
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় জিনের আসরের দাবিতে দাফনের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর হালিমা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। তবে ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
গতকাল শনিবার (২ আগস্ট) রাত ৮টায় উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হালিমা বেগম (৬৫) উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের মৃত সোহরাব আকন্দের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে ওই নারীর মৃত্যু হলে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। একপর্যায়ে দাবি করা হয়, মৃত নারীর ছেলে ও মেয়ের ওপর জিনের আসর হয়েছে। তাদের মাধ্যমে জিনের নির্দেশ এসেছে যে, ওই নারী জীবিত আছেন এবং তাকে কবর থেকে উত্তোলন করতে হবে।
এ দাবির পর রাতেই কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। প্রথমে তাকে মেলান্দহে নেওয়া হয়। পরে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাত সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই নারীকে মৃত বলে নিশ্চিত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি পুনরায় বাড়িতে নিয়ে যান। এই ঘটনায় কথা বলেননি পরিবারের সদস্যরা ও চিকিৎসকেরা।

প্রথম স্ত্রীকে রেখে দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন প্রবাসী রফিউদ্দিন। এরই মধ্যে তার স্ত্রী পরকীয়া প্রেমে পড়েছেন এক ইতালি প্রবাসীর। খবর পেয়ে দেশে ফিরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন রফিউদ্দিন।
দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বছরখানেক সংসার করে আবার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক করে তাকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বুলডোজার দিয়ে রফিউদ্দিনের বাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বজনরা।
রোববার (২ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খেজুরতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের মৃত রমজান আলির ছেলে রফিউদ্দিন একই গ্রামের সহিদুল ইসলামের মেয়ে ছনিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। রফিউদ্দিন দীর্ঘদিন বিদেশে থাকায় ছনিয়া খাতুন এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে অজানার উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত থানায় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। ছনিয়া খাতুন ইতালি প্রবাসীর কাছে থেকে যান।
এদিকে মালয়েশিয়া প্রবাসী রফিউদ্দিন বাড়ি ফিরে একই গ্রামের মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের এক বছরের মাথায় রফিউদ্দিন তার প্রথম স্ত্রী ছনিয়া খাতুনকে পুনরায় বিয়ে করে তাকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান।
এ ঘটনার পর দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা খাতুনের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। রোববার সকাল ১০টা নাগাদ বুলডোজার দিয়ে রফিউদ্দিনের বাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেন তারা।
এ বিষয়ে নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন মেম্বার বলেন, মুকুল হোসেনের মেয়ে অতিভদ্র ও অমায়িক একটা সভ্য মেয়ে। তার জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা উচিত হয়নি। তবে ক্ষোভের কারণে এভাবে বাড়ি না ভেঙে আইনি পদক্ষেপ নিলে ভালো হতো।
এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাঈল বলেন, ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকেই নানা মাধ্যমে তদবির করে নিজেদের সুরক্ষিত রেখেছেন। বিচারের কাঠাগড়ায় দাঁড় করানোর পরিবর্তে উলটো তাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আত্মগোপনে চলে যান অনেক পুলিশ কর্মকর্তা। জুলাই আন্দোলন দমনে জড়িত রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলার এসপিদের পদ থেকে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পরে অনেকের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যা মামলাও হয়। আন্দোলন দমন ও হত্যা নির্যাতনে জড়িত কর্মকর্তারা এখন কে কোথায় আছেন-এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পেয়েছে যুগান্তর।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলন দমনে মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ ও জেলায় এসপি দায়িত্ব পালন করেন ১১৬ জন কর্মকর্তা। যাদের মধ্যে ৪১ জনই বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরে স্বাভাবিক দায়িত্বে রয়েছেন। অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে পুলিশ সদর দপ্তর, এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন), রেলওয়ে পুলিশ কিংবা পুলিশ একাডেমি সারদায় ‘সংযুক্ত’ রাখা হয়েছে। কেউ কেউ ট্রেনিং সেন্টার বা বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত আছেন। প্রাপ্ত হিসাবে দেখা যায়, জুলাই আন্দোলন দমনে সম্পৃক্ত ৩৫ শতাংশের বেশি কর্মকর্তা এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। এ ঘটনাকে উদ্বেগজনক মনে করছেন জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আইনের আওতার বাইরে থাকা ৪১ জন ডিআইজি-এডিশনাল ডিআইজি ও এসপি পুর্লিশের ‘বিষফোড়া’। এরাই ভেতরকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরে পাচার করে দিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ অনৈক্য সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় অবসরে পাঠানো হয়েছে মাত্র ১৭ জনকে। গড় হিসাবে এই সংখ্যার হার ১৪ শতাংশ। অন্য ৫৭ জন কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসাবে বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। এদের মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে কাউকে অবসরে পাঠানো হচ্ছে, কাউকে বরখাস্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের বাইরে পলাতক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় যেসব জেলার এসপিদের সরাসরি নির্দেশ ছিল তাদের অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। কেউ কেউ বরখাস্ত হয়েছেন, আবার কেউ কারাবন্দি কিংবা বিচারাধীন মামলার আসামি হিসাবে পলাতক। বিভিন্ন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার ও এপিবিএনের ব্যাটালিয়নগুলোতে স্বাভাবিক দায়িত্বে রয়েছেন অনেকে। হাইওয়ে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, সিআইডি কিংবা পুলিশ টেলিকমে সংযুক্ত আছেন বেশ কয়েকজন। এদের মধ্যে কেউ কেউ লবিং চালিয়ে ভালো পোস্টিংও পেয়েছেন। কোনো কোনো অতিরিক্ত ডিআইজিও খোলস পালটে বাগিয়ে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পদ।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ৬৪ জেলায় দায়িত্ব পালন করা ৭৭ এসপির মধ্যে ৩৫ জনই এখন বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাপ্ত হিসাবে দেখা যায়, এসপি হিসাবে জুলাই আন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে ৪৫ শতাংশই এখনো স্বাভাবিক দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন ৪২ জন বা ৫৪ শতাংশ এসপি। এই শাস্তির মধ্যে রয়েছে বরখাস্ত কিংবা সংযুক্ত রাখা। এই পরিসংখ্যানে পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।
এদিকে গত দুই বছরে আট মেট্রোপলিটন পুলিশের সব কমিশনার ও আটটি রেঞ্জের ডিআইজির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে অবসরে পাঠানো হয়েছে আট কমিশনার ও ছয় ডিআইজিকে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তিন ডিআইজি ও এক কমিশনারকে।
অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রেঞ্জের ২১ অতিরিক্ত ডিআইজির মধ্যে ছয়জন এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। বাকিদের বিভিন্ন কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত আইজিপি একেএম আওলাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারকে সহায়তায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ৩৫ এসপি: আন্দোলনের সময় টাঙ্গাইলের এসপি সরকার মোহাম্মদ কায়সার পদোন্নতি পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হন। সম্প্রতি তাকে রাঙামাটির বেতবুনিয়া ট্রেনিং সেন্টারে স্বাভাবিক পদায়ন করা হয়েছে। ফরিদপুরের এসপি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম রংপুর মেট্রোপলিটনের ডিসি, রাজবাড়ীর এসপি জিএম আবুল কালাম আজাদ এপিবিএনে, শরীয়তপুরের মাহবুবুল আলম ঢাকার পুলিশ স্টাফ কলেজে, মাদারীপুরের মোহাম্মদ শফিউর রহমান পিটিসি খুলনায়, নেত্রকোনার ফয়েজ আহমেদ খুলনার আরআরএফ-এ, শেরপুরের দুই এসপির মধ্যে মোনালিসা বেগম সিআইডিতে এবং আকরামুল হোসেন চট্টগ্রাম রেঞ্জে, কক্সবাজারের মাহফুজুল ইসলাম এপিবিএনে, বান্দরবানের সৈকত শাহীন শিল্পাঞ্চল পুলিশে, খাগড়াছড়ির মুক্তা ধর নৌ পুলিশে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন সিআইডিতে কর্মরত আছেন।
চাঁদপুরের এসপি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে, মৌলভীবাজারের মনজুর রহমান নোয়াখালী ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, সুনামগঞ্জের এমএন মোর্শেদ পিবিআইয়ে, সাতক্ষীরার মতিউর রহমান সিদ্দিকী ঢাকার টেলিকমে, চুয়াডাঙ্গার আরএম ফয়জুর রহমান পিবিআইয়ে, কুষ্টিয়ার দুজনের মধ্যে এএইচএম আবদুর রকিব পিটিসি নোয়াখালীর অতিরিক্ত ডিআইজি আর মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন রংপুর রেঞ্জে, নড়াইলের মোহা. মেহেদী হাসান রেলওয়ে পুলিশে, মেহেরপুরের এসএম নাজমুল হক নৌ পুলিশে, পিরোজপুরের মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম সিলেট রেঞ্জে, ভোলার মাহিদুজ্জামান হবিগঞ্জের ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, ঝালকাঠির মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল রাজশাহী রেঞ্জে, বরগুনার মো. রাফিউল আলম এন্টিটেররিজম ইউনিটে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. ছাইদুল হাসান ট্যুরিস্ট পুলিশে, পাবনার আকবর আলী মুনসী লালমনিরহাট ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, নওগাঁর মুহাম্মদ রাশিদুল হক সিআইডিতে, জয়পুরহাটের মোহাম্মদ নূরে আলম আরআরএফ বরিশালে, রংপুরের ফেরদৌস আলী চৌধুরী সিএমপিতে, ঠাকুরগাঁওয়ের উত্তম প্রসাদ পাঠক ট্যুরিস্ট পুলিশে, পঞ্চগড়ের এসএম সিরাজুল হুদা ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার গাজীপুরে, নীলফামারীর মোকবুল হোসেন ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার কুষ্টিয়ায়, লালমনিরহাটের মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সিআইডিতে এবং কুড়িগ্রামের আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম পিবিআইতে কর্মরত।
৬ অতিরিক্ত ডিআইজি: ছাত্র-জনতার অন্দোলনের সময় বিভিন্ন রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিদের মধ্যে ছয়জন এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তৎকালীন চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের তিন অতিরিক্ত জিআইজির মধ্যে একজন সংযুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে মাহফুজুর রহমান বর্তমানে টাঙ্গাইলে পিটিসিতে (পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার) এবং প্রবীর কুমার রায় নৌ পুলিশে কর্মরত। রাজশাহী রেঞ্জ অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম পুলিশ সদর দপ্তরে, বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বর্তমানে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার। একইভাবে সিলেট রেঞ্জে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী লিটন কুমার সাহা খুলনায় পিটিসি (পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার) ও সিলেট রেঞ্জের একজন অতিরিক্ত ডিআইজি ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার হিসাবে কর্মরত।
সাময়িক বরখাস্ত ১১ এসপির মধ্যে কারাগারে তিনজন: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ৬৪ জেলায় দায়িত্ব পালন করা ৭৬ এসপির মধ্যে মাত্র ১১ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর মধ্যে তৎকালীন ঢাকা জেলার এসপি মো. আসাদুজ্জামানকে অভ্যুত্থানের পরই রাজশাহীতে সংযুক্ত করা হলেও পরে তাকে ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতারের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সাময়িক বরখাস্তের তালিকায় আরও যারা রয়েছেন-নারায়ণগঞ্জের গোলাম মোস্তফা রাসেল, লক্ষ্মীপুরের মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ, যশোরের প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সিরাজগঞ্জের আরিফুর রহমান মন্ডল, বগুড়ার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রংপুরের মো. শাহজাহান। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনজন গ্রেফতার হয়ে রয়েছেন কারাগারে। এরা হলেন-নোয়াখালীর এসপি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, কুমিল্লার আব্দুল মান্নান ও বাগেরহাটের আবুল হাসনাত খান।

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্ড প্রস্তুত ও উপকারভোগী বাছাই কার্যক্রমেই ব্যয় হতে যাচ্ছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজনেই ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সরকার যখন ব্যয় কমানোর কথা বলছে, সে সময় শুধু কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানেই বিপুল পরিমাণ বাজেটকে ‘খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
তিনি বলেন, ‘৫০ কোটি টাকা তো অনেক, এ টাকা দিয়ে বহু মানুষকে সহায়তা দেওয়া যেত। অনুষ্ঠান আয়োজনে যদি বিপুল খরচ করা হয়, তাহলে কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়।’
অবশ্য প্রকল্প পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলছেন, ‘অনুষ্ঠানের খরচ বাবদ ৫০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে ঠিকই। তবে এর মানে এই নয় যে পুরো টাকাই খরচ হবে।’
এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কার্ড বিতরণ শুরু করেছে সরকার। সেখানে শুরুতেই উপকারভোগী নির্বাচনে অনিয়ম সামনে এসেছে। টাইমস অব বাংলাদেশের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা ঢাকার কড়াইল বস্তিতে প্রকৃত নিম্নআয়ের অনেক পরিবার বাদ পড়লেও বাড়ির মালিকসহ তুলনামূলকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘সোশ্যাল প্রটেকশন ফর ইম্প্রুভড রেজিলিয়েন্স, ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং’ (এসএসপিআইআরআইটি) প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীর আওতায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি যুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটির সংশোধিত প্রস্তাব সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় পর্যালোচনা শেষে কয়েকটি খাতে ব্যয় কমিয়ে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্য থাকলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটে এর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। এজন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব গত ১৮ জুলাই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে থোক বরাদ্দ থেকে চলতি অর্থবছরেই ১ হাজার ৫১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা স্থানান্তরের অনুরোধ জানান।
এর পরদিন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ সেলিম হোসেন পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
ব্যয় প্রস্তাব অনুযায়ী, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণের জন্য চলতি অর্থবছরে ৫৫০ কোটি ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫টি ট্যাব এবং পাঁচটি সুপার কম্পিউটার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ খাতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ২২১ কোটি ৩২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।
কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আট বিভাগে সেমিনারের জন্য ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ডেটা সংগ্রহ, এন্ট্রি ও প্রসেসিং এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের জন্য ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ভাতা বাবদ ৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ৬০ হাজার জরিপকারী নিয়োগ দিয়ে দেশব্যাপী প্রকৃত সুবিধাভোগীর শনাক্ত করা হবে। জরিপ, তথ্য সংগ্রহ, ডেটা এন্ট্রি ও প্রসেসিংয়ের জন্য জনবলের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদের এসএসপিআইআরআইটি প্রকল্পটি মূলত ২০২৫ সালে ৯০৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমোদন করা হয়। তবে সরকার আলাদা কোনো প্রকল্প গ্রহণ না করে বিদ্যমান প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রথম সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ২ হাজার ৮১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা করা হয়। পরে বিভিন্ন খাতে ব্যয় পুনর্বিন্যাস করে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন অংশে ১ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা করে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি।
প্রকল্প সংশোধনের আওতায় অতিরিক্ত আটটি ডাটা এন্ট্রি সেবা এবং পাঁচটি কম্পিউটিং সেবা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের কার্যক্রম সম্প্রসারণের কারণে দুটি জিপ ও আটটি মাইক্রোবাসসহ মোট ১০টি যানবাহন ভাড়ায় ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। গত অর্থবছরে দেশের ৬৫টি ইউনিটে পরীক্ষামূলকভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। চলতি অর্থবছরে কর্মসূচিটি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই দেশব্যাপী একটি সমন্বিত জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগী পরিবার চিহ্নিত করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, ‘প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণে ৫৫০ কোটি টাকা কতজনের জন্য ব্যয় করা হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম অর্থবছরে ৪১ লাখ মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার টার্গেট রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে কার্ড দেওয়া হবে।’
তিনি জানান, দ্রুত মানুষের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে ইতিমধ্যে জরিপের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগস্ট মাসের মধ্যেই জরিপের কাজ শেষ করা হবে। জরিপ কাজে পরিসংখ্যান ব্যুরোর টেকনিক্যাল সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সচিবের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে রাজি হননি।
শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টাইমস-এর অনুসন্ধানে রাজধানী ঢাকার কড়াইল বস্তির একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রকৃত নিম্নআয়ের অনেক পরিবার বাদ পড়লেও তুলনামূলকভাবে সচ্ছল কিছু পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।
কড়াইল বস্তি ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনের অংশ, তার প্রথম নির্বাচনী জনসভাও এখানেই হয়েছিল। সেই জনসভায় ক্ষমতায় এলে ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এই বস্তির অটোরিকশাচালক মো. শান্ত টাইমসকে বলেন, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে গেলেও তিনি কোনো সহায়তা পাননি। তার অভিযোগ, ‘আমার বাড়িওয়ালা ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন, কিন্তু যাদের সত্যিই এই টাকার প্রয়োজন, তারা কার্ড পায়নি।’
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার টাইমসকে বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ আইনে একটা ওয়ার্ড সভার বিধান আছে। ২০০৭ সালে সেটি যুক্ত করা হয়। ওই বিধানের মূল কথা হলো সভার মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি যত সেবা আছে, সেগুলোর জন্য উপকারভোগী চিহ্নিত করা হবে প্রকাশ্য বৈঠকে, যাতে নেতারা তাদের লোকজনের নাম ঢুকিয়ে দিতে না পারে। কিন্তু সরকারের কার্যক্রমে এসব উপেক্ষা করা হয়। অথচ এটা বাস্তবায়ন করলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।’
সরকারি নীতিমালায় ভূমিহীন, গৃহহীন, নারীপ্রধান ও অন্যান্য প্রান্তিক পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে সেই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১৪টি এলাকায় ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার উপকারভোগী কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক এলাকার। তবে কড়াইলের আলাদা কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আবদুল মান্নান তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপি নেতা সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
এই ঘটনায় গত ৩০ জুলাই হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল।
আজ রোববার আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।তবে কী কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।
এদিকে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ফেসবুকে লেখেন, ‘শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রদল প্রভোস্ট অফিসে হামলা করছে, সামলাতে না পেরে রিজাইন দিয়েছেন প্রভোস্ট। তিনিও বিএনপিপন্থি এবং প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহবায়ক। ক্যাম্পাসের নতুন ত্রাস, ছাত্রদলের সন্ত্রাস!’
এর প্রতিবাদে আজ বিকাল সাড়ে ৬টায় মধুর ক্যান্টিন থেকে প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা করেছে দলটি।’
তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কর্মসূচির কথা জানা যায়নি।

চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে ধূমপান ও আড্ডার ফাঁকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় প্রায় এক বস্তা খাতাসহ এক শিক্ষককে আটক করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকান থেকে এসব উত্তরপত্র জব্দ করেন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রাক-প্রভাষক এবং শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানোর পাশাপাশি জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক ইকবাল তার সাবেক সহপাঠী ও বন্ধুদের নিয়ে ওই চায়ের দোকানে বসে খাতা মূল্যায়ন করছিলেন। বস্তা থেকে খাতা বের করে তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধুকে উত্তরপত্র দেখতে দেখা যায়। এ সময় সেখানে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আইরিন লিনজাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও একই দোকানে বসে চারজন মিলে চা-সিগারেট খাওয়ার ফাঁকে খাতা মূল্যায়ন করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরীক্ষকদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
খাতা জব্দের সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন কৈফিয়ত চাইলে অভিযুক্ত ইকবাল দাবি করেন, খাতা দেখার সময় শেষ হয়ে আসায় তাড়াহুড়ো করে বন্ধুদের নিয়ে উত্তরপত্র না কেটে শুধু কোড নম্বর মেলাচ্ছিলাম।
সেখানে উপস্থিত শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, আমি খাতা মূল্যায়নে অংশ নিইনি। ইকবাল আমার বন্ধু, তাই সেখানে উপস্থিত ছিলাম।
ঘটনার পরপরই শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থানীয় জালালাবাদ থানায় নিয়ে যান।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষককে বোর্ডের জিম্মায় রাখা হয়েছে।


Leave a Reply