শ্যামনগর উপজেলার বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
শ্যামনগর উপজেলার বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন

শ্যামনগর উপজেলার বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন

“শ্যামনগর উপজেলার বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন”

 

মো: জাহাঙ্গীর আলম

শ্যামনগর প্রতিনিধি :

শ্যামনগর উপজেলার বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মো: সোলাইমান কবিরকে আহবায়ক ও এ্যাড: আশেক এলাহী মু্ন্নাকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড: রুহুল কবির রিজভী। তার সাক্ষরিত প্রেস বিঙ্গপ্তিতে এ আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ০৩ মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশও দেওয়া হয়।


মানিকগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দিশারী’-এর উদ্যোগে বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে জন্মসনদ ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে জন্মসনদ ও শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে শহরের বেউথা এলাকায় দিশারী স্কুল প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

দিশারীর সভাপতি শাম-মিম-জোপা বৃষ্টি-র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক

 

 

 

জহিরুল ইসলাম তুষার-এর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক নাজমুল হাসান খান,মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দিশারীর উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অহিদুল মিয়া, মানিকগঞ্জ সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দিশারীর উপদেষ্টা মো. আকরাম হোসেন, এনপিআই-এর পরিচালক ও দিশারীর উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসেন, দিশারীর সাবেক সভাপতি হাসান সিকদার এবং পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা রত্না সাহা। এ সময় দিশারীর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দিশারী স্কুলের অনেক শিক্ষার্থীর জন্মসনদ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ে ভর্তি, পরীক্ষায় অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণে তারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পৌর প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় দিশারী স্কুলের ৪৩ জন শিক্ষার্থীর জন্মসনদ প্রস্তুত করে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

 

 

 

এছাড়া মানিকগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ, ওয়াটার বোতল, পেন্সিল বক্স, খাতা, কলম, পেন্সিল, শার্পনার এবং খাবার বিতরণ করা হয়।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। জন্মসনদ প্রতিটি শিশুর মৌলিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। দিশারী স্কুলের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক স্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

মানিকগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দিশারী’-এর উদ্যোগে বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে জন্মসনদ ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা

মাদক ও অনলাইন জুয়া ছেড়ে খেলার মাঠে পীরগঞ্জের সরলিয়ার যুব সমাজ।

মোঃ শাওন মিয়া (পীরগঞ্জ,রংপুর)

বর্তমান ডিজিটাল যুগে যেখানে অধিকাংশ যুবক ও কিশোর অনলাইন জুয়া ও মাদকের ফাঁদে পড়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে ফেলছে, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রংপুরের পীরগঞ্জের ১৫ নং কাবিলপুর ইউনিয়নের সরলিয়ার যুবসমাজ। ক্ষতিকর অনলাইন জুয়া ও মাদক থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখতে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মেতে উঠেছে তারা।

সকলে জানান,একসময় না বুঝে অনেকেই এসব ক্ষতিকর অনলাইন জুয়া এবং মাদক চক্রে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা বুঝতে পেরেছেন যে জুয়া বা মাদকে কেবল ক্ষতি ছাড়া কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এলাকার যুব সমাজ একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নেন যে মাদকের মতোই ভয়াবহ এই অনলাইন মাধ্যম ছেড়ে সকলকে খেলার মাঠে ফিরে আসার‌ আহ্ববান জানান।

গ্রামের সকল কিশোর, যুবক নিজেদের সময় কাটানোর মাধ্যম হিসেবে খেলাধুলা করার জন্য প্রতিদিন বিকেলে সরলিয়া বেতকাপা আদশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হয়ে দল ভাগের মাধ্যমে খেলা আরম্ভ করেন এর ফলে অনলাইন জুয়া‌ ও মাদকের মতো অগোচর ও ক্ষতিকর জগত থেকে তাদের মন পূর্ণাঙ্গভাবে দূরে সরে এসেছেন।

“যে মুখে ‘মা’ সে মুখে মাদক না ” স্লোগান কে সামনে রেখে এগিয়ে চলছে।

এলাকার শিক্ষিত সুশীল সমাজের মতে, তরুণদের মানসিক বিকাশ রক্ষা ও অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। সরলিয়ার যুবসমাজের এই স্বতঃস্ফূর্ত রূপান্তর এলাকার অন্যান্য গ্রামের যুবসমাজের জন্যও একটি শিক্ষণীয় এবং প্রশংসনীয় অনুকরণীয় হতে পারে।

মাদক ও অনলাইন জুয়া ছেড়ে খেলার মাঠে পীরগঞ্জের সরলিয়ার যুব সমাজ

সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নে চাকুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফু উদ্দিন সাইফুল।

 

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত শিক্ষার অন্যতম বাতিঘর ঐতিহ্যবাহী চাকুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ভবন নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফু উদ্দিন সাইফুল।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফু উদ্দিন সাইফুল নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবন নির্মাণের ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ আরও সুনিশ্চিত হবে।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চাকুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সাভার থানা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন

সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নে চাকুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফু উদ্দিন সাইফুল

‘৪ লাখ টাকার মাটি কোথায়?’—শ্যামনগর উপজেলা পরিষদে কাজের অস্তিত্ব নেই, অর্থ লোপাটের অভিযোগ

 

ইয়াছিন মোড়ল | শ্যামনগর, সাতক্ষীরা

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাটি ভরাটের জন্য ২০২৪- ২০২৫ অর্থ বছরের ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজের অস্তিত্ব নেই—এমন অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হলেও মাঠে দৃশ্যমান কোনো কাজ করা হয়নি।

 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, উপজেলা পরিষদের ভেতরে যেখানে মাটি ভরাটের কথা ছিল, সেখানে নতুন করে মাটি ফেলার কোনো চিহ্ন নেই। অথচ সরকারি নথিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, যদি প্রকল্পের অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে, তাহলে সেই কাজ কোথায়? সরকারি অর্থে সম্পন্ন হওয়া উন্নয়নকাজ জনগণের চোখে দৃশ্যমান থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে কাজ না থাকলে সরকারি অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রকল্পের কার্যাদেশ, পরিমাপ বই (এমবি), বিল-ভাউচার, অর্থ উত্তোলনের নথি এবং কাজের পূর্ব ও পরবর্তী ছবি প্রকাশ করা হলে প্রকৃত সত্য সহজেই বেরিয়ে আসবে।

 

সুশাসনকর্মীদের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং সরকারি অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

 

এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হোক।

৪ লাখ টাকার মাটি কোথায়?’—শ্যামনগর উপজেলা পরিষদে কাজের অস্তিত্ব নেই

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে বিএম মাহমুদুল ইসলাম (৩৮) নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে আটক করা হয়েছে।

 

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে পাইককান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

নিহত মাহমুদুল ইসলাম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের হায়দার আলী ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি খাগড়াছড়ির ৬ এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন)-এএসআই (সশস্ত্র) পদে কর্মরত ছিলেন।

 

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী-শ্বশুর আটক

কক্সবাজারের পেকুয়ায় গভীর রাতে এক প্রবাসীর বসত বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল হানা দিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তাণ্ডব চালিয়ে ডাকাতরা নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা ও ১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।

 

রোববার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে পেকুয়া পৌরসভার প্রস্তাবিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডের (সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড) আবদুল হামিদ সিকদারপাড়ার সৌদি প্রবাসী জমির আলম ও তার ছোট ভাই, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) রেজাউল করিমের বসতবাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

 

ঘটনার খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম বাহাদুর শাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বলেন, রাতে বাড়ির সামনে রাখা মোটরসাইকেল দেখতে বের হয়ে পাশের একটি দোকানে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বসেছিলেন। রাত ৩টার দিকে একটি সাদা রঙের হাইয়েস গাড়ি দ্রুত সড়ক দিয়ে চলে যায়। কয়েক মিনিট পর ৩-৪ জন ব্যক্তি দোকানে এসে তাদের পরিচয় জানতে চায়। প্রথমে তাদের প্রশাসনের লোক মনে হলেও পরে অস্ত্রের মুখে পাশের একটি ফার্নিচারের দোকানে নিয়ে তিনজনকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে।

 

তিনি বলেন, আমাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর ৭-৮ জন মুখোশধারী ডাকাত ঘরে ঢুকে পরিবারের সবাইকে একটি কক্ষে জিম্মি করে রাখে। আওয়াজ করলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। তারা আমার কক্ষ থেকে নগদ সাড়ে ৬ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। পরে বড় ভাই জমির আলমের কক্ষে ঢুকে আরও আড়াই লাখ টাকা ও ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে।

 

রেজাউল করিমের স্ত্রী তাসফিয়া সোলতানা কাজল বলেন, স্বামী মোটরসাইকেল দেখতে যাওয়ার কথা বলে রাতে বের হন। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি বাড়িতে ফিরলেও তার সঙ্গে অস্ত্রধারী ৭-৮ জন মুখোশপরা ব্যক্তি ছিল। তারা সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে লুটপাট চালায়। ডাকাতরা যাওয়ার সময় সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক নিয়ে গেছে।

 

তিনি জানান, ডাকাতরা নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা ও ১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকা পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাটি টের পাননি। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর তাদের চিৎকার শুনে নিচে নেমে বিষয়টি জানতে পারেন।

 

সৌদি প্রবাসী জমির আলমের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে আমাদের প্রাণনাশের ভয় দেখায়। গলার চেইন ও কানের দুল খুলে নেয়। আলমারি ও ড্রয়ারের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা তামিম বলেন, আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। এক বছর আগেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একদল অস্ত্রধারী পাশের দুটি বাড়ি থেকে ৬টি গরু লুট করে নিয়ে যায়। আমরা জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি করছি।

 

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পেকুয়ায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মানিকগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দিশারী’-এর উদ্যোগে বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে জন্মসনদ ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে জন্মসনদ ও শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে শহরের বেউথা এলাকায় দিশারী স্কুল প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

দিশারীর সভাপতি শাম-মিম-জোপা বৃষ্টি-র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক

 

 

 

জহিরুল ইসলাম তুষার-এর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক নাজমুল হাসান খান,মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দিশারীর উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অহিদুল মিয়া, মানিকগঞ্জ সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দিশারীর উপদেষ্টা মো. আকরাম হোসেন, এনপিআই-এর পরিচালক ও দিশারীর উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসেন, দিশারীর সাবেক সভাপতি হাসান সিকদার এবং পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা রত্না সাহা। এ সময় দিশারীর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দিশারী স্কুলের অনেক শিক্ষার্থীর জন্মসনদ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ে ভর্তি, পরীক্ষায় অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণে তারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পৌর প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় দিশারী স্কুলের ৪৩ জন শিক্ষার্থীর জন্মসনদ প্রস্তুত করে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

 

 

 

এছাড়া মানিকগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ, ওয়াটার বোতল, পেন্সিল বক্স, খাতা, কলম, পেন্সিল, শার্পনার এবং খাবার বিতরণ করা হয়।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। জন্মসনদ প্রতিটি শিশুর মৌলিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। দিশারী স্কুলের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক স্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

মানিকগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দিশারী’-এর উদ্যোগে বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে জন্মসনদ ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা

মাদক ও অনলাইন জুয়া ছেড়ে খেলার মাঠে পীরগঞ্জের সরলিয়ার যুব সমাজ।

মোঃ শাওন মিয়া (পীরগঞ্জ,রংপুর)

বর্তমান ডিজিটাল যুগে যেখানে অধিকাংশ যুবক ও কিশোর অনলাইন জুয়া ও মাদকের ফাঁদে পড়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে ফেলছে, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রংপুরের পীরগঞ্জের ১৫ নং কাবিলপুর ইউনিয়নের সরলিয়ার যুবসমাজ। ক্ষতিকর অনলাইন জুয়া ও মাদক থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখতে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মেতে উঠেছে তারা।

সকলে জানান,একসময় না বুঝে অনেকেই এসব ক্ষতিকর অনলাইন জুয়া এবং মাদক চক্রে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা বুঝতে পেরেছেন যে জুয়া বা মাদকে কেবল ক্ষতি ছাড়া কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এলাকার যুব সমাজ একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত নেন যে মাদকের মতোই ভয়াবহ এই অনলাইন মাধ্যম ছেড়ে সকলকে খেলার মাঠে ফিরে আসার‌ আহ্ববান জানান।

গ্রামের সকল কিশোর, যুবক নিজেদের সময় কাটানোর মাধ্যম হিসেবে খেলাধুলা করার জন্য প্রতিদিন বিকেলে সরলিয়া বেতকাপা আদশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হয়ে দল ভাগের মাধ্যমে খেলা আরম্ভ করেন এর ফলে অনলাইন জুয়া‌ ও মাদকের মতো অগোচর ও ক্ষতিকর জগত থেকে তাদের মন পূর্ণাঙ্গভাবে দূরে সরে এসেছেন।

“যে মুখে ‘মা’ সে মুখে মাদক না ” স্লোগান কে সামনে রেখে এগিয়ে চলছে।

এলাকার শিক্ষিত সুশীল সমাজের মতে, তরুণদের মানসিক বিকাশ রক্ষা ও অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। সরলিয়ার যুবসমাজের এই স্বতঃস্ফূর্ত রূপান্তর এলাকার অন্যান্য গ্রামের যুবসমাজের জন্যও একটি শিক্ষণীয় এবং প্রশংসনীয় অনুকরণীয় হতে পারে।

মাদক ও অনলাইন জুয়া ছেড়ে খেলার মাঠে পীরগঞ্জের সরলিয়ার যুব সমাজ

শ্যামনগর উপজেলার বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন

সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নে চাকুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফু উদ্দিন সাইফুল।

 

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত শিক্ষার অন্যতম বাতিঘর ঐতিহ্যবাহী চাকুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ভবন নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফু উদ্দিন সাইফুল।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফু উদ্দিন সাইফুল নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবন নির্মাণের ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ আরও সুনিশ্চিত হবে।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চাকুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সাভার থানা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন

সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নে চাকুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফু উদ্দিন সাইফুল

‘৪ লাখ টাকার মাটি কোথায়?’—শ্যামনগর উপজেলা পরিষদে কাজের অস্তিত্ব নেই, অর্থ লোপাটের অভিযোগ

 

ইয়াছিন মোড়ল | শ্যামনগর, সাতক্ষীরা

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাটি ভরাটের জন্য ২০২৪- ২০২৫ অর্থ বছরের ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজের অস্তিত্ব নেই—এমন অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হলেও মাঠে দৃশ্যমান কোনো কাজ করা হয়নি।

 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, উপজেলা পরিষদের ভেতরে যেখানে মাটি ভরাটের কথা ছিল, সেখানে নতুন করে মাটি ফেলার কোনো চিহ্ন নেই। অথচ সরকারি নথিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, যদি প্রকল্পের অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে, তাহলে সেই কাজ কোথায়? সরকারি অর্থে সম্পন্ন হওয়া উন্নয়নকাজ জনগণের চোখে দৃশ্যমান থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে কাজ না থাকলে সরকারি অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রকল্পের কার্যাদেশ, পরিমাপ বই (এমবি), বিল-ভাউচার, অর্থ উত্তোলনের নথি এবং কাজের পূর্ব ও পরবর্তী ছবি প্রকাশ করা হলে প্রকৃত সত্য সহজেই বেরিয়ে আসবে।

 

সুশাসনকর্মীদের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং সরকারি অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

 

এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হোক।

৪ লাখ টাকার মাটি কোথায়?’—শ্যামনগর উপজেলা পরিষদে কাজের অস্তিত্ব নেই

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে বিএম মাহমুদুল ইসলাম (৩৮) নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে আটক করা হয়েছে।

 

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে পাইককান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

নিহত মাহমুদুল ইসলাম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের হায়দার আলী ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি খাগড়াছড়ির ৬ এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন)-এএসআই (সশস্ত্র) পদে কর্মরত ছিলেন।

 

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী-শ্বশুর আটক

কক্সবাজারের পেকুয়ায় গভীর রাতে এক প্রবাসীর বসত বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল হানা দিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তাণ্ডব চালিয়ে ডাকাতরা নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা ও ১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।

 

রোববার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে পেকুয়া পৌরসভার প্রস্তাবিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডের (সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড) আবদুল হামিদ সিকদারপাড়ার সৌদি প্রবাসী জমির আলম ও তার ছোট ভাই, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) রেজাউল করিমের বসতবাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

 

ঘটনার খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম বাহাদুর শাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বলেন, রাতে বাড়ির সামনে রাখা মোটরসাইকেল দেখতে বের হয়ে পাশের একটি দোকানে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বসেছিলেন। রাত ৩টার দিকে একটি সাদা রঙের হাইয়েস গাড়ি দ্রুত সড়ক দিয়ে চলে যায়। কয়েক মিনিট পর ৩-৪ জন ব্যক্তি দোকানে এসে তাদের পরিচয় জানতে চায়। প্রথমে তাদের প্রশাসনের লোক মনে হলেও পরে অস্ত্রের মুখে পাশের একটি ফার্নিচারের দোকানে নিয়ে তিনজনকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে।

 

তিনি বলেন, আমাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর ৭-৮ জন মুখোশধারী ডাকাত ঘরে ঢুকে পরিবারের সবাইকে একটি কক্ষে জিম্মি করে রাখে। আওয়াজ করলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। তারা আমার কক্ষ থেকে নগদ সাড়ে ৬ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। পরে বড় ভাই জমির আলমের কক্ষে ঢুকে আরও আড়াই লাখ টাকা ও ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে।

 

রেজাউল করিমের স্ত্রী তাসফিয়া সোলতানা কাজল বলেন, স্বামী মোটরসাইকেল দেখতে যাওয়ার কথা বলে রাতে বের হন। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি বাড়িতে ফিরলেও তার সঙ্গে অস্ত্রধারী ৭-৮ জন মুখোশপরা ব্যক্তি ছিল। তারা সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে লুটপাট চালায়। ডাকাতরা যাওয়ার সময় সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক নিয়ে গেছে।

 

তিনি জানান, ডাকাতরা নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা ও ১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকা পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাটি টের পাননি। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর তাদের চিৎকার শুনে নিচে নেমে বিষয়টি জানতে পারেন।

 

সৌদি প্রবাসী জমির আলমের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে আমাদের প্রাণনাশের ভয় দেখায়। গলার চেইন ও কানের দুল খুলে নেয়। আলমারি ও ড্রয়ারের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা তামিম বলেন, আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। এক বছর আগেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একদল অস্ত্রধারী পাশের দুটি বাড়ি থেকে ৬টি গরু লুট করে নিয়ে যায়। আমরা জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি করছি।

 

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পেকুয়ায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়ার বিরুদ্ধে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী (ইসরাত জাহান)। তার দাবি, লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ প্রথমে তা গ্রহণে অনীহা দেখায়।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুলাই বিকেলে ইমন নামে এক ব্যক্তি স্নিগ্ধা চৌধুরীকে আশিয়ান গ্রুপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার জন্য ১৬ লাখ টাকার একটি চুক্তির প্রস্তাব দেন। ওই দিন রাত ৮টার দিকে চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে স্নিগ্ধা তার মাকে সাথে নিয়ে ৩০০ ফুট এলাকার আশিয়ান মেডিকেল কলেজ অফিসে যান।

 

স্নিগ্ধার মা বাসায় ফিরে যাওয়ার পর নজরুল ইসলাম ভূইয়া তাকে অন্য একজন নারীর সাথে গুলিয়ে ফেলেন এবং টাকা আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ তোলেন। স্নিগ্ধা ভুল ভাঙানোর চেষ্টা করলেও তা গ্রাহ্য করা হয়নি।

 

একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম শর্টগান উঁচিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এরপর স্নিগ্ধার হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়, চুল ধরে মেঝেতে ফেলে নির্যাতন চালানো হয় এবং কাঁচি দিয়ে মুখমণ্ডল নষ্ট করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, আশিয়ান চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী তাকে জোর করে কফি খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি রাজি না হওয়ায় তার মুখে গরম কফি ছুড়ে মারা হয়।

 

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় নির্যাতনের পর তার মুখ চেপে ধরে মদের সাথে কোনো নেশাজাতীয় ওষুধ মিশিয়ে জোর করে পান করানো হয়।

 

রাত সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্য কক্ষে গেলে স্নিগ্ধা ভবনের এক তলার বারান্দা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

 

ঘটনার পর প্রায় এক দিন তিনি অচেতন ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২৬ জুলাই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে স্বজনদের সাথে পরামর্শ করে তিনি খিলক্ষেত থানায় লিখিত অভিযোগ জানান এবং আইনি বিচার দাবি করেন।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ভূইয়া বা আশিয়ান গ্রুপের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি খিলক্ষেত থানা থেকেও লিখিত অভিযোগের বর্তমান অবস্থা বা তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

কফি খাওয়ার কথা বলে ৩০০ ফিটে নিয়ে গিয়ে নায়িকাকে মারধর

সাভারে চলন্ত বাসে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে ওই বাসটি থামানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পরে বাসটি থেকে ওই নারীকেও উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় বাসের চালক, তার সহকারী এবং আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাতে সাভার উপজেলার আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো, বাসের চালক মো. ইমরান (৩৫), তার সহকারী মো. মুসফেকুর রহমান (২০) ও মো. সুমন প্রামাণিক (৩০) নামে চালকের পরিচিত এক ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।

আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভারের নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশে সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন ওই নারী। নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর আগে বাসের চালক ইমরান তার সহকারী মুসফেকুরকে বাস চালানোর দায়িত্ব দেয়।

 

পরে ইমরান ওই নারীর সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে মারধর করে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দেয়। একপর্যায়ে ইমরানও বাস থেকে নেমে যায়। এ সময় মুসফেকুর ও সুমন প্রামাণিক বাসে ছিল।

 

পরে সুমনের সহায়তায় মুসফেকুর চলন্ত বাসে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। অন্যদিকে বাস থেকে নামার পর ওই নারীর পরিচিত ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।

 

জানতে পেরে আশুলিয়া থানা পুলিশ আশুলিয়ার রাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার রাস্তায় একটি বাস দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এভাবে সাভার পরিবহনের বাসটি থামানো হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, থামানোর পর বাসটি থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মুসফেকুর ও সুমনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই নারী। পরে রবিবার বিকালে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে বাসচালক ইমরানকে গ্রেফাতর করে।

 

আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামবলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় মুসফেকুর ও সুমনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যেভাবে উদ্ধার করলো পুলিশ

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জের সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা পানের বরজ উচ্ছেদে অভিযান চালাতে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমসহ তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

 

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে পানেরছড়া রেঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

আহতরা হলেন- পানেরছড়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) শরিফুল আলম, ফরেস্ট গার্ড হুমায়ুন কবির, বাগান মালি সাইদুল ইসলাম, বাগান মালি মো. সাজিদ এবং ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য মিজানুর রহমান।

 

বন বিভাগ জানায়, সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। অভিযান চলাকালে একদল ভূমিদস্যু ও দখলদার সংঘবদ্ধভাবে বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে পাঁচজন আহত হন। হামলার সময় অভিযানে ব্যবহৃত সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

 

গুরুতর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রয়োজন হলে তাকে চট্টগ্রামের বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হতে পারে বলে জানা গেছে। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করে গড়ে তোলা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে আইনানুগ অভিযান পরিচালনার সময় বন বিভাগের সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে। এতে আমাদের পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রয়োজন হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হবে।

 

ডিএফও আরও বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি দখল এবং সরকারি দায়িত্ব পালনরত বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হামলায় জড়িতদের মধ্যে পানেরছড়া সমিতিপাড়া ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নাজির, সাহাবউদ্দিন, জসিম ও আবদুল্লাহর নাম প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

বনকর্মীদের অভিযোগ, বন বিভাগের লোকবল সংকটের সুযোগ নিয়েই দখলদার চক্র বারবার হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল অবৈধ দখলের কবলে রয়েছে। বনভূমি দখল করে সেখানে পানের বরজ, বসতঘর ও নানা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদে বন বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালালেও প্রায়ই স্থানীয় দখলদারদের বাধা, হুমকি ও হামলা শিকার হতে হয়

উচ্ছেদ অভিযানে বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা, আহত ৫

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d