
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল ভবনের চতুর্থ তলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (২০ মে) ভোরের দিকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আগুন নির্বাপনে কাজ শুরু করে। তাদের প্রায় এক ঘণ্টার সম্মিলিত ও আপ্রাণ চেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। এছাড়া এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার ঢাকা থেকেই কমপক্ষে এক কোটি যাত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে যাবে। তবে ঈদে যাত্রীদের প্রায় ৮৫ শতাংশই মহাসড়ক ব্যবহার করে। এবার ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের সাতটি মহাসড়কে কমপক্ষে ৯৪টি স্থানে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
মহাসড়ক পুলিশ, পরিবহন সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিকল হয়ে পড়া, পশুবাহী গাড়ির সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের চলাচলে ব্যবস্থাপনার অভাব, মহাসড়কে পশুর হাট বসানো ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়া এবং ভাঙাচোরা অংশ মেরামত না হওয়ায় এসব মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা রয়েছে।
সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যানজট নিরসনে ব্যবস্থাপনা জোরদার ও সমন্বয় বাড়ানো না হলে যানজট থেকে রেহাই মিলবে না।
বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, ঈদযাত্রায় আগের চেয়ে যানজট কম হচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
বাংলাদেশ অটোরিকশা, অটো টেম্পো, ট্যাক্সি কার চালক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন বলেন, মহাসড়কে তিন চাকার বাহন অবাধে চলাচল করছে। এসব বাহনের কারণে সাধারণ সময়েও যানজট হচ্ছে বিভিন্ন মহাসড়কে। ঈদযাত্রায় অটোরিকশা ছাড়াও মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যানজট বিশেষজ্ঞ সন্তোষ কুমার রায় বলেন, ঈদযাত্রায় মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। ঈদুল আজহায় পশুবাহী গাড়ির চাপও থাকে। এ কারণে অতিরিক্ত গাড়ির চলাচলে সব সংস্থার সমন্বিত ব্যবস্থাপনা দরকার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাধারণ সময়ে গাড়ি চলে ৩৫ হাজার, ঈদযাত্রায় বেড়ে হয় প্রায় ৬০ হাজার। ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ২২ হাজার থেকে বেড়ে ঈদযাত্রায় গাড়ি বেড়ে হয় ৬৪ হাজার।
ঈদুল আজহায় যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এরই মধ্যে সরকার সব সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সভা করেছে। সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তদারকিও বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমন্বয়ে সামান্য ঘাটতির কারণে যানজটের মতো সমস্যা বাড়তে পারে।
হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, রোজার ঈদের তুলনায় কোরবানির ঈদে যানবাহনের চাপ ভিন্ন ধরনের হয়। একদিকে মানুষ ঢাকা ছাড়ে, অন্য দিকে পশুবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন ঢাকামুখী হয়। ফলে মহাসড়কে চাপ বেড়ে যায়। বিষয়টি মাথায় রেখেই বাড়তি ফোর্স মোতায়েন ও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় যাত্রী ওঠানামা বেশি হয়, সেখানে কন্ট্রোলরুম থাকবে। সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে। অতিরিক্ত এক হাজার সদস্য যুক্ত হওয়ায় মহাসড়কে প্যাট্রলিংও বাড়ানো হবে।
মহাসড়ক পুলিশের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশের সাতটি মহাসড়কে যানজটপ্রবণ স্থান রয়েছে ৯৪টি। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রামে ২৫, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুরে ২৫, ঢাকা-সিলেটে ২১, ঢাকা-ময়মনসিংহে সাত, ঢাকা-আরিচায় সাত, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে আট এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি যানজটপ্রবণ স্থান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ঈদযাত্রার আগেই যানজট পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
একাধিক বাস মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদযাত্রায় শুধু রাজধানী ঢাকা থেকেই দেড় কোটির বেশি যাত্রী বাড়িমুখো হয়ে থাকে। এর প্রায় ৮৫ শতাংশই মহাসড়ক ব্যবহার করে। আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ২৪ মে অফিস শেষে শুরু হবে সরকারি ছুটি।
মহাসড়ক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও গত বছরের কোরবানির ঈদে মহাসড়কের পাশে ২০০টির বেশি পশুর হাট বসানো হয়েছিল। এবারও সরকারের পক্ষ থেকে মহাসড়কে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মহাসড়ক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও সরকার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঈদের আগে টানা তিন দিন ছুটি, শিল্প-কারখানা ধাপে ধাপে বন্ধ রাখার উদ্যোগও নিয়েছে।
ঈদযাত্রী বাড়ছে : জানা গেছে, গত বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রায় এক কোটি মানুষ ঢাকা ত্যাগ করেছিল। বিটিআরসি ওই বছর পাঁচ দিনে ঈদযাত্রায় প্রায় ৯০ লাখ সিম ঢাকা ছাড়ার তথ্য দিয়েছিল। ২০২৪ সালের ঈদুল আজহায় এক কোটি পাঁচ লাখ সক্রিয় মোবাইল সিম ঢাকার বাইরে গেছে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। ২০২৩ সালে একই ঈদ উপলক্ষে ঈদযাত্রায় চার দিনে ৮৮ লাখ ৭৭ হাজার সিমধারী সিম ঢাকা ছেড়েছিল বলে একই সংস্থার কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিমের সংখ্যার সঙ্গে শিশু ও মোবাইলবিহীন যাত্রীদের যোগ করলে যাত্রীসংখ্যা এক কোটি ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। সড়ক পরিববহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পদ্মা সেতু দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ৩০ লাখ যাত্রী ঢাকা থেকে নিজেদের বাড়ি ও অন্যত্র যায়। এই সেতু উদ্বোধন করা হয় ২০২২ সালের জুনে। সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকে ঈদযাত্রী বাড়ছেই।
২০২৫ সালে ঈদুল আজহা মৌসুমে দৈনিক গড়ে ৫০ হাজার গাড়ি সেতু পার হয়। ২০২৪ সালে একই ঈদ উপলক্ষে যাত্রায় গড়ে ৪০ হাজার গাড়ি সেতু পাড়ি দেয়। যমুনা সেতু উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলা, দক্ষিণ ও পূর্ববঙ্গের জেলাসহ ২৩টি জেলার প্রবেশদ্বার।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সেতুতে পশুবাহী গাড়ির চাপ বাড়ে। ২০২৫ সালে গড়ে দৈনিক ৫০ হাজার গাড়ি চলাচল করে। এর মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ ৬৪ হাজার ২৮৩টি যানবাহন পারাপার হয়। ২০২৪ সালের ঈদযাত্রায় (৯ থেকে ১৬ জুন) গড়ে ৪৭ হাজার যানবাহন পার হয়। এর মধ্যে ১৩ জুন এক দিনে ৫৩ হাজার ৪০৭টি গাড়ি পার হয়।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।
এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’
মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’
গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’
ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশের ধারণা, প্রতিবেশীর বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন: প্রধান অভিযুক্ত মো. জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা (৩০) ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না। রিকশা মেকানিক জাকিরের বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, শিশুটির সঙ্গে কোনো বিকৃত যৌন আচরণ বা ধর্ষণ করা হয়েছে। রক্তক্ষরণ বা বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ার ভয়েই শিশুটিকে মেরে ফেলে ডেড বডিটা গুম করার পরিকল্পনা করা হয়।’ তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্টের পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
পুলিশ আরও জানায়, জাকিরের স্ত্রী স্বপ্নার বক্তব্য অনুযায়ী, জাকির হোসেন বিকৃত যৌনরুচি সম্পন্ন একজন লোক এবং সে তার স্ত্রীকেও বিভিন্ন সময় নির্যাতন করত।
তদন্তে জানা গেছে, নিহত রামিসার পরিবার ওই ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসেন। আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা ওই ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান।পুলিশ জানায়, রামিসার মা যখন দরজায় নক করছিলেন, তখন ভেতর থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হচ্ছিল। মূল আসামি জাকির যেন পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা খোলেননি। জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। সে নিজে এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছে পুলিশ।
ঘটনার পর পুলিশ স্বপ্নাকে ফ্ল্যাট থেকেই আটক করে। তবে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় জাকির। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, জাকির নারায়ণগঞ্জের একটি দোকানে তার বন্ধুর মাধ্যমে পাঠানো টাকা তুলতে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ ও দোকানদারের সহায়তায় ডিএমপির টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে বিকাশের দোকান থেকেই জাকিরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এর আগে আজ সকালে পল্লবীর ওই ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। আগে আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও তা আর সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এখন জুনের প্রথম সপ্তাহে ফল প্রকাশ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক এ. এস. এম. সিরাজুদ্দোহা গণমাধ্যমকে বলেন, ২১ মে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি থাকলেও সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ঈদের পর ফল প্রকাশ করা হবে এবং জুনের প্রথম সপ্তাহে ফল প্রকাশের চেষ্টা চলছে।
চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয় গত ১৪ এপ্রিল এবং শেষ হয় ১৮ এপ্রিল। দীর্ঘ বিরতির পর এ বছর আবারও পরীক্ষাটি আয়োজন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরুর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষার রুটিন ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করে। এতে ১০টি বিশেষ নির্দেশনা এবং পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।
নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীদের সমানুপাতিক হারে অর্থাৎ ৫০ শতাংশ করে নির্বাচন করা হবে। এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

নওগাঁ থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। বাস কাউন্টারে হামলা ও শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসে গন্তব্যের বাস না পেয়ে অনেক যাত্রীকে অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যানে করে বিকল্প পথে যাত্রা করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ চার কিলোমিটার দূরের সান্তাহারে গিয়ে ট্রেন বা অন্য পরিবহণ ধরার চেষ্টা করছেন।
জানা গেছে, সোমবার রাত ১১টার দিকে শহরের পার-নওগাঁ ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একতা পরিবহণের একটি বাস ঘোরানোকে কেন্দ্র করে চালক ও এক মোটরসাইকেল আরোহীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে একদল লোক একতা পরিবহণের কাউন্টারে হামলা চালায়।
এ সময় কাউন্টারের থাই গ্লাস, টেবিল ও চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মানিক হোসেনসহ তিনজন শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ ওঠে।
একতা পরিবহণের নওগাঁ কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মানিক হোসেন বলেন, বাস ঘোরানোর কারণে সাময়িক যানজট তৈরি হলে এক মোটরসাইকেলচালকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও তিনি হুমকি দিয়ে চলে যান। আধাঘণ্টা পর কয়েকজনকে নিয়ে এসে কাউন্টারে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিউজ্জামান জানান, নওগাঁ-ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, খুলনাসহ ২২টি দূরপাল্লার রুটে প্রতিদিন প্রায় চার শতাধিক বাস চলাচল করে। বর্তমানে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে এসব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তবে শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে নওগাঁ-রাজশাহী, জয়পুরহাটসহ অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নওগাঁ জেলা সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ঘটনার জেরে শ্রমিকেরা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং আজকের মধ্যেই বাস চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
এদিকে নওগাঁ সদর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আলোচনা চলছে।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে লামিশা নামে আট বছরের এক মেয়ে শিশুকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৯টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১১ এর বি ব্লকের ৩৯ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে বড় বোন প্রাইভেট পড়তে গেলে গেট খোলা দেখে লামিশা ঘরে না ফেরায় খোঁজ করলে পাশের ফ্ল্যাট বন্ধ পান। পরে পুলিশ এসে দরজা খুললে ভেতরে থেকে লামিশার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের পর হত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ঘটনার পর ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


Leave a Reply