
ডাকাত গ্রেপ্তারে সহযোগিতা, এবার ‘টার্গেট’ দুই বিএনপি নেতা
প্রাণনাশের হুমকি, অপপ্রচার ও উক্ত মামলাসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ; এসপির কাছে নিরাপত্তা দাবি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষী হওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি, হয়রানি, অপপ্রচার এবং উক্ত মামলাসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কায় নিরাপত্তা চেয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির দুই নেতা মো. ইদ্রিস আলী ও মো. রওশন আলী।
আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, তারা কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা ও স্থানীয়ভাবে বিএনপির দায়িত্বশীল কর্মী। মো. ইদ্রিস আলী কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি এবং মো. রওশন আলী সংগঠনটির সদস্য ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।
আবেদনকারীদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার অংশ হিসেবে তারা বিভিন্ন সময়ে র্যাব ও পুলিশকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মামলায় তারা আইনানুগ সাক্ষী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর থেকেই একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ভয়ভীতি, প্রাণনাশের হুমকি, হয়রানি, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ মার্চ ২০২৬ রাতে র্যাব-৬ পরিচালিত একটি অভিযানে ইয়ার আলী তরফদার নামে এক ব্যক্তিকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ওয়াকিটকি ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। আবেদনকারীদের দাবি, ওই অভিযানে জব্দতালিকা প্রস্তুত ও মামলা রুজুর সময় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেন এবং সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর প্রদান করেন।
এছাড়া গত ১২ জুন ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বিএনপি কার্যালয়ে বোমাবাজি ও নাশকতার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পরে ঘটনাস্থল থেকে আলামত জব্দে পুলিশকে সহযোগিতা করেন বলে দাবি করেন আবেদনকারীরা। এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় মামলা নং-১৩, তারিখ ১৩ জুন ২০২৬ দায়ের হয়। ওই মামলায় তারা প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, এসব মামলায় সাক্ষী হওয়ার পর থেকেই মামলার আসামি ও তাদের সহযোগী-পৃষ্ঠপোষকদের পক্ষ থেকে মামলা তুলে নেওয়া এবং সাক্ষ্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য তাদের ওপর অব্যাহতভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
আবেদনে মো. তৌফিক আলম রায়হান, ‘টেমি’ মো. হাফিজুর রহমান (হাফিজ) এবং মো. তানভীর নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। আবেদনকারীরা তাদের বিরুদ্ধে অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আবেদনকারীদের আরও দাবি, ইয়ার আলী, বাহার আলী, রেজাউল, রফিকুল ও বিল্লাল নামে কয়েকজন গ্রেপ্তারের পর তাদের অনুসারীদের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন কাল্পনিক মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
আবেদনে আরও বলা হয়, মো. তৌফিক আলম রায়হানের সঙ্গে দোকানঘর বিক্রয়কে কেন্দ্র করে আবেদনকারীদের আর্থিক বিরোধ রয়েছে। ওই দোকানঘর বেআইনিভাবে দখলে রেখে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দায়েরের অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আবেদনকারীরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষী হওয়ার কারণে তাদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা, ভয়ভীতি, হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া আবেদনে তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, হুমকিদাতা ও চক্রান্তকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা, নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা হলে যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিষয়ে তদন্তসহ মোট সাত দফা প্রতিকার দাবি করেছেন।
আবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, র্যাব সদর দপ্তর, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য:
আবেদনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের উত্থাপিত অভিযোগের প্রকৃততা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
Leave a Reply