কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যেদিন ফিরে এসেছে জানালেন মাহফুজ আলম - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যেদিন ফিরে এসেছে জানালেন মাহফুজ আলম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যেদিন ফিরে এসেছে জানালেন মাহফুজ আলম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যে সব কারণে রাজনীতিতে ফিরে এসেছে, তার একটি তালিকা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার (১৯ মে) তার ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তালিকা দেন।

 

পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, আওয়ামী লীগ ব্যাক করেছে, দেখো নাই? লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ।

 

তিনি লেখেন, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ‘২৪ কে ‘৭১ এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল, স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থীদের উত্থানের জন্য অন্তরীণ সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেছে।

 

তিনি আরও লেখেন, আইনের শাসনের বদলে মবের শাসন, উগ্রবাদীদের মাজারে হামলা, মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দেওয়া এবং হিন্দুদের উপড় নিপীড়ন এসব কারণে লীগ ব্যাক করেছে।

 

এছাড়া সরকার প্রযোজিত ডানপন্থার উত্থানে সেক্যুলার মানুষদের ভয় পাওয়া, উগ্রবাদীদের সেইফ স্পেস দিয়ে মব স্টারদের হিরো বানানো এবং ছাত্ররাজনীতির বিপ্লবী ধারা থেকে মব সংস্কৃতিতে রূপান্তর হওয়াকেও তিনি লীগ ফিরে আসার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

মাহফুজ আলম আরও লেখেন, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন অন্তর্বর্তী সরকার পলিটিক্যাল থেকে আমলাতান্ত্রিক হলো এবং আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হলো। ওই কিচেন ক্যাবিনেটের অধিকাংশ লোকই বিএনপি-জামাত বা লীগের ‘ছুপা দালাল’ ছিল দাবি করে তিনি বলেন, এদের কাছে জুলাই বিপ্লব মানে ছিল কেবল নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম আর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষা।

 

এছাড়া যেদিন নির্বাচনি বাটোয়ারার মাধ্যমে সংস্কার ও বিচারকে বিএনপি-জামাতের বার্গেইনিং টুলে পরিণত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন কমিশন, ট্রাইবুনাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নির্দিষ্ট আদর্শের লোকদের ক্ষমতারোহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে সেগুলোকে লীগ ফিরে আসার কারণ হিসেবে লেখেন মাহফুজ আলম।


জুলাইয়ের অন্যতম লড়াকু সৈনিক ও জাতীয় নাগরিক পার্টি’র (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করছেন, প্রশাসন বা “অবৈধ মেয়র” (যাকে তিনি বৈধ মনে করছেন না) পুলিশ ব্যবহার করে ছাত্রদের দমন করতে চাইছে। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেছেন, জুলাইয়ের গ্রাফিতিতে এত ভয় কিসের?

 

সোমবার (১৮ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।

 

“জুলাইয়ের গ্রাফিতি” বলতে জুলাই আন্দোলন বা ছাত্র আন্দোলনের সময় দেয়ালে আঁকা স্লোগান, চিত্র, প্রতিবাদী আর্ট—এসবকে বোঝানো হয় যা কোনো আন্দোলনের স্মৃতি, ক্ষোভ, দাবি বা রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।

জুলাইয়ের গ্রাফিতিতে এত ভয় কিসের?

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে আজ রোববার (১৭ মে) যুক্তিতর্ক শুরু হবে।

 

এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে প্রথমে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে প্রসিকিউশন। পরে আসামিপক্ষ তাদের বক্তব্য তুলে ধরবে।

 

গত ২৭ এপ্রিল মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। ওইদিন ২৬তম সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে জেরা করেন সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। ১৯ এপ্রিল তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল।

 

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

 

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

আ.লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ ৭ নেতার বিচারে যুক্তিতর্ক শুরু আজ

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নীরব থাকার অভিযোগকে সরাসরি মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, দুটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে এই মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন।

 

তিনি আজ এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘দুইটি দলের কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে প্রচার করছেন যে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আমি কিছু বলি নি, কিছু করি নি। আমি নাকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছের মানুষ ছিলাম – এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বাঁচাতে এখন চুপ থাকছি।’

 

তিনি জানান, ভিন্ন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কর্মকাণ্ড বহু আগেই উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল তাকে। তার ভাষ্য, ‘তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন হয়ে আমি ২০২৪ সালেই প্রশ্ন তুলি। তখনকার বিষয় ছিলো জুলাই গণঅভুথানে আহতদের চিকিৎসায় ধীরগতি ও অবহেলা।’

 

ডা. জারা বলেন, তিনি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে কথা বলে আসছেন এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে মতামত দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত ভিডিওগুলো বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যাচ্ছে।

 

তার কথা, ‘হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনে দায় কার, তা খুঁজে বের করতে একটি সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন, সেই দাবীও জানিয়েছি প্রায় একমাস আগে – এপ্রিল মাসের ১৯ তারিখে। আর এক মাসেরও বেশি আগে থেকে আমি বিভিন্ন সভা-সেমিনারে আমি হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে কথা বলে আসছি, সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আমার মতামত দিয়েছি। এসব ভিডিও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে সার্চ করলেই দেখা যায়। কিছু স্ক্রিনশটও দিচ্ছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘একটি গণস্বাস্থ্য সংকটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর এই চেষ্টা দুর্ভাগ্যজনক। শিশুরা অসুস্থ হচ্ছে, মারা যাচ্ছে: এই সময়ে দলীয় কর্মীদের কাজ হওয়া উচিত ছিলো সমাধানে অংশ নেওয়া। কিন্তু তারা বরাবরের মতই বেছে নিয়েছে মিথ্যা প্রচার করা।’

উপদেষ্টার কর্মকাণ্ডে উদ্বিগ্ন হয়ে ২০২৪ সালেই প্রশ্ন তুলেছিলাম: তাসনিম জারা

বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা

 

বিশেষ প্রতিনিধি:মামুন হাওলাদার

 

দীর্ঘ আট বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘোষিত হয়েছে বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের আংশিক নতুন কমিটি। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্যাডে এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আতিকুর রহমান রাসেল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়ামুল কবির রাহুল দায়িত্ব পেয়েছেন।

এদিকে, এই কমিটিতে শামীম শিকদারকে সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত করায় শরণখোলা উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। কমিটি ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা শামীম শিকদারের ছবি পোস্ট করে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

তৃণমূলের কর্মীরা মনে করছেন, এই কমিটির মাধ্যমে দলে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়েছে। শামীম শিকদারের মতো নেতৃত্ব জেলা কমিটিতে স্থান পাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে দল আরও সুসংগঠিত হবে বলে তাদের বিশ্বাস।

ঘোষিত আংশিক কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে শেখ আল মামুনসহ বেশ কয়েকজন নেতার নাম প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানালেও, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পদবঞ্চিতদের মাঝে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে সাধারণ কর্মীদের প্রত্যাশা, আতিকুর রহমান রাসেল ও নিয়ামুল কবির রাহুলের নেতৃত্বে জেলা ছাত্রদল দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে রাজপথে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।

বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে সাদিক কায়েমের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

 

ওই পোস্টে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।

 

এসময় তিনি স্পিকারকে তার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। স্পিকার জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য শুভকামনা ও দোয়া জানিয়েছেন। পাশাপাশি ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। আগামীর বাংলাদেশের রোল মডেলে উন্নীত হোক ডাকসু এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

স্পিকারকে বিয়ের দাওয়াত দিলেন সাদিক কায়েম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার ঢাকা থেকেই কমপক্ষে এক কোটি যাত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে যাবে। তবে ঈদে যাত্রীদের প্রায় ৮৫ শতাংশই মহাসড়ক ব্যবহার করে। এবার ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের সাতটি মহাসড়কে কমপক্ষে ৯৪টি স্থানে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

 

মহাসড়ক পুলিশ, পরিবহন সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিকল হয়ে পড়া, পশুবাহী গাড়ির সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের চলাচলে ব্যবস্থাপনার অভাব, মহাসড়কে পশুর হাট বসানো ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়া এবং ভাঙাচোরা অংশ মেরামত না হওয়ায় এসব মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা রয়েছে।

 

সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যানজট নিরসনে ব্যবস্থাপনা জোরদার ও সমন্বয় বাড়ানো না হলে যানজট থেকে রেহাই মিলবে না।

 

বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, ঈদযাত্রায় আগের চেয়ে যানজট কম হচ্ছে।

 

তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি।

 

বাংলাদেশ অটোরিকশা, অটো টেম্পো, ট্যাক্সি কার চালক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন বলেন, মহাসড়কে তিন চাকার বাহন অবাধে চলাচল করছে। এসব বাহনের কারণে সাধারণ সময়েও যানজট হচ্ছে বিভিন্ন মহাসড়কে। ঈদযাত্রায় অটোরিকশা ছাড়াও মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

 

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যানজট বিশেষজ্ঞ সন্তোষ কুমার রায় বলেন, ঈদযাত্রায় মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। ঈদুল আজহায় পশুবাহী গাড়ির চাপও থাকে। এ কারণে অতিরিক্ত গাড়ির চলাচলে সব সংস্থার সমন্বিত ব্যবস্থাপনা দরকার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাধারণ সময়ে গাড়ি চলে ৩৫ হাজার, ঈদযাত্রায় বেড়ে হয় প্রায় ৬০ হাজার। ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ২২ হাজার থেকে বেড়ে ঈদযাত্রায় গাড়ি বেড়ে হয় ৬৪ হাজার।

 

ঈদুল আজহায় যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এরই মধ্যে সরকার সব সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সভা করেছে। সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তদারকিও বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমন্বয়ে সামান্য ঘাটতির কারণে যানজটের মতো সমস্যা বাড়তে পারে।

 

হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, রোজার ঈদের তুলনায় কোরবানির ঈদে যানবাহনের চাপ ভিন্ন ধরনের হয়। একদিকে মানুষ ঢাকা ছাড়ে, অন্য দিকে পশুবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন ঢাকামুখী হয়। ফলে মহাসড়কে চাপ বেড়ে যায়। বিষয়টি মাথায় রেখেই বাড়তি ফোর্স মোতায়েন ও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় যাত্রী ওঠানামা বেশি হয়, সেখানে কন্ট্রোলরুম থাকবে। সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে। অতিরিক্ত এক হাজার সদস্য যুক্ত হওয়ায় মহাসড়কে প্যাট্রলিংও বাড়ানো হবে।

 

মহাসড়ক পুলিশের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশের সাতটি মহাসড়কে যানজটপ্রবণ স্থান রয়েছে ৯৪টি। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রামে ২৫, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুরে ২৫, ঢাকা-সিলেটে ২১, ঢাকা-ময়মনসিংহে সাত, ঢাকা-আরিচায় সাত, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে আট এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি যানজটপ্রবণ স্থান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ঈদযাত্রার আগেই যানজট পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

 

একাধিক বাস মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদযাত্রায় শুধু রাজধানী ঢাকা থেকেই দেড় কোটির বেশি যাত্রী বাড়িমুখো হয়ে থাকে। এর প্রায় ৮৫ শতাংশই মহাসড়ক ব্যবহার করে। আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ২৪ মে অফিস শেষে শুরু হবে সরকারি ছুটি।

 

মহাসড়ক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও গত বছরের কোরবানির ঈদে মহাসড়কের পাশে ২০০টির বেশি পশুর হাট বসানো হয়েছিল। এবারও সরকারের পক্ষ থেকে মহাসড়কে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মহাসড়ক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও সরকার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঈদের আগে টানা তিন দিন ছুটি, শিল্প-কারখানা ধাপে ধাপে বন্ধ রাখার উদ্যোগও নিয়েছে।

 

ঈদযাত্রী বাড়ছে : জানা গেছে, গত বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রায় এক কোটি মানুষ ঢাকা ত্যাগ করেছিল। বিটিআরসি ওই বছর পাঁচ দিনে ঈদযাত্রায় প্রায় ৯০ লাখ সিম ঢাকা ছাড়ার তথ্য দিয়েছিল। ২০২৪ সালের ঈদুল আজহায় এক কোটি পাঁচ লাখ সক্রিয় মোবাইল সিম ঢাকার বাইরে গেছে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। ২০২৩ সালে একই ঈদ উপলক্ষে ঈদযাত্রায় চার দিনে ৮৮ লাখ ৭৭ হাজার সিমধারী সিম ঢাকা ছেড়েছিল বলে একই সংস্থার কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।

 

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিমের সংখ্যার সঙ্গে শিশু ও মোবাইলবিহীন যাত্রীদের যোগ করলে যাত্রীসংখ্যা এক কোটি ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। সড়ক পরিববহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পদ্মা সেতু দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ৩০ লাখ যাত্রী ঢাকা থেকে নিজেদের বাড়ি ও অন্যত্র যায়। এই সেতু উদ্বোধন করা হয় ২০২২ সালের জুনে। সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকে ঈদযাত্রী বাড়ছেই।

 

২০২৫ সালে ঈদুল আজহা মৌসুমে দৈনিক গড়ে ৫০ হাজার গাড়ি সেতু পার হয়। ২০২৪ সালে একই ঈদ উপলক্ষে যাত্রায় গড়ে ৪০ হাজার গাড়ি সেতু পাড়ি দেয়। যমুনা সেতু উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলা, দক্ষিণ ও পূর্ববঙ্গের জেলাসহ ২৩টি জেলার প্রবেশদ্বার।

 

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সেতুতে পশুবাহী গাড়ির চাপ বাড়ে। ২০২৫ সালে গড়ে দৈনিক ৫০ হাজার গাড়ি চলাচল করে। এর মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ ৬৪ হাজার ২৮৩টি যানবাহন পারাপার হয়। ২০২৪ সালের ঈদযাত্রায় (৯ থেকে ১৬ জুন) গড়ে ৪৭ হাজার যানবাহন পার হয়। এর মধ্যে ১৩ জুন এক দিনে ৫৩ হাজার ৪০৭টি গাড়ি পার হয়।

ঈদযাত্রায় ভোগাবে যানজট

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যে সব কারণে রাজনীতিতে ফিরে এসেছে, তার একটি তালিকা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার (১৯ মে) তার ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তালিকা দেন।

 

পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, আওয়ামী লীগ ব্যাক করেছে, দেখো নাই? লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ।

 

তিনি লেখেন, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ‘২৪ কে ‘৭১ এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল, স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থীদের উত্থানের জন্য অন্তরীণ সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেছে।

 

তিনি আরও লেখেন, আইনের শাসনের বদলে মবের শাসন, উগ্রবাদীদের মাজারে হামলা, মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দেওয়া এবং হিন্দুদের উপড় নিপীড়ন এসব কারণে লীগ ব্যাক করেছে।

 

এছাড়া সরকার প্রযোজিত ডানপন্থার উত্থানে সেক্যুলার মানুষদের ভয় পাওয়া, উগ্রবাদীদের সেইফ স্পেস দিয়ে মব স্টারদের হিরো বানানো এবং ছাত্ররাজনীতির বিপ্লবী ধারা থেকে মব সংস্কৃতিতে রূপান্তর হওয়াকেও তিনি লীগ ফিরে আসার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

মাহফুজ আলম আরও লেখেন, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন অন্তর্বর্তী সরকার পলিটিক্যাল থেকে আমলাতান্ত্রিক হলো এবং আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হলো। ওই কিচেন ক্যাবিনেটের অধিকাংশ লোকই বিএনপি-জামাত বা লীগের ‘ছুপা দালাল’ ছিল দাবি করে তিনি বলেন, এদের কাছে জুলাই বিপ্লব মানে ছিল কেবল নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম আর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষা।

 

এছাড়া যেদিন নির্বাচনি বাটোয়ারার মাধ্যমে সংস্কার ও বিচারকে বিএনপি-জামাতের বার্গেইনিং টুলে পরিণত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন কমিশন, ট্রাইবুনাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নির্দিষ্ট আদর্শের লোকদের ক্ষমতারোহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে সেগুলোকে লীগ ফিরে আসার কারণ হিসেবে লেখেন মাহফুজ আলম।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যেদিন ফিরে এসেছে জানালেন মাহফুজ আলম

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়।

 

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

 

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

 

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

 

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

 

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

 

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

 

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।

 

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ওমানের দক্ষিণ আল বাতিনাহ প্রদেশের মুলাদ্দা এলাকায় এক গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া চার বাংলাদেশি সহোদরের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সোয়া ৮টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁদের বহনকারী বিমানটি অবতরণ করে।

 

বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে নিহতদের পরিবারের স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করেন সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মরদেহ পরিবহন এবং দাফনকাজের তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে প্রতিটির জন্য ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।

 

স্বজনরা জানান, বিমানবন্দর থেকে রাতেই চার ভাইয়ের মরদেহ তাঁদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ বুধবার (২০ মে) সকালে স্থানীয় মাঠে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করার কথা রয়েছে। চার প্রবাসী ভাইয়ের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো রাঙ্গুনিয়ায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

 

উল্লেখ্য, ওমানে গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) এগজস্ট থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস দীর্ঘ সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করায় তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। ওমানের পুলিশ (রয়্যাল ওমান পুলিশ) এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে দেশটির প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন আবদ্ধ বা অবরুদ্ধ গাড়ির ভেতরে দীর্ঘ সময় না ঘুমানোর জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দেশে পৌঁছেছে ওমানে নিহত ৪ ভাইয়ের মরদেহ

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশের ধারণা, প্রতিবেশীর বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়েছিল।

 

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন: প্রধান অভিযুক্ত মো. জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা (৩০) ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না। রিকশা মেকানিক জাকিরের বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, শিশুটির সঙ্গে কোনো বিকৃত যৌন আচরণ বা ধর্ষণ করা হয়েছে। রক্তক্ষরণ বা বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ার ভয়েই শিশুটিকে মেরে ফেলে ডেড বডিটা গুম করার পরিকল্পনা করা হয়।’ তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্টের পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

 

পুলিশ আরও জানায়, জাকিরের স্ত্রী স্বপ্নার বক্তব্য অনুযায়ী, জাকির হোসেন বিকৃত যৌনরুচি সম্পন্ন একজন লোক এবং সে তার স্ত্রীকেও বিভিন্ন সময় নির্যাতন করত।

 

তদন্তে জানা গেছে, নিহত রামিসার পরিবার ওই ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসেন। আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা ওই ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান।পুলিশ জানায়, রামিসার মা যখন দরজায় নক করছিলেন, তখন ভেতর থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হচ্ছিল। মূল আসামি জাকির যেন পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা খোলেননি। জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। সে নিজে এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছে পুলিশ।

 

ঘটনার পর পুলিশ স্বপ্নাকে ফ্ল্যাট থেকেই আটক করে। তবে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় জাকির। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, জাকির নারায়ণগঞ্জের একটি দোকানে তার বন্ধুর মাধ্যমে পাঠানো টাকা তুলতে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ ও দোকানদারের সহায়তায় ডিএমপির টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে বিকাশের দোকান থেকেই জাকিরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

 

এর আগে আজ সকালে পল্লবীর ওই ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

রামিসাকে গলা কেটে হত্যা: প্রাথমিক কারণ জানাল পুলিশ

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। আগে আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও তা আর সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এখন জুনের প্রথম সপ্তাহে ফল প্রকাশ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক এ. এস. এম. সিরাজুদ্দোহা গণমাধ্যমকে বলেন, ২১ মে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি থাকলেও সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ঈদের পর ফল প্রকাশ করা হবে এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে ফল প্রকাশের চেষ্টা চলছে।

 

চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয় গত ১৪ এপ্রিল এবং শেষ হয় ১৮ এপ্রিল। দীর্ঘ বিরতির পর এ বছর আবারও পরীক্ষাটি আয়োজন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরুর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষার রুটিন ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করে। এতে ১০টি বিশেষ নির্দেশনা এবং পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।

 

নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীদের সমানুপাতিক হারে অর্থাৎ ৫০ শতাংশ করে নির্বাচন করা হবে। এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল কবে, জানাল অধিদপ্তর

নওগাঁ থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। বাস কাউন্টারে হামলা ও শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

 

সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসে গন্তব্যের বাস না পেয়ে অনেক যাত্রীকে অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যানে করে বিকল্প পথে যাত্রা করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ চার কিলোমিটার দূরের সান্তাহারে গিয়ে ট্রেন বা অন্য পরিবহণ ধরার চেষ্টা করছেন।

 

জানা গেছে, সোমবার রাত ১১টার দিকে শহরের পার-নওগাঁ ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একতা পরিবহণের একটি বাস ঘোরানোকে কেন্দ্র করে চালক ও এক মোটরসাইকেল আরোহীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে একদল লোক একতা পরিবহণের কাউন্টারে হামলা চালায়।

 

এ সময় কাউন্টারের থাই গ্লাস, টেবিল ও চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মানিক হোসেনসহ তিনজন শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ ওঠে।

 

একতা পরিবহণের নওগাঁ কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মানিক হোসেন বলেন, বাস ঘোরানোর কারণে সাময়িক যানজট তৈরি হলে এক মোটরসাইকেলচালকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও তিনি হুমকি দিয়ে চলে যান। আধাঘণ্টা পর কয়েকজনকে নিয়ে এসে কাউন্টারে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

 

জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিউজ্জামান জানান, নওগাঁ-ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, খুলনাসহ ২২টি দূরপাল্লার রুটে প্রতিদিন প্রায় চার শতাধিক বাস চলাচল করে। বর্তমানে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে এসব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

 

তবে শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে নওগাঁ-রাজশাহী, জয়পুরহাটসহ অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নওগাঁ জেলা সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ঘটনার জেরে শ্রমিকেরা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং আজকের মধ্যেই বাস চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

 

এদিকে নওগাঁ সদর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আলোচনা চলছে।

কাউন্টারে হামলা-মারধর, ঢাকা থেকে এক রুটে বাস চলাচল বন্ধ

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে সব বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় এক প্রজ্ঞাপনে সব বিচারককে সরিয়ে নেয় আইন মন্ত্রণালয়। অন্তবর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ করলেও তা আর আইনে পরিণত করেনি বিএনপি সরকার।

 

১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ’ সংক্রান্ত ২২ অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে’।

 

এরপর ২০ বছর অতিক্রান্ত হলেও এ নিয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

 

এর মধ্যে ১৯৯৪ সালে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বেতন গ্রেড নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভ থেকে তৎকালীন বিচারক মাসদার হোসেনসহ ৪৪১ বিচারকের পক্ষে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

 

এই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১৯৯৭ সালে জুডিসিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস করার আদেশ দেন। রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আপিল করে। সেই আপিলের শুনানি শেষে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ রায় দেন।

 

রায়ে কয়েক দফা নির্দেশনা দেয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের থাকবে; বিচার বিভাগ জাতীয় সংসদ বা নির্বাহী বিভাগের অধীনে থাকবে না এবং জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ সব বিচারক স্বাধীনভাবে কাজ করবেন; জুডিসিয়ারির (নিম্ন আদালত) বার্ষিক বাজেট প্রণয়নের ওপর নির্বাহী বিভাগের কোনো হাত থাকবে না। এই বাজেট সুপ্রিম কোর্ট প্রণয়ন এবং বরাদ্দ করবে।

 

আপিল বিভাগের ওই রায় ঘোষণার প্রায় ৮ বছর পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেই ঘোষণা কাগজে কলমে রয়ে যায়।

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ১০ আগস্ট দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে এক অভিভাষণে বলেন, বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের স্বার্থে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন একান্ত আবশ্যক। বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৬ক অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতের বিচারকরা বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন মর্মে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বিচারকদের প্রকৃত স্বাধীনতা ততদিন পর্যন্ত নিশ্চিত হবে না; যতদিন না বিচার বিভাগে দীর্ঘ দিন ধরে বিরাজমান দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা, অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের যৌথ এখতিয়ার সম্পূর্ণরূপে বিলোপ করে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এরপর একই বছরের ২৭ অক্টোবর পৃথক সচিবালয়ের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠান।

 

পাশাপাশি বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় স্থাপন এবং বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপারিশ করে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে ঘোষিত নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের মূলনীতিকে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে অর্থবহ ও কার্যকররূপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বোপরি নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণরূপে পৃথকীকরণের জন্য পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় স্থাপন করাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব দেন।

 

এরপর সব কিছু পেছনে পেলে কাঙ্ক্ষিত ৩০ নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথককরণের উদ্দেশ্যে স্বতন্ত্র সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম

পটুয়াখালীর বাউফলের বগা এলাকায় লোহালিয়া নদীর সম্ভাব্য সেতু নির্মাণস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

 

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার বগা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

জানা যায়, মন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বগা ও দুমকি প্রান্তে পৃথক দুটি মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। বগা প্রান্তে মঞ্চ নির্মাণ করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। মন্ত্রী ফেরিতে নদী পার হয়ে বগা প্রান্তের মঞ্চে যাওয়ার পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা পথরোধ করে স্লোগান দিতে থাকেন।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, মঞ্চের ব্যানারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি না থাকায় তারা প্রতিবাদ করেছেন।

 

এ সময় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী এবং এ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শহিদুল ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেতুমন্ত্রী বগা প্রান্তের মঞ্চে প্রবেশ না করেই দুমকি প্রান্তে নির্মিত মঞ্চে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সভায় অংশ নেন।

 

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, সেতুমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে বগা ও দুমকি প্রান্তে দুটি মঞ্চ তৈরি হয়। ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকার অভিযোগ তুলে বিএনপির নেতাকর্মীরা সড়কে দাঁড়িয়ে মিছিল করেছেন। বিষয়টা মন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন। তিনি মঞ্চে না গিয়ে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য সময় ও বিস্তারিত বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়ে তার পরবর্তী যাত্রা শুরু করেছেন।

বাউফলে সেতু নির্মাণস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে মন্ত্রী

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d