কক্সবাজারে বাস থেকে ২৪ হাজার ইয়াবা জব্দ, চালক-হেলপার আটক - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
কক্সবাজারে বাস থেকে ২৪ হাজার ইয়াবা জব্দ, চালক-হেলপার আটক

কক্সবাজারে বাস থেকে ২৪ হাজার ইয়াবা জব্দ, চালক-হেলপার আটক

কক্সবাজারে যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ২৪ হাজার ইয়াবা বড়ি জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাসটির চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত ‘পালং স্পেশাল সার্ভিস’ নামের বাসটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

 

রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর থানাধীন ঝিলংজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লিংক রোড এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

 

আটক ব্যক্তিরা হলেন বাসের চালক আকতার হোসেন (২৩), তিনি রামুর খুনিয়াপালং এলাকার বাসিন্দা এবং হেলপার ইয়াছিন আরাফাত (১৩), সে উখিয়ার টিএনটি কলেজ এলাকার আমগাছতলার বাসিন্দা।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া থেকে কক্সবাজার সদরে আসা ‘পালং স্পেশাল সার্ভিস’-এর একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। পরে বাসের চালক ও হেলপারের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ির পিছনের সিটে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ২৪ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

 

অভিযানের সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত পালং স্পেশাল সার্ভিস নামের বাসটি জব্দ তালিকাভুক্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

 

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশ।


রাজবাড়ী শহরে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে জাকিয়া সুলতানা নামে এক নারী উদ্যোক্তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ জাকিয়া সুলতানাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়।

 

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ওই নারীকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে এক যুবক এসে তাকে লাথি মারেন। পরে আরও কয়েক যুবক এগিয়ে এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও লাথি মারতে থাকেন।

 

ভুক্তভোগী জাকিয়া রাজবাড়ী কাপড় বাজারের ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক কর্মচারী বৃষ্টি হিসাব প্রদান না করে অন্য একটি দোকানে চলে গেলে বিষয়টি নিয়ে রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর থেকেই তাকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

 

অন্যদিকে, রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজীর আহমেদ জাকিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা দাবি করেন, জাকিয়া ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মিথ্যা, নানা রকম অভিযোগ তুলেছেন।

 

শনিবার তিনি কয়েকশ মানুষ নিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর চড়াও হলে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরে তারা সবাই চলেও যায়, কারা লাথি মেরেছে তা আমি জানি না, পরে বিষয়টি জেনেছি।

 

জাকিয়া সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, শনিবার যখন পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন পেছন থেকে অজ্ঞাত কয়েক যুবক আমার ওপর হামলা চালায়। যারা লাথি মেরেছে, তাদের কাউকে আমি চিনি না। তবে আমি তাদের খোঁজার চেষ্টা করছি। আপনাকে যারা লাথি মেরেছে তাদের বিরুদ্ধে আপনি আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেবেন কিনা-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করব। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত কর্মচারী বৃষ্টি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ব্যবসাসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে বাজারের ব্যবসায়ীরা জাকিয়া সুলতানাকে ঘিরে ধরেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

রাজবাড়ীতে পুলিশের সামনে নারী উদ্যোক্তাকে লাথি

পরিবহন নেই, চিকিৎসাসেবাও নেই। অথচ এসব খাতসহ সরকারি পরিপত্রে অনুমোদন না থাকা বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অনুমোদিত কিছু খাতেও একাধিকবার অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ৬৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে হিসাব বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

 

সরকারি পরিপত্র উপেক্ষা করে পরিবহন, আইসিটি, চিকিৎসা, অতিথি শিক্ষক, উন্নয়ন তহবিল, পরিচয়পত্র, ব্যবস্থাপনা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি এবং নিরাপত্তা ও কর্মচারী খাতে এসব অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিলের ৩৭.০০.০০০০.১৫১.০৯.০০৩.২৩.১২৩ নম্বর স্মারকে ‘সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিকট হতে আদায়কৃত অর্থের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত সংশোধিত নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হয়। ওই পরিপত্রের তফসিল ‘খ’ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কলেজটিতে অনুমোদন না থাকা কয়েকটি খাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত কিছু খাতেও একাধিকবার টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

 

কলেজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণিতে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন ২ হাজার ১৪৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে কলা ও বাণিজ্য বিভাগের ১ হাজার ৪৬৩ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগের ৬৮৫ জন। সম্মান, ডিগ্রি, মাস্টার্স ও প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স মিলিয়ে এইচএসসি বাদে কলেজটিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ২

 

২২ জন।

পরিবহন নেই, তবু ২২ লাখ টাকা

অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে পরিবহন ফি নিয়ে। পরিপত্র অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা থাকলেই কেবল এ খাতে অর্থ আদায় করা যাবে। কিন্তু কলেজে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কোনো পরিবহন ব্যবস্থা না থাকার পরও তাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এ হিসাবে কলেজের প্রায় ১১ হাজার ২২২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে প্রায় ২২ লাখ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা পরিবহন ফি আদায় করা হচ্ছে বলে হিসাব পাওয়া গেছে।

 

অনুমোদন নেই, তবুও আইসিটি ফি

সরকারি পরিপত্রে ‘আইসিটি ফি’ নামে কোনো অনুমোদিত খাত না থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১২০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন বর্ষ ও কোর্স মিলিয়ে এ খাতে বছরে প্রায় ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাস নেই, তবু পরিবহন ফি, আছে ‘অতিথি শিক্ষক ফি’—বছরে অতিরিক্ত ৬৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

জীবন রক্ষায় যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ পাহাড় সমান। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার, অপারেশনের পর শরীরে সার্জিক্যাল রুমাল কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জাম রেখে দেয়ার। আবার কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ রোগীকে গুমের হুমকি দেয়ার।

 

এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও চিকিৎসকের পেশাগত অসদাচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অন্যতম দায়িত্ব বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)। তবে প্রশ্ন উঠছে, অভিযোগ আসলেই কি প্রতিকার মেলে?

 

এ বিষয়ে বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত হোসেন বলেন, এ বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।

 

বিএমডিসির কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তা কয়েক ধাপের মধ্য দিয়ে তদন্ত করা হয়। সব মিলিয়ে লেগে যায় মাসের ঘর থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত।

 

তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের আইন এবং প্রবিধানে আমাকে যেভাবে বলে দেয়া হয়েছে, এর বাইরে গিয়ে আমি কোনো বিচার করতে পারব না। আইনি কাঠামোর মধ্যে না থাকলে, যার বিরুদ্ধে আপনি বিচার করবেন, সে কোর্টে গিয়ে আপনার বিরুদ্ধে মামলা করবে। বিএমডিসির বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার দেয়া আছে আইনে।

 

২০২৬ সালের পর থেকে বিএমডিসিতে মোট অভিযোগ এসেছে ২১৫টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১১২টির। বিভিন্ন ধাপে শাস্তি দেয়া হয়েছে ৩৯ জনকে। আর তদন্ত চলছে ১০৩টি অভিযোগ নিয়ে।

 

দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ১১২। এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক দেড় লাখ আর ডেন্টাল চিকিৎসক ১৬ হাজারের বেশি। সবমিলিয়ে এত সংখ্যক ডাক্তারকে তদারকি করার জন্য বিএমডিসিতে কাজ করছেন মাত্র ৩০ জন। অথচ কর্মভার আর কাজের পরিধি বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ গুণ।

 

তবে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই আইন দ্বারা আপনি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। যার কোনো ক্ষমতা নেই, মানুষ কিন্তু বিএমডিসির কাছে আর যাচ্ছে না। হতাশায় ফিরে যাচ্ছে। আমরা এই আইনটাকে যুগোপযোগী করার জন্য কিন্তু চেষ্টা করছি। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের বেশ কয়েকটি মিটিং হয়েছে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যখাতের এসব অনিয়ম আর বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা এত সহজ নয়।

 

সব মিলিয়ে বড় পরিবর্তন আনতে পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ১৭ বছরের জঞ্জাল স্বাস্থ্যকে আসলে একটা দুর্বল খাতে পরিণত করেছে। আমি আপনাদের মেনেই বলতেছি, একটু টাইম লাগবে। বাট ইট ইমপ্রুভ। যেহেতু আমাদের সৎ ইচ্ছা আছে, ইমপ্রুভ হবে ইনশাআল্লাহ।

 

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে পড়েন অভিযোগকারী। কারণ অভিযোগ তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত চিকিৎসক তার পেশায় বহাল থাকেন। আর ভুক্তভোগী পরিবারকে অপেক্ষা করতে হয় সিদ্ধান্তের জন্য। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই যদি দীর্ঘ সময় চলে যায়, সেই সময়ের ক্ষতিপূরণ কে দেবে?

আইনি দুর্বলতায় হচ্ছে না অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ৭৮ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ভোলার বাড়ির মৃত নূর আহমদের ছেলে মোহাম্মদ হাসান বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় মামলাটি করেন।

 

মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমানকে (৩২) মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে।

 

গ্রেফতার দুজন হলেন- চন্দনাইশ উপজেলার বরকল ইউনিয়নের কানাইমাদারি এলাকার সরওয়ার কামালের ছেলে মো. সাইমন ইসলাম ওরফে অভি (২৩) এবং আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের আমান উল্ল্যাহ পাড়া এলাকার শামসুল হুদার ছেলে আব্দুর রহিম উদ্দীন (৪২)।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোরে আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা-পিএবি সড়কে ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। এ সময় আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার উদ্দেশে উসকানিমূলক স্লোগান দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর ষড়যন্ত্রে আসামিরা লিপ্ত ছিলেন।

 

মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের একান্ত সহকারী সচিব (পিএস) রিদোয়ানুল করিম চৌধুরী সায়েম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহজাদা মহিউদ্দিন, রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিন শরীফ, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক শওকত ওসমান এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাসহ মোট ৭৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আনোয়ারায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের প্রায় এক মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

 

আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ফেসবুকে প্রচারের পর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ মিছিলের ভিডিও দেখে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর পিএসসহ ৭৮ জনের নামে মামলা

আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকার পতন করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তবে জনগণ তাদের সেই স্বপ্ন পুরণ করতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মুরারীদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

 

রাশেদ খাঁন বলেন, সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম অভিমূখে জামায়াত-এনসিপির লংমার্চের ঘোষণা ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ফেরার পথ তৈরি করছে। জামায়াতের এমপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার নাকি বিরোধীদলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের চেয়ে খারাপ আচরণ করছে’। এই বক্তব্যেকে ধিক্কার জানাই।

 

তিনি আরও বলেন, জামায়াত-এনসিপির এমপিরা সংসদে সরাকরি দলের এমপিদের মতো সুবিধা চাইছে। তারা কি সুবিধা পাচ্ছে না? জামায়াত ১৭ বছর তাদের কার্যালয়ের তালা খুলতে পারেনি।

আ. লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াত-এনসিপি সরকার পতন করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে: রাশেদ খাঁন

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে থাকা এক নারী আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।পলাতক আসামির নাম মিতু আক্তার। বৃহস্পতিবার সকালে থানা থেকে কৌশলে তিনি পালিয়ে যান।

 

পুলিশ বলছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হয়। আজই শেষ দিন ছিল। দুপুরে তাকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকালে কৌশলে গেটের তালা খুলে তিনি পালিয়ে যায়। নারী আসামিদের হ্যান্ডকাফ পরানো হয় না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আসামি থানা থেকে বের হয়ে গেছে।

 

তবে কীভাবে ওই আসামি থানা থেকে পালালেন এবং ওই সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

 

ডিএমপির ওয়ারি বিভাগের ডেমরা জোনের এডিসি মীর মুহসীন মাসুদ রানা বলেন, মিতু নামে এক নারী আসামিকে হত্যা মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। নারী আসামিদের হ্যান্ডকাফ পরানো হয় না। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওই নারী কৌশলে থানা থেকে পালিয়ে গেছে।

 

তিনি আরও বলেন, তিন দিনের রিমান্ড শেষে আজ মিতুকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যায়। তাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। আশা করছি, শিগগির তাকে আবারও গ্রেফতার করা সম্ভ

ব হবে।

 

যাত্রাবাড়ী থানা থেকে রিমান্ডের নারী আসামি উধাও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নীলফামারীতে ড্যাবের তিনদিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম

 

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও চারাগাছ বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে শহরের শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।

‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তুহিন বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড্যাবের এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম,জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, তুহিনের সহধর্মীনি তামান্না ইয়াসমিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুব-উর রহমান, ড্যাবের জেলা আহ্বায়ক ডা. সোহেলুর রহমান সোহেল, সদস্যসচিব ডা. রেদওয়ান জুবায়ের রিয়াদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ড্যাবের জেলা আহ্বায়ক ডা. সোহেলুর রহমান সোহেল জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নীলফামারী জেলা ড্যাবের উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে শহীদ জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করেন প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।

নীলফামারীতে ড্যাবের তিনদিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে

ডাকাত গ্রেপ্তারে সহযোগিতা, এবার ‘টার্গেট’ দুই বিএনপি নেতা

 

প্রাণনাশের হুমকি, অপপ্রচার ও উক্ত মামলাসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ; এসপির কাছে নিরাপত্তা দাবি

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষী হওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি, হয়রানি, অপপ্রচার এবং উক্ত মামলাসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কায় নিরাপত্তা চেয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির দুই নেতা মো. ইদ্রিস আলী ও মো. রওশন আলী।

 

আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, তারা কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা ও স্থানীয়ভাবে বিএনপির দায়িত্বশীল কর্মী। মো. ইদ্রিস আলী কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি এবং মো. রওশন আলী সংগঠনটির সদস্য ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।

 

আবেদনকারীদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার অংশ হিসেবে তারা বিভিন্ন সময়ে র‍্যাব ও পুলিশকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মামলায় তারা আইনানুগ সাক্ষী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর থেকেই একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ভয়ভীতি, প্রাণনাশের হুমকি, হয়রানি, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

 

আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ মার্চ ২০২৬ রাতে র‍্যাব-৬ পরিচালিত একটি অভিযানে ইয়ার আলী তরফদার নামে এক ব্যক্তিকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ওয়াকিটকি ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। আবেদনকারীদের দাবি, ওই অভিযানে জব্দতালিকা প্রস্তুত ও মামলা রুজুর সময় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেন এবং সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর প্রদান করেন।

 

এছাড়া গত ১২ জুন ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বিএনপি কার্যালয়ে বোমাবাজি ও নাশকতার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পরে ঘটনাস্থল থেকে আলামত জব্দে পুলিশকে সহযোগিতা করেন বলে দাবি করেন আবেদনকারীরা। এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় মামলা নং-১৩, তারিখ ১৩ জুন ২০২৬ দায়ের হয়। ওই মামলায় তারা প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আবেদনকারীদের অভিযোগ, এসব মামলায় সাক্ষী হওয়ার পর থেকেই মামলার আসামি ও তাদের সহযোগী-পৃষ্ঠপোষকদের পক্ষ থেকে মামলা তুলে নেওয়া এবং সাক্ষ্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য তাদের ওপর অব্যাহতভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

 

আবেদনে মো. তৌফিক আলম রায়হান, ‘টেমি’ মো. হাফিজুর রহমান (হাফিজ) এবং মো. তানভীর নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। আবেদনকারীরা তাদের বিরুদ্ধে অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

আবেদনকারীদের আরও দাবি, ইয়ার আলী, বাহার আলী, রেজাউল, রফিকুল ও বিল্লাল নামে কয়েকজন গ্রেপ্তারের পর তাদের অনুসারীদের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন কাল্পনিক মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

 

আবেদনে আরও বলা হয়, মো. তৌফিক আলম রায়হানের সঙ্গে দোকানঘর বিক্রয়কে কেন্দ্র করে আবেদনকারীদের আর্থিক বিরোধ রয়েছে। ওই দোকানঘর বেআইনিভাবে দখলে রেখে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দায়েরের অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেছেন।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আবেদনকারীরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষী হওয়ার কারণে তাদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা, ভয়ভীতি, হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া আবেদনে তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, হুমকিদাতা ও চক্রান্তকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা, নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা হলে যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিষয়ে তদন্তসহ মোট সাত দফা প্রতিকার দাবি করেছেন।

 

আবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, র‍্যাব সদর দপ্তর, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য:

আবেদনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের উত্থাপিত অভিযোগের প্রকৃততা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ডাকাত গ্রেপ্তারে সহযোগিতা, এবার ‘টার্গেট’ দুই বিএনপি নেতা!

রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানাকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা নিজেই মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমার ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে সোমবার বিকেলে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা দায়ের করেছি। আশা করছি, আমি এ ঘটনার ন্যায়বিচার পাব।রাজবাড়ী কাপড় বাজার এলাকায় ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে গত শনিবার জাকিয়া সুলতানাকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজনের সুরক্ষায় ওই নারীকে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে এক যুবক এসে তাকে লাথি মারছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য ও তথ্যের সৃষ্টি হয়।

 

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার দুপুরে দোকানপাট বন্ধ রেখে সমাবেশ করেছেন রাজবাড়ী কাপড় বাজারের ব্যবসায়ীরা। সমাবেশ থেকে শনিবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খণ্ডিত ভিডিও প্রকাশ করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ‘মিথ্যা গুজব’ ছড়ানোর তীব্র প্রতিবাদ জানান ব্যবসায়ীরা।

 

সমাবেশে রাজবাড়ী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজির আহমেদসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। কাজী বেনজির আহমেদ বলেন, অভ্যন্তরীণ সভার কারণেই ব্যবসায়ীরা সাময়িকভাবে দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন। শনিবারের ঘটনার পর আইনগতভাবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি।

 

তিনি আরও জানান, যে দুজন ব্যক্তি ওই নারীকে লাথি মেরেছেন, তাদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।

নারী উদ্যোক্তাকে লাথির ঘটনায় মামলা, শনাক্ত দুই

দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

 

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।

 

এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।

 

আবেদনে বলা হয়, ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২৭ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে দুদক জানতে পারে, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন।

 

অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

ফয়সাল করিম মাসুদ বর্তমানে ভারতে আটক রয়েছেন। গত ৮ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি ভারতের একটি কারাগারে

আটক আছেন।

হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল ভারতের কারাগারে, জানে না দুদক; দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রায় সাড়ে সাত বছর পর ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতে গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানকে সেই মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

 

সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেসানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, তৎকালীন ডাকসুর জিএস গোলাম রব্বানীর এমফিল ভর্তি একটি ‘নির্দিষ্ট প্রতারণার অভিযোগে’ বাতিল করা হয়েছিল। “যেহেতু তার ভর্তিই বাতিল হয়ে গেছে, তাই ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে তার প্রার্থিতাও বাতিল হয়েছে এবং ফল অবৈধ হয়ে গেছে। ফলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী রাশেদ খানকে সেই মেয়াদের জন্য এককভাবে জিএস পদে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।”

 

২০১৯ সালের ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে নুরুল হক নুর ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পেয়েছিলেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

 

সাধারণ সম্পাদক পদে গোলাম রব্বানী ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী ঘোষিত হন। রাশেদ খান পান ৬ হাজার ৬৩ ভোট।

 

গোলাম রব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এখন সেই নির্বাচনের ফলের ভিত্তিতে রাশেদ খানকে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছে।

পদ্মা সেতুর ঢালে বাস দুর্ঘটনা: ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত?

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালের উড়ালসড়ক (ফ্লাইওভার) থেকে একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত তিনজনসহ আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন।সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে থার্ড টার্মিনাল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাতে বিমানবাহিনীর সদস্যরা থার্ড টার্মিনাল এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তাঁদের বহনকারী পিকআপ ভ্যানটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টার্মিনালের দ্বিতীয় তলার ফ্লাইওভার থেকে নিচে ছিটকে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয় এবং বাকি চারজন আহত হন।

 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—ওয়ারেন্ট অফিসার মাহমুদ, কর্পোরাল পিয়াস এবং এলএসি জুবাইদুল।

 

এ ছাড়া দুর্ঘটনায় কর্পোরাল সিফাত (আবু সাঈদ), কর্পোরাল মাহবুব ও এলএসি আহাদ গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় সিনিয়র অফিসার আবুল খায়ের নামের আরেক কর্মকর্তা সামান্য আহত হন।

 

ঘটনার পরপরই দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করা হয়। আহত সদস্যদের তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা

হয়েছে।

 

শাহজালালে থার্ড টার্মিনালের ওপর থেকে পিকআপ পড়ে বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত, আহত ৪

মক্কা প্যাক্টের ক্ষেত্রে সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, সময় নিয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) নিজ মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘দেশের জন্য অমঙ্গল হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না সরকার।’

 

এর আগে, ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

 

বৈঠকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রাকে স্বাগত জানায় আইপিইউ। সংসদীয় গণতন্ত্রের উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংসদীয় কূটনীতি জোরদারের বিষয়েও আলোচনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

 

জানার, তরুণ সংসদের উপস্থিতিকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরামগুলোর সমর্থন আদায়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

মক্কা প্যাক্টে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

কক্সবাজারে যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ২৪ হাজার ইয়াবা বড়ি জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাসটির চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত ‘পালং স্পেশাল সার্ভিস’ নামের বাসটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

 

রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর থানাধীন ঝিলংজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লিংক রোড এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

 

আটক ব্যক্তিরা হলেন বাসের চালক আকতার হোসেন (২৩), তিনি রামুর খুনিয়াপালং এলাকার বাসিন্দা এবং হেলপার ইয়াছিন আরাফাত (১৩), সে উখিয়ার টিএনটি কলেজ এলাকার আমগাছতলার বাসিন্দা।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া থেকে কক্সবাজার সদরে আসা ‘পালং স্পেশাল সার্ভিস’-এর একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। পরে বাসের চালক ও হেলপারের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ির পিছনের সিটে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ২৪ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

 

অভিযানের সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত পালং স্পেশাল সার্ভিস নামের বাসটি জব্দ তালিকাভুক্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

 

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশ।

কক্সবাজারে বাস থেকে ২৪ হাজার ইয়াবা জব্দ, চালক-হেলপার আটক

জামালপুরের লাহিরীকান্দা এলাকায় বাস উল্টে ইজিবাইকের ওপর পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। আহতরা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের লাহিরীকান্দা ঈদগাহ মাঠ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজিব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সংঘর্ষ এড়াতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে ইজিবাইকের ওপর পড়ে যায়। এতে দুই যানবাহনের যাত্রীরা চাপা পড়েন।

 

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। তারা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। এ সময় আহত দুজনকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

দুর্ঘটনার পর জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

জামালপুরে ইজিবাইকের ওপর উল্টে পড়ল বাস, নিহত ৩

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণে সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলে তা এক মাস ধরে চলবে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াবে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরু হয়ে ১০ মার্চ পর্যন্ত চলবে। ফলে এ সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়।’

 

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়ে আসাই সরকারের মূল লক্ষ্য। দেশে সাধারণত বর্ষা বা বৃষ্টির মৌসুমে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এখন পরীক্ষাটিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

 

তিনি বলেন, ‘বিদেশে যেসব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যায়, তাদের ক্ষেত্রেও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সময়সূচির সঙ্গে বিষয়টি সমন্বয় করা হয়। সবকিছু বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসকে এইচএসসি পরীক্ষার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় মনে করা হচ্ছে। তবে রমজানের কারণে এবার ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

 

রমজানের আগে পরীক্ষা এগিয়ে আনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অনুরোধে পরীক্ষা এগিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেছে, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও সিলেবাস শেষ হলেও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা রিভিউ করার পর্যাপ্ত সুযোগ হচ্ছে না। এই রিভিউ প্রক্রিয়াও শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘রমজানের পরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সেটি আবার অনেকটা বিলম্বিত হয়ে যায়। রমজান একটি বাস্তবতা হওয়ায় এর সঙ্গে সময়সূচি সমন্বয় করতে হবে। আবার জানুয়ারিতে পরীক্ষা নিলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা রিভিউয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবে না।’

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সবকিছু বিবেচনা করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরীক্ষা এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু রমজানের কারণে এবার তা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার শিক্ষার্থীদের কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় না। তাদের পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে, বিশেষ করে পড়াশোনা রিভিউয়ের জন্য। এ কারণে সব দিক বিবেচনা করে আবারও সিদ্ধান্ত হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষা রমজানের পরেই নেওয়া হবে।’

 

রমজানের আগে পরীক্ষা নেওয়ার দাবির বিষয়ে ড. মিলন বলেন, ‘কেউ কেউ রমজানের আগেই পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হচ্ছে না।’

 

এইচএসসি পরীক্ষা আরও পেছানোর আশঙ্কা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপাতত পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না। জাতীয় পর্যায়ে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি না হলে বর্তমানে পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ নেই। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগেই তাদের পরীক্ষার বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তারা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

 

এসময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

রোজার পরেই এসএসসি পরীক্ষা, আপাতত পেছানোর পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d