতি বলেন, পদত্যাগ পত্রে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, তিনি অসুস্থ। হৃদরোগ, কিডনী জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। তিনি অসুস্থ হওয়ায় দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। আমি তার সুস্থতা কামনা করছি।

 

সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

 

সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

 

সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে।

 

আজ দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রোববার তাঁর ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার

ভোলার লামোহনে রাজহাঁস চুরির অপরাধে মো. নাজিম (২৫) নামের এক যুবককে মারধর না করে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে এবং তওবা করিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। ব্যতিক্রমী এই শাস্তির ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৯টার দিকে লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ গ্রামের পশ্চিম কিশোরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

 

আটক হওয়া যুবক নাজিম লালমোহন পৌরসভা এলাকার নয়ানী গ্রামের পাকার মাথার বুলু হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ফরাজগঞ্জ এলাকায় চোরের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতের অন্ধকার নেমে এলেই বাসিন্দাদের হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামের জয়নাল আরিন্দা বাড়ির বাসিন্দা মো. এমরান হোসেন রাকিবের বাইরের ঘরে থাকা দুটি শখের রাজহাঁস চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে নাজিম। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া দিয়ে হাঁসসহ তাকে হাতেনাতে আটক করেন।

 

আটকের পর উপস্থিত জনসম্মুখে যুবক নাজিম আর কখনো চুরি করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর বা পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে, শাস্তি হিসেবে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ার রায় দেন। একইসঙ্গে তাকে তওবা করিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

রাজহাঁসের মালিক মো. এমরান হোসেন রাকিব বলেন, ‘রাজহাঁস দুটি আমার ও পরিবারের অনেক শখের ছিল। ঘর থেকে অত্যন্ত কৌশলে হাঁসগুলো চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের লোকজন তাকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে। পরে আমি ডাকচিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার হাঁস দুটি শনাক্ত করি। চুরির দায়ে তাকে কোনো মারধর করা হয়নি; বরং সংশোধন হওয়ার সুযোগ দিতে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরাজগঞ্জ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) আবু তাহের জানান, হাঁস চুরির অপরাধে ওই যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আগেও চুরির অভিযোগ রয়েছে।

 

এ বিষয়ে লালমোহন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, ‘থানায় এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কিছু জানায়নি। রাতে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে প্রতি আমাদের পুলিশের চারটি টিম মাঠে কাজ করছে এবং আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

চুরির দায়ে যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজের শাস্তি

পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকায় নিজামীপুত্র জামায়াতে ইসলামীর এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের ইমামতিতে জুমার নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার জামাতের ঠিক আগ মুহূর্তে পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদের ভেতরেই এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জামায়াতের ইসলামীর প্রয়াত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ও সাঁথিয়া আসনের (পাবনা- ১) সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত শুক্রবার সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে চান। তখন বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বাধার মুখে পড়েন। আজ তিনি নামাজ পড়াতে এলে খুতবা শুরুর সময় মসজিদে উপস্থিত বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেন।

 

এসময় মসজিদের ভেতরেই এমপির সমর্থক ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতে জুমার নামাজ শেষ হয়।

 

সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. করিম বলেন, ‘দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য জামায়াত এমপি গত শুক্রবারেও নামাজ পড়াতে চাইলে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে পারেননি। আজ আবার ক্ষমতা দেখাতে লোকজন নিয়ে দলবলে এসেছিলেন। এসে ইমাম সাহেবের থেকে হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে মিনিট দশেক বক্তব্য দেন। কেউ কিছু বলেননি। পরে তিনি খুতবা পাঠ করবেন ও নামাজ পড়াবেন বলে ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা আপত্তি করেন। এসময় জামায়াত-শিবির ও এনসিপিকর্মীরা ধমকানো, ধাক্কাধাক্কি ও কিল-ঘুসি দিতে শুরু করে। এরপর সবাই প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।’

 

অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এমপি সাহেব নিজে ইচ্ছা করে ক্ষমতা দেখাতে আজ জুমার মতো পবিত্র দিনে ঝামেলাটা করলেন।’

 

তবে পাল্টা অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি বলেন, ‘আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে বা ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে নামাজ পড়াতে যাইনি। স্থানীয়দের দাবির মুখে গিয়েছি। গত জুমাতেও তারা দাবি জানালে সেখানকার বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঝামেলা করবে জেনে যাওয়া হয়নি। আজ কোনো ঝামেলা হবে না জানিয়ে স্থানীয়রা আমাকে আমন্ত্রণ জানালে সেখানে যাই। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঝামেলা শুরু করে।’ ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঝামেলাটি তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে করেছেন। গোপীনাথপুর বাসিন্দা বিএনপি নেতা করিম, সেক্রেটারি সিরাজসহ ওই এলাকার বাসিন্দা নয় এমন বহু নেতাকর্মী তারা নিয়ে এসে এই ঝামেলা করেন। আমাদের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মারধর করেন। নামাজ পরে আমাদের এক কর্মীর দোকানে আক্রমণ করে লুটপাট ও মারধর করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।’

জুমার নামাজে এমপির ইমামতি কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের হাতাহাতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

এদিকে পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে এক গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।’

 

পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বলে দিছি, বুঝে নেন।’

 

অন্যদিকে সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ পরবর্তী এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন শুক্রবার বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে (পূর্ব ব্লক, লেভেল-১) অনুষ্ঠিত হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ উপস্থিত থাকবেন এবং সার্বিক বিষয়ে কথা বলবেন।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগ

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ভাড়াবাসায় ওঠেন এক তরুণ ও তরুণী। একসঙ্গে থাকার ১২ দিনের মাথায় বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় ওই বাড়িতেই প্রেমিকাকে হত্যা করে পালান তরুণ।

 

গত ১৩ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার একটি ভাড়াবাসা থেকে ২৩ বছর বয়সী সাদিয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

 

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে নেমে ১০ দিনের মাথায় অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং হত্যার পেছনের কারণ উদ্ঘাটনের তথ্য জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সাইনবোর্ড এলাকায় পিবিআইয়ের জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির পরিদর্শক মিন্টু কুমার।

 

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্বামী পরিচয় দেওয়া আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানকে। ২৫ বছর বয়সী আরিয়ান পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার প্রয়াত আলতাফ হাওলাদারের ছেলে।

 

তাকে গত ২১ জুলাই বিকেলে কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরদিন আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন বলে জানান পিবিআই পরিদর্শক মিন্টু কুমার।

 

এর আগে ১৬ জুলাই রাতে সাদিয়ার সদ্য প্রাক্তন স্বামী, ঢাকার বিবি বাগিচা রোড এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে মো. ইব্রাহিমকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়।

 

ভুক্তভোগী সাদিয়া আক্তার পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামের ইউসুফ মোল্লার মেয়ে। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

 

মামলার এজাহার ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে মিন্টু কুমার বলেন, নিহত তরুণী তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর ইব্রাহিমকে বিয়ে করেন। কিন্তু ইব্রাহিম আগে আরও একটি বিয়ে করেছেন এবং ওই সংসারে সন্তানও রয়েছে—এ তথ্য জানতে পারার পর সাদিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সাদিয়ারও আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। পরে তিনি আরিয়ানের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং সম্প্রতি ইব্রাহিমকে তালাক দিয়ে আলাদাভাবে থাকতে শুরু করেন।

 

পিবিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১ জুলাই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বাসা ভাড়া নেন সাদিয়া ও আরিয়ান। আরিয়ানের ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। গত ১২ জুলাই রাতে সাদিয়া তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আরিয়ান গলাটিপে শ্বাসরোধ করে সাদিয়াকে হত্যা করেন। পরে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যান।

 

মরদেহ উদ্ধারের পর ১৫ জুলাই সাদিয়ার বড় ভাই রিয়াজ মোল্লা তাঁর সদ্য প্রাক্তন স্বামী ইব্রাহিমকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই। তদন্তের শুরুতে ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডে তাঁর দেওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় পরে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পিবিআই কর্মকর্তা মিন্টু কুমার।

 

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের সময় আরিয়ানের কাছ থেকে সাদিয়ার মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। নিহতের ছয় বছর বয়সী কন্যাও জানিয়েছে, তাঁদের বাসায় আরিয়ানের নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল। এ ছাড়া এলাকার সিসিটিভি ফুটেজেও আরিয়ানের যাতায়াতের প্রমাণ মিলেছে।

 

এ হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

‘বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় প্রেমিকাকে খুন করে পালান তরুণ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটির খবরে বলা হয়েছে, চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার পর তার কাছে সই করা পদত্যাগপত্র জমা দেবেন রাষ্ট্রপতি। এদিকে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই স্পিকারের শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

রয়টার্স বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবারই পদত্যাগ করবেন। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনটি সূত্র এ তথ্য দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলমও রয়টার্সকে বলেন, স্পিকার থাইল্যান্ড থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র দেবেন।

 

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর হয় স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে। সে কারণেই স্পিকারের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চিকিৎসার জন্য ১৯ জুলাই ব্যাংকক যাওয়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরতে পারেন।

 

রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন। একটি সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার তিনি বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিদায়ের প্রস্তুতির কথাও বলেছেন। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টাও সাড়া মেলেনি।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রপতিকে সরে দাঁড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে। এর কয়েক দিন আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব অবশ্য পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

 

বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের সঙ্গে ওই বৈঠকের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে সরকার-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, পদত্যাগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে সম্প্রতি বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো পদক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে সেই সুযোগ তার রয়েছে, তবে এ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে কিছু বলা হয়নি।

 

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

 

এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার কারণে এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে সম্ভাব্য উত্তরসূরির প্রশ্নও। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। দলটির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এ বিষয়ে শীর্ষ পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে, যদিও জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না।

 

এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা একজন জ্যেষ্ঠ সচিব এবং একজন সাবেক সচিবের নামও ঘুরছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব নাম নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

 

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ৭৫ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রপতির পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল।

 

রয়টার্স আরও বলেছে, গত নভেম্বর যুদ্ধাপরাধ আদালত শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান দমন অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার কথা জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ, আর দলটির বহু নেতা-কর্মী কারাগারে আছেন বা আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

 

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের প্রতিক্রিয়াও এসেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামালপুরে এক কর্মসূচিতে পদত্যাগ নয়, গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তবে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো প্রকাশিত হয়নি।

 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক হলেও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পদটির গুরুত্ব নতুন করে সামনে আসে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর নির্বাচিত রাষ্ট্রীয় পদে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে মো. সাহাবুদ্দিন ছিলেন সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের সাংবিধানিক কর্মকর্তা। সে কারণে তার সম্ভাব্য পদত্যাগকে শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। স্পিকার দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতি সত্যিই পদত্যাগপত্র জমা দিলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি বড় পরিবর্তন ঘটবে।

স্পিকার ফিরলেই পদত্যাগপত্র দেবেন রাষ্ট্রপতি, জানিয়ে দিয়েছেন বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদেরও

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বিএলবাড়ী ইউনিয়নের দেওভোগ-দহপাড়া গ্রামে ১ কোটি ৬ লাখ টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত একটি গার্ডার ব্রিজ (সেতু) কোনো কাজে আসছে না। কাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় বাধ্য বাঁশের সাঁকো দিয়ে সেতুতে উঠতে হয় স্থানীয়দের।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির পূর্ব পাশে দহপাড়া জামে মসজিদ এবং পশ্চিম পাশে দহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও মুসুল্লিসহ কয়েক হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। তবে এপ্রোচ সড়ক ও গার্ডওয়ালের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ঠিকাদার কাজের সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে কাজ শুরু করেন। বর্ধিত ওই মেয়াদের কাজ শেষের সময় ছিল ২০২৬ সালের ৩০ জুন। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়কের কাজ এখনও শেষ করা হয়নি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল মান্নান প্রামাণিক বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেতুটি এভাবে পড়ে আছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় আমরা বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। ছোট ছোট স্কুলশিক্ষার্থীরাও একইভাবে পারাপার হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতু নির্মাণের সময় নিজের এক কাঠারও বেশি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

খালের মাঝে একা দাঁড়িয়ে কোটি টাকার সেতু

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন না। তিনি দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণ, ‘তিন শূন্যের বিশ্ব’ গঠনের ভাবনা বাস্তবায়ন এবং বিশ্বজুড়ে সামাজিক ব্যবসার প্রসারে কাজ চালিয়ে যাবেন।

 

বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

 

পোস্টে তিনি লেখেন, “একটি বিষয় নিশ্চিত, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন না। তিনি দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই, ‘তিন শূন্যের বিশ্ব’ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসা সম্প্রসারণে তাঁর চলমান কাজেই নিবেদিত থাকবেন।”

ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কিনা, জানালেন সাবেক প্রেসসচিব

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d