
মানিকগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দিশারী’-এর উদ্যোগে বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে জন্মসনদ ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে জন্মসনদ ও শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে শহরের বেউথা এলাকায় দিশারী স্কুল প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দিশারীর সভাপতি শাম-মিম-জোপা বৃষ্টি-র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক
জহিরুল ইসলাম তুষার-এর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক নাজমুল হাসান খান,মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দিশারীর উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অহিদুল মিয়া, মানিকগঞ্জ সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দিশারীর উপদেষ্টা মো. আকরাম হোসেন, এনপিআই-এর পরিচালক ও দিশারীর উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসেন, দিশারীর সাবেক সভাপতি হাসান সিকদার এবং পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা রত্না সাহা। এ সময় দিশারীর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দিশারী স্কুলের অনেক শিক্ষার্থীর জন্মসনদ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ে ভর্তি, পরীক্ষায় অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণে তারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পৌর প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় দিশারী স্কুলের ৪৩ জন শিক্ষার্থীর জন্মসনদ প্রস্তুত করে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এছাড়া মানিকগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ, ওয়াটার বোতল, পেন্সিল বক্স, খাতা, কলম, পেন্সিল, শার্পনার এবং খাবার বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। জন্মসনদ প্রতিটি শিশুর মৌলিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। দিশারী স্কুলের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক স্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
Leave a Reply