খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে আটক ৫০ পরীক্ষার্থী - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে আটক ৫০ পরীক্ষার্থী

খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে আটক ৫০ পরীক্ষার্থী

খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পরীক্ষা চলাকালে অবৈধ ডিভাইস ও মোবাইল সহকারে হলে অবস্থান করে জালিয়াতির অভিযোগে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৯ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে তাদের আটক করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।

 

জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ঢাকা কলেজে খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে পরীক্ষা পরিদর্শনে আসা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুল্লাহর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে জালিয়াতির অভিযোগে ৫০ জনকে আটক করা হয়।

 

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ২৮ জনকে ও কেন্দ্রের বাহিরে ঢাকা কলেজে মূল ফটক থেকে ২২ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ফৌজদারি দন্ডবিধির ২৪৫ ও ২৫৮ ধারা অনুযায়ী অন্তত ১৬ জনকে ১ থেকে ৭ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, পরীক্ষায় সময় যাদের সন্দেহজনক মনে হয়েছে পরবর্তীতে চেক করে তাদের কাছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেছে। মোবাইলে মেসেজ পাওয়া গেছে। পরীক্ষার সময় তারা প্রশ্ন স্ক্যান করে পাঠিয়েছে। এরপর বাহিরে থেকে সেই উত্তর আসছে।

 

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে দুইটা গ্রুপ আছে। একটা হল যারা গেটের বাইরে ঢোকার সময় ধরা পড়ছে। আরেক গ্রুপকে পরীক্ষার হল থেকে ধরা হয়েছে। এরপর জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন রুম থেকে ধরে এনে আলাদা দুইটা রুমে রাখা হয়েছিল। কেন্দ্রের যে ম্যাজিস্ট্রেট আছে তার কাছে সপর্দ করা হয়েছে। আটকারীদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট আইনানুক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। এরপর তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে।


রাজধানী শাহবাগ থানা এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

 

গ্রেফতারকৃতের নাম- মো. এরশাদ আকন্দ (৩৮)।

 

শাহবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৪ মে) বিকাল আনুমানিক ৪টায় শাহবাগ থানাধীন একটি হোটেলের নিচতলায় বসে মো. এরশাদ আকন্দ নিজেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মহোদয়ের নিকটাত্মীয় পরিচয় দেন। তিনি বাদী জনৈক ছেলেকে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোট ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে চাকরি দিতে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে শাহবাগ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

 

পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহবাগ থানা পুলিশের একটি টিম বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর আনুমানিক ৫টায় টাঙ্গাইল জেলার ভুঞাপুর থানা এলাকা অভিযান পরিচালনা করে মো. এরশাদ আকন্দকে গ্রেফতার করে।

 

এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

প্রতিমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চাঞ্চল্য: চার বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে গেল চার বান্ধবী

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় চার কিশোরী একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে। তবে পরে জানা যায়, ওই চার কিশোরী নিজেদের পরিচিত চার যুবকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার বান্ধবী দীর্ঘদিন ধরে ওই চার যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাদের খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনরা ধারণা করেছিলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জানা যায়, তারা স্বেচ্ছায় চার বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সন্তানদের দ্রুত ফিরে পাওয়ার আশায় স্বজনরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। অন্যদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

ঘটনার পর শ্যামনগরজুড়ে এটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চার বান্ধবীর একসঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় বিস্মিত স্থানীয়রা, আর তাদের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারগুলো।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চাঞ্চল্য: চার বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে গেল চার বান্ধবী

মাগুরায় অর্থের অভাবে নিজের দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশুকে স্ত্রীর অগোচরে বিক্রি করে দিয়েছেন সাগর হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তি। পরে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে স্ত্রীর কাছে নাটক সাজিয়ে বলেছিলেন, ‘মেয়েকে জিন-পরি নিয়ে গেছে।’ বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে বাড়িতে ওঝা-কবিরাজ ডেকে ঝাড়ফুঁকও করিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে ২২ দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার হয়েছে। ফিরে পেয়েছে মায়ের কোল।

 

ঘটনাটি মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী গ্রামে ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত আটটায় মাগুরার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এ তথ্য জানান।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন সাগর হোসেন তার নবজাতক কন্যা টুকটুকিকে বিক্রি করে দেন। দত্তক হিসেবে ক্রেতা ছিলেন সদর উপজেলার দক্ষিণ বীরপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শাহাবুর (২৮) ও মনিরা খাতুন (২৫) দম্পতি। ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে এই অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরও অন্তত তিনজন ভূমিকা রাখেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, সন্তানকে বিক্রির সময় সাগর প্রতারণার আশ্রয় নেন। তিনি ওই দম্পতির সামনে অন্য এক নারীকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তার স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত এবং চিকিৎসার খরচ জোগাতেই তিনি সন্তান বিক্রি করছেন।

 

অন্যদিকে নিজের আসল স্ত্রী তানজিলা খাতুনের কাছে বাচ্চার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে ‘জিনে নেওয়ার’ গল্প ফাঁদেন এবং জিনের মাধ্যমেই বাচ্চা ফেরত আনা হবে আশ্বাস দিয়ে ২১ দিন অতিবাহিত করেন।

 

পরে বাচ্চার খোঁজ না পেয়ে তানজিলা খাতুন ব্যাকুল হয়ে পড়েন এবং বুধবার শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) শুভংকর রায়কে জানান। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে শাহাবুর ও মনিরা দম্পতির হেফাজত থেকে শিশু টুকটুকিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, দারিদ্র্য কখনোই সন্তান বিক্রির অজুহাত হতে পারে না। এটি জঘন্য ও দণ্ডনীয় অপরাধ। ক্রেতা দম্পতির আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়; তারা গরু বিক্রি করে বাচ্চাটি কিনেছেন বলে দাবি করেন। তবে কম বয়সী এই দম্পতি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বা পাচারের জন্য বাচ্চাটি কিনেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সাগর হোসেন, ক্রেতা দম্পতি ও কেনাবেচায় সহায়তাকারী মধ্যস্থতাকারীদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

শিশুটির মা তানজিলা খাতুন বলেন, তাদের আরও দুটি সন্তান আছে। তৃতীয় সন্তান জন্মের ১৩ মাস আগে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে দুই শিশু জন্মের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক চাপে পড়ে তার স্বামী এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন বলে তার ধারণা। তিনি বলেন, ‘যত কষ্টই হোক, কোনো মা তার সন্তান অন্যকে দিতে চায় না। আমার স্বামী ভুল করেছে, তাকে ক্ষমা করে দিন।’

অভাবে মেয়েকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি, স্ত্রীকে জানান ‘জিন-পরী নিয়ে গেছে’

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর সব বাস একক কোম্পানির অধীনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ তথ্য জানান।

 

মন্ত্রী বলেন, বাস মালিকদের সমন্বয়ে একটি পৃথক কোম্পানি গঠন করে রাজধানীর গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট মান, অভিন্ন রঙ, বৈধ ফিটনেস এবং প্রয়োজনীয় যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে ঢাকার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল করবে।

 

তিনি বলেন, বর্তমানে একই রুটে বিভিন্ন মালিকের বাস পরিচালিত হওয়ায় অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাসগুলো নির্ধারিত টার্মিনাল ও স্টপেজ এড়িয়ে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব অনিয়ম বন্ধ করা হবে।

 

শেখ রবিউল আলম আরও জানান, ভবিষ্যতে বাসগুলো নির্দিষ্ট রুটে চলবে এবং কেবল নির্ধারিত টার্মিনাল ও স্টপেজেই যাত্রী ওঠানামা করবে। যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামার বর্তমান প্রবণতা আর অনুমোদন করা হবে না।

 

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সড়কে ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কোন রুটে কোন কোম্পানি বাস পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে বাস মালিকরা কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

 

বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

 

 

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন, নতুন নিয়মে চলবে বাস

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের পর অন্য ভুক্তভোগী ছাত্রীরাও শিক্ষকের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করেছেন।

 

এসব মেসেজের স্ক্রিনশর্ট যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ছাত্রীদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের একাধিক স্ক্রিনশর্ট প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যায় ওই শিক্ষক ছাত্রীদের ইনবক্সে ‘বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব’, ‘বন্ধুর সঙ্গে হাগ করলে ডিপ্রেশন থাকে না’, ‘আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না, তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল’–এমন সব বার্তা পাঠিয়েছেন।

 

গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধকেন্দ্রে কৃষিপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্যক্ত করা মেসেজসংবলিত প্রমাণপত্রসহ লিখিত অভিযোগ করে ওই শিক্ষকের অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, আমাকে তিনি মেসেঞ্জারের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপেও কল দিয়ে এসব কথা বলতেন। আমি নিজেই তাকে ফ্রেন্ডরিকোয়েস্ট পাঠালে তিনি এক্সেপ্ট করেই এসব বাক্য প্রদান শুরু করেন। ভুক্তভোগীর দাবি, ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার আগ মুহূর্তে এসব অশালীন বাক্য প্রদানের ঘটনা ঘটায় তৎক্ষণাৎ তিনি ভয় পেয়ে সিনিয়রদের জানান।

 

বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

 

শুরুতে প্রভাবশালী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেলেও, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রয়োজন মনে করেই আমি সামনে এসেছি। আমি চাই অন্য ভুক্তভোগীরাও সাহস করে কথা বলুক এবং এ ঘটনার এমন একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।’

এই ঘটনা সামনে আসার পরে পূর্বে আরো কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনার কথা সামনে আসে। একই ডিসিপ্লিনের আরো দুজন ছাত্রী হেনস্তার কথা জানান এই প্রতিবেদককে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী অতীতে মৌখিক ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘প্রায় এক যুগ আগে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এতটা জনপ্রিয় ছিল না, তখনো ক্লাসের সবার সামনে কিংবা গভীর রাতে ফোন ও মেসেজে ছাত্রীদের নানা ধরনের আপত্তিকর ও অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতেন আমাদের বিভাগের শিক্ষক রেজাউল ইসলাম।

 

 

 

বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব—ছাত্রীকে খুবি শিক্ষক

নেইমারের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা যেন শেষ হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে অবশেষে ব্রাজিল জাতীয় দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরেছেন দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, যা সেলেসাও শিবিরে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

 

২০২৬ বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর বুধবার প্রথমবারের মতো সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেন নেইমার। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মরিসটাউনের কলম্বিয়া পার্কে অনুষ্ঠিত অনুশীলনে তাকে বেশ প্রাণবন্ত দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা মারকিনিওস ও রাফিনিয়া।

 

অনুশীলন মাঠে উপস্থিত সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীদের দিকে এগিয়ে গিয়ে মজার ছলে নেইমার বলেন, “আমাকে মিস করেছ?”

 

তার এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কয়েকজন সাংবাদিক তখন বলে ওঠেন, “অবশেষে অপেক্ষার অবসান! হালেলুইয়া!”

 

পূর্ণাঙ্গ দলীয় অনুশীলনে ফেরার পর এখন শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা বেড়েছে। তবে তিনি কত মিনিট খেলবেন কিংবা শুরুর একাদশে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মঙ্গলবার ব্যক্তিগত অনুশীলনে ফিরেছিলেন। এরপর একদিনের ব্যবধানে দলীয় অনুশীলনে অংশ নিয়ে পুনর্বাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করেন।

 

নেইমারের ফেরাকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন তার সতীর্থরাও। অনুশীলনের সময় করতালির মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। এমনকি মজার ছলে ‘ইনিশিয়েশন টানেল’ তৈরি করে তাকে অভিনন্দন জানান ব্রাজিলের ফুটবলাররা।

 

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেইমারের ফেরার খবর ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির। এখন দেখার বিষয়, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন।

নেইমারের অপেক্ষা যেন শেষ হতে চলেছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্ত্রীকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে বগুড়ার নন্দীগ্রামে জনরোষের মুখে পড়েছেন ছাত্রদল নেতা ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল ও তার সহযোগীরা। স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে দুটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তারা। 

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে উপজেলার ভাগ শিমলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল উপজেলার মাঝগ্রামের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে ও নন্দীগ্রাম সরকারি মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি।

 

জানা গেছে, দুই বছর আগে ভাগ শিমলা গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে আরফিন আলমগীর রিভাকে প্রেম করে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন ফিরোজ আহম্মেদ। তবে রিভার পরিবার এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় দীর্ঘদিন তাদের পারিবারিক যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

 

দুই মাস আগে এই দম্পতির ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। গত ১৪ জুন রিভার বাবা-মা তাদের বিয়ে মেনে নিয়ে শাকিলের বাড়িতে যান এবং মেয়েকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর গত বুধবার বাবার বাড়ি থেকেই শাকিলকে তালাকনামা পাঠান রিভা।

 

স্থানীয় লোকজন জানান, তালাকের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার শাকিল তিনটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ভাগ শিমলা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান। এ সময় শাকিলের সঙ্গে আসা যুবকরা বাড়ির লোকজনকে মারধর করে রিভাকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে শাকিল ও তার সহযোগীদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে তারা দুটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেল দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

 

শাকিলের স্ত্রী আরফিন আলমগীর রিভা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই শাকিল ও তার মা আমাকে মারধর করতেন। শাকিল আমার গয়না বিক্রি করে দিয়েছেন। সন্তান হওয়ার পরও আমাকে নির্যাতন সইতে হয়েছে। বাবা-মা মেনে না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে আগে শাকিলের বাড়িতে ছিলাম। গত ১৪ জুন বাবা-মা আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসার পর আমি তাকে তালাক দিই। এই খবর পেয়ে সে লোকজন নিয়ে এসে আমাকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।

 

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে শাকিল বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। হঠাৎ তালাকের খবর পেয়ে কারণ জানতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন আমার স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাকে এবং সঙ্গে থাকা কয়েকজন মারধর শুরু করে। প্রাণভয়ে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।

 

নন্দীগ্রাম থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ভাগ শিমলা গ্রামে আলমগীর হোসেনের বাড়িতে যায়। তবে সেখানে গিয়ে শাকিল বা তার সহযোগীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে ফেলে যাওয়া দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় যোগাযোগ করেনি।

স্ত্রীকে জোর করে আনতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে পালালেন ছাত্রদল নেতা

রাজধানী শাহবাগ থানা এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

 

গ্রেফতারকৃতের নাম- মো. এরশাদ আকন্দ (৩৮)।

 

শাহবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৪ মে) বিকাল আনুমানিক ৪টায় শাহবাগ থানাধীন একটি হোটেলের নিচতলায় বসে মো. এরশাদ আকন্দ নিজেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মহোদয়ের নিকটাত্মীয় পরিচয় দেন। তিনি বাদী জনৈক ছেলেকে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোট ৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে চাকরি দিতে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে শাহবাগ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

 

পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহবাগ থানা পুলিশের একটি টিম বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর আনুমানিক ৫টায় টাঙ্গাইল জেলার ভুঞাপুর থানা এলাকা অভিযান পরিচালনা করে মো. এরশাদ আকন্দকে গ্রেফতার করে।

 

এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

প্রতিমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ

খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পরীক্ষা চলাকালে অবৈধ ডিভাইস ও মোবাইল সহকারে হলে অবস্থান করে জালিয়াতির অভিযোগে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৯ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে তাদের আটক করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস।

 

জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ঢাকা কলেজে খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে পরীক্ষা পরিদর্শনে আসা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুল্লাহর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে জালিয়াতির অভিযোগে ৫০ জনকে আটক করা হয়।

 

পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ২৮ জনকে ও কেন্দ্রের বাহিরে ঢাকা কলেজে মূল ফটক থেকে ২২ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ফৌজদারি দন্ডবিধির ২৪৫ ও ২৫৮ ধারা অনুযায়ী অন্তত ১৬ জনকে ১ থেকে ৭ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, পরীক্ষায় সময় যাদের সন্দেহজনক মনে হয়েছে পরবর্তীতে চেক করে তাদের কাছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেছে। মোবাইলে মেসেজ পাওয়া গেছে। পরীক্ষার সময় তারা প্রশ্ন স্ক্যান করে পাঠিয়েছে। এরপর বাহিরে থেকে সেই উত্তর আসছে।

 

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে দুইটা গ্রুপ আছে। একটা হল যারা গেটের বাইরে ঢোকার সময় ধরা পড়ছে। আরেক গ্রুপকে পরীক্ষার হল থেকে ধরা হয়েছে। এরপর জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন রুম থেকে ধরে এনে আলাদা দুইটা রুমে রাখা হয়েছিল। কেন্দ্রের যে ম্যাজিস্ট্রেট আছে তার কাছে সপর্দ করা হয়েছে। আটকারীদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট আইনানুক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। এরপর তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে আটক ৫০ পরীক্ষার্থী

বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আরো কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

 

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে এ আহ্বান জানান তিনি।

 

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ ধরনের হুমকি মোকাবেলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

 

প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানের ফাঁকে প্রতিমন্ত্রী ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

 

বৈঠকে উভয়পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান

রাজধানীর ওয়ারী ও গেন্ডারিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র-মাদক কারবারের গডফাদার ‘অটো সজল’ ওরফে সজলসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। এসময়, উদ্ধার করা হয়েছে পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র-গুলি ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।

 

শনিবার (১৯ জুন) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম।

 

পুলিশ জানায়, গত ২ মার্চ ওয়ারী এলাকায় অভিযানের সময় একটি চক্র পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনার তদন্তের সূত্র ধরে রাজধানীর শামীবাগ এলাকায় অভিযান চালায় ডিএমপি। অভিযানে সজল ওরফে অটো সজল, বাপ্পি, শামসুন্নাহারসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৩টি অত্যাধুনিক পিস্তল ও ৭৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র গুলো থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

এছাড়াও অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে গেন্ডারিয়া থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

রাজধানীর ওয়ারীর অটো সজলসহ গ্রেফতার ৪, উদ্ধার অস্ত্র-গুলি ও মাদক

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চাঞ্চল্য: চার বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে গেল চার বান্ধবী

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় চার কিশোরী একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে। তবে পরে জানা যায়, ওই চার কিশোরী নিজেদের পরিচিত চার যুবকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার বান্ধবী দীর্ঘদিন ধরে ওই চার যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাদের খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনরা ধারণা করেছিলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জানা যায়, তারা স্বেচ্ছায় চার বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সন্তানদের দ্রুত ফিরে পাওয়ার আশায় স্বজনরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। অন্যদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

ঘটনার পর শ্যামনগরজুড়ে এটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চার বান্ধবীর একসঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় বিস্মিত স্থানীয়রা, আর তাদের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারগুলো।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চাঞ্চল্য: চার বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে গেল চার বান্ধবী

 

ভ্যাঙ্কুবারের মাঠে শুক্রবার (১৯ জুন) ফুটবলীয় গোলের উৎসব চললেও, গ্যালারি ও মাঠের ফুটবলারদের স্তব্ধ করে দিয়েছে এক বিভীষিকাময় চোট। ২০২৬ বিশ্বকাপে কাতারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে ৬-০ গোলের এক চোখ ধাঁধানো জয় তুলে নিয়েছে সহ-আয়োজক কানাডা। বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে এটিই কানাডিয়ানদের প্রথম ঐতিহাসিক জয়।

 

জোনাথন ডেভিডের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক আর জ্যাকব শ্যাফেলবার্গের গোলে বড় জয় নিশ্চিত হলেও, ম্যাচটি ফুটবল বিশ্ব মনে রাখবে ৫২ মিনিটে কানাডিয়ান মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনের মারাত্মক ইনজুরির জন্য, যা পুরো স্টেডিয়ামকে বিষাদের চাদরে ঢেকে দিয়েছিল।

 

ম্যাচের ৫২তম মিনিটে ডাগআউটের ঠিক সামনেই ঘটে সেই নারকীয় ঘটনা। কাতারের আসিম মাদিবো অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে এক চ্যালেঞ্জ করতে গেলে সরাসরি পা ভেঙে যায় ইসমাইল কোনের। যন্ত্রণায় কোনের সেই চিৎকার শুনেই কানাডার ফুটবলাররা আতঙ্কিত হয়ে মেডিকেল টিমকে মাঠে আসার জন্য ইশারা করতে থাকেন।

 

সম্প্রচারকারীরা ঘটনার ভয়াবহতার কারণে রিপ্লে না দেখালেও, টাচলাইনের মাইক্রোফোনে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে কেউ বলছেন, ‘পা তো ঝুলে পড়েছে’ মাঠের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা দ্রুত কোনের চারপাশে এক মানবপ্রাচীর তৈরি করেন যেন সেই দৃশ্য ক্যামেরায় না আসে। ঘটনার তীব্রতায় রেফারি ভিএআর দেখে মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এর আগে প্রথমার্ধে হোমাম এল আমিন দুই হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় কাতার পরিণত হয় ৯ জনের দলে।

 

ভয়াবহ এই ঘটনার ১০ মিনিট পর খেলা পুনরায় শুরু হলে, ৬৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে বদলি খেলোয়াড় নাথান সালিবা গোল করে কানাডাকে এগিয়ে নেন। গোল উদযাপনে সালিবা ডাগআউটে ছুটে গিয়ে ইসমাইল কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে সতীর্থের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করেন। এরপর যেন গোলের বন্যা বইয়ে দেয় কানাডা। জ্যাকব শ্যাফেলবার্গের গোলের পর জোনাথন ডেভিড এক অনবদ্য হ্যাটট্রিক করে দলকে ৬-০ গোলের পাহাড়সম জয় এনে দেন।

 

ম্যাচ শেষে কানাডার প্রধান কোচ জেসি মার্শ জানান, ডাগআউটের সামনে হাড় ভাঙার শব্দ এতটাই স্পষ্ট ছিল যে পুরো স্কোয়াড মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তবে হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিতে থাকা কোনে যেভাবে স্ট্রেচারে শোয়া অবস্থাতেই দর্শকদের হাত নাড়িয়ে অভয় দিচ্ছিলেন, তা তার ব্যক্তিত্বের এক অনন্য উদাহরণ। কোনের সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতেই আজ কাতারকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে কানাডিয়ানরা।

বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম জয়ের দিনে মাঠেই পা ভাঙল ইসমাইলের কোনের

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে লক্ষ্য করে পায়ে গুলি করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে—এমন একটি কথিত অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অডিওটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে সংসদ সদস্যের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত আরমান উদ্দিনের কণ্ঠ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অডিওতে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে কেন্দ্র করে সহিংস পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কথোপকথনে অংশ নেওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের কণ্ঠ আরমান উদ্দিনের বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অপর ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

সংরক্ষিত অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, লোহাগাড়ায় এমপি কেন আসবে? আসলে পায়ে গুলি করে জিজ্ঞেস করবো কেন এসেছে। লোহাগাড়ার এমপি আরমান সাহেব, এখানে আরমান সাহেবের কথাই চলবে। জবাবে আরমান উদ্দিন বলে পরিচিত ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, এমপিকে তো লোহাগাড়ায় না আসতে বলি। তারপরেও লোকজনের জ্বালায় আসে।

 

কথোপকথনের একপর্যায়ে অপর ব্যক্তি বলেন, বাদশা খালেদের মতো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থাকবো। এর জবাবে আরমান উদ্দিন বলে পরিচিত ব্যক্তি বলেন, এসব করলে পুলিশ আসবে, আর্মি আসবে, এমপি আসবে।

 

অডিওতে একজন সংসদ সদস্যকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত এবং সেখানে তার ব্যক্তিগত সহকারীর কথিত সম্পৃক্ততার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

 

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, অডিওতে শোনা অপর ব্যক্তি লোহাগাড়া এলাকায় বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী একটি মহলের ঘনিষ্ঠজন হতে পারেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

অডিওর বিষয়ে বক্তব্য জানতে আরমান উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

 

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। পুলিশ এখনো কোনো অডিও লিংক বা এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।

 

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ বা তথ্য নেই।

 

লোহাগাড়া থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা তথ্য পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

 

এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এমপিকে গুলির পরিকল্পনার অডিও ফাঁস, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় চাঞ্চল্য

মাগুরায় অর্থের অভাবে নিজের দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশুকে স্ত্রীর অগোচরে বিক্রি করে দিয়েছেন সাগর হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তি। পরে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে স্ত্রীর কাছে নাটক সাজিয়ে বলেছিলেন, ‘মেয়েকে জিন-পরি নিয়ে গেছে।’ বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে বাড়িতে ওঝা-কবিরাজ ডেকে ঝাড়ফুঁকও করিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে ২২ দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার হয়েছে। ফিরে পেয়েছে মায়ের কোল।

 

ঘটনাটি মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী গ্রামে ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত আটটায় মাগুরার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এ তথ্য জানান।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন সাগর হোসেন তার নবজাতক কন্যা টুকটুকিকে বিক্রি করে দেন। দত্তক হিসেবে ক্রেতা ছিলেন সদর উপজেলার দক্ষিণ বীরপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শাহাবুর (২৮) ও মনিরা খাতুন (২৫) দম্পতি। ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে এই অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরও অন্তত তিনজন ভূমিকা রাখেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, সন্তানকে বিক্রির সময় সাগর প্রতারণার আশ্রয় নেন। তিনি ওই দম্পতির সামনে অন্য এক নারীকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তার স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত এবং চিকিৎসার খরচ জোগাতেই তিনি সন্তান বিক্রি করছেন।

 

অন্যদিকে নিজের আসল স্ত্রী তানজিলা খাতুনের কাছে বাচ্চার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে ‘জিনে নেওয়ার’ গল্প ফাঁদেন এবং জিনের মাধ্যমেই বাচ্চা ফেরত আনা হবে আশ্বাস দিয়ে ২১ দিন অতিবাহিত করেন।

 

পরে বাচ্চার খোঁজ না পেয়ে তানজিলা খাতুন ব্যাকুল হয়ে পড়েন এবং বুধবার শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) শুভংকর রায়কে জানান। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে শাহাবুর ও মনিরা দম্পতির হেফাজত থেকে শিশু টুকটুকিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, দারিদ্র্য কখনোই সন্তান বিক্রির অজুহাত হতে পারে না। এটি জঘন্য ও দণ্ডনীয় অপরাধ। ক্রেতা দম্পতির আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়; তারা গরু বিক্রি করে বাচ্চাটি কিনেছেন বলে দাবি করেন। তবে কম বয়সী এই দম্পতি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বা পাচারের জন্য বাচ্চাটি কিনেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা সাগর হোসেন, ক্রেতা দম্পতি ও কেনাবেচায় সহায়তাকারী মধ্যস্থতাকারীদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

শিশুটির মা তানজিলা খাতুন বলেন, তাদের আরও দুটি সন্তান আছে। তৃতীয় সন্তান জন্মের ১৩ মাস আগে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে দুই শিশু জন্মের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক চাপে পড়ে তার স্বামী এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন বলে তার ধারণা। তিনি বলেন, ‘যত কষ্টই হোক, কোনো মা তার সন্তান অন্যকে দিতে চায় না। আমার স্বামী ভুল করেছে, তাকে ক্ষমা করে দিন।’

অভাবে মেয়েকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি, স্ত্রীকে জানান ‘জিন-পরী নিয়ে গেছে’

প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারানোর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে আগামীকাল সকালে মাঠে নামছে ব্রাজিল। গ্রুপ ‘সি’-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ায় সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল দল হাইতি। প্রথম ম্যাচের মন্থর গতি ও পয়েন্ট হারানোর ধাক্কা সামলে টুর্নামেন্টে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে কার্লো আনচেলত্তির দল এই ম্যাচে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না। ব্রাজিলের ফিফা র‍্যাঙ্কিং ৫, বিপরীতে ৮৫তম স্থানে থাকা হাইতির লক্ষ্য বিশ্বমঞ্চে যেকোনো মূল্যে এক অবিশ্বাস্য অঘটন ঘটানো।

 

ছন্দের খোঁজে সেলেসাওদের কৌশল

মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স মোটেও আশানুরূপ ছিল না। ম্যাচ শেষে মাঠের শুষ্কতাকে দায়ী করে ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বলেছিলেন, ‘মেটলাইফ স্টেডিয়ামের শুকনো উপরিভাগের কারণে ব্রাজিল তাদের স্বাভাবিক ছন্দ পাচ্ছিল না।’ তবে ফিলাডেলফিয়ার মাঠে সেই অজুহাত খাটবে না।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতি তাদের রক্ষণাত্মক ৪-৩-২-১ ফর্মেশন নিয়ে নিজেদের গোলপোস্ট পাহারা দিতে ব্যস্ত থাকবে এবং কাউন্টার অ্যাটাকের (পাল্টা আক্রমণ) ওপর ভরসা করবে। ব্রাজিলের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এই জমাট রক্ষণ ভাঙা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ার ব্যক্তিগত স্কিল এবং গতিই হতে পারে এই ম্যাচের মূল চাবিকাঠি। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে হাইতির বিপক্ষে খেলা তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই ব্রাজিল বড় ব্যবধানে জিতেছে এবং ন্যূনতম ৬টি করে গোল দিয়েছে। ফলে আজ প্রথম ম্যাচের খরা কাটাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।

 

প্রথম একাদশের ব্যবচ্ছেদ

প্রথম ম্যাচে দলের আক্রমণভাগের ব্যর্থতার কারণে কোচ কার্লো আনচেলত্তি আজকের একাদশে বড় ধরনের কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনতে পারেন। প্রথম ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো নিজের নামের প্রতি বিচার করতে না পারায় তাঁর জায়গায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাথেউস কুনিয়াকে ৯ নম্বর জার্সিতে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা যেতে পারে।

 

একই সাথে মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগেও পরিবর্তনের আভাস রয়েছে। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়া রজার ইবানেজের জায়গায় আজ শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলোকে। এ ছাড়া মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা কিংবা কাসেমিরোর জায়গায় ফাবিনিও এবং ব্রুনো গিমারায়েসের অন্তর্ভুক্তি মাঝমাঠের আক্রমণের ধার বাড়াতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে অল্প ব্যবধানে হারা হাইতি দলে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। রাইট ফ্ল্যাঙ্কে লুইসিয়াস দিদসনের ফর্ম নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে তাঁর আগের একাদশের ওপরই ভরসা রাখতে পারেন।

 

একাদশ

ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ (৪-৪-২):

 

অ্যালিসন (গোলরক্ষক), দানিলো, মার্কিনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস, সান্তোস, লুকাস পাকেতা/ফাবিনিও, কাসেমিরো/গিমারায়েস, রাফিনিয়া, মাথেউস কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইগর থিয়াগো।

 

হাইতির সম্ভাব্য একাদশ (৪-৪-২):

 

প্লাসিদ (গোলরক্ষক), আরকুস, আদে, দেলক্রোয়া, এক্সপেরিয়েন্স, লুইসিয়াস দিদসন/কাসিমির, জাক, বেলেগার্দে, প্রভিডেন্স, ইসিদোর ও পিয়েরো।

 

দুই দলের সমীকরণ

গ্রুপ ‘সি’-তে এই মুহূর্তে সুইজারল্যান্ড ও কানাডা ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ব্রাজিল যদি আজ হাইতির বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে না পারে, তবে পরের রাউন্ডের পথ তাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে উঠবে। শক্তির বিচারে দুই দলের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত থাকলেও হাইতিকে একেবারে হালকাভাবে নেওয়া যাচ্ছে না। কারণ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তারা দারুণ লড়াই করেছিল এবং বল দখলে এগিয়ে ছিল। তবে অতীত পরিসংখ্যান ও ফুটবলীয় শক্তি বিবেচনায় এই ম্যাচে ব্রাজিলের ২-০ বা তার চেয়ে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।

জয়ের জন্য মরিয়া ব্রাজিলের সামনে দুর্বল হাইতি, একাদশে থাকছেন যারা

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩