
সিলেটের হবিগঞ্জের পর এবার গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িতে হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিপি নেত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।
এক ফেসবুক পোস্টে ডা. মাহমুদা মিতু অভিযোগ করেন, শহীদ পরিবারের সাথে প্রোগ্রাম করে ফেরার পথে সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবারও ভয়াবহ হামলা করলো বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়িতে আমি, সার্জিস এবং অন্যান্য কয়েকজন ছিলাম।
মিতু বলছেন, এরা আসলে মেরে ফেলার জন্য চেষ্টা করছে। আমাদের গাড়ির ডান পাশের, পিছনের গ্লাসগুলো গুড়ো গুড়ো করে ফেলছে। পুলিশ নির্বিকার হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। তারেক রহমানের কাছে জবাব চাওয়া যাবে না তাতে আবার নাকি বেয়াদবি হবে।
ডা. মাহমুদা মিতু ফেসবুক পোস্টে দুটি ছবি পোস্ট করেছেন। ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে গাড়ির পেছনের কাচ ভাঙা।
এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা হয়।
ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা এ হামলা চালান। হামলার মুখে সারজিস আলম সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। তখন প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেছেন তিনজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি।
কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আয়শা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদর উপজেলার মো. হাসমত আলী।
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র পেয়ে তাঁরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাঁদের জন্য দিনটি ছিল নতুন কর্মজীবনের পাশাপাশি নতুন স্বপ্নেরও সূচনা।
আয়শা আক্তার ও নীলা খাতুন দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা নীলা খাতুন পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তাঁকে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আয়শা আক্তারও পা দিয়ে লিখে সম্পন্ন করেন স্নাতকোত্তর। হাত না থাকায় মুখ দিয়ে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন তিনি। তাঁকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবন্ধী তিন ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলাল। নিয়োগপত্র প্রদানের পরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পেরে প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অব্যয়িত ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে কুর্শা ইউনিয়নের সিঙ্গামারি দোলায় চার দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং হারাগাছ ইউনিয়নের ধুমনদীতে তিন দশমিক ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। গত ১২ মে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের কাজ ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও সময় স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ধুমনদী খালে ৭৫ শতাংশ এবং সিঙ্গামারি দোলায় ৪১ দশমিক ৯১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে খননকাজ, শ্রমিকের মজুরি, বৃক্ষরোপণ, পরিবহন ও অন্যান্য যাবতীয় ব্যয় পরিশোধের পর অব্যয়িত ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।
এদিকে প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকা খাল পুরোপুরি পুনঃখনন করা হলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পেত এবং কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ত।
কুর্শা ইউনিয়নের সিঙ্গামারি এলাকার কৃষক করিম মিয়া বলেন, ‘খাল খনন দেখি মনে করছিনো এবার হামার দুঃখের দিন শেষ। আর ফসল বন্যাত ডুববার নয়। কিন্তু কাজ শেষ না করিয়ায় টাকা ফেরত দেইল। হামার দুঃখ কষ্ট কেউ দেখে নাহ।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেজবাহুর রহমান বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় যে ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৭ টাকা ব্যয় হয়নি, তা স্বচ্ছতার স্বার্থে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এজন্যই নিয়ম অনুযায়ী বাকি অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ ও নতুন করে বরাদ্দ পেলে পরবর্তী অর্থবছরের শুকনো মৌসুমে খালের বাকি অংশ খননের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

১৪৪ ধারা জারির মধ্যেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর হবিগঞ্জে প্রবেশের পথে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে। এসময় এনসিপি নেতাদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়।
বহরে আছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীনসহ আরও অনেকে।
আজ বুধবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের প্রবেশপথ সাতগাঁও এলাকায় পুলিশ তাদের আটকে দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও এনসিপি নেতাদের মধ্যে বাদানুবাদ চলছে। একই সময়ে দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পৌর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শহরের অন্তত ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বুধবার বিকাল ৪টায় জেলা এনসিপির সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন আগামীর সময়কে জানান, হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশের কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ পথে বাধা দিয়ে তাদের আটকে দিয়েছে।
অন্যদিকে ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, ১৪৪ ধারার কারণে কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে না। তবে নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করছেন।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। বুধবার সকাল থেকেই টাউন হল, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সদর মডেল থানা, আদালত এলাকা, টাউন হল রোড, চৌধুরীবাজার, কালীবাড়ি রোড, রাজনগর ও শায়েস্তানগরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শতাধিক পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টাউন হলের সামনে পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ নেতারা সোনালী ব্যাংকের হবিগঞ্জ প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে পৌঁছে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
হামলার জন্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে সারজিস আলম দাবি করেন, হামলায় একজন কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়েছে, জেলা এনসিপির নেতা মুবিনের হাত ভেঙেছে এবং তিনি নিজেও আঙুলে আঘাত পেয়েছেন।

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা ছিলেন নেইমার জুনিয়র। জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া এই তারকা এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন। কোপা সুদামেরিকানায় সান্তোসের জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ব্রাজিলের জার্সিতে আর মাঠে নামার ইচ্ছা নেই।
ভেনেজুয়েলার ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নেইমার বলেন, জাতীয় দলের হয়ে তার পথচলা শেষ হয়েছে। দেশের জার্সির জন্য নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নেইমারের ভাষায়, ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি। তবে এখন তিনি মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। কিন্তু শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় দলকে। সেই ম্যাচে শেষদিকে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন নেইমার। পরে জানা যায়, সেটিই ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০১০ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলে অভিষেক হয় নেইমারের। এরপর ১৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি করেছেন ৮০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৯টি গোল। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করলেও বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল তার।
জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবলে নিজের যাত্রা চালিয়ে যেতে চান নেইমার। ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে সান্তোসের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ের ফলে কোপা সুদামেরিকানার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলের ক্লাবটি। পরবর্তী পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইকুয়েডরের মাকারা।
এদিকে সম্প্রতি সান্তোস ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে নেইমারের আচরণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেটিও নাকচ করেছেন এই ফরোয়ার্ড। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি তরুণ দুই ফুটবলার গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও জোয়াও আনানিয়াসের সমালোচনা করেন এবং তাদের নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন।
তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। তার দাবি, ম্যাচের পর তিনি শুধু দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেছেন এবং সহজে পয়েন্ট হারানো নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। অধিনায়ক হিসেবে দলের ভুলগুলো তুলে ধরা নিজের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই ধরনের বক্তব্য অন্য জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়রাও দিয়েছিলেন বলে জানান ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া চিনিতে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা চিনির ৯৫ শতাংশ নমুনাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। প্রতি কেজি চিনিতে ২১০ থেকে ৫০৮টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে, যা প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।
গবেষণাটি সম্প্রতি Journal of Food Composition and Analysis–এ প্রকাশিত হয়েছে। এটি পরিচালনা করেছেন গবেষক সাদিয়া আফরিন, নায়ন হোসেন এবং মোস্তাফিজুর রহমান। গবেষণার জন্য ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার থেকে সংগ্রহ করা সাত ধরনের বাণিজ্যিক চিনি—ব্র্যান্ডেড ও খোলা উভয় ধরনের—পরীক্ষা করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ব্র্যান্ডেড চিনিতে গড়ে প্রতি কেজিতে ৩২২টি এবং খোলা বা নন-ব্র্যান্ডেড চিনিতে গড়ে ৪০৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। যদিও দুই ধরনের চিনির মধ্যে পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য নয়, তবু খোলা চিনিতে দূষণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল।
পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া কণাগুলোর আকার ছিল প্রায় ১২ মাইক্রোমিটার থেকে ৩ দশমিক ১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত। এর মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ ছিল তন্তু (ফাইবার), ২১ শতাংশ খণ্ড (ফ্র্যাগমেন্ট), ১১ শতাংশ পাতলা স্তর (ফিল্ম) এবং ৫ শতাংশ গোলাকার কণা। গবেষকদের মতে, এসব কণা মূলত প্লাস্টিকের প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা ক্ষয়ে যাওয়া প্লাস্টিক থেকে আসতে পারে।
রাসায়নিক বিশ্লেষণে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক পলিমারের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে অ্যাক্রাইলোনাইট্রাইল বিউটাডিয়েন স্টাইরিন (এবিএস), পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি), পলিইথিলিন টেরেফথ্যালেট (পিইটি), পলিটেট্রাফ্লুরোইথিলিন (পিটিএফই), উচ্চ ঘনত্বের পলিইথিলিন (এইচডিপিই) এবং নাইলনসহ একাধিক পলিমার শনাক্ত করা হয়েছে।
গবেষণায় মানুষের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শুধু চিনি থেকেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন গড়ে প্রতি কেজি শারীরিক ওজনের বিপরীতে ০.২১৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারেন।
গবেষকদের ভাষ্য, বর্তমান হিসাবে তুলনামূলক কম হলেও চিনি মানুষের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের একটি ধারাবাহিক উৎস হিসেবে কাজ করছে। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যপ্রভাব সম্পর্কে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে চিনি উৎপাদন ও পরিশোধনের বিভিন্ন ধাপে প্লাস্টিকভিত্তিক ফিল্টার, পাইপ, বস্তা, কনভেয়ার এবং প্যাকেজিং উপকরণ ব্যবহারের কারণে দূষণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সময় বাতাসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিকও চিনিতে মিশতে পারে।
তাদের মতে, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে স্বাস্থ্যসম্মত মানদণ্ড জোরদার করা এবং এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা চালানো জরুরি।

সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টায় নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মাদক আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।
বিজিবি জানিয়েছে, ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের বর্তমান বাজারমূল্য ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৫১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৭ টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪১ জনকে আটক করা হয়। জব্দ হওয়া পণ্যের মধ্যে প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ছিল।
ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ১৫ হাজার ৭৮ বোতল ফেনসিডিল, ১৮ হাজার ৬৫৪ পিস ইয়াবা, ১ কেজি হেরোইন, ২ কেজি ৪০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১৪ বোতল এলএসডি, বিভিন্ন ধরনের মদ, ২১ লাখ ৭৬ হাজার ২৫৭ পিস অবৈধ ওষুধ, ৭৫ হাজার ৭৬৬ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি, ৩ দশমিক ৮১ কেজি গাঁজা এবং বিপুল পরিমাণ মাদকজাতীয় ট্যাবলেট ও বড়ি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। তবে মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি।
নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খুলনা সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, র্যাব-৬, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কাস্টমস, বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস এবং কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


Leave a Reply