
রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়ার বিরুদ্ধে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী (ইসরাত জাহান)। তার দাবি, লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ প্রথমে তা গ্রহণে অনীহা দেখায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুলাই বিকেলে ইমন নামে এক ব্যক্তি স্নিগ্ধা চৌধুরীকে আশিয়ান গ্রুপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার জন্য ১৬ লাখ টাকার একটি চুক্তির প্রস্তাব দেন। ওই দিন রাত ৮টার দিকে চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে স্নিগ্ধা তার মাকে সাথে নিয়ে ৩০০ ফুট এলাকার আশিয়ান মেডিকেল কলেজ অফিসে যান।
স্নিগ্ধার মা বাসায় ফিরে যাওয়ার পর নজরুল ইসলাম ভূইয়া তাকে অন্য একজন নারীর সাথে গুলিয়ে ফেলেন এবং টাকা আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ তোলেন। স্নিগ্ধা ভুল ভাঙানোর চেষ্টা করলেও তা গ্রাহ্য করা হয়নি।
একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম শর্টগান উঁচিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এরপর স্নিগ্ধার হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়, চুল ধরে মেঝেতে ফেলে নির্যাতন চালানো হয় এবং কাঁচি দিয়ে মুখমণ্ডল নষ্ট করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, আশিয়ান চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী তাকে জোর করে কফি খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি রাজি না হওয়ায় তার মুখে গরম কফি ছুড়ে মারা হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় নির্যাতনের পর তার মুখ চেপে ধরে মদের সাথে কোনো নেশাজাতীয় ওষুধ মিশিয়ে জোর করে পান করানো হয়।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্য কক্ষে গেলে স্নিগ্ধা ভবনের এক তলার বারান্দা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
ঘটনার পর প্রায় এক দিন তিনি অচেতন ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২৬ জুলাই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে স্বজনদের সাথে পরামর্শ করে তিনি খিলক্ষেত থানায় লিখিত অভিযোগ জানান এবং আইনি বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ভূইয়া বা আশিয়ান গ্রুপের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি খিলক্ষেত থানা থেকেও লিখিত অভিযোগের বর্তমান অবস্থা বা তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে।
Leave a Reply