চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যেভাবে উদ্ধার করলো পুলিশ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যেভাবে উদ্ধার করলো পুলিশ

চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যেভাবে উদ্ধার করলো পুলিশ

সাভারে চলন্ত বাসে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে ওই বাসটি থামানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পরে বাসটি থেকে ওই নারীকেও উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় বাসের চালক, তার সহকারী এবং আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাতে সাভার উপজেলার আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো, বাসের চালক মো. ইমরান (৩৫), তার সহকারী মো. মুসফেকুর রহমান (২০) ও মো. সুমন প্রামাণিক (৩০) নামে চালকের পরিচিত এক ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।

আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভারের নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশে সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন ওই নারী। নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর আগে বাসের চালক ইমরান তার সহকারী মুসফেকুরকে বাস চালানোর দায়িত্ব দেয়।

 

পরে ইমরান ওই নারীর সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে মারধর করে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দেয়। একপর্যায়ে ইমরানও বাস থেকে নেমে যায়। এ সময় মুসফেকুর ও সুমন প্রামাণিক বাসে ছিল।

 

পরে সুমনের সহায়তায় মুসফেকুর চলন্ত বাসে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। অন্যদিকে বাস থেকে নামার পর ওই নারীর পরিচিত ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।

 

জানতে পেরে আশুলিয়া থানা পুলিশ আশুলিয়ার রাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার রাস্তায় একটি বাস দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এভাবে সাভার পরিবহনের বাসটি থামানো হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, থামানোর পর বাসটি থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মুসফেকুর ও সুমনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই নারী। পরে রবিবার বিকালে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে বাসচালক ইমরানকে গ্রেফাতর করে।

 

আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামবলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় মুসফেকুর ও সুমনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টায় নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মাদক আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।

 

বিজিবি জানিয়েছে, ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের বর্তমান বাজারমূল্য ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা।

 

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৫১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৭ টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪১ জনকে আটক করা হয়। জব্দ হওয়া পণ্যের মধ্যে প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ছিল।

 

ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ১৫ হাজার ৭৮ বোতল ফেনসিডিল, ১৮ হাজার ৬৫৪ পিস ইয়াবা, ১ কেজি হেরোইন, ২ কেজি ৪০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১৪ বোতল এলএসডি, বিভিন্ন ধরনের মদ, ২১ লাখ ৭৬ হাজার ২৫৭ পিস অবৈধ ওষুধ, ৭৫ হাজার ৭৬৬ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি, ৩ দশমিক ৮১ কেজি গাঁজা এবং বিপুল পরিমাণ মাদকজাতীয় ট্যাবলেট ও বড়ি।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। তবে মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি।

 

নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খুলনা সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, র‌্যাব-৬, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কাস্টমস, বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস এবং কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরা সীমান্তে ৩২ কোটি টাকার মাদক জব্দ, ধ্বংস করল বিজিবি

দৈনিক দেশ রূপান্তর প‌ত্রিকার কুয়াকাটা প্রতিনিধি কে এম বাচ্চুর ওপর হামলার ঘটনায় কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শহিদ সিকদার এবং পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি নাসির হাওলাদারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে কুয়াকাটা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে পটুয়াখালী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানাযায়, গত ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কুয়াকাটা মেরিন ড্রাইভ সড়কের হোটেল সৈকত সংলগ্ন এলাকায় সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হামলা চালায় আসামিরা। এ সময় হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর মাথা ও দুই পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। প‌রে স্থানীয়রা বাচ্চু‌কে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

 

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি কুয়াকাটায় এক তরুণীকে জোরপূর্বক হোটেল কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে বায়েজিদ শিকদারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিক কে এম বাচ্চু। ওই সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তিনি বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাপের মুখে ছিলেন। এছাড়া সরকারি জমি থেকে গাছ কেটে বিক্রি, অনিয়ম-দুর্নীতি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করায় অভিযুক্তরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন বলেও বাচ্চুর পরিবার দাবি করেছে।

 

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। এর মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কুয়াকাটায় সাংবাদিকের উপর হামলা, যুবদল-শ্রমিকদল নেতা কারাগা‌রে

শ্যামনগর উপজেলার বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন

‘৪ লাখ টাকার মাটি কোথায়?’—শ্যামনগর উপজেলা পরিষদে কাজের অস্তিত্ব নেই, অর্থ লোপাটের অভিযোগ

 

ইয়াছিন মোড়ল | শ্যামনগর, সাতক্ষীরা

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাটি ভরাটের জন্য ২০২৪- ২০২৫ অর্থ বছরের ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজের অস্তিত্ব নেই—এমন অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হলেও মাঠে দৃশ্যমান কোনো কাজ করা হয়নি।

 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, উপজেলা পরিষদের ভেতরে যেখানে মাটি ভরাটের কথা ছিল, সেখানে নতুন করে মাটি ফেলার কোনো চিহ্ন নেই। অথচ সরকারি নথিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, যদি প্রকল্পের অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে, তাহলে সেই কাজ কোথায়? সরকারি অর্থে সম্পন্ন হওয়া উন্নয়নকাজ জনগণের চোখে দৃশ্যমান থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে কাজ না থাকলে সরকারি অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রকল্পের কার্যাদেশ, পরিমাপ বই (এমবি), বিল-ভাউচার, অর্থ উত্তোলনের নথি এবং কাজের পূর্ব ও পরবর্তী ছবি প্রকাশ করা হলে প্রকৃত সত্য সহজেই বেরিয়ে আসবে।

 

সুশাসনকর্মীদের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং সরকারি অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

 

এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হোক।

৪ লাখ টাকার মাটি কোথায়?’—শ্যামনগর উপজেলা পরিষদে কাজের অস্তিত্ব নেই

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে বিএম মাহমুদুল ইসলাম (৩৮) নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে আটক করা হয়েছে।

 

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে পাইককান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

নিহত মাহমুদুল ইসলাম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের হায়দার আলী ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি খাগড়াছড়ির ৬ এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন)-এএসআই (সশস্ত্র) পদে কর্মরত ছিলেন।

 

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী-শ্বশুর আটক

কক্সবাজারের পেকুয়ায় গভীর রাতে এক প্রবাসীর বসত বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল হানা দিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তাণ্ডব চালিয়ে ডাকাতরা নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা ও ১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।

 

রোববার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে পেকুয়া পৌরসভার প্রস্তাবিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডের (সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড) আবদুল হামিদ সিকদারপাড়ার সৌদি প্রবাসী জমির আলম ও তার ছোট ভাই, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) রেজাউল করিমের বসতবাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

 

ঘটনার খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম বাহাদুর শাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বলেন, রাতে বাড়ির সামনে রাখা মোটরসাইকেল দেখতে বের হয়ে পাশের একটি দোকানে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বসেছিলেন। রাত ৩টার দিকে একটি সাদা রঙের হাইয়েস গাড়ি দ্রুত সড়ক দিয়ে চলে যায়। কয়েক মিনিট পর ৩-৪ জন ব্যক্তি দোকানে এসে তাদের পরিচয় জানতে চায়। প্রথমে তাদের প্রশাসনের লোক মনে হলেও পরে অস্ত্রের মুখে পাশের একটি ফার্নিচারের দোকানে নিয়ে তিনজনকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে।

 

তিনি বলেন, আমাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর ৭-৮ জন মুখোশধারী ডাকাত ঘরে ঢুকে পরিবারের সবাইকে একটি কক্ষে জিম্মি করে রাখে। আওয়াজ করলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। তারা আমার কক্ষ থেকে নগদ সাড়ে ৬ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। পরে বড় ভাই জমির আলমের কক্ষে ঢুকে আরও আড়াই লাখ টাকা ও ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে।

 

রেজাউল করিমের স্ত্রী তাসফিয়া সোলতানা কাজল বলেন, স্বামী মোটরসাইকেল দেখতে যাওয়ার কথা বলে রাতে বের হন। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি বাড়িতে ফিরলেও তার সঙ্গে অস্ত্রধারী ৭-৮ জন মুখোশপরা ব্যক্তি ছিল। তারা সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে লুটপাট চালায়। ডাকাতরা যাওয়ার সময় সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক নিয়ে গেছে।

 

তিনি জানান, ডাকাতরা নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা ও ১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকা পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাটি টের পাননি। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর তাদের চিৎকার শুনে নিচে নেমে বিষয়টি জানতে পারেন।

 

সৌদি প্রবাসী জমির আলমের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে আমাদের প্রাণনাশের ভয় দেখায়। গলার চেইন ও কানের দুল খুলে নেয়। আলমারি ও ড্রয়ারের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা তামিম বলেন, আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। এক বছর আগেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একদল অস্ত্রধারী পাশের দুটি বাড়ি থেকে ৬টি গরু লুট করে নিয়ে যায়। আমরা জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি করছি।

 

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পেকুয়ায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্টাফ রিপোর্টার

তানিন পিয়াস চৌধুরী

তাং: ২৮/০৭/২৬ মঙ্গলবার।

 

হেডলাইন: নড়াইল শহরে চিত্রা সেতুর প্রবেশমুখে উচ্চতা নিয়ন্ত্রণের লোহার বারে ধাক্কা লেগে চলন্ত নসিমন থেকে ছিটকে পড়ে মনির কাজী নামে এক গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

 

নড়াইল শহরে চিত্রা সেতুর প্রবেশমুখে উচ্চতা নিয়ন্ত্রণের লোহার বারে (হাইট ব্যারিয়ার) ধাক্কা লেগে চলন্ত নসিমন থেকে ছিটকে পড়ে মনির কাজী (৪৮) নামে এক গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মিলন খান নামে আরেক গরু ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন।

 

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে নড়াইল শহরের প্রবেশমুখে চিত্রা নদীর ওপর নির্মিত চিত্রা সেতুর প্রবেশমুখে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

নিহত মনির কাজী লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের কোলা গ্রামের রুকন কাজীর ছেলে। আহত মিলন খান একই উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়া গ্রামের রাজ্জাক খানের ছেলে।

 

নিহতের স্বজন ও পুলিশ জানায়, মনির কাজী নিজ বাড়ি থেকে নসিমনের ওপর দাঁড়িয়ে যশোরের ভাংগুড়া গরুর হাটে যাচ্ছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে নসিমনটি নড়াইল শহরতলির সীমাখালী এলাকায় চিত্রা সেতুতে ওঠার সময় বড় যানবাহন নিয়ন্ত্রণে স্থাপিত লোহার উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ বারে তার মাথায় আঘাত লাগে। এতে তিনি ও সঙ্গে থাকা মিলন খান চলন্ত নসিমন থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান।

 

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মনির কাজীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মিলন খান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। পরে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

নড়াইল থেকে

তানিন পিয়াস চৌধুরী

গণ টেলিভিশন সংবাদ

নড়াইল শহরে চিত্রা সেতুর প্রবেশমুখে উচ্চতা নিয়ন্ত্রণের লোহার বারে ধাক্কা লেগে চলন্ত নসিমন থেকে ছিটকে পড়ে মনির কাজী নামে এক গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

সাভারে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার পৌঁছে দিলো ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদল।

 

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

সাভারে জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপহারসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে তারা শহীদদের কবর জিয়ারত করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। মঙ্গলবার সাভারের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নির্দেশনায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল হক সৌরভ, সহ-সভাপতি জনি দেওয়ানসহ ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

 

এ সময় তমিজ উদ্দিন বলেন, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে যারা নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

কর্মসূচি শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সাভারে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার পৌঁছে দিলো ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদল

“শ্যামনগরের কৈখালীতে পাচারের সময় বিএডিসির ৫৩ বস্তা সার জব্দ”

 

মো: জাহাঙ্গীর আলম শ্যামনগর প্রতিনিধি :

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে অবৈধভাবে পাচারের অভিযোগে বিএডিসির ৫৩ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে জয়াখালী চেয়ারম্যান মোড়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে সারগুলো জব্দ করা হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, মো. আমিনুর রহমান নিজ নামে বিএডিসির ডিলার লাইসেন্স না থাকলেও অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে সার উত্তোলন করে কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি না করে অন্যত্র বেশি দামে বিক্রি করছিলেন।

 

চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম জানান, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় পাচারের সময় সারগুলো জব্দ করা হয়। এদিকে, কৃষকদের অভিযোগ—সার কিনতে গেলে অতিরিক্ত শর্ত ও কীটনাশক কিনতে বাধ্য করা হয়।

 

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিবাশীষ দাস জানান, ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনকও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

শ্যামনগরের কৈখালীতে পাচারের সময় বিএডিসির ৫৩ বস্তা সার জব্দ

সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টায় নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মাদক আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।

 

বিজিবি জানিয়েছে, ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের বর্তমান বাজারমূল্য ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা।

 

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৫১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৭ টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪১ জনকে আটক করা হয়। জব্দ হওয়া পণ্যের মধ্যে প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ছিল।

 

ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ১৫ হাজার ৭৮ বোতল ফেনসিডিল, ১৮ হাজার ৬৫৪ পিস ইয়াবা, ১ কেজি হেরোইন, ২ কেজি ৪০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১৪ বোতল এলএসডি, বিভিন্ন ধরনের মদ, ২১ লাখ ৭৬ হাজার ২৫৭ পিস অবৈধ ওষুধ, ৭৫ হাজার ৭৬৬ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি, ৩ দশমিক ৮১ কেজি গাঁজা এবং বিপুল পরিমাণ মাদকজাতীয় ট্যাবলেট ও বড়ি।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। তবে মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি।

 

নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খুলনা সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, র‌্যাব-৬, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কাস্টমস, বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস এবং কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরা সীমান্তে ৩২ কোটি টাকার মাদক জব্দ, ধ্বংস করল বিজিবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের আরও সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন।

 

তিনি জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষিশ্রমিক ও গাড়িচালক নিয়োগে উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও জাপানের প্রতি আহ্বান জানান।

 

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

 

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

 

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারের মতো আরও একটি শিল্প পার্ক স্থাপনে জাপান আগ্রহী হলে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বিকল হয়ে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ফোনালাপে এ সহযোগিতা চান তিনি। পরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার দেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্যাস সংকট নিরসনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

 

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সোমবার আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। মঙ্গলবার মালয়েশিয়ায় সেই চিঠি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। চিঠিতে বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমাতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

ফোনালাপে আনোয়ার ইব্রাহিম তার দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা দ্রুত জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

 

মালয়েশিয়ার আশ্বাস প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়ার কিছু সুযোগ আছে কি না তারা জানাবেন। তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারলে আলহামদুলিল্লাহ। না হলে কোন ফর্মে তারা সহযোগিতা করতে পারে, সেটা তারা জানাবেন।

 

মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ আগে থেকেই কাজ করছে তথ্য দিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমরা মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ নিয়ে কাজ করছি। এলএনজি সরবরাহের পাশাপাশি অভিজ্ঞতা, পরামর্শ কিংবা সম্পদ ভাগাভাগির মাধ্যমে মালয়েশিয়া সহযোগিতা করতে পারে কিনা, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

জ্বালানি সংকট কাটাতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

যশোরে মেহেজাবিন জান্নাত অনন্যা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে এক শিশুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত নারী যশোর-৪ আসনের এমপি ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের মেয়ে। তবে এমপির ভাষ্য, তার মেয়ে মেয়ের মানসিক সমস্যা আছে। বাড়ির সামনে শিশুদের হট্টগোলের জেরে ঘটনাটি ঘটে।

 

এদিকে এই ঘটনার জেরে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে এমপির যশোর শহরের বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ করেছেন। বাড়ির সামনের যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধও করেন তারা। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

 

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ মাদরাসার পাশে এমপি গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাও করেন কয়েকশ মানুষ।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদরাসাটি এমপির বাড়ির পাশেই। সেখানকার এক শিশু শিক্ষার্থীকে আজ সকালে মারধর করেন গোলাম রসুলের মেয়ে অনন্যা। প্রতিবাদ করতে গেলে এক নারী অভিভাবকের ওপরও চড়াও হন তিনি। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে এমপি রসুল মাদরাসা আপাতত বন্ধ রাখতে বলেন।

 

এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা এমপির বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। বাড়ির দিকে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়।

 

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ আলম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দুপুরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

 

ঘটনার সূত্রপাতের বিষয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন- গতকাল এমপি সাহেবের মেয়ে মাদরাসার এক হুজুরের সাইকেল ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। তার কিছু মানসিক সমস্যা আছে, এ কারণে এসব করেছেন। মাদ্রাসার লোকজন এতে ক্ষুব্ধ ছিলেন। আমি খবর পেয়ে রাতেই যাই। বিষয়টি মিটমাট করে আসি। আজ সকালে মেয়েটি আবার মাদরাসার এক শিশুকে মারধর করেন। এক অভিভাবকের মাথায় আঘাতও করেন। এরপর এলাকার লোকজন বিক্ষোভ শুরু করে।

 

এ বিষয়ে যশোর-৪ আসনের এমপি ও জামায়াত নেতা গোলাম রসুল গণমাধ্যমকে বলেন, আমার মেয়ে মেডিকেলে পড়ে। তার একটু মানসিক সমস্যা আছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমনকি ভারতেও তার চিকিৎসা করানো হয়েছে। এখনো তার চিকিৎসা চলছে। এর মধ্যে বাড়ির সামনে মাদ্রাসা হওয়ায় শিশুরা বিভিন্ন সময় সেখানে এসে হট্টগোল করে। অনন্যা শুধু এর প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি করা হয়েছে। এখন বাড়িতে হামলা চালিয়ে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে

জামায়াত এমপির মেয়ের বিরুদ্ধে শিশু মারধরের অভিযোগ, পুলিশ যা বলছে

জাতীয় যুবনীতি ২০১৭ হালনাগাদ করে সময়োপযোগী, আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন নীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে সরাসরি তরুণদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে খুলনায় অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পরামর্শ কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যুব প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) খুলনার নুরনগরে বিভাগীয় কমিশনারের ক্যাম্পাসের কৃষি বিপণন ভবনে দিনব্যাপী এই বিভাগীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

 

নতুন এ নীতি প্রণয়নে নেতৃত্বদেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ড. আবুল হোসেন। এতে অংশনেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের উপপরিচালক মরিয়ম আক্তার, খুলনার উপপরিচালক মো. মোস্তাক উদ্দীন, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) টেকনিক্যাল অফিসার হাবিবুর রহমান এবং ভিএসও বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী অনুপ গুন।

 

বক্তব্যে ড. আবুল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর তরুণ সমাজ। দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীই যুব। তাই পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং জলবায়ু সংকটের মতো বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের চাহিদা ও তাদের নিজেদের সরাসরি সুপারিশকেই পরিমার্জিত জাতীয় যুবনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

কর্মশালায় বক্তারা কর্মসংস্থান, পরিবেশবান্ধব দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, ডিজিটাল সক্ষমতা, উপকূলীয় জলবায়ু অভিঘাত এবং স্বেচ্ছাসেবাকে নতুন নীতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। তারা জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে সরাসরি তরুণদের মুখ থেকে চাহিদা শুনে নীতি প্রণয়নের ফলে শহর-গ্রাম, নারী-পুরুষ, প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ প্রান্তিক অঞ্চলের তরুণদের প্রত্যাশা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা নীতিমালায় প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

কর্মশালায় উপস্থিত তরুণরা দলীয় আলোচনা, উন্মুক্ত মতবিনিময় ও বিষয়ভিত্তিক সেশনের মাধ্যমে নীতি-নির্ধারকদের সামনে তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এ সময় খুলনা বিভাগের জেলা শিক্ষা দপ্তর, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি), জেলা ক্রীড়া দপ্তর, সিভিল সার্জন কার্যালয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জেলা মৎস্য দপ্তর, জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিগণ উপস্থিত থেকে তরুণদের মতামত গ্রহণ করেন। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন জেলার যুব প্রতিনিধিরাও এতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

 

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের উপপরিচালক মরিয়ম আক্তার জানান, খুলনা সহ দেশের ৮টি বিভাগে আয়োজিত কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও পর্যালোচনা করা হবে। পরবর্তীতে এসব মতামতের ভিত্তিতে একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সময়োপযোগী জাতীয় যুবনীতি প্রণয়ন করা হবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের যুবসমাজের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখবে।

জাতীয় যুবনীতি ২০১৭ হালনাগাদে খুলনায় সরাসরি মতামত দেওয়ার সুযোগ পেল তরুণরা

দৈনিক দেশ রূপান্তর প‌ত্রিকার কুয়াকাটা প্রতিনিধি কে এম বাচ্চুর ওপর হামলার ঘটনায় কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শহিদ সিকদার এবং পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি নাসির হাওলাদারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে কুয়াকাটা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে পটুয়াখালী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানাযায়, গত ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কুয়াকাটা মেরিন ড্রাইভ সড়কের হোটেল সৈকত সংলগ্ন এলাকায় সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হামলা চালায় আসামিরা। এ সময় হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর মাথা ও দুই পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। প‌রে স্থানীয়রা বাচ্চু‌কে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

 

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি কুয়াকাটায় এক তরুণীকে জোরপূর্বক হোটেল কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে বায়েজিদ শিকদারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিক কে এম বাচ্চু। ওই সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তিনি বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাপের মুখে ছিলেন। এছাড়া সরকারি জমি থেকে গাছ কেটে বিক্রি, অনিয়ম-দুর্নীতি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করায় অভিযুক্তরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন বলেও বাচ্চুর পরিবার দাবি করেছে।

 

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। এর মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কুয়াকাটায় সাংবাদিকের উপর হামলা, যুবদল-শ্রমিকদল নেতা কারাগা‌রে

সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা করার অভিযোগে কোতোয়ালি থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

 

পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা’র আদালত এই আদেশ দেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—মোস্তাকিম হোসেন (৫১), মো. নূর আলম (৩৫), মো. রুহুল আমিন (২৯) এবং মো. আনোয়ার হোসেন (৪৮)।

 

এর আগে, গতকাল এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক ইবনে খালিদ হোসেন তাদেরকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ো আবেদন করেন। ওইদিন আদালত এ সংক্রান্ত শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন।

 

আবেদনের বলা হয়, মামলাটির মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের অবস্থান চিহ্নিতকরণ এবং অর্থ জোগানদাতা ও চক্রান্তকারীদের খুঁজে বের করতে আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে একান্ত প্রয়োজন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই (রবিবার) রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ট্রাকচালক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের দিন ধার্য ছিল। ওই শুনানি উপলক্ষে জুনাইদ আহমেদ পলক সহ চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়।

 

এ সময় মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ক্যান্টিন গেট এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কতিপয় সদস্য ও সমর্থক সমবেত হয়। তারা জুনায়েদ আহমেদ পলককে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যাওয়ার সময় সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন হাতেনাতে ওই চারজনকে আটক করা হয় এবং বাকি ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা সদস্য পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।

পলককে কারাগারে নেওয়ার পথে বিশৃঙ্খলা, অতঃপর…

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d